সর্বশেষ

১৩ মে, ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধ: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিচার শুরু

মানবতাবিরোধী অপরাধ: শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিচার শুরু

ছবি সংগৃহীত 

নারায়ণগঞ্জে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১৩ মে) ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করে এবং আগামী ১০ জুন সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে দেয়।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করে। মামলায় আসামিদের সবাই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম এগোচ্ছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায়, ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় এবং ৫ আগস্ট পৃথক ঘটনায় মোট ১০ জন নিহত হন। এসব ঘটনায় গুলি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষও রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত এসব ঘটনায় শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জন সরাসরি জড়িত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করেছে, ঘটনার সময় আসামিদের কয়েকজনের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগাযোগের প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড ও সিডিআর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত প্রসিকিউটররা জানান, এসব হামলা একাধিক এলাকায় বিস্তৃত ছিল এবং পরে সহিংসতা নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়িয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ও চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংগঠিত হামলায় বহু মানুষ আহত হন এবং বিভিন্ন সময় একাধিক দফায় হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা করলেও ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়নি। বিচারক প্যানেল জানায়, প্রাথমিকভাবে উপস্থাপিত তথ্য ও সাক্ষ্য বিচার শুরুর জন্য যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি করেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনই কোনো রায় নয়, বরং সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের ধাপে এগোচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া। 

বিডি ল’ পোস্ট/এ্মএম

জাল রেমিট্যান্স রিসিটে ১৩.৪৫ লাখ আত্মসাৎ, সাবেক ব্যাংকারের জেল

জাল রেমিট্যান্স রিসিটে ১৩.৪৫ লাখ আত্মসাৎ, সাবেক ব্যাংকারের জেল


ছবিঃ সংগৃহীত

জাল রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর ও ভুয়া কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট তৈরি করে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা আত্মসাতের মামলায় অগ্রণী ব্যাংকের এক সাবেক কর্মকর্তাকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একবার এফআইআর হয়ে গেলে সেটি আর প্রত্যাহার করা যায় না: হাইকোর্ট

একবার এফআইআর হয়ে গেলে সেটি আর প্রত্যাহার করা যায় না: হাইকোর্ট


ছবিঃ সংগৃহীত

ছাত্রলীগে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) রাহিদ খান পাভেলকে মারধরের ঘটনায় এফআইআর প্রত্যাহার কেন অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

ঈদে নারীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কামরা রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ঈদে নারীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কামরা রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।

আইনজীবীর তথ্যমতে, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইন-এর ৬৪ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার বিধান রয়েছে। এছাড়া ৫০ মাইলের বেশি পথ চলাচলকারী ট্রেনের ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকার কথাও আইনে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, আইনের এসব বিধান বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০২১ সালে আইনজীবী মমতাজ পারভীন রিট আবেদন করেন। পরে গত ১০ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করে এ বিষয়ে কারণ জানতে চান।

বিচারাধীন ওই রুলে সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন বলেন, আইনে আলাদা কামরার বিধান থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। ঈদযাত্রায় নারীদের ভোগান্তি কমাতেই আদালতে এ আবেদন করা হয়েছিল।

১২ মে, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরো ৩ জন প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরো ৩ জন প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য তিনজন আইনজীবীকে প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের উপ-সলিসিটর মুহম্মদ শাহাদাত হোসেন (জিপি-পিপি)স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য হাইকোর্টের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় মো. মাগফুর রহমান শেখ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় ড. মোহাম্মদ অলি মিয়া ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদায় ব্যারিস্টার রাফিউল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংবাদ: বাসস

আরও দুই মামলায় খায়রুল হকের জামিন, বাধা নেই মুক্তিতে

আরও দুই মামলায় খায়রুল হকের জামিন, বাধা নেই মুক্তিতে


ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর থানায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ আইনজীবী। 

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল যুবদলকর্মী হত্যা, রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা মোট পাঁচটি মামলায় আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রেখেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করলেও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এগুলোর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার রায় জালিয়াতি এবং প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। নিম্ন আদালতে এসব মামলায় জামিন না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালে দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১১ সালে অবসরে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি তিন মেয়াদে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেন। আজকের জামিন আদেশের ফলে দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকার পর তার মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম হলো।

মোবাইলে আসা লিংকে ক্লিক করে উধাও সাড়ে ৩ লাখ টাকা, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

মোবাইলে আসা লিংকে ক্লিক করে উধাও সাড়ে ৩ লাখ টাকা, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামে মোবাইলে আসা একটি খুদে বার্তার লিংকে ক্লিক করার পর এক ব্যক্তির ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সুলতান নাসির আলম।

সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মো. মিজানুর রহমান মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিটকে (এটিইউ) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জানান, মামলায় অজ্ঞাতনামা হ্যাকার ও প্রতারক চক্রকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর ১৭, ১৮ ও ১৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ মে বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা সুলতান নাসির আলমের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে খুদে বার্তার মাধ্যমে একটি লিংক পাঠানো হয়। লিংকে প্রবেশ করার পর ‘AYODATE’ নামের একটি স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যার অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ফোনে ইনস্টল হয়ে যায়। এরপর ফোনটি ‘সিস্টেম আপডেট’ মোডে চলে যায় এবং ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যায়।

একপর্যায়ে তিনি নিজের ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখেন, সেখান থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ঋণ গ্রহণসহ আরও ৬২ হাজার ৬০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়। সব মিলিয়ে তার ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া মামলায় বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ মো. রকিবুল খাঁ নামের এক ব্যক্তির পূবালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কয়েকটি বিকাশ নম্বরে স্থানান্তর করা হয়েছে।