সর্বশেষ

৪ জুল, ২০২৬

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার প্রথম দফার রিভিউয়ে উত্তীর্ণ বরগুনা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মিজানুর রহমান মারা গেছেন। তিনি বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার মৃত্যুতে সহকর্মী শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিজানুর রহমানের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

মৃত্যুবরণ করা মিজানুর রহমানের বাবা আজিজ শিকদার বলেন, প্রথম দফার রিভিউয়ে আমার ছেলে উত্তীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ছেলে আমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর প্রকাশিত ফলাফলে আমার ছেলেকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট হলে আমার ছেলেও ওই মামলার রিটকারীদের একজন ছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগ ওদের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু  গতকাল রাতে বার কাউন্সিল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে—একটি পত্রিকার নামে বানানো এমন একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়লে মিজানুর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মিজানুর রহমানের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শিকদার বলেন, অসুস্থ বোধ করলে ওকে আমরা অ্যাম্বুলেন্স যোগে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজ সকাল ১১টায় ওকে মৃত ঘোষণা করে৷ তিনি দাবি করেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তার ভাই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

রিভিউ উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পরও ভাইভা পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা না হওয়ায় তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তারা দ্রুত আদালতের রায় বাস্তবায়ন, ভাইভা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং রিভিউ উত্তীর্ণ ১,৩৪০ জনকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান।

হাইকোর্টের রায়ের আলোকে লিখিত পরীক্ষার  রিভিউতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের আইনজীবীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বহু শিক্ষানবিশ আইনজীবী মানসিক স্বস্তি ফিরে পাবেন এবং তাদের পেশাজীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। নাহলে মিজানুর রহমানের মতো ঘটনা আরও অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। প্রথম দফার রিভিউ শেষে অতিরিক্ত ১,৯১৪ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হলেও পরে সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুনরায় খাতা মূল্যায়ন করে প্রকাশিত ফলাফলে প্রথম দফায় উত্তীর্ণ প্রায় ১,৩৪০ জন পরীক্ষার্থীকে অনুত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে নতুন করে ১৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।

পরে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে গত ১০ জুন হাইকোর্ট বিভাগ প্রথম দফার রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওই রিভিউ উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের দ্রুত মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা গ্রহণ এবং আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেন। গত ৩০ জুন হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পৌঁছেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: ইনকিলাব, এনপিবি

বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

ছবি: সংগৃহীত  

জামালপুর শহরে বিচারক দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনায় সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে শহরের আমলাপাড়া ও হাই স্কুল মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) তাদের আদালতে মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের আলেক মিয়ার স্ত্রী নিলুফা (৩২), জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদার পাড়া এলাকার মনির হোসেনের স্ত্রী মোছা. হাওয়া বেগম (৩০), আমলাপাড়া এলাকার সুমুতুল্লাহের ছেলে কালা চান (৫০), নয়াপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে সুমন মিয়া (৩৯), কলেজ রোড় এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব (৩৯)। এরমধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় জামালপুরের মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি’র বাসার জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। 

এসময় দুর্বৃত্তরা ৫টি স্বর্ণের আংটি, ১টি ডায়মন্ডের আংটি, ২টি স্বর্ণের চেইন, ১ জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা, ১টি স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১ সেট স্বর্ণের মালা এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। যার সর্বমোট বাজার মূল্য ১৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৯শত ৮৫ টাকা।

পরে বিচারক আহমাদুল কবির বাদী হয়ে জামালপুর সদর মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ মামলার বাদী ও বিভিন্ন সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের নিলুফা নামে এক নারীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমলাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তারপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাত ২ টার দিকে হাই স্কুল মোড় থেকে সুমন মিয়া, নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব, কালা চান ও রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, “গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি গত কমিটির পদে থাকা নেতা। তারা বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ না।”

জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুল মোমিন আকন্দ কাওসার বলেন, “আমাদের আগের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আমার এই কমিটিতে তারা নেই তাই আমি তাদের কথা বলতে পারবো না।”


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: ইত্তেফাক সহ প্রথম সারির প্রিন্ট মিডিয়া

ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নোটিশ, অন্যথায় রিট দায়ের

ক্ষমা চাইতে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে নোটিশ, অন্যথায় রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

'বাংলাদেশের সব ফ্যাসিস্ট, টাউট ও ক্রিমিনাল তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’—এমন বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তহবিলে ১০০ কোটি টাকা জমা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরাবরে এই নোটিশ পাঠান। শনিবার (৪ জুলাই) আইনজীবী তনয় কুমার সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইমেইলযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ডাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং অনুষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, মানহানিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই মন্তব্যগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

নোটিশ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদ ও সংশ্লিষ্টদের নিম্নলিখিত দাবিগুলো পূরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার কারণে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।  ১ জুলাই প্রদত্ত অবমাননাকর বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা প্রদান করতে হবে, যা সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’-এ জমা দিতে হবে—যাতে এই অর্থ একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে ব্যবহার করা যায়।

নোটিশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হন বা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ইয়াছিন, সম্পাদক মুন্না

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ইয়াছিন, সম্পাদক মুন্না

ছবি: সংগৃহীত 

আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) ২০২৬- ২৭ মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক ‘অবজারভার’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. ইয়াছিন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আরাফাত মুন্না। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপিম কোর্ট) দক্ষিণ হলে ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘আরটিভি’র হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন ফলাফল ঘোষণা করেন। কমিশনের অপর দুই সদস্য ‘এটিএন নিউজ’র হেড অব নিউজ মাশহুদুল হক ও সিনিয়র সদস্য সাজেদুল হক। কমিশনের সাচিবিক দায়িত্বে ছিলেন ‘বাংলানিউজ’র বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াছ সরকার।  

কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ‘সমকাল’র আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক পদে বাংলানিউজ’র তানভীর আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ পদে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর’র মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ‘টাইমস অব  বাংলাদেশ’ আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক পদে ‘খবরের কাগজ’র মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’র  জাহিদুল বাশার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ‘চ্যানেল ওয়ান’র জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু ও ‘আমাদের সময়’র আসাদুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। 

এর আগে ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি হাসান জাবেদ। সঞ্চালনা করেন বিদায়ী কমিটিরি সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান মিশন। 

এ সময় আরও উপস্তিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, এলআরএফ’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনোজ কান্তি রায়, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব কাজী আব্দুল হান্নান, সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, সালেহ উদ্দিন, এম বদি-উজ-জামান, আশুতোষ সরকার, সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হিরণ, শামীমা আক্তার, আশরাফ উল আলম প্রমুখ।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাসস

৩ জুল, ২০২৬

আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারীদের একজন গ্রেপ্তার

আল্লামা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারীদের একজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে এসে ২০১২ সালে অপহরণের শিকার হওয়া সুখরঞ্জন বালীর ঘটনায় জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত রাতে ডিবি পুলিশ ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মোকলেসুর রহমান এবং তিনি পুলিশের একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত। তবে তদন্তের স্বার্থে তাকে ঠিক কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সাফাই সাক্ষ্য দিতে আসার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকেই আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হন পিরোজপুরের সুখরঞ্জন বালী। পরবর্তীতে জানা যায়, সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে সীমান্ত পার করে ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছিল এবং সেখানে অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে ভারতের একটি কারাগারে দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্দি জীবন কাটাতে হয়।

এই চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনায় গত ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন ভুক্তভোগী সুখরঞ্জন বালী। মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় এবার ডিবি পুলিশের অভিযানে এই প্রথম কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করা হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র:বাসস

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

ছবি: সংগৃহীত 

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সরকার নতুন আইন কার্যকর করেছে। প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ বাতিল করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে নতুন আইন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) আইনটি গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন ও স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ও ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো কিংবা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার এবং জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।

এছাড়া অনলাইন বেটিং পরিচালনা, বুকমেকার হিসেবে কাজ করা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল কার্যক্রমে অংশ নেওয়া গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে, সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি, হাওলা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনেও বিচার করা যাবে।

আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিতে পারবেন। জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার বা সার্ভার অবকাঠামোও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

কোনো কোম্পানি, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়ী করা হবে। আদালত প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশও দিতে পারবেন।

আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে জব্দ করতে পারবেন।

অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ,

এনআইডি-সিম-এমএফএস সংযুক্তি ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, নির্বাচন কমিশন, সিআইডি ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।

নতুন আইন কার্যকরের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক আমলের প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলো। তবে, পুরোনো আইনের অধীনে চলমান মামলাগুলো নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

এবার বিস্ফোরক আইনে হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

এবার বিস্ফোরক আইনে হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

ছবি: সংগৃহীত 

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে এবার বনানী থানায় করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য ৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই খায়রুল হককে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 

বনানী থানার এ মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুরে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে তাদের শাহবাগ যাওয়ার পথে হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়।

এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। ওই রায় দেওয়ার সাত দিন পর ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।

অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম