সর্বশেষ

১৯ জুল, ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরিতে যা পেয়েছে দুদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরিতে যা পেয়েছে দুদক

ছবি: সংগৃহীত 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দুটি ক্রোককৃত ফ্ল্যাটে রক্ষিত মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ইনভেন্টরির প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শতাধিক কোট, পাঁচ শতাধিক টাই, আটটি ঘড়ির বক্সে সংরক্ষিত মোট চারটি রোলেক্স ঘড়ি, তিন সেট মুক্তা (পার্ল), চারটি ঝাড়বাতি, শতাধিক কামিজ, বেড ও সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ও সামগ্রী পাওয়া গেছে।

দুদক-এর জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জানান, ইনভেন্টরির কাজ আগামীকালও চলবে। কাজ শেষে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা সব মালামালের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। দুদক  জানায়, ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গুলশানের রোড-৬৬, প্লট-১১-এর এ-৭ ও বি-৭ নম্বর দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদক-এর পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট)-কে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আদালতের পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ ও সেখানে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি করার জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদক-এর কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে আজ ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে, গত ২ জুলাই জারি করা এক স্মারকে দুদক জানায়, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটি রিসিভারের দখলে নিয়ে সেখানে রক্ষিত মালামালের ইনভেন্টরি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তার ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। দুদকের হিসাবে, এসব সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনে এসব সম্পদের মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং ২৩টি কোম্পানির শেয়ার জব্দের আদেশ দেন আদালত। একই অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায়ে তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় চলতি বছরের মার্চে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

দুদকের বিভিন্ন আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সাইফুজ্জামান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাসস

সময় টিভির পরিচালকদের বিরুদ্ধে আহমেদ জুবায়েরের মামলা হাইকোর্টে স্থগিত

সময় টিভির পরিচালকদের বিরুদ্ধে আহমেদ জুবায়েরের মামলা হাইকোর্টে স্থগিত

ছবিঃ সংগৃহীত 

সময় টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আহমেদ জুবায়েরের দায়ের করা একটি প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল (কোয়াশ) করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী ৪ আগস্ট এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতির কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টে সময় টেলিভিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। পরে সাংবাদিকদের সাথে  আলাপকালে তিনি জানান, সময় টেলিভিশনের পক্ষে আহমেদ জুবায়ের ‘সানী চৌধুরী’ নামের একজনকে ‘লেটার অব অথরিটি’ দিয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। নিম্ন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরোয়ানাও (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সময় টেলিভিশন লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা এই মামলাটি পরিচালনা করবে না।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী বলেন, যেহেতু আহমেদ জুবায়ের এই মামলা দায়ের করেছেন সময় টেলিভিশনের পক্ষে, অথচ সময় টেলিভিশন লিমিটেড আহমেদ জুবায়েরকে কোনো ধরনের লেটার অব অথরিটি দেয়নি। কোনো ধরনের মামলা করার জন্য পাওয়ার (ক্ষমতা) দেয়নি। অথচ তিনি সময় টেলিভিশনের নামে মামলা করেছেন।

শিশির মনির জানান, কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ক্ষমতা না দেওয়া সত্ত্বেও মামলা দায়ের হওয়ার পর সময় টেলিভিশন লিমিটেড নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার (উইথড্র) করে নেওয়ার আবেদন করে। কিন্তু নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

নিম্ন আদালতের সেই আদেশ ও সার্বিক পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ (এ) ধারায় হাইকোর্টে আবেদন করেন তারা।

হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, দরখাস্ত শুনানি শেষে আজকে  আদালত কেন এই ক্রিমিনাল প্রসিডিংটাকে (ফৌজদারি কার্যক্রম) কোয়াশ (বাতিল) করা হবে না— এই মর্মে রুল দিয়েছেন। তার সঙ্গে এক মাসের জন্য স্টে (স্থগিতাদেশ) দিয়েছেন। 

এই মামলার মূল আইনি প্রশ্নটি তুলে ধরে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, কোম্পানির পক্ষ হয়ে যদি কাউকে মামলা করতে হয়, তাহলে কোম্পানি তাকে অথোরাইজ (অনুমোদন) করতে হয়। কোম্পানির পক্ষ হয়ে নিজে কোনো মামলা করা যায় না। সময় টেলিভিশনের কোম্পানি রেজ্যুলেশন নিয়ে বলেছে যে, আমরা আহমেদ জুবায়ের সাহেবকে কোনো ধরনের কোনো মামলা দায়ের করার জন্য কোনো পাওয়ার কিংবা অথরিটি দান করিনি।

অনুমোদনহীন মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি  বলেন, তাহলে তিনি এই মামলা কী করে করেছেন? অথচ সেই সময় টেলিভিশনই দরখাস্ত দিয়ে গিয়ে বলছে আমরা এই মামলা পরিচালনা করব না। প্রশ্ন, হু ইজ মিস্টার জুবায়ের? যাকে কোম্পানি অথরিটি না দিলেও কোম্পানির পক্ষে মামলা করতে পারেন? এটি একটি বিরাট আইনি প্রশ্ন। এটিই হাইকোর্ট ডিভিশন গ্রহণ করেছেন, এটি এক্সামিন করবেন।

কোম্পানির যথাযথ অনুমোদন বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সিদ্ধান্ত ছাড়া এভাবে মামলা দায়ের করাকে বেআইনি দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, তাহলে যে কেউ কোম্পানির পক্ষে যেকোনো সময়, যার ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। এটি আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর

ছবিঃ সংগৃহীত 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্তে এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯ জুলাই রোববার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিং ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাটি ছিল একটি পদ্ধতিগত অপরাধ এবং ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংগঠনটিকে নিঃশেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ তদন্ত শেষে একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা যায়। এ লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খসড়া প্রতিবেদন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রকৃত আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন আসামি না হন। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে।

মামলার আসামিদের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রতিবেদনটি এখনও খসড়া পর্যায়ে থাকায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান, সাবেক বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আসামির তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলছি যে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেক তথ্য এখনও অনুপস্থিত। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শাপলা চত্বরের নিহতদের মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে অনেকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আমাদের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী ৬১ জন নিহতের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একই দিন সকালে শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধান, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের নামও আসামির তালিকায় রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

হাইকোর্টের রুল: নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ কেন নয়?

হাইকোর্টের রুল: নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ কেন নয়?

ছবি: সংগৃহীত 

নারী মরদেহের পোস্টমর্টেম করতে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন  পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। 

রিটে উল্লেখ করা হয়, এর আগেও দেশের সব পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগের আবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করা হয় কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। 

আবেদনে আরও বলা হয়, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ প্রয়োজন। এতে মৃত নারীর পরিবারের মানসিক স্বস্তি বাড়বে এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষাও নিশ্চিত হবে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ময়নাতদন্ত কার্যক্রমেও নারী ডোম নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে বলে উল্লেখ করা হয়। 

রিটে উল্লেখ করা হয়, অতীতে দেশের বিভিন্ন মর্গে নারীর মরদেহের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে।  উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২০২০ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিদেশেও একই ধরনের ঘটনার বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

১২ মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন সাবেক এমপি এম এ লতিফের

১২ মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন সাবেক এমপি এম এ লতিফের

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের  সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফ ১২টি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। রবিবার (১৯ জুলাই) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব জামিন আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর ১৬ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে এম এ লতিফকে গ্রেফতার করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৮ জুল, ২০২৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী বাপ্পি ৭ দিনের রিমান্ডে

শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী বাপ্পি ৭ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে মতিঝিল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার 'শীর্ষ সন্ত্রাসী' সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা বাপ্পি ও তাঁর সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (১৮ জুলাই)  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে বাপ্পি এবং দুপুরে উত্তর কমলাপুর থেকে রাকিবুলকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

আজ শনিবার তাদেরকে আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মোমিনুর রহমান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।গত ২০ মে ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল থানা এলাকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের পাশে কোরবানির অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারাদার। গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিল থানাধীন এজিবি কলোনিতে অবস্থানকালে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল আসে। কল রিসিভ করার পর আসামি গরুর হাটে অংশীদার হিসেবে তার মনোনীত লোককে রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

এ সময় তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে এবং তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে দায়িত্বে না নিলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তার চার দিন পর গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে কোরবানির পশুর হাট-সংক্রান্ত একটি সভায় থাকা অবস্থায় তার ভাগনে হৃদয় মোবাইল ফোনে জানান, ভোরে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তার অফিসে গুলি চালিয়েছে।



বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বিডিনিউজ ২৪

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা: এক মাসে হাইকোর্টের ১০ রায়

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা: এক মাসে হাইকোর্টের ১০ রায়

ছবি: সংগৃহীত 

নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির পর গত এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। দেশে নারী শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন এই টিমের আইনজীবী সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা’র সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। গত এক মাসে এই বেঞ্চে শুনানির পর শরীয়তপুরের স্কুলছাত্রী রিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা মামলা, স্ত্রী হত্যার কয়েকটি মামলাসহ মোট ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সের্স: বাসস