সর্বশেষ

২৭ সেপ, ২০২৬

কোন পক্ষের গাফিলতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড নয়: হাইকোর্টের রায়

কোন পক্ষের গাফিলতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড নয়: হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত 
কোনো মামলায় কয়েকজন পক্ষের মধ্যে আপসনামার ভিত্তিতে পুরো সম্পত্তি নিয়ে ডিক্রি দেওয়া হলেও, ওই সম্পত্তিতে স্বতন্ত্র অধিকার দাবি করা এবং আপসে সম্মতি না দেওয়া অন্য পক্ষের অধিকার তা দিয়ে খর্ব করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, কোনো পক্ষের নিজস্ব অবহেলা বা গাফিলতির কারণে তৈরি ঘাটতি পূরণের জন্য সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড করা উচিত নয়। তবে আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে কোনো পক্ষের লিখিত জবাব গ্রহণ না করা হলে এবং এর ফলে সম্পত্তিতে তার স্বতন্ত্র দাবি প্রতিষ্ঠার সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে মামলাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

সম্প্রতি মোহাম্মদ আলী ও অন্যান্য বনাম আবদুল জব্বার ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ফার্স্ট আপিল নম্বর ৩৩৯/২০১৮ মামলাটির শুনানি হয় ২০ আগস্ট ২০২৬ এবং রায় দেওয়া হয় ২৫ আগস্ট ২০২৬।

মামলার পটভূমি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এলাকার ১৪ দশমিক ৬৪ একর জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। বাদীরা ওই জমির ৫ দশমিক ৮৬ একর নিজেদের বলে দাবি করে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেন। মামলায় কয়েকজন বিবাদী বাদীদের দাবি মেনে নিলেও, অপর কয়েকজন বিবাদী জমির বড় একটি অংশে নিজেদের স্বত্ব দাবি করেন। তারা ১৯৬৪ সাল থেকে বিভিন্ন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার দাবি করেন।

এর আগে একই ১৪ দশমিক ৬৪ একর জমি নিয়ে পার্টিশন স্যুট নম্বর ৫/২০০৪ দায়ের হয়েছিল। ওই মামলায় বর্তমান আপিলকারীদের পক্ষে ৬ দশমিক ২১৫০ একর জমি বরাদ্দ দিয়ে ডিক্রি হয়। পরে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

তবে পরবর্তী স্বত্ব ঘোষণার মামলায় বিবাদীদের মধ্যে কয়েকজন লিখিত জবাব দেরিতে দাখিল করেন। লিখিত জবাব গ্রহণের আবেদন শুনানির দিন তারা বা তাদের আইনজীবী উপস্থিত হয়ে আবেদনটি উপস্থাপন না করায় আদালত লিখিত জবাব গ্রহণ করেননি। পরে বাদী ও কয়েকজন বিবাদীর মধ্যে আপসের ভিত্তিতে পুরো মামলার নিষ্পত্তি করা হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, কোনো পক্ষের নিজস্ব অবহেলা বা গাফিলতির কারণে তৈরি ঘাটতি পূরণের জন্য সাধারণভাবে মামলা রিমান্ড করা উচিত নয়। তবে কোনো পক্ষের ইচ্ছাকৃত বা দোষযোগ্য আচরণের কারণে নয়, এমন পরিস্থিতিতে যদি সে কার্যকরভাবে মামলা পরিচালনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং এতে তার গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলা পুনরায় বিচারের জন্য পাঠানো যেতে পারে।

আদালত আরও বলেন, বর্তমান আপিলকারীরা মামলায় পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। তারা আদালতে হাজির হয়েছিলেন, লিখিত জবাব দাখিলের সময় নিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত লিখিত জবাবের সঙ্গে তা গ্রহণের আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু শুনানির দিন আইনজীবী আবেদনটি উপস্থাপন না করায় লিখিত জবাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

হাইকোর্টের মতে, জমির স্বত্ব ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ওই লিখিত জবাব প্রত্যাখ্যানের ফল ছিল গুরুতর। কারণ সংশ্লিষ্ট বিবাদীরা নিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশে স্বতন্ত্র স্বত্ব দাবি করেছিলেন এবং আগের পার্টিশন মামলার ডিক্রির ওপরও নির্ভর করেছিলেন।

আপসনামা নিয়ে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

হাইকোর্ট স্পষ্ট করেন, কোনো পক্ষের সঙ্গে করা আপসনামা সেই আপসে সম্মতি না দেওয়া অন্য পক্ষের স্বতন্ত্র অধিকারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। ওই পক্ষের দাবি যথাযথভাবে বিচার করে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

আদালত আরও দেখতে পান, আগের পার্টিশন মামলায় যে জমি নিয়ে ডিক্রি হয়েছিল, সেটিই বর্তমান মামলার জমির সঙ্গে পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট। আগের ডিক্রিতে বর্তমান আপিলকারীদের পক্ষে ৬ দশমিক ২১৫০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী আপস ডিক্রি ওই আগের ডিক্রির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট আপিল মঞ্জুর করে ২০১৫ সালের নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন। একই সঙ্গে মামলাটি নতুন করে নিষ্পত্তির জন্য ট্রায়াল কোর্টে ফেরত পাঠানো হয়।

আদালত আরও নির্দেশ দেন, ১১–২২ নম্বর বিবাদীদের দাখিল করা লিখিত জবাব ১০ হাজার টাকা খরচ পরিশোধের শর্তে রেকর্ডে গ্রহণ করতে হবে। আর আপিলে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া ৯–১৮ নম্বর আপিলকারীদের মূল মামলায় বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে লিখিত জবাব দাখিলের সুযোগ দিতে হবে।

নতুন করে বিচারকাজে সব পক্ষকে প্রমাণ উপস্থাপনের যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে এবং আগের পার্টিশন মামলার ২০০৭ সালের ডিক্রিসহ পরবর্তী ডিক্রি বিবেচনায় নিতে ট্রায়াল কোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি নিম্ন আদালতের নথি ও রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর সম্ভব হলে ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ের মূল বক্তব্য

আপসনামায় অংশ না নেওয়া কোনো পক্ষের স্বতন্ত্র স্বত্ব ও অধিকারকে আপসের মাধ্যমে খর্ব করা যায় না। বিশেষ করে একই সম্পত্তি নিয়ে পূর্ববর্তী আদালতের ডিক্রি বিদ্যমান থাকলে, তা উপেক্ষা করে আপসের ভিত্তিতে নতুন ডিক্রি দেওয়া আইনগতভাবে টেকসই নয়। ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে তার দাবি প্রমাণের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে।


বিডিএলপিবি/মাসুম

পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ; ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কার্যক্রম

পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ; ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কার্যক্রম

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ইউএনওডিসি ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাগত মান আরও উন্নত করতে দেশের সব বিভাগে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য বিভাগেও পর্যায়ক্রমে তা সম্প্রসারণ করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউএনওডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহীয়ান এবং ইউএনডিপির আইনের শাসন, বিচার ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়াইগার অংশ নেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

বিভাগভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন জেলা ও চৌকি বারের আইনজীবীরা:

বৈঠকে দেশের আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীন জেলা বার ও চৌকি বারের আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে জেলা ও চৌকি বার পর্যায়ের আইনজীবীরাও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

গুরুত্ব পাবে পেশাগত সততা ও মানবাধিকার:

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করা।

একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থায় পেশাগত নৈতিকতার চর্চা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়েও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চর্চার সঙ্গে পরিচিত করার বিষয়টিও এ উদ্যোগের অংশ।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় উদ্যোগ:

এর আগে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ বিষয়ে দুই দিনব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণের শিরোনাম ছিল—‘বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ’।

ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবার দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের একই ধরনের পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত:

বৈঠকে আগামী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপি, আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতায় দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের কর্মসূচি আইনজীবী ও বিচারসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সততা, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের চর্চাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭/০৯/২০২৬)


হাদি হত্যা মামলা: পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে

হাদি হত্যা মামলা: পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর (সম্পূরক) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রায় ২০ বার সময় দেওয়া হলো। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট:

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এরপর গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের আদালতে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

যেভাবে হামলার শিকার হন হাদি:

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শরীফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে এর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার আওতাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে হাদির মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলি লাগে। তিনি গুরুতর আহত হন।

প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর ১৮ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদি মারা যান।

হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে হত্যা মামলা:

হামলার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এখন সিআইডির অধিকতর তদন্ত শেষে সম্পূরক প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭/০৯/২০২৬)


১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত 
১৯তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা, ২০২৬-এর প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তসলিম আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঊনবিংশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৬-এর প্রাথমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের জানানো যাচ্ছে যে, প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এখনো পরীক্ষার কেন্দ্র, সময় ও বিস্তারিত সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সম্মতি নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরীক্ষার কেন্দ্র ও সময় চূড়ান্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত সময়সূচি যথাসময়ে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

এ অবস্থায় ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার সব আবেদনকারীকে কমিশনের ওয়েবসাইট নিয়মিত অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি:



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি

উচ্চ আদালতের আদেশ তার প্রকৃত অর্থ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে, দেওয়া যাবে না মনগড়া ব্যাখ্যা : হাইকোর্ট

উচ্চ আদালতের আদেশ তার প্রকৃত অর্থ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে, দেওয়া যাবে না মনগড়া ব্যাখ্যা : হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
উচ্চতর আদালতের কোনো আদেশ তার প্রকৃত অর্থ ও কার্যকারিতা অনুযায়ী পালন করতে হবে। কোনো অধস্তন কর্তৃপক্ষ বা পক্ষ এমনভাবে ওই আদেশের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ করতে পারে না, যাতে উচ্চতর আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ব্যর্থ হয়। এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে।

Civil Revision No. 6619 of 2023 মামলায় বিচারপতি মো. আলী রেজা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রায় দেন। মামলাটি ছিল Aziz Al Kaisar vs. Mrs. Tabassum Kaisar and others। এর পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী আজিজ আল কায়সার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে Title Suit No. 899 of 2023 দায়ের করেন। এতে তিনি দাবি করেন, বিবাদী নং ১ নিজের অর্থে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের নির্দিষ্ট শেয়ার এবং ওই শেয়ার থেকে অর্জিত লভ্যাংশ ক্রয় করেননি। বাদীর দাবি ছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে শেয়ারগুলো তার কাছ থেকে হস্তান্তরসহ বিভিন্ন উপায়ে বিবাদী নং ১-এর নামে যায় এবং এর মূল্য তিনি পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে ওই শেয়ার ও লভ্যাংশের ওপর বিবাদী নং ১-এর কোনো স্বত্ব বা অধিকার নেই—এমন ঘোষণাও চাওয়া হয়।

মামলা দায়েরের দিনই বাদী দেওয়ানি কার্যবিধির Order 39 Rules 1 and 2 read with Section 151-এর অধীনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। তবে বিচারিক আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য ১১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ নির্ধারণ করেন। পরে ১৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখেও বাদী পৃথক একটি আবেদন করেন। ওই আদেশে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন দায়ের করেন।

হাইকোর্ট ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রয়ের ওপর এবং নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে থাকা ওই শেয়ারসংক্রান্ত নগদ লভ্যাংশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরে বিবাদী নং ১ আপিল বিভাগে Civil Petition for Leave to Appeal No. 82 of 2024 দায়ের করেন। ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারক হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে বিবাদী নং ১-এর প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ওই সংশোধিত আদেশটি বিধি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখেন।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, আপিল বিভাগের ১৪ জানুয়ারি ২০২৪-এর সংশোধিত আদেশে বিবাদী নং ১-কে সংশ্লিষ্ট শেয়ার থেকে অর্জিত নগদ লভ্যাংশ গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়নি। বরং ২৯ এপ্রিল ২০২৪-এর আদেশে ওই সংশোধিত আদেশটি বিধি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়। ফলে ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে বিধি নিষ্পত্তির তারিখ পর্যন্ত বিবাদী নং ১ সংশ্লিষ্ট নগদ লভ্যাংশ গ্রহণের অধিকারী ছিলেন।

রায়ে আদালত আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রশাসনের স্বার্থে উচ্চতর আদালতের প্রতিটি আদেশ তার প্রকৃত অর্থ ও কার্যকারিতা অনুযায়ী পালন করতে হবে। কোনো বিচারিক আদেশ মেনে চলা ইচ্ছাধীন বিষয় নয়; এটি আইনের শাসনের একটি অপরিহার্য অংশ। কোনো আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কাজের অনুমতি থাকলে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যাবে না, যার ফলে তার বিপরীত ফল সৃষ্টি হয়।

একই সঙ্গে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন, বিশেষ করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন, সাধারণত জরুরি প্রকৃতির। এসব আবেদনের নিষ্পত্তিতে অযথা বিলম্ব হলে পক্ষগুলোর অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি হতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল মামলার কার্যক্রমই নিষ্ফল হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে দেওয়ানি মামলা পরিচালনার ব্যবহারিক নির্দেশিকার ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের নির্দেশনার কথাও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে সিটি ব্যাংক লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্টদের ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে রায়ের তারিখ পর্যন্ত বিবাদী নং ১-এর প্রাপ্য মোট নগদ লভ্যাংশের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তা পৃথকভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়। পরিশোধযোগ্য অবশিষ্ট লভ্যাংশ কোনো অযথা বাধা, হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে হলফনামার মাধ্যমে প্রতিপালন প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

এ ছাড়া ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজকে ১২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে দায়ের করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি রায়ের কপি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতকে মামলার উপকরণের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে এবং অপ্রয়োজনীয় মুলতবি না দিতে বলা হয়েছে।

এসব পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার মাধ্যমে হাইকোর্ট বিধি নিষ্পত্তি করেন। মামলায় কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি।


বিডিএলপিবি/মাসুম

আদালতের কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ এবং অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ এবং অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত 

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন।

বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরাসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বিচারিক কাজে আইন ও নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সিলেট বিভাগের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মনিটরিং কমিটি ফর সাবর্ডিনেট কোর্টসের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিকরা বিচারিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সিলেট বিভাগের চার জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা নিশ্চিত করা, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বাড়ানো এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪


বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন বিচারপতি রেজাউল হক

বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন বিচারপতি রেজাউল হক

ছবি: সংগৃহীত 
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বিদেশ সফরকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ড এবং ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়া সফর করবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে এবং ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে অথবা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি মো. রেজাউল হকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদান করেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন