সর্বশেষ

১১ জুল, ২০২৬

মা'দক ও জু'য়া মামলার আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

মা'দক ও জু'য়া মামলার আসামিদের পক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

ছবি: সংগৃহীত 

লালমনিরহাট জেলায় আগামী এক মাস মাদক ও জুয়া আইনে গ্রেপ্তার হওয়া কোনো আসামির পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই বা কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা।​ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে লালমনিরহাটে মাদকের আগ্রাসনে সামাজিক অবক্ষয় আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। এই সামাজিক বিপর্যয় রুখতে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু 'আলোকিত লালমনিরহাট' নামে একটি সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছেন।

​তিনি জানান, এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে আগামী এক মাস মাদক ও জুয়া আইনে গ্রেপ্তারদের পক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত অমান্যকারী আইনজীবীর বিরুদ্ধে সমিতির নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকেও ‘মাদকসেবী’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

​আইনজীবী সমিতিতে রাজনৈতিক কোনো ভেদাভেদ নেই উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, এখানে বিএনপি বা আওয়ামী পন্থী বলে কোনো কথা নেই। সমিতির সকল সদস্য একমত হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো সম্ভাবনা রয়েছে।

​এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন,  গ্রেপ্তার আসামিরা চাইলে আইনজীবী ছাড়াই নিজেরা সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে সমিতি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।

বিডিএলপিবি/এমএম

‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

‘তাফহীমূল কোরআন’ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পবিত্র কোরআনের তাফসীর গ্রন্থে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক নাজমুল হাসান। আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আসামিকে কারাগারে রাখা হোক। পরবর্তীতে তার রিমান্ডের আবেদন করা হবে। তবে এদিন আসামিকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামির রিমান্ড আবেদন এবং জামিন আবেদন ছিল না।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পশ্চিম পাশের পাদদেশে সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী রচিত ‘তাফহীমূল কুরআন’এর তিনটি খণ্ডে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনতা ওই যুবককে আটক করে। খবর পেয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। উত্তেজিত জনতার মারধরে আসামি সামান্য আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

​এ ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ২৯৫-এ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

আইন পেশার প্রতি আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব: শিশির মনির

আইন পেশার প্রতি আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব: শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর নবগঠিত এডহোক কমিটির সদস্য শিশির মনির বলেছেন, আইন পেশার প্রতি পূর্ণ আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব। এই জন্য আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি। 

আজ শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।  পোস্টে তিনি লেখেন, 'আইন পেশার প্রতি পূর্ণ আস্থা ফেরানো বার কাউন্সিলের বড় দায়িত্ব। প্রয়োজন বিজ্ঞ আইনজীবীদের সার্বক্ষণিক উন্নতি [Continued Professional Development] প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে ইনশাআল্লাহ।'

উল্লখ্য, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় বার কাউন্সিল ভবনে নবগঠিত এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাউন্সিল সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ট্রাভেল অ্যালাউন্স, সম্মানী, পারিতোষিক, যাতায়াত ভাতা কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। একইসঙ্গে বার কাউন্সিলকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে পূর্বে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম


দেশের বিচার বিভাগ সংস্কারে অর্থায়ন করছে সুইডেন ও ইউএনডিপি

দেশের বিচার বিভাগ সংস্কারে অর্থায়ন করছে সুইডেন ও ইউএনডিপি

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব করে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে সুইডেন সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। চলমান বিচার বিভাগীয় সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সুইডেন সরকার অতিরিক্ত ৩০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগে ব্যয় করা হবে।

ঢাকায় ইউএনডিপির কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন এই অর্থায়ন বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় সংস্কার কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জবাবদিহিমূলক, দক্ষ এবং জনগণের চাহিদার প্রতি অধিকতর সংবেদনশীল করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ইউএনডিপির মতে, নাগরিকদের জন্য কার্যকর বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সুইডেন ও ইউএনডিপির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বেরই ধারাবাহিকতা এই নতুন সহায়তা। প্রকল্পের আওতায় বিচার বিভাগের সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সংস্কার কার্যক্রমেও সহায়তা প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অধিকারভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার পাশে সুইডেন সবসময় রয়েছে। তার ভাষায়, এই অতিরিক্ত অনুদান দুই পক্ষের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করবে।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, জনআস্থা, সামাজিক সংহতি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর বিচার ব্যবস্থা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে জনগণের প্রয়োজনের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও সেবামুখী করে তুলতে সুইডেনের ধারাবাহিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুইডেন ও ইউএনডিপির মধ্যে মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর। সর্বশেষ এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে সেই উদ্যোগের পরিধি ও কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

১০ জুল, ২০২৬

বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির প্রথম সভায় একাধিক সিদ্ধান্ত

বার কাউন্সিলের এডহক কমিটির প্রথম সভায় একাধিক সিদ্ধান্ত



ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় বার কাউন্সিল ভবনে নবগঠিত এডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন।

উক্ত সভায় সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলী আসগর, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, ল' রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মাহফুজুর রহমান মিলন এবং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মাসুদ আহমেদ তালুকদার নির্বাচিত হন।

এছাড়া হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ হোসেন লিপু, রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ শিশির মনির এবং কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিলেন্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নাসির উদ্দিন অসীমকে নির্বাচিত করা হয়।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাউন্সিল সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ট্রাভেল অ্যালাউন্স, সম্মানী, পারিতোষিক, যাতায়াত ভাতা কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। একইসঙ্গে বার কাউন্সিলকে আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে পূর্বে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিস্তারিত জানতে এ সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি নিম্নে দেওয়া হল:


বিডিএলপিবি/এমএম

খুলনা নগরীতে কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: আদালতে হত্যার দায় স্বীকার মায়ের

খুলনা নগরীতে কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: আদালতে হত্যার দায় স্বীকার মায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন তাঁর মা সীমা আকতার। আজ শুক্রবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

খুলনা মহানগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার মো. আলীম হোসেনের মেয়ে ও ইকবালনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. সাত্তার জানান, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন তার মা। এর আগে গত বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে থেকে পুলিশ বস্তাবন্দী অবস্থায় কিশোরীর মরদেহটি উদ্ধার করে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত মেয়েটির মা সকালে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরবেন পুলিশ কমিশনার।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আজকের পত্রিকা

৯ জুল, ২০২৬

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, 'সংসদ সদস্য যে দুটি আইন এনেছেন, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আইন রয়েছে। আমরা এই সংসদের চলতি অধিবেশনেই জুয়া আইন, ২০২৬ বিল পাস করেছি। আর ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও বিদ্যমান। ওই আইনের ধারা ২-এর উপধারা (৫), উপধারা (২৪), উপধারা (২৯) এবং ধারা ১১ পড়লে তিনি যে উদ্দেশ্যে বিলটি এনেছেন, তা বিদ্যমান আইনের আওতায় পড়ে। তাই বিলটি প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে অনুরোধ করছি।' 

এরপর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, 'যেহেতু সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আইনমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিল দুটি আর উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, সেহেতু বিলগুলো আমি ভোটে দিচ্ছি না।'

মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬-এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মদ ও জুয়ার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি রোধ এবং তরুণ ও যুবসমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য এ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় প্রচলিত ময়নাতদন্ত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি নিহত হলে তাঁর মরদেহের যথাযথ হেফাজত, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে নারী মৃতদেহের ক্ষেত্রে পর্দা ও মর্যাদা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আইন সংশোধনের মাধ্যমে নারীদের মরদেহ পর্দার আড়ালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, নারীর মর্যাদা রক্ষা ইসলামসহ সব ধর্মেরই নির্দেশনা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও সড়ক, নৌ ও রেলপথে এখনো দুর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যমান আইনে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক হওয়ায় তা ছাড়া দাফন বা সৎকার করা যায় না।

বিলে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক সময় ময়নাতদন্তে মামলার নিষ্পত্তিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা থাকে না। তাই নিহত ব্যক্তির অভিভাবক বা নিকটাত্মীয়ের আবেদনের ভিত্তিতে, প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের সুযোগ রাখতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের জন্য বিলটি আনা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম