সর্বশেষ

১৮ অক্টো, ২০২৬

ডেঙ্গুকে জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শঙ্কা, তদন্তের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ডেঙ্গুকে জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শঙ্কা, তদন্তের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
ডেঙ্গু ভাইরাসকে জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, অথবা ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো অতিরিক্ত শক্তিশালী ডেঙ্গু স্ট্রেন পতঙ্গের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক তদন্তের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ডেঙ্গুর বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি কেবল নিয়মিত মশা নিধনের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভাইরাসটির জিনগত বৈশিষ্ট্য, উৎস, সংক্রমণের ধরন ও বিস্তারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতে রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরোলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক তদন্ত পরিচালনা করা প্রয়োজন।

নোটিশে মো. মাহমুদুল হাসান মামুন আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার বিষয় তুলে ধরেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশনের (বিডব্লিউসি) অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১(১) ও অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী, নিজেদের সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের স্বার্থে জৈব অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক গবেষণা পরিচালনার অধিকার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫৪০ (২০০৪) নম্বর রেজুলেশনের আওতায় জৈব অস্ত্রের বিস্তার ও অপব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার বাধ্যবাধকতার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষায় সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ডেঙ্গু ভাইরাসের জিনগত ও ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে এর বিস্তারের পেছনে কোনো কৃত্রিম জৈব আক্রমণ বা মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে অবিলম্বে উচ্চ-সুরক্ষাসম্পন্ন বায়োলজিক্যাল ওয়েপন প্রিভেনটিভ রিসার্চ ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং এডিস মশা নিধনে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সর্বাত্মক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং নাগরিকদের জীবন রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার বাংলা

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম

১৭ অক্টো, ২০২৬

আইন কর্মকর্তা নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বন্ধ ও ত্যাগী আইনজীবীদের মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন আইনজীবীর

আইন কর্মকর্তা নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বন্ধ ও ত্যাগী আইনজীবীদের মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন আইনজীবীর

ছবি: সংগৃহীত 
রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি দুঃসময়ে দায়িত্ব পালন করা ত্যাগী আইনজীবীদের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর তিনি এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের অবদান নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং অধস্তন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী সমাজে অভিযোগ রয়েছে—কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী আইনজীবী নেতাদের জুনিয়র, চেম্বার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন কিংবা ঘনিষ্ঠজনেরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। এর বিপরীতে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক মামলা, হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া অনেক আইনজীবী যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আবেদনে বলা হয়, এমন অনেক আইনজীবী রয়েছেন, যারা নিজেরাও নিপীড়ন, হয়রানি কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য গুমের মতো গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তারপরও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আদালতে মামলা পরিচালনা করেছেন এবং কঠিন সময়ে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন।

আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী কোনো সিনিয়র আইনজীবীর ঘনিষ্ঠজন বা নির্দিষ্ট কোনো চেম্বারের সদস্য না হওয়ায় দুঃসময়ে ভূমিকা রাখা এসব আইনজীবীর অনেকে এখনো প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী সমাজে হতাশাও রয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, চেম্বারকেন্দ্রিক প্রাধান্য কিংবা অস্বচ্ছ সুপারিশের সুযোগ থাকা উচিত নয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এবং অধস্তন আদালতের পিপি-এপিপি নিয়োগে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাভিত্তিক ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।

একই সঙ্গে দুঃসময়ে মামলা-হামলা, নিপীড়ন ও নানা ঝুঁকি উপেক্ষা করে দল, গণতন্ত্র এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থাকা ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ ও দক্ষ আইনজীবীদের অবদান যথাযথভাবে যাচাই ও মূল্যায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।


বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

সূত্র: ঢাকা পোস্ট (১৭.১০.২০২৬)

আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, প্যারালিগ্যাল সেবার নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত আগামী দিনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা বিনির্মাণে প্যারালিগ্যাল অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালত ও কারাগারের ওপর চাপ কমাতেও প্যারালিগ্যালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া গেলে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য হবে।

এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য জার্মান সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জিআইজেডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনি সেবা সহজীকরণ এবং প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চলমান উদ্যোগে তাদের অব্যাহত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনে প্যারালিগ্যাল সেবার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে প্যারালিগ্যালদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, সরকার ও এনজিওর যৌথ অংশীদারত্ব, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, সেবার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং টেকসই অর্থায়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, লিগ্যাল এইড সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ ছাড়া মালাউই, ফিলিপাইন ও কিরগিজস্তানের বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ দেশের বিচারব্যবস্থায় প্যারালিগ্যাল সেবা অন্তর্ভুক্ত করার অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরেন।


বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

সূত্র: বাসস (১৭.১০.২০২৬)

ডিজঅনার স্লিপ না থাকলেই 'চেকের মামলা' ব্যর্থ হয়ে যায় না, অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণও যথেষ্ট: হাইকোর্ট

ডিজঅনার স্লিপ না থাকলেই 'চেকের মামলা' ব্যর্থ হয়ে যায় না, অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণও যথেষ্ট: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
চেক ডিজঅনারের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকের ‘ডিজঅনার স্লিপ’ বা রিটার্ন মেমো গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেটি একাই চেক ডিজঅনার প্রমাণের একমাত্র মাধ্যম নয় বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, অন্যান্য গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণে চেক উপস্থাপন ও ডিজঅনারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে শুধু ডিজঅনার স্লিপ অনুপস্থিত থাকার কারণে ফৌজদারি মামলা ব্যর্থ হতে পারে না।

সম্প্রতি দেওয়া এক রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ এ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত ক্রিমিনাল আপিল নং- ৬৮৬৭/২০১৮, নিজাম উদ্দিন মাহমুদ বনাম নাজিনা হাসিন, এ আপিল মঞ্জুর করে আসামি নাজিনা হাসিনের খালাসের রায় বাতিল করেন। একই সঙ্গে তাকে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায়টি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেওয়া হয়। এবং সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটপ প্রকাশিত হয় ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার ঘটনা

মামলার বাদী নিজাম উদ্দিন মাহমুদ স্টক ট্রেডিং ও স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আসামির সঙ্গে বিভিন্ন লেনদেনের পর তার কাছে বাদীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা পাওনা হয়। পরে ২৬ এপ্রিল ২০১২ উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। ওই সমঝোতার ভিত্তিতে আইনগতভাবে আদায়যোগ্য দায় পরিশোধের জন্য আসামি বাদীকে পাঁচটি চেক দেন।

এর মধ্যে ১০২৮০৮১ নম্বর চেকটি ছিল ২০ মে ২০১২ তারিখের এবং এর মূল্য ছিল ২৫ লাখ টাকা। চেকটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে ১১ সেপ্টেম্বর অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে তা ডিজঅনার হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়, যা ২৫ সেপ্টেম্বর তার ঠিকানায় পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় ২১ নভেম্বর ২০১২ মামলা করা হয়।

ট্রায়াল কোর্টে খালাস

মামলায় বাদী ও আসামি—উভয় পক্ষ একজন করে সাক্ষী উপস্থাপন করেন। বিচার শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন জয়েন্ট সেশনস জজ, প্রথম আদালত ১৪ মার্চ ২০১৮ আসামিকে খালাস দেন। আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে বাদী হাইকোর্টে আপিল করেন।

আপিল চলাকালে চেকের ডিজঅনার স্লিপ নিয়ে বিষয়টি সামনে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সেখানে ব্যাংক কর্তৃক সত্যায়িত ডিজঅনার স্লিপ এবং মূল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করা হয়। আসামি ওই অতিরিক্ত সাক্ষ্যের সময় উপস্থিত থাকলেও বাদীকে জেরা করেননি এবং প্রদর্শিত নথির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তিও জানাননি।

ডিজঅনার স্লিপ হারিয়ে গেলেও প্রমাণ নষ্ট হয় না

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, বাদী সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ডিজঅনার স্লিপ প্রদর্শনী হিসেবে দাখিল করেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী সেটি প্রদর্শনী-২ হিসেবে চিহ্নিতও হয়েছিল। পরবর্তীতে মূল কাগজটি নথিতে পাওয়া না গেলেও, আগে আদালতে তা দাখিল ও প্রদর্শিত হয়েছিল—এই প্রমাণকে শুধু পরবর্তী সময়ে কাগজটি অনুপস্থিত থাকার কারণে অগ্রাহ্য করা যায় না।

আদালত আরও বলেন, মূল ব্যাংক স্টেটমেন্টে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট চেকটি ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার হয়েছিল। ফলে শুধু ডিজঅনার স্লিপের অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ট্রায়াল কোর্টের খালাসের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়।

আইনি নোটিশের সার্ভিস নিয়েও আপত্তি টেকেনি

আসামি নাজিনা হাসিন তার ঠিকানা হিসেবে ঢাকার মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবনের ৩১১ ও ৩১২ নম্বর কক্ষের ঠিকানা উল্লেখ করেছিলেন। বাদী ওই ঠিকানাতেই নিবন্ধিত ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠান এবং অ্যাকনলেজমেন্ট ডিউ থেকে নোটিশ প্রাপ্তির প্রমাণ পাওয়া যায়।

হাইকোর্ট বলেন, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ২৭ ধারার অধীনে সঠিক ঠিকানায় নিবন্ধিত ডাকযোগে পাঠানো নোটিশ যথাযথভাবে সার্ভ হয়েছে বলে আইনগত অনুমান সৃষ্টি হয়। আসামি ওই অনুমান খণ্ডনের মতো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

‘সিকিউরিটি চেক’ দাবি যথেষ্ট নয়

আসামির দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট তিনটি চেক নিরাপত্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তবে জেরায় তিনি পাঁচটি চেক দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং বাদীর সঙ্গে সমঝোতার পর এসব চেক দেওয়ার বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। এছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আসামির দেওয়া একটি প্রতিনিধিত্বপত্রেও পাঁচটি চেক দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।

হাইকোর্ট বলেন, চেকের স্বাক্ষর ও ইস্যুর বিষয়টি স্বীকার বা প্রমাণিত হলে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট-এর ১১৮(ক) ধারার আইনগত অনুমান কার্যকর হয়। শুধু মৌখিকভাবে চেকটি ‘সিকিউরিটি চেক’ ছিল বা কোনো দেনা ছিল না—এমন দাবি করলেই ওই আইনগত অনুমান খণ্ডিত হয় না; এর জন্য গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।

ডিজঅনার স্লিপ একমাত্র প্রমাণ নয়

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, ব্যাংকের ডিজঅনার স্লিপ বা রিটার্ন মেমো চেক ফেরত আসার বিষয়টি প্রমাণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও এটি একমাত্র বা অপরিহার্য প্রমাণের মাধ্যম নয়।

আদালত বলেন, ধারা ১৩৮-এর মামলায় মূল বিষয় হলো—চেক উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, তা ডিজঅনার হয়েছে কি না, আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করা হয়নি কি না। এসব বিষয় অন্য গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হলে শুধু ডিজঅনার স্লিপ না থাকার কারণে মামলাটি ব্যর্থ হবে না।

আদালতের মতে, ট্রায়াল কোর্ট ডিজঅনার স্লিপ প্রদর্শিত না হওয়ার বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে পুরো সাক্ষ্য-প্রমাণের সামগ্রিক প্রভাব বিবেচনা করেনি। এ ধরনের পদ্ধতি প্রমাণ মূল্যায়নে অতিরিক্ত টেকনিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গির শামিল।

খালাসের রায় বাতিল, ছয় মাসের কারাদণ্ড

সবশেষে হাইকোর্ট বাদী-আপিলকারী চেকের দায়, চেক উপস্থাপন, ডিজঅনার, আইনি নোটিশ এবং নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করার বিষয় প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত দেন। ট্রায়াল কোর্টের খালাসের রায়কে আইনগতভাবে টেকসই নয় বলে উল্লেখ করে তা বাতিল করা হয়।

ফলে আপিল মঞ্জুর করে নাজিনা হাসিনকে ধারা ১৩৮-এর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ বাদীকে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানমের পদত্যাগ

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানমের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত 
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) শিউলি খানম পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

জানা গেছে, শিউলি খানমের পদত্যাগপত্র অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার পর তা সলিসিটরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বেলায়েত হোসেন পদত্যাগ করেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর একযোগে পদত্যাগ করেন পাঁচ আইন কর্মকর্তা। তারা হলেন—অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দিকা ও প্রোজ্জ্বল চাকমা।

এর দুই দিন পর, ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাদিয়া আফরিন শাপলা। এছাড়া সম্প্রতি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নূরুল করিমও পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আইনমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এর আগে গত জুন মাসে সরকারের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত-সমর্থিত সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।


সূত্র: ঢাকা পোস্ট


দানের পক্ষে কোন দলিল বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলে মৌখিক বক্তব্যে মালিকানা প্রতিষ্ঠা হয় না: হাইকোর্ট

দানের পক্ষে কোন দলিল বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলে মৌখিক বক্তব্যে মালিকানা প্রতিষ্ঠা হয় না: হাইকোর্ট

১৯৩৫ সালে কথিত দান কারা জমি উত্তরাধিকারীদের ফেরতের নির্দেশ হাইকোর্টের
১৯৩৫ সালে কথিত দানের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করলেও তা প্রমাণ করতে না পারায় বিবাদীদের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দানের পক্ষে কোনো দলিল বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকলে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই দানের ওপর মালিকানা বা দখল প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ সিভিল রিভিশন নং- ২৯৮০/২০২২ মামলায় গত ২৬ জুলাই ২০২৬ এ রায় দেন। মামলাটি ছিল মো. জয়নাল মোল্লা ও অন্যন্য বনাম গোলাম মোস্তফা মৃধা ও অন্যান্য।

মামলার নথি অনুযায়ী, কাসেম উদ্দিন মোল্লা ৭৭ শতাংশ ও ২৪ শতাংশসহ সংশ্লিষ্ট জমির সিএস রেকর্ডভুক্ত মালিক ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর একমাত্র ছেলে আবদুল জলিল মোল্লার উত্তরাধিকারীরা জমির মালিকানা দাবি করেন। তবে এসএ রেকর্ডে আবদুল গনি মৃধা ও আবদুল জলিল মোল্লার নামে জমি রেকর্ড হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়।

বিবাদীদের দাবি ছিল, কাসেম উদ্দিন মোল্লা ১৯৩৫ সালে জমি আবদুল জলিল মোল্লা ও আবদুল গনি মৃধার মধ্যে সমান অংশে দান করেছিলেন। এরপর তাঁরা জমির দখলে ছিলেন এবং সেই ভিত্তিতে এসএ ও আরএস রেকর্ডও প্রস্তুত হয়।

তবে হাইকোর্ট দেখতে পান, বিবাদীরা কথিত দানের কোনো দলিল বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি বিবাদীপক্ষের সাক্ষী ডিডব্লিউ-১ স্বীকার করেন যে, কথিত দানের বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো জ্ঞান নেই এবং দানের পক্ষে কোনো দলিল বা প্রমাণও নেই।

আদালত আরও বলেন, বিবাদীরা কাসেম উদ্দিন মোল্লার কন্যা হিসেবে পেটা ও পাচির পরিচয়ও প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে উভয় নিম্ন আদালতও একই ধরনের তথ্যগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, বিবাদীরা যেহেতু ১৯৩৫ সালের দানের দাবি প্রমাণ করতে পারেননি, তাই ওই দানের ভিত্তিতে তাঁদের দখল থাকার দাবিও গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে জমির খাজনা পরিশোধের কোনো রসিদও কোনো পক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি।

আদালত আরও বলেন, এসএ খতিয়ান ৯৮/১৫১৫ এবং আরএস খতিয়ান ১৫২৩/১৭১০ আবদুল গনি মৃধার নামে প্রস্তুতের কোনো বৈধ ভিত্তি ছিল না। আপিল আদালত উভয় পক্ষের প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য ভুলভাবে বিবেচনা করে বিবাদীদের দখলের বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

হাইকোর্ট বলেন, বাদীরা জমির স্বত্ব ও দখল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে তাঁদের স্বত্বের ঘোষণা ও দখল নিশ্চিত করার ডিক্রি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ অবস্থায় আপিল আদালতের মামলা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য—এমন সিদ্ধান্তও বাতিল করা হয়।

এর ফলে হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট করে আপিল আদালতের রায় ও আদেশ বাতিল করেন এবং ট্রায়াল কোর্টের বাদীদের স্বত্ব ও দখলের পক্ষে দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে মামলায় কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি।


বিডি ল' পোস্ট/মাসুম



আদালতের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননার শামিল: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আদালতের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননার শামিল: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করা সরকারি আইনজীবীদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের সময় তাদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা দুর্ব্যবহার করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

এক অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলির (এজিএ) সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়ে উত্তর প্রদেশের পুলিশ মহাপরিচালককে (ডিজিপি) একটি সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সার্কুলারে সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক করে জানাতে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীরা কোনো কর্মকর্তাকে অবহিত করার সময় তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজমগড়ের এসএসপির জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) রাজেশ কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে এক এজিএর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারপতি অরুণ কুমার সিং দেশওয়াল ওই পিআরওকে আদালতের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে আদালতের হেফাজতে রাখার পর মুক্তি দেওয়া হয়।

আদালত বলেন, অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলিরা আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে বিচারিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের আদেশ পালনের বিষয়ে তারা যখন কোনো কর্মকর্তাকে অবহিত করেন, তখন তারা আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।

আদালত আরও বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা—এমনকি রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাও—আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে দায়িত্ব পালনরত সরকারি আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।

এদিকে আজমগড়ের এসএসপি আদালতকে জানান, তিনি রাজেশ কুমার সিংকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন এবং পিআরও পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আদালত এসএসপির পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম