সর্বশেষ

২৯ জুল, ২০২৬

নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 
নির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে শ্যোন অ্যারেস্ট, গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রুল চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশিষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ কাউকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে আদেশ দেন। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে রুলও জারি করেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগ আজ হাইকোর্টের রুলটি চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকতো না। তিনি জানান, সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন আদালত।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ গণমাধ্যমে প্রচারিত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎকার ও সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট।


বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

ছবিঃ সংগৃহীত 
বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একই সময়ে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়, বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার আয়োজনের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এতে উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জনস্বার্থে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মাইকিং, মিছিল, স্লোগান, পিকেটিং, যন্ত্রের মাধ্যমে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করতে পারে—এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ সমকাল 

জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি জরিমানা: জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি জরিমানা: জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবিঃ সংগৃহীত 
আপিল বিভাগে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে মামলা করায় জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। এক মাসের মধ্যে এই টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই টাকা আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় ব্যয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি একই বিষয়ে আগে হাইকোর্টে রিট করে আদেশ পেলেও, সেই আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেছিলেন। এরপরও তারা অধস্তন আদালতে নতুন মামলা করে এবং হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা চাইতে গিয়ে আগের রিট, আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ ও চলমান কার্যক্রমের তথ্য গোপন করেন

তিনি আরও বলেন, আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদেশ নেওয়ার চেষ্টা করা আদালতের প্রতি প্রতারণার শামিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। আদালতে রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান, আগের মামলার তথ্য তাদের জানানো হয়নি।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আদালতের প্রতি এমন প্রতারণার জন্য দৃষ্টান্তমূলক অর্থদণ্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে এক মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অর্থ জুলাই গণআন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।

তিনি বলেন, এই আদেশ আদালতের প্রতি অসততা ও তথ্য গোপনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আদালতের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন।

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ গণমাধ্যমে দেওয়া অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎকার ও সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট। 

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সরোয়ার আলমগীরের যোগ দিতে বাধা নেই: আপিল বিভাগের আদেশ

সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সরোয়ার আলমগীরের যোগ দিতে বাধা নেই: আপিল বিভাগের আদেশ

ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগ। বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। জামায়াত প্রার্থী চাইলে নিয়মিত আপিল করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

উল্লখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। হাইকোর্ট প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিলে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সরোয়ার অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত ছিল। সরোয়ারের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষিত হয়। হাইকোর্টের রায়ের পর চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে ৯ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। সেদিন সন্ধ্যায় সরোয়ার সংসদ সদস্যের শপথ নেন। এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ১২ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন। একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের করা ওই আবেদনে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়া থেকে সরোয়ারকে বিরত রাখার আরজিও ছিল।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: গণমাধ্যমে প্রচারিত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাতকার

অর্থঋণ আদালত আইনের নিলাম চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি রিট আবেদন করার সুযোগ নেই: হাইকোর্টের রায়

অর্থঋণ আদালত আইনের নিলাম চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি রিট আবেদন করার সুযোগ নেই: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর অধীনে ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত নিলাম প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি রিট করার কোনও সুযোগ নেই বলে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুলাই) এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি থেকে হাইকোর্টের এ পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে জানা গেছে। গত ১৬ জুলাই বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এ মামলায় আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান। ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জোর্তিময় বড়ুয়া। অন্য দুই বিবাদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান কিশোর।

রায়ে আদালত বলেন, ‘‘অর্থঋণ আদালত আইনের ১২(৩) ধারার অধীন শুরু হওয়া নিলাম প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়েরের আইনি সুযোগ নেই—বিবাদীপক্ষের এমন যুক্তি গ্রহণ করে ইস্যুকৃত রুল এবং দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল ও প্রত্যাহার করেছেন উচ্চ আদালত।

রায়ে আদালত বলেছেন, ‘‘নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হয়ে ক্রেতার নামে দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হলে তাতে ক্রেতার চূড়ান্ত স্বত্ব তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনি সময়সীমা পার হওয়ার পর রিট আবেদনের মাধ্যমে সেই নিলাম বাতিল বা সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই।’’

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে একটি ব্যাংক থেকে রিট আবেদনকারী এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল ৩০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বকেয়া পরিশোধ না করায় পাওনা দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৫ টাকা। ঋণ আদায়ে ব্যাংক ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিলামের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকায় উক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং ২০২২ সালের জুন মাসে তাদের নামে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি ও খতিয়ানে নামজারি সম্পন্ন হয়।

এরপর এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল সম্পত্তির হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত শর্ত সাপেক্ষে রুল জারি ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে শর্ত ছিল—৯০ দিনের মধ্যে পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় রুল ও স্থগিতাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু রিটকারী পুরো বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। এরপর আদালত সে রিট আবেদন খারিজ করে রায় দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ঢাকা পোস্ট 

২৮ জুল, ২০২৬

সাত বছরের শিশু হত্যা মামলায় চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যুদণ্ড

সাত বছরের শিশু হত্যা মামলায় চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রামে শ্বাসরোধ করে ৭ বছরের শিশুকে হত্যার দায়ে ঘটনার ১০ বছর পরে মো. আল আমিন নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় অপরাধের আলামত গোপন ও লাশ সরিয়ে ফেলার অপরাধে তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নিশাদুজ্জামান এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আল আমিন কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার কারপাশা পুতিহারা এলাকার মৃত জিন্নাত আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শহীদুল ইসলাম৷  

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে নগরের হালিশহর থানাধীন গলিঢিপাপাড়া টোল রোড এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশু মো. মাহফুজকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে তার মরদেহ পাশের বেড়িবাঁধের খালে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিশু মাহফুজের বাবা মো. মাহাবুব হালিশহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে ২৭ জুলাই, সোমবার, বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। আবদুল্লাহ আল মামুন গনমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্ত চান তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করবেন।

উল্লখ্য, রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন বলা হয়, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া  ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে 'মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে', প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

এছাড়া ‘এম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ১। মামলা সংক্রান্ত তথ্য- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট৷ ২। অন্যান্য তথ্য জাতীয় কতিপয় পত্রিকাসহ  বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম