সর্বশেষ

২৭ আগ, ২০২৬

৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার মোজাফফর তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে

৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার মোজাফফর তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে

ছবি: সংগৃহীত 
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা দীর্ঘ ৪৫ বছর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ২০১১ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির সমাপ্তি ঘোষণা করলেও গত জুলাইয়ে এ মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক অভিযুক্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

ফলে, দীর্ঘ ৪৫ বছর আগে সংঘটিত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের একটি আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের ঘাটতির কথা বলে এক দশক আগে মামলাটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে মামলার অন্যতম পলাতক আসামির গ্রেপ্তার এই গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। 

গত জুলাই মাসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে দীর্ঘকাল পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে কোর্ট মার্শাল পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সংঘটিত সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন অভিযুক্ত এই সামরিক কর্মকর্তা।

উল্লখ্য, ঘটনার সময় সরাসরি গুলি চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নিশ্চিত করার পর তিনি নিজেই জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে বিষয়টি টেলিফোনে অবহিত করেছিলেন।

অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গত জুলাইয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন মোড় এসেছে। একই সঙ্গে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (২৬.৯৮ ২০২৬)

গত ছয় মাসে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলার প্রায় সব আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত ছয় মাসে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলার প্রায় সব আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গত ছয় মাসে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলোর প্রায় সব আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতার ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এই সময়ে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি, যার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রংপুরে সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ঘটনার পর যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (২৭.০৮.২০২৬)

২৬ আগ, ২০২৬

আপিলের শর্তে জামিন চাইলেন বিদিশা, জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ

আপিলের শর্তে জামিন চাইলেন বিদিশা, জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর আদেশ

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর গুলশান থানায় প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিদিশা সিদ্দিক সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী।

জামিনের আবেদন ও আদালতের আদেশ: বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন বিদিশার পক্ষে আইনজীবী আতিকুর রহমান, মনিরুজ্জামান ও মাহমুদুল কবিরসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে যা বলেন আইনজীবীরা: আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, বিদিশা সিদ্দিক স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে। তিনি ছাড়া ওই সন্তানকে দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। এজন্য আপিলের শর্তে আসামি জামিন পাওয়ার হকদার। এছাড়া দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আপিল দায়ের করবেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়।

মামলার ঘটনা: ২০০৮ সালের একটি প্রতারণা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। ঐ মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (২৬.০৮.২০২৬)

এজলাস থেকে নথি চুরি, কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে লেখা হতো ভুয়া রায়

এজলাস থেকে নথি চুরি, কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে লেখা হতো ভুয়া রায়

ছবি: সংগৃহীত 
প্রথমে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে চুরি হয়েছিল একটি অস্ত্র মামলার নথি। পরে একই কায়দায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৮ আদালত থেকে আরেকটি মাদক মামলার নথি চুরি হয়। দুটি চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, নথি চুরির নেপথ্যে রয়েছেন নিজেকে আইনজীবীর সহকারী পরিচয় দেওয়া একই ব্যক্তি—আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে নিম্ন আদালতপাড়ায় জাল কাগজপত্র তৈরির তথ্য।

আদালতপাড়ার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন মামলার ভুয়া খালাসের রায় ও আদেশের কপি। পুলিশের ধারণা, আদালতের নথি চুরি করে সেগুলোর আদলে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হতো জাল কাগজপত্র ও ভুয়া রায়ের কপি।জালিয়াতির বিষয়টি ঢাকতে এবং মামলা সত্যিই খালাস হয়েছে, তা প্রমাণ করতে রাসেল আদালত থেকে মামলার মূল নথিটিই চুরি করার পরিকল্পনা করেন।

আদালতের এজলাস থেকে নথি গায়েবের ঘটনায় আনোয়ারুল হক ছাড়াও তাঁর সহযোগী কম্পিউটার অপারেটর আহসান হাবীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে নথি চুরি হওয়া অস্ত্র মামলার আসামি তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বীর স্ত্রী জামিলা আক্তার ওরফে অর্পাকে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও জাল সিল উদ্ধারে পুলিশের তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, রাজধানীর খিলগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বী চার-পাঁচ বছর ধরে পলাতক। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে তানভীরের মামা রবিউল হক ভাটারা থানার একটি মাদক মামলার আসামি। তিনিও পলাতক। নিজেকে আইনজীবীর সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আনোয়ারুল দুই আসামির মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে অর্পা'র কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নেওয়ার চুক্তি করেন।

এদিকে সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আসামি অর্পার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এদিন একই মামলায় কম্পিউটার অপারেটর আহসান হাবীব নামের আরেক আসামিকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ঐ মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২ জুলাই দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিজেকে আইনজীবীর মুহুরি পরিচয় দিয়ে খিলগাঁও থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলার নথি দেখতে চান। আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান তাকে ওই নথি দেখতে দেন। পরে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিচারক নাজমুলকে পাশের খাস কামরায় ডেকে পাঠান। তিনি সেখানে যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ মিনিট পরে ফিরে এসে ওই ব্যক্তিকে আর দেখতে পাননি। একই সঙ্গে নথিটিও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ওই দিনই আদালতের বেঞ্চ সহকারী খায়রুল আলম কোতোয়ালি থানায় নথি চুরির অভিযোগে মামলা করেন। এরপর অর্পার বাসায় অভিযান চালিয়ে নথি উদ্ধার করে পুলিশ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো (২৬.০৮.২০২৬)

সরকারি দপ্তরের চেয়ার-সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যাবে না : হাইকোর্টের আদেশ

সরকারি দপ্তরের চেয়ার-সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যাবে না : হাইকোর্টের আদেশ

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ার বা সোফার পেছনে বিধিবহির্ভূতভাবে পতাকা প্রদর্শন করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রুল: ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সদস্য অ্যাডভোকেট শরিফ সরকার এর দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদেশে বিধি বহির্ভূতভাবে যাতে জাতীয় পতাকার প্রদর্শন করা না হয়, সে বিষয়ে সব মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে পরিপত্র দিতে বলা হয়েছে। রুলে পতাকা পেছনে রেখে সরকারি কর্মকর্তারা সামনে অবস্থান করছেন, এই ধরনের পতাকার ব্যবহার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

আইনজীবীর মন্তব্য: আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণকারী আইনজীবী এইচ এম  ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মকর্তারা তাদের টেবিলের পেছনে বা চেয়ারের পাশে ও পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন। জাতীয় পতাকা ঢেকে রেখে তারা সামনে বসছেন। এটি আইনবহির্ভূত। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের জাতীয় পতাকা বিধিমালায় ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদের বাসস্থান, দপ্তর, বাসস্থানে এবং গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া ৮ শ্রেণির ব্যক্তি তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করতে পারবেন। এর বাইরে কোনো সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী তাদের অফিসে সোফা বা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের কোনো সুযোগ বিধিমালা দেওয়া হয়নি। সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিধিমালায় না থাকার পরেও সরকারি সংস্থা, অফিস, করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনগুলোতে অফিস কক্ষের ভেতরেই তারা পতাকা প্রদর্শন করছেন। এ ধরনের প্রবণতা বেআইনি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও রুল দিয়েছেন।’


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (২৫.০৮.২০২৬)

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি নিয়ে হাইকোর্টের রুল: আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি নিয়ে হাইকোর্টের রুল: আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির সাবেক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আবদুল লতিফের চাকরিচ্যুতি নিয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার করা একটি আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রিট পিটিশনটির শুনানি শেষে সম্প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ফ্যাক্ট: মামলার নথি অনুযায়ী গত ২৫ জুন ডিএসই থেকে দেওয়া চাকরিচ্যুতির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আবদুল লতিফ। ডিএসই/এইচআর/টার্মিনেশন/২০২৬/২৪২/৪০২২ নম্বরের ওই চিঠিতে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, তার পদটি আর প্রয়োজন নেই। চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে চাকরিচ্যুতির চিঠিটিকে আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা, তাকে স্বপদে পুনর্বহাল এবং চাকরির ধারাবাহিকতা, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

হাইকোর্টের রুল:  রুলে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, ২৫ জুনের চাকরিচ্যুতির চিঠিটি কেন ‘collateral purpose’-এ এবং আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে কেন ওই চিঠির কোনো আইনগত কার্যকারিতা থাকবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আবদুল লতিফকে তার পদে পুনর্বহাল করে চাকরির ধারাবাহিকতা ও জ্যেষ্ঠতা বহাল এবং সব আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। রুলের জবাব দিতে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এই পর্যায়ে আবদুল লতিফকে চাকরিতে পুনর্বহালের কোনো চূড়ান্ত আদেশ দেননি হাইকোর্ট। বরং চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের বৈধতা ও পুনর্বহালের দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানতে রুল জারি করা হয়েছে। আদালতের আদেশে বিএসইসিকে আবদুল লতিফের ২৮ জুন ২০২৬ তারিখের আবেদন (Annexure-L) নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিটের চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে বিএসইসিকে। তবে হাইকোর্টের এ আদেশে এখনো চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি এবং আবদুল লতিফকে চূড়ান্তভাবে পুনর্বহালের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। রুলের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের মাধ্যমে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

প্রাণী প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, থাকছে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

প্রাণী প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, থাকছে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

ফাইল ছবি
গবাদি পশুর জেনেটিক উন্নয়ন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন, দেশীয় প্রাণিজ জেনেটিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং নিরাপদ ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ প্রাণী প্রজনন আইন-২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এই পরিমার্জিত খসড়াটি এর উপর সর্বসাধারণের মতামত প্রদানের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এই আইনে যা থাকছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘বাংলাদেশ প্রাণী প্রজনন আইন-২০২৬’-এর খসড়ায়:
১. প্রজনন কার্যক্রমকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
২. গবাদি পশুর প্রজনন ষাঁড় নির্বাচন, সিমেন উৎপাদন, ভ্রূণ স্থানান্তর, ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ), জিনোমিক নির্বাচন, জাত নিবন্ধন, জেনেটিক মূল্যায়ন, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি এবং কৃত্রিম প্রজননসহ সহায়ক সব প্রযুক্তি এ আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে।
৩. বৈধ নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গবাদি পশুর সিমেন, ভ্রূণ কিংবা ডিম্বাণুর উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি বা কেনা-বেচা করতে পারবে না। সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার নির্ধারিত প্রজনন মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
৪.  নিবন্ধিত সেবার ধরন বা গুণগতমান নিয়ে বিভ্রান্তিকর কিংবা ভুয়া তথ্য দিয়ে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫. আইন কার্যকর হওয়ার পর অনুমোদন ছাড়া কোনো বুল স্টেশন, ভ্রূণ প্রতিস্থাপন কিংবা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) ল্যাবরেটরি স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না। একইসঙ্গে কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (এআইটিআই) এবং গবাদি পশুর প্রজননে সহায়কের ভূমিকা রাখা সব ধরনের প্রযুক্তি (এআরটি) সেবা প্রদানকেও এ নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।
৬. বুল স্টেশন, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, আইভিএফ ল্যাব ও সিমেন ব্যাংকের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

বিডিএলপিবি/এমএম