![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ১৯তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মমিনুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দেন ফখরুল আলম। তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে ফখরুল আলম বলেন, সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিবারের কাছে ফোন আসে—সাম্যকে কয়েকজন ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে মর্গে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
তিনি আদালতকে আরও জানান, ওই রাতে সাম্য তাঁর বন্ধু বায়েজিদ ও রাফির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। খাবার শেষে ফেরার পথে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তর-পশ্চিম কোণায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ফখরুল আলমকে জেরা করেন।
মামলার বেঞ্চ সহকারী আশরাফুল আমিন জানান, এ নিয়ে মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে গত ৮ আগস্ট মামলার বাদী ও সাম্যর বড় ভাই এস এ এএম শরীফুল আলম এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সাম্যর সহপাঠী আশরাফুল আলম রাফি আদালতে সাক্ষ্য দেন।
গত ৩ মে মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। আসামিরা হলেন—মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন। তাঁদের মধ্যে রাব্বি ও হৃদয় পলাতক; অন্যরা জামিনে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন ২৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার আলম সাম্য। রাত ১২টার দিকে বন্ধুরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন ১৪ মে সকালে সাম্যর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবির রমনা বিভাগের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ গত বছরের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন