সর্বশেষ

২৮ ফেব, ২০২৬

পাল্টাপাল্টি পোস্ট, পরকীয়ার গুঞ্জন— আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী?

পাল্টাপাল্টি পোস্ট, পরকীয়ার গুঞ্জন— আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী?


ছবিঃ সংগৃহীত

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাথ খান ইকরার আকস্মিক মৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গনে শোকের পাশাপাশি দানা বেঁধেছে নানামুখী রহস্য। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিনেতা স্বামী যখন নেপালে শুটিংয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই স্ত্রীর এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে পারিবারিক কলহ এবং আলভীর এক সহশিল্পীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জনকে প্রধান কারণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন নেটিজেনরা। মৃত্যুর আগে স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট সেই সন্দেহকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

কিন্তু এই ঘটনার সূত্রপাত এবং বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। বেশ কিছুদিন ধরেই কানাকানি চলছিল যে, তিথির সঙ্গে আলভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে; আর তা নিয়েই স্ত্রীর সঙ্গে অভিনেতার অশান্তি চলছিল। নেটিজেনদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে মৃত্যুর ঠিক আগের দিন করা আলভীর একটি ফেসবুক পোস্ট।

গত শুক্রবার তিথির জন্মদিন উপলক্ষে আলভী তার ভেরিফায়েড পেজে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দুজনকে একটি গামছায় জড়ানো অবস্থায় বেশ ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে হাসিমুখে দেখা যায়। ক্যাপশনে আলভী লেখেন, শুভ জন্মদিন নায়িকা। জীবনে আরও অনেকদূর যেতে হবে। তুমি আমার দেখা এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিশ্রমী কো-আর্টিস্ট ও পছন্দেরও। এছাড়াও গুঞ্জন রয়েছে, নেপালে শুটিংয়ের এই সফরে আলভীর সঙ্গে তিথিও অবস্থান করছেন। স্বামীর এমন প্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা এবং বন্দনা ইকরা মেনে নিতে পারেননি বলেই ধারণা করছেন অনেকে।

 

 

আত্মহত্যা করেছেন অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী

আত্মহত্যা করেছেন অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অভিনেতার শ্বশুরবাড়ি পরিবার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রয়াত ইকরার ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় বলেন, ‘আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিনেতা বর্তমানে নেপালে আছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কথা বলার মতো অবস্থায় তিনি এখন নেই।’

আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে ইকরার চাচা বিপু খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছি। আমি ময়মনসিংহের ভালুকায় আছি। সেখান থেকে পরিবারের সবাই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি।

তথ্যমতে, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে তারা পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে প্রিয়মায়া নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

ছাত্রদলের শোকজের কারণ জানালেন হামিম

ছাত্রদলের শোকজের কারণ জানালেন হামিম


ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল ও কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করার কারণেই ছাত্রদল থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) পাঠানো হয়েছে বলে জানিছেন কবি জসীমউদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় এই তথ্য জানান তিনি।

ভিডিওবার্তায় তানভীর বারী হামিম বলেন, কিছুক্ষণ আগে প্রায় ১১.৪০-এর দিকে আমি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর ভাইয়ের ভেরিফাইডকৃত ফেসবুক পেজে একটি শোকজপত্র দেখলাম। সেখানে আমার নাম উল্লেখ করে আমাকে শোকজ করা হয়েছে। এরপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ভাইয়েরা, সারা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আমার কাছে বারংবার জিজ্ঞেস করছেন, ফোন করছেন, কেন আমাকে শোকজ করা হল। যদিও আমি এখন পর্যন্ত জানি না কেন শোকজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি এটি যখন পেলাম, তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয় ছাত্রদরের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভাইকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই কী কারণে আমাকে শোকজ করা হয়েছে সেটাই তো জানি না, উত্তরটা দিব কিভাবে? উনি আমাকে বললেন, উনিও জানেন না। কিন্তু ছাত্রদলের সেক্রেটারি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এজন্যই উনি করেছেন। উনি আমাকে সাজেস্ট করলেন, তুমি বরং প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির কাছে জিজ্ঞেস কর।

হামিম আরও বলেন, পরবর্তীতে আমি জানতে পারলাম যে গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমি একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলাম, কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ছিল তার পরবর্তীতে। আমি শিক্ষার্থীদের সাথে একটি ইফতার মাহফিল করেছি, সে ইফতার মাহফিল কেন করলাম— সে কারণে নাকি আমাকে শোকজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে গতকালকের আয়োজনটি এজন্যই করেছিলাম, যেহেতু এই দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমার প্রাণের ছাত্র সংগঠন, এই সংগঠন বিগত দিনের ডাকসুতে আমাকে জিএস পদে মনোনয়ন করেছিল এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে আমি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ভোট পেয়েছিলাম, তাই আমি মনে করেছিলাম যে এই রোজা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেখান থেকে আমি শিক্ষার্থীদের সকলকে নিয়ে একসাথে একদিন ইফতারের আয়োজন করব। সেই চিন্তাভাবনা থেকে কিন্তু আমার ইফতারের আয়োজন করা। সে ইফতারে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমি জানি না যে আমি কোন বড় ধরনের অন্যায় করেছি কিনা, যে অন্যায়ের কারণে শোকজপত্রটা শুধু ফেসবুকে আপলোড দেওয়া হল, এখন পর্যন্ত আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানানো হল না বা অবহিত করাও হল না বা পাঠানো হয়নি।

হামিম আরও বলেন, আমি যদি আমার কাজের কারণে ছাত্রদলের কোন ক্ষতি করে থাকি, তবে আমি ছাত্রদলের বর্তমান যে প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে তাদেরকে দেখতে বলছি। তারা বলেছে লিখিত জবাব দিতে, আমি লিখিত জবাব চাইলেই দিতে পারতাম, কিন্তু আমি লিখিত জবাব দিব না। আমি দিব না একটি কারণে, সেটি হল আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এখন পর্যন্ত কোন শোকজপত্র পাঠানো হয়নি। আমি নিশ্চয়ই এমন কোন বড় অন্যায় করিনি যে আমাকে পার্সোনালি পাঠানো যাবে না।

ডিরেক্ট ফেসবুকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরণের একটি শোকজপত্র দিয়ে, সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন আমাকে ফোন করছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চাচ্ছে কি এমন অন্যায় করেছি। সুতরাং আমি আজকে আর কিছু বলব না। কেন আমাকে শোকজ করা হয়েছে এ বিষয়টি জানালাম সকলকে। এই কাজের কারণে যদি আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যদি মনে করেন আমি অন্যায় করেছি, তাহলে অন্যায় মাথা পেতে নিচ্ছি এবং অন্যায়ের জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আপনারা যদি মনে করেন আমার সাথে অন্যায় হয়েছে, এটিও আমি আপনাদের কাছে ভার দিচ্ছি। আমি সবসময় মনে করি ব্যক্তি থেকে দল বড় দল থেকে দেশ বড়।

বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে মিলল নাতনির বিবস্ত্র ম'র'দে'হ

বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে মিলল নাতনির বিবস্ত্র ম'র'দে'হ


ছবি: সংগৃহীত 

পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে দাদীকে হত্যা করে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল নাতনিকে। পরে তাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে পাওয়া গেল মরদেহ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে দাদিকে নৃশংভাবে কুপিয়ে করে হত্যা করা হয়েছে এবং কিশোরী নাতনি ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন, ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় স্থানীয়রা। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে বাড়িতে চলে যান তারা। সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে নাতনী জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে সরিষার ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়।

‎সোহেল রানা নামের এক নিকট আত্মীয় জানান, গতকাল রাতে ওই মেয়েকে ধর্ষণ করতে আসে। কিন্তু দাদি টের পেয়ে যাওয়াতে দাদিকে হত্যা করে। পরে মেয়েকে অপহরণ করে সরিষা ক্ষেতে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মধ্যরাতে নাতনিকে তুলে নিতে বাধা দিলে দাদিকে হত্যা করা হয়। আর নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সরিষা ক্ষেত্রে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। তার মরদেহ বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে সকালে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কারা, কি কারণে তাদের হত্যা করলো পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। নাতনীকে ধর্ষণের পর হত্যা কি না খীতয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়েছি। বিবস্ত্র অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ এবং বাড়ি থেকে তার দাদির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশের কয়েকটি টিম তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষাখেত থেকে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। মূল অভিযুক্তসহ অধিকাংশ আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে যুবদল নেতার দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা

ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে যুবদল নেতার দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা


ছবি: সংগৃহীত 

খুলনার দিঘ‌লিয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতা মো. মুরাদ খাঁকে হত্যা করা হয়েছে। থানা ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ ও তার ভাই সজিবের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে ‍বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বকশি বাড়ি কবরস্থানের সামনে এ রগ কাটার ঘটনা ঘটে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুরাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুরাদ খাঁ উপজেলা সেনহা‌টি ইউনিয়ন যুবদলের সি‌নিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মুনসুর খাঁ-এর ছেলে। অপরদিকে সাজ্জাদ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

নিহতের বোনের স্বামী মো. মিঠু জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুরাদের সঙ্গে সাজ্জাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মুরাদ বকশিবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সাজ্জাদ ও তার ভাই সজিবসহ কয়েকজন মুরাদকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা) আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, তুচ্ছ ঘটনায় বাগবিতণ্ডার জের ধরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাজ্জাদসহ ৪-৫ জন মুরাদের গতিরোধ করে এবং তার ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য মুরাদ বক্সিবা‌ড়ি মস‌জিদ সংলগ্ন এক‌টি দোকানে আশ্রয় নেন। দুর্বৃত্তরা ওই দোকানের তালা ভেঙে দোকানের ভেতরই পুনরায় হামলা করে। এসময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে খুলনা মে‌ডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চি‌কিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্করজনক। রগ কেটে তাকে আটকে রাখায় শরীর থেকে সমস্ত রক্ত বের হয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটা অমানবিক। আমরা অমানবিক এবং এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জানাব, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখার প্রয়োজন নেই এবং কার সঙ্গে কি সম্পর্ক রয়েছে এটাও বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের একজন রাজনৈতিক কর্মী শুধু নয়, একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা যেন গ্রেপ্তার হয়। 

২৭ ফেব, ২০২৬

পাকিস্তানের অভিযানে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত

পাকিস্তানের অভিযানে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত


ছবি: সংগৃহীত 

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের পরিচালিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা এক বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬টা ৩ মিনিটে ওসিন্ট ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানি বিমান হামলায় কাবুলে আখুন্দজাদা এবং কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালের পর আফগানিস্তানে তালেবান বাহিনী দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করলে হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হন। তার নির্দেশনাতেই মূলত সরকার পরিচালিত হয়। পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে লক্ষ্য করে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালায়, যাতে ৮০-এর বেশি নিহত হন।

এরপর, আফগান সেনারা পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই হামলায় পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন, আফগান সেনারা নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

ডুরান্ড লাইনে হামলার মাত্র তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে থাকা পাকিস্তান এবার সীমান্তের ঘটনায় সরাসরি প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কেবল যুদ্ধ হবে। অভিযানে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

২৬ ফেব, ২০২৬

বিন্তি হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিন্তি হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাজারীবাগে শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি নামে এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। আর এ নিয়ে এখন শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানাধীন হায়দার হোটেলের গলির ভেতরে ওই স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় সিয়াম নামে এক তরুণকে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে হায়দার হোটেলের গলি ধরে এক তরুণের সঙ্গে হাঁটছে বিন্তি। কিছুক্ষণ পর পাশের অন্ধকার গলি থেকে রক্তাক্ত বিন্তির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন বলেন, বুধবার রাতে বিন্তি তার ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাইরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর হইচই শুনে বাসার নিচে নেমে দেখেন কে বা কারা তার মেয়েকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। মা নাদিয়া বলেন, রাতে বিন্তি ও তার ভাই নাবিল নিচে নামে। সবজি কিনে বোনকে বাসার নিচে এগিয়ে দিয়ে নাবিল মসজিদে চলে যায়। এরপর হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি, বিন্তিকে ঘিরে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ‘বিন্তির কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম রয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ছুরিকাঘাত করে এই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে।