সর্বশেষ

২১ সেপ, ২০২৬

বাংলাদেশে আত্মহত্যায় প্ররোচনা (Abetment of Siucide): আইনি বিধান, শাস্তি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ

বাংলাদেশে আত্মহত্যায় প্ররোচনা (Abetment of Siucide): আইনি বিধান, শাস্তি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ

কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা কিংবা আত্মহত্যার কাজে সহায়তা করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধের বিচার ও শাস্তি নির্ধারণে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, অভিযোগ প্রমাণে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর বিধানও প্রাসঙ্গিক।

আত্মহত্যায় প্ররোচনা কী?

আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলতে কাউকে আত্মহত্যার দিকে উসকে দেওয়া, প্ররোচিত করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করাকে বোঝায়। তবে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেই অন্য কাউকে দায়ী করা যায় না। অভিযুক্তের ভূমিকা, মানসিক উপাদান এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ডের আইনগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা: শাস্তি ও অপরাধের উপাদান

দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করলে এবং অন্য কেউ তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিলে, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার শর্তে প্ররোচনাকারীর সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ১০৭ ধারায় বর্ণিত প্ররোচনা, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সহায়তা কিংবা ইচ্ছাকৃত সহায়তার উপাদান থাকতে হয়। পাশাপাশি, অভিযুক্তের প্রয়োজনীয় মানসিক উপাদান এবং আত্মহত্যার সঙ্গে তাঁর আচরণের প্রাসঙ্গিক যোগসূত্রও বিবেচ্য। শুধু বিরোধ, মনোমালিন্য, অপমান কিংবা সাধারণ ঝগড়ার ঘটনা দিয়ে ৩০৬ ধারার অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ক ধারা:

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ক ধারায় নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত কোনো কাজের প্রত্যক্ষ কারণে সম্ভ্রমহানির ফলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলে শাস্তির বিধান রয়েছে। এ অপরাধে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে। তবে এ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত শর্ত ও ঘটনার প্রমাণ বিবেচনা করতে হয়।

আত্মহত্যার চেষ্টা: দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা:

দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুযায়ী, আত্মহত্যার চেষ্টা একটি পৃথক দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।আত্মহত্যার চেষ্টা এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা এক নয়। প্রথমটি নিজের জীবন শেষ করার প্রচেষ্টা, আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির প্ররোচনা বা সহায়তার ভূমিকা বিবেচ্য।

অভিযোগ প্রমাণে কী বিবেচনা করে আদালত?

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্তের ফৌজদারি দায় নির্ধারণে আদালত সাধারণত বিবেচনা করেন—

* অভিযুক্তের কথাবার্তা, আচরণ ও সহায়তার প্রকৃতি;

* আত্মহত্যার সঙ্গে অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডের আইনগত সম্পর্ক;

* প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ;

* অপরাধের উপাদান সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না।

অপমান, হুমকি বা মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে; তবে সেগুলো একাই সব ক্ষেত্রে ৩০৬ ধারার অপরাধ প্রতিষ্ঠা করে না।

প্রাসঙ্গিক বিচারিক সিদ্ধান্ত:

১. Ramesh Kumar v. State of Chhattisgarh (2001)

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ মামলায় ‘instigation’ বা প্ররোচনার অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাউকে কোনো কাজের দিকে উসকে দেওয়া বা উৎসাহিত করার বিষয়টি বিবেচনা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো বক্তব্য বা আচরণকে প্ররোচনা হিসেবে গণ্য করতে হলে তার প্রকৃতি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ জরুরি।

২. M. Mohan v. State (2011) : ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তে ৩০৬ ধারার অপরাধ প্রতিষ্ঠায় প্ররোচনা বা সহায়তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সাধারণ বিবাদ বা কথাকাটাকাটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচনা নয়।

৩. Pramod Shriram Telgote v. State of Maharashtra (2018): বোম্বে হাইকোর্টের এ মামলায় ৩০৬ ধারার অভিযোগে অপরাধমূলক অভিপ্রায় বা mens rea এবং অভিযুক্তের আচরণের ভূমিকা বিবেচনার বিষয়টি উঠে আসে।

উল্লেখ্য, এসব ভারতীয় বিচারিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আদালতের জন্য সরাসরি বাধ্যতামূলক নজির নয়; তবে প্ররোচনার ধারণা বিশ্লেষণে তুলনামূলকভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

৪. এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ: ওয়াহিদা সিফাত মামলা (২০১৭)

ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। মামলায় মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্ব পায়।

তবে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ হাইকোর্ট বিভাগ ওই রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। এ মামলায় পারিবারিক কলহ, ঝগড়া বা প্রতিকূল পরিবেশের পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৭ ধারার অধীনে প্ররোচনা কিংবা ইচ্ছাকৃত সহায়তার উপাদান প্রমাণের গুরুত্ব সামনে আসে।

সুতরাং, বাংলাদেশে ৩০৬ ধারাসংক্রান্ত বিস্তৃত আপিল-নজির তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও অপরাধের উপাদান ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।

সুইসাইড নোটের সাক্ষ্যগত গুরুত্ব:

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩২(১) ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যুর দিকে পরিচালিত পরিস্থিতি সম্পর্কে মৃত ব্যক্তির বক্তব্য নির্দিষ্ট শর্তে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হতে পারে।

এ কারণে সুইসাইড নোট আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে নোটে কারও নাম উল্লেখ থাকলেই তাঁর অপরাধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না। নোটের সত্যতা, বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা এবং অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণের সঙ্গে তার সামঞ্জস্যও বিবেচ্য।

পরিশেষে, বাংলাদেশে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শুধু আত্মহত্যার ঘটনা প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়; দণ্ডবিধির ১০৭ ও ৩০৬ ধারার প্রাসঙ্গিক উপাদান প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি। বিশেষ ক্ষেত্রে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ক ধারা এবং সাক্ষ্য আইনের ৩২(১) ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেই কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না। অভিযুক্তের ভূমিকা, অপরাধমূলক অভিপ্রায়, নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনের শর্ত বিবেচনা করেই আদালতকে দায় নির্ধারণ করতে হয়।

সূত্র:
১. দণ্ডবিধি, ১৮৬০ — ১০৭, ৩০৬ ও ৩০৯ ধারা
২. বাংলাদেশের আইনভান্ডার — নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ক ধারা এবং সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩২(১) ধারা
৩. The Daily Star — ওয়াহিদা সিফাত মামলায় পুনর্বিচারের নির্দেশ
৪. Ramesh Kumar v. State of Chhattisgarh (2001); M. Mohan v. State (2011); Pramod Shriram Telgote v. State of Maharashtra (2018)—ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও বোম্বে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত।

বিডিএলপিবি/মাসুম

১৭ সেপ, ২০২৬

বিচার বিভাগে বড় রদবদল: জেলা ও দায়রা জজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারককে বদলি

বিচার বিভাগে বড় রদবদল: জেলা ও দায়রা জজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারককে বদলি

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের বিচার বিভাগে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে নতুন পদ ও কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এসব প্রজ্ঞাপনে জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, কুষ্টিয়া, নরসিংদী, মাদারীপুর, গাজীপুর, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার বিচারিক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকদের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজনকে জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বদলি ও পদায়নের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার পদেও বিচারকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, মাগুরা, কক্সবাজার, যশোর, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলার নাম রয়েছে।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে বদলিকৃত বিচারকদেট ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে থাকা বিচারক-কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষে যোগদানের তারিখে বর্তমান পদের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। বদলিকৃতদের পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পদ ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

একই দিনে জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিচার বিভাগে এই রদবদল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে সংশ্লিষ্টদের বর্তমান পদ ও কর্মস্থল এবং বদলিকৃত পদ ও কর্মস্থলের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ; ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনসমূহ যা নিচে দেওয়া হলো:
















বিডিএলপিবি/এমএম

শুধু মৃত্যুকালীন ঘোষণার ওপর নির্ভর করে কি দণ্ড প্রদান করা যায়? আইন, নীতি ও গুরুত্বপূর্ণ নজির

শুধু মৃত্যুকালীন ঘোষণার ওপর নির্ভর করে কি দণ্ড প্রদান করা যায়? আইন, নীতি ও গুরুত্বপূর্ণ নজির

ছবি: ফাইল 
কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর আগে তার মৃত্যুর কারণ বা মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে যে বক্তব্য দেন, আইনগতভাবে তা মৃত্যুকালীন ঘোষণা (Dying Declaration) হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সাক্ষ্য আইনে ধরনের বক্তব্যের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩২() ধারায় মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণা কী?

সাক্ষ্য আইনের ৩২() ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর কারণ অথবা যে ঘটনার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে, সেই ঘটনার কোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য দিলে এবং পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ আদালতে প্রশ্নের বিষয় হলে, সেই বক্তব্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি অবশ্যই মৃত্যুর আশঙ্কায় থাকতে হবেএমন কোনো শর্ত বাংলাদেশের আইনে নেই।

ধরনের বক্তব্য মৌখিক বা লিখিত হতে পারে। পরিস্থিতিভেদে ইশারা বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও তা প্রকাশ করা সম্ভব। ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে দেওয়া বক্তব্যও নির্দিষ্ট শর্তে বিবেচিত হতে পারে। তবে বক্তব্য কী পরিস্থিতিতে, কার মাধ্যমে এবং কীভাবে রেকর্ড করা হয়েছেএসব বিষয় আদালত প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের সময় বিবেচনা করেন।

শর্তাবলিঃ

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩২() ধারা অনুযায়ী মৃত্যুকালীন জবানবন্দি (Dying Declaration)- মূল উপাদান বা শর্তগুলো হলো- ১. যে ব্যক্তি বিবৃতি দিয়েছেন, তাকে অবশ্যই মারা যেতে হবে। ২. বিবৃতিটি অবশ্যই মৃত্যুর কারণ বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কিত হতে হবে। ৩. কার্যকারণ সম্পর্ক: মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকতে হবে। ৪. মামলাটি যখন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ বা পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে হয়, তখন এই বিবৃতিটি প্রাসঙ্গিক আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম:

সাধারণভাবে শ্রুত সাক্ষ্য (Hearsay Evidence) আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, যে ব্যক্তি মূল বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে আদালতে এনে জেরা করার সুযোগ থাকে না। তবে মৃত্যুকালীন ঘোষণা এই সাধারণ নিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ব্যতিক্রম (Statutory Exception) এক্ষেত্রে প্রচলিত নীতির সঙ্গে Nemo moriturus praesumitur mentireঅর্থাৎ মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি মিথ্যা বলবেন নাএই ধারণাটি যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত Milon @ Shahabuddin Ahmed v. State, 53 DLR 464 মামলায় মৃত্যুকালীন ঘোষণার প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভরযোগ্যতার নীতি আলোচিত হয়েছে। এ মামলায় আদালত বলেন, মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে থাকা একজন ব্যক্তি সাধারণত নির্দোষ কাউকে মিথ্যাভাবে জড়াবেন না, এমনকি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার শত্রুতাও থাকলেও।

মৃত্যুর আশঙ্কা থাকা বাধ্যতামূলক নয়:

ইংরেজি প্রচলিত আইনের তুলনায় বাংলাদেশের আইনে মৃত্যুকালীন ঘোষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ৩২() ধারাই স্পষ্ট করে যে, বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি মৃত্যুর প্রত্যাশায় ছিলেন কি না, তা বক্তব্যটির প্রাসঙ্গিকতার জন্য অপরিহার্য নয়। Humayun Matubbar v. State, 51 DLR 433 মামলায়ও বলা হয়েছে, মৃত্যুকালীন ঘোষণা দেওয়ার সময় ঘোষণাকারীকে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর প্রত্যাশায় থাকা আবশ্যক নয়। একই সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা শুধু হত্যাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়।

শুধু মৃত্যুকালীন ঘোষণার ভিত্তিতে কি দণ্ড হতে পারে?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পারে। কোনো মৃত্যুকালীন ঘোষণা যদি আদালতের কাছে সত্য, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত নির্ভরযোগ্য (truthful, voluntary and reliable) বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে স্বাধীনভাবে অন্য প্রমাণ দিয়ে তার সমর্থন করা সবসময় বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি উপযুক্ত ক্ষেত্রে শুধু একটি নির্ভরযোগ্য মৃত্যুকালীন ঘোষণাই দণ্ডের ভিত্তি হতে পারে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের Khushal Rao v. State of Bombay, AIR 1958 SC 22 মামলায় বলা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য মৃত্যুকালীন ঘোষণা একাই দণ্ডের পর্যাপ্ত ভিত্তি হতে পারে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীন সমর্থন বা corroboration বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশেও একই ধরনের নীতি দেখা যায়। State v. Kabel Molla and others, 55 DLR 108 মামলায় একটি যথাযথভাবে রেকর্ড করা বিশ্বাসযোগ্য মৃত্যুকালীন ঘোষণা আসামির দণ্ডের পর্যাপ্ত ভিত্তি হতে পারে বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে সন্দেহযুক্ত ঘোষণা গ্রহনযগ্য নয়:

মৃত্যুকালীন ঘোষণা থাকলেই আদালত তা অন্ধভাবে গ্রহণ করবেনএমন নয়। আদালতকে বক্তব্যটির সত্যতা, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হওয়ার বিষয়, সামঞ্জস্য এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে বিচার করতে হয়।

State v. Babul Hossain, 52 DLR 400 মামলায় বলা হয়েছে, মৃত্যুকালীন ঘোষণার সত্যতা বা নির্ভুলতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে শুধু সেই বক্তব্যের ওপর নিরাপদে নির্ভর করে দণ্ড দেওয়া যায় না। দণ্ডের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার আগে আদালতকে বক্তব্যটির নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে হবে এবং তা প্ররোচিত বা শেখানো হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

একইভাবে, হুমকি, জবরদস্তি, প্ররোচনা বা প্রতারণার মাধ্যমে বক্তব্য আদায় করা হলে তার ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। Sonali Bank v. Hare Krishna Das, 49 DLR 282 মামলায় ধরনের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনা করেই আদালত এর প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করে।

পরিশেষে, সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩২(১) ধারার অধীনে একটি সত্য, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও নির্ভরযোগ্য মৃত্যুকালীন ঘোষণা উপযুক্ত ক্ষেত্রে স্বাধীন সমর্থন ছাড়াও দণ্ডের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে।তবে বক্তব্যটি সন্দেহযুক্ত, অসত্য, প্ররোচিত, জবরদস্তিমূলক বা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া প্রমাণিত হলে আদালত শুধু তার ওপর নির্ভর করে দণ্ড দিতে পারেন না।

তথ্যসূত্র: The Evidence Act, 1872, Section 32(1); Milon @ Shahabuddin Ahmed v. State, 53 DLR 464; Humayun Matubbar v. State, 51 DLR 433; State v. Kabel Molla and others, 55 DLR 108; State v. Babul Hossain, 52 DLR 400; Sonali Bank v. Hare Krishna Das, 49 DLR 282; Khushal Rao v. State of Bombay, AIR 1958 SC 22.

 

বিডিএলপিবি/মাসুম

সালিশি ব্যবস্থা (Arbitration Clause) থাকলে চুক্তিগত বিরোধে সরাসরি রিট গ্রহণযোগ্য নয়: আপিল বিভাগ

সালিশি ব্যবস্থা (Arbitration Clause) থাকলে চুক্তিগত বিরোধে সরাসরি রিট গ্রহণযোগ্য নয়: আপিল বিভাগ

 ছবিঃ সংগৃহীত

চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর সালিশি (Arbitration) ব্যবস্থা নির্ধারিত থাকলে, সেই প্রতিকার গ্রহণ না করে সরাসরি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন করা সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

M/S. AMS Faraj Construction v. Government of Bangladesh and others (Civil Appeal No. 47 of 2025) মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেওয়া রায়ে আপিল বিভাগ এ পর্যবেক্ষণ দেন। রাইয়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ২৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

কুমিল্লার দৌলতপুরে অবস্থিত চিশতি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয় এবং লোকসানের কারণে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি বিক্রির জন্য বিভিন্ন সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হলেও তা সফল হয়নি।

পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে ৩৫ কোটি টাকায় মিলটি বিক্রির জন্য আপিলকারী M/S. AMS Faraj Construction-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ কোটি টাকা এককালীন এবং বাকি ২০ কোটি টাকা পাঁচ কিস্তিতে পরিশোধের কথা ছিল। আপিলকারী মোট ২২ কোটি টাকা পরিশোধ করে মিলের দখল গ্রহণ করেন।

তবে পরবর্তীতে মিল বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দরপত্র ছাড়া বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। এরপর সরকার চুক্তিটি সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানায়।

হাইকোর্টের রায় পরবর্তী আপিল

চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আপিলকারী হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট বিভাগ ১৫ জুন ২০১৫ তারিখে রায় দিয়ে সংশ্লিষ্টদের আপিলকারীকে মিলের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সুযোগ দেওয়া, বকেয়া কিস্তি গ্রহণ এবং চুক্তি অনুযায়ী বিক্রয় দলিল সম্পাদন ও নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা আপিল করলে আপিল বিভাগ Civil Appeal No. 181 of 2016-এ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন। এরপর আপিলকারী রিভিউ আবেদন করেন এবং সেই রিভিউ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আপিলের সৃষ্টি হয়।

সালিশি ধারা নিয়ে আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

মামলাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল চুক্তিতে থাকা সালিশি ধারা।

আপিল বিভাগ উল্লেখ করেন, পক্ষগুলোর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। ফলে চুক্তি বাস্তবায়ন, অর্থ পরিশোধ বা অন্যান্য চুক্তিগত অধিকার নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে চুক্তিতে নির্ধারিত সালিশি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার সুযোগ ছিল।

কিন্তু আপিলকারী সেই সালিশি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে রিট এখতিয়ারের আশ্রয় নেন।

আপিল বিভাগ বলেন, কোনো চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ও সমানভাবে কার্যকর বিকল্প প্রতিকার (equally efficacious alternative remedy) থাকলে সাধারণত সেই প্রতিকার গ্রহণ করতে হয়। বিশেষ করে চুক্তিতে সালিশি ধারা থাকলে এবং সেটি কার্যকর থাকলে, চুক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রথমে সেই ব্যবস্থাই অনুসরণ করা উচিত।

আদালত এ বিষয়ে Bangladesh Telecom (Pvt.) Ltd. v. T&T, 48 DLR (AD) 1996 এবং Md. Mobarak Hossain v. Government of Bangladesh, VII ADC (2010) 835 মামলার নীতির ওপর নির্ভর করেন। এসব সিদ্ধান্তে চুক্তিতে নির্ধারিত কার্যকর সালিশি প্রতিকার থাকা অবস্থায় চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য রিট এখতিয়ার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তির শর্তও মানতে হবে

আপিল বিভাগ আরও বিবেচনা করেন যে, আপিলকারী চুক্তিতে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় কিস্তি ৩০ এপ্রিল ২০১৪-এর মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা সময়মতো পরিশোধ করা হয়নি—যা প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে চুক্তিভঙ্গ হিসেবে উত্থাপন করা হয়।

আদালতের দৃষ্টিতে, কোনো পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করলে তাকে একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত ও নিজের চুক্তিগত দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

রিভিউ আবেদনের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা

আপিল বিভাগ আরও বলেন, রিভিউ (Review) কোনো মামলার পুনঃশুনানি নয়। রিভিউয়ের মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত নতুন করে মূল্যায়ন করার সুযোগ সীমিত। রিভিউ গ্রহণের জন্য সাধারণত রেকর্ডে সুস্পষ্ট ভুল (error apparent on the face of the record) থাকতে হয়।

আদালত দেখতে পান, আপিলকারী মূলত আগের আপিলে উত্থাপিত একই যুক্তিগুলো পুনরায় উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আগের সিদ্ধান্তে এমন কোনো সুস্পষ্ট ভুল দেখাতে পারেননি, যা রিভিউয়ের মাধ্যমে সংশোধনের প্রয়োজন তৈরি করে।

আপিল খারিজ

সবশেষে আপিল বিভাগ চুক্তির শর্ত, সালিশি ধারার অস্তিত্ব, পক্ষগুলোর আচরণ এবং রিভিউয়ের সীমিত এখতিয়ার বিবেচনায় Civil Appeal No. 47 of 2025 খারিজ করেন। একই সঙ্গে মামলায় কোনো খরচের আদেশ দেননি।

সর্বোপরি, চুক্তিতে সালিশি ধারা থাকলে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর সেই ধারাকে উপেক্ষা করে সরাসরি রিটের আশ্রয় নেওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে বিকল্প প্রতিকারের কার্যকারিতা মামলার প্রকৃতির ওপর; তবে কার্যকর সালিশি প্রতিকার বিদ্যমান থাকলে সেটিই অনুসরণের ওপর আপিল বিভাগ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

 

বিডিএলপিবি/মাসুম


রাজউকে প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত

রাজউকে প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ও বিপক্ষে দায়ের করা মামলাসমূহ পরিচালনার জন্য প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পেশাদার ও সক্রিয় আইনজীবীদের কাছ থেকে নির্ধারিত শর্তে আবেদন আহ্বান করেছে রাজউক।

যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীকে—

  • সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট কমপক্ষে ৭ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে; অথবা

  • অধস্তন আদালতে কমপক্ষে ১০ বছরের আইন পেশা/বিচার বিভাগীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

  • ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ বা গাজীপুর জেলার কোনো আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্য হতে হবে।

  • শারীরিকভাবে সক্ষম এবং রাজউকের প্রয়োজন ও নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনায় প্রস্তুত থাকতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা

রাজউকের নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র ৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বিকেল ৪টার মধ্যে চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজউক ভবন, ঢাকা-১০০০ বরাবর পৌঁছাতে হবে।

আবেদন ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের সঙ্গে সম্প্রতি তোলা ৩ কপি সত্যায়িত রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদের সত্যায়িত কপি এবং বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট সনদের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।

এ ছাড়া ৭০০ টাকা মূল্যের পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট (অফেরতযোগ্য) সংযুক্ত করতে হবে। পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটটি চেয়ারম্যান, রাজউক, ঢাকার অনুকূলে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক অথবা অগ্রণী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজউকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় রাজউকের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যাবে না। ইতিপূর্বে চুক্তিভিত্তিকভাবে রাজউকের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত আইনজীবীদেরও পুনরায় আবেদন করতে হবে।

তবে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের বিভিন্ন পত্রিকায় এবং ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজউকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়সীমার পর যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের পুনরায় আবেদন করতে হবে।

নিয়োজিত আইনজীবীদের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতি মাসে নির্ধারিত ছকে রাজউকের পরিচালক (আইন)-এর কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। মামলার রায় হলে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও দ্রুত আইন শাখাকে অবহিত করতে হবে।

ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ বা নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। প্যানেল আইনজীবীর পেশাগত কার্যক্রম সন্তোষজনক না হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই নিয়োগ বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।

আবেদন ফরম ও বিস্তারিত শর্তাবলি: রাজউকের ওয়েবসাইট www.rajuk.gov.bd এ পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞপ্তি:


বিডিএলপিবি/এমএম

১৬ সেপ, ২০২৬

সরকারি ব্যাংকে একসঙ্গে ৮১টি পদে সিনিয়র অফিসার (ল’) ও আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ

সরকারি ব্যাংকে একসঙ্গে ৮১টি পদে সিনিয়র অফিসার (ল’) ও আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইন বিষয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বড় নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিনিয়র অফিসার (ল’)/সিনিয়র অফিসার (আইন)/আইন কর্মকর্তা পদে মোট ৮১টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বণ্টন করা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ

  • রূপালী ব্যাংক পিএলসি — ৪৭টি পদ

  • সোনালী ব্যাংক পিএলসি — ২০টি পদ

  • অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি — ১০টি পদ

  • বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন — ৪টি পদ

অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার (ল’)/সিনিয়র অফিসার (আইন)/আইন কর্মকর্তা পদে মোট ৮১ জন নিয়োগ পাবেন।

এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ব্যাংকে আইন কর্মকর্তা (গ্রেড-৬) পদে আরও ১ জন নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে আইন-সংশ্লিষ্ট পদে মোট ৮২টি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদগুলোর জন্য আইন বিষয়ে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। বিভিন্ন পদের ক্ষেত্রে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক/সমমান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পদভেদে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এবং শিক্ষাজীবনের অন্যান্য শর্তও প্রযোজ্য।

আবেদন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া

নিয়োগ কার্যক্রমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ফি, পেমেন্ট ভেরিফিকেশন ও ট্র্যাকিং সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থীদের প্রাথমিক বাছাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পদ ও প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়োগের শর্ত ভিন্ন হতে পারে।

আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য বড় সুযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক আইন-সংশ্লিষ্ট পদ থাকায় এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য ব্যাংক আইন কর্মকর্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

নোট: পদসংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, আবেদন ফি, আবেদনের শেষ সময় ও অন্যান্য শর্তের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নিচে দেওয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি: 




বিডিএলপিবি/এমএম

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের দায় (Burden of Proof)

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের দায় (Burden of Proof)

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (Evidence Act, 1872)-এর অধীনে প্রমাণের দায় (Burden of Proof) বলতে কোনো পক্ষের উত্থাপিত দাবি, অধিকার, দায় বা নির্দিষ্ট ঘটনা সত্যতা আদালতের কাছে প্রমাণ করার আইনগত দায়িত্বকে বোঝায়। এর মূলনীতি হলো  যে ব্যক্তি কোনো ঘটনা বা তথ্যের অস্তিত্ব দাবি করে এবং সেই দাবির ভিত্তিতে আদালতের কাছ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিকার চায়, সাধারণত তাকেই তা প্রমাণ করতে হয়।

প্রমাণের দায় (Burden of Proof) সম্পর্কিত বিধানগুলো  সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০১, ১০২, ১০৩ ১০৫ ধারায় আলচনা করা হয়েছে।

. ধারা ১০১-  প্রমাণের দায়ের মূলনীতিঃ  ১০১ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে কোনো আইনগত অধিকার বা দায় সম্পর্কে রায় দিতে বললে এবং সেই অধিকার বা দায় নির্ভর করে এমন কিছু তথ্যের অস্তিত্বের ওপর, তাকে সেই তথ্যের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ, যে দাবি করবে, দাবিটির ভিত্তি প্রমাণ করার দায়ও সাধারণত তার ওপর থাকবে।

উদাহরণঃ দাবি করলেন যে’-এর কাছে তার লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।যদি আদালতের কাছে টাকা আদায়ের ডিক্রি চান, তাহলে’-কেই প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে’-এর কাছে তার লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

. ধারা ১০২কার ওপর প্রমাণের দায়? ১০২ ধারা অনুযায়ী, কোনো মামলায় উভয় পক্ষ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করলে যে পক্ষ মামলায় হেরে যাবে, সেই পক্ষের ওপর প্রমাণের দায় থাকবে। অর্থাৎ, আদালত যদি কোনো পক্ষের বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণই না পায়, তাহলে যে পক্ষ তার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হবে, তার ওপর প্রাথমিক প্রমাণের দায় (burden of proof) থাকবে। সুতরং, যদি কোনো পক্ষই কোনো প্রমাণ না দেয়, যে পক্ষ পরাজিত হবেপ্রমাণের দায় তার ওপর।

. ধারা ১০৩নির্দিষ্ট তথ্যের প্রমাণের দায়ঃ ১০৩  ধারা  অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের অস্তিত্ব আদালতকে বিশ্বাস করাতে চাইলে সেই তথ্যের অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায় সেই ব্যক্তির ওপর থাকে, যিনি আদালতকে তা বিশ্বাস করাতে চান।

উদাহরণঃ দাবি করলেন যেএকটি নির্দিষ্ট দিনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত ছিলেন।যদি তার মামলার কোনো বক্তব্য প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিশেষ তথ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাহলে সেই তথ্য প্রমাণের দায়িত্ব’-এর ওপর থাকবে।

. ধারা ১০৫ফৌজদারি মামলায় ব্যতিক্রমের প্রমাণঃ

কোনো আসামি যদি দাবি করেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির (Penal Code) সাধারণ ব্যতিক্রম (General Exception) অথবা বিশেষ ব্যতিক্রম (Special Exception) প্রযোজ্য, তাহলে সেই ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হওয়ার পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণের দায় আসামির ওপর থাকে।

অর্থাৎ, কোনো আসামি যদি দাবি করেন যে অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি এমন মানসিক অবস্থায় ছিলেন যার কারণে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ব্যতিক্রম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাহলে সেই ব্যতিক্রমের ভিত্তি হিসেবে যে পরিস্থিতি তিনি দাবি করছেন, তা প্রমাণের প্রশ্ন আসতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রসিকিউশনকে তার নিজের মামলার প্রয়োজনীয় উপাদান প্রমাণ করতে হবে না। অপরাধের মৌলিক উপাদান প্রমাণের দায়িত্ব সাধারণভাবে প্রসিকিউশনের ওপরই থাকে।

দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের দায় ও মানদণ্ডঃ দেওয়ানি মামলায় প্রমাণের দায়ের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো— “যে দাবি করে, তাকেই প্রমাণ করতে হয়। বাদী (Plaintiff) কোনো অধিকার, মালিকানা, পাওনা, চুক্তি, দখল বা অন্য কোনো আইনগত দাবি করলে সেই দাবির প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো তাকে প্রমাণ করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ নীতিঃ বাদী তার নিজের মামলার শক্তির ওপর সফল হবেন; কেবল বিবাদীর মামলার দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে নয়। অর্থাৎ, বিবাদী যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননিএটি একাই বাদীর দাবি প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

প্রমাণের মানদণ্ডঃ  দেওয়ানি মামলায় সাধারণত প্রমাণের মানদণ্ড হলো সম্ভাবনার ভার (Preponderance of Probabilities) আদালত বিবেচনা করে কোন পক্ষের বক্তব্য প্রমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি বিশ্বাসযোগ্য সম্ভাব্য।

ফৌজদারি মামলায় প্রমাণের দায় ও মানদণ্ডঃ  ফৌজদারি মামলায় সাধারণ নীতি হলোঅপরাধ প্রমাণের দায় প্রসিকিউশনের ওপর। অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ করেছেনএটি প্রসিকিউশনকে আইনসম্মত গ্রহণযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আসামিকে সাধারণভাবে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে হয় না। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হলোঅপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে নির্দোষ বলে গণ্য করা হবে।

প্রমাণের মানদণ্ডঃ

ফৌজদারি মামলায় প্রসিকিউশনকে সাধারণত অপরাধ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে (Beyond Reasonable Doubt) প্রমাণ করতে হয়। যদি প্রসিকিউশনের প্রমাণে এমন যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থেকে যায় যা অপরাধের বিষয়ে বাস্তব অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তাহলে তার সুবিধা আসামি পাবেন।

Burden of Proof এবং Onus of Proof-এর পার্থক্যঃ  দুটি ধারণা পরস্পর সম্পর্কিত হলেও সম্পূর্ণ এক নয়। Burden of Proof হলো মামলায় কোনো দাবি বা বিষয় প্রমাণ করার আইনগত মূল দায়। Onus of Proof মামলার কোনো নির্দিষ্ট পর্যায়ে প্রমাণ উপস্থাপনের তাৎক্ষণিক দায়িত্ব। প্রাথমিকভাবে এক পক্ষের ওপর থাকা যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের পর অন্য পক্ষের দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। যেমন, বাদী প্রথমে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ দিয়ে তার দাবি প্রতিষ্ঠা করলে পরবর্তী পর্যায়ে বিবাদীর ওপর সেই দাবি খণ্ডনের জন্য প্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্ব আসতে পারে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ঃ

. Ajufannessa v. Safar Miah, 30 DLR (SC) 41 (1978)- এ মামলায় আপিল বিভাগ বলেন,  সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারায় বিধান রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো আইনি অধিকার বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে আদালতের রায় পেতে চানযা কোনো ঘটনার অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল এবং যা তিনি দাবি করছেনতবে তাঁকেই প্রমাণ করতে হবে যে সেই ঘটনাগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে। এছাড়া উক্ত আইনের ১০৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার অস্তিত্ব সম্পর্কে আদালতকে বিশ্বাস করাতে ইচ্ছুক ব্যক্তির ওপরই সেই ঘটনা প্রমাণের ভার বর্তায়; তবে যদি কোনো আইনে এমন বিধান থাকে যে ওই ঘটনা প্রমাণের দায়িত্ব নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত থাকবে, সেক্ষেত্রে সেই আইনই প্রযোজ্য হবে।

২. Abul Kashem v. State, 42 DLR 37- মামলায় বলা হয়,  ফৌজদারি মামলায় প্রসিকিউশনের দায়িত্ব, অভিযোগের প্রয়োজনীয় উপাদান প্রমাণ করা। শুধু অভিযোগ উত্থাপন করলেই তা প্রমাণিত হয়ে যায় না; প্রসিকিউশনকে তার মামলা আইনসম্মত প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

. Shah Sufi Taj Islam v. Begum Rokeya Chowdhury, 9 BLT (AD) 62- এই মামলাটি মূলত ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারা (Onus of Proof বা প্রমাণের দায়) এবং একই সাথে প্রশাসনিক আইনের অধস্তন বা অর্পিত বিধানের (Delegated Legislation) বৈধতা সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে জড়িত। আপিল বিভাগ এ মামলার রায়ে বলেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য ব্যক্তির ওপর এমন অবস্থানে থাকেন যেখানে সক্রিয় আস্থা বা প্রভাবের সম্পর্ক বিদ্যমান, তাহলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সৎ বিশ্বাস (good faith) এবং অযাচিত প্রভাবের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রমাণের প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে, কোনো মামলায় বিবাদী পক্ষ যদি বাদীর কোনো দাবি বা প্রাপ্তি স্বীকার করে নেয়, তাহলে তা প্রমাণ করার বাড়তি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বাদীর ওপর থাকে না। অধিকন্তু, মূল আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো প্রশাসনিক বিধি বা নিয়ম তৈরি করা আইনত অবৈধ।

 সূত্র:

The Evidence Act, 1872

https://lawcastlebd.wordpress.com/

https://www.lawyersnjurists.com/article/onus-of-proof/

https://www.researchgate.net/

 

বিডিএলপিবি/মাসুম