সর্বশেষ

২৩ আগ, ২০২৬

বিচারকের বিরুদ্ধে খাসকামরায় ডেকে চালককে মারধরের অভিযোগ

বিচারকের বিরুদ্ধে খাসকামরায় ডেকে চালককে মারধরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে আদালত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের খাসকামরায় এ অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর ভাষ্যমতে, সকালে বিচারকের পিয়ন তাঁকে খাসকামরায় ডেকে পাঠান। ডিউটি লগবইয়ে সকাল ৭টা উপস্থিতি লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন বিচারক। চালক বাচ্চু ৮টায় বিচারকের সফর শুরুর আগে গাড়ি পরিষ্কারের যুক্তিতে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ করলে বিচারক সোহেল রানা হঠাৎই তাঁর চোখের ওপর সজোরে ঘুষি মারেন এবং কান বরাবর থাপ্পড় দেন।

বাচ্চু আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১ বছর ১০ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিচারক তাঁর বদলে গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালান এবং সরকারি গাড়ি বরাদ্দের মাসে ১৮০ লিটার তেলের বদলে ৫০-৬০ লিটার ব্যবহার করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করা এবং অনৈতিক কার্যক্রম দেখে ফেলার কারণেই বিচারক তাঁর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ হামলা চালিয়েছেন।

ঘটনার পর অন্যান্য চালকদের সহায়তায় অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চুকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর এক চোখে ব্যান্ডেজসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোনো অন্যায় থাকলে বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী চালক এ ঘটনার আইনি পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিচারক সোহেল রানা জানান, পেশাগত দায়িত্ব ও ওভারটাইমের হিসেব নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে চালক বাচ্চু উদ্ধত আচরণ ও অসৌজন্যমূলকভাবে তাকায়। রাগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তিনি চালককে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। চালককে কোনো প্রকার আঘাত বা ঘুষি মারা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “সে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাটক সাজাচ্ছে।”

ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কিছুদিন ধরে গাড়ি পরিষ্কার না করা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। চালক পরিষ্কার করতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিচারক কেবল তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: স্টার নিউজ টিভি

ব্যবস্থাপনা ও তদারকি পদে থাকা কর্মীদের ‘শ্রমিক’ সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ব্যবস্থাপনা ও তদারকি পদে থাকা কর্মীদের ‘শ্রমিক’ সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পদে নিযুক্ত ব্যক্তিদের ‘মালিক’ হিসেবে গণ্য করে ‘শ্রমিক’ এর সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২(৪৯) (খ) ও ধারা ২(৬৫) এর সংশ্লিষ্ট শর্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এসএম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, অ্যাডভোকেট বায়েজিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট রাসেল হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. মাকসুদুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট মারুফ হাসান তমাল যৌথভাবে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।

গত ৪ আগস্ট ২০২৬ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) প্রধান পরিদর্শককে বিবাদী করে রিটটি দায়ের করা হয়।

রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, অ্যাডভোকেট মো. মাকসুদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মারুফ হাসান তমাল।

আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার বলেন, বিষয়টি দেশের বেসরকারি কর্মজীবীদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানায় অংশীদার না হয়েও শুধু লিখিত পদবির কারণে লাখ লাখ কর্মী শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রুল চূড়ান্তভাবে মঞ্জুর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কর্মঘণ্টা, ছুটি, চাকরিচ্যুতি সুরক্ষা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং শ্রম আদালতে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন শ্রম অধিকার ফিরে পেতে পারেন। তিনি বলেন, পদবির ভিত্তিতে শ্রম আইনের সুরক্ষার বাইরে রাখা বৈষম্যমূলক।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৩.০৮.২০২৬)

মেট্রোরলের নিচে সতর্কীকরণ ক্যামেরা বসানো রয়েছে কিনা, জানতে চান হাইকোর্ট

মেট্রোরলের নিচে সতর্কীকরণ ক্যামেরা বসানো রয়েছে কিনা, জানতে চান হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
মেট্রোরেলের নিচে নিরাপত্তার জন্য সতর্কীকরণমূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে কিনা, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। তার সঙ্গে এ সংক্রান্ত সতর্কীকরণ টিমের কার্যক্রম সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট পিটেশনের শুনানি নিয়ে এ নির্দেশ দেন।

আদালত আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে মেট্রোরেলের নিচে নিরাপত্তা ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট টিমের কার্যক্রমের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. তানভীর আহমেদ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মানবজমিন (২৩.০৮.২০২৬)

অংশীদারি চুক্তির (Partnership Agreement) মাধ্যমে প্রতারণা-অর্থ আত্মসাৎ হলে দেওয়ানি মামলার পাশাপাশি চলবে ফৌজদারি মামলাওঃ হাইকোর্টের রায়

অংশীদারি চুক্তির (Partnership Agreement) মাধ্যমে প্রতারণা-অর্থ আত্মসাৎ হলে দেওয়ানি মামলার পাশাপাশি চলবে ফৌজদারি মামলাওঃ হাইকোর্টের রায়

ছবিঃ সংগৃহীত 
ব্যবসায়িক লেনদেন বা অংশীদারি চুক্তির সুযোগ নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ বিশ্বাসভঙ্গ করা হলে তা কেবল দেওয়ানি বিরোধ নয়; বরং এমন অভিযোগের ক্ষেত্রে দেওয়ানি বিরোধের পাশাপাশি ফৌজদারি বিচার কার্যক্রম স্বাধীনভাবে চলতে পারে বলে রায় দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট।  

মো. শাহ আলম বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. বজলুর রহমান এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান জুবায়েরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি  প্রকাশিত হয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া ১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়টি লিখেছেন বিচারপতি সৈয়দ হাসান জুবায়ের। রায় ঘোষণাকালে হাইকোর্টে পিটিশনার বা নিম্ন আদালতের আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল কাশেম। আর ২নং প্রতিপক্ষ বা নিম্ন আদালতের বাদি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নিয়াজ মোর্শেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সালমা সুলতানা ও নজরুল ইসলাম ছোটন। 

রায়ে উল্লিখিত ফ্যাক্ট থেকে জানা যায়,  রাজধানীর মিরপুর রোডে গাউছিয়া মার্কেটের একটি দোকানের মালিক শাহ আলম। ওই দোকানটিতে অংশীদারি লভ্যাংশ দেওয়ার শর্তে কাপড় ব্যবসায়ী মো. জাহিদ খান ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। অর্থাৎ অংশীদারি চুক্তির মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালনা করেন জাহিদ খান। এরপর ২০১২ সালে শাহ আলম ওই দোকানটি ১ কোটি ৭ লাখ দাম নির্ধারণ করে জাহিদ খানের কাছে বিক্রি করেন। পরে জাহিদ খান ও মো. শাহ আলমের মধ্যে লেনদেন শুরু হয়। ১ কোটি ৭ লাখ টাকা মূল্যের দোকানটি ক্রয়ের সমঝোতায় জাহিদ খান বিভিন্ন সময়ে সব মিলিয়ে ৮৬ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে শাহ আলম দোকান রেজিস্ট্রি করে দিতে টালবাহানা শুরু করলে বিষয়টি দোকান মালিক সমিতি সালিশি করে জাহিদ খানের পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে শাহ আলম সম্পূর্ণ টাকা প্রাপ্তির বিষয় ও চুক্তির অস্তিত্বই অস্বীকার করেন এবং নালিশকারীকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহিদ খান ঢাকার সিএমএম আদালতে ২০২৩ সালে দণ্ডবিধির ৩৮৫/৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় শাহ আলমের বিরুদ্ধে সি.আর. মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত ও শুনানির পর একই বছরে শাহ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর শাহ আলম ফৌজিদারি কার্যবিধির ৫৬১এ ধারার অধীনে অভিযোগ গঠনের আদেশ স্থগিত ও মামলা বাতিল চেয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির উদ্ধৃত করে দাবি করেন, ব্যবসায়িক হিসাব বা অংশীদারি চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনে বিশ্বাসভঙ্গ বা প্রতারণার অভিযোগের বিচার চলে না। এটি মূলত অংশীদারি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়, যা দেওয়ানি বিরোধের এখতিয়ারভুক্ত।

অত:পর, হাইকোর্ট এ মামলার শুনানি নিয়ে অধস্তন আদালতের আদেশ স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করেন। এরপর চলতি বছরে এ মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হলে অধস্তন আদালতের বাদী (যিনি হাইকোর্টে বিবাদী নং-২) জাহিদ খানের আইনজীবী মো. নিয়াজ মোর্শেদ যুক্তি দেখান যে, কোনো অংশীদারি চুক্তির শুরুতেই অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অর্থ গ্রহণ ও পরবর্তীতে তা আত্মসাৎ করা ফৌজদারি অপরাধের শামিল। এ সংক্রান্ত আপিল বিভাগের একাধিক নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দেওয়ানি আদালতে প্রতিকার খোলা থাকলেও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিচার চলতে কোনো আইনি বাধা নেই।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আাদালত বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ এ ধারায় মামলা বাতিলের আবেদন বিবেচনার সময় আদালত মূলত নালিশী দরখাস্তের অভিযোগগুলো বিবেচনা করেন। যেহেতু আবেদনে অংশীদারি ‍চুক্তির শুরুতেই প্রতারণা, অসাধু উদ্দেশ্য ও অর্থ আত্মসাতের নির্দিষ্ট উপাদান বিদ্যমান, তাই এটি কেবল দেওয়ানি বিরোধ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এচভ আসামি (শাহ আলম) প্রকৃতপক্ষে দোকানের মালিক ছিলেন কিনা কিংবা তিনি অর্থ পেয়েছিলেন কিনা এসব তর্কিত বিষয় বিচারিক আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে হবে; এই পর্যায়ে হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অধস্তন আদালতের আসামির (শাহ আলম) বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অভিযোগ (চার্জ) গঠিত হয়েছে। যা বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পর্যাপ্ত। এতে আদালতের প্রক্রিয়ার কোনো অপব্যবহার হয়নি।

চূড়ান্ত আদেশে হাইকোর্ট বলেন, বর্তমান মামলায় আমরা দেখতে পাই যে, নালিশি দরখাস্তে আসামির (শাহ আলম, যিনি হাইকোর্টে বাদী) শুরু থেকেই প্রতারণামূলক অভিপ্রায় এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুস্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে। সুতরাং দেওয়ানি বিরোধের অযুহাতে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা যাবে না। এছাড়া, অধস্তন আদালতের আসামি (যিনি হাইকোর্টে বাদী) শাহ আলম দোকানের পজেশন হস্তান্তরের চুক্তির আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থগ্রহণ করার পর, পুরো লেনদেন অস্বীকার করেছে এবং তার প্রতিশ্রুতি পূরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যা এই পর্যায়ে আমানত গচ্ছিত রাখার প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণ করে। তাই উপরোক্ত আলোচনা ও উচ্চ আদালতের বিভিন্ন নজির পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, আসামির (যিনি হাইকোর্ট বিভাগে এসে আবেদনকারী) পক্ষে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়ে তাতে আমরা কোনো সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছি না। অতএব আগে জারি করা রুলটি খারিজ করা হলো। পাশাপাশি রুল জারির সময় হাইকোর্ট কর্তৃক জারি করা প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করা হলো। সর্বপরি, অধস্তন আদালতে হওয়া মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত এবং আইন অনুযায়ী সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট (২৩.০৮.২০২৬) 

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসককে মারধর: গ্রেপ্তার ফারনকে ৫ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসককে মারধর: গ্রেপ্তার ফারনকে ৫ দিনের রিমান্ডে

ছবি: কোলাজ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান, গলা (ইএনটি) ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে মারধর, রক্তাক্ত জখম ও ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান।

রিমান্ড বাতিল চেয়ে আদালতে আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ফারহানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট চেম্বার শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠছিলেন অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমান। এ সময় আসামিরা বেআইনিভাবে সিএনজির গতিরোধ করে তাকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামায়। সিএনজি থামানোর কারণ জানতে চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরে তার ডান চোখ, মাথা ও দুই ঠোঁটের ওপর গুরুতর আঘাত লাগে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও ফোলা ও জখম হয়। হামলার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় জীবন ওরফে আদিল নামে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের পক্ষে তার স্ত্রী শাহানা সারমিন টাইপ করা এজাহার পল্টন মডেল থানায় পাঠান। এর ভিত্তিতে ১৮ আগস্ট থানায় মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফারহান শাহরিয়ার ওরফে ইভানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গত ২১ আগস্ট গভীর রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে তার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দ্যা বিজনেস স্টানডার্ড (২২.০৮.২০২৬)

'চুয়া সেলিমের' তিন দিনের রিমান্ড

'চুয়া সেলিমের' তিন দিনের রিমান্ড

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও হেরোইন উদ্ধারের মামলায় মাদক সম্রাট মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমের তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, সেলিমের বিরুদ্ধে ৩৬টির বেশি মামলা রয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস শনাক্ত, আরো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং তার অপরাধের কৌশল সম্পর্কে তথ্য জানতে তাকে সাত দিনের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট র‌্যাব-২-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্পের সেক্টর-৭-এর ব্লক-৫ এলাকায় অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগজিন, ১১০ গ্রাম কথিত হেরোইন, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৪৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া পিস্তলের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স দেখাতে পারেনি সেলিম।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: এনপিবি (২২.০৮.২০২৬)

২২ আগ, ২০২৬

তরুণীকে হত্যার পর মাথা-হাত বিচ্ছিন্ন, হাতের ট্যাটু দেখে শনাক্ত, নারীসহ ৫ জন রিমান্ডে

তরুণীকে হত্যার পর মাথা-হাত বিচ্ছিন্ন, হাতের ট্যাটু দেখে শনাক্ত, নারীসহ ৫ জন রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 
৬ আগস্ট রাজধানীর সবুজবাগে যে তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁর পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীকে শনাক্ত করেন তাঁর মা-বাবা।

এই তরুণীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে শনিবার চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মোমিন হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), মো. সুজন (২০), মামুন (২০) ও মো. রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি (১৯)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকি আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামারের পাশের সেতুর নিচে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মাথা এবং পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯ বছর বয়সী ফালানী নামের তরুণী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে। পরে তাঁর মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে তাঁরা মরদেহটি তাঁদের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।  ঘটনার আগের সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা যায়, ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগীসহ গ্রেপ্তার আসামিদের এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর অনেকক্ষণ একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে এ আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁকে আর কোথাও দেখা যায়নি। ৪ আগস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ফারুক ও ফালানী বাদে অন্য আসামিরা কালভার্টের ওপর অবস্থান করেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তাঁরা যে যার মতো করে চলে যান।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আসামিদের পূর্ববর্তী স্বভাব-চরিত্র এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রতীয়মান হওয়ায় ওই পাঁচ আসামিকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত, তাঁদের অবস্থান ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং গ্রেপ্তারের জন্য গ্রেপ্তারদের রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোমিন বলেন, আসামিদের পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তাঁদের জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে জানান তিনি।

উল্লখ্য, ফালানীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ৬ আগস্ট সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: কালবেলা (২২.০৮.২০২৬)