সর্বশেষ

৯ ফেব, ২০২৬

 ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এসএম সাজ্জাত আলী আজ বলেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ত্রুটিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে।

"আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে," তিনি বলেন। ডিএমপি কমিশনার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অবস্থান, ভোটার সংখ্যা এবং নিরাপত্তা বিবেচনার ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, ১,৬১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য নিযুক্ত থাকবেন।

"রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য, ভোটকেন্দ্রগুলিতে শরীরে লাগানো ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা হবে," তিনি বলেন। তিনি বলেন, মোট ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম এবং ৫১০টি মোবাইল টিম ভোটকেন্দ্রের বাইরে সক্রিয় থাকবে।

তিনি আরও জানান, ডিএমপির আটটি বিভাগে আটটি সাধারণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং চারটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, কৌশলগত স্থানে বিশেষ রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দ্রুত মোতায়েন করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোয়াট টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং মাউন্টেড পুলিশও প্রস্তুত থাকবে। আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা একটি অর্থবহ এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তার কলঙ্ক থেকে মুক্ত থাকবে।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, পুলিশ ত্যাগ ও রক্তপাতকে সমুন্নত রাখতে প্রস্তুত, যা দেশকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। তিনি নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন যে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে।

নগরবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সম্মানিত নগরবাসীকে অনুরোধ করছি, ভয় বা বাধা ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে ভোটকেন্দ্রে যান এবং তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন।”

ডিএমপি কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই পুলিশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, প্রায় ২৫,০০০ ডিএমপি কর্মী তাদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ নির্বাচন-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তিনি বলেন।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সারওয়ার (সেবা), অতিরিক্ত আইজি; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম, (সেবা); উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আক্তার প্রীতি।

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে নতুন করে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার সমর্থকরা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনশন শুরু করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন এই সাজা দেয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহের ওই অনশনের পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।

২০২৩ সালে শান্তিতে পুরস্কার জয়ী মোহাম্মদি ডিসেম্বরে এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত দুই মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।

তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাকে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং ইরানের ইসলামী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘প্রচারণার’ জন্য তাকে আরো দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারকদের সামনে মোহাম্মদিকে হাজির করিয়ে দ্রুত সাজা দেয়ার পর তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি বা কোনো বিবৃতিও দেননি।

প্যারিসে বসবাসকারী নার্গিস মোহাম্মাদির স্বামী তাগি রাহমানি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নার্গিস আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, এই বিচার বিভাগের কোনো বৈধতা নেই। তিনি এই বিচার প্রক্রিয়াগুলোকে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যের একটি নিছক নাটক হিসেবে দেখেন।’ মোহাম্মদি তার কারাবাসের অবস্থা ও আইনজীবী ও পরিবারের সাথে ফোনে কথা বলতে না পারার প্রতিবাদে গত ২ ফেব্রুয়ারি অনশন শুরু করেন।

তার ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নার্গিস মোহাম্মদি আজ ষষ্ঠ দিনে তার অনশন শেষ করেছেন, যদিও প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে তার শারীরিক অবস্থা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তার স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে মাত্র তিন দিন আগে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনটি জানিয়েছে, তবে চিকিৎসা শেষ করার আগেই তাকে মাশহাদে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা আটক কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার চলমান আটক জীবন-হুমকিস্বরূপ ও মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

হাদী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি

হাদী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি

ছবি: সংগৃহীত 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আজ ফৌজদারি তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে ১৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। 

তদন্ত সংস্থা আজ প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন। ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে, মামলার অভিযোগকারী তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং আরও তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করায় আদালত সিআইডিকে হত্যা মামলার আরও তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেন।

ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ৬ জানুয়ারি অভিযুক্ত শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার বাবা-মা হুমায়ুন কবির এবং হাসি বেগম সহ ১৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিবরণী অনুসারে, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে যাওয়ার সময় হাদির উপর গুলি চালান এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। 

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর পর, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা) ধারা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন, যা প্রাথমিকভাবে হত্যার চেষ্টা হিসেবে দায়ের করা হয়েছিল।
ভোটকেন্দ্রে যারা মোবাইল ফোন নিতে  পারবেন, আর যারা পারবেন না

ভোটকেন্দ্রে যারা মোবাইল ফোন নিতে পারবেন, আর যারা পারবেন না

ছবি: সংগৃহীত 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এইদিন ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পাঠান।

নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণভাবে কেউ মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

৮ ফেব, ২০২৬

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসির কাছে আবেদন

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমানের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করে নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এ দাবি জানানো হয়।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন তারা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জামায়াত আমির তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। এসব মন্তব্য দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবদান ও শ্রমের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। পরে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীরা মনে করেন। আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা তাদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই শ্রমজীবী নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে-অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। পাশাপাশি তারা ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।

প্রসঙ্গত, জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় দলটি। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি। 

পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার জামিন মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করলেও, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করেন।


৬ ফেব, ২০২৬

সন্দ্বীপে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম উদ্ধার ও অস্ত্র তৈরির কারিগর আটক

সন্দ্বীপে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম উদ্ধার ও অস্ত্র তৈরির কারিগর আটক

ছবিঃ সংগৃহীত

অপারেসন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ দুস্কৃতিকারী আটক। আজ বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ৩টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সন্দ্বীপ ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে সন্দ্বীপ থানাধীন গুপ্তছড়া বেড়িবাঁধের ইটের ভাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ জন আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগরকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিল। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। 


৩ ফেব, ২০২৬

এপস্টেইনের নথিতে নাম থাকায় বিএনপি প্রার্থী মিন্টুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক ছাত্রশিবিরের

এপস্টেইনের নথিতে নাম থাকায় বিএনপি প্রার্থী মিন্টুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক ছাত্রশিবিরের

ছবি: সংগৃহীত 

ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখা। বিশ্বজুড়ে আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিতে তার নাম উঠে আসা এবং ঋণ খেলাপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেনী শহরের মিজান ময়দান থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এতে সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আলোচিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি প্রকাশের পর তাতে ফেনী-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম উঠে আসে। এসব নথিতে এপস্টেইনের রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থায়ন কাঠামো এবং প্রভাববলয়ের বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকাশিত নথিগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনি প্রচারে অর্থায়নসংক্রান্ত। নথি অনুযায়ী, জেফরি এপস্টেইন ওই নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম শীর্ষ দাতা ছিলেন এবং তিনি সেখানে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেন। একই দাতা তালিকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও উল্লেখ রয়েছে। নথিতে দেখা যায়, তিনি বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনি তহবিলে ৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেন। তালিকায় তাকে ‘বাংলাদেশের ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামের হাজী সফি উল্যাহর পুত্র।

আবদুল আউয়াল মিন্টু এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এবং মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচিত। তাঁর পিতা প্রয়াত হাজী সফি উল্যাহ উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পরবর্তীতে দাগনভূঞা উপজেলার প্রথম দুই মেয়াদে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে নাম উঠে আসার এই বিএনপি নেতার মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটেই মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির।