সর্বশেষ

৮ অক্টো, ২০২৬

১৭ অক্টোবর হচ্ছে না ১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষা

১৭ অক্টোবর হচ্ছে না ১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত 
উনবিংশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (১৯তম বিজেএস) পরীক্ষার প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উনবিংশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীদের জানানো হয়েছিল যে প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনিবার্য কারণবশত পূর্বে উল্লেখিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

কমিশন জানিয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি যথাসময়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সকল আবেদনকারীকে কমিশনের ওয়েবসাইট নিয়মিত অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি
বিডিএলপিবি/এমএম

অ্যাটর্নি-জেনারেলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অ্যাটর্নি-জেনারেলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আলহামুদি।

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়সহ ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় আইনগত ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর এ সাক্ষাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস

মন্ত্রণালয়ের ৩ কর্মকর্তাসহ আইন মন্ত্রীর তুরস্ক সফর

মন্ত্রণালয়ের ৩ কর্মকর্তাসহ আইন মন্ত্রীর তুরস্ক সফর

ছবি: সংগৃহীত 
‘ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস সামিট–ইস্তাম্বুল ২০২৬’-এ অংশ নিতে তুরস্ক সফরে গেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর সঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের তিন কর্মকর্তাও সফরসঙ্গী হয়েছেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্ক সফরে রয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. আরশাদুল আলম, যুগ্ম সচিব মো. শামসুদ্দিন মাসুম এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. রেজাউল করিম।

যে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দ্য ফিউচার অব জাস্টিস: এ শেয়ার্ড রেসপনসিবিলিটি ফর হিউম্যানিটি’ প্রতিপাদ্যে ইস্তাম্বুলে ৮ ও ৯ অক্টোবর ২০২৬ ‘ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস সামিট–ইস্তাম্বুল ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনক্রমে আইনমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

৭ অক্টোবর তুরস্ক যাত্রা, ১০ অক্টোবর ফেরার কথা

সরকারি প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটি ৭ অক্টোবর ২০২৬ অথবা নিকটতম সম্ভাব্য তারিখে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং ১০ অক্টোবর ২০২৬ অথবা নিকটতম সম্ভাব্য তারিখে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সফরে অংশগ্রহণের সময় ও যাতায়াতসহ পুরো সফরকাল দায়িত্বকাল (অন ডিউটি) হিসেবে গণ্য হবে।

সফরের ব্যয় বহন করবে তুরস্ক সরকার

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামিটে অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত সব ব্যয় তুরস্ক সরকার বহন করবে। ফলে এ সফরের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো ব্যয় বহন করতে হবে না।

প্রজ্ঞাপনটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সেকশন-৮ থেকে জারি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন  

৭ অক্টো, ২০২৬

রাতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা

রাতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে আদালত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা দাফতরিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চাইলে এসব পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা এখানকার বিভিন্ন কোর্ট রুমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাই প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি ও মামলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের পাশাপাশি পুরো স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র বহনের বিষয়ে এর আগেও সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আদালত প্রশাসনের নজরে এসেছে, রাতের সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ‘অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিবর্গ’ প্রবেশ করছেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি 

একই পরিবারের একাধিক সদস্য সার ডিলার হতে পারবেন না: চেম্বার আদালত

একই পরিবারের একাধিক সদস্য সার ডিলার হতে পারবেন না: চেম্বার আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
সার ডিলার নিয়োগে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে সরকারের জারি করা নতুন নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার (স্ট্যাটাসকো) আদেশ স্থগিত করে এ আদেশ দেন।

এর ফলে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো আইনি বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

সরকারের সংশোধিত নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য হাইকোর্টে দুটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে গত ৬ অক্টোবর হাইকোর্ট তাদের বিদ্যমান ডিলারশিপ বাতিল না করার নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিধানের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।

এর বিরুদ্ধে একই দিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

বুধবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা আকতার জুঁই ও মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একরামুল হক টুটুল।

নতুন নীতিমালায় কী বলা হয়েছে

কৃষকের কাছে সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া এবং সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে সার ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এর সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও পুত্রবধূর নামে একাধিক ডিলারশিপ নেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ বা সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট নীতিমালায় সংশোধন আনে। পরে ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় সংশোধিত ও হালনাগাদ নীতিমালা প্রকাশ করে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো পরিবারের একজন সদস্যের ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার পরিচয়পত্র থাকলে, একই পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হতে পারবেন না।

‘পরিবার’ বলতে কারা

নীতিমালায় ‘পরিবার’ বলতে বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, ছেলের ছেলে ও তাদের স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা এবং নির্ভরশীল ভাই-বোনকে বোঝানো হয়েছে—যারা একই অন্নে বা একই খানায় খাদ্য গ্রহণ করেন।

সরকারের মতে, এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো সার ডিলার নিয়োগে একক পরিবার বা গোষ্ঠীর আধিপত্য কমানো এবং কৃষকের কাছে সারের সুষম ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

সরকারের বক্তব্য

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে বলেন, ২০০৯ সালের নীতিমালার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি ও পরিবার একাধিক ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সার ব্যবসায় সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিক ডিলার কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ২০২৫ সালেও নীতিমালায় এ ধরনের সংশোধন আনা হয়েছিল। তখন সংশোধিত বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলে হাইকোর্ট এক রায়ে ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাকে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।

চেম্বার আদালতের আদেশের পর যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

চেম্বার আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত হওয়ার অর্থ হলো ২৭ আগস্টের নতুন নীতিমালাটি কার্যকর থাকছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন থেকে ওই নীতিমালার আলোকে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগে পারিবারিক আধিপত্য ও সিন্ডিকেটের সুযোগ বন্ধ হবে এবং কৃষকের কাছে সারের ন্যায্য ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।


সূত্র: গণমাধ্যমে প্রচারিত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎকার 

বিডিএলপিবি/এমএম

হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদের লিখিত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদের লিখিত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ‘অফিস সহকারী’ পদে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিতব্য লিখিত পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের লিখিত পরীক্ষা পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময় ও কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কমিটির পক্ষে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটির তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২৬।

সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি

৬ অক্টো, ২০২৬

মিরপুর স্মৃতিসৌধে গার্মেন্টসকর্মী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

মিরপুর স্মৃতিসৌধে গার্মেন্টসকর্মী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গার্মেন্টসকর্মী সায়মনকে ছিনতাইয়ের পর হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চোরাই মোবাইল ফোন কেনার দায়ে সুজন নামে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জানান, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সায়মনের বয়স ছিল ১৭ বছর। তিনি মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন।

২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন নেওয়ার পর সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-১ এলাকায় কেনাকাটা করতে যান সায়মন। কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে তারা বাসায় ফিরছিলেন।

এ সময় আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে তিন ছিনতাইকারীর একজন সায়মনকে উদ্দেশ করে দাবি করেন, তিনি নাকি তার ছোট ভাইকে মারধর করেছেন। পরে ‘কথা আছে’ বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সায়মন ও রিফাতকে রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় তুলে নেওয়া হয়।

রিকশাটি দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে পৌঁছালে রিফাতকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সায়মনকে স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় ওই তিন ব্যক্তি।

সেখানে চাকু দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। সায়মন এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্ত ও অভিযোগপত্র

ঘটনার পর সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ ঘটনার সঙ্গে ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসানের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের সময় ইউসুফের বাসা থেকে সায়মনের মোবাইল ফোন বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সায়মনের মোবাইল ফোনটি সুজনের কাছে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

তদন্ত শেষে দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল রাখার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

২০২৩ সালের ২ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে আদালত মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সুজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: যুগান্তর (০৬.১০.২০২৬)