 |
| ছবি: সংগৃহীত |
সার ডিলার নিয়োগে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে সরকারের জারি করা নতুন নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।বুধবার (৭ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার (স্ট্যাটাসকো) আদেশ স্থগিত করে এ আদেশ দেন।
এর ফলে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো আইনি বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত
সরকারের সংশোধিত নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য হাইকোর্টে দুটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি শেষে গত ৬ অক্টোবর হাইকোর্ট তাদের বিদ্যমান ডিলারশিপ বাতিল না করার নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিধানের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।
এর বিরুদ্ধে একই দিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
বুধবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা আকতার জুঁই ও মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একরামুল হক টুটুল।
নতুন নীতিমালায় কী বলা হয়েছে
কৃষকের কাছে সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়া এবং সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে সার ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এর সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও পুত্রবধূর নামে একাধিক ডিলারশিপ নেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ বা সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।
এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট নীতিমালায় সংশোধন আনে। পরে ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয় সংশোধিত ও হালনাগাদ নীতিমালা প্রকাশ করে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো পরিবারের একজন সদস্যের ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার পরিচয়পত্র থাকলে, একই পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হতে পারবেন না।
‘পরিবার’ বলতে কারা
নীতিমালায় ‘পরিবার’ বলতে বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, ছেলের ছেলে ও তাদের স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা এবং নির্ভরশীল ভাই-বোনকে বোঝানো হয়েছে—যারা একই অন্নে বা একই খানায় খাদ্য গ্রহণ করেন।
সরকারের মতে, এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো সার ডিলার নিয়োগে একক পরিবার বা গোষ্ঠীর আধিপত্য কমানো এবং কৃষকের কাছে সারের সুষম ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সরকারের বক্তব্য
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে বলেন, ২০০৯ সালের নীতিমালার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি ও পরিবার একাধিক ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সার ব্যবসায় সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিক ডিলার কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ২০২৫ সালেও নীতিমালায় এ ধরনের সংশোধন আনা হয়েছিল। তখন সংশোধিত বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হলে হাইকোর্ট এক রায়ে ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাকে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
চেম্বার আদালতের আদেশের পর যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল
চেম্বার আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত হওয়ার অর্থ হলো ২৭ আগস্টের নতুন নীতিমালাটি কার্যকর থাকছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন থেকে ওই নীতিমালার আলোকে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগে পারিবারিক আধিপত্য ও সিন্ডিকেটের সুযোগ বন্ধ হবে এবং কৃষকের কাছে সারের ন্যায্য ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।
সূত্র: গণমাধ্যমে প্রচারিত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎকার
বিডিএলপিবি/এমএম