কেন এই ঘোষণা? জামায়াত নেতা শিশির মনির জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকারের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বা ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করাই হবে এই ছায়া মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য। এটি কোনো সমান্তরাল সরকার নয়, বরং সরকারের ভুলত্রুটি ধরা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করার একটি মাধ্যম।
ছায়া মন্ত্রিসভা কীভাবে কাজ করে? বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব অপরিসীম। এদের প্রধান কাজগুলো হলো–সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সরকারের বাজেটের বিপরীতে জনবান্ধব বিকল্প বাজেট তুলে ধরা। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বা অসংগতি জনগণের সামনে আনা। আর বিরোধী দলের নেতাদের প্রশাসনিকভাবে দক্ষ করে তোলার কাজটাও এর মাধ্যমে সেরে নেয়া যায়।
বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনে কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে এর সরাসরি কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতাও নেই, তবে এটি নৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তবে উন্নত বিশ্বের যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশগুলোতে এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত।
ছায়া মন্ত্রীরা কি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পান? যুক্তরাজ্যে ছায়া মন্ত্রিসভার নেতাকে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন দেওয়া হয় এবং তাকে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান মর্যাদা দেয়া হয়। তবে বাংলাদেশে যেহেতু ছায়া মন্ত্রিসভার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই, তাই ছায়া মন্ত্রীরা সরকারি কোষাগার থেকে কোনো আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের সুবিধা পাবেন না।