![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মিজানুর রহমান এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম আবুল কালাম আজাদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার ফ্যাক্ট: নথি থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মাদ্রাসাতুল ইতকান লি উলুমিল কোরআন মাদ্রাসার চতুর্থতলার শিক্ষকদের টয়লেট থেকে মুদাচ্ছিরের গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা জিয়াউর রহমান তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন, মাওলানা ক্বারি আনিছুর রহমান ও শিক্ষক ইনচার্জ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। বাদীর ধারণা, আসামিরা তার ছেলেকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছে অথবা তাদের এমন কোনো ঘটনা দেখে ফেলেছে— যার কারণে ২০ ডিসেম্বর বিকাল সোয়া ৪টার থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় এই তিন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জন আসামি মুদাচ্ছিরকে হত্যা করেছে। বাদীর অভিযোগ ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য মরদেহ শিক্ষকদের টয়লেটে গামছা দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরবর্তীতে মামলা দায়েরের প্রায় দুই মাস পর মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
জামিন শুনানি: আজ আসামির পক্ষে আইনজীবী ঢাকা বারের সেক্রেটারী আবুল কালাম খান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আসামি ৬ মাসের বেশি কাষ্টডিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তাই বিচারক জামিন দিয়েছেন। অপরদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রধান প্রসিকিউটর আলহাজ বোরহান উদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘মাদ্রাসার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেলেও শিশুটি উৎফুল্ল, প্রাণচঞ্চল ছিল। হঠাৎ কী কারণে আট বছরের ওই শিশুকে বিকেলে শিক্ষকদের টয়লেটে গলায় গামছা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা রহস্যজনক । আসামিরা শিশুটিকে হত্যা করেছে। তার জামিনের বিরোধিতা করছি।’ উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় আসামির জামিনের আদেশ দেন।
ক্ষুব্ধ শিশুর পরিবার: জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মুদাচ্ছিরের বাবা জিয়াউর রহমান। ছেলের হত্যা মামলায় এক আসামির জামিন হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান বলেন, তার আট বছরের ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার দাবি, মুদাচ্ছির মশারির দড়িও নিজে বাঁধতে পারতো না। গামছায় যে ধরনের গিঁট দেওয়া হয়েছিল, তা একজন শিশুর পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার অন্য দুই আসামি এখনো গ্রেফতার না হওয়ায়ও ক্ষোভ জানান মুদাচ্ছিরের বাবা। তার অভিযোগ, ওই দুই আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করছে না।
বিডিএলপিবি/এমএম
বিডিনিউজ ২৪ (০৩.০৯.২০২৬)