সর্বশেষ

৩০ মে, ২০২৬

সাড়ে নয় বছর পরে খালাস পেলেন জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সেই তিন ছাত্রী

সাড়ে নয় বছর পরে খালাস পেলেন জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সেই তিন ছাত্রী

ছবি: সংগৃহীত 

প্রায় সাড়ে নয় বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীর ক্ষেত্রে। জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এই তিন ছাত্রীকে অব্যাহতি প্রদান করেন। শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করেছে? তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়নি, কেবল কোরআন, হাদিস এবং ডা. জাকির নায়েকের কিছু বই উদ্ধার করা হয়েছিল। অথচ জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে জানিয়ে বদিউল আলম সুজন আরও বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে এ মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে, তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক গ্রন্থ।

পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর তিন ছাত্রীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।


বিডিএলপিবি/এমএম

আদ্-দ্বীনে নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আইনি নোটিশ

আদ্-দ্বীনে নবজাতকের মৃত্যু: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আইনি নোটিশ


ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ও বাকিদের অসুস্থতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সব হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এ নোটিশ পাঠান। ২৯ মে শুক্রবার নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গুরুতর গাফিলতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান।

ডা. জাহিদ রায়হান বলেছেন, তদন্তে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত ত্রুটিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় করা সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামীকাল জমা দেওয়া হবে।

এর আগে এই ঘটনায় ঢাকার রমনা থানায় মামলা হয়। মামলায় অবহেলাজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। নিহত এক নবজাতকের স্বজন বুধবার রাতে বাদী হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।



সূত্র: নিউজ ২৪

বিডিএলপিবি/এমএম

২৯ মে, ২০২৬

৯৭৩ পদে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি; আবেদনের শেষ তারিখ ৪ ও ১০ জুন

৯৭৩ পদে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি; আবেদনের শেষ তারিখ ৪ ও ১০ জুন

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ (BJSC Job Circular 2026) কর্তৃপক্ষ হতে প্রথম বিজ্ঞপ্তি আমার দেশ ই-পেপারে ১৪ মে ২০২৬ ইং ও ২নং বিজ্ঞপ্তি ১৯ মে ২০২৬ ইং তারিখে প্রকাশিত হয় যা ১৩ ও ১৮ মে ২০২৬ ইং তারিখে জারি করা হয়।

১নং বিজ্ঞপ্তির স্নারক নং: ১০.০৩.০০০০.০০০.০০১.১১(খ).০০০৯.২৫.৪৭২; তারিখ: ১৩ মে ২০২৬ ইং, ও ২নং বিজ্ঞপ্তির স্নারক নং: ১০.০৩.০০০০.০০১.১১.০০৭.২৩.৮৯৩; তারিখ ১৮ মে ২০২৬ ইং।

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন মোট ৯৬৮+০৫ জন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা স্বয়ং সম্পন্ন নারী ও পুরুষকে ০৮+০৪টি জব ক্যাটাগরি পদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে।

অনলাইনে https://bjsc.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, রঙিন ছবি, (Passport Size Photo) স্বাক্ষরের ছবি দিয়ে আবেদন ফরম (Application Form) পূরণ করা লাগবে।

অনলাইনে আবেদন চলবে ১৮ ও ১৯ মে ২০২৬ ইং সকাল ১০ঃ০০ ঘটিকা থেকে ও শেষ হবে ০৪ ও ১০ জুন ২০২৬ ইং বিকেল ০৫ঃ০০ ঘটিকায়।

নিচে Bangladesh Judicial Service Commission BJSC Job Circular 2026 বা বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দওয়া হলো।








৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক

৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক


ছবি: সংগৃহীত 

সাইপ্রাসে ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ তদন্তের মুখে বাংলাদেশের এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বিলাসবহুল একটি দোতলা বাড়ি ক্রোক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সাইপ্রাস মেইলের এক প্রতিবেদনে বলো হয়, ব্যাংক জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এবং বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিকোসিয়া জেলা আদালত লিমাসসোল জেলার পারেকলিসিয়ায় অবস্থিত সাইফুল আলমের ওই সম্পত্তি ক্রোক করে।

সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের (মোকাস) একটি আবেদনের পর গত ১৯ মে এই ক্রোক আদেশ জারি করা হয়। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শুরু হওয়া পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার অধীনে এই তদন্তের অনুরোধটি করা হয়েছিল। এস আলম নামে বেশি পরিচিত সাইফুল আলম অবশ্য কোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন।

তার প্রতিষ্ঠিত এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ‘বিতর্কিত’ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। প্রথমে পরিবহন ও চিনি পরিশোধন দিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করলেও পরে ব্যাংক, বীমা, গণমাধ্যম, বিদ্যুৎ ও হোটেল খাতে ব্যবসা বিস্তৃত করে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। তার এবং তার পরিবারের সদস্যসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, সম্পত্তি জব্দের আদেশ এসেছে আদালত থেকে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের। এর মধ্যে তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করার খবরও এসেছে।

সর্বশেষ গত ২১ মে ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় এস আলমসহ ১১ জনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে সাজা পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

সাইপ্রাস মেইলের খবর বলছে, সাইফুল আলম ২০১৬ সালে ‘সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন; যা স্থানীয়ভাবে ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম’ নামেও পরিচিত। তবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের থেকে পাওয়া অভিযোগের পরে তার ওই নাগরিকত্ব বাতিল করে সাইপ্রাস সরকার।

যদিও নাগরিকত্ব পাওয়ার ওই প্রোগ্রামটির কার্যক্রম পরীক্ষা করে দেখা সাইপ্রাস সরকারের ‘নিকোলাটোস কমিটির’ প্রতিবেদনে সাইফুল আলমের নাম আসেনি।

সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তদন্তকারীদের জমা দেওয়া নথি অনুসারে, সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কোম্পানিগুলোর একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই তদন্তের মধ্যে ‘প্রতারণামূলকভাবে’ ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের দেওয়া কারাদণ্ডের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের বরাতে সেখানে বলা হয়েছে, ওই ঋণ নেওয়া হয়েছিল ১৩৪টি বাস কেনার কথা বলে, যা শেষ পর্যন্ত কেনা হয়নি।

সাইপ্রাস মেইল লিখেছে, সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তদন্ত ওই একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাইপ্রাসে পাঠানো অনুরোধ অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তার মালিকানার বিভিন্ন কোম্পানির বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার বিষয়েও তদন্ত করছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ।

সাইপ্রাস সরকারকে করা বাংলাদেশের অনুরোধে বলা হয়, সাইফুল আলম ওই ঋণগুলোর মধ্যে অনেকগুলো পরে খেলাপি হয়ে যায়। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, তিনি নিজে ও তার কোম্পানিগুলো ওই অর্থ কোনো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছিলেন কিনা।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও বলেছেন, এস আলম গ্রুপ প্রায় ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ দেশ থেকে পাচার করেছেন। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সম্পদ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর এবং অন্যান্য দেশে থাকতে পারে।

সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সে দেশে নিবন্ধিত কোম্পানি ‘একলেয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ নিয়েও তদন্ত চলছে। ২০১৬ সালে সাইফুল আলম ওই কোম্পানিটি ‘একলেয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামে কিনে নেন। তদন্তাধীন তহবিল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোম্পানি ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা, তা এখন খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ।

সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতের কাগজপত্রে সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিতে থাকা কোম্পানি ও ট্রাস্টের একটি নেটওয়ার্কের কথাও বলা হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই কোম্পানিগুলোর মালিকানার কাঠামো এবং আর্থিক কার্যক্রমও খতিয়ে দেখছেন।

তবে সাইফুল আলম আন্তর্জাতিক ল ফার্ম 'কুইন ইমানুয়েল' এর প্রতিনিধির মাধ্যমে দাবি করেছেন, তার বিনিয়োগগুলো বৈধ বিদেশি উৎসের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি)–এর মাধ্যমেও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

সেখানে সাইফুল আলম দাবি করেছেন, যে যুক্তিতে তার সম্পদকে প্রভাবিত করার মত পদক্ষেপগুলো (যার মধ্যে ক্রোক আদেশও রয়েছে) নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তিগুলোর লঙ্ঘন।


সোর্স: বিডিনিউজ
বিডিএলপিবি/এমএম

কুমিল্লায় জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত 

জেলার কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জালনোটসহ জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২।বৃহস্পতিবার বিকালে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুন্ডু এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার অশোকতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬শ’ টাকা সমমূল্যের জালনোট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫শ’ টাকার ২০২টি এবং ২শ’ টাকার ৪৮৩টি জাল নোট ছিল।

এ সময় জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- নোয়াখালী সদর উপজেলার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে নিশান ইসলাম (২৭) এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাথুরিয়াপাড়া এলাকার মৃত খবির মিয়ার ছেলে সোহেল আরমান (৪৪)।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। 
তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জালনোট সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ও বিভিন্ন মার্কেটে জাল টাকা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার পরিকল্পনা ছিল বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


সোর্স: বাসস

বিডিএলপিবি/এমএম

২৭ মে, ২০২৬

কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত যুবককে কারাগারে প্রেরনের আদেশ

কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত যুবককে কারাগারে প্রেরনের আদেশ


ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার নাজমুল হাসান মনি (২৫) নামে এক যুবককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার আসামির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হয়। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে কালশী বস্তির এক দোকানিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বিরোধের ঘটনা ঘটে। এসময় ওই যুবক বস্তিতে আগুন লাগানোর হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে সন্ধ্যায় বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।

ওইদিন সন্ধ্যায় কালশী বস্তিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৮৯৬

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৮৯৬

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের অধীনে জেলা জজ ও অধস্তন আদালত/ট্রাইব্যুনালসমূহে জনবল (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে) নিয়োগে অনুষ্ঠিত ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে মোট ৮৯৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাসলিম আরিফের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার (২৪ মে) ফল প্রকাশের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের অধীনে জেলা জজ এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোতে নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত উল্লেখিত পদে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচিসহ এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়।


বিডিএলপিবি/ এমএম