সর্বশেষ

২৬ সেপ, ২০২৬

বণ্টন মামলায় পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়াই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায়: হাইকোর্টের রায়

বণ্টন মামলায় পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়াই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায়: হাইকোর্টের রায়

১.৩১ একর জমির পুরোটা বণ্টনের নির্দেশ; খতিয়ান স্বত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়

যৌথ সম্পত্তির বণ্টন মামলায় কোনো অংশের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও, সেই মালিকানার প্রশ্ন নিষ্পত্তির জন্য সব ক্ষেত্রে পৃথকভাবে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করার প্রয়োজন নেই। বণ্টন মামলার মধ্যেই প্রয়োজনীয় স্বত্বের প্রশ্ন আদালত নির্ধারণ করতে পারেন।

একটি ১.৩১ একর জমি নিয়ে বিরোধের মামলায় এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, এস.এ. বা আর.এস. খতিয়ানে কারও নাম থাকলেই তার স্বত্ব চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বৈধ ও নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত স্বত্বের বিপরীতে শুধু খতিয়ানের রেকর্ডকে প্রাধান্য দেওয়া যায় না।

বিচারপতি শেখ আবদুল আওয়াল ও বিচারপতি এ. কে. এম. রাবিউল হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ Azahar Uddin Bhuiyan, being dead, his legal heirs vs. Chandraban Bibi and others (First Appeal No. 312 of 2018) মামলায় ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। যার রায় প্রকাশিত হয় ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

বরিশালের যুগ্ম জেলা জজ, প্রথম আদালতে Title Suit No. 51 of 2007 মামলাটি ১.৩১ একর জমি বণ্টনের দাবিতে দায়ের করা হয়। বাদীদের দাবি ছিল, বিতর্কিত জমির ওপর তাঁদের স্বত্বের ধারাবাহিকতা পূর্ববর্তী মালিকদের মাধ্যমে তাঁদের কাছে এসেছে। তাঁদের স্বত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল ১৩ জুন ১৯৩৯ তারিখের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিল নং ১৯৯৯। তবে পরবর্তী এস.এ. খতিয়ানে ১.৩১ একর জমির মধ্যে ১.০৫ একর বাদীদের পক্ষে এবং অবশিষ্ট ০.২৬ একর বিবাদীদের নামে রেকর্ড হয়। বাদীদের বক্তব্য ছিল, ০.২৬ একর জমি ভুলভাবে বিবাদীদের নামে রেকর্ড করা হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পুরো ১.৩১ একর জমি যৌথভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

অন্যদিকে বিবাদীদের দাবি ছিল, ০.২৬ একর জমির মালিকানা নিয়ে জটিল প্রশ্ন রয়েছে। তাই পৃথকভাবে স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়া শুধু বণ্টনের মামলা করে ওই অংশের দাবি করা যায় না। তাঁরা ১৯৩৯ সালের কবুলিয়ত দলিলের কার্যকারিতা ও জমির পরিমাণ নিয়েও আপত্তি তোলেন।

নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত

মামলার শুনানি শেষে যুগ্ম জেলা জজ, প্রথম আদালত, বরিশাল ১৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মামলাটি আংশিকভাবে মঞ্জুর করেন। আদালত ১.০৫ একর জমির বিষয়ে বাদীদের পক্ষে বণ্টনের ডিক্রি দিলেও ০.২৬ একর জমির ক্ষেত্রে তাঁদের দাবি গ্রহণ করেননি। এর মূল কারণ ছিল—ওই অংশের স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকায় পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়া বণ্টনের দাবি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাদীরা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেন।

হাইকোর্টে মূল প্রশ্ন

আপিলের শুনানিতে হাইকোর্ট মূলত তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন—

প্রথমত, পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা না থাকলেও বণ্টন মামলার মধ্যেই ০.২৬ একর জমির স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায় কি না;

দ্বিতীয়ত, দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII Rule 3 অনুসারে জমির বিবরণ যথেষ্ট স্পষ্ট না হলে পুরো জমির বণ্টন বাধাগ্রস্ত হবে কি না;

তৃতীয়ত, বাদীরা পুরো ১.৩১ একর জমিতে তাঁদের স্বত্ব ও বণ্টনের অধিকার প্রমাণ করতে পেরেছেন কি না।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

খতিয়ান স্বত্ব সৃষ্টি বা বিলুপ্ত করে না

হাইকোর্ট প্রথমেই স্পষ্ট করেন, খতিয়ান মূলত জমির রেকর্ড; এটি নিজে থেকে কারও স্বত্ব সৃষ্টি বা বিলুপ্ত করে না। আদালত দেখতে পান, বাদীদের স্বত্বের ধারাবাহিকতা ১৯৩৯ সালের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিল দ্বারা সমর্থিত। অপরদিকে এস.এ. খতিয়ানে ০.২৬ একর বিবাদীদের নামে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি বাদীদের স্বত্বকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না। বিশেষ করে বিবাদীদের নামে থাকা খতিয়ানের ভিত্তিতে বাদীদের স্বত্ব অস্বীকার করার আগে তাঁদের স্বত্বের পক্ষে থাকা নিবন্ধিত দলিল ও অন্যান্য প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল বলে আদালত মনে করেন।

বণ্টন মামলাতেই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায়

হাইকোর্ট বলেন, বণ্টনের মামলায় জমির অংশীদারদের স্বত্ব নির্ধারণের প্রয়োজন হলে সেই প্রশ্ন একই মামলার মধ্যেই নিষ্পত্তি করা যায়। অর্থাৎ, কোনো যৌথ সম্পত্তিতে কার কতটুকু অংশ রয়েছে—এটি নির্ধারণ করতে গিয়ে স্বত্বের আনুষঙ্গিক প্রশ্ন দেখা দিলে তার জন্য সব সময় আলাদা স্বত্ব ঘোষণার মামলা দায়ের করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ বিষয়ে আদালত Cinmoy Chowdhury vs. Mridul Chowdhury, 55 DLR (AD) 115 মামলার নীতি অনুসরণ করেন। ফলে ০.২৬ একর জমির জন্য আলাদা স্বত্ব ঘোষণার মামলা না করায় বাদীদের বণ্টনের মামলা অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায়নি।

জমি শনাক্ত করা সম্ভব হলে Order VII Rule 3 বাধা নয়

দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII Rule 3 অনুযায়ী মামলার স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ এমন হতে হবে, যাতে সম্পত্তিটি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায় এবং ভবিষ্যতে ডিক্রি কার্যকর করার সময় কোনো অসুবিধা না হয়। হাইকোর্ট দেখতে পান, মামলার তফসিলে পুরো ১.৩১ একর জমি সি.এস. দাগ নম্বর ও সীমানাসহ উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে জমিটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল। আদালত বলেন, যৌথ সম্পত্তির বণ্টন মামলায় প্রাথমিক ডিক্রি দেওয়ার সময় প্রতিটি অংশের আলাদা ভৌত সীমানা নির্ধারণ করা আবশ্যক নয়। চূড়ান্তভাবে জমি ভাগ করার সময় অ্যাডভোকেট কমিশনারের মাধ্যমে মাপজোক ও অংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

১৯৩৯ সালের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিলকে অগ্রাহ্য করার কারণ নেই

মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল ১৩ জুন ১৯৩৯ তারিখের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিল নং ১৯৯৯। হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন, ট্রায়াল কোর্টও দলিলটিকে প্রকৃত ও বৈধ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিবাদীরা ওই দলিল বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণার জন্য কোনো মামলা করেনি। আদালত আরও লক্ষ্য করেন, বিবাদীপক্ষের সাক্ষীর বক্তব্য থেকেও দলিলটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতীয়মান হয়। এ ক্ষেত্রে Specific Relief Act, 1877-এর Section 31 এবং Evidence Act, 1872-এর Section 90-এর বিধান প্রাসঙ্গিক বলে আদালত উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ৩০ বছরের বেশি পুরোনো এবং যথাযথ হেফাজত থেকে উপস্থাপিত দলিলের ক্ষেত্রে তার সত্যতা সম্পর্কে আইনে অনুমানের সুযোগ রয়েছে।

শুধু মৌখিক আপত্তিতে নিবন্ধিত দলিল অকার্যকর হয় না

বিবাদীপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কবুলিয়ত দলিলটি এককভাবে বাদীদের পুরো জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। হাইকোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালতের মতে, দীর্ঘদিনের পুরোনো নিবন্ধিত দলিল আদালতে প্রমাণিত এবং অচ্যালেঞ্জড অবস্থায় থাকলে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সেটিকে অকার্যকর বলা যায় না। বিবাদীরা দলিলটি বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়নি—এ বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

একজন সহ-শরিকের দখল সাধারণত সবার দখল

হাইকোর্ট আরও বলেন, যৌথ সম্পত্তিতে একজন সহ-শরিক দখলে থাকলে সাধারণভাবে সেই দখল সব সহ-শরিকের পক্ষের দখল হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্য সহ-শরিককে সম্পূর্ণভাবে বেদখল করা হয়েছে বা তাঁর অধিকার অস্বীকার করে দীর্ঘদিন ধরে পৃথকভাবে দখল করা হয়েছে—এমন বেদখল বা ouster প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত একজনের দখলের কারণে অন্য সহ-শরিকের অধিকার নষ্ট হয় না। এই মামলায় বিবাদীপক্ষ বাদীদের সম্পূর্ণ বেদখলের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেনি। বরং বিবাদীপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্যে বাদীদের জমিতে দখলের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।

সাক্ষীদের স্বীকারোক্তিও আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ

মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দেখতে পান, বিবাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দিতে বাদীদের দখলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি রয়েছে। আদালত বলেন, কোনো পক্ষের নিজের বক্তব্য বা সাক্ষ্যের মাধ্যমে কোনো বিষয় স্বীকার করা হলে সেটি সেই পক্ষের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া বিবাদীদের বক্তব্য ও নথিপত্রের মধ্যেও এমন কিছু বিষয় ছিল, যা বাদীদের দাবি ও ১৯৩৯ সালের দলিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের আপত্তি

সবকিছু বিবেচনা করে হাইকোর্ট মনে করেন, ট্রায়াল কোর্ট ০.২৬ একর জমির বিষয়ে আইনের ভুল প্রয়োগ করেছে। বিশেষ করে এস.এ. খতিয়ানে বিবাদীদের নাম থাকার বিষয়টিকে ১৯৩৯ সালের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া সঠিক হয়নি। আদালতের মতে, বাদীদের স্বত্বের ধারাবাহিকতা, নিবন্ধিত দলিল, দখল এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ একসঙ্গে বিবেচনা করলে পুরো ১.৩১ একর জমির ওপর তাঁদের বণ্টনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়

হাইকোর্ট বিভাগ First Appeal No. 312 of 2018 মঞ্জুর করেন। ট্রায়াল কোর্টের ১৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখের রায় ও ডিক্রি সংশোধন করে হাইকোর্ট পুরো ১.৩১ একর জমির বিষয়ে বাদীদের পক্ষে প্রাথমিক বণ্টন ডিক্রি দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রায়ে বলা হয়—

  • বাদীরা পুরো ১.৩১ একর জমিতে তাঁদের আইনগত অংশ অনুযায়ী পৃথক সাহাম পাওয়ার অধিকারী;

  • পক্ষগুলোকে ৪৫ দিনের মধ্যে নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে নিতে হবে;

  • ৪৫ দিনের মধ্যে পারস্পরিকভাবে বণ্টন সম্ভব না হলে যে কোনো পক্ষ ট্রায়াল কোর্টে অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন;

  • কমিশনার সরেজমিনে জমি পরিমাপ করে প্রত্যেক পক্ষের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করবেন এবং তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ডিক্রি প্রস্তুত করা হবে।

আপিলটি বিবাদী ১-৭ নম্বরের বিরুদ্ধে শুনানি করে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে মঞ্জুর করা হয়। আদালত কোনো খরচ আরোপ করেননি।

রায়ের মূল বক্তব্য

যৌথ সম্পত্তির বণ্টন মামলায় কোনো অংশের স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলেও, সেই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য সব ক্ষেত্রে পৃথক স্বত্ব ঘোষণার মামলা করা বাধ্যতামূলক নয়। একই বণ্টন মামলায় প্রয়োজনীয় স্বত্বের প্রশ্ন নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। বৈধ নিবন্ধিত দলিলের বিপরীতে শুধু খতিয়ানের রেকর্ডকে চূড়ান্ত স্বত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

আইনি শিক্ষা

এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন—

প্রথমত, খতিয়ান স্বত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

দ্বিতীয়ত, বণ্টন মামলার প্রয়োজনেই যদি স্বত্বের কোনো আনুষঙ্গিক প্রশ্ন ওঠে, আদালত একই মামলায় সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে পারেন।

তৃতীয়ত, সম্পত্তি তফসিল, দাগ ও সীমানার মাধ্যমে যথেষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলে Order VII Rule 3-এর কারণে বণ্টন মামলা ব্যর্থ হবে না।

চতুর্থত, দীর্ঘদিনের পুরোনো ও অচ্যালেঞ্জড নিবন্ধিত দলিলের গুরুত্ব রয়েছে এবং শুধু মৌখিক বক্তব্য দিয়ে এমন দলিলকে অকার্যকর করা যায় না।

পঞ্চমত, যৌথ সম্পত্তিতে একজন সহ-শরিকের দখল সাধারণত অন্য সহ-শরিকদের অধিকার নষ্ট করে না; সম্পূর্ণ বেদখল বা ouster প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য নজির

  • Cinmoy Chowdhury vs. Mridul Chowdhury, 55 DLR (AD) 115

  • Sanjib Kumar Bose vs. Syed Shamsuddin Ahmed, 33 DLR (AD) 34

  • Abdul Mannan Bhuiyan vs. Md. Nasir Hossain, 18 BLD (AD) 44

  • Hachina Begum vs. Abdul Mannan, 30 BLD 628

  • Guru Charan Mondol vs. Sree Bhaba Sindhu Sarkar, 13 MLR (AD) 


বিডিএলপিবি/মাসুম 


থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি

থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি

ছবি: সংগৃহীত 
থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন তিনি। এরপর ৫ অক্টোবর মালয়েশিয়া সফরে যাবেন প্রধান বিচারপতি।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রধান বিচারপতির বিদেশ সফরের বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে অবস্থান করবেন। এরপর ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবস্থান করার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধান বিচারপতির এই সফরের সময়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমে তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. রেজাউল হককে প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বিদেশ সফর শেষে নিজ দায়িত্বে পুনরায় যোগদান না করা পর্যন্ত এ দায়িত্ব বহাল থাকবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে বিচারপতি মো. রেজাউল হককে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির সাময়িক অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক বিধান অনুসারেই আপিল বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিকল্প দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অথবা প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাঁর দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন। ফলে সফরকালীন সময়ে আপিল বিভাগের প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রমে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনে কোনো শূন্যতা থাকবে না।


সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

বিডিএলপিবি/মাসুম


রামিসার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইনি সহায়তার আশ্বাস অ্যাটর্নি জেনারেলের

রামিসার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আইনি সহায়তার আশ্বাস অ্যাটর্নি জেনারেলের

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুুপুরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তিনি এ সাক্ষাত করেন।

বর্তমানে শিশু রামিসা মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে রামিসার বাবা অ্যাটর্নি-জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল রামিসার বাবাকে বলেন, বর্তমান সরকার তাদের সঙ্গে আছে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন।


সূত্র: ঢাকা পোস্ট (২৬/০৯/২০২৬)

যথাযথ শুনানির সুযোগ না দিয়ে শুধু নোটিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া Natural Justice-এর পরিপন্থী: হাইকোর্টের রায়

যথাযথ শুনানির সুযোগ না দিয়ে শুধু নোটিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া Natural Justice-এর পরিপন্থী: হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে কোনো ব্যক্তির অধিকার, স্বার্থ বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তাকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের যথাযথ ও কার্যকর সুযোগ দিতে হবে। পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার বা Natural Justice-এর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে এক রায়ে পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন হাইকোর্ট।

বিশেষ করে Audi Alteram Partem—অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে শুনতে হবে—এই নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে আদালত বলেছেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ জারি করাই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার বক্তব্য প্রস্তুত ও উপস্থাপনের জন্য বাস্তব ও যুক্তিসঙ্গত সুযোগও দিতে হবে।

Engineer Md. Mohosin vs. Commissioner of Taxes, Taxes Zone-1, Chattogram and others (Writ Petition No. 2508 of 2026) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ৫ জুলাই ২০২৬ এ রায় প্রদান করেন যার পূর্ণাঙ্গ লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয় ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।মামলাটিতে একজন করদাতার দাখিল করা রিভিশন আবেদনের শুনানির জন্য নোটিশ জারি ও শুনানির মধ্যে সময়ের ব্যবধান এবং নোটিশ যথাযথভাবে পৌঁছেছিল কি না—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি সামনে আসে। হাইকোর্ট দেখতে পান, নোটিশ পাঠানো হলেও শুনানির জন্য কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং নোটিশের যথাযথ সেবা সম্পর্কেও নথিতে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না।

এই প্রেক্ষাপটে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একতরফা আদেশ বাতিল করে বিষয়টি নতুন করে শুনানির জন্য ফেরত পাঠান এবং যথাযথ শুনানির সুযোগ দিয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার প্রেক্ষাপট:

রিটকারী ইঞ্জিনিয়ার মো. মোহসিন M/S Master & Brothers এবং M/S Janata Syndicate-এর স্বত্বাধিকারী। প্রতিষ্ঠান দুটি আন্তর্জাতিকভাবে পুরোনো জাহাজ আমদানি করে দেশে তা স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে। রিটকারী ২০১৬-১৭ থেকে ২০২০-২১ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন দাখিল করে নির্ধারিত কর পরিশোধ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণও সম্পন্ন হয়।

পরবর্তীতে কর কর্তৃপক্ষ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ৯৩ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীনে পুনর্মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে এবং পূর্বের তুলনায় বেশি আয় নির্ধারণ করে। এর বিরুদ্ধে রিটকারী আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৮৫ ধারার অধীনে ২০২৫ সালের ২৫ মে পৃথক পাঁচটি রিভিশন আবেদন করেন।

রিভিশন আবেদনের শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২৬ মে ২০২৫ তারিখে নোটিশ জারি করে এবং ২ জুন সকাল ১১টায় শুনানির দিন নির্ধারণ করে। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, নোটিশটি ২৭ মে নিবন্ধিত ডাকযোগে পাঠানো হয়েছিল। তবে রিটকারীর বক্তব্য ছিল, তিনি ওই নোটিশ পাননি এবং তাকে কার্যকরভাবে শুনানির সুযোগও দেওয়া হয়নি।

রিটকারীর অনুপস্থিতিতেই ২ জুন শুনানি শেষ করে ১৯ জুন ২০২৫ তারিখে রিভিশন আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। পরবর্তীতে পাঁচটি করবর্ষের জন্য মোট ৬ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার ৪২১ টাকা পরিশোধের দাবিতে নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রিটকারীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

রিটকারীর মূল অভিযোগ ছিল, শুনানির জন্য পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে এবং নোটিশ যথাযথভাবে সেবা হয়েছে কি না নিশ্চিত না করেই একতরফাভাবে রিভিশন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফলে তিনি তার বক্তব্য, প্রয়োজনীয় দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপনের কার্যকর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে মামলাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে ওঠে—কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির অধিকার বা স্বার্থের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে যথাযথ ও কার্যকর শুনানির সুযোগ না দিলে সেই সিদ্ধান্ত প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের (Natural Justice) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:

হাইকোর্টের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—শুধু নোটিশ জারি করলেই কি একজন ব্যক্তিকে যথাযথভাবে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে ধরা যায়?

আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এমন সময় ও সুযোগ দিতে হবে, যাতে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের সামনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন, প্রয়োজনীয় প্রমাণ দাখিল এবং তার বিরুদ্ধে থাকা তথ্য বা প্রমাণ মোকাবিলা করতে পারেন। অর্থাৎ শুনানির সুযোগটি শুধু আনুষ্ঠানিক নয়, কার্যকর ও অর্থবহ হতে হবে।

এ মামলায় আদালত দেখতে পান, ২৬ মে নোটিশ জারি এবং ২৭ মে ডাকযোগে পাঠানোর পর ২ জুন শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কার্যদিবসও ছিল সীমিত। তাছাড়া নোটিশের যথাযথ সার্ভিসের পক্ষে রেকর্ডে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না। রেজিস্টার্ড পোস্টের রসিদে সরকারি ডাক সিল ছিল না এবং Acknowledgement Due (AD) card-ও পাওয়া যায়নি। Order sheet-এও নোটিশ যথাযথভাবে সার্ভ হয়েছে—এমন কোনো endorsement ছিল না।

আদালতের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বাদীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলা যায় না। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় Natural Justice-এর audi alteram partem নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

Audi Alteram Partem নীতির প্রয়োগ-

Audi alteram partem অর্থ—“অন্য পক্ষকেও শুনতে হবে”। এই নীতির মূল বক্তব্য হলো, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে—
-যথাযথ নোটিশ দিতে হবে;
-পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে;
-নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে;
-প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও দলিল দাখিলের সুযোগ দিতে হবে;
-এবং তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণ বা বক্তব্য মোকাবিলার সুযোগ দিতে হবে।

হাইকোর্টের এই মামলায় মূল গুরুত্ব ছিল “effective opportunity of hearing” বা কার্যকর শুনানির সুযোগের ওপর। শুধু একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে—এটিই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে বাস্তবে শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারেন, সেই সুযোগ নিশ্চিত করাও ন্যায়বিচারের অংশ।

হাইকোর্টের রায়:

হাইকোর্ট ১৯ জুন ২০২৫ তারিখে কমিশনার অব ট্যাক্সেসের দেওয়া রিভিশন আদেশকে without lawful authority and of no legal effect ঘোষণা করেন।

আদালত মামলাটি পুনরায় শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠান এবং বাদীকে যথাযথভাবে শুনানি ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ দাখিলের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। পুনঃশুনানি রায়ের কপি পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে বলা হয়।

আইনি শিক্ষা:

কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে কারও অধিকার বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, সিদ্ধান্তের আগে তাকে কার্যকরভাবে শুনতে হবে। পর্যাপ্ত সুযোগ ছাড়া একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ Natural Justice-এর audi alteram partem নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এই রায়টি বিশেষভাবে দেখায় যে, “শুনানির সুযোগ” কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি মৌলিক প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা।

বিডিএলপিবি/মাসুম

Investigation, Inquiry ও Trial: ফৌজদারি মামলার তিন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

Investigation, Inquiry ও Trial: ফৌজদারি মামলার তিন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

বাংলাদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), ১৮৯৮ অনুযায়ী Investigation (তদন্ত), Inquiry (অনুসন্ধান) এবং Trial (বিচার)—ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার পৃথক তিনটি পর্যায়।

১. Investigation (তদন্ত):
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(১)(l) অনুযায়ী, অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ ও ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের জন্য পুলিশ বা আইনানুগভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচালিত কার্যক্রমকে তদন্ত বলা হয়।
ধারা ১৫৪–১৭৬-এ তদন্তের বিভিন্ন বিধান রয়েছে; এর মধ্যে ধারা ১৫৬ পুলিশকে আমলযোগ্য (cognizable) অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়েছে।

২. Inquiry (অনুসন্ধান):
ধারা ৪(১)(k) অনুযায়ী, Trial ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত কর্তৃক পরিচালিত অনুসন্ধানকে Inquiry বলা হয়। অর্থাৎ, এটি আদালত/ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক অনুসন্ধান, যা বিচার শুরুর পূর্ববর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে হতে পারে।

৩. Trial (বিচার):
CrPC-তে Trial-এর আলাদা সংজ্ঞা নেই। তবে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার, সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা, যুক্তিতর্ক এবং শেষে দোষী বা নির্দোষ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রক্রিয়াই সাধারণভাবে Trial বা বিচার। এ বিষয়ে CrPC-এর অধ্যায় XVIII–XXII-তে বিভিন্ন আদালতে বিচার পরিচালনার বিধান রয়েছে।

সহজভাবে পার্থক্য:

Investigation: পুলিশ/ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি → প্রমাণ সংগ্রহ ও অপরাধের তদন্ত।

Inquiry: আদালত/ম্যাজিস্ট্রেট → বিচার শুরুর আগে অনুসন্ধান।

Trial: আদালত → সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার ও রায়।


বিডিএলপিবি/মাসুম

২৫ সেপ, ২০২৬

সন্দেহজনক, অপ্রমাণিত বা আইনগতভাবে দুর্বল দলিল দিয়ে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা যায় না: হাইকোর্টের রায়

সন্দেহজনক, অপ্রমাণিত বা আইনগতভাবে দুর্বল দলিল দিয়ে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা যায় না: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
কোনো দলিল সন্দেহজনক, অপ্রমাণিত বা আইনগতভাবে দুর্বল হলে সেটিকে জমির মালিকানার বৈধ ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, রেকর্ড অব রাইটসে কোনো বিরূপ বা প্রতিকূল এন্ট্রি ভুল হলেও, তার ভিত্তিতে নিজে থেকেই কোনো ব্যক্তির মালিকানা বা দখলের অধিকার সৃষ্টি হয় না। মালিকানার দাবিদারকে প্রথমে নিজের স্বত্বের আইনগত ভিত্তি নির্ভরযোগ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আবদুর রহমান এই সিদ্ধান্ত দেন। আফসার উদ্দিন বেগ ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য (সিভিল রিভিশন নং- ৪৩১৯/১৯৯৭) মামলায় ৪ আগস্ট ২০২৬ দেওয়া রায়ে আদালত নিম্ন আদালতের আপিলের রায় বাতিল করে ট্রায়াল কোর্টের মামলাটি খারিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করেন। যার পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার প্রেক্ষাপট:

মামলার বাদীরা সংশ্লিষ্ট জমিতে নিজেদের স্বত্ব ঘোষণার জন্য ১৯৯১ সালে দেওয়ানি মামলা করেন। তাদের দাবি ছিল, পূর্ববর্তী মালিকদের কাছ থেকে তারা কথিত পট্টার মাধ্যমে জমি পেয়েছেন এবং পরে সেখানে পুকুর, ঘাট ও স্থাপনা নির্মাণসহ দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে জমিটি সরকারের নামে খাস খতিয়ানে রেকর্ড হওয়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জমিটি মূলত জমিদারির সম্পত্তি ছিল এবং State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর অধীনে জমিদারি বিলুপ্তির পর জমিটি যথাযথভাবে সরকারের খাস জমি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বাদীদের জমিতে কোনো বৈধ স্বত্ব নেই বলেও দাবি করা হয়।

ট্রায়াল কোর্ট বাদীদের মামলা খারিজ করলেও আপিল আদালত সেই রায় উল্টে দিয়ে বাদীদের পক্ষে ডিক্রি দেন। এরপর সরকার হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:

হাইকোর্ট দেখতে পান, বাদীরা তাদের কথিত পট্টা ও দাখিলার মাধ্যমে জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও এসব দলিলের সত্যতা ও প্রস্তুত প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষ করে দাখিলাগুলোর প্রস্তুত ও সম্পাদনের সময় সম্পর্কে সাক্ষীর বক্তব্যের সঙ্গে দলিলের তথ্যের মিল ছিল না।

আদালত আরও বলেন, পরবর্তী এস. এ. রেকর্ডও বাদীদের কথিত পট্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বাদীদের একজন জমির পরিমাণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি এবং ভাড়াও নিয়মিত পরিশোধের প্রমাণ দিতে পারেননি। এসব বিষয় তাদের স্বত্ব ও দখলের দাবিকে দুর্বল করেছে।

হাইকোর্টের মতে, কোনো পক্ষ শুধু পুরোনো দলিল আদালতে উপস্থাপন করলেই তা মালিকানার প্রমাণ হয়ে যায় না। মালিকানার মূল উৎস, পূর্ববর্তী মালিকের স্বত্ব, জমির পরিচয়, পরবর্তী লেনদেন, দখলের ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান—সবকিছু মিলিয়ে স্বত্বের ধারাবাহিকতা যাচাই করতে হবে।

আদালত স্পষ্ট করে বলেন, খতিয়ান নিজে মালিকানার উৎস নয়। রেকর্ড অব রাইটসের সঙ্গে দলিল, উত্তরাধিকার, দখল, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং স্বত্বের ধারাবাহিকতা বিবেচনা করতে হবে। পূর্বসূরির বৈধ স্বত্ব প্রমাণিত না হলে পরবর্তী খতিয়ানের এন্ট্রিও সেই ত্রুটি দূর করতে পারে না।

‘Adverse entry’ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য:

আদালত বলেন, কোনো ব্যক্তির স্বত্বের প্রাথমিক ভিত্তিই যদি প্রমাণিত না হয়, তাহলে রেকর্ড অব রাইটসে তার পক্ষে বা বিপক্ষে থাকা কোনো এন্ট্রির ওপর নির্ভর করে স্বত্ব সৃষ্টি করা যাবে না।

রায়ে বলা হয়েছে, “a doubtful, unproved or legally infirm document cannot constitute the juridical foundation of title”—অর্থাৎ সন্দেহজনক, অপ্রমাণিত বা আইনগতভাবে দুর্বল দলিল মালিকানার বিচারিক ভিত্তি হতে পারে না। একইভাবে, মালিকানার প্রাথমিক ভিত্তি না থাকলে রেকর্ড অব রাইটসে বিরূপ এন্ট্রি ভুল হলেও তা নিজে থেকেই বাদীর ঘোষণামূলক বা দখলগত অধিকার সৃষ্টি করে না।

আদালত একই সঙ্গে “Qui sentit commodum, sentire debet et onus” নীতির উল্লেখ করে বলেন, কোনো ব্যক্তি সুবিধা ভোগ করলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ও বহন করতে হয়—তবে কোনো সম্পত্তির অধিকার সৃষ্টির আইনগত উৎসই যেখানে প্রমাণিত হয়নি, সেখানে এই নীতি প্রয়োগ করে মালিকানা সৃষ্টি করা যায় না।

আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত কেন বাতিল:

হাইকোর্ট মনে করেন, আপিল আদালত পট্টা ও দাখিলাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছে এবং দলিলগুলোর অসঙ্গতি, জমির পরিচয়, স্বত্বের মূল উৎস, আর.এস. খতিয়ান ও কমিশনারের প্রতিবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। একই সঙ্গে ট্রায়াল কোর্টের বিস্তারিত প্রমাণমূল্যায়ন কেন ভুল ছিল, সে বিষয়ে আপিল আদালত যথেষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে পারেনি।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বাদীকে নিজের মামলার ভিত্তি নিজেকেই প্রমাণ করতে হবে; বিবাদীর মামলার দুর্বলতার ওপর নির্ভর করে বাদী স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে বাদীরা নির্ভরযোগ্য ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণে তাদের স্বত্বের ধারাবাহিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রায়

হাইকোর্ট আফসার উদ্দিন বেগ ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য (সিভিল রিভিশন নং- ৪৩১৯/১৯৯৭) -এর রুল এবসোলুট করেন। একই সঙ্গে আপিল আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে ট্রায়াল কোর্টের বাদীদের মামলা খারিজের রায় পুনর্বহাল ও বহাল করেন। খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

আইনি শিক্ষা:

এই রায়ের মূল শিক্ষা হলো—জমির মালিকানা প্রমাণে শুধু খতিয়ান, পুরোনো দাখিলা বা কোনো একক দলিল যথেষ্ট নয়। দাবিদারকে বৈধ উৎস থেকে স্বত্বের ধারাবাহিকতা, জমির সুনির্দিষ্ট পরিচয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দখলের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। সন্দেহজনক বা অপ্রমাণিত দলিল এবং তার ওপর নির্ভরশীল রেকর্ডের এন্ট্রি একা মালিকানার আইনগত ভিত্তি তৈরি করতে পারে না।


বিডিএলপিবি/মাসুম

একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে চলার সুযোগ নেই: হাইকোর্টের রায়

একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে চলার সুযোগ নেই: হাইকোর্টের রায়

একই মামলার হাজতবাস ছাড়া ৩৫এ ধারার সুবিধা নয়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ রায় দিয়েছেন যে, একাধিক মামলায় পৃথকভাবে দেওয়া কারাদণ্ডের সাজা আদালত স্পষ্ট নির্দেশ না দিলে ধারাবাহিকভাবে (consecutive) কার্যকর হবে; অর্থাৎ একটি সাজা শেষ হওয়ার পর অন্য সাজা শুরু হবে। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার সুবিধা কেবল সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় কাটানো হাজতবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; এক মামলার সাজাভোগের সময় অন্য মামলার সাজা থেকে কর্তন করা যাবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট:

মামলাটি দায়ের করেন মো. নাসির উদ্দিন, যিনি নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার অধীনে দায়ের হওয়া ছয়টি পৃথক মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি দাবি করেন যে, বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাভোগের সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল এবং কারা কর্তৃপক্ষ আইনানুগভাবে ৩৫এ ধারার সুবিধা প্রদান করেনি। এ অভিযোগে তিনি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন করেন।

আবেদনকারীর পক্ষে বলা হয়, তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় প্রদত্ত সাজা ভোগ করেছেন এবং সেই সময়কাল হিসাব করে তাঁকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ ব্যাংকগুলোর আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী আদালত বিশেষ নির্দেশ না দিলে পৃথক মামলার সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে এবং এক মামলার সাজাভোগ অন্য মামলার সাজা থেকে সমন্বয় করা যাবে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:

হাইকোর্ট বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা কেবল সেই মামলায় বিচারপূর্ব হাজতবাসের সময়কে সাজা থেকে কর্তনের সুযোগ দেয়। অন্য কোনো মামলায় কাটানো কারাবাসের সময় এ ধারার অধীনে সমন্বয়যোগ্য নয়।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তি একাধিক মামলায় দণ্ডিত হলে পরবর্তী সাজা পূর্ববর্তী সাজা শেষ হওয়ার পর কার্যকর হবে, যদি না বিচারিক আদালত স্পষ্টভাবে সমসাময়িক (concurrent) সাজা ভোগের নির্দেশ দেন।

রায়ে আদালত Nazrul Islam vs. Government of Bangladesh (75 DLR 427) মামলার সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত করে বলেন, একাধিক সাজা সাধারণত ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হয় এবং সমসাময়িকভাবে কার্যকরের জন্য আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা আবশ্যক।

এছাড়া আদালত পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে সাধারণভাবে ফৌজদারি কার্যধারায় হস্তক্ষেপ করা যায় না, যদি না আইনের বৈধতা (vires) চ্যালেঞ্জ করা হয় অথবা এখতিয়ারগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়।

রায়:

সব দিক বিবেচনায় হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন এবং আবেদনকারীকে দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইনজীবীকে প্রতিটি মামলায় বিচারকালীন হাজতবাসের পৃথক হিসাব তৈরি করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে ৩৫এ ধারার সুবিধা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা যায়।

আইনি শিক্ষা:

এই রায় থেকে প্রতীয়মান হয় যে, একাধিক মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একসঙ্গে চলবে না। বিচারিক আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে, ৩৫এ ধারার সুবিধা কেবল সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারকালীন হাজতবাসের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে।

মামলার তথ্য:
মামলার নাম: মো. নাসির উদ্দিন বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য
মামলা: রিট পিটিশন নং ২৩২৭/২০২২
আদালত: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
বিচারপতি: বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী
এখতিয়ার: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ মূল এখতিয়ার
শুনানি: ২৫ জুন, ৪ আগস্ট, ২০ আগস্ট ও ২১ আগস্ট ২০২৫
রায়: ২৭ আগস্ট ২০২৫
রায় প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিডিএলপিবি/মাসুম