সর্বশেষ

৩০ মার্চ, ২০২৬

আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নামে ১০০ কোটি টাকার মানমানির মামলা হয়েছে।  

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে এ মামলাটি করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানি শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম দুলাল ও এপিপি হুমায়ুন কবীর কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া জেলার হাফসাই হরিপুর বড় মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজের খুতবার পূর্বে আলোচনা চলাকালে আমির হামজা ইচ্ছাকৃতভাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘আপাদমস্তক ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে জনসমক্ষে অভিহিত করেন।

আরও বলা হয়, আমির হামজা একজন সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় বক্তা হওয়ায় তার এ বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তার অপূরণীয় মানহানি ঘটেছে। এ মানহানিকর বক্তব্যের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার সম্মানহানি করা হয়েছে দাবি করে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ডব্লিউ-এ) ইস্যু করার আবেদন জানানো হয়েছে।

বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে

বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে


ছবি: সংগৃহীত 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

এদিকে যেসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে, এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। এর বিরোধিতা করেছেন কমিটিতে থাকা বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এমন ১৫ অধ্যাদেশের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। রাতে সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। তৃতীয় দিনের বৈঠকে শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষ করে কমিটি। ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।’

তবে গণভোটের অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল, এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এতে অংশ নেন কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম অংশ নেন বৈঠকে। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে তারা আগে থেকে একমত ছিলেন না। আজও একমত হতে পারেননি। সরকারি দল কিছুটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি, যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।’

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। আর কিছু হয়তো বিল আনার সময় পাওয়া যাবে না। সেগুলো নিয়ে চিন্তা হলো, পরবর্তী অধিবেশনে যেগুলো পাস করতে চাইবে, বিল আকারে আনব।’ 

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় ও সরকারি দলের সদস্যরা কিছু কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেগুলো যথাযথভাবে রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে। বিল আকারে যখন উত্থাপিত হবে, তখন আইন প্রণয়নের সময় যার যার বক্তব্য দিতে পারবেন।

২৯ মার্চ, ২০২৬

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শ্রমিকদের ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শ্রমিকদের ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়


ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে শ্রমিকদের ৬ কোটি ৯৭ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য এ আইনি সেবা দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তিতে সুপ্রিম কোর্ট; টোল ফ্রি-‘১৬৬৯৯’ কলসেন্টার চালু; ঢাকা ও চট্রগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং কারাগারগুলোতেও এ সেবা চালু করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা ও চট্রগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলে ২২ হাজার ৮৩টি আইনগত পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ হাজার ৬১৭টি মামলায় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮২০ টি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে।

এছাড়াও বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির (এডিআর) জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩০৯ মামলায়। এডিআর-এ নিস্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৯২০টি মামলা। ঢাকা ও চট্রগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলে এ পর্যন্ত আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগী মোট ৩০ হাজার ৯জন।

দেশে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের’ অধীনে সরকারি খরচায় এ সেবা দেওয়া হয়।আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

টিউলিপ সিদ্দিককে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ

টিউলিপ সিদ্দিককে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ

ছবিঃ সংগৃহীত

টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুই জনকে আদালতে হাজির হতে আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নী ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউক-এর সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনকে আদালতে হাজির হতে আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে গেজেট প্রকাশের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে প্রকাশিত গেজেট দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এই দিন বিজি প্রেস থেকে গেজেট প্রকাশ হয়ে আসেনি। এ জন্য আদালত আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে গেজেট প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক-এর দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করে টিউলিপের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ। একই সঙ্গে গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেন আদালত। এই দিনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ।

এরপর আইন অনুযায়ী, ৮ মার্চ টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ দুই জনকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের জন্য দিন নির্দেশ দিয়ে ছিলেন আদালত। এ বিষয় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ রোববার (২৯ মার্চ) দিন ধার্য করেন আদালত।

অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কোনো টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এর ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নং-বি/২০১, বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (পুরোনো), বর্তমানে-১১৩, ১১বি (নতুন), রোড নং-৭১) দখল নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করেন।

গত জুলাই মাসে আসামি শাহ খসরুজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়।

গত ১১ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ ও মোশাররফের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক এমপি ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ (রোববার) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দ্বিতীয় দফায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ  মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পল্টন থানা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরদিন ২৪ মার্চ এ মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান। 

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া লামিয়া মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সাবেক সচিব সেলিম উদ্দিনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার।

চলতি মাসের প্রথম ভাগে ৫টি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পররাষ্ট্র ক্যাডারের পেশাদার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের তুলনায় রাজনৈতিক বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত নিয়োগে আগ্রহী ছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সেই তালিকায় পছন্দের অঞ্চল ইউরোপ হিসেবে লামিয়া মোর্শেদের আগ্রহ ছিল নেদারল্যান্ডসের প্রতি। তাকে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ডাচ সরকারের কাছে ‘এগ্রিমো’ তথা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল।

গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ইউনূস প্রশাসন বিদায়ের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে সেই এগ্রিমোর কোনো ইতিবাচক জবাব আসেনি। লামিয়া মোর্শেদের পাশাপাশি ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢাবির সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নাম প্রস্তাব করেছিল বিগত সরকার। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি সেখানে নিয়োগ পাননি। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নামে এগ্রিমো চাওয়া হলে ইরান সরকার সবুজ সংকেত দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে রাষ্ট্রদূত হতে আগ্রহী ছিলেন না ড. নিয়াজ।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত পদটি নিশ্চিত করতে ড. নিয়াজ বিগত সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় ধরনা দিয়েছিলেন। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনজরে আসতে গত ৫ জানুয়ারি তার গুলশান কার্যালয়েও সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কে যাচ্ছেন।  অন্যদিকে, সাবেক বাণিজ্য সচিব সেলিম উদ্দিনকে মিশরে পাঠানোর জন্য গত বছরের অক্টোবরে এগ্রিমো চাওয়া হলেও কায়রো থেকে কোনো জবাব আসেনি।

তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপায় হত্যা

তেল না পেয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপায় হত্যা

ছবিঃ সংগৃহীত 

নড়াইল সদর উপজেলায় ডিজেল দিতে অপরাগতা জানানোয় এক পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রাক চাপায় নিহত নাহিদ সরদার (৩৩) উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে এবং আহত জিহাদ মোল্যা (২৭) একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে স্থানীয় চালক সুজাত মোল্যা ওই ফিলিং স্টেশনে ট্রাক নিয়ে ডিজেল নিতে যান। তবে পাম্পে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ না থাকায় নাহিদ সরদার তেল দিতে অপরাগতা জানান। এ নিয়ে চালক ও ম্যানেজারের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে চালক ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এরপর রাত ২টার দিকে নাহিদ ও জিহাদ মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তারা তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ওই ট্রাকটি পেছন থেকে তাদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ সরদারের মৃত্যু হয়। এতে পেছনে থাকা জিহাদ ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেকেন্দর এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।