সর্বশেষ

১ এপ্রি, ২০২৬

হাদি হত্যা: সঞ্জয় চিসিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

হাদি হত্যা: সঞ্জয় চিসিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর


ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান সহযোগী সঞ্জয় চিসিমের (২২) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জানান, সঞ্জয় চিসিম মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সাহায্য করেছে। সাক্ষ্য, প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে এই বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসামির আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতিকারীরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে শরিফ ওসমান হাদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে থাকা আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী হাদিকে পিছন থেকে অনুসরণ করে এবং চলন্ত অবস্থায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

আহত শরিফ ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার এম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।


সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৭ মে

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৭ মে

সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ মে দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। এ নিয়ে ১২৫ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় পেলো তদন্ত সংস্থা।

বুধবার (১ মার্চ) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায়, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য  করেন।

মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের  উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল বাসস’কে বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গত ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। 

এ দিকে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্টের দেওয়া সময় ইতোমধ্যেই শেষ হয়। এ অবস্থায় তদন্ত চলমান ও অগ্রগতি আছে, উল্লেখ করে নয় মাস সময়ের আরজি জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

গত বছরের ২২ এপ্রিল শুনানি নিয়ে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আগামী ২২ অক্টোবর আদেশের জন্য পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। তবে উচ্চ আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স প্রতিবেদন দাখিল করেনি।

গত ২৩ অক্টোবর মামলার তদন্ত শেষ করতে বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এটিকে ‘শেষবারের মতো’ বর্ধিত সময় বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।

৩১ মার্চ, ২০২৬

স্ত্রীসহ আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোশারফের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

স্ত্রীসহ আইডিআরএ চেয়ারম্যান মোশারফের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ


ছবিঃ সংগৃহীত

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশারফ হোসেন ও তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়ার আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন। আবেদনে বলা হয়, ড. এম মোশারফ হোসেন ও তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়ার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ২০ বিধি অনুযায়ী আসামিদের শুরু থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত দাখিল করা আয়কর নথি জব্দ করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায়, তদন্তের স্বার্থে তাদের আয়কর নথি জব্দে আদালতের আদেশ প্রয়োজন হওয়ায় দুদক এ আবেদন করে।

পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসান

পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসান

ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বাসসকে বলেন, 'হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।'

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ২০০৯ সালের জুনে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০১১ সালের ৬ জুন তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে শপথ নেন।

৩০ মার্চ, ২০২৬

আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নামে ১০০ কোটি টাকার মানমানির মামলা হয়েছে।  

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে এ মামলাটি করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানি শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম দুলাল ও এপিপি হুমায়ুন কবীর কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া জেলার হাফসাই হরিপুর বড় মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজের খুতবার পূর্বে আলোচনা চলাকালে আমির হামজা ইচ্ছাকৃতভাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘আপাদমস্তক ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে জনসমক্ষে অভিহিত করেন।

আরও বলা হয়, আমির হামজা একজন সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় বক্তা হওয়ায় তার এ বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তার অপূরণীয় মানহানি ঘটেছে। এ মানহানিকর বক্তব্যের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার সম্মানহানি করা হয়েছে দাবি করে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ডব্লিউ-এ) ইস্যু করার আবেদন জানানো হয়েছে।

বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে

বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে


ছবি: সংগৃহীত 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

এদিকে যেসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে, এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। এর বিরোধিতা করেছেন কমিটিতে থাকা বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এমন ১৫ অধ্যাদেশের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। রাতে সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। তৃতীয় দিনের বৈঠকে শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষ করে কমিটি। ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।’

তবে গণভোটের অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল, এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এতে অংশ নেন কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম অংশ নেন বৈঠকে। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে তারা আগে থেকে একমত ছিলেন না। আজও একমত হতে পারেননি। সরকারি দল কিছুটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি, যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।’

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। আর কিছু হয়তো বিল আনার সময় পাওয়া যাবে না। সেগুলো নিয়ে চিন্তা হলো, পরবর্তী অধিবেশনে যেগুলো পাস করতে চাইবে, বিল আকারে আনব।’ 

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় ও সরকারি দলের সদস্যরা কিছু কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেগুলো যথাযথভাবে রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে। বিল আকারে যখন উত্থাপিত হবে, তখন আইন প্রণয়নের সময় যার যার বক্তব্য দিতে পারবেন।

২৯ মার্চ, ২০২৬

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শ্রমিকদের ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শ্রমিকদের ৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়


ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে শ্রমিকদের ৬ কোটি ৯৭ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য এ আইনি সেবা দেওয়া শুরু হয়। পরবর্তিতে সুপ্রিম কোর্ট; টোল ফ্রি-‘১৬৬৯৯’ কলসেন্টার চালু; ঢাকা ও চট্রগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং কারাগারগুলোতেও এ সেবা চালু করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা ও চট্রগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলে ২২ হাজার ৮৩টি আইনগত পরামর্শ সেবা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ হাজার ৬১৭টি মামলায় আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮২০ টি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে।

এছাড়াও বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির (এডিআর) জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩০৯ মামলায়। এডিআর-এ নিস্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৯২০টি মামলা। ঢাকা ও চট্রগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলে এ পর্যন্ত আইনি সহায়তা পাওয়া উপকারভোগী মোট ৩০ হাজার ৯জন।

দেশে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের’ অধীনে সরকারি খরচায় এ সেবা দেওয়া হয়।আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।