২ নভে, ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগের ১৮ মামলার বিচারিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ আপিল বিভাগের

শিক্ষক নিয়োগের ১৮ মামলার বিচারিক কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ আপিল বিভাগের

ছবি: সংগৃহীত 
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ১৮টি মামলার রায় ও বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের জালিয়াতি, অনিয়ম কিংবা অসংগতি হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, আদালতের লিখিত আদেশ পাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, তদন্তের আওতায় থাকা ১৮টি মামলার মধ্যে ১২টিতে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কামাল হোসেন। তিনটি মামলায় ছিলেন মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। বাকি তিনটি মামলায় আইনজীবী ছিলেন বোরহান খান, সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাজ্জাদ-উল-ইসলাম।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক। অন্যদিকে, মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সৈয়দ মামুন মাহবুব।

আদেশের পর আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, ১৮টি মামলার সবগুলোই তদন্ত করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, বিচারকরা যেন স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সেটিই প্রত্যাশিত। দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এর আগে, সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের শুনানি শুরু করলে গত ২৮ অক্টোবর এসব মামলার রায় ও বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ উত্থাপন করে। পরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথিপত্র পর্যালোচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন আপিল বিভাগ।

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত আইনজীবীদের ব্রিফিং

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখলেন চেম্বার আদালত

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখলেন চেম্বার আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন স্থগিতের আবেদন শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন আখতারুজ্জামানের আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে গত ১ নভেম্বর বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আখতারুজ্জামানকে জামিন দেন। ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে সোমবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে চেম্বার আদালতে আবেদনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রেপ্তার ও জামিনের পটভূমি

মামলাসূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে তিনি জামিনের আবেদন করলে গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী তা নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন, যা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতের দ্বারস্থ হয়।

মামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর রাজধানীর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

দেশের সব ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের আদেশ স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

দেশের সব ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের আদেশ স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিল করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) দেওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন।

এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়েছে।

একই আদেশে মাদ্রাসাগুলোতে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সংবিধি-২০২৩-এর (খ) ধারার (১) খ-এর উপধারা (১) ও (৩) অনুযায়ী, জেলা সদরে অবস্থিত মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং জেলা সদরের বাইরে অবস্থিত মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে মনোনয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়।

অফিস আদেশে আরও জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

তবে গভর্নিং বডি বাতিলের ওই আদেশের কার্যকারিতা হাইকোর্ট স্থগিত করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তটি আপাতত কার্যকর থাকছে না।

সূত্র: স্টার নিউজ

আদালতের হেফাজতে মূল দলিল হারালে গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে সত্যায়িত অনুলিপি গ্রহণ করতে হবে, অর্থঋণ আদালতকে হাইকোর্টের নির্দেশ

আদালতের হেফাজতে মূল দলিল হারালে গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে সত্যায়িত অনুলিপি গ্রহণ করতে হবে, অর্থঋণ আদালতকে হাইকোর্টের নির্দেশ

আদালতের হেফাজতে থাকা মূল দলিল হারিয়ে গেলে তার সত্যায়িত অনুলিপি সাক্ষ্য আইনের অধীনে গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য; ঋণগ্রহীতার দায় স্বীকারও নতুন করে প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা দূর করে 
অর্থঋণ মামলায় ব্যাংকের দাখিল করা মূল দলিল আদালতের হেফাজতে থাকা অবস্থায় হারিয়ে গেলে শুধু মূল দলিল উপস্থাপন করতে না পারার কারণে মামলা খারিজ করা আইনসম্মত নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূল দলিলের সত্যায়িত অনুলিপি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৬৩ ও ৬৫ ধারার অধীনে গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা অন্য মামলায় ঋণের দায় স্বীকার করলে তা সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার অধীনে স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হবে, যার জন্য নতুন করে প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি মাহমুদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রূপালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম মেসার্স পুবালী ট্যানারিজ ও অন্যান্য মামলাটি ফার্স্ট আপিল নং ১১৮/২০১৫ -এ এমন পর্যবেক্ষণ দেন।

মামলার পটভূমি

রূপালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম মেসার্স পুবালী ট্যানারিজ ও অন্যান্য মামলাটি ফার্স্ট আপিল নং ১১৮/২০১৫। মামলাটির সূত্রপাত অর্থঋণ মামলা নং ১৭৭/২০০৬ থেকে। রূপালী ব্যাংক ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স পুবালী ট্যানারিজ, এর স্বত্বাধিকারী, বন্ধকদাতা ও জামিনদারদের বিরুদ্ধে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে ৩৬ কোটি ৯ লাখ ১৩ হাজার ৯০১ টাকা আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে।

মামলা দায়েরের সময় ব্যাংক ঋণ অনুমোদনপত্র, দায় স্বীকারপত্র, ঋণসংক্রান্ত দলিল এবং হিসাব বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র ফিরিস্তির মাধ্যমে আদালতে দাখিল করে। এসব দলিল মামলার নথিতে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধও ছিল।

মামলা চলাকালে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানটি রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আবেদন করে এবং পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ২১৩৬/২০১০ দায়ের করে। ওই রিটে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের কাছে তার দায় স্বীকার করে।

পরবর্তী সময়ে অর্থঋণ মামলাটি একতরফা শুনানির জন্য নির্ধারিত হলে বিচারিক আদালত ব্যাংককে মূল দলিলগুলো পুনরায় দাখিল করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, আদালতের হেফাজতে থাকা মূল দলিলগুলো হারিয়ে গেছে। এতে ব্যাংকের কোনো অবহেলা বা দায় ছিল না। এ অবস্থায় ব্যাংক ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে দলিলগুলোর সত্যায়িত ফটোকপি গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে দাখিল করে।

তবে বিচারিক আদালত মূল দলিল উপস্থাপন করতে না পারার কারণ দেখিয়ে মামলাটি খারিজ করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ব্যাংক হাইকোর্টে আপিল করে।

আইনজীবীদের বক্তব্য ও শুনানি

আপিলকারী রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মো. ইমাম হাসান। তিনি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ব্যাংক মামলা দায়েরের সময় ফিরিস্তির মাধ্যমে মূল দলিলগুলো যথাযথভাবে দাখিল করেছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের হেফাজতে থাকাকালে দলিলগুলো হারিয়ে যায়, যার জন্য ব্যাংক দায়ী নয়। এ অবস্থায় দাখিল করা সত্যায়িত অনুলিপিগুলো সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৬৩ ও ৬৫ ধারার অধীনে গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও যুক্তি দেন, ঋণগ্রহীতা হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশনে ব্যাংকের কাছে তার দায় স্বীকার করেছে, যা সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার অধীনে স্বীকৃতি এবং এর জন্য নতুন করে প্রমাণের প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, আপিলে বিবাদী পক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান, ব্যাংক মামলা দায়েরের সময়ই মূল দলিলগুলো যথাযথভাবে আদালতে দাখিল করেছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের হেফাজতে থাকাকালে সেগুলো হারিয়ে যায় এবং এ ঘটনায় ব্যাংকের কোনো অবহেলা ছিল না।

আদালত বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দাখিল করা সত্যায়িত অনুলিপিগুলো সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৬৩ ও ৬৫ ধারার অধীনে গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে স্পষ্টতই গ্রহণযোগ্য। ফলে মূল দলিল আদালতের হেফাজতে হারিয়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংককে তার আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, ঋণগ্রহীতা হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশনে ব্যাংকের কাছে তার দায় স্বীকার করেছে। সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার অর্থে এটি একটি স্বীকৃতি (Admission), যা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নতুন করে প্রমাণ করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে।

এ ছাড়া অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯(৬) ধারার অধীনে বিচারিক আদালত হলফনামা ও দালিলিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। সুতরাং, গ্রহণযোগ্য গৌণ সাক্ষ্য আদালতের নথিতে থাকা সত্ত্বেও শুধু মূল দলিল অনুপস্থিত থাকার কারণে মামলা খারিজ করা আইনসম্মত নয়।

এ প্রসঙ্গে আদালত Janata Bank Limited বনাম Diniat Begum and others, 2 ALR 160 এবং Osman Gazi Chowdhury বনাম Artha Rin Adalat and another, 21 BLC 322 মামলার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন। এসব সিদ্ধান্তে মূল দলিল হারিয়ে গেলে গৌণ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার বিষয়টি স্বীকৃত হয়েছে।

আদালতের আদেশ

হাইকোর্ট আপিলটি মঞ্জুর করে অর্থঋণ আদালতের দেওয়া পূর্ববর্তী রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন। একই সঙ্গে মামলাটি পুনরায় নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠান।

বিচারিক আদালতকে ব্যাংকের দাখিল করা সত্যায়িত অনুলিপিগুলো গৌণ সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী মামলাটি নতুন করে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তিতে কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি।

আইনি শিক্ষা

এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন, আদালতের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো মামলার মূল দলিল হারিয়ে গেলে তার দায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মূল দলিল হারানোর কারণে গৌণ সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা নাকচ করা যাবে না, যদি সাক্ষ্য আইনের শর্ত পূরণ হয়।

একই সঙ্গে কোনো পক্ষ আদালতের অন্য কার্যক্রমে দায় স্বীকার করলে সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার অধীনে সেই স্বীকৃতির প্রমাণমূল্য বিবেচনা করতে হবে। অর্থঋণ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতকে দাখিল করা গ্রহণযোগ্য দালিলিক সাক্ষ্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

মামলার তথ্যসূত্র

মামলা: রূপালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম মেসার্স পুবালী ট্যানারিজ ও অন্যান্য
ফার্স্ট আপিল নং: ১১৮/২০১৫
মূল মামলা: অর্থঋণ মামলা নং ১৭৭/২০০৬
আদালত: হাইকোর্ট বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বেঞ্চ: বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান
শুনানির তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৫
রায়ের তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫
প্রাসঙ্গিক আইন: সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৫৮, ৬৩ ও ৬৫ ধারা; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯(৬) ধারা।
রায়ের কপি: সংযুক্ত ৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়।
সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

দেওয়ানি কার্যবিধির বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া রায়ের আগে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ অবৈধ: হাইকোর্ট

দেওয়ানি কার্যবিধির বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া রায়ের আগে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ অবৈধ: হাইকোর্ট

প্রাসঙ্গিক আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৮-এর বিধি ৫ ও ৬ এবং ধারা ১৫১।
রায় ঘোষণার আগে বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোকের ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮-এর বিধি ৫ ও ৬ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব বিধিতে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেবল পাওনা আদায়ের আশঙ্কা বা সাধারণ যুক্তির ভিত্তিতে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেওয়া যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রিট পিটিশন নং ২৪৯৮/২০২৬-এর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন। আদালত অর্থঋণ আদালতের দেওয়া সম্পত্তি ক্রোকের আদেশকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করে তা বাতিল করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১০ টাকা ৪২ পয়সা আদায়ের দাবিতে অর্থঋণ মামলা দায়ের করে। মামলাটি প্রথমে অর্থঋণ মামলা নং ৩৩৭/২০২৫ হিসেবে দায়ের করা হলেও পরবর্তী সময়ে অর্থঋণ আদালত-৫, ঢাকায় ৩৪৩/২০২৫ নম্বরে পুনর্নম্বরকরণ করা হয়।

বিবাদীপক্ষ লিখিত জবাব দাখিলের পর ব্যাংক দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮-এর বিধি ৫ এবং ধারা ১৫১ অনুসারে রায় ঘোষণার আগে বিবাদীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করে।

পরবর্তী সময়ে অর্থঋণ আদালত যথাযথ কারণ দর্শানোর নোটিশ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ক্রোকের আবেদন মঞ্জুর করেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদীপক্ষের একজন হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

রিটকারীর যুক্তি

রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী তাইসির হক শুনানিতে যুক্তি দেন, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮-এর বিধি ৫ অনুযায়ী সম্পত্তি ক্রোকের আগে আদালতের কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে যে, বিবাদী সম্ভাব্য ডিক্রি কার্যকর করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে তার সম্পত্তি হস্তান্তর কিংবা আদালতের এখতিয়ার থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু ব্যাংক এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তাছাড়া বিবাদীকে জামানত দিতে অথবা কেন জামানত দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী মারগুব কবির ও আইনজীবী তাইসির মাহমুদ রিট আবেদন খারিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ব্যাংকের আবেদনে সম্পত্তি হস্তান্তরের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধ এড়াতে বিবাদীরা সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। ফলে অর্থঋণ আদালতের আদেশ যথাযথ ছিল।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত

উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮-এর বিধি ৫ ও ৬-এ সম্পত্তি ক্রোকের আগে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথমে আদালতকে বিবাদীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পত্তির মূল্য বা সমপরিমাণ জামানত জমা দিতে নির্দেশ দিতে হবে অথবা কেন জামানত দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। বিবাদী ওই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলেই কেবল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেওয়া যেতে পারে।

আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট অর্থঋণ আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন। আইনে নির্ধারিত বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া এমন আদেশ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিশেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সম্পত্তি ক্রোকের পূর্ববর্তী আদেশ বাতিল করেন। তবে আদালত স্পষ্ট করেন, আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংক চাইলে নতুন করে সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করতে পারবে।

আইনি শিক্ষা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৮-এর বিধি ৫ ও ৬ অনুযায়ী, রায় বা ডিক্রি ঘোষণার আগে বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোক কোনো স্বয়ংক্রিয় প্রতিকার নয়। এ ধরনের আদেশের জন্য বিবাদীর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ডিক্রি কার্যকর করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর কিংবা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা থাকতে হবে।

একই সঙ্গে বিবাদীকে জামানত প্রদান অথবা কারণ দর্শানোর যথাযথ সুযোগ দিতে হবে। এসব বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ না করে দেওয়া সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ আইনগতভাবে টেকসই নয়।

মামলার তথ্য: রিট পিটিশন নং ২৪৯৮/২০২৬।

আদালত: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।

বিচারপতি: বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিম।

রিটকারীর আইনজীবী: তাইসির হক।

ব্যাংকের আইনজীবী: মারগুব কবির ও তাইসির মাহমুদ।

সূত্র: কালবেলা

১ নভে, ২০২৬

৫ শতাধিক আইনজীবীকে সনদ স্থগিতের আল্টিমেটাম চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির

৫ শতাধিক আইনজীবীকে সনদ স্থগিতের আল্টিমেটাম চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির

ছবি: সংগৃহীত 
আইন পেশার বাইরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োজিত থাকা পাঁচ শতাধিক আইনজীবীকে তাঁদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। এ জন্য আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সমিতি।

সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক সদস্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কোম্পানি ও অন্যান্য সংস্থায় বেতনভুক্ত পদে কর্মরত রয়েছেন। এ অবস্থায় আইন পেশায় সক্রিয় না থেকেও আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ বহাল রাখার বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সমিতি।

১ নভেম্বর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত পদে কর্মরত সদস্যদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ স্থগিতের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব সদস্য আগে মৌখিকভাবে কিংবা নির্ধারিত ফরম ব্যবহার না করে সনদ স্থগিতের আবেদন করেছেন, তাঁদেরও নতুন করে নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্ধারিত ফরম, নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ফি বাবদ ২ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সমিতির পক্ষ থেকে আগে ফি জমা দেওয়ার বিষয়টি জানানো না হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে।

সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বেতনভুক্ত চাকরিতে নিয়োজিত থাকার তথ্য গোপন করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ বহাল রাখলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের তালিকা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পাঠানো হতে পারে।

এ ছাড়া বেতনভুক্ত চাকরিতে নিয়োজিত থেকেও সমিতির বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করে সমিতির সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এ ধরনের সদস্যরা ভবিষ্যতে সমিতির সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞপ্তি, কালবেলা

তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত 
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ নামের একটি খাবারের দোকানেও গিয়েছিলেন।

এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাওয়া এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার তথ্যও পাওয়া গেছে। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। পাশাপাশি মামলার অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তার ছেলে। রাত গভীর হলেও বাসায় না ফেরায় তার মা একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করেন। প্রতিবারই তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার আশ্বাস দেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নিজের ফোন থেকে মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে তিনি বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু এরপরও তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নৌ পুলিশ ফোন করে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট