
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গনে গোলাগুলির ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত বিচার ও অস্ত্র আইনের অধীনে সদর মডেল থানায় আলাদা ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই গোলাগুলির ঘটনায় সদর মডেল থানায় ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে কক্সবাজার সদর মডেল থানার তদন্তের পরিদর্শক হিমেল রায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
একটি মামলার বাদি হলেন ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা লিয়াকত আলী। এই মামলাটিতে পুলিশের হাতে গ্রেফতার জিয়াউল হক জিকুকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অপরদিকে ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। এটি দ্রুত বিচার আইনে ইস্যু করা হয়েছে। অপর দিকে, অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. রুহুল আমিন বাদি হয়ে দায়ের করা মামলাটিরও প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়া জিয়াউল হক জিকু। এই মামলার এজাহারে ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে বলেও জানান হিমেল রায়।
তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটিতে পৃথকভাবে ১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু আদালতে রিমান্ডের শুনানি না করে আসামিদের কারাগারে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই মামলায় অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযানে নেমেছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যাচ্ছে, গ্রেফতার হওয়া জিয়াউল হক জিকু কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকার আবদুল গণির ছেলে। মামলার অপর ৫ আসামি বাদির নিজ এলাকা লিংকরোডের বাসিন্দা।
এদের মধ্যে মৃত আশরাফুজ্জামানের ছেলে মাহামুদুল হক, মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে আবদুল খালেক, মৃত আশরাফুজ্জামানের আরেক ছেলে যথাক্রমে সাহাবউদ্দিন, শামশুউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন।
এছাড়া, এক মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন যে, অপরাধের প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করার উদ্দেশ্যে বিবাদীরা এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এসআই মো. রুহুল আমিন বাদি হয়ে দায়ের করা অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি জিকু। তিনি ছাড়া অন্যান্য আসামির মধ্যে লিংক রোড এলাকার আকবর আহমদ মেম্বারের ছেলে মোহাম্মদ জাহেদ (লিয়াকত আলীর ভাই), মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ছেলে মো. মেহেদী (লিয়াকত আলীর ভাগিনা), আকবর আহমদ মেম্বারের ছেলে শামশুল আলম বাপ্পী (লিয়াকত আলীর ভাই), রামুর গর্জনিয়া এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে রহিম, একই এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, এবং আবদুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন।
মামলার এজাহারে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ভিডিও চিত্রে এরা হস্তাস্ত্র নিয়ে আসতে দেখা গেছে। রোববার (২৪ মে) সকালে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার মামলায় হাজিরা দিতে এসে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় তাকে গুলি করে একদল দুর্বৃত্ত। এই ঘটনার ফলস্বরূপ লিয়াকত আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আহত হন। লিয়াকত আলী প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও মঈন উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায় যে, হামলা করতে আসা এবং আহত ব্যক্তির সাথে থাকা উভয় জনের হাতে অস্ত্র ছিল। এমনকি অস্ত্র ছিল লিয়াকত আলীর ভাইয়ের হাতেও।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, রোববার সকালে গুলির ঘটনাটি লিয়াকত আলী মেম্বার ও খালেক বাহিনীর মধ্যে মামলার বিরোধকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে এই দুই গ্রুপ ছাড়াও তৃতীয় পক্ষের সম্পর্ক থাকতে পারে, যা রামুর গর্জনিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত বিরোধের সূচনা হতে পারে।
গরু পাচার, মাদক চোরাচালান সম্পর্কিত কিনা-এমন প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এই ধরনের কিছু একটা হতে পারে। তিনি বলেন, ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
বিডিএলপিবি/এমএম