সর্বশেষ

১১ সেপ, ২০২৬

মিরপুর-১ থেকে টেকনিক্যাল সড়কে বর্জ্য অপসারণ চেয়ে ডিএনসিসিকে লিগ্যাল নোটিশ

মিরপুর-১ থেকে টেকনিক্যাল সড়কে বর্জ্য অপসারণ চেয়ে ডিএনসিসিকে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মিরপুর-১ থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত প্রধান সড়ক ও ফুটপাত থেকে বর্জ্য অপসারণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে (ডিএনসিসি) আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএনসিসির মেয়র, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে এ নোটিশ দেন বিইউবিটি লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ)।

রাশেদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে বদ্ধপরিকর সেখানে রাস্তার মধ্যে ময়লা আবর্জনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা শুধু নাগরিককে অবহেলা না, প্রধানমন্ত্রীকে অবজ্ঞা করার শামিল। অতি দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ করে পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট আমাদের দাবি।

নোটিশে বলা হয়, মিরপুর-১ থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত মিরপুর রোডের বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়ক ও ফুটপাতের ওপর বর্জ্য লোডিং-আনলোডিং এবং স্তুপীকরণ করা হচ্ছে। এতে ফুটপাত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিবেশদূষণ, যানজট ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করে অবিলম্বে সড়ক ও ফুটপাতের ওপর স্তুপীকৃত সব বর্জ্য অপসারণ করে স্থানগুলো পরিষ্কার ও চলাচলযোগ্য করার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাতকে বর্জ্য স্তূপীকরণ, সংগ্রহ, লোডিং-আনলোডিং বা অস্থায়ী সংরক্ষণের স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাতের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ বর্জ্য সংগ্রহ, লোডিং, আনলোডিং ও পরিবহনের ক্ষেত্রে ডিএনসিসির অনুমোদিত বা নির্ধারিত স্থান ও পদ্ধতি অনুসরণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া অঞ্চল-২-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন ও তদারকি এবং পুনরায় সড়ক বা ফুটপাতে বর্জ্য স্তূপীকরণ করা হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এতে আরো বলা হয়, দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাওয়া হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ডেইলি সান বাংলা (১১.০৯.২০২৬)

৩২ ধরনের শিশুখাদ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে রিট দায়ের

৩২ ধরনের শিশুখাদ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৩২ ধরনের শিশু খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান , আগামী সপ্তাহে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

রিট দায়েরের প্রেক্ষাপট: গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রক্রিয়াজাত খাবারেও ভারী ধাতু, বড় ঝুঁকিতে শিশুরা’’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট আবেদনটি করা হয়।’

প্রক্রিয়াজাত খাবারেও উদ্বেগজনক মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া ৩২ ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে ছয় ধরনের ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি পণ্যে সিসা ও ক্রোমিয়ামের মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত অনুমোদিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ থেকে কয়েকশ গুণ। সবচেয়ে বেশি দূষণের তথ্য মিলেছে বিভিন্ন পানীয়তে। কয়েকটি বেকারি পণ্য ও চকলেটেও সিসার মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি।

‘এসব খাবার গ্রহণের ফলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও মূল্যায়ন করেছেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩২টি পণ্যের মধ্যে ৩১টিতেই শিশুদের ক্যান্সারসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি পাওয়া গেছে ৯টি পণ্যে। এ ছাড়া কয়েকটি খাদ্যপণ্যের শ্রেণিতে শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রোমিয়াম ও নিকেলের সম্ভাব্য ক্যান্সারজনিত ঝুঁকিও গ্রহণযোগ্য সীমার ওপরে পাওয়া গেছে।’

‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের গবেষকরা যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন। এটি গত ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক সাময়িকী জার্নাল ফর ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিসে প্রকাশিত হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পরীক্ষা করে পাওয়া ছয় ধরনের ভারী ধাতুর মধ্যে রয়েছে– সিসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, তামা ও নিকেল। খাবারের নমুনায় এসব ধাতুর ঘনত্ব নির্ধারণের পর খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এগুলো প্রবেশের সম্ভাব্য মাত্রা এবং সেই সংস্পর্শে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়।’

৩২ ধরনের শিশু খাদ্যপণ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (১০.০৯.২০২৬)

১০ সেপ, ২০২৬

তিন অর্থবছরে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

তিন অর্থবছরে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

কোলাজ ছবি 
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করবো।

এর আগে, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে এনবিআরের এই কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক একাধিক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু রিটের রুল খারিজ করে ৩ অর্থবছরের মধ্যে সংস্থাটিকে এনবিআরের দাবিকৃত কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইনজীবীর ব্রিফিং

সিঙ্গেল থেকে ডাবল-ডেকার বাস রূপান্তর, ৪১ বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত, হাইকোর্টে প্রতিবেদন

সিঙ্গেল থেকে ডাবল-ডেকার বাস রূপান্তর, ৪১ বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত, হাইকোর্টে প্রতিবেদন

কোলাজ ছবি 
দেশে এখনো কোনো ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। তার পরও সিঙ্গেল ডেকার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে পরে বডি পরিবর্তন করে ডাবল ডেকার স্লিপার বাস বানিয়ে সড়কে চালানো হচ্ছে। এমন ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিআরটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার তিন সদস্যের এই কমিটি সম্প্রতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিআরটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রতিবেদনটি জমা দেয়। অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএর গঠিত তিন সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান ২০২৫ সালে অননুমোদিত স্লিপার এসি বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি আদালত রুল জারি করেন। 

পরে রিটকারীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বিষয়ে একটি স্বাধীন কারিগরি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।

বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লার নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সদস্য ছিলেন উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ এস এম কামরুল হাসান ও সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মঈনুল ইসলাম।

কমিটিকে দেশে অনুমোদিত ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের সংখ্যা নির্ধারণ, অননুমোদিত বাসের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস অনুমোদন পেলে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরটিএ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। তবে বিআরটিএর ডাটাবেজ পর্যালোচনা করে ডাবল ডেকার (স্লিপার নয়) হিসেবে ৮২৯টি বাসের রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কমিটির পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিঙ্গেল ডেকার বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার পর কিছু মালিক বাসের বডির ধরন পরিবর্তন করে ডাবল ডেকার স্লিপার বানিয়ে সড়কে চালাচ্ছেন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত সড়কে চলাচলরত তিনটি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। অননুমোদিত এসব বাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের জন্য বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নীতিমালা নেই। এ কারণে এ ধরনের বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় না। সিঙ্গেল ডেকার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া কোনো বাস পরে ডাবল-ডেকার স্লিপারে রূপান্তর করে ফিটনেস নবায়নের জন্য এলে তার ফিটনেস নবায়ন না করে রেজিস্ট্রেশন স্থগিতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব অননুমোদিত বাসকে রুট পারমিটও দেওয়া হচ্ছে না।

কমিটি বলেছে, বর্তমানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী সিঙ্গেল ডেকার বাসের অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে। ফলে ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের জন্য পৃথক নিরাপত্তা কাঠামো বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নেই। 

উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের বাসের অনুমোদন, পরিচালনা ও যাত্রী নিরাপত্তার জন্য জাতীয় গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (১০.০৯.১০২৬)

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে সম্মুখীন করা অযৌক্তিক: হাইকোর্টের রায়

অবসরের পর বিচারপতিদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে সম্মুখীন করা অযৌক্তিক: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত
অবসরের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাবেক বিচারপতি ও তাঁদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত পুলিশ বা গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই দ্রুত সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দায়ের করা এক রিট মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেছেন, বিচারক পদে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্ট পেতে তাদের পুনরায় গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের সম্মুখীন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।

এর আগে দায়ের করা রিট আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীগণ কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে তাদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। পূর্বে এসব সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন হতো না।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারী ব্যক্তিদের সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার পূর্বে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদনের শর্ত দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের কারণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলেও গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার অজুহাতে তাকে পাসপোর্ট না দেওয়ায় তিনি বিদেশ ভ্রমণে বাধাগ্রস্ত হন। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতিক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুল নিষ্পত্তি করে এই রায় দেওয়া হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

এবার পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন

এবার পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন

ছবি: সংগৃহীত 
পদত্যাগ করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবরে আজ বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তিনি পদত্যাগপত্র দেন। এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে ছয়জন আইন কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র দিলেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার ৫ আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সুলতানা আক্তার রুবি, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রোহানী সিদ্দিকা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল প্রোজ্জ্বল চাকমা।


বিডিএলপিবি/এমএম

এবার হংকংয়ে নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ

এবার হংকংয়ে নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ

ফাইল ছবি
বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) টিম লিডার ও উপ-পরিচালক মো. রাউফুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেআইটির আবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্তে নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া, আত্মসাৎ এবং এর একটি অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে নজরুল ইসলাম, তার ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম ও মেয়ে আনিকা ইসলামকে হংকংভিত্তিক চায়না সুপ্রিম লিমিটেডের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দ্য ব্যাংক অব ইস্ট এশিয়া লিমিটেডে একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে অর্জিত সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নেও গোপন করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে হংকংয়ে সম্পদ কেনা হয়েছে। এসব সম্পদ হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদ সুরক্ষায় চায়না সুপ্রিম লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং এর নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ, ফ্রিজ বা ব্লক করা জরুরি।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া নজরুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা হয়েছে। অর্থ পাচারের একটি মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন।

এর আগে বিদেশে থাকা নজরুলের আরও সম্পদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় দুদক। তদন্তে যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে অর্থ ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশ এবং অঞ্চলে থাকা সম্পদ সুরক্ষায় ধারাবাহিকভাবে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হংকংয়ের সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ-সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (১০.০৯.২০২৬)