 |
| ছবি: সংগৃহীত |
ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নেজারত বিভাগের এক জারিকারককে সমন জারির কাজে অনিয়ম, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং বাদীর কাছে অর্থ বা ঘুষ দাবির অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীর নাম এস এম শফিউর রহমান। তিনি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নেজারত বিভাগে জারিকারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জারিকারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশ নম্বর ৭৭/এ।
আদেশে বলা হয়, সমন জারির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর বিধান অনুসরণ না করা এবং জেলা জজের নির্দেশ অমান্য করে তৃতীয় ব্যক্তি কবির হোসেনকে সমন জারির কাজে নিয়োগের অভিযোগ ওঠে শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সমন জারির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ বা উৎকোচ দাবি করার অভিযোগও আনা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলে তাতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত জারিকারক সমন জারির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৫-এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে জেলা জজের নির্দেশ অমান্য করে তৃতীয় ব্যক্তিকে দিয়ে সমন জারির কার্যক্রম পরিচালনা এবং বাদীর কাছে অর্থ বা উৎকোচ দাবি করার বিষয়টিও প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ (Misconduct) এবং বিধি ২(ক) অনুযায়ী কর্তব্যে অবহেলার পর্যায়ভুক্ত।
এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু এবং বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা (Subsistence Grant) পাবেন। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সূত্র: ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ