সর্বশেষ

৩০ আগ, ২০২৬

থানা থেকে পালানো সেই মিতু ফের গ্রেফতার, পাঠানো হলো কারাগারে

থানা থেকে পালানো সেই মিতু ফের গ্রেফতার, পাঠানো হলো কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার আসামি মিতু আক্তারকে ৪০ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রাবাড়ী থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক থেকে কৌশলে পালিয়ে যান মিতু। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও তিন পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ: গত ১৬ জুলাই রাত ৯টা ৫০ মিনিট থেকে ১৭ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে যেকোনো সময় ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদকে (৫৫) যাত্রাবাড়ী থানাধীন শহীদ ফারুক রোডের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের গলি সংলগ্ন ২৩/এ পশ্চিমের নিজ বাসার ছাদের কক্ষে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. মনিরুল ইসলাম মাসুদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মিতুর পালানোর ঘটনা: যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে মিতু আক্তারকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তার রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৪ আগস্ট তাকে তিন দিনের রিমান্ডে যাত্রাবাড়ী থানায় আনা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তার রিমান্ডের শেষ দিন ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। এর আগেই সকালে থানার নারী ও শিশু ডেস্ক থেকে কৌশলে তিনি পালিয়ে যান। মিতু পালিয়ে যাওয়ার পর ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী থানার একটি দল তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪০ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডিনিউজ ২৪ (২৯.০৮.২০২৬)

রংপুরে ৪ খুন: আসামিদের আইনগত সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা রংপুর আইনজীবী সমিতির

রংপুরে ৪ খুন: আসামিদের আইনগত সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা রংপুর আইনজীবী সমিতির

ছবি: সংগৃহীত 
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুর আইনজীবী সমিতি। 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনে চার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ড একটি নিকৃষ্টতম ঘটনা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা কয়েকজন সরকারি আইনজীবীসহ রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছি। আমরা আইনজীবী সমিতির পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বলতে চাই, আপনাদের পাশেই রয়েছি। আইনগত সব ধরনের সহায়তা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আটক দুইজন ইতোমধ্যে ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকগণের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি।

রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকমের গুজব ও গল্প সাজিয়ে প্রচার করছেন। কেউ কেউ এটাকে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছেন। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না।

এসময় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, রংপুর আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, জামায়াতের আইনজীবী এডভোকেট কাওছার আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লখ্য, গত সপ্তাহে রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক জনপ্রিয় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), কনিষ্ঠ কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থি (২৫) এবং ছোট ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়মকে (১২) নিজ বাসভবনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ২২ আগস্ট রাতে পুলিশ খবর পেয়ে ওই বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই আরপিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ দল মাছুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলামের আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে ওই দুজন। সবশেষ জনগুরুত্বপূর্ণ এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব কোতোয়ালি থানা থেকে আরপিএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: রংপুর আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলন

২৯ আগ, ২০২৬

এআই দিয়ে আর যাই করেন, বিচারের রায় লিখতে পারবেন না, এটা অনুচিত: প্রধান বিচারপতি

এআই দিয়ে আর যাই করেন, বিচারের রায় লিখতে পারবেন না, এটা অনুচিত: প্রধান বিচারপতি

ফাইল ছবি
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে কোনোভাবেই আদালতের রায় লেখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। জানান, মামলার বিষয়, আইন ও ধারা, তথ্য-উপাত্ত এবং বিচারকের বিবেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। সেজন্য বিচারিক সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে বলে।

আজ (শনিবার, ২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি বলেন, ‘এআই কোথায় এবং কতটুকু ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে একটি কার্যকর আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। মানুষের জীবন সহজ করা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই এআই ব্যবহার করতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এআই ব্যবহারে অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া এআইয়ের তথ্য ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ।

এআইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষের বেঁচে থাকা ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যাবে না।’


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মিডিয়ায় প্দত্ত প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

ঢাকায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রতিবেশী সুমন কারাগারে

ঢাকায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রতিবেশী সুমন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 

শাহ আলী থানা এলাকায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

আটক রাখার আবেদন ও আাদালতের আদেশ: শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আসামি সুমনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই ইলা মনি জানিয়েছেন, আসামির পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন ছিল না। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। উল্লখ্য, শাহ আলী রয়েল সিটি পকেট গেট সংলগ্ন একটি বাসা থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ: থানা-পুলিশের বরাতে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, ''বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই এলাকায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আসে। পরে শিশুটির প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হলে তার মা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী আরও বলেন, শিশুটির মা তাকে ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে পাশের বাসার ভাড়াটিয়া সুমনের কথা বলে। শিশুটির অভিযোগ, সুমন তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বৃহস্পতিবার শাহ আলী থানায় মামলা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৮.০৮.২০২৬)

২৮ আগ, ২০২৬

সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
সুনামগঞ্জে দীর্ঘ এক যুগ পর ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ। একইসঙ্গে এ মামলার বাকি ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। 

আদালতের রায়: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় ২০১৪ সালে সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার প্রায় এক যুগ পর এ রায় ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১১ আসামির মধ্যে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক। তারা হলেন, ওয়েজখালীর গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া ও সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে সাত বছর এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন. রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি শেরেনুর আলী। তিনি মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মামলার ঘটনা: মামলার রায়ের বিবরণ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামি পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষি ফয়জুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ মামলার চার্জশিট দেবার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলায় আসামি জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন।এছাড়া শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা অবসান করে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সালেহ আহমদ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

কক্সবাজারের ডিসিসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ

কক্সবাজারের ডিসিসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সড়ক নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ নোটিশ পাঠায়।

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এইচআরপিবির পক্ষে নোটিশটি পাঠান। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াড়িতে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশ যাদেরকে পাঠানো হয়েছে: নোটিশটি পাঠানো হয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমএ মান্নান, কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী, আরডিইসি ভবনের আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের (ইউডিসিজিপি) প্রকল্প পরিচালক এএসএম রাশেদুর রহমান এবং জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকোকে।

প্রেক্ষাপট:  কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুর ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। এর আগে ২০১১ সালের ৭ জুন হাইকোর্ট বিভাগ একটি রায় দেন। রায়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ স্থাপনাও দুই দফায় উচ্ছেদ করা হয়েছিল।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দেশ রূপান্তর (২৭.০৮.২০২৬)

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

কোলাজ ছবি
সন্তানকে জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজ বাড়ি থেকেই বিতাড়িত হওয়া অথবা অসহায় হওয়ার ঘটনার বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। দেশের আদালতগুলোতে এমন মামলার ঘটনাও অহরহ দেখা যায়।

বর্তমানে প্রচলিত "দ্যা ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২" অনুযায়ী, কেউ সম্পত্তি দান করলে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছেই চলে যায়। যে কারণে বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন।

প্রস্তাবিত "সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬" এ আনা নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তি দান করলেও দাতা জীবদ্দশায় সেটি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আইনের ফলে মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। তবে আইনটি পাস হলে দ্রুত এর বাস্তবায়ন চান পরিবারের সদস্যরা।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য ‘ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করেন।

বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলটি পাশ হলে যে যে পরিবর্তন আসবে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে:

১. আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধরন থাকলেও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
 
২. প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

৩. নতুন এ ব্যবস্থা প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্যান্য পদ্ধতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এসব বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো বিরোধও সৃষ্টি করবে না।

৪. প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি দান করা যাবে। স্থাবর সম্পত্তি হলে নিবন্ধিত দলিল করতে হবে।

৫. নতুন এই আইনে মালিকানা ও ভোগের অধিকার আলাদা থাকবে। ধরা যাক, কোনো বাবা তার বাড়ি সন্তানের নামে লিখে দিলেন। দলিল নিবন্ধনের পর মালিকানা সন্তানের কাছে চলে যাবে। তবে দলিলে 'জীবনকালীন ভোগাধিকার' সংরক্ষিত থাকবে। এতে বাবা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই বাড়ি ব্যবহার বা ভোগ করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর সেই অধিকার শেষ হবে।

৬. দাতার আগে গ্রহীতা দাতার জীবদ্দশায় মারা গেলেও দান বাতিল হবে না। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যাবে। তবে দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে। অর্থাৎ সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর সন্তান আগে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির মালিক হবেন, কিন্তু মূল দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তার ভোগাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

৭. প্রস্তাবিত বিলের ১২২বি ধারায় বলা হয়েছে, জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে করা দান নিবন্ধনের পর সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় হবে। দাতা একতরফাভাবে সেটি বাতিল করতে পারবেন না। তবে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সম্মত হলে নিবন্ধিত নতুন দলিলের মাধ্যমে দান পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন থাকলে এই সুযোগ ব্যবহার করা যাবে।

৮. দাতা বা গ্রহীতার একজনের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলেও পরিবর্তন বা বাতিলের একটি পথ রাখা হয়েছে। কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে, নিখোঁজ থাকলে, মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে অক্ষম হলে, আইনি অক্ষমতা থাকলে বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে অপর পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দানের শর্ত পরিবর্তন, বাতিল বা সংশ্লিষ্ট অধিকার নিয়ে অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন জেলা জজ। তবে আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে। আদালত প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করবে এবং আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সন্তুষ্ট হতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪