সর্বশেষ

১৪ অক্টো, ২০২৬

পরীক্ষার জন্য জামিন, পরীক্ষা শেষ হওয়ায় এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা না হওয়ায় আপিল খারিজ

পরীক্ষার জন্য জামিন, পরীক্ষা শেষ হওয়ায় এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা না হওয়ায় আপিল খারিজ

পরীক্ষা শেষ হওয়ায় এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা না হওয়ায় আপিল খারিজ; নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে পারবেন বিচারিক আদালত
পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ বিবেচনায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন ধর্ষণ মামলার এক আসামি। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসা না হওয়ায় তাঁর করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতে রায়ের অনুলিপি পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী তাঁর গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।

২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মামলাটি হলো ক্রিমিনাল আপিল নং ৩০৮১/২০২৬। এতে আসামি তাসমিম মাহিদ চঞ্চল এবং রাষ্ট্র পক্ষভুক্ত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এর ২৪ মে ২০২৬ তারিখে জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে এ আপিল করা হয়েছিল।

ফেসবুকে পরিচয়, বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগ

মামলার নথি অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে বাদী ও আসামির পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ করা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আসামি বাদীকে ঢাকার ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া বাদীর আপত্তিকর ছবি তুলে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট বাদীর সঙ্গে আসামির দেখা হয়। পরদিন ৩১ আগস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে আসামি তাঁকে ধানমন্ডির একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাসে তাঁদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বাদীকে হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ সংশোধিত আইনের ৯(খ) ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে বিচারাধীন।

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীকে মেডিকেল বোর্ডে পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে যৌন সংসর্গের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেগুলো সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক সংঘটিত যৌন সংসর্গের লক্ষণ ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। মেডিকেল বোর্ড তাঁর বয়স আনুমানিক ২০ বছর নির্ধারণ করে।

পরীক্ষার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন

নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল আসামি বিচারিক ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল পরীক্ষার কারণ বিবেচনায় তাঁকে ১০ মে পর্যন্ত জামিন দেন। পরে ১০ মে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৪ মে তাঁর জামিনের আবেদন পুনরায় নামঞ্জুর করা হয়।

এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আসামি। তাঁর চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা ১৪ থেকে ৩০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

এ সময় মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল, জামিন পেলে পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।

আপিল খারিজ করে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

পরবর্তী শুনানিতে হাইকোর্ট দেখতে পান, আসামির পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো আপস-মীমাংসা হয়নি।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত আপিলের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি পাননি। ফলে আপিলটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, বিচারিক আদালতে রায়ের অনুলিপি পৌঁছানোর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে বিচারিক আদালত আইন অনুযায়ী তাঁর গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

জাল গ্যারান্টিনামায় ৩০ কোটি টাকা ঋণ, ব্যবসায়ীর ১৬ বছরের কারাদণ্ড

জাল গ্যারান্টিনামায় ৩০ কোটি টাকা ঋণ, ব্যবসায়ীর ১৬ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রামে জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ নেওয়ার মামলায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলমকে ১৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এ রায় দেওয়া হয়।

জাল গ্যারান্টিনামায় ব্যাংকঋণ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৪ সালে মোহাম্মদ শাহ আলম ও তার ছেলে এসএম পারভেজ আলম তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে চারটি ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করেন। এসব গ্যারান্টিনামায় প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা করে উল্লেখ করা হয়।

পরে ওই জাল নথি ব্যবহার করে ২০১২ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণসুবিধার বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

ঋণের বিপরীতে ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হলেও বকেয়া থেকে যায় বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা।

২০১৮ সালে দুদকের মামলা, বিচার শুরু ২০২১ সালে

এ ঘটনায় দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচএম আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসেন জানান, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে জাল স্বাক্ষরে গ্যারান্টিনামা তৈরি ও তা ব্যবহার করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

চার ধারায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড

আদালত দণ্ডবিধির চারটি ধারায় মোহাম্মদ শাহ আলমকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চার ধারায় মোট ১৬ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত।


সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট 

বিডি ল' পোস্ট/এম

ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান দুই ব্রিটিশ আইনজীবী

ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান দুই ব্রিটিশ আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিক ফারজানা রুপার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিতে বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী জোনাথন প্রাইস কেসি ও নিকিলা কৌশিক। সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা এই দুই আইনজীবীর আবেদনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন রুপার আইনজীবী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিক ফারজানা রুপার পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী। তাঁরা হলেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের জোনাথন প্রাইস কেসি ও নিকিলা কৌশিক। দুজনই সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফারজানা রুপার আইনজীবী মাহবুব শফিক তাঁদের পক্ষে বার কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন। এর আগে গত ১ অক্টোবর দুই ব্রিটিশ আইনজীবী ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন পাঠিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

 মাহবুব শফিক বলেন, দুই আইনজীবী নিজ উদ্যোগেই ফারজানা রুপার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়ে বার কাউন্সিলে ই-মেইলে আবেদন করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার তাঁর মাধ্যমেও আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

বার কাউন্সিলে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবীদের শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের অনুমতি প্রয়োজন।

আগামী ১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলায় বিদেশি আইনজীবীদের অনুমতির বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বার কাউন্সিলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন সিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ ধরনের আবেদন কাউন্সিলের এজেন্ডাভুক্ত করে উত্থাপন করা হয়। পরে কাউন্সিল আবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। ফারজানা রুপার পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদনও একই প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।

যেভাবে গ্রেপ্তার হন ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদ

২০২৪ সালের ২১ আগস্ট দেশের বাইরে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফারজানা রুপা ও তাঁর স্বামী একাত্তর টেলিভিশনের তৎকালীন হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উত্তরা পূর্ব থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরপর আদাবর থানায় পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০২৬ সালের ১১ মে হাইকোর্ট ফারজানা রুপাকে ছয়টি এবং শাকিল আহমেদকে পাঁচটি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তবে অন্য একটি মামলায় জামিন না পাওয়ায় তখন তাঁরা কারামুক্ত হতে পারেননি।

পরে ৭ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তাঁদের জামিনের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশন ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদকে তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বিডি ল' পোস্ট/এম

১৩ অক্টো, ২০২৬

আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ, কার্যকর হবে ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে

আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ, কার্যকর হবে ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সভার কার্যবিবরণীর উদ্ধৃতাংশে এ সিদ্ধান্তের তথ্য উঠে এসেছে।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি যৌক্তিক সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনা করা হয়। কমিটির মতামতে বলা হয়, আইন পেশার মর্যাদা, দক্ষতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং পেশাকে অধিকতর গতিশীল রাখার লক্ষ্যে বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির সভায় আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তী সময়ে বার কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ নিয়ম আগামী ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারের স্বাক্ষরিত কার্যবিবরণীতে এ সিদ্ধান্তের উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রচারিত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাক্ষাৎকার ও  বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের সভার কার্যবিবরণী।

বিডি ল' পোস্ট/এম 

প্লট দুর্নীতির মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

প্লট দুর্নীতির মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আটজন 

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক ও মো. রেজাউল করিম তরফদার। বাকি দুজন হলেন আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।

যে ধারায় সাজা

রায়ে রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রতিটি ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি প্রতিটি ধারায় ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একই দুই ধারায় শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের প্রত্যেককে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তবে উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁদের মোট কারাভোগের মেয়াদ ১৪ বছর। আসামিদের ইতোমধ্যে হাজতে থাকার সময় মূল দণ্ড থেকে বাদ যাবে। দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ ধারা থেকে আসামিদের খালাস দিয়েছেন আদালত।

দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল

রায়ে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচলের সেক্টর-০১, রোড-৪০৫-এর ০১১ ও ০১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে শুরু মামলার

প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

সুত্রঃ ঢাকা পোস্ট (১৩.১০.২০২৬)

বিডি ল পস্ত/মাসুম 

প্রকৃত বাণিজ্যিক বিরোধ থাকলে ঋণ আদায়ের জন্য কোম্পানি অবসায়নের আবেদন করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

প্রকৃত বাণিজ্যিক বিরোধ থাকলে ঋণ আদায়ের জন্য কোম্পানি অবসায়নের আবেদন করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

পণ্য সরবরাহের অর্থ পরিশোধ না করলেই কোম্পানির ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা প্রমাণিত হয় না; ত্রুটিপূর্ণ স্ট্যাটিউটরি নোটিশ ও দেনা নিয়ে সৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ থাকায় অবসায়নের আবেদন খারিজ
বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে উদ্ভূত দেনার পরিমাণ, পণ্যের গুণগত মান, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ এবং চুক্তি ভঙ্গের কারণে ক্ষতিসংক্রান্ত বিষয়ে প্রকৃত ও গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ থাকলে কোম্পানি অবসায়নের আবেদনকে ঋণ আদায়ের বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলেই কোনো কোম্পানি ঋণ পরিশোধে অক্ষম—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিশেষত, দাবিকৃত দেনা নিয়ে সৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ থাকলে এবং কোম্পানির সামগ্রিকভাবে ঋণ পরিশোধের অক্ষমতার পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে শুধু ওই দেনার ভিত্তিতে অবসায়নের আদেশ দেওয়া সমীচীন নয়।

বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের হাইকোর্ট বেঞ্চ Company Matter No. 442 of 2022 মামলায় গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। রায়ে কোম্পানি অবসায়নের আবেদন খারিজ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। 

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার আবেদনকারী এ এফ এম শহিদুল ইসলাম মামুন, মার্স ট্রেডিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী। তিনি সিগমা ফ্যাশনস লিমিটেডের বিরুদ্ধে কোম্পানি অবসায়ের আবেদন করেন। আবেদনকারীর দাবি, তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের জন্য ১৮ হাজার ৯৩৫ গজ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল ১৪ হাজার ৭১৮ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার।

এ লেনদেনের বিপরীতে ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে একটি ডকুমেন্টারি ক্রেডিট বা ঋণপত্র খোলা হয়। আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ২০২০ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েক দফায় কাপড় সরবরাহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পণ্য গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে বিল অব এক্সচেঞ্জ গ্রহণ ও অর্থ পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ স্থির করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হলেও বিবাদীরা তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করা হয়।

আবেদনকারী আরও দাবি করেন, বারবার তাগাদা দেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যাওয়ার পরও পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এ অবস্থায় কোম্পানিটি ঋণ পরিশোধে অক্ষম দাবি করে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৪১(৫) ধারার অধীনে অবসায়ের আবেদন করা হয়।

কোম্পানির বক্তব্য

আবেদনের বিরোধিতা করে সিগমা ফ্যাশনস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাওনা অর্থ নিয়ে প্রকৃত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিরোধ রয়েছে। কোম্পানির দাবি, চুক্তিতে নির্ধারিত ৩০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও আবেদনকারী ১৩ ও ২০ ফেব্রুয়ারি পণ্য সরবরাহ করেন। এতে বিদেশি ক্রেতা রপ্তানি আদেশ বাতিল করে এবং কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া সরবরাহ করা পণ্যের গুণগত মান, চুক্তির শর্ত অনুসরণ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে পরবর্তী সময়ে অর্থ সমন্বয় বা দাবি ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২৪ এপ্রিল ২০২২ তারিখের স্ট্যাটিউটরি নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়েছিল, যদিও কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৪২ ধারায় এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় দেওয়ার বিধান রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, পণ্য সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করা হলেও তা দিয়ে দাবিকৃত সম্পূর্ণ অর্থ নিঃশর্তভাবে পাওনা হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, পণ্যের গুণগত মান চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, বিলম্বের কারণে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং কোনো অর্থ সমন্বয় বা সমঝোতা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

আদালত মনে করেন, এসব অভিযোগকে এ পর্যায়ে কেবল কাল্পনিক বা ভিত্তিহীন বিরোধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি না করে দাবিকৃত অর্থকে অবিতর্কিত দেনা হিসেবে ধরে কোম্পানি অবসায়ের আদেশ দেওয়া যায় না।

রায়ে আরও বলা হয়, কোম্পানি অবসায়ের এখতিয়ার কোনো বিতর্কিত বাণিজ্যিক দাবি সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করার বিকল্প ফোরাম নয়। কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অর্থ পরিশোধের দাবি থাকলেই পাওনাদার অবসায়নের আবেদন করতে পারবেন না, যদি কোম্পানিটি দায়ের অস্তিত্ব বা পরিমাণ নিয়ে প্রকৃত ও গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ উত্থাপন করে।

স্ট্যাটিউটরি নোটিশে আইনি ত্রুটি

আদালত আবেদনকারীর পাঠানো স্ট্যাটিউটরি নোটিশের বৈধতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৪২(১)(i) ধারার অধীনে কোম্পানিকে দেনা পরিশোধ, নিরাপত্তা প্রদান অথবা পাওনাদারের সন্তুষ্টি অনুযায়ী দেনা নিষ্পত্তির জন্য আইননির্ধারিত সময় দিতে হয়।

হাইকোর্টের মতে, সংশ্লিষ্ট নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইনে নির্ধারিত সময় তিন সপ্তাহ। ফলে ওই নোটিশকে আইনসম্মত স্ট্যাটিউটরি ডিমান্ড হিসেবে গণ্য করা যায় না। নোটিশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও দেনাদার কোম্পানিকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও অস্পষ্টতা ছিল, যা নোটিশটির কার্যকারিতা আরও দুর্বল করেছে।

আদালত আরও বলেন, শুধু দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করার ঘটনা দিয়ে কোম্পানির সামগ্রিকভাবে ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারী কোম্পানিটির সাধারণ আর্থিক অক্ষমতা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত উপাদান উপস্থাপন করতে পারেননি।

রায়ে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে

হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দেন, আবেদনকারী সিগমা ফ্যাশনস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার ৭১৮ দশমিক ২০ মার্কিন ডলারের একটি সুস্পষ্ট, অবিতর্কিত ও বর্তমানে বলবৎযোগ্য দেনা প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। পাশাপাশি, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৪২(১)(i) ধারার শর্ত অনুযায়ী স্ট্যাটিউটরি নোটিশও দেওয়া হয়নি।

আদালত স্পষ্ট করেন, এ আবেদন খারিজের অর্থ এই নয় যে আবেদনকারীর মূল পাওনা দাবির চূড়ান্ত মেরিট নির্ধারণ করা হয়েছে। উপযুক্ত ফোরামে প্রমাণ করতে পারলে যে অর্থ প্রকৃতপক্ষে পাওনা রয়েছে, সে অর্থ আদায়ে আবেদনকারী আইনানুগ অন্য প্রতিকার চাইতে পারবেন। এ রায় তাঁর অন্য আইনগত প্রতিকার গ্রহণের পথে বাধা হবে না।

এসব বিবেচনায় হাইকোর্ট কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৪১(৫) ও ২৪২ ধারার অধীনে কোম্পানি অবসায়ের যথেষ্ট ভিত্তি না পাওয়ায় Company Matter No. 442 of 2022 খারিজ করেন এবং সংশ্লিষ্ট আরজেএসসি রেকর্ড ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তথ্য: Company Matter No. 442 of 2022; বিচারপতি মো. তৌফিক ইনাম; রায়ের তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬; প্রাসঙ্গিক আইন: কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৪১(৫), ২৪২ ও ২৪৫ ধারা।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

কোলাজ ছবি 
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এ অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ রায়ের ফলে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদন খারিজ করে দেন আদালত।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের উৎসে কর পরিশোধকে গ্রামীণ কল্যাণের নিজস্ব কর পরিশোধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণ কর পরিশোধের কোনো প্রমাণও আদালতে দাখিল করতে পারেনি।

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশে আইনগত কোনো ত্রুটি খুঁজে পাননি। একই সঙ্গে কর আদায়ের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বকেয়া কর আদায়ের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ডিমান্ড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। তবে শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

জানা যায়, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আয়কর পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করে এনবিআর। এ দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ শুনানি শেষে আবেদন দুটি খারিজ করে দেন আদালত। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের দাবি বহাল রয়েছে।

বিডি ল' পোস্ট/এম

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়