সর্বশেষ

২৭ মে, ২০২৬

কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত যুবককে কারাগারে প্রেরনের আদেশ

কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত যুবককে কারাগারে প্রেরনের আদেশ


ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার নাজমুল হাসান মনি (২৫) নামে এক যুবককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার আসামির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হয়। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে কালশী বস্তির এক দোকানিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বিরোধের ঘটনা ঘটে। এসময় ওই যুবক বস্তিতে আগুন লাগানোর হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে সন্ধ্যায় বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।

ওইদিন সন্ধ্যায় কালশী বস্তিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৮৯৬

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৮৯৬

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের অধীনে জেলা জজ ও অধস্তন আদালত/ট্রাইব্যুনালসমূহে জনবল (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে) নিয়োগে অনুষ্ঠিত ব্যবহারিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে মোট ৮৯৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাসলিম আরিফের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার (২৪ মে) ফল প্রকাশের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের অধীনে জেলা জজ এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোতে নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত উল্লেখিত পদে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচিসহ এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়।


বিডিএলপিবি/ এমএম


শাহ আলম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, ১১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

শাহ আলম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, ১১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ


ছবি: সংগৃহীত 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চাকরিজীবী শাহ আলম। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় করা মামলায় তদন্ত শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

গত ১৭ এপ্রিল দেয়া ওই অভিযোগপত্রের তথ্য মঙ্গলবার (২৬ মে) জানা যায়। তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই আবু জাফর জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে মামলার ঘটনার প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক আবু জাফর হাওলাদার এই অভিযোগপত্র দেন। তবে অপরাধ প্রমাণে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১০ নেতাকর্মীকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে উসকানিমূলক বক্তৃতা, বিবৃতি দেন।

শেখ হাসিনা ছাড়া অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, যুবলীগ নেতা মুজিব মহসীন পিয়াস, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাইয়ুম, হাজি মো. ছালাম শিকদার, মো. হাবিবুল্লাহ ভূঁইয়া হ্যাপি, সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন বাবুল, সাবেক কাউন্সিলর মো. মাসুম গনি ওরফে মাসুম গণি তাপস, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, মোস্তাক আহমেদ, কোরাইচ্চা আলম ওরফে মো. আলম, ছাত্রলীগ নেতা চঞ্চল ওরফে আমিনুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান ধনু, কৃষক লীগ নেতা খান মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম লিটু, শ্রমিক লীগ নেতা বাদশা ঘরামী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল কাশেম হাওলাদার, শ্রমিক লীগ নেতা মিঠু দাস এবং মুন্না ওরফে টুনটুনি মুন্না ওরফে ম্যাগজিন মুন্না।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা। তিনি কোটা সংস্কারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কঠোরভাবে দমন-পীড়নের জন্য অনলাইনমাধ্যমে উসকানিমূলক উপর্যুপরি নির্দেশনা দেন৷ আসামি ওবায়দুল কাদের, আসামি মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল, মো. হাবিবুর রহমান প্রধান আসামির মতো বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে কোটা সংস্কারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কঠোরভাবে দমন-পীড়নের জন্য উসকানিমূলক বক্তৃতা-বিবৃতি দেন, যা মামলাটির তদন্তকালে অনলাইন সার্চ করে সংগৃহীত তথ্য যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়।

আসামিরা সবাই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাদের উসকানিমূলক বক্তৃতা, বিবৃতি দেন। ঢাকা-১১ আসনের সাবেক এমপি আসামি মো. ওয়াকিল উদ্দিন ও আসামি মো. লিয়াকত আলীর উসকানি, নির্দেশনা এবং হুকুমে তাদের সহযোগীরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায়ই বাড্ডা থানাধীন, আফতাব নগর, ডিআইটি প্রজেক্ট এবং রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অতর্কিতভাবে হামলা ও মারধর করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে বাড্ডা থানাধীন এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে। অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে রাত ১০টার দিকে আসামিদের ছোড়া গুলি ভুক্তভোগী শাহ আলমের বুকের বাম পাশে লেগে বের হয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ আগস্ট তিনি মারা যান।

অব্যাহতির সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন কোতোয়ালি জোনের এসি নজরুল, লালবাগ জোনের এডিসি সুজন সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশীদ, শেখ মোরশেদ, কাজী আলামিন ও বদরুলসহ মোট ১১০ জন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আন্দোলনের সময় অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে রাত ১০টার দিকে আফতাবনগর গেটের পাশে গুলিবিদ্ধ হন শাহ আলম। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

একই বছরের ১৩ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর তার ভাই মিজানুর রহমান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৮ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৬ মে, ২০২৬

বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায়: আইনমন্ত্রী

বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায়: আইনমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, দেশের বিচার বিভাগ যতোটা স্বাধীনতা উপভোগ করে, তা অন্য কোথাও কমই দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

দেশে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং জট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দেশে জজ এবং আইনজীবীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণেই মূলত মামলা নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে এবং এই দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, এই হত্যা মামলার যেন সঠিক ও সুষ্ঠু ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

জুলাই অভ্যুত্থানের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা তানভীরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

জুলাই অভ্যুত্থানের মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা তানভীরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ


ছবি: সংগৃহীত 

কারাবন্দী থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এসএম তানভীর আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৫ মে) বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক মিরাজুল ইসলাম এই নির্দেশ দেন।

তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরিশালের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসিম হোসেন।

এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এসএম তানভীর আহমেদ। মামলা হওয়ার দেড় বছর পর আবেদনে তার বিরুদ্ধে শ্যোন-অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার দেখানো) মঞ্জুর করেন আদালত।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুর রহমান জানান, কোতোয়ালি থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করেন এসআই নাসিম হোসেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৪ জুন আসামিকে সশরীরে উপস্থিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তানভীর আহমেদ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ও কুষ্টিয়া জেলার সাবেক পুলিশ সুপার ছিলেন। একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে বন্দি আছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বরিশালে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় শ্যোন-অ্যারেস্টের আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত। আগামী ৪ জুন ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে তাকে বরিশাল আদালতে উপস্থিত করা হবে। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

কক্সবাজার আদালতের প্রবেশ পথে গুলির ঘটনায় দুই মামলা, আসামি ১৩

কক্সবাজার আদালতের প্রবেশ পথে গুলির ঘটনায় দুই মামলা, আসামি ১৩


ছবি: সংগৃহীত 

কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গনে গোলাগুলির ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত বিচার ও অস্ত্র আইনের অধীনে সদর মডেল থানায় আলাদা ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই গোলাগুলির ঘটনায় সদর মডেল থানায় ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানার তদন্তের পরিদর্শক হিমেল রায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

একটি মামলার বাদি হলেন ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা লিয়াকত আলী। এই মামলাটিতে পুলিশের হাতে গ্রেফতার জিয়াউল হক জিকুকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অপরদিকে ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। এটি দ্রুত বিচার আইনে ইস্যু করা হয়েছে। অপর দিকে, অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. রুহুল আমিন বাদি হয়ে দায়ের করা মামলাটিরও প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়া জিয়াউল হক জিকু। এই মামলার এজাহারে ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে বলেও জানান হিমেল রায়।

তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটিতে পৃথকভাবে ১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু আদালতে রিমান্ডের শুনানি না করে আসামিদের কারাগারে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই মামলায় অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযানে নেমেছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যাচ্ছে, গ্রেফতার হওয়া জিয়াউল হক জিকু কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকার আবদুল গণির ছেলে। মামলার অপর ৫ আসামি বাদির নিজ এলাকা লিংকরোডের বাসিন্দা।

এদের মধ্যে মৃত আশরাফুজ্জামানের ছেলে মাহামুদুল হক, মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে আবদুল খালেক, মৃত আশরাফুজ্জামানের আরেক ছেলে যথাক্রমে সাহাবউদ্দিন, শামশুউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন।

এছাড়া, এক মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন যে, অপরাধের প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে বিবাদীরা এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে।

এসআই মো. রুহুল আমিন বাদি হয়ে দায়ের করা অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি জিকু। তিনি ছাড়া অন্যান্য আসামির মধ্যে লিংক রোড এলাকার আকবর আহমদ মেম্বারের ছেলে মোহাম্মদ জাহেদ (লিয়াকত আলীর ভাই), মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ছেলে মো. মেহেদী (লিয়াকত আলীর ভাগিনা), আকবর আহমদ মেম্বারের ছেলে শামশুল আলম বাপ্পী (লিয়াকত আলীর ভাই), রামুর গর্জনিয়া এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে রহিম, একই এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, এবং আবদুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন।

মামলার এজাহারে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ভিডিও চিত্রে এরা হস্তাস্ত্র নিয়ে আসতে দেখা গেছে। রোববার (২৪ মে) সকালে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার মামলায় হাজিরা দিতে এসে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় তাকে গুলি করে একদল দুর্বৃত্ত। এই ঘটনার ফলস্বরূপ লিয়াকত আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আহত হন। লিয়াকত আলী প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও মঈন উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায় যে, হামলা করতে আসা এবং আহত ব্যক্তির সাথে থাকা উভয় জনের হাতে অস্ত্র ছিল। এমনকি অস্ত্র ছিল লিয়াকত আলীর ভাইয়ের হাতেও।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, রোববার সকালে গুলির ঘটনাটি লিয়াকত আলী মেম্বার ও খালেক বাহিনীর মধ্যে মামলার বিরোধকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে এই দুই গ্রুপ ছাড়াও তৃতীয় পক্ষের সম্পর্ক থাকতে পারে, যা রামুর গর্জনিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত বিরোধের সূচনা হতে পারে।

গরু পাচার, মাদক চোরাচালান সম্পর্কিত কিনা-এমন প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এই ধরনের কিছু একটা হতে পারে। তিনি বলেন, ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

বনশ্রীতে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকার, রিমান্ড শেষে আসামি কারাগারে

বনশ্রীতে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকার, রিমান্ড শেষে আসামি কারাগারে


ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীতে একটি মাদরাসায় এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. শিহাব হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৬ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার (২৬ মে) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৯ মে রাতে পাবনার বেড়া থানার খাকছাড়া গ্রাম থেকে শিহাবকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২১ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে রাতে রামপুরার বনশ্রী সি-ব্লকে অবস্থিত ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা’ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু মো. আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আব্দুল্লাহর মা টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে ২০ মে রামপুরা থানায় শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম