সর্বশেষ

২৫ আগ, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও কর্মকর্তার নামে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা, আসামি রিমান্ডে

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও কর্মকর্তার নামে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা, আসামি রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবারের সদস্য ও সহকারী একান্ত সচিব এর নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে বনানী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কাকন রানা নামে এক আসামিকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির সিটিটিসি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. বিপুল হোসেন। শুনানি। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির সিটিটিসি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. বিপুল হোসেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার কাকন রানা প্রাথমিকভাবে ভুয়া আইডি খোলার কথা স্বীকার করেছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য এবং তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে তৈরি একাধিক ফেক ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে। 

অপরাধের আসল উদ্দেশ্য উদঘাটন, সহযোগী বা অপরাধ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ও সিমকার্ড উদ্ধারে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, একটি অজ্ঞাতনামা চক্র এসব ভুয়া ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করে করেছিল। উক্ত আইডিগুলো থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বার্তা পাঠিয়ে নানা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সম্মানহানি, ব্ল্যাকমেইলিং ও প্রতারণা করা হতো।

রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ই-ফ্রড ইনভেস্টিগেশন টিম রাজধানীর খিলক্ষেতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে এ ঘটনায় বনানী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৪.০৮.২০২৬)

২৪ আগ, ২০২৬

কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বিচারকরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বিচারকরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা ডিজিটাল বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বলে পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখার রেজিস্টার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে (অতঃপর সার্ভিস হিসেবে উল্লিখিত) কর্মরত সদস্যগণের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের সুদৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সার্ভিসের সদস্যগণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

নির্দেশনাসমূহের মধ্যে, সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাঁর নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না কিংবা এমন ধরনের ব্যবহার অনুমোদন করতে পারবেন না।

এতে আরও বলা হয়েছে, সার্ভিসের কোনো সদস্য বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাফতরিক তথ্য সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহার করতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিংয়ের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদন, প্রকাশ বা সরবরাহ করতে পারবেন না।

এ পরিপত্রের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরিপত্রটি নিচে দেওয়া হল:


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলা: ডিএনএ টেস্টে মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলা: ডিএনএ টেস্টে মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ

ছবি: সংগৃহীত 
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে পেয়েছে পুলিশ। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ হুবহু মিলে গেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি পুলিশ ও আদালতে পৌঁছায়। এতে আসামির পিতৃত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং খুব দ্রুত পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে শিশুটি ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে ডায়াগনস্টিক টেস্টে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। এই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে র‍্যাব-১৪ অভিযান চালিয়ে গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে আসামির ডিএনএ স্যাম্পল জমা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে তারা সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিআইডির দল নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠায়। সব আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ প্রতিবেদন যুক্ত হওয়ায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (২৪.০৮.২০২৬)

ভ্যানচালককে হত্যাচেষ্টা: গ্রেফতার দেখানো হলো নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে

ভ্যানচালককে হত্যাচেষ্টা: গ্রেফতার দেখানো হলো নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে

ছবি: সংগৃহীত 
২৪-এর জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার গুলশানে ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার হাওলাদারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে জব্বারকে হত্যার উদ্দেশে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া এবং এতে আর্থিক সহায়তার অভিযোগে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

আজ সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুস সালাম গত ১৮ অগাস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার। এদিন শুনানিকালে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে উপ-পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জব্বার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিদের গুলির নির্দেশ প্রদান ও আর্থিক সহায়তা করার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের শাহাজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলন চলছিল। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জব্বার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনকে আসামি করা হয়। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৪.০৮.২০২৬)

ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাদি হত্যার ঘটনায় গত ১৮ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মাজেদুল হক হেলাল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

উল্লখ্য, চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর ১৫ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় উদ্ধার করা পিস্তল থেকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া কার্তুজ ও গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া মাইক্রো-অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বরও শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ঢাকার এমআইএইচ আর্মস কোম্পানি ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর পিস্তলটি ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করে। পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি অস্ত্রটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। তদন্তকারীরা জানান, হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির মালিক মাজেদুল হক হেলাল। তবে তার অস্ত্রের লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট (২৪.০৮.২০২৬)

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি: নেপথ্যে তিন কারণ

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি: নেপথ্যে তিন কারণ

ছবি:সংগৃহীত 
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রাজধানীর রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার (২৩ আগস্ট) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মজিবুর রহমান এ আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। ডনকে রিমান্ডে নিতে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

প্রথম কারণ: মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ: মামলার এজাহারনামীয় গ্রেপ্তারকৃত আসামি আশরাফুল হক ডন অত্যন্ত সুচতুর ও ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তৃতীয় কারণ: মামলার এজাহারনামীয় গ্রেপ্তারকৃত আসামি আশরাফুল হক ডন বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে কী কারণে এবং কার ইন্ধনে বিদেশে পলায়ন করছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লখ্য, গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। একই দিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন।কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪ (২৪.০৭.২০২৬)

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায় দেয়া বিচারকের ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ হাইকোর্টের

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায় দেয়া বিচারকের ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় দেয়া বিচারককে বিচারিক ক্ষমতা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট)হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এ রায়ে ১৬ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৪ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন 

উল্লখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নুসরাত। এ ঘটনা তখন দেশ জুড়ে তোলপাড় হয়। ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। তবে সোমবার (২৪ আগস্ট) উচ্চ আদালত ১৬ জন আসামিকে ফাঁসির দণ্ডের রায়কে বাড়াবাড়ি অ্যাখ্যা দেন। একই সঙ্গে রায় দেয়া বিচারক মামুনুর রশীদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেয়ারও নির্দেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: গণমাধ্যমের প্রদত্ত আইনজীবীদের ব্রিফিং