সর্বশেষ

২ সেপ, ২০২৬

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটদের আমলী আদালতের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সেমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যালয় থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেওয়ানি ও বিচারিক কাজের সুবিধার্থে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ১৭(২) ধারার ক্ষমতাবলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদালতের আওতাধীন সকল থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ নিম্নোক্তভাবে পুনর্বণ্টন করা হলো। তবে বিমানবন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানা এর আওতার বাইরে থাকবে।

আদেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন নিম্নরূপ:

১. মো. মহিউদ্দিন ইসলাম, অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০১ ও ০৯-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আমলী আদালতের অধিক্ষেত্র কোতোয়ালী ও খুলশী থানা।
২. মো. আবু বকর সিদ্দিক, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৩ ও ০৫ এবং দ্রুত বিচার-০১-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ থানা।
৩. মুহাম্মদ তুষার মজুমদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ২য় আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০২ ও ১৬ এবং দ্রুত বিচার-০২-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বন্দরনগরী ও সদরঘাট থানা এবং ‘মোটরযান আইন-১৯৮৩ (সংশোধিত-১৯৮৮)’ অনুযায়ী মামলাসমূহ।
৪. মো. আনোয়ারুল হোসেন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৩য় আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৪ ও ১৩ এবং দ্রুত বিচার-০৩-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র পাঁচলাইশ ও বাকলিয়া থানা।
৫. মোহাম্মদ মোস্তফা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৭ ও ১০-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বন্দর, চকবাজার ও হালিশহর থানা এবং নির্দিষ্ট ধারায় দায়ের হওয়া মামলাসমূহ।
৬. ফারহানা সাবের, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ম আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৬ ও ১১-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র কর্ণফুলী ও পতেঙ্গা থানা।
৭. এস. এম. ওয়াসিফুল মাহমুদ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৬ষ্ঠ আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৮, ১২ ও ১৪-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলী থানা।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’, ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২’, বিস্ফোরক আইনের মামলা এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর আওতাধীন মামলাসমূহও সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতের দায়িত্বে থাকবে। এ আদেশ আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সংশোধন বা পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য হবে পৃথক বেতন স্কেল

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য হবে পৃথক বেতন স্কেল

ছবি: সংগৃহীত 
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য গঠিত পৃথক কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। এতে আরও বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের নতুন বেতন স্কেলও জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর মতো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবি: প্রতীকী 
পঞ্চগড়ে ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী এ আদেশ দেন।

২০২৫ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের জগদল এলাকার বাসিন্দা জনি ইসলাম (২৮), বিপ্লব হোসেন (২৬), মোকছেদুল ইসলাম (৩৩), সাদেকুল ইসলাম (৩৩) ও খয়রুল ইসলামের (৪৩) বিরুদ্ধে গ/ণ/ধ/র্ষ/ণে/র মামলা করেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী।

মামলার ঘটনা: মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে পঞ্চগড় শহর থেকে জগদল এলাকার বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরে সড়কের পাশে নিয়ে তার দুই বছরের শিশুকে ছু/রি ধরে জি/ম্মি করে গ/ণ/ধর্ষ/ণ করে অভিযুক্তরা। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ শিশুসহ ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে স্থানীয়রা দাবি তুলে ধরেন ঘটনাটিকে সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

পরবর্তীতে, আদালতের নির্দেশে আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে বাদীর ডিএনএ’র সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ওই নারীর ভাড়া বাড়ির মালিক আইবুল হকের ডিএনএ’র সঙ্গে পরীক্ষায় মিল পান আদালত। এরপর গত ১২ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মামলা থেকে ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেন নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর গত সোমবার (৩১ আগস্ট) একই আদালতে গণধর্ষণ মামলার বাদী ও আইবুল হকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ও ৩০ ধারায় একটি মামলার আবেদন করেন বিপ্লব হোসেন (২৬) নামে মামলায় একজন ক্ষতিগ্রস্ত যুবক। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সেই মামলায় নারীসহ দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ক্ষতিগ্রস্ত যুবক মামলার বাদী বিপ্লব হোসেনের পক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ওই নারীর দায়ের করা গণধর্ষণের মামলাটি আদালতে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত আসামিদের একজন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ও ৩০ ধারায় একটি মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার গণধর্ষণ মামলার বাদী ও অভিযুক্ত অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলেও জানান তিনি।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সময় নিউজ (০২.০৯.২০২৬)

১ সেপ, ২০২৬

বিচারকের খাস কামরায় ডেকে পুলিশের এসআইকে মারধরের অভিযোগ

বিচারকের খাস কামরায় ডেকে পুলিশের এসআইকে মারধরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারকের খাস কামরায় ডেকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই (উপপরিদর্শক) মোহাম্মদ আলী।

ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই মোহাম্মদ আলী। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘটনার বিবরণ: অভিযোগে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা জানান গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলী রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালনকালে এএসআই (নিরস্ত্র) মৌসুমী আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন।  এ সময় সাকিব আল হাসান (২৯) ব্যাগ তল্লাশি না করানো নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের তল্লাশি করার কোনো অধিকার নেই বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি করা হয়। 

তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় সাকিব ‘কোর্ট হলে দেখে নিতেন’ বলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। পরে ঢাকা রেলওয়ে থানার সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোহাম্মদ আলী। পরে তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচারকের খাস কামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে তাদের বাইরে রেখে তাকে একাই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, খাস কামরায় আগে থেকেই বিচারকের কর্মচারী সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ভেতরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তি পেছন থেকে তাকে সজোরে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন। এ সময় বিচারকের দিকে তাকিয়ে ‘স্যার, এটা কী হচ্ছে?’ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলেন, ‘বুঝছস, আমরা কারা?’

পুরো ঘটনাটি খাস কামরায় থাকা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও তার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

যা বলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা: এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।’

তিনি বলেন, ‘আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?’

মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘পরে আমাকে হাত ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয়। এরপর আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি।’ ঘটনার পর তিনি মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে ওই হামলাকারীকে আদালতের উমেদার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার নাম জানা যায়নি। তবে তাকে দেখলে শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এসআই মোহাম্মদ আলী।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (০১.০৯.২০২৬)

প্যাডেল রিকশা নিষিদ্ধ ও প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করে অটোরিকশা চালু করতে লিগ্যাল নোটিশ

প্যাডেল রিকশা নিষিদ্ধ ও প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করে অটোরিকশা চালু করতে লিগ্যাল নোটিশ

কোলাজ ছবি
সারাদেশে প্যাডেল রিকশা বন্ধ করা, ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন  সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এই নোটিশটি তিনি পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব, পরিবেশ সচিব, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে এই নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, দেশের মাত্র ১ শতাংশের কম মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন। অথচ এই সামান্য সংখ্যক মানুষের গাড়ি সড়কের সিংহভাগ দখল করে রাখে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি ভর্তুকির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া এসব গাড়ি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া চরম বায়ুদূষণ ঘটিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে, যা সংবিধান স্বীকৃত জীবনের অধিকার পরিপন্থী। তাই প্রাইভেটকারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং উচ্চহারে পরিবেশ কর ধার্যের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে প্যাডেলচালিত রিকশাকে ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। 

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রান্তিক মানুষ এই হাড়ভাঙা খাটুনি দিতে বাধ্য হন, যা তাদের অকাল বার্ধক্য ও স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় অবিলম্বে প্যাডেল রিকশা বন্ধের দাবি তোলা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা স্থানীয় পরিবহনের একটি মানবিক ও আধুনিক রূপ। দেশের ৯৯ শতাংশ সাধারণ মানুষ গণপরিবহন ও রিকশার ওপর নির্ভরশীল। তাই এই সেক্টরটি নিষিদ্ধ না করে বরং গতি, ব্রেকিং সিস্টেম ও কাঠামোগত নিরাপত্তার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।

ব্যাটারি রিকশায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোনো অপচয় নয়। দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের যাতায়াত ও অর্থনীতি সচল থাকে, তবে তা ‘জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন’ বা ডকট্রিন অব প্রপোরশনালিটি অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত।

নোটিশে বেকারত্ব দূর করতে ও যানজট কমাতে রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার এবং মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবাকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসাথে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেটকারের সংখ্যা সীমিত করে গণপরিবহন ও নিরাপদ রিকশাকে প্রধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নোটিশদাতা।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০১.০৯.২০২৬)

রানা প্লাজা নির্মাণে ‘দুর্নীতি’: রায়ের তারিখ থালেও ফের যুক্তিতর্ক শুনানীতে মামলা

রানা প্লাজা নির্মাণে ‘দুর্নীতি’: রায়ের তারিখ থালেও ফের যুক্তিতর্ক শুনানীতে মামলা

ছবি: সংগৃহীত 
সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় ফের পিছিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে এদিন ফের যুক্তিতর্কের জন্যও দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর নতুন এ তারিখ ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে নির্ধারিত সময়ে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় সোহেল রানার সঙ্গে অন্য আসামিরা হলেন- সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে ভবন মালিক সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার দিন তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। এ ছাড়া মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক রয়েছেন। জামিনে থাকা অপর আসামিদেরও আদালতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। তাদের মৃত্যুর পর আদালত তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্পদুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন ওই ভবনে থাকা পোশাক কারখানার শ্রমিক। এ ঘটনায় আহত হন আরও বহু শ্রমিক ও কর্মচারী।

ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার পর রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদন, ভবনের কাঠামো পরিবর্তন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে।

দুদকের অনুসন্ধানের পর নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ভবনটির মালিক সোহেল রানাকে ওই মামলায় আসামি করা হয়নি। কারণ, ভবনটি তার বাবা আবদুল খালেকের নামে ছিল। পরবর্তী সময়ে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ, অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অধিকতর তদন্ত শেষে তাকে মামলায় আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা, তার বাবা-মাসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। পরবর্তী সময়ে মামলার অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা ও মায়ের মৃত্যু হলে তাদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে বর্তমানে আট আসামির বিরুদ্ধে মামলাটির বিচার শেষ হয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা থেকে নকশা অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারটি তলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। অর্থাৎ, ভবনটির মূল অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে অতিরিক্ত তলা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ভবনটি মূলত শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের অনুমোদন পেলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। ভবনের নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। এসব অনিয়মের কারণে ভবনটির নিরাপত্তা ও কাঠামোগত স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ২০ জন সাক্ষী উপস্থাপনের অনুমতি পেলেও তাদের মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে আসে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার মধ্যে ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা এ মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভবনটির নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং সেখানে পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে এ মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো (০১.০৯.২০২৬)

জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য থানায় ফেলে রেখে নষ্ট করা যাবে নাঃ হাইকোর্টের রায়

জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য থানায় ফেলে রেখে নষ্ট করা যাবে নাঃ হাইকোর্টের রায়

ছবিঃ সংগৃহীত 
মজুতদারির অভিযোগে জব্দকৃত পচনশীল খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন থানায় ফেলে রেখে বিনষ্ট করার কোনো আইনি অবকাশ নেই বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সূত্রিতায় ভোগ্যপণ্য নষ্ট হওয়া রোধে আদালত এক রায়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট মজুতদারির অভিযোগে জব্দ করা পচনশীল খাদ্যশস্য দীর্ঘদিন থানায় ফেলে রেখে নষ্ট করার কোনো আইনি সুযোগ নেই । আদালত বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে পচনশীল ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা এভাবে পুলিশ হেফাজতে রেখে দেওয়ার কোনো যুক্তিসংগত উদ্দেশ্য নেই। নওগাঁয় মজুতদারির অভিযোগে জব্দ করা ২৫ টন চালের মালিকানা নিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি রিভিশনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট এ পর্যবেক্ষণ দেন।

মামলার তথ্যঃ ‘মো. শিবলু হোসেন বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় গত ১৯ আগস্ট বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের অনুলিপি মঙ্গলবার (১ আগস্ট) গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. খায়রুল আলম। রায় ঘোষণার সময় আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ ও মো. মাসুদুল আলম দোহা।

মামলার ফ্যাক্টঃ মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. জাহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২৫ হাজার কেজি বা ২৫ মেট্রিক টন কাটারি আতপ চাল উদ্ধার করা হয়। ৫০০ বস্তায় থাকা ওই চালের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১৫ লাখ টাকা। পরদিন ৪ জুলাই বদলগাছী থানায় ‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’-এর ৩(ঘ) ও ৪ ধারায় শিবলু হোসেন ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য নওগাঁর তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত চলাকালে শিবলু হোসেন জব্দ করা চালের প্রকৃত মালিক দাবি করে তা নিজের জিম্মায় দেওয়ার আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে শিবলু হোসেনকে জব্দ করা চালের প্রকৃত মালিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ওই প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও ২২ জুলাই জব্দ করা চালের জিম্মা চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিশনও খারিজ হয়ে যায়। এরপর ১৩ নভেম্বর শিবলু হোসেন পুনরায় চালের জিম্মা চেয়ে আবেদন করেন। একই দিন আবেদনটি খারিজ হলে তিনি অধস্তন আদালতের আদেশ বাতিল এবং চাল নিজের জিম্মায় পাওয়ার জন্য হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন করেন। আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে গত ১৯ আগস্ট সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।

হাইকোর্টের রায় ও পর্যবেক্ষণঃ রায়ে আদালত বলেছেন, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব চাল থানা হেফাজতে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পচনশীল ভোগ্যপণ্য দীর্ঘদিন এভাবে ফেলে রাখা কোনো যুক্তিযুক্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারে না। এতে রাষ্ট্র বা ব্যক্তি কারও লাভ নেই। রায়ে আদালত নওগাঁয় জব্দ করা ওই ২৫ টন চালের প্রয়োজনীয় নমুনা রেখে অবশিষ্ট চাল ১৫ লাখ টাকার বন্ডে আসামি (আবেদনকারীর) জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, জব্দ করা চাল দীর্ঘদিন পুলিশ হেফাজতে থাকায় নষ্ট হয়ে মানুষের ভোগের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে চাল পুলিশ হেফাজতে রেখে দিলে কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

‘খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩’-এর ১১ ধারার বিধান বিশ্লেষণ করে আদালত বলেন, এই আইনের অধীনে জব্দ করা খাদ্যশস্য পচনশীল হোক বা অপচনশীল—আলামত হিসেবে প্রমাণের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, শুধু সেই পরিমাণ নমুনা সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট খাদ্যশস্য দ্রুত প্রকাশ্যে নিলাম বা আইনসম্মত উপায়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, আইনের ১১(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী, বিচার শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হলে তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে হবে।

আদালত বলেন, মামলায় ২০২৫ সালের ৩ জুলাই চাল জব্দ করা হলেও তা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ ছাড়া এক বছরেরও বেশি সময় ধরে থানার হেফাজতে রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পুলিশ হেফাজতে থাকায় চাল নষ্ট হয়ে মানুষের ভোগের অনুপযোগী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় জব্দ করা চাল এভাবে পুলিশের হেফাজতে রেখে কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না বলে অভিমত দেন হাইকোর্ট।

পরে আদালত সংশ্লিষ্ট সেশন আদালতকে নির্দেশ দেন, জব্দ করা চালের কেবল প্রয়োজনীয় পরিমাণ সাক্ষ্যপ্রমাণের জন্য নমুনা হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট চাল আবেদনকারী মো. শিবলু হোসেনের কাছে ১৫ লাখ টাকার বন্ড সম্পাদনের শর্তে হস্তান্তর করতে হবে।

রায়ে বলা হয়, বিচারপ্রক্রিয়া শেষে শিবলু হোসেনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে ১৫ লাখ টাকার বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। আর অপরাধ প্রমাণিত না হলে ওই বন্ড বা জামানত বাতিল বলে গণ্য হবে।

 

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ ঢাকা পোস্ট (০১.০৯.২০২৬)