সর্বশেষ

৪ এপ্রি, ২০২৬

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি দেব গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামি দেব গ্রেপ্তার


ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি দেবকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বলুয়ার দিঘী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় তার অনুসারীরা বিক্ষোভে নেমে আদালত চত্বরে ভাঙচুর চালায় এবং কারাগারে নেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকার সামনে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র‍্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার পলাতক আসামি দেব কোতোয়ালী এলাকায় অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে সিটিটিসি

নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন হিসেবে এক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে সিটিটিসি

ছবি: সংগৃহীত 

সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ০২.৩০ ঘটিকায় হবিগঞ্জ সদর থানা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে হেফাজতে নেয়। হেফাজতে নেওয়া শিশু শেরে বাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আহসান জহির খান, দানিয়েল ইসলাম হাসান ও রাসেল ওরফে পলাশ ওরফে আবু বাছের আল ফারুকীর সাথে যোগাযোগ রয়েছে মর্মে জানা যায়।

সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, হেফাজতে নেওয়া শিশু অনলাইনে অত্যন্ত সক্রিয়। সে দাওলাতুল ইসলাম (আইএস) এর পক্ষে উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করে সদস্য নিয়োগ করত। এছাড়া বোমা তৈরির পিডিএফ ফাইল শেয়ার করত এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শিয়া মসজিদ, পুলিশের চেকপোস্ট ও ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ও উসকানি দিত বলে জানা যায়। বিধি অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া শিশুকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


৩ এপ্রি, ২০২৬

বরিশাল আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপির বিজয়

বরিশাল আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপির বিজয়

ছবি: সংগৃহীত 

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির-২০২৬ সালের নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলাফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সবগুলো পদেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নির্বাচন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস. এম. সাদিকুর রহমান লিংকন এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত মো. আবুল কালাম আজাদ ৪৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মাসুম পেয়েছেন ২৩৪ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত শেখ মেহেদী হাসান শাহীন ৪৪৭ ভোট পেয়ে প্রথম এবং সৈয়দ মাসুম মিয়া রেজা ৪২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। অপর প্রার্থী আব্দুল মজিদ ঢালী পেয়েছেন ২২৫ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত আবুল কালাম আজাদ ইমন ৪৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত মো. ফরিদ উদ্দিন পেয়েছেন ১৪৫ ভোট। অর্থ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত মো. জাহিদুল ইসলাম পান্না ৪৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ জাকির হোসেন পেয়েছেন ১৬১ ভোট।

যুগ্ম সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত মো. তারেক আল ইমরান ৪৬১ ভোট পেয়ে প্রথম এবং সাইদুর রহমান সোহেল ৪০২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত মোহাম্মদ রুহুল আমিন খায়ের পেয়েছেন ২০৩ ভোট এবং মো. শাহ আলম পেয়েছেন ১৭২ ভোট।

নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. হারুন অর রশিদ (৩৭৫ ভোট), মো. সায়েম উল আলম (৪০৩ ভোট), গোলাম মর্তুজা তপু (৫১৩ ভোট) এবং পারভেজ বেগম (৪৪৯ ভোট)। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মোহাম্মদ রিয়াজুল হক পেয়েছেন ২৭৫ ভোট, মো. কামাল হোসেন হাওলাদার ২১৫ ভোট, এইচ. এম. আশরাফুল আলম ২২২ ভোট এবং মোহাম্মদ শাহ আলম পেয়েছেন ১৩৮ ভোট।
নির্বাচন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস. এম. সাদিকুর রহমান লিংকন জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৯৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬৭৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি ঘরানার অধিকাংশ আইনজীবী ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীও ভোট প্রদান করেননি।


প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার


ছবি: সংগৃহীত 

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ও কটুক্তির অভিযোগে শাওন মাহমুদ (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা। 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জুশুরগাঁও এলাকা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শাওন মাহমুদ শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের প্রাণী মণ্ডল এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত একটি পোস্ট দেন শাওন মাহমুদ। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে জুশুরগাঁও এম রহমান কমপ্লেক্স এলাকায় শাওনের মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁয় ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী জড়ো হন। পরে তারা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় যুবদল কর্মী উজ্জ্বল খান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শাওন অকথ্য ভাষায় পোস্ট করেছে। বিষয়টি জানার পর আমরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। দেশের কোটি মানুষের প্রিয় নেতাকে নিয়ে এমন ধৃষ্টতা মেনে নেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া ক্যাম্পাসটাইমসকে বলেন, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনায় সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্টের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গণভোট, গুম প্রতিরোধসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

গণভোট, গুম প্রতিরোধসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে


ছবি: সংগৃহীত 

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত হচ্ছে না। ফলে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তবে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এগুলোকে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী নতুন বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন উত্থাপন করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পরপর তিনটি বৈঠক করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে।

কমিটির সুপারিশে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি উত্থাপিত আকারেই পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এবং চারটি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আর বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। সেই হিসেবে ওই ১৬টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে তামাদি বা বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না করলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
১. গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫
২.জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৩. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫,
৪. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫,
৫. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৬.কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৭. আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৮. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৯. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১০. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১১. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১২. বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, 
১৩. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, 
১৪. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১৫. মাইক্রো ফাইনান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং 
১৬. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।

২ এপ্রি, ২০২৬

দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরানো সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরানো সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার


ছবি: সংগৃহীত 

দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরকে প্রত্যাহার করে সিলেটে বদলি করা হয়েছে। তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ থেকে প্রত্যাহার করে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। পরে প্রজ্ঞাপনটি সরকারি কর্মচারী বাতায়ন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
 
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা ফয়সাল আল নূর (১৯১০৯), সহকারী কমিশনার (ভূমি), চান্দিনা, কুমিল্লাকে তার বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
 
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফয়সাল আল নূরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দেন। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এক নিকটাত্মীয়ের জমির খারিজ সংক্রান্ত শুনানিতে যান দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল-এর দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম।
 
অভিযোগ রয়েছে, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রেখে শুনানি না করে ব্যক্তিগত কাজে সময় কাটান এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। এ সময় শুনানি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে তার আচরণ ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ধস্তাধস্তিতে জড়ান।
 
পরে তিনি থানায় ফোন করে পুলিশ ডেকে দুই সাংবাদিককে আটক করান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা আর বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না—এমন মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান বলে জানা গেছে।
 
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই তাকে প্রত্যাহার করে সিলেটে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১ এপ্রি, ২০২৬

হাদি হত্যা: সঞ্জয় চিসিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

হাদি হত্যা: সঞ্জয় চিসিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর


ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান সহযোগী সঞ্জয় চিসিমের (২২) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জানান, সঞ্জয় চিসিম মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সাহায্য করেছে। সাক্ষ্য, প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে এই বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসামির আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতিকারীরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে শরিফ ওসমান হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী হাদিকে পিছন থেকে অনুসরণ করে এবং চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

আহত শরিফ ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার এম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।