সর্বশেষ

১৫ জুল, ২০২৬

গুলশানে অবৈধভাবে বাড়ি দখল, নাসা চেয়ারম্যানের রেজিস্ট্রি অবৈধ ঘোষণা আপিল বিভাগের

গুলশানে অবৈধভাবে বাড়ি দখল, নাসা চেয়ারম্যানের রেজিস্ট্রি অবৈধ ঘোষণা আপিল বিভাগের


ছবি: সংগৃহীত 

জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে গুলশানের একটি বাড়ি দখলের বহুল আলোচিত মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে করা সম্পত্তির রেজিস্ট্রি এবং পরবর্তী সব হস্তান্তর ও নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ রায়ে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। সোমবার (১৩ জুলাই) আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশানের সিডব্লিউএন (নর্থ) এলাকার একটি বাড়ি বন্ধক রেখে এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশন অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। পরে ঋণ খেলাপি হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করে সম্পত্তি ছাড়িয়ে নেওয়ার আবেদন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীসময়ে একটি ভুয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দেখিয়ে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করা হয়। 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, আপিল বিভাগে মামলা বিচারাধীন থাকাকালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল কবির খানকে গুম করে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। পরে দেশে ফিরে তিনি গুম কমিশনে অভিযোগ করেন এবং জোরপূর্বক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরে রিভিউ আবেদন করেন। সেই আবেদন গ্রহণ করে পুনরায় শুনানির পর আপিল বিভাগ তার আপিল মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে ভুয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), জাল স্বাক্ষর ও অসত্য তথ্যের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এসব বিবেচনায় আপিল বিভাগ সম্পত্তির মূল হস্তান্তরসহ পরবর্তী সব নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে প্রকৃত মালিকের সম্পত্তি ফিরে পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: প্রথম আলো, জাগো নিউজ

‘বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়’—বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম

‘বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়’—বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম

ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি আজ বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, কিন্তু ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়। সংবিধানের প্রতি আমার আনুগত্য, আইনের শাসনের প্রতি আমার বিশ্বাস এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রের প্রতি আমার অঙ্গীকার আজীবন অক্ষুণ্ণ থাকবে।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে শেষ কর্মদিবসে দেওয়া বিদায়ী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন।

বিদায়ী বক্তব্যে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে দুই দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি অবসর নিচ্ছেন। তবে এটিকে তিনি শুধু বিচারিক জীবনের সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং আইনাঙ্গনে চার দশকেরও বেশি সময়ের পথচলার একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখেন।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ কেবল বিচারক বা আইনজীবীদের নয়; এটি সবার প্রতিষ্ঠান। বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিচার বিভাগের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের কল্যাণে বার ও বেঞ্চ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বিচারকের পদ থেকে অবসর নেওয়া গেলেও ন্যায়বিচারের আদর্শ থেকে অবসর নেওয়া যায় না। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, ততদিন দেশের কল্যাণে, বিশেষ করে বিচার বিভাগের উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করবেন।’

নবীন আইনজ্ঞদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একজন আইনজ্ঞের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সততা, এরপর চরিত্র এবং তারপর অধ্যয়ন। আইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই নিয়মিত সংবিধান, আইন, দেশি-বিদেশি রায় ও বিচারতত্ত্ব অধ্যয়ন করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইনেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’

বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মামলার জট কমানো, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও সেবামুখী করা এখন সময়ের দাবি। শুধু বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই হবে না, জনগণের কাছে তা দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা, আর সেই আস্থা রক্ষা করাই সর্বোচ্চ দায়িত্ব।’

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিচক্ষণভাবে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিচার বিভাগের দক্ষতা বাড়াবে, মানুষের ভোগান্তি কমাবে এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ করবে।’

জেলা পর্যায়ের বিচারকদের উদ্দেশে তিনি সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা জয় করে নির্ভয়ে ন্যায়ের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, নতুন প্রজন্মের বিচারকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বক্তব্যের শেষাংশে আলেকজান্ডার হ্যামিল্টনের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বিচার বিভাগের প্রকৃত শক্তি বলপ্রয়োগে নয়; বরং বিচারবোধ, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থায় নিহিত।’ এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতার প্রতি নয়; তার আনুগত্য সংবিধান, আইন এবং নিজের বিবেকের প্রতি।’ 


বিডিএলপিবি/এমএম

আইনাঙ্গনে শূন্যতা বিরাজ করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

আইনাঙ্গনে শূন্যতা বিরাজ করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবিঃ সংগৃহীত 
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, অভিজ্ঞ বিচারপতিরা অবসরে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া আমাদের অনেক সিনিয়র আইনজীবী মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের মাঝ থেকে একেবারে হারিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে বিচার বিভাগে, আইনাঙ্গনে শূন্যতা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বিচারপতি টিএইচ খান সর্বশেষ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। 

উনারা যে মানের আইনজীবী ছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই মানের আইনজীবী আমরা তৈরি করতে পারছি না। এখনকার তরুণ আইনজীবীদের মধ্যে লেখাপড়া অধ্যাবসায়ের বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই আইন অঙ্গনে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হবে। আমাদের সময় এসেছে এই শূন্যতা পূরণ করে এখনই আমাদের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

ব্যারিস্টার কাজল বলেন,বার কাউন্সিলে আমরা অতি সম্প্রতি যে পরীক্ষা নিয়েছি, সেখানে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে মেধাবীদেরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছি। এই পেশায় যদি সততা, অধ্যবসায় না থাকে তাহলে এই পেশায় কেউ ভালো করতে পারে না। সবাই কেমন যেন শর্টকার্ট রাস্তায় অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়। জ্ঞান অর্জন করতে চায় না। আমাদের প্রয়োজন জ্ঞান অর্জন করা। 

এসময় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের সময় এসেছে আগামী দিনের প্রজন্মকে একটা সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী আইনজীবী সমাজ গড়ে তোলার জন্যে, বিচারকদের গড়ে তোলার জন্যে আমাদের এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি যখন আইন পেশার শুরুতে যে সমস্ত বিচারপতিদের সামনে দাঁড়িয়ে মামলা করতাম আজকে সে ধরনের, সেই মানের নীতি-নৈতিকতার বিচারপতিদের বড্ড অভাব। বার এবং বেঞ্চে আইনজীবীদের মধ্যে এবং বিচারকদের মধ্যে এই যে মেধার যে ঘাটতি রয়েছে, এই মেধার ঘাটতিটাকে কাটিয়ে উঠার জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিডিএলপিবি/এমএম


১৪ জুল, ২০২৬

চিকিৎসক ধীপ্রার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ

চিকিৎসক ধীপ্রার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে— ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ময়নাতদন্ত অপরিহার্য বলে আদালত উল্লেখ করেন।

আদেশে আরও বলা হয়, ধীপ্রার মৃত্যুর পরে ন্যায়বিচারের পথ বাধাগ্রস্ত করতে ময়নাতদন্ত ছাড়া ৫ জুন দ্রুত রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান আদালতের কাছে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং পরবর্তীতে ধর্মীয় বিধান অনুসারে পুনরায় দাফনের অনুমতি চান।

আদালত আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৭৬(২) ধারার ক্ষমতাবলে আবেদনটি মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সিভিল সার্জন, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যু ঘটে ৪ জুন। পরবর্তীতে তার স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীরা দাবি করেছেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রচারিত 'কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট'-এর ব্যাখায় অসঙ্গতি রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীপ্রা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি টানা তিন দিন একটি কক্ষে আটক ছিলেন এবং যথেষ্ট খাবারও পাননি। মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা লিখেছিলেন, তাতে তার ওপর চলা নির্যাতনের কথা উল্লেখ ছিল বলেও মামলায় বলা হয়েছে।

এ ঘটনার পর গত ১৬ জুন নিহত চিকিৎসকের স্বজন মো. মশিউর রহমান শাহ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩, ১৯৭, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা, শ্বশুরের জামাতা এবং ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট 'ইয়ার্কি'র সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং মামলার তদন্তে নতুন তথ্য-উপাত্ত সামনে আসতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু-কোমর পানি, ড্যাপ বাস্তবায়নে লিগ্যাল নোটিশ

সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু-কোমর পানি, ড্যাপ বাস্তবায়নে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়নে রাজউক প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সরকারের দুই সচিব ও রাজউক চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এক মাসের মধ্যে ড্যাপ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করা হবে বলে নোটিশে তিনি উল্লেখ করেছেন। 

রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান।

এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর পরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ড্যাপ প্রণয়ন করে। কিন্তু এই মাস্টারপ্ল্যান আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বাড়ছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী ইলিয়াস আলী বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে যে পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা জানতেই মূলত এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে হাইকোর্টে রিট করে রুল চাওয়া হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

ছবি: সংগৃহীত 

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা লেনদেনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল’ পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়। নতুন এই সংশোধনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে সরাসরি মাদক উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু রয়েছে। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে এবার আইনে নতুন ধারা যুক্ত করা হলো।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রচার, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ বা মধ্যস্থতা করা এখন থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-ওয়ালেট এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল সম্পদের ব্যবহারও শাস্তিমূলক অপরাধের আওতায় পড়বে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান। তবে এই অপরাধ যদি কোনো আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ঘটে, সেক্ষেত্রে আসামিদের যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে।

ডিজিটাল অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতেও এই বিলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠন করতে পারবে এবং তাদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রেখে মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধানও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

অ্যাকাউন্টে ৯ কোটির অধিক টাকা লেনদেন: হরিদাস চন্দ্র ৪ দিনের রিমান্ডে

অ্যাকাউন্টে ৯ কোটির অধিক টাকা লেনদেন: হরিদাস চন্দ্র ৪ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণ করতে চেয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা সেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেয়। আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আদালতে বলেন, হরিদাস চন্দ্রের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তাদের ভাষ্য, হরিদাস একটি মন্দির পরিচালনা করেন এবং ভক্তদের অনুদানের অর্থই তার হিসাবে জমা হয়েছে। তারা রিমান্ডের পরিবর্তে কারাগারে রেখেই জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।

শুনানিতে বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র বলেন, “আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নেই।” তিনি আরও বলেন, “ভক্তদের দেওয়া অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে।”

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্রসহ সংশ্লিষ্টরা হুন্ডি এবং দেশি, বিদেশি মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে মূর্তির অর্থায়ন, জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের পর গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।


বিডিএলপিবি/এমএম