সর্বশেষ

১৬ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিট দায়ের

সুপ্রিম কোর্টে নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলার নথি সময়মতো সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে না পৌঁছানোর অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা প্রশাসনিক গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলার নথি দ্রুত এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ দাবি করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন জমা দেন। আবেদনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, একই বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। তবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সেই নোটিশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিট দায়েরের পর আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, একটি মামলার কার্যকর শুনানি নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে শুনানির দিনও ফাইল আদালতে পৌঁছায় না। ফলে বিচারকরা শুনানি পরিচালনা করতে পারেন না এবং মামলাগুলো বারবার মুলতবি করতে হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং আদালতের কিছু শাখায় এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে দ্রুত ফাইল পাঠানোর জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় ফাইল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হয়। কখনো নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়, আবার কখনো ব্যক্তিগত তদবির ছাড়া ফাইলের অগ্রগতি হয় না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন ছাড়া নথি বেঞ্চে পাঠানো হয় না বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিট আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন বিধিমালার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি আদালতের নিজস্ব নিয়মের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বেঞ্চ অফিসারকে প্রতিদিন বিকেল ৩টার মধ্যে রিকুইজিশনে স্বাক্ষর করতে হয় এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলার নথি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট রুলস, ১৯৬৬ অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো নথি আদালতের হেফাজত থেকে বাইরে নেওয়া যায় না এবং যথাযথ রিকুইজিশনের ভিত্তিতেই নথি স্থানান্তর করা সম্ভব। রিটে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম লঙ্ঘন কর্মচারীদের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।

আবেদনে বলা হয়েছে, সময়মতো নথি আদালতে না পৌঁছানো উচ্চ আদালতে মামলার জট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মামলা দীর্ঘ সময় কজলিস্টে থাকলেও মূল শুনানি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে আইনজীবীদের গবেষণা, খসড়া প্রস্তুত এবং আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নথি সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীদের বারবার আদালতে উপস্থিত হয়েও শুনানি না হওয়ায় ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে। দীর্ঘসূত্রতায় ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া দাবি করেন, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সঙ্গে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের দ্রুত ও উন্মুক্ত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মতে, মামলার নথি অনুপস্থিত থাকার কারণে শুনানি না হওয়া এসব মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

রিট আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের জারি করা পূর্ববর্তী সার্কুলার ও প্রশাসনিক নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ফাইল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মা/মলা

প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মা/মলা

ছবি: সংগৃহীত 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আবেদনে শুনানিতে অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব ছাড়াও অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও ১৪-১৫ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন— দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস। মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

বাদী তানভীর আলম তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে এবং এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘মামলার বিয়ষটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’


বিডিএলপিবি/এমএম

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতা: বাংলাদেশের সংবিধানের সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতা: বাংলাদেশের সংবিধানের সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব

বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সাংবিধানিক দলিল। স্বাধীনতার পর প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে একই সংবিধানে একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা মৌলিক রাষ্ট্রনীতি হিসেবে স্বীকৃত, অন্যদিকে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবেও সাংবিধানিক মর্যাদা ভোগ করছে। এই দ্বৈত অবস্থান বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল এবং বিতর্কিত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন হলো, একটি রাষ্ট্র কি একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ এবং রাষ্ট্রধর্মবিশিষ্ট হতে পারে? নাকি এটি সংবিধানের অভ্যন্তরে একটি মৌলিক সাংঘর্ষিক অবস্থা?

মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭২ সালের সংবিধান এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতার আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবংবৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য সংগ্রাম। সেই আদর্শের প্রতিফলন ঘটে ১৯৭২ সালের সংবিধানে।

সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদে চারটি মৌলিক রাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা হয় যথা জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। ১২ অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ এবং কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা প্রদান না করাই ধর্মনিরপেক্ষতার মূল লক্ষ্য।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা কখনোই ধর্মবিরোধিতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। বরং এর উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রকে ধর্মীয় পক্ষপাত থেকে মুক্ত রাখা এবং সব ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

সাংবিধানিক পরিবর্তনের শুরুঃ ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সাংবিধানিক দর্শনেও পরিবর্তন আসে। ১৯৭৭ সালে সামরিক শাসনামলে সংবিধানের প্রস্তাবনায় “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম” যুক্ত করা হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে “আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” সংযোজন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনী এই পরিবর্তনগুলোকে বৈধতা প্রদান করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে ১৯৮৮ সালে। অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ২ক অনুচ্ছেদ সংযোজন করে ঘোষণা করা হয়: “The state religion of the Republic is Islam.” তবে একই অনুচ্ছেদে অন্যান্য ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালনের অধিকারও নিশ্চিত করা হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী: দুই বিপরীত ধারণার সহাবস্থানঃ ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতাকে পুনরায় সংবিধানের মৌলিক রাষ্ট্রনীতি হিসেবে ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে বর্তমান সংবিধানে ৮ অনুচ্ছেদে এ ধর্মনিরপেক্ষতা মৌলিক রাষ্ট্রনীতি ব্যাখ্যা করা হয়, ১২ অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যা করা হয় কিন্তু ২ক অনুচ্ছেদে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম রাখা হয়। এই অবস্থানই বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব: সমালোচকদের অবস্থানঃ  সমালোচকদের মতে, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেবে না। তাদের মতে, ১২ অনুচ্ছেদ এবং ২ক অনুচ্ছেদ এর মধ্যে একটি মৌলিক টানাপোড়েন রয়েছে।

যদি রাষ্ট্র সকল ধর্মের প্রতি সমান আচরণ করে, তাহলে একটি ধর্মকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যৌক্তিকতা কী? অনেক সাংবিধানিক গবেষক মনে করেন, রাষ্ট্রধর্মের ধারণা প্রতীকী হলেও এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

রাষ্ট্রধর্মের সমর্থকদের যুক্তিঃ অন্যদিকে রাষ্ট্রধর্মের সমর্থকদের মতে, বাংলাদেশে মুসলমান জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের মতে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ৪১ অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। রাষ্ট্রধর্ম থাকা মানেই অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার হরণ নয়। তারা যুক্তি দেন যে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্কসহ অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও রাষ্ট্রধর্ম বা প্রতিষ্ঠিত ধর্ম রয়েছে।

বিচার বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গিঃ বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. Anwar Hossain Chowdhury v Bangladesh (41 DLR (AD) 165 (1989)- এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এই মামলায় আপিল বিভাগ প্রথমবারের মতো Basic Structure Doctrine বা “মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব” স্বীকৃতি দেয়।

আদালত বলেন, Parliament can amend the Constitution, but cannot destroy its basic structure. অর্থাৎ সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারবে, কিন্তু সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করতে পারবে না। এই রায় পরবর্তীতে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

২. Bangladesh Italian Marble Works Ltd v Government of Bangladesh (62 DLR (AD) 298 (2010)- এটি সাধারণত “Fifth Amendment Case” নামে পরিচিত। এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চম সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে ১৯৭২ সালের সংবিধানের মৌলিক আদর্শসমূহ বাংলাদেশের সাংবিধানিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রায়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৩. State Religion Islam Case- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের দাবিতে একাধিক রিট আবেদন করা হয়েছিল। হাইকোর্ট পরবর্তীতে রিট খারিজ করে এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংক্রান্ত বিধান বহাল রাখে। আদালতের যুক্তি ছিল, ২ক অনুচ্ছেদ অন্যান্য ধর্মের অধিকার বাতিল করে না, ৪১ অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে এবং রাষ্ট্রধর্মের বিধান নিজে থেকেই বৈষম্য সৃষ্টি করছে এমনটি প্রমাণিত হয়নি। ফলে বিচার বিভাগ ধর্মনিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রধর্ম, দুই ধারণার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ কি একা? বাংলাদেশের সাংবিধানিক মডেলকে ভালোভাবে বুঝতে হলে আন্তর্জাতিক তুলনা গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্স: কঠোর ধর্মনিরপেক্ষতাঃ France-এ Laïcité নীতি অনুসরণ করা হয়। রাষ্ট্র এবং ধর্মের মধ্যে কঠোর বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখা হয়। রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেয় না।

ভারত: সমদূরত্বের ধর্মনিরপেক্ষতাঃ ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম নেই। ভারতীয় মডেলে রাষ্ট্র সকল ধর্মের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের নীতি অনুসরণ করে।

যুক্তরাজ্য: রাষ্ট্রধর্ম কিন্তু গণতন্ত্রওঃ United Kingdom-এ Church of England রাষ্ট্রের সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে যুক্ত। তবুও দেশটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার উদাহরণ।

মালয়েশিয়া: মধ্যবর্তী মডেলঃ Malaysia-এর সংবিধানে ইসলাম ফেডারেশনের ধর্ম। কিন্তু একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্ম পালনের সাংবিধানিক অধিকারও স্বীকৃত। বাংলাদেশের বর্তমান মডেল অনেকাংশে মালয়েশিয়ার সঙ্গে তুলনীয়।

অনুচ্ছেদ ৭খ এবং ভবিষ্যতের বিতর্কঃ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭বি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। এই  অনুযায়ী সংবিধানের কিছু মৌলিক বিধান সংশোধনযোগ্য নয়। যদি ভবিষ্যতে আদালত ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের অপরিবর্তনীয় মৌলিক কাঠামোর অংশ হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে ব্যাখ্যা করে, তাহলে ২ক অনুচ্ছেদ এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ফলে রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

উপসংহারঃ বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ধর্মনিরপেক্ষতার সহাবস্থান একটি বিরল সাংবিধানিক বাস্তবতা। এটি শুধু একটি আইনি বিতর্ক নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র হয় ধর্মনিরপেক্ষ, নয়তো রাষ্ট্রধর্মভিত্তিক সাংবিধানিক কাঠামো অনুসরণ করে। বাংলাদেশ সেই দুই ধারার মাঝখানে একটি স্বতন্ত্র পথ নির্মাণ করেছে।

তবে প্রশ্নটি এখনও রয়ে গেছে, রাষ্ট্র কি সকল ধর্মের ঊর্ধ্বে অবস্থান করবে, নাকি একটি ধর্মের সঙ্গে সাংবিধানিক সম্পর্ক বজায় রাখবে? সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আদালত বা সংসদ নয়, বাংলাদেশের জনগণকেই একদিন নির্ধারণ করতে হবে। আর সে কারণেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিতর্ক বাংলাদেশের সাংবিধানিক আলোচনায় আগামী দিনেও কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে থাকবে।

নির্বাচিত তথ্যসূত্রঃ

1. Constitution of the People’s Republic of Bangladesh 1972, arts 2A, 8, 12, 41 and 7B.

2. Anwar Hossain Chowdhury v Bangladesh 41 DLR (AD) 165 (1989).

3. Bangladesh Italian Marble Works Ltd v Government of Bangladesh 62 DLR (AD) 298 (2010).

4. The Constitutional Law of Bangladesh (3rd edn, Mullick Brothers 2012).

5. Constitutional Law of Bangladesh (3rd edn, Mullick Brothers 2012).

লিখেছেন,

মোঃ মুসফিক হাসান নিলয়

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ, 

ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সায়েন্সেস (UITS)

 

১৫ জুন, ২০২৬

দুটির বেশি সন্তান জন্মদানে মাতৃত্বকালীন সীমিত ছুটি চ্যালেঞ্জ করে রিট

দুটির বেশি সন্তান জন্মদানে মাতৃত্বকালীন সীমিত ছুটি চ্যালেঞ্জ করে রিট

 

ছবি: সংগৃহীত 

দুটির বেশি সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে একজন নারীর মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা সীমিত বা অস্বীকার করার বিদ্যমান আইনি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রিটে এ বিধানকে বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং দেশের মূল সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জনস্বার্থে সোমবার (১৫ জুন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট আবেদন করেন।

রিটে মূলত ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’-এর সংশ্লিষ্ট বৈষম্যমূলক ধারা এবং ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস’-এর প্রাসঙ্গিক বিধানসমূহের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রিটে আরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন নারী তার জীবনে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়—যে কোনো সন্তানই জন্মদান করুন না কেন, প্রসবজনিত শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি, চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা, প্রসব-পরবর্তী বিশ্রাম এবং পরম মমতায় নবজাতকের যত্নের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা প্রতিবারই সমান থাকে।

ফলে শুধু সন্তানের সংখ্যার একটি গাণিতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একজন মাকে তার মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আইনগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা চরম বৈষম্যমূলক, সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং দেশের সর্বোচ্চ সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি।

সংবিধানের ৮টি অনুচ্ছেদ ও আন্তর্জাতিক সনদের লঙ্ঘন: রিট আবেদনে দাবি করা হয়, দুটির বেশি সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন সুবিধা অস্বীকার করার এ বিধানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা নাগরিকদের সমতা, বৈষম্যহীনতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থি। এছাড়া এটি মাতৃত্ব ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রের নিজস্ব সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার সঙ্গেও চরমভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো উপকরণ নয়। এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি মৌলিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। একজন মা তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেও তার স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার প্রয়োজন কমে যায় না।

রিটে দেশের সব কর্মজীবী ও চাকুরিজীবী নারীদের জন্য সন্তানের সংখ্যা নির্বিশেষে সম্পূর্ণ বৈষম্যহীন এবং সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আদালতের কাছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।



বিডিএলপিবি/এমএম

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

ছবি: সংগৃহীত 

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায়ে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ আজ সোমবার (১৫ জুন) এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

তবে আদ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সঙ্গে আদ্ দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্য মেডিকেল প্রাক্টিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেজুলেশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২ এর ১১ (১) ধারা অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আপনার প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন

পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত 

ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থকে সভাপতি করে জাতীয় সংসদে আজ রোববার (১৪ জুন) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি (বরগুনা-২) কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, এ এম মাহবুব উদ্দিন (নোয়াখালী-১), মো. নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), শাকিলা ফারজানা (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৮), মো. মনজুরুল ইসলাম (দিনাজপুর-১), মো. হাসান রাজীব প্রধান (লালমনিরহাট-১), মো. নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), আক্তার হোসেন (রংপুর-৪) ও আল ফারুক আব্দুল লতিফ (নীলফামারী-২)। পদাধিকার বলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধি অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৪ জুন, ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা : আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা : আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে আইনানুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার সম্পূর্ণ নথিপত্রসহ (ডেথ রেফারেন্স) গত ৯ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এখন নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে।

গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা মোতাবেক আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

এছাড়া আসামি সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।

জরিমানার টাকা না দিলে কালেক্টরেট অফিসকে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান সাপেক্ষে রায় ঘোষণার তারিখ থেকে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।


বিডিএলপিবি/এমএম