সর্বশেষ

১৬ অক্টো, ২০২৬

ভুয়া মামলা দিয়ে শতাধিক মানুষকে হয়রানি, লালমনিরহাটের সেই যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বরখাস্ত

ভুয়া মামলা দিয়ে শতাধিক মানুষকে হয়রানি, লালমনিরহাটের সেই যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বরখাস্ত

কোলাজ ছবি 
ভুয়া মামলা দায়েরের মাধ্যমে গাজীপুরে শতাধিক মানুষকে হয়রানির অভিযোগে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে ভুয়া মামলা দিয়ে গাজীপুরে শতাধিক মানুষকে হয়রানির ঘটনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে চ্যানেল 24। বিষয়টি নজরে আসার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিচারক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হলো।

আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ২(ক) ও ২(চ) অনুযায়ী ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খাদেম উল কায়েস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মো. আরিফুল ইসলাম এর আগে শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী জজ এবং ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সূত্র: চ্যানেল ২৪ ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন 

বিডিলপোস্ট/এম

১৫ অক্টো, ২০২৬

৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলে আলাদা সাক্ষ্য ছাড়াই সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার আইনগত অনুমান প্রযোজ্য: হাইকোর্টের রায়

৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলে আলাদা সাক্ষ্য ছাড়াই সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার আইনগত অনুমান প্রযোজ্য: হাইকোর্টের রায়

৩০ বছরের বেশি পুরোনো নিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারায় আইনগত অনুমান প্রযোজ্য; উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া শুধু মৌখিক সাক্ষ্যে দলিল অস্বীকার করা যাবে না

পুরোনো নিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে আইনগত অনুমান প্রযোজ্য হওয়ায় শুধু মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ওই দলিলকে অস্বীকার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৯০ ধারার অধীনে দলিলটি যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়েছে—এমন একটি অনুমান তৈরি হয়। তবে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে এই অনুমান খণ্ডন করা সম্ভব।

মামলাটি নুরুল হক ওরফে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার বনাম মুন্সী মো. ইসহাক আলী হাওলাদার ও অন্যান্য। সিভিল রিভিশন নং ১৭৭৯/২০০১-এর এ মামলায় বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী রায় দেন। মামলার শুনানি হয় ২১, ২২ ও ২৩ জুন ২০২৬ এবং রায় ঘোষণা করা হয় ১৯ জুলাই ২০২৬। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

মামলার বিরোধের সূত্রপাত

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া মৌজার ৭১১ ও ৭১২ নম্বর এসএ খতিয়ানের জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। বাদীপক্ষের দাবি ছিল, তারা বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে মোট ৯৬ শতাংশ জমির স্বত্ব ও দখল অর্জন করেন। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালের একটি দলিলের মাধ্যমে এসএ রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তি সোবহানের কাছ থেকে ৪৬ শতাংশ এবং ১৯৭৫ সালের দলিলের মাধ্যমে লালবরু বিবির কাছ থেকে আরও ৫০ শতাংশ জমি কেনার দাবি করা হয়। পরে তাদের নামে নামজারিও করা হয়।

অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের দাবি ছিল, তারা ১৯৫৮ সালের ১৩ মে সোবহান ও হাকিম আলীর কাছ থেকে দুটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে যথাক্রমে ৩৪ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ জমি কিনেছেন এবং ক্রয়ের পর থেকে জমির দখলে থেকে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।

বাদীপক্ষ ১৯৫৮ সালের ৪৫৫৪ ও ৪৫৫৫ নম্বর দলিলকে জাল, অবৈধ ও তাদের ওপর অপ্রযোজ্য দাবি করে এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান বাতিলেরও আবেদন করে মামলা দায়ের করেন। তবে বিচারিক আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালতের মতে, বাদী স্বত্ব ঘোষণার যথাযথ প্রার্থনা করেননি এবং বিতর্কিত দলিল দুটি বাতিলের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাননি।

১৯৫৮ সালের দলিল নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট দেখতে পান, বাদীপক্ষ ১৯৫৮ সালের দলিল দুটির সম্পাদন ও নিবন্ধন সরাসরি অস্বীকার করে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য  আরজিতে দেয়নি এবং দলিল দুটি বাতিলের জন্যও কোনো প্রতিকার প্রার্থনা করেনি। এ কারণে আদালত দলিল দুটি সোবহান ও হাকিম আলীর মাধ্যমে বিবাদীদের পক্ষে সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হয়েছিল বলে ধরে নেন।

আদালত বলেন, নিবন্ধন আইনের ৬০ ধারার অধীনে নিবন্ধনের সনদ দেওয়া হলে দলিলটি আইনের বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়। অবশ্য এই অনুমান খণ্ডনযোগ্য। কোনো পক্ষ দলিলের সম্পাদন বা নিবন্ধন নিয়ে আপত্তি করলে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে।

এ মামলায় ১৯৫৮ সালের দলিল দুটি ৩০ বছরের বেশি পুরোনো হওয়ায় সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৯০ ধারার সুবিধা পাবে বলেও হাইকোর্ট উল্লেখ করেন। আদালতের মতে, উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে বিপরীত কিছু প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধরে নেওয়া হবে যে দলিল দুটি সোবহান ও হাকিম আলী যথাযথভাবে সম্পাদন করেছিলেন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বাদীপক্ষ দলিলের টিপসই নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট টিপসই রেজিস্টারের সঙ্গে তুলনা করে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরোনো নিবন্ধিত দলিলের বৈধতা নাকচ করার সুযোগ নেই।

মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে দলিলগত প্রমাণের গুরুত্ব

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, দলিলগত প্রমাণ সাধারণত মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর প্রাধান্য পায়। এ মামলায় সোবহান হাওলাদার আদালতে ১৯৫৮ সালের দলিল দুটি সম্পাদনের কথা অস্বীকার করলেও, সেই অস্বীকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে তার মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নিবন্ধিত দলিল দুটিকে অকার্যকর ঘোষণা করা যায় না।

পরবর্তী দলিলে স্বত্ব সৃষ্টি হয়নি

হাইকোর্টের মতে, ১৯৫৮ সালের দলিলের মাধ্যমে বিবাদীদের পক্ষে জমির স্বত্ব হস্তান্তরিত হয়ে যাওয়ার পর একই জমি নিয়ে ১৯৯৩ সালে সোবহানের করা পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে বাদীপক্ষের অনুকূলে নতুন করে কোনো স্বত্ব সৃষ্টি হয়নি। কারণ, আগেই জমি হস্তান্তর হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে একই বিক্রেতার করা দলিলের মাধ্যমে পুনরায় স্বত্ব হস্তান্তর সম্ভব নয়।

আদালত আরও বলেন, বাদীপক্ষের নামে প্রস্তুত রেকর্ড পরবর্তীতে বাতিল হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাদের প্রথমে নিজের স্বত্ব ঘোষণার জন্য আদালতের কাছে প্রতিকার চাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা না করে শুধু ১৯৫৮ সালের দলিল দুটি তাদের ওপর অপ্রযোজ্য ঘোষণার আবেদন করেছে। ফলে মামলাটি তার বর্তমান কাঠামোয় আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সবশেষে হাইকোর্ট বলেন, ১৯৫৮ সালের দলিল দুটির মাধ্যমে বিবাদীদের অনুকূলে জমির স্বত্ব হস্তান্তরিত হয়েছিল এবং পরবর্তী ১৯৯৩ সালের দলিলের মাধ্যমে বাদীপক্ষের কোনো স্বত্ব অর্জিত হয়নি। নিম্ন আদালতগুলো সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রমাণ ভুলভাবে পড়া বা বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

এ কারণে হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্ট্যাটাস কো-এর অন্তর্বর্তী আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলায় কোনো খরচ আরোপ করা হয়নি।

বিডিলপোস্ট/মাসুম

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত 
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি আদালতের ওপর চাপ কমাতে হবে। বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমিয়ে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর একটি হোটেলে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের জীবন, সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় আরও কার্যকর ও মানসম্মত সিদ্ধান্ত দিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবন থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাই প্রকৃত শিক্ষা। আইনগত সহায়তা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা কর্মকর্তারা অর্জন করছেন, তা তাদের বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিচারকরা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, আইনগত সহায়তার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা মানুষের বিচারপ্রাপ্তির পথে থাকা বিভিন্ন বাধা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ কমানো গেলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যানবাহন-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা এবং ছুটিসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সাফল্য শুধু কতটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না; এর মাধ্যমে মানুষের কী ধরনের উপকার হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রমের অর্জন ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাকে (জাইকা) ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


বিডিলপোস্ট/এম

সূত্র: সমকাল

বিরোধের কারণে বেতন আটকে রাখা আইনসম্মত নয়, এক মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিরোধের কারণে বেতন আটকে রাখা আইনসম্মত নয়, এক মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যকার বিরোধের কারণে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা আইনসম্মত নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের প্রাপ্য সরকারি অংশের বকেয়া বেতন এক মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট পিটিশন নম্বর ২৩৩৪/২০১৮; মেহেরুন নেছা ও অন্যান্য বনাম বিবাদী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য এর শুনানি হয় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং রায় দেওয়া হয় ৪ আগস্ট ২০২৬। বিচারপতি মো. শওহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি দেন। রায়টি এ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

ময়মনসিংহের পাটগুদাম গার্লস হাইস্কুলের চারজন সহকারী শিক্ষক, একজন ক্রীড়া শিক্ষক, একজন অফিস সহকারী ও একজন পিয়ন এ রিট আবেদন করেন। নিয়োগের পর তাঁদের নাম মাসিক পেমেন্ট অর্ডারে (এমপিও) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তাঁরা সরকারের অংশের বেতন পেয়ে আসছিলেন।

তবে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের কারণে শিক্ষকদের বেতন-শিট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। ফলে সরকারের অংশের বেতন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হলেও আবেদনকারীরা তাঁদের প্রাপ্য বেতন পাননি।

কতদিনের বেতন বকেয়া ছিল

রায়ে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারী ১ থেকে ৩ এবং ৬ ও ৭ নম্বরের বেতন ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আটকে ছিল। আবেদনকারী ৪-এর বেতন ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই এবং ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এবং আবেদনকারী ৫-এর ২০১৩ সালের মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি।

বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য আবেদনকারীরা ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ

এর আগে একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য রিট পিটিশন নম্বর ৩৩০৪/২০১৪ দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে তাঁদের বকেয়া ও নিয়মিত বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারীদের বেতন-শিট ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যকার বিরোধের কারণে পাঠানো হয়নি। অথচ একই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বকেয়া বেতন আদালতের পূর্ববর্তী আদেশের ভিত্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে।

আদালতের মতে, বর্তমান আবেদনকারীরা আগের মামলার আবেদনকারীদের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন। তাই তাঁরাও সরকারের অংশের বকেয়া বেতন পাওয়ার অধিকারী।

হাইকোর্টের আদেশ

আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীদের বকেয়া বেতন রায়ের আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন। মামলার খরচ বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

বিডিলপোস্ট/মাসুম

সুপ্রিম কোর্ট বার: ‘ব্রেকআপ পার্টি’র খাবারে ব্যয় কমানো ও ধর্মভেদে মাংসের আয়োজনের প্রস্তাব

সুপ্রিম কোর্ট বার: ‘ব্রেকআপ পার্টি’র খাবারে ব্যয় কমানো ও ধর্মভেদে মাংসের আয়োজনের প্রস্তাব

কোলাজ ছবি 
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (এসসিবিএ) বার্ষিক ভোজ ‘ব্রেকআপ পার্টি’র আয়োজনের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সদস্যদের পছন্দ ও ধর্মীয় বিবেচনায় খাবারের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। আবেদনে মুসলিম আইনজীবীদের জন্য গরুর মাংস, হিন্দু আইনজীবীদের জন্য পৃথকভাবে খাসির মাংস এবং নিরামিষভোজীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৪ জন। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে বার্ষিক ভোজ বাবদ ৮০০ টাকা নেওয়া হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা। এত অর্থ ব্যয়ের পরও খাবারের মান ও পর্যাপ্ততা নিয়ে অনেক সদস্যের অসন্তোষ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আবেদনকারী।

মামুনের দাবি, খাসির মাংসের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে গরুর মাংসের ব্যবস্থা করা হলে খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি মোট ব্যয়ও কমানো সম্ভব। এ জন্য তিনি প্রতিটি ২ লাখ টাকা দামের ১০টি স্বাস্থ্যবান ষাঁড় কেনার একটি প্রস্তাব দেন। এতে মোট ব্যয় হবে ২০ লাখ টাকা বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা চাইলে বার্ষিক ভোজ উপলক্ষে গরু উপহার দিতে পারেন বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এতে বারের নিজস্ব তহবিল থেকে মাংস কেনার ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে।

ধর্মীয় ও খাদ্যাভ্যাসগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হিন্দু আইনজীবীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনায় খাসির মাংস এবং বৈষ্ণব রীতির অনুসারীসহ অন্যান্য নিরামিষভোজীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে আবেদনে।

আবেদনকারী মনে করেন, সদস্যদের ধর্মীয় ও খাদ্যাভ্যাসগত পছন্দকে সম্মান রেখে খাবারের পৃথক ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন সবার সুবিধা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বার্ষিক ভোজের ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১৫.১০.২০২৬)

বিডিলপোস্ট/এম

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালত এ রায় দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, কারাদণ্ডের পাশাপাশি সিয়ামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তার অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সিয়াম ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। এ অভিযোগে গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে সিয়ামের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়।

এর আগে গত ১৭ জুন আদালত সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় দুদকের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

সিয়াম পিএসসির প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আলোচিত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট (১৫.১০.২০২৬)

বিডিলপোস্ট/এম

সরকারি খরচে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন পেয়েছেন আইনি সহায়তা

সরকারি খরচে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন পেয়েছেন আইনি সহায়তা

প্রতীকী ছবি
দেশে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন বিচারপ্রার্থী। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার বিভিন্ন সেবা ও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব মানুষকে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩১ হাজার ৪০৯ জন। দেশের ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬১৭ জন। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৬৫৮ জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আইনি সহায়তার আওতায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ আইনি পরামর্শ নিয়েছেন। টোল-ফ্রি ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করে আইনি পরামর্শ পেয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ জন। পাশাপাশি, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও ৪৫৭ জনকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং নিজ খরচে আইনি সহায়তা নিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের সরকারি ব্যয়ে সহায়তা দেওয়াই এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর আওতায় এসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সূত্র: জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন

বিডিলপোস্ট/এম