সর্বশেষ

১৪ ফেব, ২০২৬

এনসিপি থেকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার গুঞ্জন, যা বলছেন দলের নেতারা

এনসিপি থেকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার গুঞ্জন, যা বলছেন দলের নেতারা

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি ‘জাতীয় সরকার’ আদলে সর্বজনীন মন্ত্রিসভা গঠনের কথা ভাবছেন দলটি।

বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে বিশ্বস্ত ও যোগ্য নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বর্তমানে মন্ত্রিসভার পরিধি ও সদস্যদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা বা 'টেবিল ওয়ার্ক' করছেন, যেখানে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আলোচনার মধ্যেই ১১-দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে ৬টি আসনে জয়ী হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১-২ জন নেতার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের যাওয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত প্রস্তাব নেই। তবে আমার ধারণা, যদি প্রস্তাব আসেও সেটা দল গ্রহণ করবে না।

এছাড়াও দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান শবিবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে লেখেন, জোটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত এককভাবে এনসিপি বিএনপির সাথে মন্ত্রীত্ব শেয়ার করবে না, ইনশাআল্লাহ!
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 'লাশ আর রক্তের ওপর দিয়ে যারা ক্ষমতা গ্রহণ করবে', তাদের সাথে এনসিপি যাবে না।

যদিও বিএনপির একাধিক বলেন, বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ‘চাপ সহ্য’ করেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন। নতুন মন্ত্রীসভায় তারেক রহমান প্রবীণের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধাণ্য দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন বেশ কিছু তুলনামূলক তরুণ বয়সী নেতা।

নতুন সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বলেন, আমাদের লড়াই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা একটি মেধা ও প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘৩১ দফা’ অনুযায়ী সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’

জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার

জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরকে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’

এবার মন্ত্রীত্ব চান ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র বিজয়ী এমপি

এবার মন্ত্রীত্ব চান ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র বিজয়ী এমপি

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ২৫৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছিলো চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দেশের ২৫৩ আসনে প্রার্থী থাকলেও জনগনের ভোটে বরগুনা-১ (সদর, আমতলী, তালতলী) আসন থেকে দলটির একমাত্র প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ নির্বাচিত হন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফ্রেব্রুয়ারি) নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই তিনি বরগুনার সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের ঘোষণা দেন। এবার মন্ত্রীত্ব চাইছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র এমপি অলি উল্লাহর সমর্থকেরা।

শনিবার (১৪ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে বরগুনা কেওড়াবুনিয়া পীরের দরবারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অলিউল্লাহর সমর্থকেরা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো জোটে না গিয়ে সারাদেশের ২৫৩ আসনে একক প্রার্থী দেয়। যারা সবাই উল্লেখযোগ্য ভোট পায়। আমরা (ইসলামী আন্দোলন) যদি জোটে যেতাম তাহলে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারতো না।

আমাদের জন্যই বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাই আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে দাবি জানাই তিনি যেনো আমাদের দলের একমাত্র এমপিকে যেকোনো মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীত্ব দেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদর উপজেলার নেতা ইদ্রিসুর রহমান বলেন, জামায়াতের সাথে যদি আমাদের সমঝোতা থাকতো তাহলে বিএনপি এতগুলো আসন পেতো না। আমার জোট থেকে বের হওয়ার কারনেই বিএনপি সরকার গঠন করতে পারবে।আমাদের কারণেই বিএনপি সারাদেশে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে। তাই এখন আমাদের দাবি ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র নির্বাচিত প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ কে মন্ত্রীত্ব দেয়া হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র নির্বাচিত বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, যারা আমাকে দিয়েছেন বা দেয়নি সবাই'ই এখন আমার জনগন। সব দলের জনগনই আমার। এখন জনগনের কল্যাণে যা যা করনীয় তা'ই আমি করবো।

তিনি বলেন, বিএনপি যদিও আমাদের (ইসলামী আন্দোলন) প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। কিন্তু এবছর নির্বাচনে আমাদের দ্বারা তাদের যে উপকারটা হয়েছে তা মূল্যাযন করা উচিত। কারন আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সামান্য ভোটের ব্যাবধানে জামায়াতের প্রার্থীরা হেরে গেছে। সেসব আসনে আমাদের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। আমরা যদি সমঝোতায় থাকতাম তাহলে জামায়াত সরকার গঠন করতো। আমি আশা করি বিএনপি এ মূল্যায়ন করা উচিত। যদি তারা সে মূল্যায়ন করে তাহলে ভবিষ্যতে বরগুনার জন্য ভালো হবে, জনগনের জন্য ভালো হবে। তারা যদি অব মূল্যায়ন করে তাহলে আমি মতে ক্ষয়ক্ষতি তাদের (বিএনপি) দিকেই যাবে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসন থেকে মোট ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এদের মধ্যে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯১ ভোট পয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৫ ভোট পান। এতে মোট ৪ হাজার ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অলিউল্লাহ।

এনসিপির সংরক্ষিত নারী এমপি হচ্ছেন ডা. মাহমুদা মিতু?

এনসিপির সংরক্ষিত নারী এমপি হচ্ছেন ডা. মাহমুদা মিতু?


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফলে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রতিনিধি পাবেন। দলীয় নেত্রীদের মধ্যে কে সংসদে যাবেন তা নিয়ে তৎপর আলোচনা চলছে।

এনসিপির বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী এমপি হিসেবে আলোচনায় আছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, ঢাকা-১৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দিলাশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নাবিলা তাসনিদ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. মাহমুদা মিতুর ব্যাপারে এখন সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ঝালকাঠি-১ আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পরে দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ান। তার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে সংরক্ষিত আসনে এমপি করার আশ্বাস দিয়েছিল। নির্বাচনি প্রচারণায় সারাদেশে এনসিপি ও জামায়াত ইসলামের জনসভায় ও পথসভায় অংশ নেওয়ায় তিনি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন।

ডা. মাহমুদা মিতু বর্তমানে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব। বরগুনার বেতাগী উপজেলায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই চিকিৎসক এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন গুলশানের শাহাবুদ্দীন মেডিকেল কলেজ থেকে। তিনি দুই কন্যার জননী এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য কাজ করে সামাজিকভাবে পরিচিত। করোনা পরবর্তী সময়ে গড়ে তোলা ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে তিনি বিশেষভাবে গর্ভবতী নারীদের সেবা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।

নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ গঠন কবে?

নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ গঠন কবে?

ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এনসিপি জয় পেয়েছে ছয় আসনে।

ভোটের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষা। গেজেট জারির পর শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। জানা যায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ হতে পারে।

পরবর্তী দু-দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার শপথের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন-এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

নির্বাচনে দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সংসদে কী হবে, সেটাও পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে। তবে জামায়াত সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে, এটাও অনেকটা নিশ্চিত। 

১৩ ফেব, ২০২৬

সংসদ নেই, স্পিকার নেই, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন?

সংসদ নেই, স্পিকার নেই, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন?


ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে ২৯৯টি আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভোটেরে ভোটগ্রহণ। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা চলে ভোটগ্রহণ। পরে গণনা শুরু হয়। রাতের মধ্যেই ঘোষণা হয়ে যায় নির্বাচনী ফলাফল। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। 

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা।
শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়? উত্তরটা হচ্ছে, সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে। সাধারণভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে বেসরকারি ফল যাওয়া যায় একদিন বা দুইদিনের মধ্যে, সেটা কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না। মানে সেই ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হবে এমনটা নয়।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন হতে আরো কয়েকটা দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে।

নির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন? শপথ কে পড়াবেন এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।

তাহলে উপায় কী আছে? এক্ষেত্রে আবারো যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’

এই অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে। এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীতি করতে পারেন। দুই. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেসময় তিনি জানান, নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। 

শপথের পর ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন? শপথের বিষয়টির সমাধান হয়ে গেলেও আরো কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন, অর্থাৎ সরকার গঠন কে করবেন?

এখানে এই প্রক্রিয়াটি হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। তিনি, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন।

এখানে দলকে আমন্ত্রণ জানানো মানে দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ এবং নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বিষয়টা বর্ণনা করা আছে এভাবে যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন’।

মূলত, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই পদগুলোর ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেয়ে যাবেন। এরমধ্য দিয়েই আগের সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়ে গঠিত হয়ে যাবে নতুন সরকার। সংবিধান অনুযায়ী শপথগ্রহণ হয়ে গেলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে গণ্য হবে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে’।

নীরবতা ভাঙলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নীরবতা ভাঙলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত 

গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় নীরবতা ভাঙলেন আলোচিত ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী ও এনসিপির  মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

আজ শুক্রবার (১৩ ফেবুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে করা এক পোস্টে পাটওয়ারী লেখেন- "অভিনন্দন! ইঞ্জিনিয়ার তারেক রহমান। জাতীয় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৩তম ব্যাচে সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা।"

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের শেষ অবধি দেশজুড়ে ব্যাপক আলেচনায় ছিল ঢাকা-৮ আসন। ফলাফলে দেখা গেছে, আসনের ১০৮টি কেন্দ্রে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ভোট পান ৫১ হাজার ৫৭২। সেই সঙ্গে পোস্টাল ভোট পান ২ হাজার ৫৫৫টি। ফলে তার মোট ভোট হয় ৫৪ হাজার ১২৭। অন্যদিকে ৫৬ হাজার ৫৫২ মোট ভোট পেয়ে তাকে হারিয়ে আসনটিতে বিজয়ী হন বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।