সর্বশেষ

১৫ আগ, ২০২৬

ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৫৯, মামলা ৪৪

ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৫৯, মামলা ৪৪

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৩ জন, ওয়ারীতে ৮৭ জন, মতিঝিলে ৬৫ জন, তেজগাঁওয়ে ৭৯ জন, মিরপুরে ১১৮ জন, গুলশানে ১০৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৭ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, নয় রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি সুইচ গিয়ার, একটি চাকু ও একটি শার্প ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৭টি মোবাইল ফোন, ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার।৭১০ পিস ইয়াবা, ১০০ পুরিয়া হেরোইন, ১৫ বোতল দেশি মদ, এক লিটার বিদেশি মদ এবং নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ডিএমপি নিউজ 

রামিসা হত্যা মামলার দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের তালিকায়

রামিসা হত্যা মামলার দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের তালিকায়

ফাইল ছবি
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের রবিবারের কার্যতালিকায় দেখা যায়, সোহেল ও স্বপ্নার ডেথ রেফারেন্স এবং জেল আপিল শুনানির জন্য ২২ নম্বরে রয়েছে।

গত ৭ জুন ঢাকার একটি আদালত রামিসা হত্যা মামলায় আসামি সোহেল ও স্বপ্নাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় দেয়। এরপর ৯ জুন দুজনের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী অধস্তন কোনো বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টে শুনানি সাপেক্ষে অনুমোদন লাগে। গত ১৪ জুন আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। পরবর্তীতে দুজনের পক্ষে শুনানি করতে স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) নিযুক্ত করা হয়।

উল্লখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে বাসার জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। ২১ মে আসামি সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশের পর ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য নিয়ে ওই দিন সাক্ষীদের জেরা শেষ হয়। পরদিন ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থণের শুনানির হয়। পরে ৪ জুন যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ৭ জুন রায় হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট

৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)

৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ জামাল হোসেন (২৫) ও আলী মতুর্জা (২৬)।

ডিবি মতিঝিল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ৩:২০ ঘটিকায় ডিবি মতিঝিল বিভাগের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারি জামাল হোসেন ও আলী মতুর্জাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত জামাল হোসেন নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ডিএমপি নিউজ

এলেক্স ইমন হত্যা মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার

এলেক্স ইমন হত্যা মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং নেতা ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে বিপুলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ১টি একনলা বন্দুক, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৭টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হল-মো. জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুল, হৃদয়, সুজন, সোহেল ওরফে চায়না সোহেল ও রাব্বি ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। 

তিনি বলেন, ভোররাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

র‌্যাব জানায়, গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরগ্যাং লিডার ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়। 

গ্রেফতারকৃদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জব্দকৃত আলামত এবং আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার ৫২ আসামি কারাগারে

১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার ৫২ আসামি কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ৫২ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন  আদালত। এছাড়া গ্রেফতার দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলে-যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহিন হোসেন ইমন, লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাব্বি ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি, রাজন মিয়া, মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক ও আশিক।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ৫২ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। 

জব্দ করা ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা উল্লেখ ছিল। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস

১৪ আগ, ২০২৬

হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোনো বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবে না– হাইকোর্ট

হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোনো বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবে না– হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোনো বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি রিভিশন আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে অধস্তন আদালতের দেওয়া পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।

গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস ও অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী ও অন্যান্য’ শীর্ষক মামলার প্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হয়। মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম। আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত এবং বিবাদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী।

মামলার ফ্যাক্ট: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে নিজ অর্থে ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। বাবার জীবদ্দশাতেই ছেলে সতীশ মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাসও মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সতীশের স্ত্রী সাবিত্রী বালা ১৯৯৬ সালে ওই জমি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করে দেন। কিন্তু এই বিক্রয় দলিলটি জাল ও প্রতারণামূলক দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে উত্তরাধিকার স্বত্ব চেয়ে দেওয়ানি মামলা করেন মৃত রামকান্তের মেয়ে শৌল বালা দাস।

সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি বাধ্যবাধকতা বিশ্লেষণ করে ২০০০ সালের ২২ জুন পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত শৌল বালার মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে তিনি চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে আপিল করলে ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সেটিও খারিজ হয়। অধস্তন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদীপক্ষ ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করে। ওই বছরই হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৯ জুলাই জারি করা সেই রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি চূড়ান্তভাবে বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

আাদালতের পর্যবেক্ষণ: রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট হিন্দু দায়ভাগা আইনের অধীনে বিধবা নারীর অধিকার ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী ওই সম্পত্তির অধিকার পান। যদিও এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা সীমিত, তবে তিনি তা কারও কাছে হস্তান্তর করলে যে কেউ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, কেবল তিনিই এই হস্তান্তরের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন, যিনি বিধবার মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হওয়ার আইনি যোগ্যতা রাখেন। সম্পত্তিতে যার বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনো আইনগত স্বার্থ নেই, তিনি ‘আইনগত প্রয়োজনে হস্তান্তর করা হয়নি’—এমন যুক্তি দেখিয়ে আদালতে মামলা করার এখতিয়ার রাখেন না।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: চ্যানেল ২৪

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা, স্ত্রীকে কারাদণ্ড

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা, স্ত্রীকে কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়েরের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মোসা. লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী মো. আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বাদী ও আসামির উপস্থিতিতে মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতের বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত লাভলী আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডে লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি মো. আরিফুল ইসলাম রতনের সঙ্গে লাভলী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৫ মার্চ স্বামী ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন- এমন অভিযোগ এনে সিংগাইর থানা আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করেন লাভলী।

মামলায় বাদীসহ মোট তিনজন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতের নজরে আনেন যে বাদীর মামলার আরজিতে উল্লেখ করা ঘটনার প্রায় সাত মাস আগেই অভিযুক্ত মো. আরিফুল ইসলাম রতন প্রবাসে চলে গিয়েছিলেন। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার অসঙ্গতি রয়েছে বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

পরে বাদীপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী লাভলী আক্তারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. আজিজ উল্লাহ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কহিনুর।

রায়ের পর লাভলী আক্তারের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডে লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে মানুষকে হয়রানি করার প্রবণতা কমাতে এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ। এমন দৃষ্টান্ত তৈরি হলে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট