সর্বশেষ

১৮ জুল, ২০২৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী বাপ্পি ৭ দিনের রিমান্ডে

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী বাপ্পি ৭ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে মতিঝিল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা বাপ্পি ও তাঁর সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (১৮ জুলাই)  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে বাপ্পি এবং দুপুরে উত্তর কমলাপুর থেকে রাকিবুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

আজ শনিবার তাদেরকে আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মোমিনুর রহমান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।গত ২০ মে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল থানা এলাকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশে কোরবানির অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারাদার। গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিল থানাধীন এজিবি কলোনিতে অবস্থানকালে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল আসে। কল রিসিভ করার পর আসামি গরুর হাটে অংশীদার হিসেবে তার মনোনীত লোককে রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

এ সময় তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে এবং তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে দায়িত্বে না নিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তার চার দিন পর গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে কোরবানির পশুর হাট-সংক্রান্ত একটি সভায় থাকা অবস্থায় তার ভাগনে হৃদয় মোবাইল ফোনে জানান, ভোরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তার অফিসে গুলি চালিয়েছে।



বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বিডিনিউজ ২৪

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা: এক মাসে হাইকোর্টের ১০ রায়

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা: এক মাসে হাইকোর্টের ১০ রায়

ছবি: সংগৃহীত 

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির পর গত এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। দেশে নারী শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন এই টিমের আইনজীবী সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা’র সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। গত এক মাসে এই বেঞ্চে শুনানির পর শরীয়তপুরের স্কুলছাত্রী রিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা মামলা, স্ত্রী হত্যার কয়েকটি মামলাসহ মোট ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সের্স: বাসস

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত 

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসায় সংশ্লিষ্ট সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে ওই বন্দি পালিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অবহেলার সুযোগে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রিম্পা (২১) কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুরা গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ঘটনার পর শুক্রবার কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৫ জেলায় ১৮ ‘স্পেশাল মেডিয়েটর’ নিয়োগ দেবে সরকার

৫ জেলায় ১৮ ‘স্পেশাল মেডিয়েটর’ নিয়োগ দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত 

দেশে সরকারি খরচে দরিদ্র ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের মামলা দ্রুত এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ‘স্পেশাল মেডিয়েটর’ (বিশেষ মধ্যস্থতাকারী) নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর’ ১৫ জুলাই জরুরি ভিত্তিতে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৫ক এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনি পরামর্শ ও মধ্যস্থতা) বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ২৬-এর বিধান অনুযায়ী এই স্পেশাল মেডিয়েটরদের নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫টি জেলার জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও চৌকি আদালতে মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কক্সবাজার, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন আদালতে এই স্পেশাল মেডিয়েটর নিয়োগ দেওয়া হবে। উক্ত পদে আবেদনের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও সাক্ষাৎকার সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে নিচের বিজ্ঞপ্তিতে:




বিডিএলপিবি/এমএম

১৭ জুল, ২০২৬

৭ মাসের মেয়েকে আছড়ে হত্যা: বাবার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ১ সেপ্টেম্বর

৭ মাসের মেয়েকে আছড়ে হত্যা: বাবার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ১ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু রাফা মনি কবিতাকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শিশুটির বাবা কবির ইসলামকে এ মামলার একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) মামলার এজাহার আদালতে উপস্থাপন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান তা গ্রহণ করেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওই তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু কবিতা (রাফা) কে আছড়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর মা লিমা আক্তার গনমাধ্যমকে জানান, তার স্বামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। ভরণ-পোষণ ও সংসারের খরচ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী তাদের সাত মাসের মেয়েকে পা ধরে তুলে মাটিতে আছড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাকে টঙ্গীর একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

লিমা আক্তার আরও জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়, আর তার স্বামীর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। রাফাই ছিল তাদের একমাত্র সন্তান।


বিডিএলপিবি/এমএম

রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই হরিদাস; রিমান্ডে  মিলেছে‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’

রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই হরিদাস; রিমান্ডে মিলেছে‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’


ছবি: সংগৃহীত 

অর্থপাচারের মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার মানি লন্ডারিং মামলায় রোববার (১২ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা আসামি শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। 

এর আগে গত রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

এ মামলার ভিত্তিতে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে অভিযুক্তের নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।

সংস্থাটির দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এই যুক্তিতে তার জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।


বিডিএলপিবি/এমএম

ভরণপোষণ শিশুর আইনগত অধিকার, মা-বাবার তালাকের ওপর নির্ভরশীল নয় : হাইকোর্ট

ভরণপোষণ শিশুর আইনগত অধিকার, মা-বাবার তালাকের ওপর নির্ভরশীল নয় : হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ তার স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার; এটি মা-বাবার বৈবাহিক বিরোধ বা তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিয়ের পর স্ত্রী ও নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে মামলা করা হয়। জবাবে স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি প্রদান করেন।

পরবর্তীতে স্বামী পৃথক একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি জানিয়ে ওই ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদন খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, কেবল নতুন মামলা দায়েরের কারণে চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিত করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, আইনসম্মতভাবে প্রমাণিত নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই। ফলে এমন তালাকের দাবি দেখিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

রায়ে ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা কেবল ফ্যামিলি কোর্টের রয়েছে। একই সঙ্গে এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব শুধু বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা; তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।

নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, এটি শিশুর স্বাধীন আইনগত অধিকার। তাই মা-বাবার মধ্যে তালাকসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না এবং পিতা এ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।

রায়ে আরও বলা হয়, পূর্বে দাবি করা তালাক যদি আইনগতভাবে অকার্যকর হয়, তাহলে স্বামী আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দিতে পারেন। তবে এতে পূর্বের দেনমোহর ও ভরণপোষণের বকেয়া দায় থেকে অব্যাহতি মিলবে না।

পরিশেষে, হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া ও স্ত্রী-সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম