সর্বশেষ

৩ নভে, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ ও আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ২৬ আইনজীবীর রিট

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ ও আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ২৬ আইনজীবীর রিট

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টে পর্যাপ্তসংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, প্রয়োজনীয় বেঞ্চ গঠন, বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং আইনজীবীদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন ২৬ জন আইনজীবী।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লবের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের ২৬ জন আইনজীবী জনস্বার্থে (পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন) এই রিট আবেদন করেন। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি দাখিল করা হয়।

রিটে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং মামলা নিষ্পত্তির সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, সুপেয় পানি এবং আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুপ্রিম কোর্টের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দ ২৯১ কোটি টাকা। অথচ একই অর্থবছরে দেশের জাতীয় বাজেটের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রিটকারীদের মতে, বিচার বিভাগের কার্যক্রমের পরিধি ও প্রয়োজনের তুলনায় এই বরাদ্দ অপর্যাপ্ত।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩০টি। বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১০৫ জন বিচারপতি। এর মধ্যে আপিল বিভাগে পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০০ জন বিচারপতি রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীদের বক্তব্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর বিচারিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা অপরিহার্য। মামলার ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলা এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিচারক, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ কারণে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যুক্তিসংগত, প্রয়োজনভিত্তিক ও আনুপাতিক বাজেট কাঠামো প্রণয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।


সূত্র: The Daily Star, ৩ নভেম্বর ২০২৬।

মাদ্রাসায় থাপ্পড়ের ঘটনায় আলোচিত শাহজালাল রুমিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

মাদ্রাসায় থাপ্পড়ের ঘটনায় আলোচিত শাহজালাল রুমিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে; এ সময় গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না
সাত বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড় মেরে আলোচনায় আসা অভিভাবক শাহজালাল রুমিকে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ চুরির মামলায় সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রুমির জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান জানান, হাইকোর্ট শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার বা কোনো ধরনের হয়রানি করতে পারবে না।

আদালতে রুমির পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, বেলাল হোসেন ও এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।

মামলার প্রেক্ষাপট

গত ২১ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় সাত বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড় মারার পর আলোচনায় আসেন শিশুটির অভিভাবক শাহজালাল রুমি।

এরপর মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও অর্থ চুরির অভিযোগে শাহজালাল রুমি এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর টঙ্গী থানায় মামলাটি দায়ের করেন মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মো. আলমাস হোসেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে যৌন হয়রানির অভিযোগের জেরে ২১ অক্টোবর শাহজালাল রুমি ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় তারা হামলা, ভাঙচুর ও উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধর করেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, জমি কেনার জন্য মাদ্রাসার একটি টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যান শাহজালাল রুমি।

মামলাটিতে জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রুমি। শুনানি শেষে আদালত তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

চালকের বিরুদ্ধে বিচারকের করা বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

চালকের বিরুদ্ধে বিচারকের করা বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় চালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার দায়ের করা বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিভাগীয় মামলাটির কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রিট আবেদনটির প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. বাকির হোসেন ও ব্যারিস্টার আবু সাদেক আব্দুল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

ঘটনার সূত্রপাত

রিট আবেদনকারী গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর অভিযোগ, গত ২৩ আগস্ট সকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। গাড়ির লগবইয়ে সময় উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে বিচারকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিচারক তাঁর চোখে ঘুষি এবং কানের ওপর থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁকে চিকিৎসা নিতে হয় এবং চোখে ব্যান্ডেজও করতে হয়েছিল।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কথা বলার জন্য চালককে বিচারকের খাসকামরায় ডাকা হয়েছিল। একপর্যায়ে বিচারক তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দেন। তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

তদন্তের নির্দেশ ও বিভাগীয় মামলা

ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আসার পর গত ২৭ আগস্ট আদালত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এ জন্য ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

এর মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারক সোহেল রানা গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেন। রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, ওই মামলায় বিচারক নিজেই বাদী ও বিচারকের ভূমিকা পালন করছেন।

এ ছাড়া বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে পরিচালিত অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় চালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এ অবস্থায় বিভাগীয় মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আলী হোসেন বাচ্চু। শুনানি শেষে আদালত বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

সূত্র: কালবেলা, ৩ নভেম্বর ২০২৬। 


নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তির শর্ত মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না: হাইকোর্ট

নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তির শর্ত মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তির শর্ত মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। একই সঙ্গে, বিবাদীরা জমির দখলে থাকলে শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা করে প্রতিকার পাওয়া যাবে না; দখল পুনরুদ্ধারের আনুষঙ্গিক প্রতিকারও চাইতে হবে। এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে জমি নিয়ে বিরোধের একটি মামলায় দায়ের করা প্রথম আপিল খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মিসেস সুফিয়া খাতুন বনাম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও অন্যান্য মামলায় (এফ.এ. নং ৪০০/২০১৫) আদালত বলেন, ১৯ জানুয়ারি ২০০০ তারিখের নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তিটি ঋণের জামানত হিসেবে সম্পাদিত হয়েছিল—বাদী তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট প্রকাশিত হয় ৩ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২৫ নভেম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ইলিয়াস মোল্লা ও মো. আলী আকবর আলী মোল্লা বিরোধীয় জমি ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৩ মার্চ নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে তাঁরা জমিটি সুফিয়া খাতুনের কাছে বিক্রি করেন।

বাদীর দাবি ছিল, তাঁর স্বামী একটি তফসিলি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলে ওই ঋণের জামানত হিসেবে ২০০০ সালের ১৯ জানুয়ারি বিবাদী ১-৩-এর অনুকূলে একটি নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করেন। তবে বাস্তবে জমি বিক্রির কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি। তাঁর স্বামীর ঋণ পরিশোধের পর বন্ধকী সম্পত্তিও অবমুক্ত করা হয়।

বাদীর আরও অভিযোগ ছিল, তাঁকে যথাযথভাবে সমন জারি না করে বিবাদীরা ২০০৩ সালে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা দায়ের করেন এবং একতরফা ডিক্রি গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই ডিক্রির ভিত্তিতে জমির দখল নেওয়া হয়। এ অবস্থায় তিনি একতরফা ডিক্রিকে জালিয়াতিপূর্ণ, যোগসাজশমূলক, বেআইনি ও তাঁর ওপর বাধ্যকর নয়—মর্মে ঘোষণার জন্য মামলা করেন।

অন্যদিকে, বিবাদীদের বক্তব্য ছিল, জমির মূল্য ৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করে বাদী তাঁদের অনুকূলে বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করেন। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা সরাসরি এবং অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকা পৃথক অর্থপ্রাপ্তির রসিদের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরও বাদী বিক্রয় দলিল সম্পাদন না করায় তাঁরা সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের মামলা করেন। ওই মামলায় একতরফা ডিক্রি পাওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে ১৩ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে বিক্রয় দলিল সম্পাদন করা হয়।

বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত ও আপিল

খুলনার যুগ্ম জেলা জজ, তৃতীয় আদালত ১ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে ২০০৭ সালের ৪৪৩ নম্বর স্বত্ব মামলাটি বিবাদী ১-৩-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে খারিজ করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাদী হাইকোর্টে প্রথম আপিল দায়ের করেন।

আপিলকারীর যুক্তি ছিল, ২০০০ সালের বিক্রয় চুক্তির বিপরীতে কোনো মূল্য পরিশোধ করা হয়নি এবং চুক্তিটি মূলত ঋণের জামানত হিসেবে সম্পাদিত হয়েছিল। এ ছাড়া ২০০৩ সালের মামলায় সমন জারির প্রক্রিয়াও আইনসম্মত ছিল না।

অন্যদিকে, বিবাদীদের পক্ষে বলা হয়, বাদী সম্পূর্ণ বিক্রয়মূল্য গ্রহণ করেছিলেন এবং আদালতের মাধ্যমে নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলও সম্পাদিত হয়েছে। তাছাড়া বিবাদীরা জমির দখলে থাকায় শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়; দখল পুনরুদ্ধারের প্রতিকারও চাইতে হতো।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বাদী নিজেই বিবাদী ১-৩-এর অনুকূলে ১৯ জানুয়ারি ২০০০ তারিখে নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আদালত বলেন, প্রদর্শনী ‘খ’ হিসেবে চিহ্নিত ওই নিবন্ধিত দলিলটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিক্রয় চুক্তি (Out-and-out Agreement for Sale), বন্ধকী দলিল নয়। ফলে দলিলটি ঋণের জামানত হিসেবে সম্পাদিত হয়েছিল—বাদীর এমন দাবি প্রমাণিত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে আদালত সাক্ষ্য আইনের ৯২ ধারার উল্লেখ করে বলেন, লিখিত চুক্তির শর্তাবলি মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যায় না। বিশেষ করে নিবন্ধিত দলিলের বিষয়বস্তু মৌখিক সাক্ষ্য দিয়ে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। অতএব, নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তিকে ঋণের জামানত হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বাদীর মৌখিক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

সমন জারির বিষয়ে আদালত উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালের ১৫ নম্বর স্বত্ব মামলায় বাদীর মেয়ে শায়লা শারমিনের কাছে সমন জারি করা হয়েছিল বলে মামলার প্রসেস সার্ভার ডি.ডব্লিউ.৩ মো. কামরুজ্জামান সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর সাক্ষ্য অনুযায়ী, বাদীর মেয়ে সমন গ্রহণ করেছিলেন। এ ছাড়া বাদীর স্বামী আকবর আলী মোল্লা বিক্রয় চুক্তির একজন সাক্ষী ছিলেন। এসব বিষয় বিবেচনায় বিচারিক আদালত যথাযথভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বিবাদীরা জালিয়াতির মাধ্যমে একতরফা ডিক্রি গ্রহণ করেছেন—এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, বিচারিক আদালত প্রদর্শনী ‘গ’, ‘গ-১’ ও ‘গ-২’ হিসেবে চিহ্নিত অর্থপ্রাপ্তির রসিদ পর্যালোচনা করে বিবাদীদের কাছ থেকে বাদীর ৩ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত পেয়েছেন।

স্বত্ব ঘোষণার পাশাপাশি দখল পুনরুদ্ধারের প্রতিকার চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জমির দখলসংক্রান্ত প্রশ্ন। হাইকোর্টের কাছে স্বীকৃত বিষয় ছিল, বিবাদীরা বিরোধীয় জমির দখলে রয়েছেন।

এ বিষয়ে আদালত বলেন, বিবাদীরা জমির দখলে থাকা অবস্থায় বাদী শুধু স্বত্ব ঘোষণার জন্য মামলা করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে দখল পুনরুদ্ধারের মতো আনুষঙ্গিক প্রতিকার না চাওয়ায় মামলাটি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু এ কারণেও মামলাটি খারিজযোগ্য।

আপিল খারিজ

সার্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ, নিবন্ধিত দলিল এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেন, বিচারিক আদালতের ১ অক্টোবর ২০১৫ তারিখের রায় ও ডিক্রিতে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো যুক্তিসংগত কারণ পাওয়া যায়নি। বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে।

ফলে হাইকোর্ট প্রথম আপিলটি খরচ ছাড়া খারিজ করেন।

আইনি শিক্ষা

এ রায়ের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে—

১. নিবন্ধিত লিখিত চুক্তির শর্ত সাক্ষ্য আইনের ৯২ ধারার অধীনে মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

২. নিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তিকে ঋণের জামানত হিসেবে দাবি করলে কেবল মৌখিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়; উপযুক্ত আইনগত ও দালিলিক ভিত্তিতে তা প্রমাণ করতে হবে।

৩. একতরফা ডিক্রি জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ যথাযথ সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৪. বিবাদী জমির দখলে থাকলে শুধু স্বত্ব ঘোষণার প্রতিকার চাওয়া যথেষ্ট নয়; প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক প্রতিকার হিসেবে দখল পুনরুদ্ধারের দাবিও উত্থাপন করতে হবে।

মামলার বিবরণ: মিসেস সুফিয়া খাতুন বনাম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও অন্যান্য, এফ.এ. নং ৪০০/২০১৫; রায়ের তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬।

ঢাকার আদালতকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করতে হাইকোর্টে রিট

ঢাকার আদালতকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করতে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে পৃথক দুই বিচারিক অঞ্চলে পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।

ঢাকার বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে পৃথক বিচারিক অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী।

রিটকারী আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আইনগত ও বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আইনমন্ত্রী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান তিনি। তবে নোটিশের কোনো কার্যকর সাড়া না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

নোটিশে ঢাকা উত্তর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা উত্তর মহানগর দায়রা আদালত প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা দক্ষিণ মহানগর দায়রা আদালত গঠন বা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়, ঢাকার বিপুল জনসংখ্যা, বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিধি এবং ক্রমবর্ধমান দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক, বিশেষ ও মহানগর ফৌজদারি মামলার চাপ বিবেচনায় বিদ্যমান বিচারিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস জরুরি।

বর্তমান ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক মামলা, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সাক্ষী, আসামি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সমাগমের কারণে বিচারিক প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে আদালতে যাতায়াত, মামলার ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে পৃথক বিচারিক অঞ্চল গঠন করা হলে বিচারিক কার্যক্রমের বিকেন্দ্রীকরণ, মামলার চাপ হ্রাস এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলানিউজ২৪ | ৩ নভেম্বর ২০২৬


বিচারব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য: জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

বিচারব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য: জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

ছবি: সংগৃহীত 
একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং বিচারকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ দিবস উপলক্ষে ১ নভেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ অভিমত প্রকাশ করে। বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইন ও মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বাধীন বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংগঠনটি আরও জানায়, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর থেকে নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের বিচারকরা নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। মামলাজট কমানো এবং দ্রুততম সময়ে জনগণের কাছে বিচারসেবা পৌঁছে দিতে সংগঠনের সদস্যরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুসংহত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অটুট রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

পরিশেষে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব পর্যায়ের বিচারক, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী এবং ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

সূত্র: জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি।

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ২ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ২ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টের আগে দেওয়া ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত জানিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের হলফনামা আকারে এ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে মৌখিকভাবে এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯ দফা নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পানি ছিটানো, বালু পরিবহনের ট্রাক ঢেকে রাখা, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও প্রকল্প এলাকা ঘিরে রাখা, বিভিন্ন মার্কেটের বর্জ্য নির্দিষ্ট ব্যাগে সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ে অপসারণ এবং রাজধানীর আশপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা।

পরবর্তী সময়ে এইচআরপিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে আদালতে তলবও করা হয়েছিল।

সোমবার মামলাটি পরবর্তী আদেশের জন্য আদালতের কার্যতালিকায় উঠলে এইচআরপিবির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতকে জানান, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অথচ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। এতে বায়ুদূষণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং নগরবাসীর স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ হলফনামা আকারে দাখিলের নির্দেশ দেন।

রিটের আবেদনকারী ছিলেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সারোয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। মামলার বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবেদনের পক্ষে শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল।

সূত্র: ইনকিলাব