সর্বশেষ

৩০ জুন, ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নাম্বার অভিযোগে তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল এবং বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল তাকে ৩, ৬ ও ৭ নাম্বার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন হাসানুল হক ইনু। এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ষষ্ঠ মামলার রায় ঘোষিত হলো।

ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৮ অভিযোগ হলো-
প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।


বিডিএলপিবি/এমএম

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের

ছবিঃ সংগৃহীত 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার একটি মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুর রহমান। এদিকে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম। এর আগে ২৮ জুন তিনি তার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। আর ২৪ জুন পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম শুনানি করেন।

গত ২২ জুন প্রসিকিউশন আদালতে ২২ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) রয়েছে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিনসহ অন্যান্য আইনজীবী।

মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি হলেন- সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু। তবে সোমবার ফজলে করিম ছাড়া বাকি চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ মামলায় হাছান মাহমুদ ছাড়াও পলাতক রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।


বিডিএলপিবি/এমএম

শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী: আপিল বিভাগ

শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী: আপিল বিভাগ


ছবিঃ সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন। 

আদালতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএসএম ইলিয়াস হায়দার। অপরদিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

ঋণখেলাপির অভিযোগের মুখে থাকা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আপিল বিভাগে আবেদন করে। 

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত থাকবে এবং ফলাফল প্রকাশ হবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম 

২৯ জুন, ২০২৬

সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা ফের তিন দিনের রিমান্ডে

সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা ফের তিন দিনের রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় করা ওই মামলায় এদিন আশিকা সুলতানাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন হোসাইন। এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আদালতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মিরপুর ১১ এলাকা থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ জুন মিরপুর ১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় সদস্য সরকারবিরোধী মিছিল করেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা ব্যানার ফেলে পালিয়ে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই মিছিল করা হয়েছিল।

ঘটনার দিনই মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, আশিকা সুলতানা ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং তিনি আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতা। মিছিলের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানকারীদের পরিচয় জানতে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।


বিডিএলপিবি/এমএম

মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ৪৬(২) ধারা এবং ৪৬(১) এর প্রভিসো এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুল মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত করে কেন সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বিষয়টি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সরকার কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের  কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও মাতৃত্ব সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কেন এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব রুল জারি করেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

গত ১৫ জুন বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বার্থমূলক এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে মন্ত্রীপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিবসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানপরিপন্থি। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা বিদ্যমান থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে; যা সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

পরে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, বাংলাদেশের সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই রিট করা হয়েছে। মাতৃত্ব কোনও শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। এই মামলার চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলা: পিছিয়েছে টিউলিপ ও রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

ফ্ল্যাট জালিয়াতি মামলা: পিছিয়েছে টিউলিপ ও রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ফ্ল্যাট জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে দিয়েছেন আদালত। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম।

তিনি জানান, আজ মামলাটিতে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে জামিনে থাকা আসামি সরদার মোশাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হলে আদালত শুনানি মুলতবি করে নতুন দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালত টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এলাকার একটি ফ্ল্যাট দখল করে পরে তা রেজিস্ট্রি করান।

মামলাটি প্রথমে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর দুদক টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় চার্জশিট দাখিল করে।

এর আগে মামলার আরেক আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ পান, যা পরবর্তীতে চেম্বার আদালতেও আলোচনায় আসে।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৮ জুন, ২০২৬

স্ত্রী হত্যা মামলার ১১ বছর পর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন স্বামী

স্ত্রী হত্যা মামলার ১১ বছর পর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন স্বামী

ছবিঃ সংগৃহীত


রাজধানীর উত্তরায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে অভিযুক্ত স্বামীকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।রোববার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামির আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেয়।


আদালতে আসামি মশিউর রহমান সুখনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মো. এহসান হাবিব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ এজাজ কবির।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির জেরে স্ত্রী সোনিয়াকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ এনে ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন মৃতের ভাই আব্দুল্লাহেল রাফী। এর আগে, ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই সোনিয়ার মৃত্যু হয়। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শরীফ উদ্দীন অভিযুক্ত স্বামী মশিউর রহমান সুখনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে সেই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন।


রায়ের পর আইনজীবী মো. এহসান হাবিব বলেন, মামলায় একাধিক অসংগতি ছিল, যা খালাসের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোনিয়ার মৃত্যু ঘটে ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই, কিন্তু মামলা করা হয় ১৩ দিন পর, ৮ আগস্ট। তিনি আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করে একজন চিকিৎসক মৃত্যু সনদ দিলেও তাকে মামলায় সাক্ষী করা হয়নি। এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন গড়মিল ছিল বলে তিনি দাবি করেন।


আইনজীবী আরও বলেন, সোনিয়ার মৃত্যুর পর বাদীপক্ষ তাকে স্বাভাবিকভাবে তার বাবার বাড়িতে দাফন করে। কিন্তু ১৩ দিন পর তারা ২৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। তার দাবি, অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে আসামিকে খালাস দিয়েছে।



বিডিএলপিবি/এমএম