নারায়ণগঞ্জে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ১০ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১৩ মে) ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করে এবং আগামী ১০ জুন সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে দেয়।
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করে। মামলায় আসামিদের সবাই পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম এগোচ্ছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায়, ২১ জুলাই ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় এবং ৫ আগস্ট পৃথক ঘটনায় মোট ১০ জন নিহত হন। এসব ঘটনায় গুলি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষও রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত এসব ঘটনায় শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান এবং ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জন সরাসরি জড়িত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করেছে, ঘটনার সময় আসামিদের কয়েকজনের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগাযোগের প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড ও সিডিআর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত প্রসিকিউটররা জানান, এসব হামলা একাধিক এলাকায় বিস্তৃত ছিল এবং পরে সহিংসতা নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়িয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ও চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংগঠিত হামলায় বহু মানুষ আহত হন এবং বিভিন্ন সময় একাধিক দফায় হত্যাকাণ্ড ঘটে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা করলেও ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়নি। বিচারক প্যানেল জানায়, প্রাথমিকভাবে উপস্থাপিত তথ্য ও সাক্ষ্য বিচার শুরুর জন্য যথেষ্ট ভিত্তি তৈরি করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। এই মামলাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনই কোনো রায় নয়, বরং সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের ধাপে এগোচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া।
বিডি ল’ পোস্ট/এ্মএম