সর্বশেষ

৫ অক্টো, ২০২৬

নতুন বা পরিবর্তিত সার্ভিস বিধিতে আগের অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্টের রায়

নতুন বা পরিবর্তিত সার্ভিস বিধিতে আগের অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মচারীদের ২০১১ সালের চাকরি বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করে সেই যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন বা নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার পরবর্তী বিধিমালা প্রয়োগ করে বিলুপ্ত করা যাবে না।

রিট মামলাটির শুনানি শেষে বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৯ আগস্ট ২০২৬ এ রায় দেন। মামলাটি রিট পিটিশন নং ৭০২২/২০২১। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৪ অক্টোবর, ২০২৬।

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার আবেদনকারীরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, এই পদে নির্ধারিত পাঁচ বছর চাকরি পূর্ণ করলে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির সুযোগ ছিল।

আবেদনকারীরা ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে তিনটি পদও শূন্য ছিল।

কিন্তু ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালায় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। এতে আগের বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী আবেদনকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তারা ২০১১ সালের বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। ফলে পরবর্তী বিধিমালা প্রয়োগ করে তাদের সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের রয়েছে এবং নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করলেই পদোন্নতি পাওয়ার নিশ্চিত অধিকার সৃষ্টি হয় না।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

আদালত বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন বা নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে নতুন বিধিমালা প্রয়োগ করে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত অধিকার পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে কেড়ে নেওয়া যায় কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, আপিল বিভাগের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করা গেলেও কর্মচারীদের পূর্বে অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। বিশেষ করে পদোন্নতির জন্য ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা পরবর্তী বিধিমালা করে বিলুপ্ত করা যায় না।

আদালতের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারীরা ২০২১ সালের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই ২০১১ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। ফলে তাদের পদোন্নতি বিবেচনার যোগ্যতা ২০১১ সালের বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছিল।

শুধু ২০১১ সালের বিধিমালা বাতিল হয়েছে—এই কারণে সেই অর্জিত যোগ্যতা পরবর্তী সময়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় না। তাই ২০২১ সালের নতুন বিধিমালা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।

হাইকোর্টের নির্দেশ

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, ২০২১ সালের বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে যারা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন, তাদের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১১ সালের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করতে হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে শূন্য পদ থাকা, উপযুক্ততা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনসম্মত শর্ত প্রযোজ্য হবে। কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি শিক্ষা

পরবর্তী চাকরি বিধিমালা সাধারণভাবে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে কেড়ে নিতে পারে না। কর্তৃপক্ষ চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করতে পারলেও কর্মচারীর অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

বিডিএলপিবি/মাসুম


পুরান ঢাকায় পাথর মেরে সোহাগ হত্যা: প্রধান আসামি মাহিনের জামিন স্থগিত

পুরান ঢাকায় পাথর মেরে সোহাগ হত্যা: প্রধান আসামি মাহিনের জামিন স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন স্থগিতের আবেদনের শুনানি শেষে রোববার (৪ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান যুবাইরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মাহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১ অক্টোবর।

হাইকোর্টে জামিন আবেদনের শুনানিতে মাহিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। ওই সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন জানিয়েছিলেন, মাহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করবে। রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই চেম্বার আদালত মাহিনের জামিন স্থগিত করেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় সোহাগকে

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে রজনী ঘোষ লেনে ৩৯ বছর বয়সী সোহাগকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর ইট ও পাথর দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পরে তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।


বিডিএলপিবি/মাসুম

৪ অক্টো, ২০২৬

যৌতুক মামলায় সাক্ষীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি, সন্দেহের সুবিধায় আসামির খালাস: হাইকোর্টের রায়

যৌতুক মামলায় সাক্ষীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি, সন্দেহের সুবিধায় আসামির খালাস: হাইকোর্টের রায়

  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য থাকায় আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের দায়িত্ব প্রসিকিউশনের। সাক্ষ্য-প্রমাণে যুক্তিসংগত সন্দেহ সৃষ্টি হলে তার সুবিধা আসামিকে দিতে হবে।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ক্রিমিনাল রিভিশন নং- ২৬৫৪/২০২৫ মামলার রায়ে এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলাটি ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানার সি.আর. মামলা নং ৬৪/২০২২-এ যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় দেওয়া সাজা সংক্রান্ত। মামলার রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৪ অক্টোবর, ২০২৬।

মামলার ঘটনা:

মামলার বাদীর সঙ্গে আসামি মো. রাবিউল ইসলামের বিয়ে হয় ২০১০ সালের ৩০ জুন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, বিয়ের সময় চার লাখ টাকা দেওয়ার পর আসামি আরও তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে দুই লাখ টাকা দেওয়া হলেও ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করায় বাদীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করা হয়। বিচার শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তৃতীয় আদালত ৩১ মে ২০২৩ আসামিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ আদালত ৮ নভেম্বর ২০২৩ আপিলটি খারিজ করে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখেন।

হাইকোর্টে আসামির বক্তব্য:

হাইকোর্টে আসামিপক্ষ দাবি করে, বাদীর মামলাটি ছিল পূর্বে দায়ের করা একটি মামলার প্রতিশোধমূলক ও হয়রানিমূলক প্রতিক্রিয়া। আসামি এর আগে বাদী ও তার বাবার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর বর্তমান যৌতুকের মামলা করা হয় বলে দাবি করা হয়।

আসামিপক্ষ আরও দাবি করে, প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য-প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি রয়েছে এবং অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

সাক্ষ্য-প্রমাণে যে অসঙ্গতি পেলেন আদালত:

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের বক্তব্যে আসামির ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এবং সেখানে কতক্ষণ অবস্থান করেছিলেন—এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

বাদী এক বক্তব্যে জানান, আসামি বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে এসেছিলেন এবং বিকেল ৫টা থেকে ৬টার দিকে চলে যান। অন্যদিকে বাদীর বাবা বলেন, আসামি তাদের বাড়িতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট ছিলেন। ফলে ঘটনার সময় ও আসামির উপস্থিতির বিষয়ে সাক্ষ্যগুলোর মধ্যে মৌলিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে আদালত মনে করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের সাক্ষী ডিডব্লিউ-১ জানান, ঘটনার দিন ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ আসামি তার কর্মস্থলে সারাদিন উপস্থিত ছিলেন এবং অফিসের হাজিরা রেজিস্টারে তার উপস্থিতি লিপিবদ্ধ ছিল। জেরায় এ বক্তব্যকে কার্যকরভাবে খণ্ডন করা যায়নি।

আদালতের আইনগত পর্যবেক্ষণ:

হাইকোর্ট বলেন, প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য-প্রমাণে এমন অসঙ্গতি রয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে যুক্তিসংগত সন্দেহ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যৌতুক দাবির কথিত ঘটনার সময়, আসামির উপস্থিতি এবং সেখানে অবস্থানের সময়কাল নিয়ে সাক্ষীদের বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আদালত আরও বলেন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো—প্রসিকিউশনকে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে। সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে যুক্তিসংগত সন্দেহ সৃষ্টি হলে সেই সন্দেহের সুবিধা আসামি পাবেন। এ মামলায় প্রসিকিউশন প্রয়োজনীয় মানদণ্ডে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আদালতের মতে, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সময় তিনি তার কর্মস্থলে ছিলেন—এমন প্রতিরক্ষা সাক্ষ্যও প্রসিকিউশন জেরার মাধ্যমে নড়বড়ে করতে পারেনি। একই সঙ্গে আসামি আগে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও শত্রুতার প্রেক্ষাপটও আদালতের বিবেচনায় আসে।

হাইকোর্টের রায়:

সবশেষে হাইকোর্ট রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের ৮ নভেম্বর ২০২৩-এর রায় এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৩১ মে ২০২৩-এর সাজা বাতিল করেন।

একই সঙ্গে আসামি মো. রাবিউল ইসলামকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয় এবং তার জামিননামা অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ফলাফল: রুল যথাযথ; নিম্ন আদালতের সাজা বাতিল; আসামি খালাস।


বিডিএলপিবি/মাসুম

প্রাচীন দলিলের সামান্য তারিখের অসঙ্গতিতে মালিকানা বাতিল নয়: হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

প্রাচীন দলিলের সামান্য তারিখের অসঙ্গতিতে মালিকানা বাতিল নয়: হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
শতবর্ষ পুরোনো দলিলে তারিখ বা বাংলা-ইংরেজি তারিখ রূপান্তরে সামান্য অসঙ্গতি থাকলেই সেটিকে জাল বা অকার্যকর বলা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ৩০ বছরের বেশি পুরোনো কোনো দলিল যথাযথ হেফাজত থেকে উপস্থাপন করা হলে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৯০ ধারা অনুযায়ী তার সম্পাদন ও সত্যতা সম্পর্কে আইনগত অনুমান সৃষ্টি হয়। শুধু সামান্য কেরানিগত বা তারিখগত অসঙ্গতির কারণে সেই অনুমান খণ্ডন করা যায় না।

মামলার তথ্য:
মামলাটি আবদুল রেজ্জাক ভূঁইয়া ও অন্যান্য বনাম আবদুল হোসেন খান ও অন্যান্য, প্রথম আপিল নং- ৭২১/২০১৮। বিচারপতি শেখ আবদুল আওয়াল ও বিচারপতি এ. কে. এম. রাবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রায় দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয় ৪ অক্টোবর ২০২৬।

বিরোধের সূত্রপাত:

মুন্সিগঞ্জের ২১ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। বাদীদের দাবি ছিল, জমিটির মূল মালিক ইসব খাঁ মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীরা জমির মালিক হন এবং পরবর্তী জরিপে তাঁদের কয়েকজনের নাম ভুলভাবে বাদ পড়ে। এ কারণে তাঁরা স্বত্ব ঘোষণার জন্য মামলা করেন।

অন্যদিকে বিবাদীদের দাবি ছিল, ইসব খাঁ ১৯১৮ সালে ৮৫ টাকার বিনিময়ে একটি অনিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে শেখ ফেলু ভূঁইয়া ওরফে আমির ভূঁইয়ার কাছে জমিটি বিক্রি করেন এবং দখলও বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯২০ সালের নিবন্ধিত বন্ধক দলিল ও ১৯২৬ সালের কবুলিয়ত দলিলের মাধ্যমে লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

হাইকোর্ট দেখতে পান, ১৯১৮ সালের বিক্রয় দলিল, ১৯২০ সালের নিবন্ধিত বন্ধক দলিল এবং ১৯২৬ সালের কবুলিয়ত দলিল—সবগুলোই বহু বছরের পুরোনো এবং যথাযথ হেফাজত থেকে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে।

আদালত বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সময়ে ১০০ টাকার কম মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে দখল হস্তান্তরের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হতে পারত। এখানে ১৯১৮ সালের লেনদেনের মূল্য ছিল ৮৫ টাকা এবং দখলও হস্তান্তর করা হয়েছিল। ফলে নিবন্ধন না থাকলেও লেনদেনটি আইনগতভাবে সম্পন্ন হয়েছিল বলে আদালত মত দেন।

আদালত আরও বলেন, সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৯০ ধারা অনুযায়ী ৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিল যথাযথ হেফাজত থেকে উপস্থাপিত হলে তার সম্পাদন ও সত্যতা সম্পর্কে আদালত আইনগত অনুমান করতে পারে। সংশ্লিষ্ট দলিলগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি রেজিস্ট্রেশন ভলিউম বা বালাম বইয়ের তথ্যও উপস্থাপিত হয়েছিল।

১৯১৮ সালের দলিলে ইংরেজি ও বাংলা তারিখের মধ্যে সামান্য অসঙ্গতি পাওয়া গেলেও হাইকোর্ট এটিকে কারিগরি বা তুচ্ছ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। আদালতের মতে, শতবর্ষ পুরোনো দলিলে ক্যালেন্ডার রূপান্তরের সামান্য ভুল দলিলকে জাল প্রমাণ করে না।

স্বত্ব ঘোষণার মামলায় দখলের গুরুত্ব:

রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪২ ধারা। আদালত বলেন, বাদী যদি জমির দখলে না থাকেন এবং দখল পুনরুদ্ধারের মতো অতিরিক্ত প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেন, তাহলে সেই মামলা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এ মামলায় বাদীরা দীর্ঘ সময় ধরে জমির দখলের বাইরে ছিলেন এবং দখল পুনরুদ্ধারের প্রার্থনা না করে শুধু স্বত্ব ঘোষণার দাবি করেছিলেন। ফলে মামলাটি ৪২ ধারার শর্ত দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে আদালত মত দেন।

উত্তরাধিকার প্রশ্নেও আদালতের পর্যবেক্ষণ:

আদালত আরও দেখতে পান, বাদীদের উত্তরাধিকারের দাবির ভিত্তিতে যে বংশতালিকা উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা ১৯২৪ সালের নিবন্ধিত দান-বিনিময় দলিল-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইসব খাঁর পুত্র আবদুল আজিজ তাঁর পিতার জীবদ্দশায় মারা গেলে, তৎকালীন প্রযোজ্য মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে তাঁর পুত্র জুলমত খাঁ সরাসরি ইসব খাঁর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হতে পারেননি।

আইনি শিক্ষা:

১. ৩০ বছরের পুরোনো দলিলের ক্ষেত্রে আইনগত অনুমান:
যথাযথ হেফাজত থেকে উপস্থাপিত প্রাচীন দলিলের সত্যতা ও সম্পাদন সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারায় আইনগত অনুমান সৃষ্টি হয়।

২. সামান্য কেরানিগত ভুলে প্রাচীন দলিল বাতিল নয়:
শতবর্ষ পুরোনো দলিলের তারিখ বা ক্যালেন্ডার রূপান্তরের সামান্য অসঙ্গতি একাই দলিলকে জাল প্রমাণ করে না।

৩. বাদীকে নিজের স্বত্বের ভিত্তিতে মামলা প্রমাণ করতে হবে:
বাদী বিবাদীর দলিলের দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না।

৪. দখলহীন বাদীর শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা গ্রহণযোগ্য নয়:
দখলের বাইরে থাকা বাদীকে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত প্রতিকার, যেমন দখল পুনরুদ্ধার, চাইতে হবে।

৫. চূড়ান্ত খতিয়ানের আইনগত গুরুত্ব রয়েছে:
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৪ক ধারা অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের সঠিকতার পক্ষে আইনগত অনুমান থাকে, যা উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন করতে হয়।

রায়ের ফলাফল:

হাইকোর্ট আপিলটি মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মুন্সিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ, প্রথম আদালতের ৮ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে দেন। আপিলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১ থেকে ১৪ নম্বর বিবাদীদের বিরুদ্ধে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে মঞ্জুর করা হয়; তবে কোনো খরচ আরোপ করা হয়নি।


বিডিএলপিবি/মাসুম

আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, জামিন নামঞ্জুর; আদালতে হট্টগোল

আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, জামিন নামঞ্জুর; আদালতে হট্টগোল

ছবি: সংগৃহীত 
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে আখতারুজ্জামানকে হাজতখানা থেকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩০ মিনিট শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেল ৪টার দিকে তাকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতকক্ষে আইনজীবীদের হট্টগোল

আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতকক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা, হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার পর বিচারকের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। পরে আদালতকক্ষের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীদের কয়েকজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তবে কীভাবে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ বহিরাগতদের আদালতে এনে এজলাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলায় আনা অভিযোগগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে কেন তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন, সে বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিয়েছেন।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক মামলাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে দুর্নীতি, লাগেজ চুরি, প্রবাসীদের হয়রানি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নামমাত্র এ মামলা করা হয়েছে। মামলায় কোনো ‘কজ অব অ্যাকশন’ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, আখতারুজ্জামান আগে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং পরে অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেও মামলাটি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ইমিগ্রেশন শেষে তারা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান। এ সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রলি সংকট দেখা দেয়। ট্রলি নিতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, লাগেজ পেতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন। এতে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একই সময়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়।

এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/মাসুম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত উভয় পক্ষের আইনজীবী সাক্ষাৎকার 


পান রপ্তানিতে সমিতির প্রত্যয়নপত্রের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করলেন চেম্বার আদালত

পান রপ্তানিতে সমিতির প্রত্যয়নপত্রের বাধ্যবাধকতা স্থগিত করলেন চেম্বার আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
পান রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার জজ মো. রেজাউল হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদেশের ফলে বর্তমানে পান রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের যে বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছিল, তা আর কার্যকর থাকছে না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার মতে, এর ফলে পান রপ্তানির ক্ষেত্রে সৃষ্ট আইনগত বাধা আপাতত দূর হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ গত ৬ আগস্ট আদেশ দেন, সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া বাংলাদেশ থেকে পান রপ্তানি করা যাবে না। ওই আদেশের পর পান রপ্তানির ক্ষেত্রে সমিতির প্রত্যয়নপত্র গ্রহণের শর্তটি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।

হাইকোর্টের ওই আদেশের কার্যকারিতা নিয়ে আপত্তি তুলে রাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল আবেদন করে। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ৬ আগস্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।

ফলে আপাতত পান রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। তবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পরবর্তী কার্যক্রম ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাকে সহযোগিতা করেন মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. তাজুল ইসলাম।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও অ্যাডভোকেট ফয়সল মোহাম্মদ ফায়েজী।


বিডিএলপিবি/মাসুম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎকার

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

কোলাজ ছবি 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসির পাশাপাশি আদালটির সঙ্গে সহযোগিতাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিও পড়তে পারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে ব্যবসায়িক বা আর্থিক লেনদেনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আদালটির দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দ্য টাইমসকে এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যুদ্ধাপরাধের বিচারের সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিসির সমর্থকদের আশঙ্কা, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আদালটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আদালটি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; বিষয়টি এখনো আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর্যায়েই রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (OFAC) জানিয়েছে, এরপর ২০২৬ সালেও আইসিসি-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আগস্টে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতের ১৮ বিচারকের মধ্যে ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর এবং একজন কর্মী রয়েছেন। আইসিসি এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, এর ফলে আদালটির স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনছে আইসিসি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে আদালটি ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান এএক্সার (AXA) সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে এবং নতুন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আইসিসির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।


তথ্যসূত্র: তাস, দ্য টাইমস ও রয়টার্স