সর্বশেষ

১৬ সেপ, ২০২৬

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিলেন হাইকোর্ট

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিলেন হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি দপ্তর ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোতে জাতীয় পতাকার যথাযথ ব্যবহার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিকে কর্মকর্তাদের চেয়ার-সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনসহ এর ব্যবহার বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিতে একজন বিচারিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত লিখিত আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তর ও আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহৃত চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, উত্তোলন বা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।

পাশাপাশি এ ধরনের ব্যবহার বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এ নির্ধারিত নির্দেশনা ও বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

তদন্ত শেষে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে কমিটিকে।

যেসব ক্ষেত্রে পতাকা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আদালত বলেছেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আইনগতভাবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী বা যোগ্য নন, তারা অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, ঝুলিয়ে রাখা কিংবা উত্তোলন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া জাতীয় পতাকাকে অফিসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সামগ্রী, অলংকার কিংবা ব্যক্তিগত সরকারি ব্যাকড্রপ হিসেবেও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

এর আগে কী নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট?

এর আগে গত ২৫ আগস্ট সরকারি অফিস ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে আইনবহির্ভূতভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন না করেন, সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহামুদের একই বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি এ নির্দেশনা দেন।

রিটে কী বলা হয়েছিল?

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। আইনজীবী শরিফ সরকার এ রিট দায়ের করেন।

ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিভিন্ন অফিস ও দপ্তরে কর্মকর্তাদের টেবিল কিংবা চেয়ারের পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা জাতীয় পতাকাকে পেছনে রেখে অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের দপ্তর, বাসভবন ও সরকারি গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারের বিভিন্ন অধীনস্থ অফিস, করপোরেশন ও কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে নিয়মিতভাবে পতাকা প্রদর্শনের সুযোগ বিধিমালায় রাখা হয়নি।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ভবনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা প্রদর্শন এবং যথাযথভাবে উড্ডীয়মান অবস্থায় রাখার বিষয়ে বিধিমালায় নির্দেশনা রয়েছে।

হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশের ফলে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার ব্যবহার প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্তের সুযোগ তৈরি হলো। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে আদালত পরবর্তী নির্দেশনা দিতে পারেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: যুগান্তর (১৫/০৯/২০২৬)

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিআরটিসির বাস ভাড়া বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ভাড়া দেওয়া বন্ধ এবং সংস্থাটির সব বাস সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন প্রয়োজন মেটাতে নিজস্ব বাস কেনা অথবা বেসরকারি খাত থেকে পরিবহন সেবা নেওয়ার বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশদাতার দাবি, জনগণের করের অর্থে প্রতিষ্ঠিত বিআরটিসির বিপুলসংখ্যক বাস সরকারি কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত গণপরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অর্থনীতির ‘আয়ের বৃত্তাকার প্রবাহ’ ও ‘ফিসক্যাল মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’-এর যুক্তি তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি পরিবহন ব্যয়ের একটি অংশ বেসরকারি খাতে প্রবাহিত হলে পরিবহন ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে।

নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে বিআরটিসির বাস সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে সব বাস সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সূত্র: এনটিভি (১৫/০৯/২০২৬)

গুজব ছড়ানো পেজ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

গুজব ছড়ানো পেজ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনগত উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচারের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন পেজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ ও রুল জারি করেন।

রিট আবেদনে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।

হাইকোর্টের এই নির্দেশ ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল তথ্যপ্রচার নিশ্চিত করা এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের সত্যতা এবং আইনগত জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তাও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ঢাকা পোস্ট (১৬.০৯.২০২৬)

১৫ সেপ, ২০২৬

চেকের মামলায় দণ্ডিত আসামি ৫০% অর্থ জমা না দিয়ে শুধু আপিল দায়েরের গ্রাউন্ডে জামিন পাবেন না

চেকের মামলায় দণ্ডিত আসামি ৫০% অর্থ জমা না দিয়ে শুধু আপিল দায়েরের গ্রাউন্ডে জামিন পাবেন না

ফাইল ছবি
হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন ১৮৮১ (Negotiable Instrument Act, 1881) এর  ১৩৮ ধারার অধীনে চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি শুধু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন—এমন কারণ দেখিয়ে জামিন পাওয়ার অধিকার দাবি করতে পারবেন না। আপিল করতে হলে প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সম্প্রতি মো. তান্দু মিয়া বনাম রাষ্ট্র ও অন্যজন, ফৌজদারি রিভিশন নং ৬৫৭৯/২০২৪ (Md. Thandu Mia vs. The State and another) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমনের একক বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ রায়টি দেওয়া হয়।

রায়ে আদালত বলেন, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী, দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দিতে হবে। এই শর্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা আদালতের ইচ্ছাধীন বিষয় নয়; বরং আপিল করার পূর্বশর্ত (condition precedent/sine qua non)।

মামলার পটভূমি:

আবেদনকারী হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর  ১৩৮ ধারায় একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এরপর তিনি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার উদ্দেশ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬(২এ) ধারা অনুযায়ী জামিনের আবেদন করেন।

তবে প্রত্যাখ্যাত চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ জমা না দেওয়ায় নিম্ন আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন।
হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিনের সময়সীমা ছিল ৬০ দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তিনি চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দেননি।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:

আদালত বলেন,  ১৩৮ক ধারায় নির্ধারিত ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়ার শর্তটি বাধ্যতামূলক। এটি এড়িয়ে বা পাশ কাটিয়ে দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

আদালত আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির সাধারণ জামিনের বিধান প্রয়োগ করেও বিশেষ আইনে নির্ধারিত এই বাধ্যতামূলক শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন একটি বিশেষ আইন এবং এর বিশেষ বিধানের সঙ্গে সাধারণ আইনের কোনো বিরোধ দেখা দিলে বিশেষ বিধানই প্রাধান্য পাবে।

রায়ে আরও বলা হয়, ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দেওয়া এবং আপিলের অধিকার পরস্পর নির্ভরশীল ও অবিচ্ছেদ্য। ফলে এই অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত মওকুফ করার ক্ষমতা আদালতের নেই।

এ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট পুবালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম চৌধুরী শামীম হামিদ, [২০২৪] ১৭ এলএম (এডি) ১২৪ (Pubali Bank Ltd. vs. Chowdhury Shamim Hamid) মামলায় আপিল বিভাগের নির্ধারিত নীতিও অনুসরণ করেন।

অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল:

চেকের অর্থের ৫০ শতাংশ জমা না দেওয়ায় হাইকোর্ট আবেদনকারীর করা রিভিশন পার ইনকিউরিয়াম (per incuriam)  ও মেরিটবিহীন হিসেবে খারিজ করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রত্যাহার ও বাতিল করে দণ্ডিত ব্যক্তিকে অবিলম্বে ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করে অবশিষ্ট সাজা ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ের মূল কথা:

হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে স্পষ্ট হলো, হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে দণ্ডিত ব্যক্তি আপিল করতে চাইলে ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত চেকের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। এই বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ না করে শুধু আপিল করার ইচ্ছার ভিত্তিতে জামিন পাওয়া যাবে না।


বিডিএলপিবি/এমএম

ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরের স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মো. রবিউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে সুপর্ণা সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানাসহ তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর শাহ মো. নাজমুস সাকিব।

মামলার নথি ও দুদক সূত্রে জানা যায়, জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সুপর্ণা সুরের নিজের এবং তার স্বামী এস কে সুরের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সুপর্ণা সুর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ নির্ধারিত ফরম গ্রহণ করেন। তবে আদেশ পাওয়ার পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তের পর ২০২৫ সালের ২৯ জুন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা এ এম তাহের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সুপর্ণা সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের মোট পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার আদালত সুপর্ণা সুরকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

অনলাইন স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির ২ দিনের রিমান্ড

অনলাইন স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির ২ দিনের রিমান্ড

ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকা থেকে ‘অনলাইন স্ক্যামিংয়ের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে থাকা শিশুকে রিমান্ডের বাইরে রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে (সিটিইউ) ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন, ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের আদালত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাদের সঙ্গে একটি শিশু থাকায় তাকে রিমান্ডের বাইরে রাখা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ পাহারায় ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় তারা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় রিমান্ড আবেদন করে। এর আগে পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকা থেকে অনলাইন স্ক্যামিংয়ের অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্তের দায়িত্ব সিটিইউকে

মামলাটির তদন্তভার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিইউ) ওপর দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থাকে আগামী ২০ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় মহসিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ মহসিনকেও একই মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তার সাত দিনের রিমান্ডও চাওয়া হয়েছে।

মহসিন গত ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের থাকার জন্য তিনি একটি আটতলা ভবন ভাড়া করে দিয়েছিলেন।

খুলশী থানা পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে মহসিন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠান। পরে কোকেনের চালানটি ফেরত আসে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটির তদন্তে গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের অনলাইন কার্যক্রম, বাংলাদেশে তাদের অবস্থান এবং মোহাম্মদ মহসিনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত-সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবিঃ ফাইল
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামি একটি অভিযোগ থেকে খালাসও পেয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রায় পড়ার শুরুতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, প্রসিকিউশন, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কেজি।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম আরও বলেন, আসামিরা আদালতে উপস্থিত থাকলে পুরো রায় পড়ে শোনানো সম্ভব হতো। এরপর মামলার চারটি অভিযোগে কোন আসামিকে কী দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান।

ওবায়দুল কাদেরের দণ্ড

ওবায়দুল কাদেরকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাহাউদ্দিন নাছিম

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি।

শেখ ফজলে শামস পরশ

শেখ ফজলে শামস পরশকে ১ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মাইনুল হোসেন খান নিখিল

মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে ১ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথক ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেন

সাদ্দাম হোসেনকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ওয়ালি আসিফ ইনান

ওয়ালি আসিফ ইনানকে ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ একত্রে বিবেচনায় নিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ

রায়ে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও সাক্ষীরা

রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সোবহান তরফদার, জহিরুল আমিন, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। এ ছাড়া মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন সাক্ষীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণেও আসামিদের ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়। শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল বিভিন্ন অভিযোগে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড ঘোষণা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম