সর্বশেষ
১৯ অক্টো, ২০২৬
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর ‘দ্রুত আদায়ের’ নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ
![]() |
| কোলাজ ছবি |
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দ্রুত আদায়ের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের ওই অংশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের ‘দ্রুত আদায়ের’ নির্দেশনা স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর আদায়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। করদাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির করা পৃথক দুটি রিট খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায় দুটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট
১৮ অক্টো, ২০২৬
সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় রিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন না থাকলে জারি মামলা স্থগিতের সুযোগ নেই: হাইকোর্ট
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
সিভিল রিভিশন নং- ৬৮৯/২০২০, জামাল হোসেন বনাম মাবিয়া খাতুন ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ কার হয় ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।
মামলার পটভূমি
বাদী ২০১৬ সালে অদার স্যুট নং- ১১৪/২০১৬ দায়ের করে দাবি করেন, ২০০২ সালের অদার স্যুট নং ৮৩/২০০২-এ ২৪ এপ্রিল ২০০৭ দেওয়া একতরফা রায় ও ৩০ এপ্রিল ২০০৭ স্বাক্ষরিত ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়। তার বক্তব্য ছিল, পূর্বের মামলায় জমির প্রকৃত মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয় গোপন করে এবং তাকে যথাযথভাবে অবহিত না করে একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, পূর্বের মামলার ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য এক্সিকিউশন কেস নং- ০১ অব ২০১৬ দায়ের করা হলে বাদী সেটির কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট জজ, সাতকানিয়া, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে এক্সিকিউশন মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন হলে অতিরিক্ত জেলা জজ, চট্টগ্রাম ৩০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করে দেন।
এরপর বাদী হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। তার যুক্তি ছিল, বর্তমান মামলার বিষয়বস্তু এবং এক্সিকিউশন মামলার বিষয় একই; এক্সিকিউশন চলতে থাকলে পরবর্তী মামলাটি কার্যত নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তিনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট বলেন, সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় রিভিশনের ক্ষেত্রে আদালত মূলত দেখতে পারেন—গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনি প্রশ্নে ভুল হয়েছে কি না এবং সেই ভুলের কারণে শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে কি না।
আদালত লক্ষ্য করেন, বর্তমান বাদী পূর্বের মামলার বিচারাধীন অবস্থায় পূর্বের মামলার ডিক্রিদারের কাছ থেকে জমি দাবি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান মামলায় তিনি জমির মালিকানা ঘোষণা বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাননি; তার প্রার্থনা ছিল শুধু পূর্বের ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এমন ঘোষণা।
এই পরিস্থিতিতে নিম্ন রিভিশন আদালত এক্সিকিউশন মামলা স্থগিতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে হাইকোর্ট মত দেন। বাদী নিম্ন রিভিশন আদালতের আদেশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে ভুল দেখাতে পারেননি।
আদেশ
হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জড করে দেন এবং কোনো খরচের আদেশ দেননি। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
আইনি শিক্ষা
সিপিসির ১১৫(৪) ধারার রিভিশন কোনো মামলার পুনরায় পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ নয়। নিম্ন আদালতের আদেশে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে এমন ভুল থাকতে হবে, যার ফলে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে। শুধু কোনো পক্ষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বা পূর্বের ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এমন দাবি যথেষ্ট নয়। মামলার প্রকৃতি ও প্রার্থনার ধরন বিবেচনায় উপযুক্ত আইনি ভিত্তি না থাকলে চলমান এক্সিকিউশন কার্যক্রম স্থগিত করার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম
সিপিসির ১৫১ ধারায় পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতি প্রমাণে ব্যর্থ হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
এ বিষয়ে হাইকোর্টের সিভিল রিভিশন নং ৪৮৯৪/২০২২, আজিজুল হক বনাম আবদুল গফুর ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মামলাটি সিপিসির ১১৫(৪) ধারার অধীনে দায়ের করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।
পটভূমি
কিশোরগঞ্জের একটি বণ্টন মামলায় বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতিতে প্রাথমিক ডিক্রি হয়। এর বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ অর্ডার ৯, রুল ১৩ অনুযায়ী একটি বিবিধ মামলা করেন। কিন্তু শুনানির সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় মামলাটি ডিফল্টে খারিজ হয়।
পরবর্তীতে তিনি সিপিসির ১৫১ ধারা অনুযায়ী খারিজের আদেশ বাতিল ও বিবিধ মামলাটি পুনরুদ্ধারের আবেদন করেন। সহকারী জজ ২ হাজার টাকা খরচ ধার্য করে আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী সময়ে খরচ জমা দেওয়ার পর একতরফা ডিক্রিও বাতিল করে মূল বণ্টন মামলাটি পুনরায় মূল নম্বরে ফিরিয়ে নেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রিভিশন করলে অতিরিক্ত জেলা জজ, কিশোরগঞ্জ রিভিশন মঞ্জুর করে ট্রায়াল কোর্টের আদেশ বাতিল করেন। এরপর বিবাদী পক্ষ হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, খারিজ হওয়া বিবিধ মামলা পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণত আপিলের পথ খোলা রয়েছে। অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি), সিপিসি অনুযায়ী এ ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।
আদালত আপিলেট ডিভিশনের আবদুল কাদের চৌধুরী বনাম নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বলেন, ডিফল্টে বিবিধ মামলা খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি)-এর অধীনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সিপিসির ১৫১ ধারার প্রয়োগ সব পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অত্যন্ত বিরল ও বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
এই মামলায় ১৫১ ধারা প্রযোজ্য হলো না
হাইকোর্ট দেখতে পান, আবেদনকারী নিজেই মামলাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। তিনি শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়মতো খরচও পরিশোধ করেননি। ফলে তিনি এমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি দেখাতে পারেননি, যার ভিত্তিতে ১৫১ ধারায় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়।
আদালত আরও বলেন, সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় হস্তক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে নিম্ন আদালতের ভুল, যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয়েছে—এমন পরিস্থিতি থাকতে হবে। বর্তমান মামলায় সে ধরনের কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
আদেশ
হাইকোর্ট রুলের কোনো মেরিট খুঁজে না পেয়ে তা খারিজ (ডিসচার্জড) করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশও প্রত্যাহার করা হয় এবং খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।
আইনি শিক্ষা
রায়ের মূল শিক্ষা হলো—সিপিসির ১৫১ ধারা আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার উৎস হলেও এটি কোনো বিকল্প আপিলের পথ নয়। ডিফল্টে খারিজ হওয়া অর্ডার ৯, রুল ১৩-এর বিবিধ মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি)-এর অধীনে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে একেবারে বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ১৫১ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকতে পারে।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
অবকাশকালীন ছুটি শেষে সুপ্রিম কোর্ট খুলছে ২৫ অক্টোবর, আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান বিচারপতি
![]() |
| কোলাজ ছবি |
অবকাশকালীন ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে প্রধান বিচারপতি ও উভয় বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আইনজীবীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
১৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনসংলগ্ন ইনার কোর্ট ইয়ার্ডের (বাগান) এলাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকবেন।
এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি
বাদী-বিবাদী অভিন্ন হলেও আগের মামলার বিষয় ভিন্ন হলে রেস জুডিকাটা প্রযোজ্য নয়: হাইকোর্ট
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান এই সিদ্ধান্ত দেন। সিভিল রিভিশন নম্বর ৩৩৪৩/২০০৯, মো. জয়ধর আলী বনাম করমজান বিবি মামলায় ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া রায়ে আদালত এ পর্যবেক্ষণ করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।
পটভূমি
মামলার সূত্রপাত টাইটেল স্যুট নম্বর ৮১/২০০৩ থেকে। বাদী করমজান বিবি ১৯৮৯ সালের একটি মামলায় দেওয়া উপহার দলিল এবং ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৩ সালের একতরফা ডিক্রি বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমি বণ্টনের দাবিতে মামলা করেন। এর আগে একই জমি নিয়ে টাইটেল স্যুট নম্বর ৮২/১৯৯৫-এ বণ্টন মামলা হয়েছিল, যেখানে করমজান বিবি ও বর্তমান বিবাদী জয়ধর আলী উভয়েই বাদী ছিলেন।
পরবর্তী মামলায় করমজান বিবি দাবি করেন, জয়ধর আলী তার কাছ থেকে বিভিন্ন কাগজে টিপসই নিয়ে জাল হেবা দলিল তৈরি করেছেন। অন্যদিকে জয়ধর আলী দাবি করেন, আগের মামলায় করমজান বিবি হলফনামার মাধ্যমে হেবা দলিল স্বীকার করেছিলেন এবং বর্তমান মামলা দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার রেস জুডিকাটার কারণে বাধাগ্রস্ত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট বলেন, দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো একই পক্ষের মধ্যে একই বিষয় বারবার বিচার হওয়া বন্ধ করা এবং মামলার চূড়ান্ততা নিশ্চিত করা। কোনো বিষয় পূর্ববর্তী মামলায় একই পক্ষের মধ্যে সরাসরি ও মৌলিকভাবে বিচার হয়ে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে তা পুনরায় উত্থাপন করা যায় না।
তবে বর্তমান মামলায় আগের টাইটেল স্যুট নম্বর ৮২/১৯৯৫ ছিল মূলত জমির বণ্টন সংক্রান্ত মামলা। সেখানে বাদী করমজান বিবি ও বিবাদী জয়ধর আলী উভয়েই বাদী ছিলেন। সেই মামলায় তাদের পারস্পরিক বিরোধ চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছিল—এমন দাবি করার সুযোগ নেই বলে আদালত উল্লেখ করেন।
আদালত আরও বলেন, বর্তমান মামলায় করমজান বিবি জয়ধর আলীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। ফলে আগের বণ্টন মামলার বিষয় এবং বর্তমান মামলায় দলিল জালিয়াতির অভিযোগের বিষয় এক নয়। তাই রেস জুডিকাটার নীতি প্রয়োগের কোনো ভিত্তি নেই।
আদেশ
হাইকোর্ট জয়ধর আলীর দায়ের করা সিভিল রিভিশনে কোনো আইনগত ভিত্তি খুঁজে না পেয়ে তা খারিজ/ডিসচার্জ করেন এবং খরচসহ লিভ/রুল ডিসচার্জ করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
আদালত টাইটেল স্যুট নং- ৮১/২০০৩ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রায়াল কোর্টকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জারি মামলা নং- ০২/২০০২ এবং জারি মামলা নং- ০৩/২০০৩ মামলার কার্যক্রম টাইটেল স্যুট নম্বর ৮১ অব ২০০৩ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইনি শিক্ষা
রেস জুডিকাটা প্রযোজ্য হওয়ার জন্য শুধু পক্ষগুলো একই হওয়া যথেষ্ট নয়। আগের মামলায় যে বিষয়টি সরাসরি ও মৌলিকভাবে বিচার হয়ে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, পরবর্তী মামলার বিরোধও সেই একই বিষয়ের হতে হবে। আগের মামলা ও পরবর্তী মামলার বিষয়বস্তু ও বিরোধ আলাদা হলে দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার রেস জুডিকাটার বাধা সৃষ্টি হবে না।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
নারীর ওপর শুয়ে মুখ চেপে ধরলেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়, প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ থাকতে হবে: পাটনা হাইকোর্ট
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ভারতের পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি সন্দীপ কুমারের একক বেঞ্চ ২০১৩ সালের ২৯ জুলাইয়ের দণ্ডাদেশ ও একই বছরের ১ আগস্টের সাজা ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সন্তানদের নিয়ে বসবাসকারী এক বিধবা নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে বাতি নিভিয়ে তাঁর ওপর শুয়ে পড়েন এবং মুখ চেপে ধরেন। ওই নারী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন।
পরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারায় তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং ৪৪৮ ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা একই সঙ্গে চলার কথা ছিল।
অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগকারী নারীর বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট সমর্থনকারী প্রমাণ নেই। এছাড়া যেসব স্থানীয় ব্যক্তি অভিযুক্তকে ধরে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদেরও আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি।
হাইকোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল—প্রমাণিত ঘটনাগুলো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারার অধীনে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে, নাকি নারীর শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের জন্য ৩৫৪ ধারার আওতায় পড়বে।
আদালত বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টার পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আমান কুমার মামলার সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন, অনেক সময় অশালীন বা অনৈতিক আচরণকে অতিরঞ্জিত করে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণের জন্য এমন উপাদান থাকতে হবে, যা থেকে বোঝা যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সব প্রতিরোধ উপেক্ষা করেও যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়েছিলেন।
হাইকোর্ট আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করেছিলেন কিংবা এমন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা বাধা না পেলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আদালত বলেন, “অভিযুক্ত নিজে বা অভিযোগকারী নারীকে বিবস্ত্র করেছিলেন কিংবা যৌন প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ না থাকলে বলা যায় না যে তিনি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করে এমন কোনো কাজ করেছিলেন, যা বাধাগ্রস্ত না হলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো।”
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়া, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং ১৩ বছরেরও বেশি সময় জামিনে থাকার সময়ে তিনি জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি—এসব বিষয়ও আদালত বিবেচনায় নেন।
এরপর হাইকোর্ট তাঁর সাজা পরিবর্তন করে ইতোমধ্যে যতদিন কারাগারে ছিলেন, সেই সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করেন।
সূত্র: লাইভ ল’
BD Law Post / মাসুম