সর্বশেষ

১৪ জুল, ২০২৬

অ্যাকাউন্টে ৯ কোটির অধিক টাকা লেনদেন: হরিদাস চন্দ্র ৪ দিনের রিমান্ডে

অ্যাকাউন্টে ৯ কোটির অধিক টাকা লেনদেন: হরিদাস চন্দ্র ৪ দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণ করতে চেয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা সেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেয়। আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আদালতে বলেন, হরিদাস চন্দ্রের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তাদের ভাষ্য, হরিদাস একটি মন্দির পরিচালনা করেন এবং ভক্তদের অনুদানের অর্থই তার হিসাবে জমা হয়েছে। তারা রিমান্ডের পরিবর্তে কারাগারে রেখেই জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।

শুনানিতে বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র বলেন, “আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নেই।” তিনি আরও বলেন, “ভক্তদের দেওয়া অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে।”

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্রসহ সংশ্লিষ্টরা হুন্ডি এবং দেশি, বিদেশি মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত। সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে মূর্তির অর্থায়ন, জমির মালিকানা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের পর গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৩ জুল, ২০২৬

সরোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উপরে স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন

সরোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উপরে স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ ও শপথ দেওয়ার পর তার সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের উপরে স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় করা আবেদনে নুরুল আমীন হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়েছেন। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরকে সংসদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়েছেন।

আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ১৯ জুলাই শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এ তথ্য জানিয়েছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন।

এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত লিভ মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হলেও আপিল বিভাগের ওই নির্দেশনার কারণে তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে আপিলের শুনানি শেষে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী আদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়।

গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। তবে নুরুল আমীনের আবেদনে বলা হয়েছে, রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে এবং তাকে শপথ গ্রহণ করায়।

সেই প্রেক্ষাপটেই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নতুন আবেদন করে নুরুল আমীন রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

নারী মরদেহের পোস্টমর্টেমে নারী ডোম নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নারী মরদেহের পোস্টমর্টেমে নারী ডোম নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 

পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন এ রিট দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। 

রিটে উল্লেখ করা হয়, এর আগেও দেশের সব পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগের আবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করা হয় কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। 

আবেদনে আরও বলা হয়, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ প্রয়োজন। এতে মৃত নারীর পরিবারের মানসিক স্বস্তি বাড়বে এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষাও নিশ্চিত হবে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ময়নাতদন্ত কার্যক্রমেও নারী ডোম নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে বলে উল্লেখ করা হয়। 

রিটে উল্লেখ করা হয়, অতীতে দেশের বিভিন্ন মর্গে নারীর মরদেহের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে।  উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২০২০ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিদেশেও একই ধরনের ঘটনার বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

দেনমোহর আদায়ের নীতিমালা তৈরি করতে হাইকোর্টের রুল

দেনমোহর আদায়ের নীতিমালা তৈরি করতে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 

বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায়ের ও পরিশোধের নীতিমালা তৈরি করার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আইন সচিব, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।

এর আগে, গত ৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজেসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে কেন মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ নং ধারার অধীনে একটি ব্যাপক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও জারি করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে বিবাহের তারিখের এক বছর পর প্রদত্ত দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি, নীতিমালা এবং উপায় নির্ধারণ করা থাকবে, যার উদ্দেশ্য হবে বিবাহে নারীদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষা ও সংরক্ষণ করা এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ নং ধারার অস্পষ্টতা দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৫ বছর পূর্ণ হবার আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন: আপীল বিভাগের রায়

২৫ বছর পূর্ণ হবার আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন: আপীল বিভাগের রায়

ছবি: সংগৃহীত 

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করার পূর্বে যে কেউ পদত্যাগ করে, তিনি পেনশন সুবিধার অধিকারী হবেন না, মর্মে আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন। রায়টি ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

এর আগে, হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেন, উক্ত আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে যে রায়টি হয়েছে, তা ১১ মার্চ প্রকাশিত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এছাড়া, রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন রিটকারী মাহবুব মোরশেদ নিজে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার উপর ভিত্তি করেই এমন বিধান তৈরি করা হয়েছে যে ২৫ বছরের চাকরির টাইম লাইনে পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করেন, তাহলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।

মামলার ফ্যাক্ট: মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯ বছর সার্ভিস করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তখন তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ ছিলেন। সার্ভিসে ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য ২০১৫ সালে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।

এরপর, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিতে জানানো হয়, সরকারি চাকরিতে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল আইনগতভাবে বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ, পেনশনের জন্য সেটি গণনা করা হবে না (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০ সেকশন-৩)। মাহবুব মোরশেদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি, এবং তিনি ২৫ বছর পূর্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি, সুতরাং তিনি পেনশনপ্রাপ্ত নন (১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী)।

এ অবস্থায়, বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানির পর, হাইকোর্ট ২০২১ সালের ১৮ মার্চ রায় দেন, এবং এতে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের ওই চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একইসাথে, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে, চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধার গণনা ও মঞ্জুর করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এই রায়ের বিরোধিতায় রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ, এবং সেইসাথে হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ চলমান রাখে। এর ধারাবাহিকতায়, রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। রাষ্ট্রপক্ষের করা ওই আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়টি বাতিল করে গত ১১ মার্চ আপিল বিভাগ রায় দেন।

আপিল বিভাগের রায়ের পুনশ্চ: BSR-এর ৩০০(এ) বিধির পদত্যাগ সংক্রান্ত অংশটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক এবং বৈধ। ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রপক্ষের আপিলটি মঞ্জুর করা হয় এবং হাইকোর্ট বিভাগের ১৮.০৩.২০২১ তারিখের রায় ও আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল (Set aside) করা হয়।

রায়ের পক্ষে আপিল বিভাগের যুক্তি: আদালত BSR-এর ৩০০(এ) বিধির উদ্ধৃতি দিয়ে বলে যে, পদত্যাগের ফলে অতীতের সমস্ত চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয়। 'পেনশন' ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে আদালত বলে, এটি সন্তোষজনকভাবে নির্দিষ্ট চাকরিকাল সম্পন্ন করার পর অর্জিত হয়। আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নজির (UCO Bank case) টেনে 'পদত্যাগ' (Resignation) এবং 'অবসর' (Retirement)-এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে। পদত্যাগ হলো মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ অবসান, আর অবসর হলো বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সম্পর্কের সমাপ্তি।

আদালত দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে, পদত্যাগ কোনো 'শাস্তি' (Punishment) নয়। অসদাচরণের জন্য চাকরিচ্যুতি ও পদত্যাগ এক বিষয় নয়। ৩০০(এ) বিধিতে এই শব্দগুলো একসাথে ব্যবহৃত হলেও তাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই এখানে সংবিধানের ২৭ বা ৩১ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের বা বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।

এছাড়া এ সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রব্যাখ্যায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ৫-২৪ বছরের পেনশন কেবল তখনই প্রাপ্য হবে যদি: (১) সরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেন বা মেডিকেল বোর্ড দ্বারা স্থায়ীভাবে অক্ষম ঘোষিত হন, অথবা (২) স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি থেকে ছাঁটাই হন। যেহেতু এই শর্তগুলোর মধ্যে 'পদত্যাগ' অন্তর্ভুক্ত নেই, তাই আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয় যে, হাইকোর্ট বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মূল শর্ত বা 'ব্যাখ্যা' উপেক্ষা করে শুধু টেবিল দেখে রায় দিয়ে আইনি ভুল করেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১২ জুল, ২০২৬

হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত

হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত

ছবি: সংগৃহীত 

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবার করা মামলার আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মামলা গ্রহণ করার মতো উপাদান না থাকায় এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ৫ জুলাই একই আদালতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মামলার আবেদন করেন। ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশের জন্য ১২ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেন।

আবেদনে অপর আসামিরা হলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন, ৯ মাসের শিশু কন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শয্যা সংকট, অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিশুটি টিকা নিতে পারেনি এবং এ কারণেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অবহেলার ফলে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিডিএলপিবি/এমএম

৫৮ বিচারককে বদলি, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি

৫৮ বিচারককে বদলি, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় একসঙ্গে ৫৮ জন সিভিল জজকে বদলি করেছে। রোববার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উক্ত বদলি আদেশে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সিভিল জজদের তাদের নামের পাশে উল্লেখিত নতুন পদ ও কর্মস্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, যেসব বিচারক বর্তমানে প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে রয়েছেন, তারা প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। যোগদানের সময় তারা বর্তমান পদের দায়িত্বভার যথাযথভাবে হস্তান্তর করবেন।


প্রজ্ঞাপনটি নিম্নে দেওয়া হল:






বিডিএলপিবি/এমএম