সর্বশেষ

৪ নভে, ২০২৬

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে জনসভায় দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর দাবি করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করে মন্ত্রীর কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন ভূঁইয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াছিন আরাফাত (সম্রাট) এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঢাকার একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে জড়িয়ে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এই যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে... জায়গায় এ্যানি চৌধুরীর ফোন কল যায় না, যে আমারে টাকা পাঠায়।’

নোটিশদাতার দাবি, এ বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ৩০ অক্টোবর চ্যানেল ২৪-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এর ফলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ। তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় বর্ণিত মানহানির অপরাধের আওতাভুক্ত বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে বিতর্কিত বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট

স্ত্রীর মামলায় আত্মসমর্পণের পর পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

স্ত্রীর মামলায় আত্মসমর্পণের পর পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী স্ত্রীর দায়ের করা পারিবারিক মামলায় এক মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আবু নকীব আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবু নকীব মিরপুর-১ নৌপুলিশ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, আদালতে আত্মসমর্পণের পর আবু নকীব জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী জাসমীন আহমেদের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে আবু নকীবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে না জানিয়েই আবু নকীব একাধিক বিয়ে করেছেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাসমীন আহমেদ মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বিধানের ৫(৬) ধারায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত আবু নকীবকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র: দেশ রূপান্তর, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত 
বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন না করা, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই মামলায় ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মামলার প্রথম শুনানির দিন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ৫৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম। তিনি চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকার আব্দুর রহমান খানের স্ত্রী। মামলায় তাঁদের ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমান (৩৫) এবং পুত্রবধূ সুমি বেগমকে (২৭) আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুর রাহীম (রুবেল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি আবদুল্লাহ আল নোমান পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী সুমি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজ আহম্মেদ জানান, সুমি বেগমকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আবদুল্লাহ আল নোমান মাদকাসক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, আমেনা বেগম ও তাঁর স্বামী আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের ছেলে ও পুত্রবধূ ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন না করে নিয়মিত গালমন্দ ও মারধর করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের নির্যাতনের কারণে নিজ বাড়িতেও স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আমেনা বেগম।

আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আদেশ দেওয়ার পর পুলিশ ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজিরের সহায়তায় বাদী ও তাঁর স্বামীকে শহরের ব্যাংক কলোনিতে অবস্থিত নিজ বাড়ির বসবাসের ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: স্টার নিউজ

দশ মাসে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ৮ হাজারের বেশি ফোনকল, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিযোগ নিষ্পত্তি

দশ মাসে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ৮ হাজারের বেশি ফোনকল, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিযোগ নিষ্পত্তি

ছবি: সংগৃহীত 
আইনি পরামর্শ গ্রহণ, মামলার সর্বশেষ তথ্য জানা এবং আদালতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানাতে চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ৮ হাজার ৫৪টি কল এসেছে। এসব কলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও সেবা নিয়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।

সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইন মনিটরিং সেলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৫৪টি কল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই কল এসেছে ৭২৬টি। এসব কলের মধ্যে ১৪৪টিতে আইনি পরামর্শ এবং ১৫৪টিতে মামলাসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে অক্টোবর মাসে প্রধান বিচারপতি বরাবর ৩১টি কল আসে। তবে এসব অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় হেল্পলাইন থেকে এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে হেল্পলাইন নম্বর ১০৩-এ আসা কলগুলোর মধ্যে ৩৮৫টির ক্ষেত্রে কলকারীর পক্ষ থেকে আর কোনো প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতের কার্যক্রম নিয়ে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, বিচারিক সেবা পেতে বিলম্ব এবং অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া যায় ১২টি। এর মধ্যে আইনি সেবা পেতে বিলম্ব, রায়ের অনুলিপি না পাওয়া, মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির দাবিসংক্রান্ত সাতটি অভিযোগ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি পাঁচটি অভিযোগের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইন সেন্টারের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। বিচারপ্রার্থীদের সহজে আইনি তথ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ০১৩১৬-১৫৪২১৬ ও ০১৭৯৫-৩৭৩৬৮০ নম্বরে সরাসরি কল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১০৩ নম্বরে অনলাইন সেবাও চালু রয়েছে।

সূত্র: ডিবিসি নিউজ

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

 ছবি: সংগৃহীত 
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা ঐতিহাসিক মামলার রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। এই রায়ের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত পিস প্যালেসে ১৯ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় প্রকাশ্য অধিবেশনে রায় ঘোষণা করা হবে। আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারক ইওয়াসাওয়া ইউজি রায়টি পাঠ করবেন।

মামলার পটভূমি

২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলাটি দায়ের করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। দেশটির অভিযোগ, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযান ছিল পরিকল্পিত গণহত্যার অংশ।

ওই অভিযানের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। সহিংসতার মুখে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে।

জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক তথ্যানুসন্ধান মিশনও ওই অভিযানে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। তবে মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, সেনাবাহিনীর অভিযান ছিল সন্ত্রাসবিরোধী বৈধ কার্যক্রম।

গাম্বিয়ার আবেদন ও আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশনা

গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে মিয়ানমারকে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের অধীন দায়বদ্ধতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছে দেশটি।

মামলাটির প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদে নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার আদালতের এখতিয়ার ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি জানায়। তবে ২০২২ সালের ২২ জুলাই আদালত রায়ে জানিয়ে দেন, মামলাটি শুনানির এখতিয়ার তাদের রয়েছে এবং গাম্বিয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য।

পরবর্তীতে উভয় দেশ লিখিত বক্তব্য ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করে। কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, স্লোভেনিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম ও আয়ারল্যান্ডসহ মোট ১১টি দেশ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে।

গণহত্যা প্রমাণে কঠোর আইনি মানদণ্ড

আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণের জন্য শুধু হত্যা, নির্যাতন কিংবা নিপীড়নের ঘটনা প্রতিষ্ঠা করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রমাণ করতে হয়, কোনো জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, জাতিগত বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায় নিয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদে এই বিশেষ অভিপ্রায়কে গণহত্যার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মামলাটির রায়ে গণহত্যার অভিযোগের পাশাপাশি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

রায়ের আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ইতিহাসে গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় এটি হবে মাত্র তৃতীয় রায়। এক দশকেরও বেশি সময় পর এ ধরনের মামলায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রায় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারাধীন অন্যান্য গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীন রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে। এটি কোনো ব্যক্তির ফৌজদারি বিচার করে না। আদালতের রায় চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের জন্যও মামলাটির রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারিক মূল্যায়ন এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স।



৩ নভে, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ ও আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ২৬ আইনজীবীর রিট

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ ও আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ২৬ আইনজীবীর রিট

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টে পর্যাপ্তসংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, প্রয়োজনীয় বেঞ্চ গঠন, বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং আইনজীবীদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন ২৬ জন আইনজীবী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লবের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের ২৬ জন আইনজীবী জনস্বার্থে (পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন) এই রিট আবেদন করেন। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি দাখিল করা হয়।

রিটে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং মামলা নিষ্পত্তির সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, সুপেয় পানি এবং আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুপ্রিম কোর্টের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা। অথচ একই অর্থবছরে দেশের জাতীয় বাজেটের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রিটকারীদের মতে, বিচার বিভাগের কার্যক্রমের পরিধি ও প্রয়োজনের তুলনায় এই বরাদ্দ অপর্যাপ্ত।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩০টি। বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১০৫ জন বিচারপতি। এর মধ্যে আপিল বিভাগে পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০০ জন বিচারপতি রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীদের বক্তব্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা অপরিহার্য। মামলার ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিচারক, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ কারণে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যুক্তিসংগত, প্রয়োজনভিত্তিক ও আনুপাতিক বাজেট কাঠামো প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।


সূত্র: The Daily Star, ৩ নভেম্বর ২০২৬।

মাদ্রাসায় থাপ্পড়ের ঘটনায় আলোচিত শাহজালাল রুমিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

মাদ্রাসায় থাপ্পড়ের ঘটনায় আলোচিত শাহজালাল রুমিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে; এ সময় গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না
সাত বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড় মেরে আলোচনায় আসা অভিভাবক শাহজালাল রুমিকে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ চুরির মামলায় সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রুমির জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান জানান, হাইকোর্ট শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার বা কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না।

আদালতে রুমির পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, বেলাল হোসেন ও এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।

মামলার প্রেক্ষাপট

গত ২১ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় সাত বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড় মারার পর আলোচনায় আসেন শিশুটির অভিভাবক শাহজালাল রুমি।

এরপর মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও অর্থ চুরির অভিযোগে শাহজালাল রুমি এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর টঙ্গী থানায় মামলাটি দায়ের করেন মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মো. আলমাস হোসেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে যৌন হয়রানির অভিযোগের জেরে ২১ অক্টোবর শাহজালাল রুমি ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা হামলা, ভাঙচুর ও উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধর করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, জমি কেনার জন্য মাদ্রাসার একটি টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যান শাহজালাল রুমি।

মামলাটিতে জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রুমি। শুনানি শেষে আদালত তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬