সর্বশেষ

১৭ অক্টো, ২০২৬

রিমান্ড শেষে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ কারাগারে

রিমান্ড শেষে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও কাজী গুলশান আরাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল (৪৭) ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩)।

চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাদের প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দুই আসামি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা নাম্বার ওয়ান’সহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে তারা তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আবদুল আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পলাতক কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে।

আসামিরা একটি পেজের মাধ্যমে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে আসামিদের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ১২ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আলী আকবর রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১৬.০৮.২০২৬)

বিডিলপোস্ট/মাসুম


১৬ অক্টো, ২০২৬

স্পষ্টভাবে কারণ উল্লেখ ছাড়া পক্ষ সংযোজনের আদেশ আইনসম্মত নয়: হাইকোর্টের রায়

স্পষ্টভাবে কারণ উল্লেখ ছাড়া পক্ষ সংযোজনের আদেশ আইনসম্মত নয়: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
আপিল আদালত কোনো পক্ষকে মামলায় সংযোজনের আবেদন মঞ্জুর করলে সিদ্ধান্তের কারণ উল্লেখ করতে হবে। কারণবিহীন ‘নন-স্পিকিং’ আদেশ আইনসম্মত নয় বলে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

সিভিল রিভিশন নং- ১৮৪৬/২০২৫, মোশাররফ হোসেন (মুছা মিয়া) ও অন্যরা বনাম সরকার মো. হেলাল উদ্দিন ও অন্যরা মামলায় বিচারপতি মো. শওহরাওয়ার্দী ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৫ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার পটভূমি:
২০১৬ সালে মোশাররফ হোসেন ও অন্যরা সরকারের বিরুদ্ধে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেন। ২০ আগস্ট ২০১৮ তারিখে আদালত তাদের পক্ষে ডিক্রি দেন। পরে সরকার আপিল করে। আপিল চলাকালে মো. হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজনকে সহ-আপিলকারী হিসেবে যুক্ত করার আবেদন করা হয়। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা জজ, ২য় আদালত ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

আদেশ:
হাইকোর্ট ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখের পক্ষ সংযোজনের আদেশ বাতিল করে আবেদনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে পাঠিয়েছেন। ৩০ দিনের মধ্যে কারণ উল্লেখ করে নতুন আদেশ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি শিক্ষা:
পক্ষ সংযোজনের আবেদন মঞ্জুর বা খারিজ করার সময় আদালতকে সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রস্তাবিত পক্ষের উপস্থিতি মামলার সম্পূর্ণ ও কার্যকর নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কি না এবং তার স্বার্থ মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। কারণযুক্ত আদেশ বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং উচ্চতর আদালতে সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। কারণবিহীন ‘নন-স্পিকিং’ আদেশ আইনগতভাবে টেকসই নাও হতে পারে।

বিডি ল পোস্ট/ মাসুম

বণ্টন ছাড়া জমির স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পুনরুদ্ধারের মামলা গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

বণ্টন ছাড়া জমির স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পুনরুদ্ধারের মামলা গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪২ ধারা সম্পর্কিত | সিভিল রিভিশন নং ৫৬১৭/২০২৪ | মতিউর রহমান বনাম শাহানাজ বেগম| রায়: ৬ আগস্ট ২০২৬। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায় প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশের ওপর স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পুনরুদ্ধারের দাবি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহশরিকদের মধ্যে যথাযথ বণ্টন এবং স্বত্বের ধারাবাহিকতা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির সুনির্দিষ্ট অংশ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বণ্টন ছাড়া ওই অংশের স্বত্ব নির্ধারণ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে একটি মামলায় নিম্ন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. শোহরাওয়ার্দী ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট এ রায় দেন। আদালত মতিউর রহমান বনাম শাহানাজ বেগম, সিভিল রিভিশনের রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জমি বণ্টনের জন্য মামলা দায়েরের সুযোগ দেন।

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার বাদী মতিউর রহমান দাবি করেন, তিনি ১৯৯৪ সালের ২৭ মার্চ আবদুল গণির কাছ থেকে ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল বিবাদী শাহানাজ বেগমের স্বামী কামাল আহমেদ তাঁকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্বত্ব ঘোষণাসহ খাস দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ২০১১ সালে ময়মনসিংহের সংশ্লিষ্ট আদালতে অন্য শ্রেণির মামলা নং ৩১৫/২০১১ দায়ের করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী শাহানাজ বেগম দাবি করেন, তিনি ১৯৯৭ সালে দুটি দলিলের মাধ্যমে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমিতে তিনি বাড়ি নির্মাণ করেন এবং বিদ্যুৎ-সংযোগ গ্রহণসহ জমির খাজনা ও কর পরিশোধ করেন। তাঁর স্বামীর পক্ষেও অতিরিক্ত ৯ শতাংশ জমি ক্রয়ের দাবি করা হয়।

২০১৪ সালে বিচারিক আদালত বাদীর পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা জজ, আদালত নং ১, ময়মনসিংহ ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর আপিল খারিজ করে বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এরপর ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করা হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট মামলার নথি ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিরোধীয় ৭৮ শতাংশ জমির স্বত্বের ধারাবাহিকতা এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে জমির প্রকৃত বণ্টন স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জমিটি সিএস দাগ নং ২৭৩৬-এর অন্তর্ভুক্ত।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, জমির পূর্ববর্তী মালিক বাজিত শেখের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে কে কতটুকু জমির মালিক, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যথাযথ বণ্টন ছাড়া অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তির নির্দিষ্ট সীমানাবিশিষ্ট অংশের ওপর একক স্বত্বের দাবি নিষ্পত্তি করতে গেলে অন্য সহশরিকদের অধিকারও বিবেচনায় নিতে হয়।

আদালত আরও লক্ষ্য করেন, এসএ খতিয়ানে জমির পূর্ববর্তী মালিক জামিরুদ্দিন শেখের তিন কন্যা—সুরমান, জারিমন ও কারিমনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অথচ তাঁরা ১৯৬৬ সালে একটি দলিলের মাধ্যমে তাঁদের ১০ শতাংশ জমি ভাই বোহর্দি শেখের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

হাইকোর্টের মতে, খতিয়ানে কারও নাম থাকা বা না-থাকা একাই জমির স্বত্ব সৃষ্টি কিংবা বিলুপ্ত করে না। জমির প্রকৃত স্বত্ব নির্ধারণে দলিল, উত্তরাধিকার, স্বত্বের ধারাবাহিকতা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

দখল প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ নথি

বিবাদী শাহানাজ বেগমের পক্ষে জমি ক্রয়ের দলিল, খতিয়ান, খাজনা পরিশোধের রসিদ, বিদ্যুৎ-সংযোগ এবং বিদ্যুৎ বিলের মতো নথি উপস্থাপিত হয়েছিল। আদালত এসব নথিকে তাঁর দখলের দাবির সমর্থনে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনা করেন।

অন্যদিকে, বাদী মতিউর রহমান জমির ওপর তাঁর পূর্ববর্তী দখল এবং পরবর্তীতে তাঁকে উচ্ছেদ করা হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

আদালতের দৃষ্টিতে, কেবল স্বত্বের দাবি উত্থাপন করলেই দখল পুনরুদ্ধারের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। সংশ্লিষ্ট জমির ওপর বাদীর স্বত্বের ভিত্তি, পূর্ববর্তী দখল এবং দখলচ্যুত হওয়ার বিষয়গুলোও যথাযথ প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

আইনি ভিত্তি ও পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪২ ধারার আলোকে স্বত্ব ঘোষণার দাবির বিষয়টি বিবেচনা করেন। অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতকে সংশ্লিষ্ট সহশরিকদের অধিকার এবং জমির বণ্টনসংক্রান্ত অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হয়।

এ বিষয়ে আদালত পূর্ববর্তী কয়েকটি সিদ্ধান্তের উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • Enjaheruddin Mia alias Md. Enjaheruddin Mia v. Mohammad Hossain, (1998) 18 BLD (AD) 77; 50 DLR (AD) 84।
  • Jahangir Alam and others v. Sabdir Ahmed and others, 22 BLC (AD) 75।

উল্লিখিত সিদ্ধান্তগুলোর আলোকে অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশের ওপর অধিকার দাবি করার ক্ষেত্রে যথাযথ বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় পক্ষগুলোর উপস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়।

আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট মনে করেন, বিরোধীয় ৭৮ শতাংশ জমির স্বত্ব নির্ধারণের আগে বাজিত শেখের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে জমির অংশ ও বণ্টনসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। জমির স্বত্বের ধারাবাহিকতা এবং সহশরিকদের অধিকার যথাযথভাবে নির্ধারণ না করে নির্দিষ্ট অংশের ওপর স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পুনরুদ্ধারের দাবি মঞ্জুর করা সমীচীন নয়।

ফলে আদালত সিভিল রিভিশনের রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেন এবং নিম্ন আদালতগুলোর রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে জমির বণ্টন চেয়ে উপযুক্ত মামলা দায়েরের সুযোগ দেন।

আইনি শিক্ষা

এই রায় থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়—

১. অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে বিরোধ হলে স্বত্বের ধারাবাহিকতা ও উত্তরাধিকারীদের অংশ নির্ধারণ জরুরি।

২. প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জমির বণ্টন সম্পন্ন না করে নির্দিষ্ট সীমানার অংশের ওপর একক স্বত্ব ঘোষণা চাওয়া আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

৩. খতিয়ান একাই জমির চূড়ান্ত স্বত্বের প্রমাণ নয়; দলিল, উত্তরাধিকার ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণও বিবেচনা করতে হয়।

৪. দখল পুনরুদ্ধারের দাবিতে পূর্ববর্তী দখল ও দখলচ্যুত হওয়ার বিষয়টি নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সারকথা: অবিভক্ত যৌথ সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে স্বত্ব ও দখলের বিরোধ নিষ্পত্তির আগে সহশরিকদের অধিকার, স্বত্বের ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জমির বণ্টন নির্ধারণ করতে হবে।

বিডিলপোস্ট/মাসুম 


নিবন্ধিত দলিল বাতিল করতে শুধু অস্বীকার যথেষ্ট নয়, জালিয়াতির প্রমাণ দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

নিবন্ধিত দলিল বাতিল করতে শুধু অস্বীকার যথেষ্ট নয়, জালিয়াতির প্রমাণ দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮ এর ৬০ ধারা এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৩৯ ধারা সম্পর্কিত 
নিবন্ধিত দলিলের সম্পাদন ও নিবন্ধন অস্বীকার করলেই তা বাতিল করা যায় না। দলিলের সম্পাদন নিয়ে বিরোধ উঠলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রমাণ করতে হবে যে দলিলটি প্রকৃতপক্ষে সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হয়নি। এক বৃদ্ধা মায়ের করা হেবা দলিল বাতিলের মামলা খারিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিশন আবেদন খারিজ করে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চ মো. ইব্রাহিম ও অন্যান্য বনাম মো. ফজলুর রহমান মামলায় গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মামলাটি সিভিল রিভিশন নম্বর ৮৫৪, ২০২৪ হিসেবে নিষ্পত্তি হয়। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার বাদী মোছা. আয়জান বিবি ছিলেন বিবাদী মো. ফজলুর রহমানের মা। তাঁর দাবি ছিল, ৮৫ বছর বয়সে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর অজ্ঞাতে বিভিন্ন কাগজে টিপসই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ২০১০ সালের ২৫ জুলাই সম্পাদিত ৬৮৯৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তাঁর ৭৭ শতাংশ জমি ছেলের নামে হেবা করা হয়েছে।

বাদী দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় ওই জমি হেবা করেননি। এ কারণে দলিলটি বাতিলের আবেদন জানিয়ে ২০১১ সালে মামলা করেন।

অন্যদিকে, বিবাদী দাবি করেন, তাঁর মা সুস্থ অবস্থায় স্বেচ্ছায় দলিলটি সম্পাদন ও নিবন্ধন করেছিলেন এবং জমির দখলও তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

২০১১ সালের অন্য শ্রেণির দেওয়ানি মামলাটি ২০২২ সালের ৩১ মে বিচারিক আদালত খারিজ করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা জজ, নওগাঁ আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বাদী তাঁর জীবদ্দশায় বিভিন্ন সময়ে অন্য সন্তান ও তৃতীয় পক্ষের অনুকূলে একাধিক জমির দলিল সম্পাদন করেছিলেন। বিতর্কিত দলিলের পরও তিনি অন্য দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর করেন। এসব দলিলের সম্পাদন ও নিবন্ধন নিয়ে পক্ষগুলো আপত্তি তোলেনি।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, দলিল লেখক সাক্ষ্যে বলেছেন, তিনি বাদীকে দলিল পড়ে শুনিয়েছিলেন এবং এরপর তিনি টিপসই দেন। দলিল শনাক্তকারী সাক্ষীও নিবন্ধনের সময় বাদীকে শনাক্ত করার কথা জানান।

আদালতের মতে, বাদী বিতর্কিত দলিল বা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের টিপসই রেজিস্টারে তাঁর টিপসই ছিল না—এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। কেবল দলিল সম্পাদন অস্বীকার করাই দলিল বাতিলের জন্য যথেষ্ট নয়।

নিবন্ধন আইনের ৬০ ধারার গুরুত্ব

হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ৬০ ধারা অনুসারে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হলে দলিলটি আইনের নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে বলে অনুমান করা যায়। তবে এই অনুমান চূড়ান্ত নয়; উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে তা খণ্ডন করা সম্ভব।

অর্থাৎ, কোনো পক্ষ নিবন্ধিত দলিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধু অস্বীকার করলেই হবে না; দলিলটি যথাযথভাবে সম্পাদন ও নিবন্ধন করা হয়নি—এমন দাবির সমর্থনে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

আদালতের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট মনে করেন, বিচারিক আদালত ও আপিল আদালত উভয়েই সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ ভুলভাবে পড়া বা বিবেচনা না করার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

ফলে হাইকোর্ট রিভিশন আবেদনের পক্ষে কোনো যথার্থ কারণ খুঁজে পাননি। আদালত বিধি খারিজ করেন এবং খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

আইনি শিক্ষা

এই রায় থেকে স্পষ্ট হয়, নিবন্ধিত দলিল বাতিলের ক্ষেত্রে কেবল অস্বীকার বা অভিযোগ যথেষ্ট নয়। দলিলের সম্পাদন ও নিবন্ধন নিয়ে আপত্তি থাকলে তা প্রমাণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দাবিদারের ওপর বর্তায়। একই সঙ্গে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ৬০ ধারার অধীনে নিবন্ধনের নিয়মিততা সম্পর্কে সৃষ্ট অনুমান প্রমাণের মাধ্যমে খণ্ডন করা যায়।

বিডিলপোস্ট/মাসুম 

ভুয়া মামলা দিয়ে শতাধিক মানুষকে হয়রানি, লালমনিরহাটের সেই যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বরখাস্ত

ভুয়া মামলা দিয়ে শতাধিক মানুষকে হয়রানি, লালমনিরহাটের সেই যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বরখাস্ত

কোলাজ ছবি 
ভুয়া মামলা দায়েরের মাধ্যমে গাজীপুরে শতাধিক মানুষকে হয়রানির অভিযোগে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে ভুয়া মামলা দিয়ে গাজীপুরে শতাধিক মানুষকে হয়রানির ঘটনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে চ্যানেল 24। বিষয়টি নজরে আসার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিচারক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হলো।

আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ২(ক) ও ২(চ) অনুযায়ী ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খাদেম উল কায়েস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মো. আরিফুল ইসলাম এর আগে শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী জজ এবং ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সূত্র: চ্যানেল ২৪ ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন 

বিডিলপোস্ট/এম

১৫ অক্টো, ২০২৬

৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলে আলাদা সাক্ষ্য ছাড়াই সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার আইনগত অনুমান প্রযোজ্য: হাইকোর্টের রায়

৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলে আলাদা সাক্ষ্য ছাড়াই সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার আইনগত অনুমান প্রযোজ্য: হাইকোর্টের রায়

৩০ বছরের বেশি পুরোনো নিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারায় আইনগত অনুমান প্রযোজ্য; উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া শুধু মৌখিক সাক্ষ্যে দলিল অস্বীকার করা যাবে না

পুরোনো নিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে আইনগত অনুমান প্রযোজ্য হওয়ায় শুধু মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ওই দলিলকে অস্বীকার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলের ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৯০ ধারার অধীনে দলিলটি যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়েছে—এমন একটি অনুমান তৈরি হয়। তবে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে এই অনুমান খণ্ডন করা সম্ভব।

মামলাটি নুরুল হক ওরফে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার বনাম মুন্সী মো. ইসহাক আলী হাওলাদার ও অন্যান্য। সিভিল রিভিশন নং ১৭৭৯/২০০১-এর এ মামলায় বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী রায় দেন। মামলার শুনানি হয় ২১, ২২ ও ২৩ জুন ২০২৬ এবং রায় ঘোষণা করা হয় ১৯ জুলাই ২০২৬। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

মামলার বিরোধের সূত্রপাত

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া মৌজার ৭১১ ও ৭১২ নম্বর এসএ খতিয়ানের জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। বাদীপক্ষের দাবি ছিল, তারা বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে মোট ৯৬ শতাংশ জমির স্বত্ব ও দখল অর্জন করেন। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালের একটি দলিলের মাধ্যমে এসএ রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তি সোবহানের কাছ থেকে ৪৬ শতাংশ এবং ১৯৭৫ সালের দলিলের মাধ্যমে লালবরু বিবির কাছ থেকে আরও ৫০ শতাংশ জমি কেনার দাবি করা হয়। পরে তাদের নামে নামজারিও করা হয়।

অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের দাবি ছিল, তারা ১৯৫৮ সালের ১৩ মে সোবহান ও হাকিম আলীর কাছ থেকে দুটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে যথাক্রমে ৩৪ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ জমি কিনেছেন এবং ক্রয়ের পর থেকে জমির দখলে থেকে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।

বাদীপক্ষ ১৯৫৮ সালের ৪৫৫৪ ও ৪৫৫৫ নম্বর দলিলকে জাল, অবৈধ ও তাদের ওপর অপ্রযোজ্য দাবি করে এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান বাতিলেরও আবেদন করে মামলা দায়ের করেন। তবে বিচারিক আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালতের মতে, বাদী স্বত্ব ঘোষণার যথাযথ প্রার্থনা করেননি এবং বিতর্কিত দলিল দুটি বাতিলের জন্যও প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাননি।

১৯৫৮ সালের দলিল নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট দেখতে পান, বাদীপক্ষ ১৯৫৮ সালের দলিল দুটির সম্পাদন ও নিবন্ধন সরাসরি অস্বীকার করে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য  আরজিতে দেয়নি এবং দলিল দুটি বাতিলের জন্যও কোনো প্রতিকার প্রার্থনা করেনি। এ কারণে আদালত দলিল দুটি সোবহান ও হাকিম আলীর মাধ্যমে বিবাদীদের পক্ষে সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হয়েছিল বলে ধরে নেন।

আদালত বলেন, নিবন্ধন আইনের ৬০ ধারার অধীনে নিবন্ধনের সনদ দেওয়া হলে দলিলটি আইনের বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়। অবশ্য এই অনুমান খণ্ডনযোগ্য। কোনো পক্ষ দলিলের সম্পাদন বা নিবন্ধন নিয়ে আপত্তি করলে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে।

এ মামলায় ১৯৫৮ সালের দলিল দুটি ৩০ বছরের বেশি পুরোনো হওয়ায় সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৯০ ধারার সুবিধা পাবে বলেও হাইকোর্ট উল্লেখ করেন। আদালতের মতে, উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে বিপরীত কিছু প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ধরে নেওয়া হবে যে দলিল দুটি সোবহান ও হাকিম আলী যথাযথভাবে সম্পাদন করেছিলেন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বাদীপক্ষ দলিলের টিপসই নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট টিপসই রেজিস্টারের সঙ্গে তুলনা করে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে পুরোনো নিবন্ধিত দলিলের বৈধতা নাকচ করার সুযোগ নেই।

মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে দলিলগত প্রমাণের গুরুত্ব

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, দলিলগত প্রমাণ সাধারণত মৌখিক সাক্ষ্যের ওপর প্রাধান্য পায়। এ মামলায় সোবহান হাওলাদার আদালতে ১৯৫৮ সালের দলিল দুটি সম্পাদনের কথা অস্বীকার করলেও, সেই অস্বীকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে তার মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নিবন্ধিত দলিল দুটিকে অকার্যকর ঘোষণা করা যায় না।

পরবর্তী দলিলে স্বত্ব সৃষ্টি হয়নি

হাইকোর্টের মতে, ১৯৫৮ সালের দলিলের মাধ্যমে বিবাদীদের পক্ষে জমির স্বত্ব হস্তান্তরিত হয়ে যাওয়ার পর একই জমি নিয়ে ১৯৯৩ সালে সোবহানের করা পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে বাদীপক্ষের অনুকূলে নতুন করে কোনো স্বত্ব সৃষ্টি হয়নি। কারণ, আগেই জমি হস্তান্তর হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে একই বিক্রেতার করা দলিলের মাধ্যমে পুনরায় স্বত্ব হস্তান্তর সম্ভব নয়।

আদালত আরও বলেন, বাদীপক্ষের নামে প্রস্তুত রেকর্ড পরবর্তীতে বাতিল হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাদের প্রথমে নিজের স্বত্ব ঘোষণার জন্য আদালতের কাছে প্রতিকার চাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা না করে শুধু ১৯৫৮ সালের দলিল দুটি তাদের ওপর অপ্রযোজ্য ঘোষণার আবেদন করেছে। ফলে মামলাটি তার বর্তমান কাঠামোয় আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সবশেষে হাইকোর্ট বলেন, ১৯৫৮ সালের দলিল দুটির মাধ্যমে বিবাদীদের অনুকূলে জমির স্বত্ব হস্তান্তরিত হয়েছিল এবং পরবর্তী ১৯৯৩ সালের দলিলের মাধ্যমে বাদীপক্ষের কোনো স্বত্ব অর্জিত হয়নি। নিম্ন আদালতগুলো সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রমাণ ভুলভাবে পড়া বা বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

এ কারণে হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্ট্যাটাস কো-এর অন্তর্বর্তী আদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলায় কোনো খরচ আরোপ করা হয়নি।

বিডিলপোস্ট/মাসুম

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত 
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি আদালতের ওপর চাপ কমাতে হবে। বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমিয়ে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর একটি হোটেলে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কর্মকর্তারা প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের জীবন, সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক দায়িত্ব পালনের সময় আরও কার্যকর ও মানসম্মত সিদ্ধান্ত দিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, মানুষের জীবন থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাই প্রকৃত শিক্ষা। আইনগত সহায়তা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা ও বাস্তবতা সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা কর্মকর্তারা অর্জন করছেন, তা তাদের বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিচারকরা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, আইনগত সহায়তার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা মানুষের বিচারপ্রাপ্তির পথে থাকা বিভিন্ন বাধা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ কমানো গেলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যানবাহন-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে বিকল্প ব্যবস্থা এবং ছুটিসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সাফল্য শুধু কতটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না; এর মাধ্যমে মানুষের কী ধরনের উপকার হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রমের অর্জন ও অগ্রগতির একটি ইতিবাচক চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাকে (জাইকা) ধন্যবাদ জানান আইনমন্ত্রী। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


বিডিলপোস্ট/এম

সূত্র: সমকাল