সর্বশেষ

৬ জুন, ২০২৬

সাবেক মেয়র মনজুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

সাবেক মেয়র মনজুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুরসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ফটিকছড়ি থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মো. জামান বাবু (২৩) ও একই এলাকার তৌহিদুল আলম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)।

মামলার প্রধান হুকুমদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর (৬২) ও সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলা এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে (৪০)। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০), বখতিয়ার সাঈদ ইরান (৪০), সাবরিনা চৌধুরী (৩৫), জসিম উদ্দিন মুহুরী (৫০), ফোরকান উদ্দিন বাচ্চু (৩৫) এবং মো. জসিম (৩২)।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে ফটিকছড়ি থানার নিয়মিত টহল দল খবর পায় যে, রোসাংগিরী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভাণ্ডার পাকা সড়কের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মশালসহ একটি মিছিল বের করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এই মিছিল করা হচ্ছিল।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের হাতে থাকা বাঁশের তৈরি মশাল ফেলে চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার ও জব্দ করে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানান, ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামির (সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ) প্রত্যক্ষ হুকুম ও তত্ত্বাবধানে তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে পরস্পর যোগসাজশে জড়ো হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের মাইজভান্ডার-নাজিরহাট সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ভবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


বিডিএলপিবি/এমএম

পিএসসির প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি: চার্জশিটে পাওয়া গেল আবেদের নেতৃত্বে ৫৫ জনের পরিচয়

পিএসসির প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি: চার্জশিটে পাওয়া গেল আবেদের নেতৃত্বে ৫৫ জনের পরিচয়


ছবি: সংগৃহীত 

এক সময় আর্থিক সংকটে থাকা পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর জীবনযাত্রায় হঠাৎ করেই বড় পরিবর্তন আসে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বোতলা গ্রামে নির্মাণ করেন বিলাসবহুল বাড়ি। এছাড়া ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে তিনি ডাসার উপজেলা চেয়ারম্যান পদেও প্রচারণা চালিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, বছরের পর বছর পিএসসির প্রশ্নফাঁস বাণিজ্য থেকে অর্জিত অর্থের মাধ্যমেই আবেদ আলী এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত মামলার চার্জশিটে বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৮ মে আদালতে ৪১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বহুল আলোচিত মামলাটি ২০২৪ সালের ৯ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা হয়েছিল।

চার্জশিট অনুযায়ী, আবেদ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৫৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশ্নফাঁস কার্যক্রমে জড়িত ছিল। চক্রটিতে পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার্থী সংগ্রহকারী দালালদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে গ্রেফতার ৩৬ আসামি হলেন- পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী, মো. নোমান সিদ্দিক, মো. খলিলুর রহমান, পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সোলেমান মো. সোহেল, জাহাঙ্গীর আলম, এসএম আলমগীর কবীর, প্রতিরক্ষা ও অর্থ বিভাগের অডিটর প্রিয়নাথ রায়, মো. জাহিদুল ইসলাম, পিএসসির উপপরিচালক (ডিডি) মো. আবু জাফর, মো. শাহাদত হোসেন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. মামুনুর রশিদ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়ামুল হাসান, ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাইম হোসেন, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থী লিটন সরকার, আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম, পিএসসির সাবেক সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, মো. শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, দীপক বণিক, মো. খোরশেদ আলম খোকন, কাজী মো. সুমন, একেএম গোলাম পারভেজ, মেহেদী হাসান খান, মো. মিজানুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, এটিএম মোস্তফা, মাহফুজ কালু, মো. আসলাম হোসেন, কৌশিক দেবনাথ, মোজাহিদুল ইসলাম, মজনু মিয়া, মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, মো. আব্দুল আজিম, রুপন চন্দ্র দাস ও মাহামুদ হাসান মান্না।

পলাতক ১৯ আসামি হলেন- সুমন কুমার বসু, বিপাশ চাকমা, মো. দেলোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান দিপু, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আল মামুন, মো. আনিছুর রহমান, মো. ওয়াসিম খান, মো. জসিম উদ্দিন, মো. ফেরদৌস আহম্মদ, মো. মান্নান উদ্দিন, মো. আশরাফুল আলম, জাহিদুল সরদার, মো. সোহেল পারভেজ, মো. জুয়েল আল মামুন, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. রুবেল শরীফ, শাকের আহমেদ আল-আমিন এবং এম এম নাজমুল হাসান। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি মো. গোলাম হামিদুর রহমান, হামিদুল ইসলাম জিয়া, মো. মাহাবুব আলম এবং আজাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সংগ্রহ করা সম্ভব না হলেও তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা গেছে, পরীক্ষার আগেই নির্ধারিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহ করা হতো। তাদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো এবং পরে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আগাম আদায় করা হতো। দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত এই চক্রে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত ছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি এনজিও পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের বিস্তার ছিল।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকা এই চক্র পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। চার্জশিটে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এছাড়া চক্রের কয়েকজন সদস্যের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্তের জন্য পৃথক উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মানি লন্ডারিং নিয়ে আলাদা তদন্ত শুরু হলে প্রশ্নফাঁস বাণিজ্যের আর্থিক ব্যাপ্তি সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

চার্জশিটে পুরো ঘটনাকে রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলে প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের আড়ালে থাকা আরও প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার তথ্যও প্রকাশ্যে আসতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, আউটসোর্সিং কর্মী গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, আউটসোর্সিং কর্মী গ্রেপ্তার

ছবিঃ সংগৃহীত 

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় চোরাই মাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় সচিবালয়ের এক আউটসোর্সিং কর্মী এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও রেজাকুল ইসলাম (৩২) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিটিটিসি। বিকেলে সিটিটিসির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিটিটিসি জানায়, সম্প্রতি সচিবালয়ে রেড টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তারগুলো চুরি করেন। পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেখানো মতে রাজধানীর হোসেনী দালান রোডের একটি গুদাম থেকে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে সিটিটিসির ধারণা, সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তার চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'আমরা দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং ৮ কেজি চুরি হওয়া তার উদ্ধার করেছি। তার বিক্রির সঙ্গে জড়িত ভাঙারি দোকানের মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।' 

 

৫ জুন, ২০২৬

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ও দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম তদন্তে রিট দায়ের

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ও দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম তদন্তে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় বিদ্যমান অনিয়ম, চিকিৎসায় অবহেলা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু গতকাল এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। শুক্রবার (৫ জুন) বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

রিটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে (ডিজি) বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বর্তমান অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষ অভিযান ও পরিদর্শন পরিচালনা; আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র), সিসিইউ, এইচডিইউ এবং এনআইসিইউ সুবিধার কার্যকারিতা যাচাই; অননুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির প্রার্থনা করা হয়েছে।

আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ১৮, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় অবহেলা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যাপ্ত তদারকির অভাব জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

এর আগে, গত ৩১ মে ২০২৬ তারিখে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ (আইনি নোটিশ) পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান কোনো সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানা যায়।

রিটে আরও প্রার্থনা করা হয়, আদালত যেন দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

বিডিএলপিবি/এমএম

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ: মামলার ১৩ দিনেই আদালতে চার্জশিট

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ: মামলার ১৩ দিনেই আদালতে চার্জশিট


ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় ৪ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব ও ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে রেকর্ড সময়ে তদন্ত শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তে সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চট্টগ্রাম আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেয় বাকলিয়া থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
চার্জশিটে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে আসামী মনির হোসেনকে। তিনি ওই এলাকায় একটি ডেকোরেশনের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায়।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মেডিক্যাল রিপোর্ট, ফরেনসিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্রুত সংগ্রহ করে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করে আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে এসি প্রসিকিউর মো আরিফ ইকবাল জানান,বাকলিয়া থানা পুলিশ শিশু ধর্ষণের চার্জশিট বৃহস্পতিবার দুপুরে জমা করে কোটে জমা করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি গুদামকক্ষে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের ফলে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন ভোক্তভোগি পরিবার।


বিডিএলপিবি/এমএম

ইকরার রহস্যজনক মৃত্যু: জামিন পেলেন জাহের আলভীর মা

ইকরার রহস্যজনক মৃত্যু: জামিন পেলেন জাহের আলভীর মা


ছবি: সংগৃহীত 

স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি। আদালত তাকে আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন।

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বুধবার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত সাইবার ক্রাইম থানায় এই এফআইআর দায়ের করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি।

'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র অধীন ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩-সহ একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় এই মামলা দায়ের করে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে একাধিক মিটিং, মিছিল, সভা ও গণমাধ্যমের সামনে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন।

অভিযোগপত্রে আরও লেখা হয়, গত ২ জুন মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারত সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন। এই ধরনের বক্তব্য রাখার উদ্দেশ্যই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করা এবং দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা। মমতার এই মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির নামান্তর।

এই মন্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি থেকে হঠাৎ করেই নাম না করে হাদি হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল।

অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি, তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটা তাদের কৃতিত্ব।

কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার। ’

অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার, তথ্যভাণ্ডার।  কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।

সেদিন মমতার অভিযোগ ছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংঘটিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে।

এই নিয়ে বৃহস্পতিবার অভিযোগকারী রিঙ্কু সিং জানিয়েছেন, ওই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের কট্টরবাদীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিধায়কের পদ চলে যাওয়ার পরে পাবলিক ডোমেইনকে ব্যবহার করে তিনি অপরাধ করেছেন। সেই অপরাধ দেশদ্রোহিতার সমান। সেই কারণেই এফআইআর করা হয়েছে। ৮ জুন তারিখ আদালত খুললেই আমি আবেদন জানাব, অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীকে যেন গ্রেপ্তার করা হয়।