সর্বশেষ

৭ সেপ, ২০২৬

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

উল্লখ্য, গভর্নরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ যুক্ত করে অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৫ মার্চ রিটটি দায়ের করেন। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর এবং গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়।

আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের পৃথক গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার নেতৃত্বে ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২৮ সালের আগস্টে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ এবং আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (০৭.০৯.২০২৬)

দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন

দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন

ছবি: সংগৃহীত 
ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ আদেশ দেন। আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।

উল্লখ্য, চিন্ময় দাস ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার শুরু হয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাকে কেন্দ্র করে।

যেভাবে গ্রেপ্তার হন চিন্ময় দাস:

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনকে আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করেন তৎকালীন চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।

ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকার কাছ থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

তাঁকে আদালতে হাজির করার দিন তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

আলিফ হত্যা মামলা:

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা:

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পুলিশের করা তিনটি মামলা এবং আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ফলে পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে দুই মামলায় চিন্ময় দাসের জামিনের আইনি বাধা দূর হলেও তাঁর কারামুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে অন্য মামলাগুলোর অবস্থার ওপর।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (০৬.০৯.২০২৬)


বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পেলেন হাইকোর্টের সেই বিচারপতি

বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পেলেন হাইকোর্টের সেই বিচারপতি

ছবিঃ সংগৃহীত 
কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। বিজয় একাত্তর ভবনের ৯ নম্বর কোর্টে একক দেওয়ানী বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি ঘটনার কারণে গত এপ্রিল মাসে বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে বিরত রেখেছিলেন প্রধান বিচারপতি। সম্প্রতি তাকে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন বিচারপতিকে বেঞ্চ দেওয়া বা বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা এটা সম্পূর্ণ প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার।

এর আগে  গত এপ্রিল মাসে এর আগে গত এপ্রিল মাসে কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গত ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের অনুষ্ঠানে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বিচারপতি আব্দুল মান্নান। তিনি সেখানে বিচারপতি পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন এবং বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিচারপতির এমন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের অনুষ্ঠানে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বিচারপতি আব্দুল মান্নান। তিনি সেখানে বিচারপতি পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন এবং বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিচারপতির এমন আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট (০৭.০৯.২০২৬)

অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বকেয়া দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বকেয়া দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবদের পাওনা গ্রস পেনশনের এককালীন ৭৫% আনুতোষিক এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মতো নিয়মিত উৎসব ভাতা পরিশোধ করতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায় প্রাপ্তির দিন থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে এই বকেয়া আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা প্রদান সম্পূর্ণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ মোট ১৪৭ জন অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিব বিধিমালা অনুযায়ী বকেয়া আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা পাওয়ার নির্দেশনা চেয়ে এই রিট আবেদনটি করেন। আবেদনকারীদের আনুমানিক ২০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। মামলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মোট ৩১ জনকে বিবাদী করা হয়।

এর আগে ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। নোটিশ দেওয়ার পরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরবর্তীতে এই রিট দায়ের করা হয়।

ঘটনার বিবরণ: মামলার নথি থেকে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবগণ অবসরে যাওয়ার সময় সরকারি নিয়ম মেনে গ্রস পেনশনের ৫০% বাধ্যতামূলক সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক পেয়েছিলেন। কিন্তু বাকি ৫০% সমর্পণ করা সত্ত্বেও তারা কোনো আনুতোষিক পাননি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, সমর্পিত বাকি ৫০%-এর বিপরীতে তাদের অর্ধেক হারে এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হওয়ার কথা। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এই প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছিল—যা বেআইনি, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।

২০১১ সালের ‘স্থানীয় সরকার ( ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা’ অনুসারে ইউপি সচিবগণ পরিষদের নিজস্ব কর্মচারী। এই বিধিমালা অনুযায়ী, তারা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর মতো মাসিক পেনশনের আওতাভুক্ত না হওয়ায়, গ্রস পেনশনের পুরো টাকা সরকারের কাছে সমর্পণ করে মোট পরিমাণের ৭৫% এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ২০১১ সালের বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণে বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা প্রদানের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের পুরো আনুতোষিক না দেওয়া এবং উৎসব ভাতা না দেওয়া স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন।

তাছাড়া, ১৯৯৪ সালের ‘ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারী (ভবিষ্য তহবিল এবং আনুতোষিক) বিধিমালা’ অনুযায়ী সচিবগণ সরকারি কর্মচারীদের মতো পেনশন, আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পাওয়ার পূর্ণ হকদার। স্পষ্ট আইনি আদেশ থাকা সত্ত্বেও সারাদেশের হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিবকে তাদের আইনানুগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা নিপীড়নমূলক ও অযৌক্তিক। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর এই ন্যায্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইনজীবীর সাক্ষাৎকার (০৬.০৯.২০২৬)

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: যা রয়েছে এই ৩ আইনে

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: যা রয়েছে এই ৩ আইনে

ফাইল ছবি
বিরোধীদলের তীব্র প্রতিবাদ, বিরোধিতা ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আইন মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত এবং অপরটি পিতা-মাতাকে আজীবন ভোগস্বত্ব বজায় রেখে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রদান-সংক্রান্ত।

মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আনীত বিল দুটিকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে আজ রোববার রাতে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল। পরে তৃতীয় বিল পাসের সময়ও তারা আপত্তির কথা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে।বিরোধীদলের এসব আপত্তির মধ্যেই বিলগুলো পাস করা হয়।

যা রয়েছে এই ৩ আইনে:

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন:
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এ ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের জন্য নতুন আইন করা হয়েছে।

এ আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকবেন। এতে জাতীয় সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য একটি নির্বাচন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।

আইনে কমিশনের এখতিয়ার স্পষ্ট করার পাশাপাশি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক হুমকি থেকে সুরক্ষা এবং আরও ক্ষতি প্রতিরোধে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ (এনপিএম) ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ইউনিট নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে কাজ করবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন:
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই আইনে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, অপরাধের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, হুইসেলব্লোয়ার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র এ ব্যয় বহন করবে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নিখোঁজ ব্যক্তির সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

বইনে গুমের ঘটনা নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এই আইনে গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়নি। এ ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই থাকবে।

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন:
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য যোগ্য দাতা নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় ব্যক্তি বা স্বামী-স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

এই সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সুপ্রিম কোর্টে বাজেট বরাদ্দ-বিচারক নিয়োগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

সুপ্রিম কোর্টে বাজেট বরাদ্দ-বিচারক নিয়োগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

প্রতীকী ছবি
বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যুক্তিসঙ্গত বাজেট বরাদ্দ, বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার এবং দ্রুত ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইলে নোটিশটি দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। অথচ বিশাল জাতীয় বাজেটের তুলনায় বিচার বিভাগের এ বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র ০.৪১ শতাংশ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। অথচ উচ্চ ও অধস্তন আদালতে লাখ লাখ মামলা বিচারাধীন। অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কারণে বিচারক ও মামলার অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনুপাত, অবকাঠামোগত সংকট, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও মামলা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার স্থান, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, লাইব্রেরি ও তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিচারক ও বেঞ্চ না থাকায় মামলাজট আরও বাড়ছে।

নোটিশে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠন, আইনজীবীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের পৃথক ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশপ্রাপ্তদের তিন দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৬.০৯.২০২৬)

দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল' পাস: সংসদে বিতর্ক

দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল' পাস: সংসদে বিতর্ক

ফাইল ছবি
নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনি অধিকার পাবেন—এমন বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।

এদিকে বিলটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে বিরোধী দল আপত্তি জানায়। পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।

যে বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে: নতুন বিলে আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। পিতা-মাতা বা পিতামহ/মাতামহ কর্তৃক তার সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে, সম্পত্তির ভোগাধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

বিরোধী দলের বক্তব্য: বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য: আইনমন্ত্রী বলেন: বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরেরে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। 

তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।
বিল পাসের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে তার কোনো প্রশ্ন নেই। এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্ট ‘কন্ট্রাডিকশন’ আছে বলে দাবি করেন তিনি। 

বিরোধীতার জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে মুসলিম আইনকে স্পর্শ করা হয়নি। এই আইনে যে ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।  এবং সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিল আনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম