সর্বশেষ

১ নভে, ২০২৬

আইনজীবী হলেই জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যায় না: হাইকোর্ট

আইনজীবী হলেই জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা যায় না: হাইকোর্ট

প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ; লোকাস স্ট্যান্ডি (Locus Standi); জনস্বার্থ মামলা (Public Interest Litigation); Approbate and Reprobate নীতি।

পাশের জমির মালিক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে রাজউকের প্লট বরাদ্দ চ্যালেঞ্জ করার আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয় না; সরাসরি আইনগত স্বার্থ ও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রাজধানীর বনানীতে একটি আবাসিক প্লট বিকল্প বরাদ্দের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, কেবল আইনজীবী হওয়া কিংবা আইন ও জনস্বার্থ রক্ষার সাধারণ দায়িত্ব পালনের দাবি করলেই কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার অধিকার অর্জন করেন না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যক্তিগত, সম্পত্তিগত অথবা আইনস্বীকৃত স্বার্থ থাকতে হবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রিট পিটিশন নং ১১৮২৮/২০১৬, আবদুল বাসেত মজুমদার (মৃত) ও অন্যান্য বনাম রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও অন্যান্য  মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে। 

মামলার ঘটনা

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর বনানী আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর সড়কের ডি ব্লকের ২৪ নম্বর প্লটটি রাজউক ২০০৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর মো. জিয়াউল হক মিয়ানের অনুকূলে বিকল্প প্লট হিসেবে বরাদ্দ দেয়। এর আগে ১৯৯৫ সালে তাঁকে গুলশান আবাসিক এলাকায় একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লেকের লে-আউট পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়ায় রাজউক ওই প্লটের দখল বুঝিয়ে দিতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বনানীর প্লটটি বিকল্প হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বরাদ্দের পর রাজউকের সঙ্গে ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর একটি নিবন্ধিত লিজ দলিল সম্পাদিত হয়। পরবর্তী সময়ে প্লটটি একাধিকবার হস্তান্তরিত হয় এবং সর্বশেষ এলিগ্যান্ট ওয়াশিং প্ল্যান্ট লিমিটেডের নামে মালিকানা ও নামজারি সম্পন্ন হয়। ওই জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের নকশাও অনুমোদন করে রাজউক।

অন্যদিকে, মূল রিটকারী আবদুল বাসেত মজুমদারের বক্তব্য ছিল, তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন জমির পাশের এই প্লটটি দীর্ঘদিন খালি জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে ওয়াসার পাম্প ও অন্যান্য স্থাপনা ছিল। তাঁর অভিযোগ, কোনো বিধিমালা বা নীতিমালায় বিকল্প প্লট বরাদ্দের বিধান না থাকা সত্ত্বেও রাজউক বেআইনিভাবে প্লটটি বরাদ্দ দিয়েছে। এ ছাড়া জমিটি আবাসিক প্লট হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার আগে যথাযথ প্রক্রিয়ায় রূপান্তর এবং প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি ও দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন ছিল।

এসব অভিযোগে তিনি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে মূল রিটকারীর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীরা মামলাটি পরিচালনা করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, রিটকারী নিজে বিতর্কিত জমির মালিকানা, চুক্তিগত অধিকার, আর্থিক দায়বদ্ধতা কিংবা অন্য কোনো আইনস্বীকৃত স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। তাঁর স্ত্রীর পাশের জমির মালিকানা ও সেখানে বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করলেও তা বিতর্কিত প্লটের ওপর রিটকারীর কোনো স্বত্ব বা বলবৎযোগ্য অধিকার সৃষ্টি করে না।

আদালত আরও বলেন, কোনো জমির প্রতিবেশী বা সংলগ্ন জমির মালিক হওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি জমির বরাদ্দের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর কিংবা বরাদ্দ প্রক্রিয়া বন্ধ করার আইনগত অধিকার অর্জন করেন না। এ ধরনের অধিকার দাবি করতে হলে সংশ্লিষ্ট জমিতে সরাসরি আইনগত স্বার্থ অথবা অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি দেখাতে হবে।

আইনজীবী হিসেবে রিটকারীর অবস্থান নিয়েও আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, আইনজীবী হওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতিটি প্রশাসনিক কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সীমাহীন অধিকার পান না। আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পেশাগত দায়িত্ব থাকলেও তা একাই রিট দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় লোকাস স্ট্যান্ডি বা মামলা করার আইনগত অধিকার সৃষ্টি করে না।

জনস্বার্থে মামলা করার ক্ষেত্রেও আদালত বলেন, কেবল জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করলেই কোনো আবেদন জনস্বার্থমূলক মামলা হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত জনস্বার্থ সংশ্লিষ্টতা এবং জনস্বার্থে মামলা করার গ্রহণযোগ্য ভিত্তি থাকতে হবে।

পরস্পরবিরোধী অবস্থান গ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন

আদালত রিটকারীর বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা দেখতে পান। একদিকে তিনি সংলগ্ন জমির মালিক হিসেবে বিতর্কিত প্লটটি পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থের কথা বলেছেন। অন্যদিকে একই জমিকে উন্মুক্ত স্থান বা জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা দাবি করে ব্যক্তিগত বরাদ্দের বিরোধিতা করেছেন।

আদালত বলেন, একই মামলায় কোনো পক্ষকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান গ্রহণের সুযোগ দেওয়া যায় না। আইন অনুযায়ী একজন litigant একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী দাবি বা অবস্থান গ্রহণ করে নিজের সুবিধামতো প্রতিকার চাইতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে Approbate and Reprobate নীতির কথাও উল্লেখ করেন আদালত।

আদালতের মতে, রিটকারীর এ ধরনের পরিবর্তনশীল ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তাঁর দাবির আইনগত ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। তিনি বিতর্কিত জমির বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ ও বলবৎযোগ্য আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রিট আবেদন খারিজ

সবশেষে হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেন, রিটকারীর বিতর্কিত জমির ওপর কোনো প্রত্যক্ষ ও আইনস্বীকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় তাঁর রিট আবেদন দায়েরের আইনগত যোগ্যতা বা লোকাস স্ট্যান্ডি নেই। ফলে মামলার মূল বিরোধের গুণাগুণ বা বিকল্প প্লট বরাদ্দের বৈধতা নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এ কারণে আদালত রুল খারিজ করেন এবং রুল জারির সময় দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করেন। তবে কোনো খরচ আরোপ করা হয়নি।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম


চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে রাখলে স্টোর রেন্ট নয়, ডিটেনশন চার্জ আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের: পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে রাখলে স্টোর রেন্ট নয়, ডিটেনশন চার্জ আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের: পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রাম বন্দরে শুল্কসংক্রান্ত জটিলতার কারণে পণ্যবোঝাই ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান আটকে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের কাছ থেকে স্টোর রেন্টের পরিবর্তে ডিটেনশন চার্জ আদায় করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রবিধানমালার ১৩৩ নম্বর প্রবিধান অধিকতর প্রযোজ্য। একই সঙ্গে আইনগতভাবে দুটি বিধানের মধ্যে কোনোটি অধিকতর সুবিধাজনক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই সুবিধাজনক বিধান বেছে নেওয়ার অধিকার রাখেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সর্দার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলাম-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। তাহমিদ এন্টারপ্রাইজ বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য (রিট পিটিশন নং ১৮৮১২/২০২৫) মামলায় আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তাহমিদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে লেমিনেটেড উড প্যানেল আমদানি করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আমদানিকারক শুল্ক ও কর পরিশোধের পর পণ্য খালাসের অনুমতি পায়। পরবর্তী সময়ে পণ্যগুলো ছয়টি ভাড়া করা কাভার্ড ভ্যানে তোলা হলে শুল্ক কর্তৃপক্ষ এইচএস কোডসংক্রান্ত ভুল ঘোষণার অভিযোগে বন্দর গেট থেকে ভ্যানগুলো আটকে দেয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে পণ্য পুনর্মূল্যায়ন করা হয় এবং অতিরিক্ত শুল্ক, কর ও অন্যান্য চার্জের বিপরীতে ব্যাংক গ্যারান্টি গ্রহণের মাধ্যমে পণ্য ছাড়ের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পণ্যবোঝাই ছয়টি কাভার্ড ভ্যান বন্দর থেকে বের করার সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ স্টোর রেন্ট বাবদ ৬৫ লাখ ২৭ হাজার ৩০৮ টাকা ২৩ পয়সা দাবি করে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের এ দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে আমদানিকারক হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

পক্ষগুলোর বক্তব্য

রিট আবেদনকারীর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়, পণ্যগুলো কাভার্ড ভ্যানে তোলার পর শুল্ক কর্তৃপক্ষ সেগুলো আটকে রাখে এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০০১-এর ১৩৩ নম্বর প্রবিধান অনুযায়ী ডিটেনশন চার্জ আদায় করা যেতে পারে। কিন্তু ১৬১ নম্বর প্রবিধান অনুযায়ী স্টোর রেন্ট আদায়ের সুযোগ নেই।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে বলা হয়, পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও সেগুলো জেটি এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। বরং চার মাসেরও বেশি সময় ধরে ছয়টি কাভার্ড ভ্যান বন্দরের নির্ধারিত স্থান দখল করে রেখেছিল। ফলে ২০০১ সালের প্রবিধানমালার ১৬১ নম্বর প্রবিধান অনুযায়ী স্টোর রেন্ট আদায় আইনসংগত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট ২০০১ সালের প্রবিধানমালার ১৩৩ ও ১৬১ নম্বর প্রবিধান পৃথকভাবে বিশ্লেষণ করেন।

প্রবিধান ১৬১ অনুযায়ী, কোনো পণ্য বা কনটেইনারের ডেলিভারি গ্রহণের পরও তা জেটি এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া হলে প্রচলিত নিয়মে ভাড়া বা স্টোর রেন্ট প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে প্রবিধান ১৩৩ অনুযায়ী, আমদানি বা রপ্তানির পণ্যসহ কোনো ট্রাক বা পরিবহন জেটি এলাকায় আটকে থাকলে প্রতিটি পরিবহনের জন্য দৈনিক বা রাতপ্রতি নির্ধারিত হারে ডিটেনশন চার্জ আরোপ করা যাবে।

আদালত বলেন, প্রবিধান ১৩৩-এর প্রথম অংশে পণ্যবোঝাই ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান আটকে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় অংশে মালিক, ভাড়াটিয়া বা চালকের অবহেলার কারণে খালি গাড়ি বন্দরের জেটি এলাকায় ফেলে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। দুটি অংশের প্রয়োগক্ষেত্র পৃথক এবং একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো অপরিহার্য সম্পর্ক নেই।

আদালত আরও বলেন, আলোচ্য মামলায় পণ্যগুলো কাভার্ড ভ্যানে তোলার পর সেগুলো আটকে রাখা হয়েছিল। ফলে এ ক্ষেত্রে প্রবিধান ১৩৩-এর প্রথম অংশ অধিকতর উপযুক্ত ও প্রযোজ্য।

আদালতের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন, কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে আইনের দুটি পৃথক বিধান কমবেশি প্রযোজ্য হলে তিনি অধিকতর সুবিধাজনক বিধানটি বেছে নেওয়ার অধিকার রাখেন। আলোচ্য মামলায় প্রবিধান ১৩৩ ও ১৬১ উভয়টির প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান আটকে রাখার পরিস্থিতিতে প্রবিধান ১৩৩ অধিকতর উপযুক্ত।

এ কারণে আদালত আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ২০০১ সালের প্রবিধানমালার ১৩৩ নম্বর প্রবিধান এবং সংশ্লিষ্ট ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী চার্জ নির্ধারণের অধিকারী ঘোষণা করেন।

আদালত রিটের রুল যথাযথ ঘোষণা করে (Rule made absolute) মামলাটি নিষ্পত্তি করেন এবং রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আইনি শিক্ষা

এ রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন, বন্দরে পণ্যবোঝাই ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান আটকে রাখার ক্ষেত্রে স্টোর রেন্ট ও ডিটেনশন চার্জের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পণ্য খালাসের উদ্দেশ্যে পরিবহনে তোলার পর তা আটকে রাখা হলে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবিধান ১৩৩ অনুযায়ী ডিটেনশন চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। পাশাপাশি, একই পরিস্থিতিতে একাধিক আইনগত বিধান প্রযোজ্য হলে অধিকতর সুবিধাজনক বিধান বেছে নেওয়ার অধিকারও স্বীকৃত হয়েছে।

মামলা: তাহমিদ এন্টারপ্রাইজ বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য | রিট পিটিশন নং ১৮৮১২/২০২৫ | রায়ের তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৬

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

৩১ অক্টো, ২০২৬

১৪ কার্যদিবসে হাইকোর্টে নিষ্পত্তি ৬৯ হাজারের বেশি পুরোনো মামলা

১৪ কার্যদিবসে হাইকোর্টে নিষ্পত্তি ৬৯ হাজারের বেশি পুরোনো মামলা

ছবি: সংগৃহীত 
হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ উদ্যোগে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে ৬৯ হাজার ৭০৯টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে একদিনেই ১২টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ২ হাজার ৩৫৪টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন পুরোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় গত ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৬৯ হাজার ৭০৯টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, দীর্ঘদিনের মামলাজট কমানো এবং বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চে প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে পুরোনো মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু হয়।

বিশেষ এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিপুলসংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মামলাজট নিরসন এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

তাহসিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দীপের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত 
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে আসামি দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

পরদিন (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ খবর পায়, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসছে। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন তাহসিফকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানান, নিহত তাহসিফ তাঁর সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

এসব যুক্তি তুলে ধরে তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট 


তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

কোলাজ ছবি 
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর আগে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এবার তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ জানান, উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে একই দিন সকালে তাহসিফের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে সাক্ষাৎ

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। ফুটেজে তাদের হাত মেলানোর পর পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা গেছে।

পরিবারকে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। পরে মোটরসাইকেল মেরামত শেষে একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে ওই রাতে তাদের অবস্থান ও যোগাযোগের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে তদন্তের আওতায় আসে।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে সেটি উদ্ধার করেন। পরে হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল উদ্ধার

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরদিন শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার দেওয়া এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরে পিবিআই তার বক্তব্যের অসংগতিসহ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সেগুলো নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছেলের মৃত্যু নিয়ে বাবার সন্দেহ

তাহসিফের মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। তাই নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এ ঘটনায় বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় এবার দীপকে গ্রেপ্তার করা হলো। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তিনি তুরাগ নদে পৌঁছালেন এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতি বেআইনি, এতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়: হাইকোর্ট

সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতি বেআইনি, এতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
বিভাগীয় তদন্তে সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দেওয়া এবং অভিযোগ উত্থাপনকারী কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসব প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ বেআইনি ঘোষণা করে একজন প্রকৌশলীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সরকারি মালিকানাধীন বা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো কোম্পানি কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক পর্যালোচনার এখতিয়ারের বাইরে চলে যায় না। কোনো প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করলে এবং তার সিদ্ধান্তে জনআইনের উপাদান বিদ্যমান থাকলে সেই সিদ্ধান্ত বিচারিক পর্যালোচনার আওতাভুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি উর্মী রহমান ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মো. মাহবুব কবির বনাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং ১৩৫০১/২০২৫ মামলায় দেওয়া এ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৫ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার পটভূমি

রিটকারী মো. মাহবুব কবির প্রথমে চুক্তিভিত্তিকভাবে বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেডে উপমহাব্যবস্থাপক (Deputy General Manager) হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি প্রধান প্রকৌশলী (Chief Engineer) হন এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থাপিত জেনারেটরের উৎপত্তির দেশ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে অবহেলা, অদক্ষতা ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্ত শেষে ২৩ জুন ২০২০ তারিখে তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ২০২০ তারিখে তাঁর দায়ের করা আপিলও খারিজ করা হয়।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তিনি চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করেন। ১৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগ (Power Division) কোম্পানিকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। এ উদ্দেশ্যে গঠিত একটি কমিটি ১৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়। তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। পরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে পুনর্বহাল করা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

এ অবস্থায় চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ, আপিল খারিজের সিদ্ধান্ত এবং পুনর্বহালের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

১. সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির বিরুদ্ধেও রিট করা যায়

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেডের অধিকাংশ শেয়ারের মালিকানা সরকারের এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তাই কোনো কোম্পানি কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত হলেও তার কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তে জনআইনের উপাদান থাকলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারিক পর্যালোচনা সম্ভব।

বিশেষ করে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, আইনগত কর্তৃত্বের অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আদালতের পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

২. সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন

আদালত দেখতে পান, তদন্ত কমিটি সাক্ষীদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করলেও রিটকারীকে তাঁদের জেরা করার কোনো সুযোগ দেয়নি। বিশেষ করে, রিটকারী এবং তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সাবুরের বক্তব্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা ছিল।

এ অবস্থায় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ না দেওয়ায় রিটকারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আদালত মনে করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, রিটকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনকারী তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর চাকরিচ্যুতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিচালনা পর্ষদের সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।

আদালতের মতে, অভিযোগ উত্থাপনকারী ব্যক্তি নিজেই যদি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

ফলে ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের ভিত্তিতে দেওয়া চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ আইনগতভাবে বহাল থাকতে পারে না।

৩. আপিল খারিজের সিদ্ধান্তও বেআইনি

বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড এমপ্লয়িজ সার্ভিস রুলস, ২০১৬-এর বিধি ৭.১০(ই) অনুযায়ী, আপিল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল শাস্তির ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত প্রমাণ যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না এবং আরোপিত শাস্তি যথাযথ, অপর্যাপ্ত নাকি অতিরিক্ত—তা পর্যালোচনা করা।

কিন্তু আদালত দেখতে পান, আপিল কর্তৃপক্ষ রিটকারীর উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগ ও যুক্তিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই আপিল খারিজ করে। বরং তদন্তের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে—এমন বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

তাই আপিল খারিজের আদেশকেও বেআইনি ঘোষণা করেন আদালত।

৪. কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ায় রিট মামলা অগ্রহণযোগ্য হয় না

চাকরি থেকে অপসারণের পর উল্লেখযোগ্য সময় অতিবাহিত হওয়া এবং রিটকারীর কিছু চাকরিসংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

তবে আদালত বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছিল। সেই পুনর্বিবেচনার পর ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নেওয়া সিদ্ধান্ত রিট দায়েরের জন্য নতুন ও তাৎক্ষণিক কারণের (Fresh Cause of Action) সৃষ্টি করে।

তাই কেবল বিলম্বের যুক্তিতে রিট আবেদন অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা যায় না। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনা না করে বিলম্বের বিষয়টি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়।

৫. চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পুনর্বহালের পথে স্বয়ংক্রিয় বাধা নয়

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, কোম্পানির চাকরি বিধিমালায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান থাকলেও নিয়োগের চুক্তিভিত্তিক প্রকৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহালের সম্ভাবনা নাকচ করে না।

সার্ভিস রুলসের বিধি ৭.৪(বি)-তে চাকরি থেকে অপসারণ (Removal) ও চাকরিচ্যুতি (Dismissal)-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিধি ৭.১১-তে চাকরিতে পুনর্বহালের বিধান রয়েছে।

রিটকারীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। যেহেতু আদালত অপসারণের আদেশকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছেন, তাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কিংবা পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বাধা হিসেবে গ্রহণ করেননি।

আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগ রুল অ্যাবসলিউট (Rule Absolute) ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত নিম্নোক্ত আদেশ ও সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করেন—

১. ২৩ জুন ২০২০ তারিখে জারি করা চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ;

২. ৫ আগস্ট ২০২০ তারিখে রিটকারীর আপিল খারিজের আদেশ; এবং

৩. ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল না করার সিদ্ধান্ত।

আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রিটকারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। মামলায় কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি।

রায়ের আইনগত গুরুত্ব

এই রায়ে বিভাগীয় তদন্তে অভিযুক্ত কর্মচারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। বিশেষ করে, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির লঙ্ঘন।

একই সঙ্গে অভিযোগ উত্থাপনকারী ব্যক্তি যদি অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তাহলে সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

রায়ে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, আপিল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ ও প্রমাণ স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত দিতে হবে। সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির সিদ্ধান্তেও জনআইনের উপাদান থাকলে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারিক পর্যালোচনার আওতাভুক্ত হতে পারে।

সর্বোপরি, কোনো কর্মচারীর নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক হলেই তাঁর বেআইনি অপসারণের বিরুদ্ধে পুনর্বহালের প্রতিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় না।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম


শুধু নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য পুরোনো কর নির্ধারণ (Tax Assessment) পুনরায় খোলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

শুধু নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য পুরোনো কর নির্ধারণ (Tax Assessment) পুনরায় খোলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পক্ষে দায়ের করা রিটে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় কোনো করদাতার সম্পন্ন ও চূড়ান্ত কর নির্ধারণ কেবল আয় বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের উৎস যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পুনরায় খোলার ক্ষমতা কর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সর্দার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রিট পিটিশন নং ৬২৪৯/২০২৫-এর রায় দেন। মামলাটি ছিল জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বনাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অন্যান্য। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় কয়েকটি নোটিশ প্রদান করে। এসব নোটিশে ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ এবং ২০২০-২০২১ করবর্ষের সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, প্রতিষ্ঠানের আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে আয়কর রিটার্ন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়।

এরপর ওই নোটিশগুলোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রতিষ্ঠানটি। রুল জারির সময় আদালত নোটিশগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারার বিধান পর্যালোচনা করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকতে হবে যে, কোনো করদাতা সংশ্লিষ্ট করবর্ষে আইন অনুযায়ী প্রদেয় কর পরিশোধ এড়িয়ে গেছেন।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তবে আদালত স্পষ্ট করেন, সম্পন্ন কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বা আয়ের উৎস যাচাই করার উদ্দেশ্যে ২১২ ধারার অধীনে পুনরায় কর নির্ধারণ খোলার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

আদালতের মতে, আলোচ্য মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতীতের সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে আইনের ২১২ ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

আদালতের আদেশ

এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করেন (Rule made absolute)।

একই সঙ্গে ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জারি করা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারার অধীন নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট চিঠিগুলো ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ ও ২০২০-২০২১ করবর্ষের ক্ষেত্রে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করেন।

আইনি শিক্ষা

এই রায় থেকে প্রতীয়মান হয়, কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আইন দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো করদাতার সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে কেবল নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট নয়; আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় নির্ধারিত আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ; Writ Petition No. 6249 of 2025, রায় ও আদেশের ৬ পৃষ্ঠার নথি।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম