সর্বশেষ

১০ আগ, ২০২৬

পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ও ডিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ও ডিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

ছবি: সংগৃহীত 
গাইবান্ধার অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের আদেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকসহ (ডিজি) তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৯ আগস্ট) এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।রুলের বিবাদীরা হলেন— পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অধিদপ্তরের রংপুরের বিভাগীয় পরিচালক নুরুল আমিন এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক নিজেই শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। পরে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত অবমাননার দায়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।’

মামলার তথ্য বিবরণ থেকে জানা যায়, গাইবান্ধার লাইসেন্সবিহীন ১৭৯টি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৪ সালের ৬ মে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। রায়ে গাইবান্ধার ওই ১৭৯টিসহ সব অবৈধ ইটভাটা ৬০ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও উচ্ছেদ অভিযান না চালানোয় হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদনটি দাখিল করেন রিটকারী আইনজীবী।

আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর তা বাস্তবায়ন করেনি, যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।’


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দেশ রূপান্তর

ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের আপিল

ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের আপিল

ছবি: সংগৃহীত 
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ আপিল করেছেন। তার আপিলটি সোমবারের আপিল বিভাগের কার্যতালিকাভুক্ত রয়েছে।

পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি প্রথম রায় ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। তখন জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: স্টার নিউজ

নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে এমপিওভুক্তদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে এমপিওভুক্তদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে নতুন কোনো শর্ত বা বিধি অতীত থেকে বলবৎ দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, মর্মে রায় দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

এমপিও সংক্রান্ত চার শিক্ষকের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে এমন যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য শীর্ষক মামলায় হাইকোর্ট এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে।

রায় প্রদানকালে আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

মামলার ফ্যাক্ট: ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান (রেগুলেশন ২০১৫) অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) পদে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পান মো. আবু হানিফসহ চারজন শিক্ষক। নিয়োগের পরদিন ৩০ ডিসেম্বর তারা প্রভাষক পদে যোগদান করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখের এনটিআরসিএ পরিপত্রের পূর্বে বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন এই অজুহাতে নামঞ্জুর করা হয় যে, তাদের ‘NTRCA সনদ নেই’। পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই চার শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত:  রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রয়োজনে চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জনের এখতিয়ার রয়েছে, তবে তা কোনোভাবেই ইতোপূর্বে চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীর অর্জিত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না।

রায়ে নিয়োগকালীন প্রবিধানের প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, ২০১৫ সালে যখন এই চার শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো শর্ত ছিল না। ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এই সনদের বাধ্যবাধকতা ২০১৯ সালের প্রবিধানে প্রথম জারি করা হয়।

আদালত আরও বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোতে নেই বলে দাবি করলেও সরকার নিজেই একাধিক পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আদালত বলেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও, তা যদি যুক্তিসঙ্গত আইনি ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে করা হয়, তবে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্তকে বাতিল করে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে রিটকারী চারজনের নাম মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

রায়ে আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ আর্থিক সুবিধাদি চার রিটকারীদের পরিশোধ করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বিচারকের

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বিচারকের

ছবি: কোলাজ ছবি 
জামালপুর সদরে দাঁড়িয়ে থাকা এক রডবোঝাই ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাইভেট কারে থাকা এ কে এম সামিউল হক নামে একজন বিচারক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) ভোর ৪ টার দিকে লাহেড়িকান্দা বাজার এলাকায় এই  দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত এ কে এম সামিউল হক জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ। তিনি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চিছরাকান্দা এলাকার সাবেক পরিকল্পনা সচিব এ কে এম ফজলুল হকের ছেলে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে কর্মস্থল জামালপুরে ফিরছিলেন সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হক। ভোরে লাহেড়িকান্দা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা এক রডবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় প্রাইভেটকারটি। এতে কারের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিচারকের। আহত প্রাইভেটকার চালককে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জামালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এই ঘটনায় সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আহত চালককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দ্য নিউজ ২৪



১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করা সেই ভাইরাল মিজান গ্রেপ্তার

১০০ টাকায় গরুর মাংস-ভাত বিক্রি করা সেই ভাইরাল মিজান গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত 
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নে বাধা ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগে ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানা পুলিশ।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগারগাঁওয়ে মিজানের দোকানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সেখানে যান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ সময় মিজান তাদের কাজে বাধা দেন এবং চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের কর্মী ও পুলিশের সদস্যদেরও তিনি আঘাত করেন বলে জানায় পুলিশ। পরে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লখ্য, মাত্র ১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন মিজানুর রহমান। এ কারণে তিনি ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিতি পান।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণ কেনার চেষ্টা, রিমান্ড শেষে কারাগারে রুবেল

৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণ কেনার চেষ্টা, রিমান্ড শেষে কারাগারে রুবেল

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর বনানীতে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণালংকার কেনার চেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে জাল নোট ও প্রতারণাসহ ১৬টি মামলা।

রাজধানীর বনানীতে বিপুল পরিমাণ জাল নোট দিয়ে স্বর্ণালংকার কেনার চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার দুই দিনের রিমান্ড শেষে মো. রুবেল আহম্মেদ ফকির (৪৬) নামের ওই আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুম্মান খান এ সময় তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে রুবেলকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানিতে আসামির পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি তাঁর পলাতক সহযোগীর অবস্থান ও জাল নোটের উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে এড়িয়ে গেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা কাজে লাগতে পারে। এছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাঁকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, রুবেল একটি পেশাদার জাল নোট চক্রের সক্রিয় সদস্য। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে জাল নোট তৈরি, প্রতারণা, মানি লন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে আটকে রাখা প্রয়োজন, নতুবা তিনি পলাতক হয়ে তদন্ত ব্যাহত করতে পারেন।

মামলায় উল্লিখিত ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বিকেলে বনানী সুপারমার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘মনিমালা জুয়েলার্স’-এ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন রুবেল এবং তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি (৩৭)। তারা ভাগনির বিয়ের কথা বলে বিভিন্ন নকশার গয়না দেখতে চান। পরে ২০-২১ ভরি স্বর্ণালংকার পছন্দ করে সেগুলোর বিল ও প্যাকেট করতে বলেন। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় দোকানের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি মালিককে ফোনে জানান। মালিক আসতে দেরি হলে আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হয়। এ সময় রুবেল একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলে রাখেন। কর্মচারীরা নোট পরীক্ষা করে সেগুলো জাল বলে সন্দেহ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে দুজনেই টাকা ও ব্যাগ ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কর্মচারীদের চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে রুবেলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাঁকে পিটুনি দেয়। তবে কাফি কৌশলে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বনানী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে মোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট ও ট্রলি ব্যাগটি জব্দ করে। এ ঘটনায় ওই জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গত ৭ আগস্ট আদালত রুবেলকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট


বিটিভিতে কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি ত্রুটি, সংশোধন করবে সরকার

বিটিভিতে কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি ত্রুটি, সংশোধন করবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক হিসেবে সংবাদ উপস্থাপক ও টকশো সঞ্চালক কাজী জেসিনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে থাকা আইনি ত্রুটি সংশোধন করবে সরকার।

নিয়োগ আদেশে উল্লেখ করা ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’ কার্যকর আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার কাজী জেসিনকে বিটিভির মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপরই নিয়োগের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

উল্লখ্য, বিটিভির ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির রুলস-রেগুলেশনের অন্তত ২২ দলিল থাকলেও ‘টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’-এর তথ্য সেখানে নেই। বিটিভির স্বায়ত্তশাসনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন আওয়ামী।  আইনে বলা হয়েছে, ‘সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।’

তবে আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর গত ২৫ বছরে কোনো সরকারই তা কার্যকর করার জন্য গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। ফলে আইনটি সংসদে পাস হলেও এখনো কার্যকর হয়নি। অথচ এই আইনের উল্লেখ করেই কাজী জেসিনকে বিটিভির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন সংশোধনের জন্য নতুন করে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। একই স্মারক নম্বরের অধীনে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের প্রজ্ঞাপনটি প্রতিস্থাপন করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট