সর্বশেষ

৫ জুল, ২০২৬

অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘হুমকি’:  ৪ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ

অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘হুমকি’: ৪ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে ‘ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের’ অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন এ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

নোটিশ পাওয়া চারজন ডিএজি হলেন- মো. জহিরুল ইসলাম সুমন, মো. রফিকুল ইসলাম মন্টু, মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং মো. আশিকুজ্জামান নজরুল।

নোটিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কর্মরত থাকাকালীন তার কার্যালয়ে তার সঙ্গে ওই চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিচারপ্রার্থী ও কার্যালয়ে কর্মরত অন্য আইন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অসংযত আচরণ করেন। তাকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। এছাড়াও যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটবে বলে হুমকি দেন।

শোকজ নোটিশে চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আপনাদের এহেন কার্যক্রম গুরুতর অসদাচরণ ও সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আপনাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই নোটিশ প্রাপ্তির ০৩ (তিন) কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা যাচ্ছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র লাশ উত্তোলনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র লাশ উত্তোলনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত 

চিত্রনায়ক সালমান শাহের (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

গত ২২ জুন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন। এই অফিস আদেশের একটি অনুলিপি আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ডাক যোগে পাঠানো হয়েছে। এই অফিস আদেশটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ মোতাবেক মামলার ভিকটিম মৃত চিত্রনায়ক সালমান শাহ্-এর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ১৭৬(২) ধারা মোতাবেক কবর হতে লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত থেকে ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজকে নিয়োগ করা হলো।

রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম আজ বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২০ মে সালমান শাহ’র মৃতদেহ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেন।

গত ২৩ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদি মোহাম্মদ আলমগীর (কুমকুম) লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, মে ফেয়ার বিউটি পার্লারের রুবি, আবুল সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ’র মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদিপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহ’র মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নীলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স- বাসস

এজাহারভুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

এজাহারভুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 

দুই বছর আগে গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে এজাহারভুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম জুলফিকুর আলী জুনু এ আবেদনটি করেন। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান জুলফিকুর আলী জুনু।

আবেদনের যুক্তিতে আইনজীবী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলমান থাকাবস্থায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্বে বহাল রাখা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা, জনআস্থা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।

আইনজীবী বলেন, তদন্ত চলাকালে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যেন এজাহারভুক্তদের বিরুদ্ধে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব সীমিতকরণের ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জুলফিকুর আলী জুনু বলেন, এজাহারভুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে প্রচলিত আইন ও সার্ভিস রুলস অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিবেচনা না করার বৈধতা প্রশ্নে রুলের আরজি জানানো হয়েছে রিট আবেদনে। এ ছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আইন ও সার্ভিস রুলস অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৪ জুল, ২০২৬

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার প্রথম দফার রিভিউয়ে উত্তীর্ণ বরগুনা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মিজানুর রহমান মারা গেছেন। তিনি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার মৃত্যুতে সহকর্মী শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিজানুর রহমানের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

মৃত্যুবরণ করা মিজানুর রহমানের বাবা আজিজ শিকদার বলেন, প্রথম দফার রিভিউয়ে আমার ছেলে উত্তীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ছেলে আমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর প্রকাশিত ফলাফলে আমার ছেলেকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে আমার ছেলেও ওই মামলার রিটকারীদের একজন ছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগ ওদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু  গতকাল রাতে বার কাউন্সিল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে—একটি পত্রিকার নামে বানানো এমন একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়লে মিজানুর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মিজানুর রহমানের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শিকদার বলেন, অসুস্থ বোধ করলে ওকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স যোগে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজ সকাল ১১টায় ওকে মৃত ঘোষণা করে৷ তিনি দাবি করেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তার ভাই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পরও ভাইভা পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা না হওয়ায় তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তারা দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, ভাইভা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং রিভিউ উত্তীর্ণ ১,৩৪০ জনকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান।

হাইকোর্টের রায়ের আলোকে লিখিত পরীক্ষার  রিভিউতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের আইনজীবীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বহু শিক্ষানবিশ আইনজীবী মানসিক স্বস্তি ফিরে পাবেন এবং তাদের পেশাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। নাহলে মিজানুর রহমানের মতো ঘটনা আরও অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। প্রথম দফার রিভিউ শেষে অতিরিক্ত ১,৯১৪ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হলেও পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুনরায় খাতা মূল্যায়ন করে প্রকাশিত ফলাফলে প্রথম দফায় উত্তীর্ণ প্রায় ১,৩৪০ জন পরীক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে নতুন করে ১৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।

পরে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে গত ১০ জুন হাইকোর্ট বিভাগ প্রথম দফার রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওই রিভিউ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের দ্রুত মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা গ্রহণ এবং আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেন। গত ৩০ জুন হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পৌঁছেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: ইনকিলাব, এনপিবি

বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

ছবি: সংগৃহীত  

জামালপুর শহরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে শহরের আমলাপাড়া ও হাই স্কুল মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাদের আদালতে মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের আলেক মিয়ার স্ত্রী নিলুফা (৩২), জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদার পাড়া এলাকার মনির হোসেনের স্ত্রী মোছা. হাওয়া বেগম (৩০), আমলাপাড়া এলাকার সুমুতুল্লাহের ছেলে কালা চান (৫০), নয়াপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে সুমন মিয়া (৩৯), কলেজ রোড় এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব (৩৯)। এরমধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় জামালপুরের মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি’র বাসার জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। 

এসময় দুর্বৃত্তরা ৫টি স্বর্ণের আংটি, ১টি ডায়মন্ডের আংটি, ২টি স্বর্ণের চেইন, ১ জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা, ১টি স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১ সেট স্বর্ণের মালা এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। যার সর্বমোট বাজার মূল্য ১৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৯শত ৮৫ টাকা।

পরে বিচারক আহমাদুল কবির বাদী হয়ে জামালপুর সদর মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ মামলার বাদী ও বিভিন্ন সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের নিলুফা নামে এক নারীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমলাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তারপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাত ২ টার দিকে হাই স্কুল মোড় থেকে সুমন মিয়া, নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব, কালা চান ও রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, “গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি গত কমিটির পদে থাকা নেতা। তারা বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ না।”

জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুল মোমিন আকন্দ কাওসার বলেন, “আমাদের আগের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমার এই কমিটিতে তারা নেই তাই আমি তাদের কথা বলতে পারবো না।”


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: ইত্তেফাক সহ প্রথম সারির প্রিন্ট মিডিয়া

ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নোটিশ, অন্যথায় রিট দায়ের

ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নোটিশ, অন্যথায় রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

'বাংলাদেশের সব ফ্যাসিস্ট, টাউট ও ক্রিমিনাল তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’—এমন বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে ১০০ কোটি টাকা জমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরাবরে এই নোটিশ পাঠান। শনিবার (৪ জুলাই) আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইমেইলযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং অনুষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, মানহানিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই মন্তব্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও সংশ্লিষ্টদের নিম্নলিখিত দাবিগুলো পূরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার কারণে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  ১ জুলাই প্রদত্ত অবমাননাকর বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে, যা সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’-এ জমা দিতে হবে—যাতে এই অর্থ একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যায়।

নোটিশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হন বা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ইয়াছিন, সম্পাদক মুন্না

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ইয়াছিন, সম্পাদক মুন্না

ছবি: সংগৃহীত 

আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) ২০২৬- ২৭ মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক ‘অবজারভার’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. ইয়াছিন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরাফাত মুন্না। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপিম কোর্ট) দক্ষিণ হলে ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘আরটিভি’র হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। কমিশনের অপর দুই সদস্য ‘এটিএন নিউজ’র হেড অব নিউজ মাশহুদুল হক ও সিনিয়র সদস্য সাজেদুল হক। কমিশনের সাচিবিক দায়িত্বে ছিলেন ‘বাংলানিউজ’র বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াছ সরকার।  

কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘সমকাল’র আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক পদে বাংলানিউজ’র তানভীর আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ পদে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর’র মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ‘টাইমস অব  বাংলাদেশ’ আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক পদে ‘খবরের কাগজ’র মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’র  জাহিদুল বাশার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ‘চ্যানেল ওয়ান’র জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু ও ‘আমাদের সময়’র আসাদুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। 

এর আগে ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি হাসান জাবেদ। সঞ্চালনা করেন বিদায়ী কমিটিরি সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান মিশন। 

এ সময় আরও উপস্তিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, এলআরএফ’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনোজ কান্তি রায়, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব কাজী আব্দুল হান্নান, সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, সালেহ উদ্দিন, এম বদি-উজ-জামান, আশুতোষ সরকার, সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হিরণ, শামীমা আক্তার, আশরাফ উল আলম প্রমুখ।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাসস