সর্বশেষ

১৫ এপ্রি, ২০২৬

ভুয়া সংবাদ ধরিয়ে দেওয়ায় ফ্যাক্টচেকারদের ‘হারামজাদা’ বললেন আনিস আলমগীর

ভুয়া সংবাদ ধরিয়ে দেওয়ায় ফ্যাক্টচেকারদের ‘হারামজাদা’ বললেন আনিস আলমগীর

ছবি: সংগৃহীত 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রচার ও তা নিয়ে ফ্যাক্টচেককে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। একটি ভুয়া সংবাদ শেয়ার এবং পরবর্তীতে সেটি নিয়ে দেশের একটি প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টচেক প্রকাশের জেরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টচেকারদেরকে  হারামজাদাসহ আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

আজ বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে দেওয়া  এক পোস্টে এসব কথা বলেন আনিস আলমগীর। কয়েকদিন আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংবাদ শেয়ার করেন আনিস আলমগীর, যেখানে দাবি করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেহারি খেয়েছেন। পরে জানা যায়, সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট। যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, আনিস আলমগীর ভুয়া তথ্য প্রচার করেছেন।

ফ্যাক্টচেক প্রকাশের পরই  প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। নিজের টাইমলাইনে ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর ফটোকার্ড শেয়ার করে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন ফ্যাক্টচেকারদের।

মজার ছলে পোস্টটি তিনি শেয়ার করেছেন উল্লেখ করে বলেন 'বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত একটি অনলাইন এই সংবাদটি করে এবং বেশ কয়েকজন আমাকে সেটি পাঠায়। আমি মজার ছলে শেয়ার করার পাঁচ মিনিটের মাথায় জানতে পারি যে এটা ভুয়া সংবাদ। সঙ্গে সঙ্গে এটা ফেলে দেই।'

দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশিরকে ইঙ্গিত করে আনিস আলমগীর বলেন, 'ডাস্টবিন শফিকের নিয়োজিত গোলাম, কথিত ফ্যাক্ট ট্র্যাকার আলবদর উদ্দিন শিবির সেটা পেলে আর ছেড়ে দেবে কেন?এভাবেই হারামজাদারা ফ্যাক্ট চেক করে। পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে পারে না, সংবাদ বানায় এক মিনিটের মধ্যে। ওদের আব্বা হুজুর আমিরে জামাতের ভুয়া, নারী বিদ্বেষী পোস্ট ২৪ ঘন্টা পরে অস্বীকার করলে ওরা কিছু বলতে পারে না।'

এদিকে তার টাইমলাইনে গিয়ে দেখা যায়,  ৩ ঘন্টা আগে দেওয়া নিজের পোস্টটি তিনি এই পর্যন্ত এডিট করেছেন ৭ বার।  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ তার  এমন আক্রমণাত্মক  ভাষার তীব্র সমালোচনা করছেন, কেউ কেউ সাংবাদিক হিসেবে তার এমন ভাষার ব্যবহারকে স্রেফ উগ্রতা ও অশালীন বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

মোটের ওপর, ঘটনাটি আবারও সামাজিক মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে। সেই সাথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাটা যে মোটেও কাম্য নয় এই আবেদনও স্পষ্ট করেছে। (সোর্স: ফেস দ্যা পিপল)

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ তিনজন রিমান্ডে

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ তিনজন রিমান্ডে


ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে (সিকেডিইউ) চাঁদা দাবির ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন মঈনসহ তিনজনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। রিমান্ডকৃতরা অপর দুই আসামি হলেন-এমবি স্বপ্নন কাজী ও শাওন হোসেন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য, তাদেরকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জমসেদ আলম প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদি হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মঈন উদ্দিনকে (মঈন) প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় আরো ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩৪ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ: নানক ও তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ২৬ এপ্রিল

মানবতাবিরোধী অপরাধ: নানক ও তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ২৬ এপ্রিল

ছবিঃ সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি আগামী ২৬ এপ্রিল।

প্রসিকিউশনের আবেদনে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শুনানির এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম।

এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া চার আসামি হলেন— নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।

অন্যদিকে, নানক ও তাপসসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন— ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রেক্ষাপটে মোহাম্মদপুরে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ নয় জন শহীদ হন বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়।

ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল রিমান্ডে

ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী মাজেদুল হক হেলালের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন জশিতা ইসলাম তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।

গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদি। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে হস্তান্তর করেন।

মানবাধিকার কমিশনারদের খোলা চিঠি, আইনমন্ত্রী বললেন ‘ভুল ব্যাখ্যা’

মানবাধিকার কমিশনারদের খোলা চিঠি, আইনমন্ত্রী বললেন ‘ভুল ব্যাখ্যা’


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বাতিল হওয়ায় এক খোলা চিঠি দিয়েছেন ‘সদ্য বিদায়ী’ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। 

চিঠিতে তারা অধ্যাদেশ বাতিলের সপক্ষে সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তাদের এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে সই করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ পাঁচ সদস্য। সেখানে তারা নিজেদের ‘সদ্য বিদায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি রহিত হওয়ায় তাদের নিয়োগই কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।

খোলা চিঠিতে কমিশনের অবস্থানখোলা চিঠিতে বিদায়ী কমিশনাররা ‘সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব’, ‘সরকারের প্রকৃত আপত্তি’ ও ‘ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান’ শিরোনামে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

তারা বলেন, সংসদে বলা হয়েছে গুমের সাজা মাত্র ১০ বছর, যা ভুক্তভোগীদের জন্য অবিচার। কিন্তু বাস্তবে ওই অধ্যাদেশে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের বিধানও ছিল।

তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা আদায়ের পদ্ধতি নেই বলে সংসদে যে দাবি করা হয়েছে, তাও নাকচ করেছেন কমিশনাররা। তাদের মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, যা বর্তমানের পুনর্বহালকৃত ২০০৯ সালের আইনে নেই। চিঠিতে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে নতুন কোনো গুমের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার পাবেন না।

কমিশন সদস্যরা অভিযোগ করেন, সরকার কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বললেও মূলত কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করে একে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতির শর্ত আরোপের সমালোচনা করেন তারা।
অধ্যাদেশ রহিত হওয়ার পর থেকেই পদত্যাগ ও স্বপদে থাকা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, “যে মুহূর্তে বিলটি রহিত করা হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকে এই পদে বহাল থাকার আর কোনো সুযোগ নেই। আমরা একটা জটিল জায়গায় আটকে গেছি।” কমিশন সচিব কুদরত-এ-ইলাহী জানান, আইন পাসের পর থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা আর অফিসে আসছেন না।

‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলছেন আইনমন্ত্রীকমিশনারদের এই খোলা চিঠির বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, “তারা যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। আপনি যদি আইনটি দেখেন, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর। সর্বোচ্চ ১০ বছর মানে আদালতের এখতিয়ার আছে এই সীমার মধ্যে যেকোনো সময়ের শাস্তি দেওয়ার।”

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে কমিশনারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, “একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমার কথা থাকলেও সেটি পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ওই অধ্যাদেশে ছিল না।”

আসাদুজ্জামান মনে করেন, কমিশনাররা ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে এসব কথা বলছেন, তাই এর কোনো লিখিত জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করে এবং ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশন নিয়োগ দেয়। তবে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ওই অধ্যাদেশটি রহিত করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯’ পুনঃপ্রচলন করা হয়।

সরকার জানিয়েছে, অধ্যাদেশের দুর্বলতা দূর করতে এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আইন করার লক্ষ্যেই সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে পরামর্শ সভা আয়োজন করা হতে পারে।

১৪ এপ্রি, ২০২৬

স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে: প্রধানমন্ত্রী

স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে: প্রধানমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করেছিল, তখনকার বিরোধী দল বলেছিল— বিএনপিকে এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেবে না। বর্তমান যারা বিরোধী দলে বসছে, এরাও একই কাজ শুরু করে দিয়েছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত, এদের ভেতরেও আসর করে গিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সই করার জন্য সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন ডেকেছিল, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি সনদে সই করেছিল। কাজেই যে জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন আমরা বাস্তবায়ন করবো।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি (কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড) বাস্তবায়নে যারা বাধা দেবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

১৩ এপ্রি, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

    ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এরপরেই গণমাধ্যমে তাদের পক্ষ থেকে একটা খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বিদায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর পাশাপাশি সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত, বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় চালু হলো।

এদিকে, খোলাচিঠিতে এই অধ্যাদেশ বাতিলে নতুন সরকারের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায়, ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার প্রশ্ন করছেন– “এখন আমাদের কী হবে?” তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলাচিঠি।’

বলা হয়, আমরা পাঁচজন সদ্যবিদায়ী মানবাধিকার কমিশনার। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আমাদের কর্মজীবন মানবাধিকার সুরক্ষায় নিবেদিত ছিল। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দরুন, ভুক্তভোগীদের বেদনা, আইন প্রয়োগকারীদের দৈনন্দিন প্রতিকূলতা এবং আইনাঙ্গনের জটিলতার সাথে আমরা সুপরিচিত। তাই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ আমরা কলম হাতে নিয়েছি।