সর্বশেষ

২৯ আগ, ২০২৬

ঢাকায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রতিবেশী সুমন কারাগারে

ঢাকায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রতিবেশী সুমন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 

শাহ আলী থানা এলাকায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রতিবেশী সুমন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

আটক রাখার আবেদন ও আাদালতের আদেশ: শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আসামি সুমনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই ইলা মনি জানিয়েছেন, আসামির পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন ছিল না। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। উল্লখ্য, শাহ আলী রয়েল সিটি পকেট গেট সংলগ্ন একটি বাসা থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ: থানা-পুলিশের বরাতে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, ''বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই এলাকায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আসে। পরে শিশুটির প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হলে তার মা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী আরও বলেন, শিশুটির মা তাকে ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে পাশের বাসার ভাড়াটিয়া সুমনের কথা বলে। শিশুটির অভিযোগ, সুমন তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বৃহস্পতিবার শাহ আলী থানায় মামলা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৮.০৮.২০২৬)

২৮ আগ, ২০২৬

সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
সুনামগঞ্জে দীর্ঘ এক যুগ পর ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ। একইসঙ্গে এ মামলার বাকি ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। 

আদালতের রায়: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় ২০১৪ সালে সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার প্রায় এক যুগ পর এ রায় ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১১ আসামির মধ্যে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক। তারা হলেন, ওয়েজখালীর গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া ও সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে সাত বছর এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন. রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি শেরেনুর আলী। তিনি মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মামলার ঘটনা: মামলার রায়ের বিবরণ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামি পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষি ফয়জুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ মামলার চার্জশিট দেবার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলায় আসামি জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন।এছাড়া শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা অবসান করে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সালেহ আহমদ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

কক্সবাজারের ডিসিসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ

কক্সবাজারের ডিসিসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সড়ক নির্মাণকাজ শুরুর অভিযোগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ চারজনকে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ নোটিশ পাঠায়।

সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এইচআরপিবির পক্ষে নোটিশটি পাঠান। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াড়িতে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশ যাদেরকে পাঠানো হয়েছে: নোটিশটি পাঠানো হয়েছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমএ মান্নান, কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী, আরডিইসি ভবনের আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের (ইউডিসিজিপি) প্রকল্প পরিচালক এএসএম রাশেদুর রহমান এবং জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি তাকাহাসকি জানকোকে।

প্রেক্ষাপট:  কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুর ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। এর আগে ২০১১ সালের ৭ জুন হাইকোর্ট বিভাগ একটি রায় দেন। রায়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি থেকে অবৈধ স্থাপনাও দুই দফায় উচ্ছেদ করা হয়েছিল।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দেশ রূপান্তর (২৭.০৮.২০২৬)

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

কোলাজ ছবি
সন্তানকে জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজ বাড়ি থেকেই বিতাড়িত হওয়া অথবা অসহায় হওয়ার ঘটনার বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। দেশের আদালতগুলোতে এমন মামলার ঘটনাও অহরহ দেখা যায়।

বর্তমানে প্রচলিত "দ্যা ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২" অনুযায়ী, কেউ সম্পত্তি দান করলে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছেই চলে যায়। যে কারণে বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন।

প্রস্তাবিত "সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬" এ আনা নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তি দান করলেও দাতা জীবদ্দশায় সেটি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আইনের ফলে মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। তবে আইনটি পাস হলে দ্রুত এর বাস্তবায়ন চান পরিবারের সদস্যরা।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য ‘ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করেন।

বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলটি পাশ হলে যে যে পরিবর্তন আসবে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে:

১. আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধরন থাকলেও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
 
২. প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

৩. নতুন এ ব্যবস্থা প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্যান্য পদ্ধতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এসব বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো বিরোধও সৃষ্টি করবে না।

৪. প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি দান করা যাবে। স্থাবর সম্পত্তি হলে নিবন্ধিত দলিল করতে হবে।

৫. নতুন এই আইনে মালিকানা ও ভোগের অধিকার আলাদা থাকবে। ধরা যাক, কোনো বাবা তার বাড়ি সন্তানের নামে লিখে দিলেন। দলিল নিবন্ধনের পর মালিকানা সন্তানের কাছে চলে যাবে। তবে দলিলে 'জীবনকালীন ভোগাধিকার' সংরক্ষিত থাকবে। এতে বাবা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই বাড়ি ব্যবহার বা ভোগ করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর সেই অধিকার শেষ হবে।

৬. দাতার আগে গ্রহীতা দাতার জীবদ্দশায় মারা গেলেও দান বাতিল হবে না। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যাবে। তবে দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে। অর্থাৎ সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর সন্তান আগে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির মালিক হবেন, কিন্তু মূল দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তার ভোগাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

৭. প্রস্তাবিত বিলের ১২২বি ধারায় বলা হয়েছে, জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে করা দান নিবন্ধনের পর সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় হবে। দাতা একতরফাভাবে সেটি বাতিল করতে পারবেন না। তবে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সম্মত হলে নিবন্ধিত নতুন দলিলের মাধ্যমে দান পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন থাকলে এই সুযোগ ব্যবহার করা যাবে।

৮. দাতা বা গ্রহীতার একজনের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলেও পরিবর্তন বা বাতিলের একটি পথ রাখা হয়েছে। কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে, নিখোঁজ থাকলে, মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে অক্ষম হলে, আইনি অক্ষমতা থাকলে বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে অপর পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দানের শর্ত পরিবর্তন, বাতিল বা সংশ্লিষ্ট অধিকার নিয়ে অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন জেলা জজ। তবে আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে। আদালত প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করবে এবং আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সন্তুষ্ট হতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪


আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কোলাজ ছবি
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সোহেল রানা ও ট্রাইব্যুনালের গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুর মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ ঘটনায় ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আল-ইমরান খান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, বিচারক ও গাড়িচালকের মধ্যকার ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। বিচার বিভাগের মর্যাদা ও জনআস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে ঘটনার সত্যতা, কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠে। তবে আদালত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিচারক অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে আখ্যা দেন। রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের খাসকামরায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী গাড়িচালক আলী হোসেন বাচ্চুর ভাষ্যমতে, সকালে বিচারকের পিয়ন তাঁকে খাসকামরায় ডেকে পাঠান। ডিউটি লগবইয়ে সকাল ৭টা উপস্থিতি লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন বিচারক। চালক বাচ্চু ৮টায় বিচারকের সফর শুরুর আগে গাড়ি পরিষ্কারের যুক্তিতে সকাল ৭টার কথা উল্লেখ করলে বিচারক সোহেল রানা হঠাৎই তাঁর চোখের ওপর সজোরে ঘুষি মারেন এবং কান বরাবর থাপ্পড় দেন।

বাচ্চু আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১ বছর ১০ মাসের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিচারক তাঁর বদলে গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালান এবং সরকারি গাড়ি বরাদ্দের মাসে ১৮০ লিটার তেলের বদলে ৫০-৬০ লিটার ব্যবহার করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করা এবং অনৈতিক কার্যক্রম দেখে ফেলার কারণেই বিচারক তাঁর ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ হামলা চালিয়েছেন।

ঘটনার পর অন্যান্য চালকদের সহায়তায় অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চুকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর এক চোখে ব্যান্ডেজসহ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোনো অন্যায় থাকলে বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী চালক এ ঘটনার আইনি পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বিচারক সোহেল রানা জানান, পেশাগত দায়িত্ব ও ওভারটাইমের হিসেব নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে চালক বাচ্চু উদ্ধত আচরণ ও অসৌজন্যমূলকভাবে তাকায়। রাগ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তিনি চালককে ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। চালককে কোনো প্রকার আঘাত বা ঘুষি মারা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “সে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাটক সাজাচ্ছে।”

ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনিও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কিছুদিন ধরে গাড়ি পরিষ্কার না করা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। চালক পরিষ্কার করতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিচারক কেবল তাঁকে ধমক দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২৭.০৮.২০২৬)

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের লিগ্যাল নোটিশে টেলিভিশন শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের লিগ্যাল নোটিশে টেলিভিশন শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে কেবলমাত্র প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের ব্যাপক আধিক্য থাকায় সংস্কৃতিতে চরম সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে- এমন দাবি করে কেবল প্রেম ও রোমান্স নির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।

রোমান্টিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে জারি হওয়া এই লিগ্যাল নোটিশের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে কড়া প্রতিক্রিয়া। দেশে-বিদেশে থাকা বাংলাদেশি তারকাদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকও এ নোটিশকে হাস্যকর দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ আইনি নোটিশের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল অঙ্গনের নির্মাতা, শিল্পী, লেখক, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের বিভিন্ন সংগঠন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে আয়োজিত এক যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত প্রতিবাদলিপিতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো জানায়, একটি নির্দিষ্ট ধারার সৃজনশীল নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ শিল্পীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সৃজনশীল বিকাশ এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশে নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য বিনোদনমূলক কনটেন্ট দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কোনো কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় তার প্রতিকার সম্ভব, কিন্তু পুরো একটি ধারার নির্মাণ বন্ধের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে টেলিভিশন শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শিল্পীদের কর্মক্ষেত্র এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপিতে সই করেন ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান, অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সভাপতি শিহাব শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দীন সুমনসহ টেলিভিশন অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: স্টার নিউজ (২৮.০৮.২০২৬)

সালাহউদ্দিন আহমদ গুম মামলাজিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখালেন ট্রাইব্যুনাল, প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

সালাহউদ্দিন আহমদ গুম মামলাজিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখালেন ট্রাইব্যুনাল, প্রতিবেদন ২৭ অক্টোবর

ছবি: সংগৃহীত 
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের আবেদনে আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন। সেই সঙ্গে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে নিজের গুম হওয়ার অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযুক্ত অন্য ছয় আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)