সর্বশেষ

৩১ অক্টো, ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

কোলাজ ছবি 
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর আগে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এবার তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ জানান, উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে একই দিন সকালে তাহসিফের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে সাক্ষাৎ

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। ফুটেজে তাদের হাত মেলানোর পর পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা গেছে।

পরিবারকে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। পরে মোটরসাইকেল মেরামত শেষে একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে ওই রাতে তাদের অবস্থান ও যোগাযোগের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে তদন্তের আওতায় আসে।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে সেটি উদ্ধার করেন। পরে হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল উদ্ধার

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরদিন শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার দেওয়া এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরে পিবিআই তার বক্তব্যের অসংগতিসহ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সেগুলো নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছেলের মৃত্যু নিয়ে বাবার সন্দেহ

তাহসিফের মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। তাই নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এ ঘটনায় বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় এবার দীপকে গ্রেপ্তার করা হলো। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তিনি তুরাগ নদে পৌঁছালেন এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতি বেআইনি, এতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়: হাইকোর্ট

সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতি বেআইনি, এতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
বিভাগীয় তদন্তে সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দেওয়া এবং অভিযোগ উত্থাপনকারী কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসব প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ বেআইনি ঘোষণা করে একজন প্রকৌশলীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সরকারি মালিকানাধীন বা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো কোম্পানি কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক পর্যালোচনার এখতিয়ারের বাইরে চলে যায় না। কোনো প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করলে এবং তার সিদ্ধান্তে জনআইনের উপাদান বিদ্যমান থাকলে সেই সিদ্ধান্ত বিচারিক পর্যালোচনার আওতাভুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি উর্মী রহমান ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মো. মাহবুব কবির বনাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং ১৩৫০১/২০২৫ মামলায় দেওয়া এ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৫ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার পটভূমি

রিটকারী মো. মাহবুব কবির প্রথমে চুক্তিভিত্তিকভাবে বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেডে উপমহাব্যবস্থাপক (Deputy General Manager) হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি প্রধান প্রকৌশলী (Chief Engineer) হন এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থাপিত জেনারেটরের উৎপত্তির দেশ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে অবহেলা, অদক্ষতা ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্ত শেষে ২৩ জুন ২০২০ তারিখে তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট ২০২০ তারিখে তাঁর দায়ের করা আপিলও খারিজ করা হয়।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তিনি চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করেন। ১৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগ (Power Division) কোম্পানিকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। এ উদ্দেশ্যে গঠিত একটি কমিটি ১৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়। তবে পরবর্তী প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। পরে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে পুনর্বহাল করা সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

এ অবস্থায় চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ, আপিল খারিজের সিদ্ধান্ত এবং পুনর্বহালের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

১. সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির বিরুদ্ধেও রিট করা যায়

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেডের অধিকাংশ শেয়ারের মালিকানা সরকারের এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তাই কোনো কোম্পানি কোম্পানি আইনের অধীনে নিবন্ধিত হলেও তার কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তে জনআইনের উপাদান থাকলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারিক পর্যালোচনা সম্ভব।

বিশেষ করে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, আইনগত কর্তৃত্বের অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত আদালতের পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

২. সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন

আদালত দেখতে পান, তদন্ত কমিটি সাক্ষীদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করলেও রিটকারীকে তাঁদের জেরা করার কোনো সুযোগ দেয়নি। বিশেষ করে, রিটকারী এবং তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সাবুরের বক্তব্যের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা ছিল।

এ অবস্থায় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ না দেওয়ায় রিটকারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আদালত মনে করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, রিটকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনকারী তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর চাকরিচ্যুতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিচালনা পর্ষদের সভায়ও অংশগ্রহণ করেন। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।

আদালতের মতে, অভিযোগ উত্থাপনকারী ব্যক্তি নিজেই যদি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

ফলে ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের ভিত্তিতে দেওয়া চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ আইনগতভাবে বহাল থাকতে পারে না।

৩. আপিল খারিজের সিদ্ধান্তও বেআইনি

বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড এমপ্লয়িজ সার্ভিস রুলস, ২০১৬-এর বিধি ৭.১০(ই) অনুযায়ী, আপিল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল শাস্তির ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত প্রমাণ যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না এবং আরোপিত শাস্তি যথাযথ, অপর্যাপ্ত নাকি অতিরিক্ত—তা পর্যালোচনা করা।

কিন্তু আদালত দেখতে পান, আপিল কর্তৃপক্ষ রিটকারীর উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগ ও যুক্তিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই আপিল খারিজ করে। বরং তদন্তের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে—এমন বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

তাই আপিল খারিজের আদেশকেও বেআইনি ঘোষণা করেন আদালত।

৪. কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ায় রিট মামলা অগ্রহণযোগ্য হয় না

চাকরি থেকে অপসারণের পর উল্লেখযোগ্য সময় অতিবাহিত হওয়া এবং রিটকারীর কিছু চাকরিসংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

তবে আদালত বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে পরবর্তীতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছিল। সেই পুনর্বিবেচনার পর ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নেওয়া সিদ্ধান্ত রিট দায়েরের জন্য নতুন ও তাৎক্ষণিক কারণের (Fresh Cause of Action) সৃষ্টি করে।

তাই কেবল বিলম্বের যুক্তিতে রিট আবেদন অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা যায় না। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনা না করে বিলম্বের বিষয়টি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়।

৫. চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পুনর্বহালের পথে স্বয়ংক্রিয় বাধা নয়

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, কোম্পানির চাকরি বিধিমালায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান থাকলেও নিয়োগের চুক্তিভিত্তিক প্রকৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহালের সম্ভাবনা নাকচ করে না।

সার্ভিস রুলসের বিধি ৭.৪(বি)-তে চাকরি থেকে অপসারণ (Removal) ও চাকরিচ্যুতি (Dismissal)-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিধি ৭.১১-তে চাকরিতে পুনর্বহালের বিধান রয়েছে।

রিটকারীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। যেহেতু আদালত অপসারণের আদেশকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছেন, তাই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কিংবা পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বাধা হিসেবে গ্রহণ করেননি।

আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট বিভাগ রুল অ্যাবসলিউট (Rule Absolute) ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত নিম্নোক্ত আদেশ ও সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করেন—

১. ২৩ জুন ২০২০ তারিখে জারি করা চাকরি থেকে অপসারণের আদেশ;

২. ৫ আগস্ট ২০২০ তারিখে রিটকারীর আপিল খারিজের আদেশ; এবং

৩. ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল না করার সিদ্ধান্ত।

আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রিটকারীকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। মামলায় কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি।

রায়ের আইনগত গুরুত্ব

এই রায়ে বিভাগীয় তদন্তে অভিযুক্ত কর্মচারীর আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। বিশেষ করে, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ না দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির লঙ্ঘন।

একই সঙ্গে অভিযোগ উত্থাপনকারী ব্যক্তি যদি অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, তাহলে সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

রায়ে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, আপিল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ ও প্রমাণ স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত দিতে হবে। সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির সিদ্ধান্তেও জনআইনের উপাদান থাকলে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারিক পর্যালোচনার আওতাভুক্ত হতে পারে।

সর্বোপরি, কোনো কর্মচারীর নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক হলেই তাঁর বেআইনি অপসারণের বিরুদ্ধে পুনর্বহালের প্রতিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় না।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম


শুধু নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য পুরোনো কর নির্ধারণ (Tax Assessment) পুনরায় খোলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

শুধু নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য পুরোনো কর নির্ধারণ (Tax Assessment) পুনরায় খোলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পক্ষে দায়ের করা রিটে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় কোনো করদাতার সম্পন্ন ও চূড়ান্ত কর নির্ধারণ কেবল আয় বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের উৎস যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পুনরায় খোলার ক্ষমতা কর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সর্দার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রিট পিটিশন নং ৬২৪৯/২০২৫-এর রায় দেন। মামলাটি ছিল জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বনাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অন্যান্য। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় কয়েকটি নোটিশ প্রদান করে। এসব নোটিশে ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ এবং ২০২০-২০২১ করবর্ষের সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, প্রতিষ্ঠানের আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে আয়কর রিটার্ন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়।

এরপর ওই নোটিশগুলোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রতিষ্ঠানটি। রুল জারির সময় আদালত নোটিশগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারার বিধান পর্যালোচনা করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকতে হবে যে, কোনো করদাতা সংশ্লিষ্ট করবর্ষে আইন অনুযায়ী প্রদেয় কর পরিশোধ এড়িয়ে গেছেন।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তবে আদালত স্পষ্ট করেন, সম্পন্ন কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বা আয়ের উৎস যাচাই করার উদ্দেশ্যে ২১২ ধারার অধীনে পুনরায় কর নির্ধারণ খোলার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

আদালতের মতে, আলোচ্য মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতীতের সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে আইনের ২১২ ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

আদালতের আদেশ

এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করেন (Rule made absolute)।

একই সঙ্গে ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জারি করা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারার অধীন নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট চিঠিগুলো ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ ও ২০২০-২০২১ করবর্ষের ক্ষেত্রে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করেন।

আইনি শিক্ষা

এই রায় থেকে প্রতীয়মান হয়, কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আইন দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো করদাতার সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে কেবল নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট নয়; আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় নির্ধারিত আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ; Writ Petition No. 6249 of 2025, রায় ও আদেশের ৬ পৃষ্ঠার নথি।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

৩০ অক্টো, ২০২৬

পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলী চাথাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। ২০২৪ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইমান মাজারি পাকিস্তানের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারির মেয়ে। শিরিন মাজারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সময় ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বহরের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেন ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল জিরো পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে তাঁরা উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে যথাক্রমে আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

আগের মামলার সাজা ও পুনরায় গ্রেপ্তার

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পৃথক মামলায় ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথাকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই নতুন মামলায় তাঁদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, দম্পতিকে ন্যায়সংগত ও উন্মুক্ত বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে বিচার পরিচালনা এবং শুনানির সময় তাঁদের খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে রাখার অভিযোগও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইমান মাজারির মা শিরিন মাজারিও বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দম্পতিকে নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কিছু নথিও সরবরাহ করা হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি

ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথা পাকিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তাঁরা কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলনকর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষেও আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

তাঁদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ফৌজদারি মামলা এবং সর্বশেষ ১০ বছরের কারাদণ্ড পাকিস্তানে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে

সূত্র: যুগান্তর, বিবিসি, ডন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল, রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল, রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
পুলিশের চাকরিতে নিয়োজিত থেকেও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির নথিতে দেখা গেছে, তিনি ২০০২ সাল থেকে সংগঠনটির সদস্য। তবে ওসির দাবি, পুলিশে যোগদানের আগেই তিনি সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা সামনে আসার পর তাঁর আইনজীবী সমিতির সদস্যপদের বিষয়টি সমিতির নজরে আসে। এরপর বিষয়টি যাচাই করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের চাকরিতে থেকে আইনজীবী সমিতির সক্রিয় সদস্যপদ বজায় রাখা সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের আরও সদস্য রয়েছেন কি না, তা শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য পেশায় নিয়োজিত থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আগেই বিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, আইন পেশায় নিয়মিত যুক্ত নন, অথচ সমিতির সদস্যপদ বহাল রেখেছেন—এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়।

তবে সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিচ্ছেদ ৩-এর ৭(১) বিধি অনুযায়ী, আইন বিষয়ে শিক্ষকতা করেন অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন—এমন সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ বহাল রাখতে পারবেন। অন্যথায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। নিষ্ক্রিয় সদস্যদের শনাক্ত করতে তাঁদের নাম-ঠিকানাসহ তথ্য জমা দেওয়ার জন্য অভিযোগ বাক্সও স্থাপন করে সমিতি।

ওসির দাবি, আগেই স্থগিতের আবেদন করেছিলেন

কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পুলিশে যোগদানের আগেই তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। সমিতির পাঠানো নোটিশের জবাবে তিনি লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সমিতির নথিতে তাঁর সদস্যপদ ২০০২ সাল থেকে বহাল থাকার তথ্য রয়েছে। ফলে তাঁর সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন আদৌ গৃহীত হয়েছিল কি না, তা এখন যাচাইয়ের বিষয়। জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং সমিতির নিজস্ব নথি পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আইনজীবীদের অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত থেকে অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকার বিষয়টি শুধু একটি সমিতির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নেই; বিষয়টি ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতেও গড়িয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। আবেদনে আইন পেশার সনদ নিয়ে চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এ বিষয়ে তিনি ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ পাঠান। তাতেও সাড়া না মেলায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে বিষয়টি উত্থাপিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সংসদ সদস্যের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর আলোচনায় ওসির সদস্যপদ

সম্প্রতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে সরাইল থানার ওসির বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

গত ২২ অক্টোবর রাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রুমিন ফারহানা থানায় যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই ওসির আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নজরে আসে।

সব মিলিয়ে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল থাকার অভিযোগ এখন আইন পেশার শৃঙ্খলা, পেশাগত যোগ্যতা ও সদস্যপদ-সংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়নের বৃহত্তর আলোচনায় রূপ নিয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, ওসির দেওয়া ব্যাখ্যা ও দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কী নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অন্য পেশায় নিয়োজিত থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমিতি কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিডি নিউজ ২৪, প্রথম আলো 

শাস্তি না দিলে গো-মাতা অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি: ভারতের গুজরাটে গো-হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ আদালতের

শাস্তি না দিলে গো-মাতা অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি: ভারতের গুজরাটে গো-হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ আদালতের

ছবি: সংগৃহীত 
ভারতের গুজরাটের একটি আদালত গরু জবাইয়ের মামলায় তিনজনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে মোট ৩ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। ৭৬ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মনুস্মৃতি, বেদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত সোমবার এ রায় দেন।

মামলার পটভূমি

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গরু জবাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৭৭ কেজি মাংস উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি, কুঠার, ওজন মাপার যন্ত্র, দড়ি ও যানবাহন জব্দ করা হয়।

আসামিপক্ষ জব্দ করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আলামত সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য ছিল, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং জব্দ করা সরঞ্জাম যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি।

তবে আদালত অভিযোগকারী, অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্য, স্বাধীন সাক্ষী ও পশু চিকিৎসকের সাক্ষ্য এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত মনুস্মৃতি, ঋগ্বেদ, হরিবংশ পুরাণসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করেন। মনুস্মৃতির আলোকে গরু ও গবাদিপশুকে শুধু প্রাণী নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে বিচারক উল্লেখ করেন।

ঋগ্বেদের ‘অধন্যা’ শব্দের উল্লেখ করে আদালত বলেন, এর অর্থ এমন প্রাণী, যাকে হত্যা করা উচিত নয়। এ ছাড়া সুরভি বা কামধেনু এবং গরুর ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কেও রায়ে আলোচনা করা হয়।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ নির্মমভাবে বিচ্ছিন্ন করে ২৭৭ কেজি মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী শাস্তি না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আদালতের আদেশ

আদালত গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর ২০১৭ সালের সংশোধনী অনুযায়ী—

১. আইনের ৮(২) ধারায় প্রত্যেক আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

২.. একই আইনের ৮(৪) ধারায় ৬(ক) ও ৬(খ) ধারার অপরাধের জন্য প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

আদালত নির্দেশ দেন, উভয় কারাদণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে প্রত্যেক আসামির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ রুপি।

মামলার অপর দুই আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে আরেক আসামির মৃত্যু হয়।

সংবাদসূত্র: Live Law, Hindustan Times (30 October, 2026)

সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন, নবায়ন ও ফিটনেস সনদের ফি নির্ধারণ করে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে নিবন্ধন ও দ্বিবার্ষিক নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিটনেস সনদের জন্য এক হাজার টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এতে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে বিধিমালাটি প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যাত্রী ধারণক্ষমতাভেদে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি

বিধিমালার তফসিল-২ অনুযায়ী, দুই ধরনের ই-রিকশার জন্য পৃথক নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুইজন যাত্রী বহনক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এ ধরনের ই-রিকশার দ্বিবার্ষিক নবায়ন ফি হবে চার হাজার টাকা।

অন্যদিকে, চারজন যাত্রী বহনক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা এবং প্রতি দুই বছর অন্তর নবায়ন ফি দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা।

এ ছাড়া সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য এক হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও তথ্য সংরক্ষণ

বিধিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধন ও তথ্য ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর প্লেট সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত ই-রিকশা ও চালক-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-রিকশার চার্জিং স্টেশন ও চার্জিং গ্যারেজের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়ন ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন এই বিধিমালার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, ফিটনেস যাচাই, নবায়ন এবং চালক ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি নির্ধারিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হলো।

সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬; স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।