সর্বশেষ

২ মার্চ, ২০২৬

আইনজীবী তালিকাভুক্তির ফল ৩ মাসেও প্রকাশ না হওয়ায় মানসিক যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা

আইনজীবী তালিকাভুক্তির ফল ৩ মাসেও প্রকাশ না হওয়ায় মানসিক যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন নুসরাত জাহান। তাঁর ইচ্ছা আইনজীবী হবেন। এ জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির কঠিন প্রতিযোতিমূলক পরীক্ষার এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

নুসরাত জাহান বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর মাসে মৌখিক পরীক্ষার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। কবে প্রকাশ করবে, সেই তারিখও জানাচ্ছে না বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময়েও মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করায় একধরনের মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছি। আইন পেশায় প্রবেশের জন্য বার কাউন্সিলের সনদ অপরিহার্য হওয়ায় ফলাফল প্রকাশের এই দীর্ঘ বিলম্ব আমাদের কর্মজীবন শুরু, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা কেউ প্র্যাকটিস শুরু করতে পারছি না। আবার অন্য কোনো পেশাগত সিদ্ধান্তও নিতে পারছি না। ফলে জীবন যেন এক অনিশ্চিত অপেক্ষার মধ্যে আটকে আছে।’

চবির এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির পর পরীক্ষার সব ধাপ সম্পন্ন করেও ফলাফলের জন্য অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার ও মানসিক যন্ত্রণাদায়ক।’

নুসরাত আরও বলেন, ‘বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্টের সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন জবের ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগও সীমিত। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই, যেন দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হয় অথবা অন্তত ফলাফল প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়।’

একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স করা জাহিদ হাসান জানান, তিনিও মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। এতে তিনিও ভেঙে পড়েছেন। জাহিদ বলেন, ‘ফলাফলের অপেক্ষায় ঝুলে আছে আমার ক্যারিয়ার ও পরিবার। আজ দীর্ঘ তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। এই অনিশ্চয়তা আমাদের জীবনকে এক ভয়াবহ মানসিক চাপে ফেলে দিয়েছে। এমন বিলম্বের বিরূপ প্রভাব ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা কেউ শখের বশে আইন পড়িনি। পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন নিয়ে, সমাজে ন্যায়বিচারের অংশীদার হওয়ার আশায় এই পথে এসেছি। কিন্তু ফলাফল না থাকায় পেশাগতভাবে কোথাও দাঁড়াতে পারছি না। আমাদের ওপর সুবিচার করা হচ্ছে না। সংসারের খরচ, বাবা-মায়ের চিকিৎসা, ভাই-বোনের পড়াশোনা—সবই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।’

জাহিদ আরও বলেন, ‘ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে—এই বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। আমরা শুধু অপেক্ষা করছি, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। এই অপেক্ষা ধীরে ধীরে হতাশায় রূপ নিচ্ছে।’

জানা গেছে, এই হতাশা বা মানসিক যন্ত্রণা শুধু নুসরাত কিংবা জাহিদের নয়, মৌখিক পরীক্ষা দেওয়া প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী এই মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের দায়িত্ব, পেশাগত ভবিষ্যৎ ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রত্যাশা—সবকিছুই যেন আটকে আছে একটি ফলাফলের ওপর।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো এবং দীর্ঘ বিলম্ব তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁরা বিশেষ সুবিধা নয়, কেবল সময়মতো ফল প্রকাশের ন্যায্য অধিকার চান; যাতে দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেয়ে নতুন জীবনের পথে এগোতে পারেন। এটা তো চাকরি নয়। সরকারকে তো বেতন দিতে হচ্ছে না। তাহলে হাজার হাজার আইন শিক্ষার্থীকে কেন আটকে রাখা হচ্ছে!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সিফাত শারমিন বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আসলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর চায় দ্রুত তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হোক, যাতে তারা প্রফেশনাল লাইফে পদার্পণ করতে পারে। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস তাদের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টিতে নজর দেওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট এ এস এম বদরুল আনোয়ার জানান, আজ সোমবার বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যানের মা মারা যাওয়ার কারণে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে বার কাউন্সিলের নতুন এনরোলমেন্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের বিষয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, এটা ইলেকশনের পরে। এটা এখন হচ্ছে না। যেহেতু ইলেকশন সামনে এসে গেছে। ইলেকশনের কথা চিন্তা করে এখন হচ্ছে না, ইলেকশনের পরে।

আর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছুটিতে, এ জন্য সভা করা যাচ্ছে না। সভা করা গেলেই আইনজীবী তালিকাভুক্তির ফলাফল প্রকাশ করা হবে। কবে ফল প্রকাশ করা হবে—সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষা গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর শেষ হয়। এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৭ হাজার ৯১৭ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। আর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জুন এবং এমসিকিউ পরীক্ষা হয় ওই বছরের ২৫ এপ্রিল।

বার কাউন্সিল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার (জেলা ও দায়রা জজ) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রোল নম্বর অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা নিজস্ব প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, একাডেমিক সনদের মূল কপি এবং পাঁচটি দেওয়ানি ও পাঁচটি ফৌজদারি মামলার নোটবই বা কেস ডায়েরি নিয়ে ভাইভায় অংশ নেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাস পরও ফলাফল প্রকাশে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

ধানক্ষেত থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

ধানক্ষেত থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

ছবিঃ সংগৃহীত
রাজশাহীর কর্ণহার থানার ধরমপুর এলাকায় ঘাসের ক্ষেত থেকে আদিব নামের ১১ বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় তারাবির নামাজের পর থেকে আদিবকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা। সকালে এলাকাবাসী ও স্বজনরা তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

কর্ণহার থানা পুলিশ আদিবের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশের ধারণা, শিশুটির প্যান্টের বেল্ট দিয়ে তার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।


১ মার্চ, ২০২৬

কুষ্টিয়ার ডিসি প্রত্যাহার

কুষ্টিয়ার ডিসি প্রত্যাহার


ছবি: সংগৃহীত 

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো.ইকবাল হোসেনকে (ডিসি) প্রত্যাহার করেছে সরকার। রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রত্যাহার হওয়া উপ-সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনের প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই প্রত্যাহার আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে আগামীকাল সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০ টার সময় শহরের মজমপুরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে সর্বস্তরের সাধারণ ছাত্র-জনতা।

তাদের দাবি, বর্তমান জেলা প্রশাসকের জনবান্ধব ভূমিকার কারণে তারা এই বদলি মেনে নিতে পারছেন না। সরকার যাতে এই সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করে, সে জন্যই তারা রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ছবিঃ সংগৃহীত 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে সিআইএ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরার ওপর নজর রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে তারা।

প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইএর কাছে তথ্য আসে যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন খামেনিও। এমন তথ্য সিআইএর হাতে আসার পর হামলার সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। কারণ তারা বলে আসছিল যে, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। তারা মনে করে, প্রাপ্ত তথ্যের ফলে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ। তবে সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা।

মার্কিন গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়। বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল, বৈঠকে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

খবরে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী ইসরাইলের সময় অনুসারে ভোর ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তখন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘ পাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য সঠিক এবং সে অনুযায়ী ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর হামলা যে নিখুঁত ছিল সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে। হামলার পরপরই ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের দাবির ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারছিল না। ইরানের পক্ষ থেকেও একাধিকবার বলা হয়, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তীতে তেহরান খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার শাহাদাতের কথা স্বীকার করে।

সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে যেভাবে হত্যা করা হলো

সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে যেভাবে হত্যা করা হলো

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি রোববার সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চালানোর সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর। ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন।

শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল আল জাজিরা। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে গেছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি। এ ঘটনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।’

তিনি যোগ করেন, ‘‘যেমন আমি গত রাতে বলেছি, ‘এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!’ আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।‘ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ৭ দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত


ছবি: সংগৃহীত 

ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।  ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতা নিহত হয়েছেন।

এর আগে ইসরায়েলের  চ্যানেল-১২ এর আগে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। তিনি তার প্রাসাদের কমাউন্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ইরানি উদ্ধারকারীরা।

এদিকে শনিবার সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য বড় হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস পরবর্তীতে স্যাটেলাইটের একটি ছবি প্রকাশ করে। এতে দেখা গেছে খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬)। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করেন।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি তৈরি করা হয় এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ওপরে একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়। ৮৮ সদস্যের আলেমদের নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নেতা নির্বাচন করে।

খামেনির ক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নিরাপত্তা কাঠামোর আনুগত্য তার অবস্থানকে দৃঢ় করে রেখেছে।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি। তবে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন দাবি করে আসছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অতীতে খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হতে পারে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছিলেন, ‘খামেনি এভাবে টিকে থাকতে পারেন না।’ তার ভাষায়, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ চাইলে সরকার পরিবর্তন সম্ভব এবং সেটিই ‘সেরা পরিণতি’ হতে পারে। অতীতে তিনি খামেনিকে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। কৌশলগতভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর করা গেলে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

২৮ ফেব, ২০২৬

পাল্টাপাল্টি পোস্ট, পরকীয়ার গুঞ্জন— আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী?

পাল্টাপাল্টি পোস্ট, পরকীয়ার গুঞ্জন— আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী?


ছবিঃ সংগৃহীত

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাথ খান ইকরার আকস্মিক মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি দানা বেঁধেছে নানামুখী রহস্য। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিনেতা স্বামী যখন নেপালে শুটিংয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই স্ত্রীর এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে পারিবারিক কলহ এবং আলভীর এক সহশিল্পীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জনকে প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন নেটিজেনরা। মৃত্যুর আগে স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট সেই সন্দেহকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

কিন্তু এই ঘটনার সূত্রপাত এবং বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। বেশ কিছুদিন ধরেই কানাকানি চলছিল যে, তিথির সঙ্গে আলভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে; আর তা নিয়েই স্ত্রীর সঙ্গে অভিনেতার অশান্তি চলছিল। নেটিজেনদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে মৃত্যুর ঠিক আগের দিন করা আলভীর একটি ফেসবুক পোস্ট।

গত শুক্রবার তিথির জন্মদিন উপলক্ষে আলভী তার ভেরিফায়েড পেজে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দুজনকে একটি গামছায় জড়ানো অবস্থায় বেশ ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে হাসিমুখে দেখা যায়। ক্যাপশনে আলভী লেখেন, শুভ জন্মদিন নায়িকা। জীবনে আরও অনেকদূর যেতে হবে। তুমি আমার দেখা এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিশ্রমী কো-আর্টিস্ট ও পছন্দেরও। এছাড়াও গুঞ্জন রয়েছে, নেপালে শুটিংয়ের এই সফরে আলভীর সঙ্গে তিথিও অবস্থান করছেন। স্বামীর এমন প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এবং বন্দনা ইকরা মেনে নিতে পারেননি বলেই ধারণা করছেন অনেকে।