সর্বশেষ

৭ এপ্রি, ২০২৬

স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপি এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপি এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি'র সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএনডিপি(UNDP) এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। 

স্পীকারের সাথে এ সময় সাক্ষাৎ করেন ইউএনডিপি এর  উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে, সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সহকারী প্রোগ্রাম উপদেষ্টা গভর্ন্যান্স ড্রাগন পপোভিক এবং সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিষ্ট তানভীর মাহমুদ।

সাক্ষাৎকালে তারা ই-গভর্ন্যান্স, ই-পার্লামেন্ট ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিভিন্ন কর্মকান্ড, জাতীয় সংসদের অধিবেশন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ইউএনডিপি ও জাতীয় সংসদের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করতে হবে।ইউএনডিপি নতুন সংসদ-সদস্যদের জন্য ওরিয়েন্টেশন কোর্সের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব, কার্যাবলি এবং এখতিয়ারের বিষয় আলোচনায় সহযোগিতা করতে পারে। তিনি বলেন, সংসদ-সদস্যদের মধ্য হতে বিশেষ করে নারী সংসদ সদস্যগণের একটি প্রতিনিধিদল ইউএনডিপি'র সাথে দ্বিপাক্ষিক সফর বিনিময় করতে পারে।

স্পীকার বলেন, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল খুবই সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করছে। সরকার সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনে খুবই উদার ও সচেষ্ট।

তিনি বলেন, সংসদে ডিজিটাইজড লাইব্রেরি ব্যবস্থার প্রবর্তন, অধিবেশনকালীন দিনের কার্যসূচিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার, সংসদের নিজস্ব প্রিন্টিং ও প্রেস থাকা অত্যাবশ্যক।

ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, বর্তমান সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত। ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও জাতীয় সংসদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী। ইউএনডিপি’র সহযোগিতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

এসময় তারা চলমান জ্বালানি সংকট ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের মতামত বিনিময় করেন। এই পরিস্থিতিতে  ইউরোপের দেশগুলো যেমন- যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের নিরপেক্ষ অবস্থানের প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির সংসদ বিষয়ক ফোকাল পার্সন মাহমুদুল হাসানসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

ছবি সংগৃহীত 

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ডিবির একটি বিশেষ দল গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা হলো।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর খবরও ছড়িয়ে পড়ে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে টানা এক দশকেরও বেশি সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে তাকে আবারও স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

৫ এপ্রি, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে ড. আসিফ নজরুলের মতামত

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে ড. আসিফ নজরুলের মতামত


ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, পুরো আইন বাতিল করা ঠিক হয়নি। আজ প্রথম আলোর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে সদ্য সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

তাকে প্রশ্ন করা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ও জুলাই সনদে বিএনপি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এখন তাদের ভিন্ন অবস্থানের কারণ কী বলে মনে করেন? আপনাদের প্রণীত অধ্যাদেশে কোনো সমস্যা ছিল কি?

আসিফ নজরুল জবাবে বলেন,  বিচারক নিয়োগ–সংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল নিয়ে কিছু বিতর্ক ছিল, সেটি অস্বীকার করছি না। সংবিধানে যেখানে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু এর যৌক্তিকতা আইনটির প্রস্তাবনায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তারপরও এগুলো সংশোধনযোগ্য বিষয়, এ জন্য পুরো আইন বাতিল করা ঠিক হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হওয়াটা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হতাশ করেছে। এটি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এমনকি ২০২৪ সালের আদালতের রায়েও এটার নির্দেশনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এই আইনের অধীনে কিছু কাঠামোগত অগ্রগতি হয়েছে। জনবল নিয়োগ, বাজেট প্রস্তুতি, আলাদা কার্যালয় তৈরি—এসব প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।

কারও কারও আপত্তি ছিল অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে সুপ্রিম কোর্টে হস্তান্তর নিয়ে। কিন্তু আমরা তো তাৎক্ষণিকভাবে তা দিইনি। বলেছিলাম, সচিবালয় পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে ধাপে ধাপে হবে। ফলে এ রকম কোনো অজুহাতে পুরো আইন বাতিল করা হলে তা হতাশাজনক। তবে আমি এখনো আশা ছাড়তে চাই না। এখনই গ্রহণ না করা হলেও, এই আইনগুলো অদূর ভবিষ্যতে প্রণয়ন করার সুযোগ থাকবে। সরকারের উচিত, বিরোধী দলের চাপে বা জনগণের সমালোচনার মুখে নয়, নিজের উপলব্ধি থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া।

পিএসসির আবেদ আলীসহ তার সহযোগীদের ৫টি বিও অ্যাকাউন্টের শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ

পিএসসির আবেদ আলীসহ তার সহযোগীদের ৫টি বিও অ্যাকাউন্টের শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ

ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) আলোচিত প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির মূলহোতা ও পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ তার সহযোগীদের নামে থাকা পাঁচটি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টের শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে আবেদ আলীর নিজের নামে একটি, আবু সোলাইমান মো. সোহেলের নামে দুটি, জাহাঙ্গীর আলমের নামে একটি এবং মো. মাহবুবুর রহমানের নামে একটি বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সিআইডির আবেদন থেকে জানা যায়, মামলার আসামিরা একটি প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের সদস্য। সৈয়দ আবেদ আলী এই চক্রের মূল হোতা। এই চক্রটি ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করে আসছে। এর মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের টাকা দিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এই অবৈধ সম্পদ রক্ষা ও তদন্তের স্বার্থে মানি লন্ডারিং আইন ২০১২-এর ১৪ (১) ধারা অনুযায়ী তাদের পাঁচটি বিও অ্যাকাউন্টের শেয়ার অবরুদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।

৪ এপ্রি, ২০২৬

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে


ছবি: সংগৃহীত 

  • গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড : কার্যকর হচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ।
  • বাতিল হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ ৪ অধ্যাদেশ।
  • আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন।আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে কমিটির সিদ্ধান্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।


রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে।

গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপটি বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সংসদে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে গুম বিরোধী এই কঠোর আইনের প্রয়োগ আপাতত ঝুলে গেল।

কেন এই স্থগিতাদেশ? কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুম বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হচ্ছে না।

মৃত্যুদণ্ডের বিধান ও পটভূমি: বিগত সরকারের আমলে ঘটা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স বা গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। এতে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গুম বিরোধী আইনটি দ্রুত কার্যকর করা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির এই ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনটি বাতিল করা হয়নি বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি পরবর্তী অধিবেশনে বিল হিসেবে আসবে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ ৪ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাতিল হচ্ছে যেসব অধ্যাদেশ: কমিটির প্রতিবেদনে যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের (Repealed) প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪। ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার উদ্যোগের ভবিষ্যৎ: বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা ছিল। এছাড়া ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাতিলের মুখে পড়ল।

বিরোধীদের নোট অফ ডিসেন্ট: বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি অধ্যাদেশের ওপর ভিন্নমত (নোট অফ ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

সোমবার থেকে সংসদে উত্থাপন: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি দেব গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি দেব গ্রেপ্তার


ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি দেবকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বলুয়ার দিঘী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় তার অনুসারীরা বিক্ষোভে নেমে আদালত চত্বরে ভাঙচুর চালায় এবং কারাগারে নেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকার সামনে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র‍্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার পলাতক আসামি দেব কোতোয়ালী এলাকায় অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে সিটিটিসি

নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে সিটিটিসি

ছবি: সংগৃহীত 

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ০২.৩০ ঘটিকায় হবিগঞ্জ সদর থানা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে হেফাজতে নেয়। হেফাজতে নেওয়া শিশু শেরে বাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সাথে যোগাযোগ রয়েছে মর্মে জানা যায়।

সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, হেফাজতে নেওয়া শিশু অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয়। সে দাওলাতুল ইসলাম (আইএস) এর পক্ষে উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য নিয়োগ করত। এছাড়া বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল শেয়ার করত এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে জানা যায়। বিধি অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া শিশুকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।