![]() |
| পরীক্ষা শেষ হওয়ায় এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা না হওয়ায় আপিল খারিজ; নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে পারবেন বিচারিক আদালত |
২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মামলাটি হলো ক্রিমিনাল আপিল নং ৩০৮১/২০২৬। এতে আসামি তাসমিম মাহিদ চঞ্চল এবং রাষ্ট্র পক্ষভুক্ত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এর ২৪ মে ২০২৬ তারিখে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে এ আপিল করা হয়েছিল।
ফেসবুকে পরিচয়, বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে বাদী ও আসামির পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ করা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আসামি বাদীকে ঢাকার ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বাদীর আপত্তিকর ছবি তুলে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট বাদীর সঙ্গে আসামির দেখা হয়। পরদিন ৩১ আগস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আসামি তাঁকে ধানমন্ডির একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাসে তাঁদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বাদীকে হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ সংশোধিত আইনের ৯(খ) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে বিচারাধীন।
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীকে মেডিকেল বোর্ডে পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে যৌন সংসর্গের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেগুলো সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক সংঘটিত যৌন সংসর্গের লক্ষণ ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। মেডিকেল বোর্ড তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ বছর নির্ধারণ করে।
পরীক্ষার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন
নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল আসামি বিচারিক ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল পরীক্ষার কারণ বিবেচনায় তাঁকে ১০ মে পর্যন্ত জামিন দেন। পরে ১০ মে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৪ মে তাঁর জামিনের আবেদন পুনরায় নামঞ্জুর করা হয়।
এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামি। তাঁর চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ১৪ থেকে ৩০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
এ সময় মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল, জামিন পেলে পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।
আপিল খারিজ করে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
পরবর্তী শুনানিতে হাইকোর্ট দেখতে পান, আসামির পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত আপিলের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি পাননি। ফলে আপিলটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, বিচারিক আদালতে রায়ের অনুলিপি পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে বিচারিক আদালত আইন অনুযায়ী তাঁর গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে পারবেন।