সর্বশেষ

১০ এপ্রি, ২০২৬

রুমিন ফারহানা, জুনায়েদ-রাফেসহ অর্ধশত জুলাইয়ের পরিচিত মুখ এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন

রুমিন ফারহানা, জুনায়েদ-রাফেসহ অর্ধশত জুলাইয়ের পরিচিত মুখ এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতের। একই সাথে প্রায় অর্ধশত জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ দলটিতে যোগ দিতে চলেছেন। চলতি মাসে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিকে এক ছাতার নিচে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এনসিপি। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, প্লাটফর্ম ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে এনসিপির শীর্ষ নেতারা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, আপ বাংলাদেশ ও এবি পার্টি। তাছাড়া একাধিক রাজনৈতিক মুখও দেখা যেতে পারে দলটিতে।

এনসিপি সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে আপ বাংলাদেশের শীর্ষ ৩ নেতাসহ একটি অংশের এনসিপিতে যোগদান অনেকটা চূড়ান্ত পর্যায়ে। কয়েক দফায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলী আহসান জুনায়েদ, রাফে সালমান ছাড়াও প্লাটফর্মের ‍মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরাসহ আরও ২৫-৩০ জন প্রাথমিকভাবে এনসিপিতে যোগদানের কথা হচ্ছে। এর বাইরে এবি পার্টি থেকে একটি অংশ যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে এনিসিপিতে। এছাড়া নয় দফার ঘোষক ও ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল হাসানসহ আরও অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 

সূত্রটি আরও বলছে, সাবেক বিএনপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গেও দলটির নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তবে তার যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার খান আজম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল যোগ দেওয়ার বিষয়ে কথা চলছে বলে জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। আগামী ১২ এপ্রিল যোগদানের প্রাথমিক একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তাদের যোগদানে আরও সময় লাগতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আব্দুল কাদের বলেন, আমার যোগদানের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত না। তবে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

জানতে চাইলে আপ বাংলাদেশের শীর্ষ এক নেতা বলেন, যোগদানের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দুয়েকদিনের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আবিদ বলেন, অনেকের সঙ্গেই কথা হচ্ছে। রুমিন আপার বিষয়টি চূড়ান্ত নয়, আপ বাংলাদেশের একটি অংশের যোগ দেওয়ার কথা চলছে।

৯ এপ্রি, ২০২৬

রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন দাখিল ১৮ মে

রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন দাখিল ১৮ মে

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি এদিন প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থপাচার করে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে।

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা : সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৪ মে

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা : সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৪ মে


ছবিঃ সংগৃহীত 

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ মে দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায়, বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর  রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখম-ল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দ-বিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ত্র মামলায় হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড

অস্ত্র মামলায় হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের ১০ বছরের কারাদণ্ড


ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদ-েণ্ডর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২৬ এর বিচারক মাহমুদুল মোহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ সহকারী ইসমাইল হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-২। ওই অভিযানের সময় ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ দুইটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে র‌্যাব।

এ ঘটনায় পরদিন ৮ নভেম্বর আদাবর থানায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন র‌্যাবের হাবিলদার মো. মশিউর রহমান।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ আদাবর থানার এসআই জাহিদ হাসান আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। গত ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ফয়সাল করিমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

ট্রাইব্যুনালের রায়ে এর পাশাপাশি, এই মামলার অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সর্বসম্মতিক্রমে আজ এই রায় ঘোষণা করেন। 

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন- মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আজকের রায় ঘোষণাটি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। আজকের রায়ে মৃত্যুদণ্ড-প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল আসামি সুজন চন্দ্র রায়। এরা দুই জন গ্রেফতার রয়েছেন। 

অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-প্রাপ্ত পলাতক তিন আসামি হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ (বেরবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

আজকের রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরবি’র সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ ও বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

আজকের রায়ে ৫  বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরবি’র সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, বেরবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরবি’র অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, বেরবি’র সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম।

আজকের রায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সহকারী রেজিষ্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, বেরবি’র সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, বেরোবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, বেরবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, বেরোবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরবি’র এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, বেরবি’র সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া ও বেরবি’র এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

এছাড়া প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাস সময়কেই কারাদ- হিসেবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ও গাজী এমএইচ তামীমসহ অপর প্রসিকিউটররা। 

অন্যদিকে, আসামি বেরোবি’র তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো, আসামি এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও আনোয়ার পারভেজ আপেলের পক্ষের ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। 

দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেরোবি’র তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০  জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।  বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

সিনিয়র জেলা জজ হলেন ৪০ বিচারক

সিনিয়র জেলা জজ হলেন ৪০ বিচারক

ছবি: সংগৃহীত 

৪০ জন জেলা ও দায়রা জজকে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৪০ জন সদস্য জেলা ও দায়রা জজ পদে যোগদানের তারিখ থেকে ৫ বছর চাকরির পূর্তিতে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বেতনক্রম প্রদান করা হলো।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৪০ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হলেন– এ এন এম মোরশেদ খান, আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ, মো. আবদুল মজিদ, কনিকা বিশ্বাস, মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, মাসুদ করিম, মোহাম্মদ ওসমান গণি, মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজী, মেহেরুন্নেসা, জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরী, মো. আবুল কাশেম, এজিএম আল মাসুদ, মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক, এ ই এম ইসমাইল হোসেন ও মো. তারিক মোর্শেদ সিদ্দিকী।

এই তালিকায় আরও আছেন মো. গোলাম আযম, মো. তহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস আরা, মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রদীপ কুমার রায়, শরীফ এ এম রেজা জাকের, মো. হায়দার আলী খোন্দকার, মোহা. বজলুর রহমান, মোহাম্মদ ওসমান হায়দার, এ এম জুলফিকার হায়াত, মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, মো. রেজাউল করিম, মো. রাশেদ কবির, নুরুল আলম মোহাম্মদ লিপু ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

পদোন্নতি পাওয়া বাকি বিচারকরা হলেন মো. জিয়াউর রহমান, নাজমুল হক শ্যামল, এম এ হামিদ, মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম, এস এম জিল্লুর রহমান, মো. আয়েজ উদ্দিন, মোহা. রকিবুল ইসলাম, এস কে এম তোফায়েল হাসান এবং মাকসুদা পারভীন। 

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভনে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভনে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ


ছবি: সংগৃহীত 

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীকে (৪৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মেডিকেল রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা করেন।

ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি অন্যের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরেও কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি প্রতিবেশী সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে সুজন শেখের সঙ্গে রিকশায় করে বের হন তিনি। পরে শহরের গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাস টার্মিনালের কাছাকাছি নামিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর তিনি কোনোভাবে বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্বজনদের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসা শেষে গত ৬ এপ্রিল বাড়ি ফেরেন এবং পরদিন থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি অফিস চিনি না। ওর কথায় বিশ্বাস করে গেছিলাম। আমার স্বামী নাই, সংসারে অভাব-সরকারি সাহায্যের আশায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার জীবনটাই শেষ করে দিলো। আমি বিচার চাই।

অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তার দাবি, ওই নারী প্রায়ই তার বাড়িতে আসতেন এবং ঘটনার দিনও সেখানে এসেছিলেন। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এক বিধবা নারী অভিযোগ করেছেন যে তাকে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল শনাক্তে কাজ চলছে। ভুক্তভোগী সুনির্দিষ্টভাবে স্থানটি চিহ্নিত করতে না পারায় এখনো হোটেল শনাক্ত করা যায়নি। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।