সর্বশেষ

১৩ আগ, ২০২৬

মামলার জট কমাতে আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইল বন্ড: আইনমন্ত্রী

মামলার জট কমাতে আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইল বন্ড: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত 
মামলার জট কমানো এবং জামিন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ২৮ জেলায় ই-বেল বন্ড পদ্ধতি চালু করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয় চতুর্থ পর্যায়ে আরও ১২ জেলায় অনলাইন ই-বেইল বন্ড পদ্ধতি উদ্বোধন আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, ই-বেইল বন্ড পদ্ধতির মাধ্যমে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি থেকে মুক্ত হবে, এক ক্লিকেই বেইল পেয়ে যাবে। সরকার হয়রানি মুক্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন,  মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ভালো পারফরম্যান্স করা জেলাগুলোকে উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়া হবে। অনেক সময় আসামিরা জামিনের মুক্তি পাওয়ায় অপরাধের সংখ্যা বাড়ায় বিচার ব্যবস্থা আরও কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।  বছরের পর বছর মামলা ঘুরলে সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হয়। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

মীমাংসার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা পেল সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

মীমাংসার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা পেল সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির আওতায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে।

পরিপত্রে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের অধীন দায়ের করা মামলাগুলোর বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস যাতে সমাধান করতে পারে, সে বিষয়ে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন দিয়েছেন।

পরিপত্র অনুযায়ী, যেসব আইনের মামলায় এই আপস-মীমাংসার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে সেগুলো হলো—পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ৫ নম্বর ধারা; পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫ নম্বর ধারা; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ও ৪ নম্বর ধারা; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ) ধারা; দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১, ৪০৬, ৪১৭, ৪২০, ৪৯৪, ৫০০, ৫০১ ও ৫১১ নম্বর ধারা; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৮, ৯, ১২, ৩৯, ৪২ ও ৫৪ নম্বর ধারা এবং নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ নম্বর ধারা।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এ রিট করেন। এই রিটে আইনসচিব ও মন্ত্রিপরিষদসচিবকে বিবাদী করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত রাখার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশও চেয়েছেন রিটকারী।

আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানিয়েছেন, আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে। তবে একটি সূত্রে বলা হয়েছে, রিটটি এখনো এখতিয়ারসম্পন্ন কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়নি। আইনজীবী বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের বেঞ্চে এটি উপস্থাপন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে তিনি পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে সংসদের স্বাধীনতার ওপরও এর প্রভাব পড়ে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনুছ আলী আকন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, রিটে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কেন বাতিল বা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রচারিত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার 


শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে হাইকোর্টের ৫ কর্মচারী বরখাস্ত, এক কর্মকর্তার বেতন স্থগিত

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে হাইকোর্টের ৫ কর্মচারী বরখাস্ত, এক কর্মকর্তার বেতন স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 
শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের পাঁচ কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় এক বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আদেশ সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএসকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশা। গত ৪ আগস্ট এ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি করে তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

অন্যদিকে, টানা অনুপস্থিত থাকার দায়ে প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানায়, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১২ আগ, ২০২৬

৪৪তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ ২৭ প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের নির্দেশ কেন নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

৪৪তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ ২৭ প্রার্থীকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের নির্দেশ কেন নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 
৪৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ২৭ প্রার্থীর নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং তাদের যোগ্যতা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী অন্য নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটে ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৭ প্রার্থীর পক্ষে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান, সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল।

রিটের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীরা ৪৪তম বিসিএসের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ইন্সট্রাক্টর (বাংলা) ও ইন্সট্রাক্টর (ইংরেজি) পদে নবম গ্রেডে পিএসসি কর্তৃক অস্থায়ীভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের এই সুপারিশ করা হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে নিয়োগ বিধিতে বিএড ডিগ্রির শর্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে গত ২০ মে তাদের সুপারিশ বাতিল করে পিএসসি। রিটকারীদের অভিযোগ, সুপারিশ বাতিলের আগে তাদের কোনো শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগও দেওয়া হয়নি।

রিটে বলা হয়, পিএসসির নিজস্ব অনলাইন ব্যবস্থায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ইন্সট্রাক্টর (বাংলা) ও ইন্সট্রাক্টর (ইংরেজি) পদকে উপযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রার্থীরা পছন্দক্রমে পদগুলো নির্বাচন করেন। পরে পিএসসি তাদের অস্থায়ীভাবে সুপারিশ করে।

আবেদনকারীদের দাবি, পিএসসির অনলাইন ব্যবস্থায় পদগুলো উপযুক্ত হিসেবে প্রদর্শিত হওয়ার পর প্রার্থীরা সেই অনুযায়ী পছন্দক্রম দেন এবং পিএসসি তাদের সুপারিশ করে। ফলে অনলাইন ব্যবস্থার তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে সুপারিশ বাতিল করা ন্যায়সংগত নয়।

রিটে আরও বলা হয়, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) ও সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা কয়েকজন প্রার্থীর সুপারিশ বাতিল না করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। অথচ ২৭ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কোনো শোকজ বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই সুপারিশ বাতিল করা হয়েছে। এতে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি রিটকারীদের।

এর আগে গত ২৬ জুলাই প্রার্থীদের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

রিটে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতি অনুসরণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে ৪৪তম বিসিএসের জন্য ২০২১ সালে পিএসসির কাছে সরকারের চাহিদাকৃত নবম থেকে একাদশ গ্রেডের নন-ক্যাডার পদগুলোর মধ্যে আবেদনকারীদের যোগ্যতা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী উপযুক্ত কোনও পদে তাদের সুপারিশ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১১ আগ, ২০২৬

বিচারপতিদের জন্য গবেষণা সহযোগী (রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট) নিয়োগে কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিচারপতিদের জন্য গবেষণা সহযোগী (রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট) নিয়োগে কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের সহায়তার জন্য গবেষণা সহযোগী নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার।

এর আগে ২০২১ সালের বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন এবং ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন ও বিশেষাধিকার) আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনসহ আইনজীবী ও আইন শিক্ষার্থী মিলে ১৩ জন গত নভেম্বরে রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রিটের ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির জন্য অ্যাডহক বা চুক্তিভিত্তিক আইন সহকারী-কাম-গবেষণা সহযোগী (ল’ ক্লার্কস-কাম-রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট) অথবা গবেষণা কর্মকর্তা/ইন্টার্ন নিয়োগের প্রক্রিয়া গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ আগস্ট সম্পূরক আবেদন করা হয়।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সহায়তার জন্য গবেষণা সহযোগী নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে এ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো


যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের দায়ে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত কর্তৃক অনুপস্থিত থাকা বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়।

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আত্মীয় আতেফ নাজিব। মাহেরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাশার আল-আসাদ ও তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ দুজনই রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। ফলে মঙ্গলবারের রায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে আতেফ নাজিবের ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি সে সময় দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের পাশাপাশি ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর ঘটনাতেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় নাজিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কয়েদির পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়।

সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বিচারকে পুরোনো শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ রয়েছে, তারই একটি অংশ এই বিচারের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

বাশার আল-আসাদ প্রায় ২৪ বছর সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর শাসনামলে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও পরে গৃহযুদ্ধ দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে ওঠে।

সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০১১ সালে। ওই বছর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আন্দোলনটি ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্রমে সেই আন্দোলন বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরে দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। এই সংঘাত সিরিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনকে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত করে।

দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। সরকারবিরোধী বাহিনীর অগ্রযাত্রা তীব্র হলে বাশার আল-আসাদ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে দামেস্ক ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং আসাদ সরকারের পতন হয়।

ক্ষমতা হারানোর পর রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সেই অবস্থাতেই সিরিয়ার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো।
বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে এই রায় সিরিয়ার রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কোনো শাসকের পতনের পর তাঁর আমলের কর্মকাণ্ডের বিচার কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আল জাজিরা (১১.০৮.২০২৬)