সর্বশেষ

১২ অক্টো, ২০২৬

৯ মাসে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ৭ হাজার ৩২৮ কল

৯ মাসে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ৭ হাজার ৩২৮ কল

আইনি পরামর্শ, মামলার তথ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানাতে হেল্পলাইনে যোগাযোগ; সেপ্টেম্বরে ১৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি, ৬টির বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ
আইনি পরামর্শ গ্রহণ, মামলার তথ্য জানা এবং আদালতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানাতে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ৭ হাজার ৩২৮টি কল এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও এসব কল করেন সেবাগ্রহীতারা।

সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন মনিটরিং সেলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনি পরামর্শ, মামলা-সংক্রান্ত তথ্য এবং অভিযোগ দাখিলের বিষয়ে মোট ৭ হাজার ৩২৮টি কল গ্রহণ করা হয়।

সেপ্টেম্বরে ৭৭৪টি কল

মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে হেল্পলাইনে ৭৭৪টি কল আসে। এর মধ্যে আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য ১১১টি এবং মামলা-সংক্রান্ত তথ্য জানতে ১৮৪টি কল করেন সেবাগ্রহীতারা। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মনিটরিং সেল।

এ ছাড়া হেল্পলাইন নম্বর ১০৩-এ কল করেও সেবাগ্রহীতার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি—এমন কলের সংখ্যা ছিল ৩৮০টি।

২০ অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি ১৪টি

সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের বিভিন্ন জেলা আদালত-সংশ্লিষ্ট অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, সেবা পেতে বিলম্ব এবং অসদাচরণের অভিযোগে সেপ্টেম্বরে ২০টি কল আসে।

এসব অভিযোগের মধ্যে আইনি সেবা পেতে বিলম্ব, রায়ের অনুলিপি না পাওয়া, নথি হারিয়ে যাওয়া এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে করা ১৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি ছয়টি অভিযোগ—যেগুলো অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণসংক্রান্ত—সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর নিয়ে ৭৯টি কল

এদিকে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সেপ্টেম্বরে ৭৯টি কল আসে। তবে এসব অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে কলদাতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

চালু রয়েছে কল ও হোয়াটসঅ্যাপ সেবা

প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে হেল্পলাইনের ০১৩১৬-১৫৪২১৬ ও ০১৭৯৫-৩৭৩৬৮০ নম্বরে কল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেবা নেওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ১০৩ নম্বরে অনলাইন সেবাও চালু রয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিডিএলপিবি/এমএম 

ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি, সভাপতি রমিজউদ্দিন ও মহাসচিব মাজম আলী

ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি, সভাপতি রমিজউদ্দিন ও মহাসচিব মাজম আলী

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএলএ) ২০২৬–২০২৯ মেয়াদের ৩১ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রমিজউদ্দিন আহমেদ এবং মহাসচিব হয়েছেন মো. মাজম আলী খান।

গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা ট্যাক্সেস বার হলরুমে সংগঠনটির ৩৯তম সাধারণ সভায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেশের বিভিন্ন ট্যাক্সেস বারের আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা

নতুন কমিটিতে অতিরিক্ত মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মো. আবু নাসের মজুমদার এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন নুরুল্লাহ ভূঁইয়া বেলাল।

এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভাগ থেকে ১১ জন সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন—সৈয়দ আবদুন নূর (ঢাকা ক্যাপিটাল সিটি), মো. মুসা (কমার্শিয়াল ক্যাপিটাল সিটি—চট্টগ্রাম), মো. শামসুর রহমান খান (ঢাকা বিভাগ), মোস্তফা কামাল মনসুর (চট্টগ্রাম বিভাগ), খান মনিরুজ্জামান (খুলনা বিভাগ), মো. মুনতাসির মামুন (রাজশাহী বিভাগ), এস এম এনায়েত করিম (বরিশাল বিভাগ), আবুল ফজল (সিলেট বিভাগ), হোসেইন আহমেদ শাহজাহান (কুমিল্লা বিভাগ), মোহাম্মদ রুহুল আমিন (ময়মনসিংহ বিভাগ) এবং কাজী মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর বিভাগ)।

১১ অঞ্চলে উপমহাসচিব

কমিটিতে ১১টি অঞ্চল ও বিভাগের প্রতিনিধিত্বে ১১ জন উপমহাসচিবও নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন—এ টি এম রাশেদ বাবু (ঢাকা ক্যাপিটাল সিটি), মো. ইমাম উদ্দিন (কমার্শিয়াল ক্যাপিটাল সিটি—চট্টগ্রাম), মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (ঢাকা বিভাগ), মো. সারওয়ার আলম ভূঁইয়া (চট্টগ্রাম বিভাগ), মো. আমিনুর রহমান (খুলনা বিভাগ), আমিরুল হাসান রতন (রাজশাহী বিভাগ), রাজিউল কবির (বরিশাল বিভাগ), মো. মিজানুর রহমান মিঠু (সিলেট বিভাগ), মো. আবুল হাসেম রতন (কুমিল্লা বিভাগ), রাকিবুল আহসান (ময়মনসিংহ বিভাগ) এবং মজমুল হোসেন প্রামাণিক (রংপুর বিভাগ)।

অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা

নতুন কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মো. সোলায়মান। আইন সহায়তা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আশরাফ হোসেন খান। সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম এ হালিম মন্টু, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মো. নূর নবী পাটোয়ারী এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন মো. জামালউদ্দিন।

আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বে গুরুত্ব

নতুন কমিটির গঠনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহসভাপতি ও উপমহাসচিব পদে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কর আইনজীবীদের পেশাগত সমস্যা, মতামত ও স্বার্থ সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক-সংক্রান্ত মামলা, আপিল এবং করবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তিতে কর আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। করদাতা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি এবং করব্যবস্থার বিভিন্ন আইনি বিষয়ে তাঁদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নতুন কমিটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নেতৃত্বের অগ্রাধিকার কিংবা নির্বাচিত সভাপতি ও মহাসচিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগামী তিন বছরে করদাতাদের অধিকার সুরক্ষা, কর আপিল ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কর আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় নতুন নেতৃত্ব কী ধরনের উদ্যোগ নেয়, এখন সেদিকেই থাকবে সংশ্লিষ্টদের নজর।

সূত্র: সমকাল, ১০ অক্টোবর ২০২৬।

বিডিএলপিবি/এমএম 

বিয়ের শর্ত বা প্রতিদান ছাড়া স্ত্রীর কাছে সরাসরি টাকা দাবি যৌতুক নিরোধ আইনে অপরাধ নয়: হাইকোর্ট

বিয়ের শর্ত বা প্রতিদান ছাড়া স্ত্রীর কাছে সরাসরি টাকা দাবি যৌতুক নিরোধ আইনে অপরাধ নয়: হাইকোর্ট

বিয়ের শর্ত বা প্রতিদান হিসেবে দাবি করা না হলে স্বামীর অর্থ দাবি যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না; খালাসের বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা রিভিশন খারিজ।
স্ত্রীর কাছে সরাসরি টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর ৪ ধারার অধীন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দাবিকৃত অর্থকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করতে হলে আইনে নির্ধারিত সংজ্ঞার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিয়ের প্রতিদান হিসেবে দাবি করা হয়নি—এমন অর্থ বা সম্পত্তির দাবি শুধু অর্থ দাবি হওয়ার কারণে যৌতুক হয়ে যায় না।

২০২৪ সালের ৬১৭৬ নম্বর ফৌজদারি রিভিশন মামলা, মাহবুবা মোহাম্মদ বাবন বনাম রাষ্ট্র ও অন্য একজন-এ বিচারপতি মো. সালিমের একক বেঞ্চ ২০২৬ সালের ১৫ জুন এ রায় দেন। এতে স্বামীর খালাসের বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা রিভিশন খারিজ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া খালাসের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১১ অক্টোবর, ২০২৬।

মামলার পটভূমি:

মামলার আবেদনকারী মাহবুবা মোহাম্মদ বাবনের সঙ্গে বিবাদী মো. মাহমুদুল আলম সোহাগের ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাননি। পরে ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল স্ত্রীর বাবার বাড়িতে গিয়ে তিনি গাড়ি কেনার জন্য এক কোটি ৫০ লাখ টাকা, বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য দুই কোটি টাকা এবং ব্যবসার জন্য এক কোটি টাকা দাবি করেন। সব মিলিয়ে দাবির পরিমাণ ছিল চার কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত অর্থ দেওয়া না হলে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২৮ মে ২০১৬ তারিখে স্ত্রীপক্ষের কয়েকজন বিবাদীর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। সেখানেও যৌতুক ছাড়া স্ত্রীকে সংসারে গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়—এমন অভিযোগ করেন বাদীপক্ষ।

এ ঘটনায় স্ত্রী যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর ৪ ধারায় মামলা করেন।

নিম্ন আদালতে স্বামীর খালাস:

মামলার বিচারকালে প্রসিকিউশন চারজন সাক্ষী এবং আসামিপক্ষ একজন সাক্ষী উপস্থাপন করে। বিচার শেষে গাজীপুরের মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

পরবর্তী সময়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফৌজদারি আপিল নম্বর ২৪৪/২০২৩ খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন স্ত্রী।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে বলেন, বাদী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে সরাসরি অর্থ দাবি করার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু ওই অর্থের দাবি যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর অধীন যৌতুকের সংজ্ঞা পূরণ করে কি না, সেটিই ছিল মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, শুধু অর্থ দাবি করলেই তা যৌতুকের অপরাধ হবে না। দাবিকৃত অর্থ বা সম্পত্তিকে আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী যৌতুক হতে হবে। আদালত আরও বলেন, স্বামী সরাসরি স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করলে, সেই দাবি নিজে থেকেই যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারার আওতায় পড়ে না।

এ প্রসঙ্গে আদালত Mahir Lal Saha Poddar @ Mihir Kumar Poddar, Motilal Shaha বনাম Zhunu Rani Saha মামলার নজির উল্লেখ করেন, যা ৩৭ ডিএলআর (১৯৮৫)-এর ২২৭ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত। ওই মামলায় বলা হয়েছিল, বিয়ের প্রতিদান হিসেবে দাবি করা না হলে শুধু অর্থ বা সম্পত্তির দাবিকে যৌতুক বলা যায় না।

এ ছাড়া Anamul Hoque Faraji বনাম Mahabuba Begum and others মামলার নজিরও বিবেচনায় নেওয়া হয়, যা ২৮ বিএলসি (হাইকোর্ট বিভাগ)-এর ৬৮৮ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত। ওই নজির অনুযায়ী, যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০-এর ৪ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কনের বা বরের বাবা-মা কিংবা অভিভাবকের কাছে যৌতুক দাবি করার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক; স্ত্রীর কাছে সরাসরি অর্থ দাবি করলেই তা ওই ধারার অপরাধের আওতায় আসে না।

সাক্ষ্য-প্রমাণ মূল্যায়ন:

হাইকোর্ট বলেন, বিচারিক আদালত মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশদভাবে পর্যালোচনা করে আসামিকে খালাস দিয়েছিলেন। আপিল আদালতও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। হাইকোর্টের দৃষ্টিতে, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো যথেষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি।

রিভিশন খারিজ, খালাস বহাল:

সব দিক বিবেচনায় হাইকোর্ট রিভিশনের রুলের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি খুঁজে পাননি। ফলে রুল খারিজ করা হয় এবং গাজীপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪-এর ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের আদেশ বহাল রাখা হয়। এর মাধ্যমে স্বামীর খালাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকে।

আইনি শিক্ষা:

এই কেস নোটটি আপলোড করা রায়ের ভিত্তিতে তৈরি। রায়ের ১৯–২০ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত আইনি নীতি ও নজিরের আলোকে প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছে। তবে রায়ে সাক্ষ্য-প্রমাণের মূল্যায়ন নিয়েও আলোচনা রয়েছে; তাই রায়টিকে সব ধরনের অর্থ দাবির ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট আইনের সংজ্ঞা ও মামলার নির্দিষ্ট তথ্যের প্রেক্ষাপটে পড়া উচিত।


বিডিএলপিবি/মাসুম

১১ অক্টো, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রেহেনা হত্যা: মরদেহ পুঁতে চারা রোপণ, দাঁতের ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত পরিচয়

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রেহেনা হত্যা: মরদেহ পুঁতে চারা রোপণ, দাঁতের ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত পরিচয়

ছবি: সংগৃহীত 
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রেহেনা পারভীনকে হত্যার পর মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে রেখে ঘটনাটি আড়াল করতে সেখানে সবজির চারা রোপণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। প্রায় দুই মাস পর আশুলিয়া থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দাঁত থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় রেহেনার স্বামী আওলাদ হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই চিকিৎসার কথা বলে রেহেনাকে ঢাকার নবাবগঞ্জের ছোট রাজপাড়া থেকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে কয়েকজন মিলে তাঁর হাত-পা চেপে ধরেন এবং আওলাদ বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রাতেই আশুলিয়ায় আওলাদের বোন পাপিয়া আক্তারের বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে সেখানে সবজির চারা লাগানো হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।

বাংলাদেশে এসে নিখোঁজ হন রেহেনা

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়ে আহাদ নূরকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন রেহেনা পারভীন। একই বছরের ৩০ জুন তাঁর স্বামী আওলাদ তাঁকে ও তাঁদের মেয়েকে নবাবগঞ্জের ছোট রাজপাড়ায় নিয়ে যান। এরপর ৩ জুলাই রেহেনা তাঁর মাকে ফোন করে জানান, তাঁকে মারধর করা হয়েছে। ওই ফোনকলের পর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রেহেনাকে চিকিৎসার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে আশুলিয়ার পাপিয়া আক্তারের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ঘটনার পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। রেহেনার নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে না যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দুই মাস পর মাটির নিচে মেলে মরদেহ

রেহেনা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তের একপর্যায়ে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার কুরগাঁও মনোদিয়া চৌরাপাড়া এলাকা থেকে রেহেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি পাপিয়া আক্তারের বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ। পরদিন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

মরদেহের পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ডিএনএ পরীক্ষা। পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে উদ্ধার করা মরদেহের দাঁত থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে রেহেনার মা আইরিন আক্তারের জৈবিক সম্পর্কের মিল পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক তানভীর হাসান খান অভিযোগপত্রে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, ফরেনসিক প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

এ ঘটনায় আওলাদ হোসেন ছাড়াও তাঁর দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবির হোসেন এবং দূরসম্পর্কের চাচা সহকারী আমজাদ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। আওলাদ ছাড়া অন্য চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১১ জুলাই আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আওলাদ অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মেয়ে ও দুই আসামি

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী রেহেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে আহাদ নূর। সে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জবানবন্দিতে সে মায়ের ওপর নির্যাতন এবং ঘটনার আগে ও পরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে।

পুলিশের দাবি, এ মামলার দুই আসামি আমজাদ হোসেন ও কবির হোসেনও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই জবানবন্দিতে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলায় মোট ২৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রেহেনার মা ও অন্যান্য স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ কর্মকর্তা এবং চিকিৎসক।

অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি বাদীপক্ষের:

রেহেনার মা ও মামলার বাদী আইরিন আক্তার বর্তমানে চোখের চিকিৎসার জন্য ভারতে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, আপত্তি জানানো সত্ত্বেও পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর আইনজীবী আদালতে নারাজি আবেদন করেছেন। অভিযোগপত্র নিয়ে আদালতে শুনানিরও কথা রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান খান জানিয়েছেন, মামলার তথ্যপ্রমাণ ও ফলাফল যাচাইয়ের জন্য নিয়ম অনুযায়ী নথি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বাদী বিদেশে থাকায় তাঁকে ফোনে মামলার ফল জানানো হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলে নারাজি আবেদন অথবা পুনঃতদন্তের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও তাঁকে জানানো হয়েছিল।

 অস্ট্রেলিয়াতেও আওলাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেন থেকে আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ। তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশের অভিযোগ, আওলাদ একজন বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তদন্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এসব অর্থ লেনদেনের কারণে চলমান তদন্তের নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আওলাদ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং জামিনের আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্র পর্যালোচনা, পরবর্তী শুনানি ২২ অক্টোবর

রেহেনা নিখোঁজ হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মা আইরিন আক্তার নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এর আগে একই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পাঁচ দিন পর দায়ের করা এ মামলার তদন্ত শেষে গত ৩১ আগস্ট ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান খান।

গত ২১ সেপ্টেম্বর আদালত অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করেন। পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার চলাকালে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনগত বিবেচনার ভিত্তিতেই আসামিদের দায় নির্ধারিত হবে।

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১১.১০.২০২৬)



গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ

গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ

আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি; ১৫ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিটের হুঁশিয়ারি
জীবিত গরু এবং প্যাকেটজাত হালাল গরুর মাংসের বাণিজ্যিক আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম। গরুর মাংস দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের পছন্দের খাদ্য হলেও বর্তমানে এর উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য তা ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই গরুর মাংস কেনা কমিয়ে দিতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের, পর্যাপ্ত প্রাণিজ আমিষ গ্রহণ ও পুষ্টি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবীর মতে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত (ফ্রোজেন) ও শীতলীকৃত (চিল্ড) মাংস আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা হলে দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি প্রায় ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, আমদানির সুযোগ সৃষ্টি ও শুল্ক যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে মাংসের দাম কমানো গেলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত ও শীতলীকৃত মাংসের বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় শুল্ক যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে প্রতি কেজি গরুর মাংসের খুচরা মূল্য ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে, জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: যুগান্তর (১১.১০.২০২৬)

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়, স্বামীর দণ্ড বাতিল করলেন হাইকোর্ট

ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়, স্বামীর দণ্ড বাতিল করলেন হাইকোর্ট

এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগে যৌতুক নিরোধ আইনে দণ্ডিত স্বামীর আপিল মঞ্জুর; অর্থ দাবির উদ্দেশ্য ও আঘাতের বিষয়ে সাক্ষ্য-চিকিৎসা সনদের অসংগতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।
ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করাকে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যায় না—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে যৌতুকের অভিযোগে দণ্ডিত এক ব্যক্তির সাজা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষীদের বক্তব্য ও চিকিৎসা সনদে অসংগতি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মত দিয়েছেন আদালত।
ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ২১ বছর পর্যন্ত ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র, আসামির যাবজ্জীবন

ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের ২১ বছর পর্যন্ত ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র, আসামির যাবজ্জীবন

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলায় ফারুক হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা; অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ
রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

 বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণের অভিযোগ

আদালতের রায় সূত্রে জানা যায়, মামলার ভুক্তভোগী মোছা. রেখা খাতুন একজন তালাকপ্রাপ্ত নারী। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় ফারুক হোসেন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি রেখা খাতুনকে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে প্রায় দুই মাস ওই বাসায় এবং পরে ঢাকার একটি বাসায় রেখে বিয়ের আশ্বাসে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ফারুক। একপর্যায়ে রেখা খাতুন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তখন বিয়ের কাগজপত্র চাইলে ফারুক বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কৌশলে ওই বাসা থেকে বের হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন রেখা খাতুন। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও থানায় মামলা করতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

মেডিকেল পরীক্ষায় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত

মামলার তদন্তে মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে রেখা খাতুনের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে তিনি রাফিউল হোসেন নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তদন্ত শেষে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

বিচারিক কার্যক্রম শেষে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফারুক হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র

রায়ে আদালত নির্দেশ দেন, অর্থদণ্ডের ৫ লাখ টাকা ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। দণ্ডিত ব্যক্তির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে।

এ ছাড়া রায়ে রাফিউল হোসেনকে ফারুক হোসেনের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাবার কাছ থেকে প্রাপ্য সব আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। পরবর্তী সময়ে সরকার দণ্ডিত ব্যক্তির কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে।

সন্তানের ভরণপোষণের অর্থ নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হলে অথবা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা কার্যকর করা হবে।

মামলার আইনজীবী জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, আদালতের রায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।


সূত্র: দৈনিক মানব কণ্ঠ (অনলাইন)

বিডিএলপিবি/এমএম