সর্বশেষ

২৩ অক্টো, ২০২৬

জব্দতালিকা (Seizure List) কী? জব্দতালিকা প্রস্তুত করার নিয়ম ও নাগরিকের আইনি অধিকার

জব্দতালিকা (Seizure List) কী? জব্দতালিকা প্রস্তুত করার নিয়ম ও নাগরিকের আইনি অধিকার

প্রতীকী ছবি 
জব্দতালিকা (Seizure List) হলো ফৌজদারি মামলার তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক জব্দ করা মালামাল ও আলামতের বিবরণসংবলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল। তল্লাশি বা অভিযানের সময় উদ্ধার করা অস্ত্র, মাদক, চোরাই মালামাল কিংবা অন্যান্য সম্ভাব্য আলামতের বিস্তারিত এতে লিপিবদ্ধ করা হয়। আদালতে আলামত শনাক্তকরণ এবং তা উদ্ধারের পরিস্থিতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জব্দতালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১. জব্দতালিকার আইনগত ভিত্তি

বাংলাদেশে জব্দতালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রধানত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১০৩ ধারা প্রাসঙ্গিক। এ ধারায় তল্লাশির সময় স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত রাখা এবং জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুতের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর সংশ্লিষ্ট বিধানও প্রযোজ্য।

২. জব্দতালিকায় কী কী তথ্য থাকে?

একটি জব্দতালিকায় সাধারণত উল্লেখ থাকে—

  • মামলার নম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিবরণ;
  • জব্দের তারিখ, সময় ও স্থান;
  • উদ্ধার করা আলামতের নাম, সংখ্যা, পরিমাণ ও অবস্থা;
  • উপস্থিত সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর;
  • যার কাছ থেকে বা যে স্থান থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে, তাঁর পরিচয়;
  • জব্দকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি ও স্বাক্ষর।

৩. তল্লাশির সময় নাগরিকের আইনি অধিকার

  • তল্লাশি পরোয়ানা সম্পর্কে জানার অধিকার: আইন অনুযায়ী পরোয়ানা প্রয়োজন হলে তা দেখতে চাইতে পারেন। তবে আইনস্বীকৃত কিছু পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াও তল্লাশি করা যায়।
  • পুলিশের পরিচয় জানার অধিকার: তল্লাশিকারী কর্মকর্তার পরিচয় ও পদবি জানতে চাইতে পারেন।
  • উপস্থিত থাকার অধিকার: আইন অনুযায়ী তল্লাশির সময় বাড়ির মালিক বা তাঁর প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দিতে হয়।
  • নারীর দেহ তল্লাশি: ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারার বিধান অনুযায়ী, কোনো নারীর দেহ তল্লাশি করতে হলে শালীনতা বজায় রেখে অন্য একজন নারীকে দিয়ে তল্লাশি করাতে হবে।
  • বেআইনি হয়রানি থেকে সুরক্ষা: তল্লাশির নামে বেআইনি নির্যাতন, ভয়ভীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হলে আইনগত প্রতিকার চাওয়া যায়।

৪. জব্দতালিকা তৈরির নিয়ম

ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারার প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী

১. তল্লাশির আগে স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে ডাকতে হবে।

২. সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা সামগ্রীর বিবরণ এবং উদ্ধারের পরিস্থিতি তালিকায় লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৩. তালিকায় সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে। যার স্থান থেকে সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে, তাঁর উপস্থিতি ও স্বাক্ষরের বিষয়টিও যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা উচিত।

৪. জব্দতালিকার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিনামূল্যে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

৫. জব্দতালিকায় অসংগতি থাকলে করণীয়

জব্দতালিকায় কোনো ভুল, অসংগতি বা আপত্তি থাকলে তা যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করার অনুরোধ করুন। কোনো ফাঁকা বা অসম্পূর্ণ কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। স্বাক্ষর করার আগে তালিকার বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়ে নিন এবং সম্ভব হলে আপত্তির বিষয়টি লিখিতভাবে উল্লেখ করুন।

পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি তল্লাশি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।


বিডি ল' পোস্ট/মাসুম 

রবিবার হাইকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম শুরু দুপুর আড়াইটায়

রবিবার হাইকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম শুরু দুপুর আড়াইটায়

ছবি: সংগৃহীত 
চলমান অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর (রোববার) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবকাশকালীন ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেবেন।

আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাসের সামনের করিডোরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ আইনজীবীরা উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী আইনজীবীদের আপ্যায়নের জন্য সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনসংলগ্ন ইনার কোর্ট ইয়ার্ডের বাগানে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের কারণে আগামী ২৫ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হবে।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি 

আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি

আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি

প্রতীকী ছবি 

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত আইনের শাসন সূচক ২০২৬-এ দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১২৩তম। তবে অবস্থানের উন্নতি হলেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।

সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০.৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০.৫৫। তবে বার্ষিক অগ্রগতির হিসাবে বিশ্বের ১৫টি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনকারী দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসন সূচকে অগ্রগতির দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে দেশটি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে নেপাল প্রথম, শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় এবং ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

আফ্রিকার কয়েকটি দেশের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ

আইনের শাসন সূচকে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের অবস্থান জিম্বাবুয়ের ঠিক পরেই।

বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন সূচকের শীর্ষ পাঁচটি স্থান দখল করেছে ইউরোপের দেশগুলো। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। এরপর যথাক্রমে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গের অবস্থান।

আটটি মানদণ্ডে মূল্যায়ন

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের এ সূচকে আটটি প্রধান মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের আইনের শাসনের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। মানদণ্ডগুলো হলো—সরকারি ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।

এ আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। তবে বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।

মৌলিক অধিকার রক্ষায় সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান

সূচকের তথ্য অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে দুর্বল। এ মানদণ্ডে ০.৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম।

অন্যদিকে, আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে উন্মুক্ত সরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪২ এবং অবস্থান ১২৮তম।

সামগ্রিকভাবে, আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি হলেও পাঁচটি মানদণ্ডে অবনতি এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় দুর্বল অবস্থান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরেছে।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত আইনের শাসন সূচক ২০২৬

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম 

মিরপুরে বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা তানভীর কারাগারে

মিরপুরে বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা তানভীর কারাগারে

প্রতীকী ছবি 
রাজধানীর মিরপুরে অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা মো. তানভীর আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তানভীর আহমেদ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তানভীর আহমেদকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যেভাবে বাসে আগুন দেওয়া হয়

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি আসন, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।

এ সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শাহ আলী মাজারের দিকে পালিয়ে যান।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

ঘটনার পর মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তানভীর আহমেদকে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হলে শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


সূত্র: মামলার এজাহার ও আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য, বাসস, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

মোহাম্মদপুরে নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক, ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪ নেতা কারাগারে

মোহাম্মদপুরে নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক, ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪ নেতা কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো চার আসামি হলেন— ছাত্রলীগের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. জালাল উদ্দিন (৩২), ভালুকা ছাত্রলীগের হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম হাসান ডালিম (৩২), একই ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য মো. মাহমুদুল হাসান মামুন (৩৪) এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য মো. আল-আমিন (৩৫)।

মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যেভাবে গ্রেফতার করা হয়

পুলিশ জানায়, বুধবার মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান এলাকার ‘সি’ ব্লকে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঢাকা উদ্যান মেইন রোডের হাজী দিল মোহাম্মদ অ্যাভিনিউয়ের ৩৯ নম্বর বাড়ির গ্যারেজে সরকারবিরোধী কার্যক্রম ও নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিলেন তাঁরা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত চলছে।

সূত্র: বাসস, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

২২ অক্টো, ২০২৬

লিগ্যাল এইডের এডিআরে ৫ লাখের বেশি উপকারভোগী, ৬৪ জেলায় ক্ষতিপূরণ আদায় ৪১৮ কোটি টাকার বেশি

লিগ্যাল এইডের এডিআরে ৫ লাখের বেশি উপকারভোগী, ৬৪ জেলায় ক্ষতিপূরণ আদায় ৪১৮ কোটি টাকার বেশি

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতিতে মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে উপকারভোগী হয়েছেন ৫ লাখ ২ হাজার ১৮১ জন। একই সঙ্গে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে ৪১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কার্যক্রমসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবার আওতায় প্রি-কেইস ও পোস্ট-কেইস পর্যায়ে মোট ৩ লাখ ২ হাজার ৭৪২টি মামলায় এডিআরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ লাখ ৫৭ হাজার ২২৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব নিষ্পত্তির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন ৫ লাখ ২ হাজার ১৮১ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অসচ্ছল ও আর্থিকভাবে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে প্রি-কেইস ও পোস্ট-কেইস পর্যায়ে মোট ৪২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮২ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৪১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭২ টাকা। অন্যদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬১০ টাকা।

সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ১৬ লাখের বেশি মানুষ

কার্যক্রমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি খরচে আইনি সেবা পেয়েছেন মোট ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন। এ সেবার আওতায় রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ, দেশের বিভিন্ন নিম্ন আদালত ও শ্রম আদালতের বিচারপ্রার্থী এবং কারাগারে থাকা অসচ্ছল বন্দিরা।

দেশের আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারিভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

যেভাবে দেওয়া হচ্ছে আইনি সহায়তা

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারেও সেবা পাওয়া যায়। হেল্পলাইনটির টোল-ফ্রি নম্বর ১৬৬৯৯।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে যেন কোনো বিচারপ্রার্থী আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সরকারি ব্যয়ে আইনগত সহায়তা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
সূত্র: বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের প্রকাশিত কার্যক্রমসংক্রান্ত এক প্রতিবেদন, বাসস, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
চেকের মামলায় আসামির চেক হারনোর দাবি প্রমাণে শুধু জিডি এন্ট্রি যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

চেকের মামলায় আসামির চেক হারনোর দাবি প্রমাণে শুধু জিডি এন্ট্রি যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

কলকাতা হাইকোর্ট | ছবি: সংগৃহীত 
চেকের ওপর স্বাক্ষর স্বীকার করা হলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১১৮(ক) ও ১৩৯ ধারার অধীনে আইনগত অনুমান কার্যকর হয়। এ অবস্থায় চেক হারিয়ে যাওয়ার দাবি কেবল পুলিশের জেনারেল ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রির ওপর নির্ভর করে প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে ওই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মামলায় বিচারপতি উদয় কুমারের একক বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, চেকের স্বাক্ষর স্বীকার করার পর আইনগত অনুমান খণ্ডনের দায় অভিযুক্তের ওপর বর্তায়। তবে এই দায় প্রমাণের মানদণ্ড হলো সম্ভাবনার ভারসাম্য—অর্থাৎ অভিযুক্তকে এমন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তাঁর প্রতিরক্ষা যুক্তিসংগত ও সম্ভাব্য বলে প্রতীয়মান হয়।

মামলার ঘটনা

মামলাটি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় চেক প্রত্যাখ্যানের অভিযোগে দায়ের করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কাপড়ের ব্যবসা ‘মধুকরী টেক্সটাইল’-এর প্রয়োজনে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধের জন্য দেওয়া চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপনের পর প্রত্যাখ্যাত হয়।

আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের দাবিতে নোটিশ পাঠানো হলেও অভিযুক্ত অর্থ পরিশোধ করেননি। তাঁর দাবি ছিল, তিনি অভিযোগকারীর কাছ থেকে কোনো ঋণ নেননি এবং তাঁকে কোনো চেকও দেননি। বরং তাঁর টাকার ব্যাগ হারিয়ে গিয়েছিল, যাতে একটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ছিল। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ব্যাংককে চেকের অর্থ পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

বিচারিক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরবর্তী সময়ে আপিল আদালতও দণ্ডাদেশ বহাল রাখেন, তবে কারাদণ্ড কমিয়ে সাত দিন নির্ধারণ করেন এবং ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তুহিন গঙ্গোপাধ্যায়।

সাধারণ ডায়েরির এন্ট্রি এককভাবে যথেষ্ট নয়

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, সাধারণ ডায়েরির এন্ট্রি মূলত তথ্যদাতার নিজের বক্তব্যের নথিভুক্তি। কেবল সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে—এ তথ্য থেকেই প্রমাণিত হয় না যে চেকটি বাস্তবে হারিয়ে গিয়েছিল কিংবা অন্য কেউ সেটির অপব্যবহার করেছে।

এ ক্ষেত্রে চেক হারানোর দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় অভিযুক্ত আইনগত অনুমান খণ্ডন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আদালত মনে করেন। ফলে নিম্ন আদালতগুলোর সিদ্ধান্তে কোনো বেআইনি পদক্ষেপ বা গুরুতর অসংগতি খুঁজে পায়নি হাইকোর্ট।

লিখিত চুক্তি বা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ না থাকলেই ঋণ অবৈধ নয়

৩০ হাজার টাকার মতো তুলনামূলক স্বল্প অঙ্কের ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি না থাকা কিংবা আয়কর বিবরণীতে ঋণের বিষয়টি উল্লেখ না থাকাকে এককভাবে ঋণটি আইনত অকার্যকর প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অভিযুক্ত এমন কোনো গ্রহণযোগ্য আপত্তি উত্থাপন করেননি, যা ঋণ দেওয়ার দাবিকে সন্দেহের মুখে ফেলতে পারে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম আলাদাভাবে অভিযুক্ত করা বাধ্যতামূলক নয়

মামলায় ‘মধুকরী টেক্সটাইল’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে অভিযুক্ত না করার বিষয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল। আদালত এ আপত্তি নাকচ করে বলেন, একক মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা নয়; এটি মূলত মালিকের ব্যবসায়িক নাম। তাই শুধু ব্যবসার নামকে আলাদাভাবে মামলার আসামি না করায় ফৌজদারি কার্যক্রম ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায় না।

এ ছাড়া আবেদনকারীকে একদিকে বেকার এবং অন্যদিকে ছোট কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে বর্ণনা করার অসংগতিকে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, যার কারণে প্রাথমিক পর্যায়েই পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা প্রয়োজন।

দণ্ডাদেশ বহাল, তবে কারাদণ্ড ভোগে অব্যাহতি

সব দিক বিবেচনায় কলকাতা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতগুলোর দণ্ডাদেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি। ফলে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য অতিরিক্ত দণ্ডের নির্দেশ বহাল থাকে। তবে অভিযুক্তকে সাত দিনের মূল কারাদণ্ড ভোগ করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার তথ্য

মামলা: তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

আদালত: কলকাতা হাইকোর্ট

বিচারপতি: উদয় কুমার

রায়ের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাসঙ্গিক আইন: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮, ১১৮(ক) ও ১৩৯ ধারা।

সূত্র: দ্য বার বুলেটিন

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম