সর্বশেষ

১৫ সেপ, ২০২৬

উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে অতিরিক্ত এসপি

উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে অতিরিক্ত এসপি

ছবি: সংগৃহীত 
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর নকল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় সাময়িক বহিষ্কৃত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে এ মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ: মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মায়ানমার থেকে গরু আমদানি করা হলেও ২০১৯ সালের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সময়ে পুনরায় আমদানি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থেকে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য তিনি স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যিনি একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ের সংযোগ থাকার কথা বলে খোরশেদ আলম তাকে গরু আমদানির অনুমোদন নিয়ে দিতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেন। একপর্যায়ে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশসহ ৫ লাখ গরু আমদানি করার মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। পরে আলাউদ্দিন রবিন ঢাকায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন, এমন কোনো আবেদন মন্ত্রণালয়ে আসেনি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করে ডিবি পুলিশ।

তদন্ত শেষে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় সিআইডি। সেখানে উঠে আসে সংঘবদ্ধ এক প্রতারক চক্রের কারবার। যুগ্ম সচিবের ভাই থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ জনের এই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়।

মামলার কোথাও নাম না থাকলেও সিআইডির তদন্তে উঠে আসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদের নাম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ২২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণাধীন যাত্রাপুর বিওপির বিট খাটালটি ১৪৩১ বঙ্গাব্দের জন্য নবায়ন/পরিচালনার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে’ এমন আবেদন প্রথমে শাহাবুদ্দীন আহমদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গাকে পাঠানো হয়। জাফর ইকবাল পরে জাবেদ ও খোরশেদ আলমকে আবেদনের কপি হোয়াটসঅ্যাপ করেন। যেটার আদলে আরেকটি আবেদন তৈরি করতে বলা হয় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনকে। যার মাধ্যমে তিনি ওই বছরের ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আবেদন প্রস্তুত করে স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খোরশেদ আলমকে পাঠান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: স্টার নিউজ (১৪.০৯.২০২৬)

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করার এবং এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করে বিরোধী পক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করে এবং আরিফ নিয়াজীর গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়।

বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের বেঞ্চ আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ওই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন।

রায়ে আদালত বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে তার সত্যতা যাচাই করে তারপর গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শককে আদালতের এই নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি আদেশে আদালত সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন, জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ, সিজিএম, সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে এই মর্মে নির্দেশনা পাঠাতে হবে, যাতে যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়পত্র ও বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে থাকা বিধিবিধান অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, নতুবা আইনের ব্যত্যয় ঘটবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, যা নিশ্চিত করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আদালতের ভাষায়, বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি, নয়তো নাগরিকের যে ক্ষতি হয় তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।

শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে থাকা সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, গুলশানের বাসিন্দা আরিফ নিয়াজীকে ২০১২ সালে তার গুলশানের বাসা থেকে একটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে একটি ভুয়া মামলা ও ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ভুয়া মামলার মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করার বিষয়টি প্রমাণিত হয় বলে তিনি জানান। পরবর্তী সময়ে আরও একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে, ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে শত্রুতা চরিতার্থ করতে বিভিন্নভাবে প্রভাবশালীরা নাগরিকদের হয়রানি করছেন। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে এইচআরপিবি রিট পিটিশন দাখিল করে এবং এ ধরনের ভুয়া ওয়ারেন্ট ও নালিশি মামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চায়। মনজিল মোরসেদ আদালতে আরও বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো নাগরিককে হয়রানি করার সুযোগ নেই, তবু অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন রুলের বিরোধিতা করে বলেন, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ডেটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যার কারণে ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, এই মামলাটি যেহেতু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ দায়ের করেননি, তাই এতে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে তার যুক্তি।

রিট পিটিশনার হিসেবে ছিল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। বিবাদী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‍্যাবের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি, ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিসহ মোট আটজন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা। সরকারপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন হোসেন তুহিন।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৪ সেপ, ২০২৬

প্রতিকার পেতে পারিবারিক আদালত (Family Court) এ সকল নাগরিক কি যেতে পারে?

প্রতিকার পেতে পারিবারিক আদালত (Family Court) এ সকল নাগরিক কি যেতে পারে?

প্রতীকী ছবি
সংজ্ঞা: Black’s Law Dictionary অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত (Family Court) হলো এমন আদালত, যা পরিবারের সদস্যদের অধিকার ও কর্তব্য-সংক্রান্ত বিষয় শুনানি করে। সাধারণত বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত ইত্যাদি পারিবারিক বিরোধের নিষ্পত্তি করে। এটি একটি বিশেষ প্রকৃতির আদালত (Special Court)।

পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা: প্রথম বাংলাদেশে Family Courts Ordinance, 1985-এর অধীনে পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। Family Courts Ordinance, 1985 পরবর্তীতে Family Courts Act, 2023 দ্বারা প্রতিস্থাপিত/রহিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে পারিবারিক আদালতের আইনগত কাঠামো Family Courts Act, 2023-এর অধীনে বিবেচনা করতে হবে। এর ধারা ৪ অনুযায়ী, সকল Assistant Judge/ Civil Judge এর আদালতই Family Court হিসেবে গণ্য হয় এবং Assistant Judge/Civil Judge-গণ Family Court-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—Assistant Judge/Civil Judge-গণ তুলনামূলকভাবে নবীন ও কম অভিজ্ঞ হওয়ায় পারিবারিক মামলার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচার করার জন্য তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পক্ষান্তরে, ভারত ও পাকিস্তানে এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়।

পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:  এই আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী Family Court-এর একচেটিয়া এখতিয়ারের বিষয়গুলো হলো—
১. বিবাহ বিচ্ছেদ (Dissolution of Marriage)
২. দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা (Restitution of Conjugal Rights)
৩. দেনমোহর (Dower)
৪. ভরণপোষণ (Maintenance)
৫. সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত (Guardianship and Custody of Children)

এছাড়া, Guardians and Wards Act, 1890-এর ক্ষেত্রে Family Court-কে District Court হিসেবে গণ্য করা হয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে District Judge-এর কাছে আপিল করা যায়।

সকল ধর্মের জন্য Family Court-এর প্রযোজ্যতা:
Family Court Ordinance-এর শুরুতে এর প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছিল—শুধু মুসলিমরা Family Court-এ যেতে পারবেন, নাকি সকল ধর্মের নাগরিক পারবেন?
Krishnapada Talukder v. Geetasree Talukder (14 BLD 415) মামলায় বলা হয়েছিল, Ordinance-এর সুবিধা মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য।

বিপরীতে, Nirmal Kanti Das v. Sreemati Biva Rani (14 BLD 413) মামলায় বলা হয়, ধর্ম নির্বিশেষে যে কোনো ব্যক্তি Family Court-এ পারিবারিক বিরোধ নিয়ে মামলা করতে পারেন।

পরবর্তীতে, Pochon Rikssi Das v. Khuku Rani Dasi (50 DLR 47) মামলায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয় এবং বলা হয় যে Family Courts Ordinance (Family Courts Act) সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে, ধর্ম নির্বিশেষে, প্রযোজ্য।

বিডিএলপিবি/এমএম

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন হাইকোর্টে স্থগিত, রুল জারি

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন হাইকোর্টে স্থগিত, রুল জারি

ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারিকৃত পরিপত্র স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। 

একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারিকৃত পরিপত্র কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আাগে, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা হ্রাস করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়।

শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ওয়ারেন্ট অব প্রেসেডেন্স অনুযায়ী ৬ নম্বর ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা পান, কিন্তু তাদের সচিবদের সঙ্গে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

কাবিননামায় আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

কাবিননামায় আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

কোলাজ ছবি 
বিবাহে তথ্য গোপন ও প্রবঞ্চনা রোধে কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী শেখ ওমর ও তানজিলা রহমান জুঁই।

মামলায় রিটে বিবাদী করা হয়—আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে (আইজিআর)।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত ‘বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১’ বা ‘ফরম ঘ’-তে বর-কনের অতীত বৈবাহিক সম্পর্ক, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য এবং আগের সম্পর্কের সন্তান ও তাদের ভরণপোষণ বা অভিভাবকত্বের আইনগত দায়ের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই।


বিডিএলপিবি/এমএম



ডিএজির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়ে রুমিন ফারহানার আবেদন

ডিএজির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চেয়ে রুমিন ফারহানার আবেদন

ছবি: সংগৃহীত 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো এক লিখিত আবেদনে তিনি ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

অভিযোগে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তাকে উদ্দেশ্য করে ‘লেডি মীরজাফর’সহ বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি আইন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি, অশোভন, কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য শুধু একজন নারী ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে রুমিন ফারহানাকে অপমানজনক নয়, বরং এটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভাবমূর্তি ও পেশাগত মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে।

এতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের একজন ডিএজির কাছ থেকে এ ধরনের শিষ্টাচারবহির্ভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন রুমিন ফারহানা।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (১৪.০৯.২০২৬)


৮ মাসে আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

৮ মাসে আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে আপিল বিভাগে মোট ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে নতুন মামলা হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি। ফলে এ সময়ে দায়েরের তুলনায় ১ হাজার ৯৯৭টি মামলা বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৮৫৯টি, ৫ হাজার ৪০৬টি, ৫ হাজার ৩৪৯টি, ৫ হাজার ৩১২টি এবং ৭ হাজার ৫৫৩টি। অর্থাৎ, ওই পাঁচ বছরে গড়ে বছরে প্রায় ৬ হাজার ৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বিপরীতে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

তবে এই নিষ্পত্তির সত্ত্বেও আপিল বিভাগে বিপুল সংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।  চলতি বছরের আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন (পেন্ডিং) মামলার সংখ্যা ৩৯,৫৫০টি।


বিডিএলপিবি/এমএম