সর্বশেষ

৫ সেপ, ২০২৬

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুদাচ্ছির হত্যা মামলায় জামিন পেলেন শিক্ষক, ক্ষুব্ধ শিশুর পরিবার

মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুদাচ্ছির হত্যা মামলায় জামিন পেলেন শিক্ষক, ক্ষুব্ধ শিশুর পরিবার

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মাদ্রাসাতুল ইতকান লি উলুমিল কোরআনের আট বছরের ছাত্র মুদাচ্ছিরকে হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ উল্যাহ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মিজানুর রহমান এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম আবুল কালাম আজাদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার ফ্যাক্ট: নথি থেকে জানা গেছে, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মাদ্রাসাতুল ইতকান লি উলুমিল কোরআন মাদ্রাসার চতুর্থতলার শিক্ষকদের টয়লেট থেকে মুদাচ্ছিরের গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তার বাবা জিয়াউর রহমান তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন, মাওলানা ক্বারি আনিছুর রহমান ও শিক্ষক ইনচার্জ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।  বাদীর ধারণা, আসামিরা তার ছেলেকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছে অথবা তাদের এমন কোনো ঘটনা দেখে ফেলেছে— যার কারণে ২০ ডিসেম্বর বিকাল সোয়া ৪টার থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় এই তিন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জন আসামি মুদাচ্ছিরকে হত্যা করেছে। বাদীর অভিযোগ ঘটনাকে অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্য মরদেহ শিক্ষকদের টয়লেটে গামছা দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরবর্তীতে মামলা দায়েরের প্রায় দুই মাস পর মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

জামিন শুনানি: আজ আসামির পক্ষে আইনজীবী ঢাকা বারের সেক্রেটারী আবুল কালাম খান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আসামি ৬ মাসের বেশি কাষ্টডিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তাই বিচারক জামিন দিয়েছেন। অপরদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রধান প্রসিকিউটর আলহাজ বোরহান উদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘মাদ্রাসার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেলেও শিশুটি উৎফুল্ল, প্রাণচঞ্চল ছিল। হঠাৎ কী কারণে আট বছরের ওই শিশুকে বিকেলে শিক্ষকদের টয়লেটে গলায় গামছা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা রহস্যজনক । আসামিরা শিশুটিকে হত্যা করেছে। তার জামিনের বিরোধিতা করছি।’ উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় আসামির জামিনের আদেশ দেন।

ক্ষুব্ধ শিশুর পরিবার: জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মুদাচ্ছিরের বাবা জিয়াউর রহমান। ছেলের হত্যা মামলায় এক আসামির জামিন হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

জিয়াউর রহমান বলেন, তার আট বছরের ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার দাবি, মুদাচ্ছির মশারির দড়িও নিজে বাঁধতে পারতো না। গামছায় যে ধরনের গিঁট দেওয়া হয়েছিল, তা একজন শিশুর পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

মামলার অন্য দুই আসামি এখনো গ্রেফতার না হওয়ায়ও ক্ষোভ জানান মুদাচ্ছিরের বাবা। তার অভিযোগ, ওই দুই আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করছে না।


বিডিএলপিবি/এমএম
বিডিনিউজ ২৪ (০৩.০৯.২০২৬)

ঢামেকের সামনে গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার: রিমান্ড শেষে কারাগারে ৩ আসামি

ঢামেকের সামনে গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার: রিমান্ড শেষে কারাগারে ৩ আসামি

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে পালানোর অভিযোগে হত্যা মামলায় তিন জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবদেনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শুক্রবার প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য জানান।

তিন আসামি হলো– গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী গৃহকর্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং শ্বশুড় এবিএম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)। তাদের মধ্যে ফয়সাল পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, তার শ্বশুড় আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিণী।

ঘটনার বিবরণ: মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মীম আক্তার (১৫) প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কথা মীম ফোনে পরিবারকে জানালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

গত ১২ আগস্ট অজ্ঞাত হিসেবে মীমের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

এর মধ্যে ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সে বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ১৭ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

২০ আগস্ট খবর পেয়ে মীমের পরিবার শাহবাগ থানায় যায় এবং পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মরদেহ শনাক্ত করে। নিহত মীম কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ২১ আগস্ট শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় দীর্ঘদিনের বাসস্থান ছেড়ে ডেমরা এলাকায় আত্মগোপন করে। ২০ অগাস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে ডেমরার বামৈল এলাকা থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজা আক্তার আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার। ওইদিন তাদের তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

কারাগারে আটক রাখার আবেদন:  বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না বলে জানান তিনি। এদিকে সোমবার রিমান্ড শুনানিতে ওই গৃহকর্মী ‘আত্মহত্যা করেছে’ বলে দাবি করেন আসামিপক্ষ ও তাদের আইনজীবী।


বিডিএলপিবি/এমএম
বাংলা ট্রিবিউন (০৪.০৯.২০২৬)


৪ সেপ, ২০২৬

নতুন আইনে নামজারির (Mutation) নিয়ম কী, কবে থেকে কার্যকর হয়েছে

নতুন আইনে নামজারির (Mutation) নিয়ম কী, কবে থেকে কার্যকর হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত 
জমি কেনার পর বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি করা গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। কিন্তু নতুন নিয়মে এতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। এবিষয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

জমির নামজারি কী?

নামজারি বা মিউটেশন (Mutation) হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বৈধ পন্থায় জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি ভূমি রেকর্ড বা খতিয়ান থেকে পূর্ববর্তী মালিকের নাম বাদ দিয়ে নতুন মালিকের (ক্রেতা বা ওয়ারিশ) নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা অনুযায়ী জমির নামজারি বা মিউটেশন সম্পন্ন করা হয়, যার মাধ্যমে নতুন মালিকের নামে খতিয়ান হালনাগাদ করা হয়।

নামজারি কেন জরুরি?

জমি কেনা, উত্তরাধিকার বা দানসূত্রে মালিকানা পাওয়ার পর বৈধভাবে খাজনা প্রদান ও মালিকানা পাকাপোক্ত করতে নামজারি বাধ্যতামূলক। জমির নামজারি করা নিচের কারণগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ:

মালিকানা নিশ্চিতকরণ: সরকারি রেকর্ডে আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলে জমির ওপর আপনার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান: নামজারি সম্পন্ন না হলে নতুন মালিকের নামে জমির খাজনা বা কর দেওয়া যায় না।

ভবিষ্যৎ হস্তান্তর: জমি বিক্রি, দান বা ব্যাংকে বন্ধক রাখতে হলে হালনাগাদ নামজারি খতিয়ান আবশ্যক।

আইনি সুরক্ষা: এটি জমির অবৈধ দখল ও জালিয়াতি রোধ করতে সাহায্য করে।

জমি হস্তান্তর করার জন্য নামজারি গুরুত্বপূর্ণ: যে কোনো সময় জমি বিক্রয় করা যাবে (রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ৫২এ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৩সি ধারা অনুসারে, দলিলমূলে প্রাপ্ত জমির নামজারি খতিয়ান না থাকলে সে জমি বিক্রয় করা যায় না)।

নামজারি করার নিয়ম:

জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের পর অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা ই-নামজারি পোর্টাল-এর মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদনের জন্য মূল দলিল, বায়না বা উত্তরাধিকার সনদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

নতুন আইনে কী নিয়ম, কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নামজারির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। এখন ওয়ারিশসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে আবেদন করতে হবে। ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা না থাকলে একই খতিয়ানে যৌথভাবে (কো-শেয়ারার হিসেবে) নামজারি হবে, আলাদা আলাদা খতিয়ান করা হবে না।

নতুন আইনে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনাবেচা, দান বা হেবা করা যায় না। এমনকি মালিকানা থাকা সত্ত্বেও রেকর্ড নিজের নামে না থাকলে জমিটি অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দেওয়াও সম্ভব হয় না।

যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে, তাদেরও কি নতুন আইনে নামজারি করতে হবে?

যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান সঠিক আছে, তাদের নতুন করে নামজারি করার প্রয়োজন নেই। তবে পুরোনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজড হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।

নামজারির জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
নামজারির জন্য সাধারণত দলিলের কপি (বায়না বা রেজিস্ট্রি দলিল), খতিয়ানের কপি, দাগ নম্বরসহ জমির বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ওয়ারিশসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যুসনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং আবেদন ফরম জমা দিতে হয়। নির্ধারিত ফি পরিশোধের রসিদও দাখিল করতে হয়।

নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে?
বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় সাধারণত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে (প্রায় ২৮-৪৫ দিনের মধ্যে) নামজারি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। তবে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা কোনো আপত্তি বা বিরোধ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের নামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর আবেদনের পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

বৃহস্পতিবার আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফাইড ফেইসবুক অ্যাকাউন্টেও একটি স্টাটাস দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, আইন অনুসারে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার একই গ্রুপভুক্ত বা পারিবারিকভাবে রাখা যায় না। কিন্তু এস আলম সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যাংকটিতে যুক্ত হয়। সেখানে তাদের শেয়ার ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। 

এর আগে গত বছর, ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও ব্যক্তিবিশেষের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডার এই পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।



বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২২০৬)

হাইকোর্টে আগাম জামিন পাননি নায়ক রিয়াজ

হাইকোর্টে আগাম জামিন পাননি নায়ক রিয়াজ

ফাইল ছবি
জুলাই আন্দোলনের দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে পাননি চিত্রনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নাকচ করে দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মঞ্জুরুল আলম সুজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মঞ্জুরুল আলম সুজন।

২০২৫ সালের ২ মে রিয়াজের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। 

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ মোট ২০১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় রিয়াজ ছাড়াও আছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, চঞ্চল চৌধুরী, মামুনুর রশীদ, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি, শামীমা তুষ্টি, শমী কায়সার, সাজু খাদেম, আশনা হাবীব ভাবনা, সোহানা সাবা, রোকেয়া প্রাচী ও জায়েদ খানসহ ১৪ অভিনয়শিল্পীর নাম রয়েছে।

মামলায় ১৫ সাংবাদিক ও ১৩ শিক্ষকের নামও রয়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন সন্তোষ শর্মা ও মুন্নী সাহা। শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন জাফর ইকবাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মিজানুর রহমান ও মুনতাসির মামুন। এ ছাড়া ইমরান এইচ সরকার ও লাকী আক্তারকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অন্য একটি হত্যা মামলাতেও রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এ দুই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে আবেদন করেন রিয়াজ। তবে শুনানি শেষে আদালত তার আগাম জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (০৩.০৯.২০২৬)

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনের মামলায় তানিয়া আক্তার নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়া আক্তারকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

মামলার ফ্যাক্ট ও কার্যক্রম: মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়  ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাবের ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ২৫ মার্চ র‍্যাবের ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২০২৬)

একাধিক বিয়ে গোপন করে 'অবিবাহিতা' পরিচয়, ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্বামীর মামলা

একাধিক বিয়ে গোপন করে 'অবিবাহিতা' পরিচয়, ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্বামীর মামলা

প্রতীকী ছবি
পূর্বের বিবাহ ও বিচ্ছেদের তথ্য গোপন করে নিজেকে অবিবাহিতা পরিচয় দিয়ে বিয়ের অভিযোগে স্ত্রী শেখ অবন্তী ঐশীর বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন স্বামী উদয় জালাল দীপ।

মামলা দায়ের ও সমন জারি: ঢাকার তৃতীয় সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দায়ের করা এ মামলায় বিয়ে ও কাবিননামা অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। আদালতের বিচারক খাদিজা আক্তার শুনানি শেষে বিবাদীকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।

মামলার ফ্যাক্ট: মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে নিজেকে কুমারী দাবি করে গত ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বাদীকে বিয়ে করেন ঐশী। বিয়ের সময় ২০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে বাদী জানতে পারেন, বিবাদী এর আগেও একাধিকবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং সেগুলো গোপন রাখা হয়েছে।

বাদী দাবি করেছেন, বিয়ের সময় তিনি সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেনমোহর বাবদ পরিশোধ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রয়োজনে স্ত্রী ও তার পরিবারকে আরও প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালংকার প্রদান করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে প্রতারণা করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সমাজে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং প্রতারিত ব্যক্তি যাতে ন্যায়বিচার পান, সেই লক্ষ্যেই আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিবাদীকে নোটিশের মাধ্যমে আদালতে তলব করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ড (০৩.০৯.২০২৬)