সর্বশেষ

৫ নভে, ২০২৬

একই মামলায় তিনবার আগাম জামিন, দুই আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট

একই মামলায় তিনবার আগাম জামিন, দুই আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
একই মামলায় এক আসামির তিন দফা আগাম জামিন নেওয়ার ঘটনায় দুই আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) তাঁদের আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তলব করা দুই আইনজীবী হলেন তানিয়া সুলতানা ও মিজানুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান। তিনি জানান, একই মামলায় একজন আসামি সাধারণত একবারই আগাম জামিন নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলায় তথ্য গোপন করে একই আসামির পক্ষে তিনবার আগাম জামিন নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট দুই আইনজীবীকে তলব করে তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।

আগামী রোববার তাঁদের উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে।

সূত্র: কালবেলা 


মানিকগঞ্জের ট্রিপল মার্ডার: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জের ট্রিপল মার্ডার: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত 
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় জমিজমা ও সম্পত্তির বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যারা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন—সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, সামসুল হকের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম, আ. রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া।

দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন—মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জল, মো. সামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্য আসামিদের সাজা ও খালাস

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৬/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নুরু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল, সওদাগরের ছেলে ওলী আহাদ, চানদের ছেলে শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সম্পত্তির বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।

২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তাঁরা সেখানে পৌঁছালে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লার মৃত্যু হয়।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া

ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। ঘোষিত এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।

সূত্র: যুগান্তর

নাসির উদ্দিনের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি

নাসির উদ্দিনের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি

ছবি: সংগৃহীত 
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমনির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।

পরে বাদীপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে পরীমনির জামিন বাতিল করেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলাটিতে পরীমনি ও তাঁর সহ-আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে মামলার অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়।

পরবর্তী সময়ে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ করেন।

সূত্র: প্রথম আলো 

বসতভিটার জমি বিক্রির বায়নানামা যথাযথভাবে প্রমাণিত না হলে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি নয়: হাইকোর্টের রায়

বসতভিটার জমি বিক্রির বায়নানামা যথাযথভাবে প্রমাণিত না হলে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি নয়: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
বসতভিটার জমি বিক্রির বায়নানামা (Bainapatra) যথাযথভাবে প্রমাণিত না হলে এবং চুক্তির পক্ষদের আইনগত সক্ষমতা ও চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের (Specific Performance of Contract) ডিক্রি দেওয়া যায় না। বিশেষ করে চুক্তির মাধ্যমে বিবাদীকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হলে, যাতে তাঁকে নিজের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়, সে ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের প্রতিকার দিতে বাধ্য নয়।

এক জমি বিক্রির বায়নানামা সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি বাতিল করে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মোছা. আম্বিয়া খাতুন বনাম মোছা. হালিমা বেগম ও অন্যান্য (সিভিল রিভিশন নং- ৩৪০৭/২০২৪) এ রায় দেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিবাদী আম্বিয়া খাতুন ১৯৮১ ও ১৯৮২ সালে দুটি কবলা দলিলের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি বসতঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করতেন। ১৯৯০ সালে মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি জমিটি বিক্রির প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেন বাদীপক্ষ।

বাদীদের দাবি, জমির মূল্য ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ১৯৯০ সালের ১৪ অক্টোবর একটি বায়নানামা সম্পাদিত হয়। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয় এবং বাকি ১ লাখ টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্ত ছিল। অবশিষ্ট টাকা গ্রহণের পরও বিবাদী জমির দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধন করে না দেওয়ায় তাঁরা আদালতে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলা করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী আম্বিয়া খাতুনের দাবি ছিল, মেয়ের বিয়ের জন্য তিনি বাদীদের কাছ থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে কয়েকটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও জমির মূল দলিল তাঁদের কাছে জমা দেন। কিন্তু বাদীপক্ষ সেই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা বায়নানামা তৈরি করে জমি আত্মসাতের চেষ্টা করে। তিনি আরও দাবি করেন, জমিটি তাঁর পরিবারের বসতভিটা এবং এর বাইরে অন্য কোনো জমি নেই বলে নয়, বরং ওই জমিতেই পরিবার নিয়ে তাঁর বসবাস।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, বায়নানামায় চুক্তি সম্পাদনের জন্য তিন মাস সময় নির্ধারিত ছিল। অথচ ১৯৯০ সালের ১৪ অক্টোবর চুক্তি সম্পাদনের দাবি করা হলেও বাদীপক্ষ ১৯৯১ সালের ৩ ডিসেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠায় এবং ১৯৯৩ সালের ১ আগস্ট মামলা দায়ের করে। অর্থাৎ চুক্তিতে নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিম্ন আদালত যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি।

আদালত আরও বলেন, বাদীপক্ষের বায়নানামায় তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে চুক্তির পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের পক্ষে কোনো আইনগত অভিভাবক চুক্তি সম্পাদন করেননি। চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ১১ ধারা অনুযায়ী, চুক্তি সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাবালক ও আইনগতভাবে চুক্তিতে সক্ষম হতে হবে। ফলে চুক্তিটির বৈধতা ও আইনগত প্রয়োগযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন ছিল।

আদালতের মতে, সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হওয়া উচিত—চুক্তিটি আইনগতভাবে বৈধ ও কার্যকরযোগ্য কি না। কিন্তু বিচারিক আদালত যথাযথভাবে এ বিষয়ে ইস্যু গঠন করেনি। দেওয়ানি মামলায় পক্ষগুলোর আরজি ও লিখিত জবাবের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ইস্যু গঠন ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার মৌলিক শর্ত। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিরোধীয় বিষয় ইস্যুতে অন্তর্ভুক্ত না হলে তার যথাযথ বিচার ব্যাহত হতে পারে।

আদালত আরও লক্ষ্য করেন, বায়নানামার জমিটি ছিল বিবাদীর বসতভিটা, যেখানে তিনি সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। বাদীপক্ষের সাক্ষীও জেরায় বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অথচ বিবাদীর অন্য জমি ও দোকান থাকার বিষয়ে বাদীপক্ষের দাবি থাকলেও তার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এ ছাড়া বায়নানামার খসড়া প্রস্তুত, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, দলিল সম্পাদনের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি ছিল। চুক্তির কথিত ছয়জন সাক্ষীর কাউকেই বাদীপক্ষ সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির করেনি। নোটারি পাবলিককেও পরীক্ষা করা হয়নি। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিম্ন আদালত বিবেচনায় নেয়নি।

সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন আদালতের বিবেচনাধীন প্রতিকার

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ২২ ধারা উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি দেওয়া আদালতের বিবেচনাধীন বিষয়। কোনো চুক্তি বৈধভাবে প্রমাণিত হলেও শুধু সে কারণে আদালত সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের প্রতিকার দিতে বাধ্য নয়।

বিশেষ করে চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বিবাদী এমন কোনো অপ্রত্যাশিত ভোগান্তি বা ক্ষতির সম্মুখীন হলে, যা চুক্তি বাস্তবায়ন না করলে বাদীর ক্ষেত্রে সৃষ্টি হতো না, সে ক্ষেত্রে আদালত সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের ডিক্রি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালতকে ন্যায়বিচার, ন্যায়সংগততা এবং পক্ষগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।

হাইকোর্ট আরও বলেন, নিম্ন আদালতগুলো বাদীপক্ষের সাক্ষ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবাদীপক্ষের সাক্ষ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। আপিল আদালতও নিজস্বভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ না করে বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ফলে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভুল পাঠ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিবেচনায় না নেওয়া এবং যথাযথ ইস্যু গঠন না করার কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে।

রিভিশনে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল

হাইকোর্ট বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় রিভিশন আদালত সাধারণত আপিল আদালতের মতো নতুন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ মূল্যায়ন করে না। তবে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে এখতিয়ারগত ত্রুটি, গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অবৈধতা, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভুল পাঠ কিংবা ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর ত্রুটি থাকলে হস্তক্ষেপ করা যায়।

এসব বিবেচনায় হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের ১৯৯৩ সালের ৭৬ নম্বর অপর শ্রেণির মামলায় দেওয়া ডিক্রি এবং অতিরিক্ত জেলা জজ প্রথম আদালতের ২৭২/২০০৫ নম্বর আপিল মামলায় দেওয়া রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন। ফলে বাদীদের দায়ের করা মূল সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

তবে বিবাদী আম্বিয়া খাতুন ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করায় আদালত তাঁকে ওই টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর ৬০ দিনের মধ্যে ১৯৯০ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে টাকা জমা দেওয়া পর্যন্ত বার্ষিক নয়, বরং মাসিক ৮ শতাংশ সরল সুদসহ ৫০ হাজার টাকা বাদীপক্ষকে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী ডিক্রির মাধ্যমে তা আদায় করা যাবে এবং সে ক্ষেত্রে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত চক্রবৃদ্ধি সুদ দিতে হবে।

মামলাটিতে উভয় পক্ষের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন। রায়ে কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

তাহসিফ হত্যা মামলায় জেরিকার দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

তাহসিফ হত্যা মামলায় জেরিকার দ্বিতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত 
বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিস দিশার (১৯) দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (৪ নভেম্বর) চার দিনের প্রথম দফার রিমান্ড শেষে জেরিকাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১ নভেম্বর একই আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন জেরিকার প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর তাহসিফ তাঁর বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন। রাত গভীর হলেও তিনি বাসায় না ফেরায় তাঁর মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করেন। তখন তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসবেন বলে জানান। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাঁর ফোন থেকে মায়ের মেসেঞ্জারে একটি ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি।’ তবে রাত পেরিয়ে পরদিন বিকেল হলেও তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরখান থেকে নৌ-পুলিশ ফোন করে তাহসিফের বাবাকে জানায়, রাজারবাড়ি ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাঁর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে নৌ-পুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে তাহসিফকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৩১ অক্টোবর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম রাজধানীর উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেরিকা তাসনিস দিশাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র: বাসস

ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুদকের ফাঁদে আটক ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কারাগারে

ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুদকের ফাঁদে আটক ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ আসাদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের ভূমি কার্যালয়ে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক একটি ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা করে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অভিযোগকারী তাঁর নির্ধারিত কক্ষে আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা দেন। টাকা গ্রহণের পর তিনি তা পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকে রাখেন। এ সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুদকের বিশেষ দল তাঁকে হাতেনাতে আটক করে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল ইসলাম তা স্বীকার করেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাক থেকে খাকি রঙের একটি খামে রাখা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা নোটের নম্বরের সঙ্গে আগের দিন অভিযোগকারীকে দেওয়া টাকার নম্বরের মিল পাওয়া যায়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকার লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজায় বিভিন্ন দাগে অবস্থিত মোট ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন। জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথক করা এবং স্কেচম্যাপ তৈরির জন্য তিনি গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তবে প্রায় ছয় মাস ধরে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি।

একপর্যায়ে তাঁকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজটি সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে আসাদুল ইসলাম তাঁর কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। বিষয়টি মনিরুল ইসলাম দুদককে জানালে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে ফাঁদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের পর আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সূত্র: বাসস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখাল ডিবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখাল ডিবি

ছবি: সংগৃহীত 
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে, তাঁর সঙ্গে আটক হওয়া ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে আটক করে ডিবি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

আটকের বিষয়ে বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ডিবিসি নিউজের কার্যালয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরে মধ্যরাতে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার নিশ্চিত করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থ চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলাতেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে, একই ঘটনায় আটক সাংবাদিক রাজীব ঘোষের বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার।

সূত্র: ইত্তেফাক