সর্বশেষ

২৫ আগ, ২০২৬

সিইও নির্যাতন মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

সিইও নির্যাতন মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত পাঁচশত টাকার মুচলেকায় এই জামিন আদেশ দেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. সজিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম ফরমানুল ইসলাম। পরে মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এতে আব্দুর রউফ তালুকদারসহ মোট ৬ জনকে অভিযুক্ত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রধান আসামি আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, সালমান এফ রহমান, মো. মনিরুল ইসলাম খান ও খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জামিনে আছেন। অপর আসামি সাজ্জাদ হোসেন পলাতক রয়েছেন।

মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিআইএফএফএলের সিইও থাকাকালে এস এম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপুল অঙ্কের ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার চাপ দিতে থাকেন। সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন তিস্তা সোলার প্রকল্পের জন্য প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এই ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবে সেই সময় রাজি হননি সিইও ফরমানুল ইসলাম। এরপর তার ওপর আরও চাপ তৈরি করা হয়। সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগের আগাম নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও করা হয় মামলায়।

আরও বলা হয়, বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য জামানত ছাড়াই শত কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন জটিলতা থাকায় তাতে সম্মতি দেননি বিআইএফএফএলের তৎকালীন সিইও।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের ৮০তম বোর্ড সভা চলাকালে চাহিদামতো ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ফরমানুল ইসলামের ওপর চড়াও হন আসামিরা। একপর্যায়ে তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনের সিম বন্ধ করে দেওয়া, ই-মেইল ব্যবহারে বাধা দেওয়া এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো (২৪.০৮.২০২৬)

ইন্টিমেশন রেজিষ্টেশন প্রক্রিয়া গ্রহণ ও প্রেরণ আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে করতে হবে: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞপ্তি

ইন্টিমেশন রেজিষ্টেশন প্রক্রিয়া গ্রহণ ও প্রেরণ আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে করতে হবে: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞপ্তি

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক অ্যাডভোকেটশীপ পরীক্ষা নিম্ন আদালত (জজকোর্ট) ও হাইকোর্ট বিভাগে অনুমতি প্রাপ্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ইন্টিমেশন রেজিষ্টেশন প্রক্রিয়া গ্রহণ ও প্রেরণ আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে করতে হবে মর্মে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক অ্যাডভোকেটশীপ পরীক্ষা নিম্ন আদালত (জজকোর্ট) ও হাইকোর্ট বিভাগে অনুমতি প্রাপ্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে রেজিষ্টেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সমিতির কার্যনিবাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইন্টিমেশন রেজিষ্টেশন প্রক্রিয়া সমিতির মাধ্যমে গ্রহণ ও প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যে সকল ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল এল. বি (অর্নাস/পাসকোর্স) সম্পন্ন করেছেন এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক নিম্ন আদালত (জজকোর্ট) এবং হাইকোর্ট বিভাগে অনুমতি প্রাপ্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রত্যেককে নিম্ন আদালতের ইন্টিমেশন প্রক্রিয়া চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অধীনে সম্পূর্ণ করতে হবে।"

এতে আরো বলা হয়, "উক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রদান পরবর্তীতে কোন দোকান/ব্যক্তিকে ইন্টিমেশন সংক্রান্ত কাজ হইতে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া গেল। ইন্টিমেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সমিতির লাইব্রেরী কার্যালয়ে পাওয়া যাবে।"


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞপ্তি (২৪.০৮.২০২৬)

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও কর্মকর্তার নামে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা, আসামি রিমান্ডে

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও কর্মকর্তার নামে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা, আসামি রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবারের সদস্য ও সহকারী একান্ত সচিব এর নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে বনানী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কাকন রানা নামে এক আসামিকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির সিটিটিসি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. বিপুল হোসেন। শুনানি। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপির সিটিটিসি সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. বিপুল হোসেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার কাকন রানা প্রাথমিকভাবে ভুয়া আইডি খোলার কথা স্বীকার করেছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য এবং তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে তৈরি একাধিক ফেক ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে। 

অপরাধের আসল উদ্দেশ্য উদঘাটন, সহযোগী বা অপরাধ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ও সিমকার্ড উদ্ধারে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, একটি অজ্ঞাতনামা চক্র এসব ভুয়া ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করে করেছিল। উক্ত আইডিগুলো থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বার্তা পাঠিয়ে নানা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সম্মানহানি, ব্ল্যাকমেইলিং ও প্রতারণা করা হতো।

রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ই-ফ্রড ইনভেস্টিগেশন টিম রাজধানীর খিলক্ষেতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে এ ঘটনায় বনানী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৪.০৮.২০২৬)

২৪ আগ, ২০২৬

কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বিচারকরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বিচারকরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা প্রত্যক্ষ বা ডিজিটাল বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত হতে পারবেন না বলে পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখার রেজিস্টার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

পরিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে (অতঃপর সার্ভিস হিসেবে উল্লিখিত) কর্মরত সদস্যগণের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের সুদৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সার্ভিসের সদস্যগণের জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। 

নির্দেশনাসমূহের মধ্যে, সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তাঁর নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না কিংবা এমন ধরনের ব্যবহার অনুমোদন করতে পারবেন না।

এতে আরও বলা হয়েছে, সার্ভিসের কোনো সদস্য বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রাপ্ত কোনো গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাফতরিক তথ্য সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহার করতে পারবেন না। সার্ভিসের কোনো সদস্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোচিংয়ের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদন, প্রকাশ বা সরবরাহ করতে পারবেন না।

এ পরিপত্রের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরিপত্রটি নিচে দেওয়া হল:


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলা: ডিএনএ টেস্টে মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলা: ডিএনএ টেস্টে মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ

ছবি: সংগৃহীত 
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আলোচিত মামলায় প্রধান আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হাতে পেয়েছে পুলিশ। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ হুবহু মিলে গেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি পুলিশ ও আদালতে পৌঁছায়। এতে আসামির পিতৃত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং খুব দ্রুত পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে শিশুটি ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে ডায়াগনস্টিক টেস্টে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। এই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে র‍্যাব-১৪ অভিযান চালিয়ে গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে আসামির ডিএনএ স্যাম্পল জমা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। বর্তমানে তারা সিলেটের একটি সেফহোমে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিআইডির দল নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠায়। সব আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ প্রতিবেদন যুক্ত হওয়ায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (২৪.০৮.২০২৬)

ভ্যানচালককে হত্যাচেষ্টা: গ্রেফতার দেখানো হলো নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে

ভ্যানচালককে হত্যাচেষ্টা: গ্রেফতার দেখানো হলো নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে

ছবি: সংগৃহীত 
২৪-এর জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার গুলশানে ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার হাওলাদারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে জব্বারকে হত্যার উদ্দেশে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া এবং এতে আর্থিক সহায়তার অভিযোগে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

আজ সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুস সালাম গত ১৮ অগাস্ট তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার। এদিন শুনানিকালে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে উপ-পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জব্বার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আসামিদের গুলির নির্দেশ প্রদান ও আর্থিক সহায়তা করার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গুলশানের শাহাজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলন চলছিল। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জব্বার আলী হাওলাদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনকে আসামি করা হয়। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৪.০৮.২০২৬)

ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

ওসমান হাদি হত্যা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাদি হত্যার ঘটনায় গত ১৮ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মাজেদুল হক হেলাল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

উল্লখ্য, চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর ১৫ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় উদ্ধার করা পিস্তল থেকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া কার্তুজ ও গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া মাইক্রো-অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বরও শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ঢাকার এমআইএইচ আর্মস কোম্পানি ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর পিস্তলটি ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করে। পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি অস্ত্রটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়। তদন্তকারীরা জানান, হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির মালিক মাজেদুল হক হেলাল। তবে তার অস্ত্রের লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট (২৪.০৮.২০২৬)