সর্বশেষ

৯ জুল, ২০২৬

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, 'সংসদ সদস্য যে দুটি আইন এনেছেন, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আইন রয়েছে। আমরা এই সংসদের চলতি অধিবেশনেই জুয়া আইন, ২০২৬ বিল পাস করেছি। আর ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও বিদ্যমান। ওই আইনের ধারা ২-এর উপধারা (৫), উপধারা (২৪), উপধারা (২৯) এবং ধারা ১১ পড়লে তিনি যে উদ্দেশ্যে বিলটি এনেছেন, তা বিদ্যমান আইনের আওতায় পড়ে। তাই বিলটি প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে অনুরোধ করছি।' 

এরপর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, 'যেহেতু সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আইনমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিল দুটি আর উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, সেহেতু বিলগুলো আমি ভোটে দিচ্ছি না।'

মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬-এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মদ ও জুয়ার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি রোধ এবং তরুণ ও যুবসমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য এ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় প্রচলিত ময়নাতদন্ত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি নিহত হলে তাঁর মরদেহের যথাযথ হেফাজত, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে নারী মৃতদেহের ক্ষেত্রে পর্দা ও মর্যাদা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আইন সংশোধনের মাধ্যমে নারীদের মরদেহ পর্দার আড়ালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, নারীর মর্যাদা রক্ষা ইসলামসহ সব ধর্মেরই নির্দেশনা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও সড়ক, নৌ ও রেলপথে এখনো দুর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যমান আইনে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক হওয়ায় তা ছাড়া দাফন বা সৎকার করা যায় না।

বিলে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক সময় ময়নাতদন্তে মামলার নিষ্পত্তিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা থাকে না। তাই নিহত ব্যক্তির অভিভাবক বা নিকটাত্মীয়ের আবেদনের ভিত্তিতে, প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের সুযোগ রাখতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের জন্য বিলটি আনা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

বিশ্বকাপ উম্মাদনায় ১১ মৃত্যু : প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বিশ্বকাপ উম্মাদনায় ১১ মৃত্যু : প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 

ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা, জনদুর্ভোগ এবং তীব্র শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে সর্বসাধারণের জন্য খেলা প্রদর্শনী, আতশবাজি বা লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং আতশবাজির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধে জরুরি নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবী জানান, গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এবারের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর পাশাপাশি গভীর রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে ও লাউড স্পিকার বাজিয়ে উদযাপন করার কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থসহ সাধারণ মানুষের ঘুমে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। জনদুর্ভোগের এই বিষয়টি আমলে নিয়ে এবং ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য যুক্ত করে এই রিট করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আসা দুই যুবক জঙ্গি সন্দেহে রিমান্ডে

সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আসা দুই যুবক জঙ্গি সন্দেহে রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত 

জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহ করা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো দুই বাংলাদেশিকে তিন দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দিয়েছেন। আসামিদের মধ্যে একজনের নাম সাহেদুল ইসলাম (৩৭) এবং অপরজনের নাম রিশাদ তায়ানী (২৫)।

এর আগে, গত বুধবার, বিমানবন্দর থানার জিডিমূলে পুলিশের একটি টিম ওই দুইজনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার পর তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে ওই দুই যুবক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহ হওয়ায় সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে। পরে, সিঙ্গাপুর পুলিশ বিমানে করে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের কর্তব্যরত অফিসারের হাতে তুলে দেয়।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) থেকে খবর পেয়ে ঢাকা ইমিগ্রেশনে ডিউটি অফিসারের কক্ষে তাদের হেফাজতে নিতে ব্যবস্থা করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুই যুবকের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যায়, দুজনেই সিঙ্গাপুরে থাকার সময় বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিল।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বাংলাদেশে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত কি না, তারা কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের যোগানদাতা কে বা কারা তা জানার জন্য ও আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি জানার উদ্দেশ্যে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন। আদালত এই আবেদন শুনানির পর তাদের তিন দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিডিএলপিবি/এমএম 

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন


ছবিঃ সংগৃহীত 

আট বছর আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী শাহানুর আক্তারকে গলা কেটে হত্যার দায়ে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি জাহাঙ্গীর আলমকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণ থেকে জান গেছে, শাহানুর আক্তারের প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর ঘটনার প্রায় ১১-১২ বছর আগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তারা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খালপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দিনমজুরির পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করতেন। নিয়মিত নেশা করতেন এবং স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো।

২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে তারা রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে শাহানুরের মেয়ে মাকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পায়, কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। সে তার ভাইকে ডাকে। পরে দুই জন দরজা খুলে খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মায়ের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। সময় জাহাঙ্গীরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনায় শাহানুরের ভাই জামাল উদ্দিন ২০ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৪ জুন জাহাঙ্গীরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ছয় জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে আজ আসামির সাজার রায় এলো।

 

 

বিডিএলপিবি/এমএম

 

মানহীন খাদ্যপণ্য বাজারজাতঃ ডিএসসিসির মামলায় ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

মানহীন খাদ্যপণ্য বাজারজাতঃ ডিএসসিসির মামলায় ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবিঃ সংগৃহীত

মানহীন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আসামিদের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত-২ এর বিচারক, ঢাকা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মাহমুদুল হক মামলাগুলো আমলে নিয়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

এর আগে, গত ২ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের ল্যাব পরীক্ষায় কয়েকটি খাদ্যপণ্য নির্ধারিত মানে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়। এরপর নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬, ২৭, ৩৯ ও ৪১ ধারায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও খাদ্যপণ্যগুলো হলো- বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লি.-এর উৎপাদিত ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা (ইনট্যাক্ট)’, বিদেশি প্রতিষ্ঠান আরবোটিং ফুড কোং লিমিটেড-এর উৎপাদিত ‘আর বোটিং ফুড স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং রাজধানীর বনশ্রীর কাচ্চি সুলতান রেস্টুরেন্টের বাজারজাতকৃত ‘বোরহানী’।

ডিএসসিসি জানায়, ল্যাব পরীক্ষায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি, খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

বিডিএলপিবি/এমএম

ঘুষ নিয়ে ধরা : বেবিচক কর্মকর্তা রাশেদের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ঘুষ নিয়ে ধরা : বেবিচক কর্মকর্তা রাশেদের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ছবি. সংগৃহীত

ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়া বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তখনকার জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট এইচ এম রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

দুদকের কৌসুলি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, “দণ্ডের পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।” আদালত অর্থদণ্ডের টাকা অভিযোগকারীকে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। জামিনে থাকা রাশেদ সরকার রায় ঘোষণার আগে আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বেবিচকের কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সের (সিপিএল) প্রথম ধাপ 'এয়ার ল’ পরীক্ষায় ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ হন রাকিব হাসান নামের একজন। পরবর্তী ধাপ ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষার জন্য তিনি ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর চার হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু বেবিচকের জুনিয়র লাইসেন্স ইন্সপেক্টর অ্যান্ড কনসালটেন্ট রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে ওই আবেদন বাতিল করেন। তিনি ‘কম্পোজিট’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে মোবাইলে রাকিবের কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) অর্জনকারী মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করে দেন। পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। রকিব হাসানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরেরবিএফসিরেস্টুরেন্টে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেখানে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট জমা দেন এবং ২০২৩ সালের মার্চ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।


বিডিএলপিবি/এমএম

চট্টগ্রামের সারোয়ার আলমগীর এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন: হাইকোর্ট

চট্টগ্রামের সারোয়ার আলমগীর এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তিনি শপথ নিতে পারবেন। 

এই বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২ জুলাই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন।  

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।  

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন।  

শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর।  

গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের ওই আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করা হয়।  

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।  

এর ফলে সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও তার ফল প্রকাশ করা যাবে না।  

পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তার ফল প্রকাশ করা হয়নি।  

এরপর জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের করা আপিলের শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে আপিল নিষ্পত্তি করে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুলের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যার ধারাবাহিকতায় রুল শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট। 


বিডিএলপিবি/এমএম