সর্বশেষ

২৮ অক্টো, ২০২৬

ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই: আদালতে সাম্যর বাবা

ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই: আদালতে সাম্যর বাবা

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর বাবা ফখরুল আলম। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ছুরিকাঘাতে ছেলের আহত হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মর্গে তাঁর মরদেহ দেখতে পান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ১৯তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মমিনুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দেন ফখরুল আলম। তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে ফখরুল আলম বলেন, সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিবারের কাছে ফোন আসে—সাম্যকে কয়েকজন ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে মর্গে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।

তিনি আদালতকে আরও জানান, ওই রাতে সাম্য তাঁর বন্ধু বায়েজিদ ও রাফির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। খাবার শেষে ফেরার পথে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তর-পশ্চিম কোণায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ফখরুল আলমকে জেরা করেন।

মামলার বেঞ্চ সহকারী আশরাফুল আমিন জানান, এ নিয়ে মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে গত ৮ আগস্ট মামলার বাদী ও সাম্যর বড় ভাই এস এ এএম শরীফুল আলম এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সাম্যর সহপাঠী আশরাফুল আলম রাফি আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গত ৩ মে মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। আসামিরা হলেন—মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন। তাঁদের মধ্যে রাব্বি ও হৃদয় পলাতক; অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন ২৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার আলম সাম্য। রাত ১২টার দিকে বন্ধুরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন ১৪ মে সকালে সাম্যর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবির রমনা বিভাগের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ গত বছরের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

জিয়াউল আহসানের অভিযানের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

জিয়াউল আহসানের অভিযানের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত 
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোর সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণপত্র এবং চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, র‍্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে অভিযানের পক্ষে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

অভিযানের প্রতিবেদনেও জিয়াউলের নাম ছিল না

জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোর বিষয়ে নির্বাহী তদন্তের যেসব প্রতিবেদন তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোতে জিয়াউল আহসানের নাম উল্লেখ ছিল না। তবে তিনি প্রতিবেদনগুলোকে ‘ফরমায়েশি প্রতিবেদন’ বলে অভিহিত করেন।

অভিযানের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। অন্যদিকে, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো না, সেগুলোর প্রতিবেদন পাঠানো হতো না।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট র‍্যাব সদস্যদের পরিচয় সংগ্রহের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র দেননি বলে স্বীকার করেন।

তিনটি অভিযোগে চলছে বিচার

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।

প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে সজলসহ তিনজনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা-সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যু দমনের অভিযানের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর থেকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান তাঁকে জেরা করছেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট, ২৮ অক্টোবর ২০২৬।


অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি শ্যামল কৃষ্ণ দাসের অবৈধভাবে অর্জিত এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলায় জামিনে থাকা আসামি রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁর জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

যেভাবে সামনে আসে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

মামলার নথি অনুযায়ী, শ্যামল কৃষ্ণ দাস জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল, ময়মনসিংহে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজের ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণী দুদকে জমা দেন। ওই বিবরণীতে তিনি দুই কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের হিসাব দেন। এর সঙ্গে পারিবারিক ব্যয় বাবদ ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা যোগ করে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি চার লাখ ৯৭ হাজার ১৭ টাকা।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ছিল এক কোটি ১৯ লাখ এক হাজার ২২৫ টাকা। অবশিষ্ট এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার সম্পদের বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। এ কারণে ওই সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে প্রতীয়মান হয়।

মামলা ও অভিযোগপত্র

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৩ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল শ্যামল কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।

অবশেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন।

সূত্র: বিডি নিউজ ২৪


পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্তি ও সরকারি বিক্রয় চ্যালেঞ্জের মামলা নিষ্পত্তির এখতিয়ার সেটেলমেন্ট কোর্টের, দেওয়ানি আদালতের নয়: হাইকোর্ট

পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্তি ও সরকারি বিক্রয় চ্যালেঞ্জের মামলা নিষ্পত্তির এখতিয়ার সেটেলমেন্ট কোর্টের, দেওয়ানি আদালতের নয়: হাইকোর্ট

 

প্রাসঙ্গিক আইন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের আইন, ১৮৭৭-এর ৮ ধারা, পরিত্যক্ত সম্পত্তি আদেশ, ১৯৭২ এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫।

পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত কোনো সম্পত্তি এবং ওই সম্পত্তি সরকার কর্তৃক বিক্রির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেওয়ানি আদালতে মামলা করা যায় না। এ ধরনের সম্পত্তি তালিকা থেকে অবমুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট দাবি নিষ্পত্তির জন্য আইন অনুযায়ী সেটেলমেন্ট কোর্টে যেতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সম্পত্তির মালিকানা ও দখল ফিরে পাওয়ার দাবিতে দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ এসেছে।

বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ফার্স্ট আপিল নং ৫০৪/২০০০, সমীরেন্দ্র গুহ রায় বনাম শাবানা খাতুন ও অন্যান্য মামলায় গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ এ রায় দেন। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাজবাড়ীর ৯.১৮ শতাংশ জমি ও তার ওপর অবস্থিত বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। বাদীর দাবি, সম্পত্তিটি আবদুল জব্বারের মালিকানাধীন ছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবদুল জব্বার ও তাঁর স্ত্রী নিহত হলে তাঁদের এক বছর বয়সী কন্যাকে ফরিদপুরে নিয়ে লালন-পালন করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি শাবানা খাতুন নামে পরিচিত হন।

বাদীর দাবি ছিল, তাঁকে লালন-পালনকারী ব্যক্তি নিজের মেয়ের মতো বড় করে বিয়ে দেন এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির সঙ্গে তাঁর উত্তরাধিকারসূত্রে স্বত্বের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সরকার সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং পরবর্তী সময়ে তা বিবাদীকে বিক্রি করে। ১৯৯৭ সালে বিবাদীরা সম্পত্তির দখল নেন বলে বাদী অভিযোগ করেন।

এ অবস্থায় বাদী স্বত্ব ঘোষণা, দখল পুনরুদ্ধার এবং সম্পত্তি বিক্রির দলিলকে অবৈধ ও তাঁর ওপর বাধ্যকর নয়—এ মর্মে প্রতিকার চেয়ে মামলা করেন। রাজবাড়ীর প্রথম আদালতের তৎকালীন অধস্তন বিচারক ২০০০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাদীর পক্ষে ডিক্রি দেন। এর বিরুদ্ধে বিবাদী হাইকোর্টে আপিল করেন।

বাদীর উত্তরাধিকার ও পূর্বদখল প্রমাণে ঘাটতি

হাইকোর্ট মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বাদী নিজেকে আবদুল জব্বারের কন্যা দাবি করলেও সাক্ষীদের কেউই প্রত্যক্ষ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাঁর জৈবিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

বাদীর পক্ষে দাখিল করা উত্তরাধিকার সনদটি পৌরসভার কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কমিশনার আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে ওই তদন্ত ও সনদের বিষয়বস্তু সমর্থন করেননি। ফলে সনদটির ভিত্তিতে বাদীর উত্তরাধিকার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আদালত গ্রহণ করেননি।

এ ছাড়া বাদী তাঁর মামলায় দাবি করেছিলেন, অন্য ব্যক্তিরা তাঁর অনুমতিতে বিরোধপূর্ণ বাড়িতে বসবাস করতেন। কিন্তু তাঁদের কারও নাম উল্লেখ করতে পারেননি। সাক্ষ্যেও তাঁর পূর্বদখল কিংবা বিবাদীদের বেআইনিভাবে দখল নেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের আইন, ১৮৭৭-এর ৮ ধারায় দখল পুনরুদ্ধারের মামলা সফল করতে হলে বাদীকে পূর্বদখল, পরবর্তী দখলচ্যুতি এবং আইন নির্ধারিত তামাদি মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়। আলোচ্য মামলায় বাদী প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছেন।

পরিত্যক্ত সম্পত্তির বিরোধে দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার নেই

হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করেন, পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্তি এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত দলিলে সম্পত্তি হস্তান্তরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনে বিশেষ প্রতিকারব্যবস্থা রয়েছে।

আদালতের মতে, পরিত্যক্ত সম্পত্তি আদেশ, ১৯৭২ এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫-এর অধীনে গঠিত সেটেলমেন্ট কোর্টই এ ধরনের সম্পত্তি তালিকা থেকে অবমুক্ত করার দাবিসহ সংশ্লিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির উপযুক্ত ফোরাম। এ ক্ষেত্রে সাধারণ দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করে প্রতিকার চাওয়া আইনগতভাবে সঠিক পথ নয়।

তবে আদালত উল্লেখ করেন, আবদুল জব্বারের প্রকৃত কোনো উত্তরাধিকারী থাকলে এবং আইনগতভাবে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ অবশিষ্ট থাকলে তিনি সেটেলমেন্ট কোর্টে যেতে পারবেন।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

সবশেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ আপিলের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি খুঁজে পান। আদালত রাজবাড়ীর অধস্তন আদালতের ২০০০ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন এবং বিবাদীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। আপিলের খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

সূত্র: হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

ঢাকায় চালু হচ্ছে আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত

ঢাকায় চালু হচ্ছে আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিচারিক কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে ঢাকায় চালু হতে যাচ্ছে আরও একটি ই-পারিবারিক আদালত। একই সঙ্গে দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলা দায়ের, শুনানিতে অংশগ্রহণ, সাক্ষ্য প্রদান এবং জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাবেন।

ডিজিটাল বিচারব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কাগজের নথিপত্রের ব্যবহার কমানো এবং আদালত কিংবা আইনজীবীর চেম্বারে বারবার সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ফলে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করেই বিচারপ্রার্থীরা মামলার তথ্য জানতে এবং বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

ই-পারিবারিক আদালতের কার্যক্রমে অগ্রগতি

এর আগে গত বছরের শেষ দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একটি করে মোট দুটি ই-পারিবারিক আদালত চালু করা হয়। ওই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঢাকায় নতুন আদালত ও দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ই-পারিবারিক আদালত-৫-এ এখন পর্যন্ত ১৬৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি মামলা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি

ই-পারিবারিক আদালতের অন্যতম সুবিধা হলো, আদালতের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি পেতে প্রচলিত পদ্ধতির মতো সাত থেকে দশ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। নির্ধারিত সামান্য ফি পরিশোধের মাধ্যমে অনলাইনেই তাৎক্ষণিকভাবে অনুলিপি সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

অনলাইনে ইস্যু করা এসব অনুলিপিতে থাকা কিউআর কোড ব্যবহার করে নথির সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব। অনুলিপির জন্য আদায় করা ফি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে।

অনলাইনেই মামলার তথ্য ও বিচারিক কার্যক্রম

আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা দায়ের থেকে শুরু করে নিষ্পত্তি পর্যন্ত কার্যক্রম ই-পারিবারিক আদালত ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। এ জন্য বিচারপ্রার্থীকে প্রথমে নিবন্ধন করে নিরাপদ পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, লগইন করার পর বিচারপ্রার্থীরা নিজেদের ড্যাশবোর্ডে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারবেন। মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় আদালতে সশরীরে উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তাও কমবে।

তিনি আরও জানান, কাগজে হাতে লিখে নথি তৈরি এবং সেগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা হ্রাসে এ ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে। মামলার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হয়ে অনলাইন রেজিস্টারে সংরক্ষিত থাকবে।

বিচারক ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ

ই-পারিবারিক আদালত পরিচালনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় চারজন বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের এক হাজারেরও বেশি আইনজীবীকে এ ব্যবস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

যেসব বিচারপ্রার্থীর স্মার্টফোন নেই কিংবা যারা পড়তে ও লিখতে পারেন না, তাঁরা সরকারি আইনগত সহায়তা বা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনজীবীদের সহযোগিতা নিতে পারবেন। মামলা পরিচালনার বিভিন্ন ধাপে তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

নারী ও শিশুর তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় গুরুত্ব

পারিবারিক মামলায় নারী ও শিশুর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা রয়েছে।

এ ছাড়া ই-পারিবারিক আদালতগুলোর প্রযুক্তিগত ও কারিগরি কার্যক্রমে সহায়তা দিতে প্রথমবারের মতো ইন্টার্ন নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ডিজিটাল এ উদ্যোগের মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস

জমি হস্তান্তরের বিষয়ে নোটিশ না থাকলে জ্ঞাত হওয়ার তারিখ থেকে তামাদি গণনা; প্রি-এম্পশনের আবেদন বহাল রাখলেন হাইকোর্ট: পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশিত

জমি হস্তান্তরের বিষয়ে নোটিশ না থাকলে জ্ঞাত হওয়ার তারিখ থেকে তামাদি গণনা; প্রি-এম্পশনের আবেদন বহাল রাখলেন হাইকোর্ট: পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশিত

প্রাসঙ্গিক আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৮৯ ও ৯৬ ধারা এবং দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ১১৫(১) ধারা।
জমি হস্তান্তরের বিষয়ে আইনানুগ নোটিশ দেওয়া না হলে প্রি-এম্পশন বা অগ্রক্রয় অধিকারের মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে হস্তান্তরের বিষয়টি জানার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। এ ধরনের মামলায় আবেদনকারী নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে কখন হস্তান্তরের বিষয়ে জেনেছেন, তা প্রমাণ করতে পারলে তামাদির প্রশ্ন নির্ধারণে সেই তথ্য বিবেচনা করতে হবে। এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রি-এম্পশন মামলা খারিজ করে দেওয়া নিম্ন আদালতের আপিল বিভাগের রায় বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চ সিভিল রিভিশন নং ১৪৬৭/২০২৫, মো. জয়নাল আবেদিন বনাম মো. আমজেদ হোসেন বিশ্বাস ও অন্যান্য মামলায় ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। আদালত যশোরের অতিরিক্ত জেলা জজ, পঞ্চম আদালতের ২৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের রায় বাতিল করে চৌগাছার সহকারী জজ আদালতের ৩১ অক্টোবর ২০২২ তারিখের প্রি-এম্পশন মঞ্জুরের আদেশ বহাল রাখেন। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার আবেদনকারী মো. জয়নাল আবেদিন ও তাঁর ভাইয়েরা সংশ্লিষ্ট জমির সহ-শরিক ছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি দলিলের মাধ্যমে জমির অংশ অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তাঁকে এ বিষয়ে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।

আবেদনকারীর দাবি, ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন তিনি। পরে ১১ নভেম্বর দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করেন এবং ২০ নভেম্বর ১৯৯৬ তারিখে প্রি-এম্পশনের মামলা দায়ের করেন।

বিচারিক আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে মামলাটি মঞ্জুর করেন। তবে আপিল আদালত মনে করেন, জমি হস্তান্তরের প্রায় আট বছরেরও বেশি সময় পর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আবেদনকারী তাঁর জানার তারিখ যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারেননি। এ কারণে আদালত প্রি-এম্পশনের আবেদন তামাদিতে বাধাগ্রস্ত বলে খারিজ করেন। পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করা হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, আপিল আদালত বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করার সময় সাক্ষ্য-প্রমাণ স্বাধীনভাবে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেননি। পাশাপাশি, নিম্ন আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ বিবেচনায় না নেওয়ার বিষয়টিও রায়ে উঠে এসেছে।

আদালত উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৮৯ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় নোটিশ দেওয়া না হলে, ৯৬ ধারার অধীনে প্রি-এম্পশন মামলা দায়েরের তামাদি নির্ধারণে হস্তান্তরের বিষয়ে আবেদনকারীর জ্ঞাত হওয়ার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে তাঁর দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

হাইকোর্ট আরও বলেন, এ মামলায় আবেদনকারী ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে হস্তান্তরের বিষয়ে জানার দাবি করেছেন এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রাথমিক দায়ভার পালন করতে সক্ষম হয়েছেন। দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের মাধ্যমে হস্তান্তর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও আদালত বিবেচনায় নেন।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, প্রি-এম্পশন মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের নামে আর.এস. রেকর্ড প্রস্তুত বা প্রকাশিত হওয়া মাত্রই ওই পক্ষের আইনগত অধিকার চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। মামলার ফলাফল ও প্রাসঙ্গিক আইনগত অবস্থান বিবেচনা করেই বিষয়টি নির্ধারণ করতে হবে।

রিভিশনে হস্তক্ষেপের কারণ

হাইকোর্ট স্পষ্ট করেন, দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগের সময় আদালত সাধারণত আপিল আদালতের মতো নতুন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ মূল্যায়ন করেন না। তবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা, প্রমাণের ভুল পাঠ কিংবা আইনগত ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হলে রিভিশনাল আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

আলোচ্য মামলায় হাইকোর্ট দেখতে পান, আপিল আদালতের সিদ্ধান্তে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভুল মূল্যায়ন ও আইনগত ভুল রয়েছে। বিপরীতে, বিচারিক আদালত মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। ফলে আপিল আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপের যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে আদালত মত দেন।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সবশেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে আপিল আদালতের ২৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের রায় ও আদেশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে চৌগাছার সহকারী জজ আদালতের ৩১ অক্টোবর ২০২২ তারিখের আদেশ বহাল রাখেন, যার মাধ্যমে প্রি-এম্পশন মামলা মঞ্জুর করা হয়েছিল।

আদালত কোনো খরচের আদেশ দেননি। পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাওয়া হলে বিচারিক আদালতকে আগের আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

সূত্র: হাইকোর্ট বিভাগের ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের রায়।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

অনিবন্ধিত দলিলের যথাযথ সম্পাদন প্রমাণিত না হলে জমির মালিকানা দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

অনিবন্ধিত দলিলের যথাযথ সম্পাদন প্রমাণিত না হলে জমির মালিকানা দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
অনিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের দাবি করা হলেও দলিলটির যথাযথ সম্পাদন প্রমাণ করতে না পারলে শুধু ওই দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, মামলার প্রয়োজনীয় প্রমাণ রেকর্ডে থাকা সত্ত্বেও অযথা মামলা রিমান্ডে পাঠানো উচিত নয়।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সরওয়ার্দীর একক বেঞ্চ ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিভিল রিভিশন নং ২৬৯১ ও ২৬৯২/২০১৭, শ্রী অনন্ত কুমার আইচ (মৃত) এর আইনগত উত্তরাধিকারীগণ বনাম শ্রী সাধন ভৌমিক ও অন্যান্য -এর রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেন। উভয় রিভিশন একই রায়ে নিষ্পত্তি করা হয়। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

নেত্রকোনার একটি জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। মামলার এক পক্ষের দাবি, এসএ রেকর্ডভুক্ত মালিক দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকার ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ তারিখের একটি অনিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ১৭ শতাংশ জমি অক্ষয় কুমার আইচের কাছে হস্তান্তর করেন এবং দখলও বুঝিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে অক্ষয় কুমার আইচের উত্তরাধিকারীরা ওই জমিতে তাদের মালিকানা ও দখলের দাবি করেন।

তবে অপর পক্ষের দাবি ছিল, ওই অনিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কোনো বৈধ হস্তান্তর হয়নি। দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকারের উত্তরাধিকারীরা জমিটি ভোগদখলে রাখেন এবং পরে ২১ ডিসেম্বর ২০০০ তারিখের নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ১৭ শতাংশ জমি সাধন ভৌমিকের কাছে বিক্রি করেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালে দায়ের করা একটি মামলায় দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকারের উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি হয়েছিল। পরবর্তী বিরোধে ওই একতরফা ডিক্রির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত

২০০১ সালে দুই পক্ষ পৃথক মামলা দায়ের করে। একই সঙ্গে মামলাগুলো একত্রে শুনানির জন্য নেওয়া হয়। ৭ আগস্ট ২০০৫ তারিখে ট্রায়াল কোর্ট একটি মামলায় বাদীদের পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি দেয় এবং অপর মামলাটি খারিজ করে।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা জজ, নেত্রকোনা ৪ মে ২০১৭ তারিখের পৃথক রায়ে উভয় মামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করে মামলাগুলো রিমান্ডে পাঠান। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুটি সিভিল রিভিশন দায়ের করা হয়।

অনিবন্ধিত দলিল নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট রায়ে দেখতে পান, ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ সালের কথিত অনিবন্ধিত দলিলটি দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকার সম্পাদন করেছিলেন—এমন প্রমাণ বাদীপক্ষ যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি। কোনো সাক্ষী দলিলে দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকারের স্বাক্ষর শনাক্ত করেননি এবং দলিলটির স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য হস্তলিপি বিশেষজ্ঞের কাছেও পাঠানো হয়নি।

আদালত আরও বলেন, রেজিস্ট্রেশন আইনের ৬০ ধারার অধীনে নিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে যে অনুমানের সৃষ্টি হয়, অনিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে সেই ধরনের অনুমান প্রযোজ্য নয়। ফলে অনিবন্ধিত দলিলটির যথাযথ সম্পাদন আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হবে।

দখলও প্রমাণ করতে পারেনি বাদীপক্ষ

স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি পেতে হলে বাদীকে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে নিজের একচ্ছত্র দখল প্রমাণ করতে হয় বলে আদালত উল্লেখ করেন। কিন্তু মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে জমির দাগ নম্বর ও সীমানা নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এমনকি বাদীপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্যের মধ্যেও জমির অবস্থান ও দখল সম্পর্কে পরস্পরবিরোধিতা ছিল।

হাইকোর্টের মতে, বাদীপক্ষ নির্দিষ্ট জমিতে তাদের একচ্ছত্র দখল এবং মামলা করার কারণ—উভয়ই প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

একতরফা ডিক্রি নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত

১৯৯৬ সালের মামলার নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দেখতে পান, সব বিবাদীর ওপর যথাযথভাবে সমন জারি হওয়ার প্রমাণ নেই। এমনকি একজন প্রয়োজনীয় উত্তরাধিকারীকে ওই মামলায় পক্ষভুক্তও করা হয়নি। আদালতের মতে, সব বিবাদীকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে একতরফা ডিক্রি দেওয়া হয়েছিল।

আদালত আরও বলেন, যখন উভয় পক্ষ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করেছে এবং রেকর্ডেই বিরোধ নিষ্পত্তির উপকরণ রয়েছে, তখন শুধু নতুন করে কোনো বিষয় নির্ধারণের জন্য মামলা রিমান্ডে পাঠানো সমীচীন নয়। রিমান্ড সময়সাপেক্ষ এবং পক্ষগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করে।

রিভিশন আদালতের ক্ষমতা

হাইকোর্ট বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীনে রিভিশনাল আদালতের হস্তক্ষেপের এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত হলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার সম্পূর্ণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আদেশ দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে শুধু মামলাকে আবার নিম্ন আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া প্রয়োজন নেই।

আদালতের আদেশ

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ সালের অনিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে অক্ষয় কুমার আইচের উত্তরাধিকারীদের মালিকানা প্রমাণিত হয়নি। বিপরীতে ২১ ডিসেম্বর ২০০০ তারিখের নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সাধন ভৌমিক ১৭ শতাংশ জমির মালিকানা অর্জন করেছেন এবং তিনি জমিটির দখলেও রয়েছেন বলে আদালত সিদ্ধান্ত দেন।

ফলে ১৯৯৬ সালের একতরফা রায় ও ডিক্রি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ২০০১ সালের মামলায় ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া ডিক্রি এবং ২০১৭ সালে অতিরিক্ত জেলা জজের দেওয়া উভয় রায়ও বাতিল করা হয়। সাধন ভৌমিকের দায়ের করা অন্যান্য শ্রেণির দেওয়ানি মামলা নম্বর ৫৫/২০০১ ডিক্রি করা হয় এবং তাকে সংশ্লিষ্ট ১৭ শতাংশ জমির মালিক ঘোষণা করা হয়।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম