সর্বশেষ

১০ অক্টো, ২০২৬

শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই

যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অবদান; আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী, বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বৈষম্যের অভিজ্ঞতা থেকে ন্যায়বিচারের লড়াই:

নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে। বর্ণবৈষম্যের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা পিল্লাই পরবর্তী সময়ে আইন পেশায় যুক্ত হন। নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে ওঠে তার কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

কর্মজীবনের শুরু থেকেই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ও মানবাধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বিচারক হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত থেকে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গন:

পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততা তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে।

যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতিতে ভূমিকা:

রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও সংঘাতের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আইনি অগ্রগতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ঐতিহাসিক মামলার বিচারপ্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল। এসব কাজের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, ভুক্তভোগীদের অধিকার এবং অপরাধের দায় নির্ধারণের প্রশ্নে তার অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসনের গুরুত্ব:

শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। ন্যায়বিচার ছাড়া টেকসই শান্তি অর্জন কঠিন—আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধারণা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সহিংসতার শিকার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয়কেই আইনের অধীন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পিল্লাই। তার কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া।

আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক আইনকে সুরক্ষা দেওয়া, এর বিকাশে অবদান রাখা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দ্যা বিজনেস স্টান্ডার্ড বাংলা

৯ অক্টো, ২০২৬

উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় পক্ষ হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে দায়ের করা মামলার একতরফা ডিক্রি (Ex-parte Decree) বাতিল হাইকোর্টের রায়ে বহাল

উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় পক্ষ হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে দায়ের করা মামলার একতরফা ডিক্রি (Ex-parte Decree) বাতিল হাইকোর্টের রায়ে বহাল

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
জমির মালিকের উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় পক্ষ হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত না করে করা মামলায় দেওয়া এক্সপার্টে রায় ও ডিক্রি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে উত্তরাধিকারীরা তাদের প্রাপ্য অংশ বা সাহাম পাওয়ার অধিকারী বলে আদালত মত দিয়েছেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ২০২২ সালের একটি মামলায় এ সিদ্ধান্ত দেন। মামলাটি হলো— দেওয়ানি রিভিশন মামলা নং ৬১৭১/২০২২, মো. আহমেদ আলী ও অন্যান্য বনাম মো. আবুল হোসেন ও অন্যান্য।  রায়টি ঘোষণা করা হয় ২০২৬ সালের ৫ জুলাই এবং সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয় ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি:

মামলার বিরোধীয় জমির সি.এস. খতিয়ান নম্বর ৩০০-তে সিটো বিবি ও জহিরুন নেসার নামে মোট ৫.৩৫ একর জমি রেকর্ড ছিল। এর মধ্যে সিটো বিবির অংশ ছিল ২.৬৭৫ একর। তিনি মারা গেলে তার তিন ছেলে—আনার উদ্দিন, কট্টু শেখ ও শমসের আলী—ওয়ারিশ হিসেবে ওই সম্পত্তিতে অংশ পান। পরবর্তীতে তাদের উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমে বাদীপক্ষের স্বত্বের দাবি ওঠে।

বাদীপক্ষের দাবি ছিল, পূর্ববর্তী একটি মামলায় তাদের প্রয়োজনীয় পক্ষ করা হয়নি। ফলে তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করে দেওয়া এক্সপার্টে রায় ও ডিক্রি বাতিল এবং জমিতে তাদের অংশ নির্ধারণের জন্য তারা অন্য শ্রেণির মামলা নম্বর ৫৬/২০১৯ দায়ের করেন।

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষ দাবি করে, সিটো বিবি তার জমি বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছিলেন। তবে সেই হস্তান্তরের দলিল তারা আদালতে প্রমাণ করতে পারেনি।

নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত:

বিচার শেষে সহকারী জজ, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট ২০২০ সালের ২ মার্চের রায়ে বাদীদের পক্ষে মামলা ডিক্রি করেন। আদালত দেখতে পান, আগের মামলায় সিটো বিবির উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় পক্ষ করা হয়নি এবং তাদের স্বার্থ ওই মামলার রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে পূর্বের এক্সপার্টে রায় ও ডিক্রি বাতিল করে বাদীদের ১.৬৯০৪ একর জমির সাহাম দেওয়া হয়।

এর বিরুদ্ধে বিবাদীরা টাইটেল আপিল নম্বর ৩৬/২০২০ দায়ের করেন। কিন্তু জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জজ, আদালত নম্বর ১, লালমনিরহাট ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

হাইকোর্টে মূল প্রশ্ন:

হাইকোর্টে বিবাদীপক্ষের প্রধান বক্তব্য ছিল, বাদীরা সিটো বিবির বৈধ উত্তরাধিকারী—এটি যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং এস.এ. ও বি.আর.এস. খতিয়ানসহ অন্যান্য প্রমাণ বিবেচনায় না নিয়ে নিম্ন আদালতগুলো সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, বাদীরা সিটো বিবির উত্তরাধিকারী এবং বিবাদীরা সিটো বিবির কাছ থেকে জমি কেনার কোনো দলিল প্রমাণ করতে পারেনি। উভয় নিম্ন আদালত প্রমাণ মূল্যায়ন করে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

হাইকোর্ট দেখতে পান, উভয় নিম্ন আদালতই একযোগে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে বাদীরা সি.এস. রেকর্ডভুক্ত মালিক সিটো বিবির উত্তরাধিকারী এবং তারা তাদের প্রাপ্য সাহাম পাওয়ার অধিকারী। অন্যদিকে বিবাদীরা সিটো বিবির কাছ থেকে জমি হস্তান্তরের দাবি করলেও সেই হস্তান্তরের কোনো দলিল প্রমাণ করতে পারেনি।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, বিবাদীপক্ষের সাক্ষী নিজেই স্বীকার করেছেন যে সিটো বিবি সি.এস. খতিয়ানের রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন, তার কাছ থেকে জমি হস্তান্তরের কোনো দলিল তারা প্রমাণ করতে পারেনি এবং সিটো বিবির উত্তরাধিকারীদের আগের মামলায় বিবাদী করা হয়নি।

হাইকোর্টের মতে, সিটো বিবি জীবদ্দশায় তার অংশ হস্তান্তর করেছিলেন—এমন প্রমাণ না থাকায় তার উত্তরাধিকারীরা সংশ্লিষ্ট জমিতে তাদের প্রাপ্য অংশ পাওয়ার অধিকারী। যেহেতু তারা আগের মামলার প্রয়োজনীয় পক্ষ ছিলেন কিন্তু তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাই ওই মামলায় দেওয়া এক্সপার্টে রায় ও ডিক্রি বাতিল করা আইনসঙ্গত হয়েছে।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত:

হাইকোর্ট সিভিল রিভিশনের রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

আইনি শিক্ষা:

কোনো সম্পত্তির স্বত্ব দাবি করা উত্তরাধিকারীরা যদি পূর্ববর্তী মামলায় প্রয়োজনীয় পক্ষ হয়েও বাদ পড়ে যান এবং তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করে এক্সপার্টে ডিক্রি দেওয়া হয়, তাহলে যথাযথ মামলার মাধ্যমে সেই ডিক্রি বাতিলের সুযোগ রয়েছে—বিশেষত যখন বিপক্ষ তাদের কথিত হস্তান্তরের দলিল প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়।

বিডিএলপিবি/মাসুম

উচ্চতর প্রশিক্ষণে জাপান যাচ্ছেন ২৩ বিচারক-আইনজীবী

উচ্চতর প্রশিক্ষণে জাপান যাচ্ছেন ২৩ বিচারক-আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত 
বিচারপ্রাপ্তি সহজ করা, আইনি সহায়তার কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং বিচারসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে জাপান যাচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এ দলে রয়েছেন ১৭ জন বিচারক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং ৬ জন আইনজীবী। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে আগামী ১ থেকে ১৪ নভেম্বর এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৭ অক্টোবর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলে বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারক, আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রতিনিধি, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা রয়েছেন।

প্রতিনিধি দলে যাঁরা রয়েছেন:

জাপানগামী প্রতিনিধি দলে রয়েছেন নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর, কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মাসুম বিল্লাহ, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার এএইচএম তোয়াহা এবং একই বিভাগের স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক।

এ ছাড়া আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন, মো. মঈনউদ্দিন কাদির ও মুহাম্মদ আশেকুর রহমান প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদুজ্জামান, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান, কুমিল্লার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মনিকা খান, বরিশালের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মনিরুজ্জামান, নরসিংদীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. তৌহিদ আল আজাদ, ঝিনাইদহের সিনিয়র দেওয়ানি জজ অনুশ্রী রায়, বগুড়ার দেওয়ানি জজ মো. রকিবুল হাসান এবং বরিশালের দেওয়ানি জজ মো. জাহিদুল ইসলাম।

ছয় আইনজীবীও থাকছেন প্রতিনিধি দলে:

প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া ছয় আইনজীবীর মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ কাইয়ুম ও আফরোজা বেগম। কুমিল্লা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে যাচ্ছেন আয়েশা বেগম, সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ ও শাহিদা আনোয়ার।

সফরের ব্যয় বহন করবে জাইকা:

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণের পুরো সময়কে অংশগ্রহণকারীদের কর্মকালীন সময় হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, এ সময় তাঁরা ‘অন ডিউটি’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রতিনিধি দলের জাপান সফর ও প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে জাইকা। ফলে এ সফরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলটি আগামী ১ নভেম্বর অথবা এর কাছাকাছি কোনো সুবিধাজনক সময়ে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রশিক্ষণ শেষে ১৪ নভেম্বর তাঁদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

৮ অক্টো, ২০২৬

১৭ অক্টোবর হচ্ছে না ১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষা

১৭ অক্টোবর হচ্ছে না ১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত 
উনবিংশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (১৯তম বিজেএস) পরীক্ষার প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উনবিংশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীদের জানানো হয়েছিল যে প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনিবার্য কারণবশত পূর্বে উল্লেখিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

কমিশন জানিয়েছে, প্রাথমিক পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি যথাসময়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সকল আবেদনকারীকে কমিশনের ওয়েবসাইট নিয়মিত অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি
বিডিএলপিবি/এমএম

অ্যাটর্নি-জেনারেলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অ্যাটর্নি-জেনারেলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আলহামুদি।

বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়সহ ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় আইনগত ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর এ সাক্ষাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস

মন্ত্রণালয়ের ৩ কর্মকর্তাসহ আইন মন্ত্রীর তুরস্ক সফর

মন্ত্রণালয়ের ৩ কর্মকর্তাসহ আইন মন্ত্রীর তুরস্ক সফর

ছবি: সংগৃহীত 
‘ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস সামিট–ইস্তাম্বুল ২০২৬’-এ অংশ নিতে তুরস্ক সফরে গেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর সঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের তিন কর্মকর্তাও সফরসঙ্গী হয়েছেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্ক সফরে রয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. আরশাদুল আলম, যুগ্ম সচিব মো. শামসুদ্দিন মাসুম এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো. রেজাউল করিম।

যে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দ্য ফিউচার অব জাস্টিস: এ শেয়ার্ড রেসপনসিবিলিটি ফর হিউম্যানিটি’ প্রতিপাদ্যে ইস্তাম্বুলে ৮ ও ৯ অক্টোবর ২০২৬ ‘ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস সামিট–ইস্তাম্বুল ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনক্রমে আইনমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

৭ অক্টোবর তুরস্ক যাত্রা, ১০ অক্টোবর ফেরার কথা

সরকারি প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটি ৭ অক্টোবর ২০২৬ অথবা নিকটতম সম্ভাব্য তারিখে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং ১০ অক্টোবর ২০২৬ অথবা নিকটতম সম্ভাব্য তারিখে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সফরে অংশগ্রহণের সময় ও যাতায়াতসহ পুরো সফরকাল দায়িত্বকাল (অন ডিউটি) হিসেবে গণ্য হবে।

সফরের ব্যয় বহন করবে তুরস্ক সরকার

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামিটে অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত সব ব্যয় তুরস্ক সরকার বহন করবে। ফলে এ সফরের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো ব্যয় বহন করতে হবে না।

প্রজ্ঞাপনটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সেকশন-৮ থেকে জারি করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন  

৭ অক্টো, ২০২৬

রাতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা

রাতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তায় নতুন নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে আদালত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা দাফতরিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চাইলে এসব পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা এখানকার বিভিন্ন কোর্ট রুমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাই প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি ও মামলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের পাশাপাশি পুরো স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র বহনের বিষয়ে এর আগেও সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আদালত প্রশাসনের নজরে এসেছে, রাতের সময়ে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ‘অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিবর্গ’ প্রবেশ করছেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি