সর্বশেষ

২৮ সেপ, ২০২৬

চুক্তির শর্ত অনুযায়ীই অর্থ পাওয়ার অধিকার নির্ধারণ করবে আদালত: হাইকোর্ট

চুক্তির শর্ত অনুযায়ীই অর্থ পাওয়ার অধিকার নির্ধারণ করবে আদালত: হাইকোর্ট

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস করলেই বাকি ২০% ভাড়া পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না; চুক্তিতে নির্ধারিত গন্তব্যে পণ্য পৌঁছানো ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না হলে বকেয়া ভাড়া দাবি করা যাবে না
চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী পণ্য চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল না হলে শুধু চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস সম্পন্ন করার ভিত্তিতে বাকি ২০ শতাংশ পরিবহন ভাড়া দাবি করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একটি সার পরিবহন সংক্রান্ত বাণিজ্যিক বিরোধে ড্রাই বাল্ক শিপিং (প্রা.) লিমিটেডের করা মামলা খারিজ করে বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ রায় দেন। মামলাটি ছিল অ্যাডমিরালটি স্যুট নং ২/২০২৩, যেখানে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)সহ অন্যরা বিবাদী ছিলেন।

মামলার পটভূমি:

বিসিআইসি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে বাংলাদেশে ইউরিয়া সার পরিবহনের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এর আওতায় সমুদ্রপথে পণ্য চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দরে আনা এবং পরে দেশের বিভিন্ন নির্ধারিত গুদাম বা কারখানায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

ড্রাই বাল্ক শিপিংয়ের সঙ্গে ১২ এপ্রিল ২০২২ তারিখে একটি চুক্তি হয়। পরে মেসার্স পোটন ট্রেডার্সের সঙ্গে স্থানীয় পরিবহনের জন্য পৃথক চুক্তি করা হয়। এমভি জিউ ফেইং লিং জাহাজে করে ২৯,৮২৮.৭৬৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া চট্টগ্রামে আনা হয় এবং ১৫ মে ২০২২ পণ্য খালাস শেষ হয়। বিসিআইসি চুক্তির ৮০ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করলেও বাকি ২০ শতাংশ, যার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬১.৮০ মার্কিন ডলার, পরিশোধ করেনি।

বাদীপক্ষ বকেয়া ভাড়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ, ব্যাংক সুদ ও অন্যান্য খরচসহ মোট প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা দাবি করে মামলা করে।

বিবাদীপক্ষের বক্তব্য:

বিসিআইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, চুক্তির ৫৫(বি) ধারায় বাকি ২০ শতাংশ ভাড়া পরিশোধের আগে নির্ধারিত গুদামে পণ্য পৌঁছানোর প্রমাণ, পণ্য গ্রহণের সনদ, এমআরআরসহ বেশ কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র দাখিলের শর্ত ছিল।

কিন্তু এসব শর্ত পূরণ হয়নি। এমনকি জাহাজে আসা পণ্যের মধ্যে ১২,২২৩.৫০ মেট্রিক টন সংশ্লিষ্ট গুদামে পৌঁছায়নি বলেও বিবাদীপক্ষ দাবি করে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

আদালত বলেন, দরপত্র ও চুক্তির সামগ্রিক কাঠামো থেকে দেখা যায়, সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের পরই পরিবহনকারীর দায়িত্ব শেষ হয়নি। নির্ধারিত গুদাম বা কারখানায় পুরো পণ্য পৌঁছে দেওয়াও চুক্তির অংশ ছিল। বিশেষ করে চুক্তির ৫৫(বি) ধারায় বাকি ২০ শতাংশ ভাড়া পরিশোধের সঙ্গে নির্ধারিত গন্তব্যে পুরো পণ্য পৌঁছানো এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি দাখিলের শর্ত স্পষ্টভাবে যুক্ত ছিল।

আদালত আরও বলেন, বাদী সমুদ্রপথের পরিবহন সম্পন্ন করায় ৮০ শতাংশ ভাড়া পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছিল এবং সেই অর্থ বিসিআইসি পরিশোধও করেছে। কিন্তু বাকি ২০ শতাংশের জন্য আলাদা একটি চুক্তিগত শর্ত ছিল—নির্ধারিত গন্তব্যে পুরো পণ্য পৌঁছানো এবং তার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা। সেই শর্ত পূরণের প্রমাণ বাদী দিতে পারেনি।

রায়ের মূল বক্তব্য:

চুক্তিতে কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত নির্ধারিত থাকলে আদালত সেই চুক্তির শর্ত অনুসারেই অর্থ পাওয়ার অধিকার নির্ধারণ করবে।

এই মামলায় চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস সম্পন্ন হলেও নির্ধারিত গুদাম বা কারখানায় পুরো পণ্য পৌঁছানোর প্রমাণ এবং চুক্তিতে নির্ধারিত প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করা হয়নি। ফলে বাকি ২০ শতাংশ ভাড়া পাওয়ার অধিকার বাদীর সৃষ্টি হয়নি।

মামলার চূড়ান্ত ফল:

হাইকোর্ট বাদীর দাবি করা ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে বাকি ২০ শতাংশ ভাড়া পাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হয়নি এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দাবি করা অতিরিক্ত অর্থও পাওয়ার ভিত্তি নেই বলে জানান। এ ছাড়া চুক্তির ৫১(II) ধারায় চট্টগ্রাম বন্দরে ক্ষতিপূরণমূলক অতিরিক্ত ভাড়া বা বিলম্বভাড়া প্রযোজ্য না থাকায় ওই দাবিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালত উল্লেখ করেন। ফলে মামলার ২ থেকে ৫ নম্বর বিষয়গুলো বাদীর বিরুদ্ধে নিষ্পত্তি করে অ্যাডমিরালটি স্যুটটি খারিজ করা হয়। তবে আদালত খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।


বিডিএলপিবি/মাসুম
সূত্র: রায়টি প্রকাশিত হয় ২৮/০৯/২০২৬ তারিখে

মাদক ধ্বংসের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড

মাদক ধ্বংসের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড

কোলাজ ছবি 
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের আলামত নিষ্পত্তি শাখায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যের নাম রেজাউল করিম। তিনি সিএমএম আদালতের আলামত নিষ্পত্তি শাখায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি। সূত্রাপুরের ‘বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি ঘর’ নামে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে রেজাউল করিমকে ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

পরে এ ঘটনায় ডিএমপির পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর সোমবার রেজাউল করিমকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই সুমন কুমার চ্যাটার্জি রেজাউলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে রেজাউলের পক্ষে আইনজীবী শাহজালাল মুন্সী (সাকু) রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে চান। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কাছ থেকে কোনো ইয়াবা উদ্ধার হয়নি। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ইয়াবাগুলো তার পায়ের কাছে পড়ে ছিল।

পক্ষগুলোর বক্তব্য ও রিমান্ড আবেদন শুনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম পুলিশ সদস্য রেজাউল করিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।



বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ঢাকা পোস্ট (২৮.০৯.২০২৬)

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট

দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদের রিট

কোলাজ ছবি 
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই সংবাদ সম্মেলন করে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’—এমন বক্তব্য দেওয়ার আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়। রিট পিটিশন নম্বর ১৩৮৮৫/২০২৬। আসিফ মাহমুদের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা।

রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা)কে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

রিটকারীর আইনজীবীর তথ্যমতে, গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে দেওয়া দুটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আইনগত কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে।

রিটে বলা হয়েছে, অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরুর বিষয় জানাতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেটি কোন আইনি ক্ষমতাবলে দেওয়া হয়েছে—তা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই বক্তব্যকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করতে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার সম্মানহানি, প্রচারমূলক বক্তব্য বা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ থেকে বিরত থাকতে দুদক ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

পুনরায় প্রেস ব্রিফিংয়ের আবেদন

রিটে আরও বলা হয়েছে, দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আসিফ মাহমুদের মর্যাদা ও সুনামের যে ক্ষতি হয়েছে, তা নিরসনে একই ধরনের গুরুত্ব ও প্রচারের মাধ্যমে পুনরায় সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভুল স্বীকারের নির্দেশ দেওয়া হোক।

রিটকারীর পক্ষের আইনজীবীর দাবি, তদন্ত বা অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করা কিংবা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে—এমন ঘোষণা দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা দুদকের নেই।

দুদকের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন

রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুদকের আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়ার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক পদায়ন এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে দুদকের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্টভাবে প্রত্যাহার করে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

সংবিধান ও তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার প্রসঙ্গ

রিটকারীর আইনজীবীর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবন, মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার যে অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর সঙ্গেও এ ধরনের কার্যক্রমের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

রিটে আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বাস্তবসম্মত নয়। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়েছে, ওই পদোন্নতি তার পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর কার্যকর হওয়ায় এতে তার সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই।

রিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু করা হয়েছে। তবে এটি রিটকারীর পক্ষের অভিযোগ; আদালতে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে রিটটি উপস্থাপনের জন্য দাখিল করা হয়েছে। শিগগিরই রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিটকারী আইনজীবীর বক্তব্য

নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 
জাতীয় সংসদ ও সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হবে না কেন—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়া কিংবা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হবে না কেন, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

জনস্বার্থে করা রিটটির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ সরকারি চাকরিজীবী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা রয়েছে।

আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বলেন, জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং জনপ্রতিনিধিরাই জনগণের পক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তাই জাতীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের মাদকমুক্ত থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সরকার অনুমোদিত কোনো ল্যাবরেটরি বা হাসপাতাল থেকে ডোপ টেস্টের সনদ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কোনো প্রার্থী মাদক গ্রহণ না করলে পরীক্ষায় অংশ নিতে তার আপত্তির কারণ থাকার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাইকোর্টের রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাত বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রুলে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের বিষয়টি আদালতের সামনে এসেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিটকারী আইনজীবীর বক্তব্য

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ইজারা বা ভাড়া দেওয়া বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব বাস সাধারণ যাত্রীদের পরিবহনে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন রিটটি দায়ের করেন। রিট পিটিশন নম্বর ১৩৯৭১/২০২৬।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন আইন, ২০২০-এর ৫ ও ২২ ধারা অনুযায়ী বিআরটিসির বাস সাধারণ মানুষের গণপরিবহনের জন্য ব্যবহারের কথা। কিন্তু এই বিধান অনুসরণ না করে বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়া হচ্ছে বলে রিটে অভিযোগ করা হয়েছে।

রিটকারীর দাবি, এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহারের জন্য বিআরটিসির বাস বরাদ্দ বা ভাড়া দেওয়া আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিটে বিআরটিসির বাস ইজারা নীতিমালা, ২০০৭-এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞ বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবসায়ীদের বাস ইজারা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই নীতিমালার ৫(১৭) অনুচ্ছেদে তৃতীয় পক্ষের কাছে বাস হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, জনগণের করের অর্থে কেনা বিআরটিসির বাস সাধারণ যাত্রীদের পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ব্যবহার করা হলে তা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এ ছাড়া রিটে অর্থনীতিতে আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ ও ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্টের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। রিটকারীর বক্তব্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি থেকে বাস ভাড়া নিলে সরকারি অর্থ মূলত এক সরকারি খাত থেকে অন্য সরকারি খাতেই স্থানান্তরিত হয়। বিপরীতে বেসরকারি পরিবহন খাত থেকে বাস ভাড়া করা হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রিটে দাবি করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে বিপুলসংখ্যক বিআরটিসির বাস ব্যবহারের ফলে সাধারণ যাত্রী, নারী ও শিক্ষার্থীরা গণপরিবহন সংকটে পড়ছেন।

এ অবস্থায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি কাজে ব্যবহৃত বিআরটিসির বাসগুলো প্রত্যাহার করে সাধারণ যাত্রীদের জন্য নিয়মিত বাণিজ্যিক রুটে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটটি শিগগিরই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।


বিডিএলপিবি/এমএম

দুই দফা তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, বাদীকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

দুই দফা তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, বাদীকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই দফা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না মেলায় মামলার বাদী মোছা. লাবলী আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পৃথক তদন্ত প্রতিবেদনে মামলাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হামিদ লাবলী আক্তারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া (নিটালডোবা) গ্রামের লাবলী আক্তার (২৮) একই এলাকার মো. সাদ্দাম হোসেনের (৩২) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু মামলা নম্বর ৯৩/২০২৫ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

মামলার এজাহারে লাবলী আক্তার অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ সাদ্দাম হোসেন তাকে নুরুল ইসলামের ভুট্টাখেতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

মামলাটি তদন্তের পর বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় সাদ্দাম হোসেনকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ধর্ষণের ঘটনা সাজিয়ে মামলাটি করা হয়েছে।

তবে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে বাদী লাবলী আক্তার আদালতে নারাজি আবেদন করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পিবিআই, ঠাকুরগাঁওকে দেন।

অধিকতর তদন্ত শেষে পিবিআইও ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে কোনো সত্যতা পায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে মামলাটিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

পরে ট্রাইব্যুনাল পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সাদ্দাম হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে লাবলী আক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১৭(১) ধারায় অপরাধ আমলে নেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন লাবলী আক্তার। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: The News 24 (27.09.2026)

২৭ সেপ, ২০২৬

কোন পক্ষের গাফিলতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড নয়: হাইকোর্টের রায়

কোন পক্ষের গাফিলতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড নয়: হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত 
কোনো মামলায় কয়েকজন পক্ষের মধ্যে আপসনামার ভিত্তিতে পুরো সম্পত্তি নিয়ে ডিক্রি দেওয়া হলেও, ওই সম্পত্তিতে স্বতন্ত্র অধিকার দাবি করা এবং আপসে সম্মতি না দেওয়া অন্য পক্ষের অধিকার তা দিয়ে খর্ব করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, কোনো পক্ষের নিজস্ব অবহেলা বা গাফিলতির কারণে তৈরি ঘাটতি পূরণের জন্য সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড করা উচিত নয়। তবে আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে কোনো পক্ষের লিখিত জবাব গ্রহণ না করা হলে এবং এর ফলে সম্পত্তিতে তার স্বতন্ত্র দাবি প্রতিষ্ঠার সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে মামলাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

সম্প্রতি মোহাম্মদ আলী ও অন্যান্য বনাম আবদুল জব্বার ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ফার্স্ট আপিল নম্বর ৩৩৯/২০১৮ মামলাটির শুনানি হয় ২০ আগস্ট ২০২৬ এবং রায় দেওয়া হয় ২৫ আগস্ট ২০২৬।

মামলার পটভূমি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এলাকার ১৪ দশমিক ৬৪ একর জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। বাদীরা ওই জমির ৫ দশমিক ৮৬ একর নিজেদের বলে দাবি করে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেন। মামলায় কয়েকজন বিবাদী বাদীদের দাবি মেনে নিলেও, অপর কয়েকজন বিবাদী জমির বড় একটি অংশে নিজেদের স্বত্ব দাবি করেন। তারা ১৯৬৪ সাল থেকে বিভিন্ন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার দাবি করেন।

এর আগে একই ১৪ দশমিক ৬৪ একর জমি নিয়ে পার্টিশন স্যুট নম্বর ৫/২০০৪ দায়ের হয়েছিল। ওই মামলায় বর্তমান আপিলকারীদের পক্ষে ৬ দশমিক ২১৫০ একর জমি বরাদ্দ দিয়ে ডিক্রি হয়। পরে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

তবে পরবর্তী স্বত্ব ঘোষণার মামলায় বিবাদীদের মধ্যে কয়েকজন লিখিত জবাব দেরিতে দাখিল করেন। লিখিত জবাব গ্রহণের আবেদন শুনানির দিন তারা বা তাদের আইনজীবী উপস্থিত হয়ে আবেদনটি উপস্থাপন না করায় আদালত লিখিত জবাব গ্রহণ করেননি। পরে বাদী ও কয়েকজন বিবাদীর মধ্যে আপসের ভিত্তিতে পুরো মামলার নিষ্পত্তি করা হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, কোনো পক্ষের নিজস্ব অবহেলা বা গাফিলতির কারণে তৈরি ঘাটতি পূরণের জন্য সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড করা উচিত নয়। তবে কোনো পক্ষের ইচ্ছাকৃত বা দোষযোগ্য আচরণের কারণে নয়, এমন পরিস্থিতিতে যদি সে কার্যকরভাবে মামলা পরিচালনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং এতে তার গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলা পুনরায় বিচারের জন্য পাঠানো যেতে পারে।

আদালত আরও বলেন, বর্তমান আপিলকারীরা মামলায় পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। তারা আদালতে হাজির হয়েছিলেন, লিখিত জবাব দাখিলের সময় নিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত লিখিত জবাবের সঙ্গে তা গ্রহণের আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু শুনানির দিন আইনজীবী আবেদনটি উপস্থাপন না করায় লিখিত জবাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

হাইকোর্টের মতে, জমির স্বত্ব ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ওই লিখিত জবাব প্রত্যাখ্যানের ফল ছিল গুরুতর। কারণ সংশ্লিষ্ট বিবাদীরা নিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশে স্বতন্ত্র স্বত্ব দাবি করেছিলেন এবং আগের পার্টিশন মামলার ডিক্রির ওপরও নির্ভর করেছিলেন।

আপসনামা নিয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

হাইকোর্ট স্পষ্ট করেন, কোনো পক্ষের সঙ্গে করা আপসনামা সেই আপসে সম্মতি না দেওয়া অন্য পক্ষের স্বতন্ত্র অধিকারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। ওই পক্ষের দাবি যথাযথভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

আদালত আরও দেখতে পান, আগের পার্টিশন মামলায় যে জমি নিয়ে ডিক্রি হয়েছিল, সেটিই বর্তমান মামলার জমির সঙ্গে পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট। আগের ডিক্রিতে বর্তমান আপিলকারীদের পক্ষে ৬ দশমিক ২১৫০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী আপস ডিক্রি ওই আগের ডিক্রির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে ২০১৫ সালের নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন। একই সঙ্গে মামলাটি নতুন করে নিষ্পত্তির জন্য ট্রায়াল কোর্টে ফেরত পাঠানো হয়।

আদালত আরও নির্দেশ দেন, ১১–২২ নম্বর বিবাদীদের দাখিল করা লিখিত জবাব ১০ হাজার টাকা খরচ পরিশোধের শর্তে রেকর্ডে গ্রহণ করতে হবে। আর আপিলে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া ৯–১৮ নম্বর আপিলকারীদের মূল মামলায় বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে লিখিত জবাব দাখিলের সুযোগ দিতে হবে।

নতুন করে বিচারকাজে সব পক্ষকে প্রমাণ উপস্থাপনের যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে এবং আগের পার্টিশন মামলার ২০০৭ সালের ডিক্রিসহ পরবর্তী ডিক্রি বিবেচনায় নিতে ট্রায়াল কোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি নিম্ন আদালতের নথি ও রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর সম্ভব হলে ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ের মূল বক্তব্য

আপসনামায় অংশ না নেওয়া কোনো পক্ষের স্বতন্ত্র স্বত্ব ও অধিকারকে আপসের মাধ্যমে খর্ব করা যায় না। বিশেষ করে একই সম্পত্তি নিয়ে পূর্ববর্তী আদালতের ডিক্রি বিদ্যমান থাকলে, তা উপেক্ষা করে আপসের ভিত্তিতে নতুন ডিক্রি দেওয়া আইনগতভাবে টেকসই নয়। ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে তার দাবি প্রমাণের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে।


বিডিএলপিবি/মাসুম