আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১০ অক্টো, ২০২৬

শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই

যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অবদান; আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী, বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বৈষম্যের অভিজ্ঞতা থেকে ন্যায়বিচারের লড়াই:

নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে। বর্ণবৈষম্যের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা পিল্লাই পরবর্তী সময়ে আইন পেশায় যুক্ত হন। নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে ওঠে তার কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

কর্মজীবনের শুরু থেকেই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ও মানবাধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বিচারক হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত থেকে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গন:

পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততা তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে।

যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতিতে ভূমিকা:

রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও সংঘাতের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আইনি অগ্রগতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ঐতিহাসিক মামলার বিচারপ্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল। এসব কাজের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, ভুক্তভোগীদের অধিকার এবং অপরাধের দায় নির্ধারণের প্রশ্নে তার অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসনের গুরুত্ব:

শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। ন্যায়বিচার ছাড়া টেকসই শান্তি অর্জন কঠিন—আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধারণা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সহিংসতার শিকার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয়কেই আইনের অধীন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পিল্লাই। তার কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া।

আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক আইনকে সুরক্ষা দেওয়া, এর বিকাশে অবদান রাখা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দ্যা বিজনেস স্টান্ডার্ড বাংলা

৪ অক্টো, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

কোলাজ ছবি 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসির পাশাপাশি আদালটির সঙ্গে সহযোগিতাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিও পড়তে পারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে ব্যবসায়িক বা আর্থিক লেনদেনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আদালটির দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দ্য টাইমসকে এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যুদ্ধাপরাধের বিচারের সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিসির সমর্থকদের আশঙ্কা, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আদালটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আদালটি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; বিষয়টি এখনো আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর্যায়েই রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (OFAC) জানিয়েছে, এরপর ২০২৬ সালেও আইসিসি-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আগস্টে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতের ১৮ বিচারকের মধ্যে ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর এবং একজন কর্মী রয়েছেন। আইসিসি এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, এর ফলে আদালটির স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনছে আইসিসি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে আদালটি ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান এএক্সার (AXA) সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে এবং নতুন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আইসিসির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।


তথ্যসূত্র: তাস, দ্য টাইমস ও রয়টার্স


৩ অক্টো, ২০২৬

এক মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়া যাবে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

এক মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়া যাবে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট 
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, কোনো আসামি একটি মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার না হয়ে থাকলে সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। একইভাবে, একটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়ার ক্ষেত্রে তা স্বয়ংক্রিয় বাধা সৃষ্টি করে না।

মামলা: রাম সিং বনাম দিল্লি সরকারের পক্ষে রাষ্ট্র ও অপরজন
বিচারপতি: বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোই
রায়ের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মামলার পটভূমি:

রাম সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলায় তদন্ত চলছিল। একই সময়ে তিনি পৃথক একটি অর্থপাচার মামলায় জড়িত থাকার কারণে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন। ওই মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে করা বিশেষ অনুমতির আবেদনও খারিজ হয়।

রাম সিংয়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেওয়া হয় যে, অন্য একটি মামলায় আগাম জামিন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে বর্তমান মামলায় আগাম জামিন চাওয়ার অধিকার নষ্ট হয় না। কারণ, বর্তমান মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হননি এবং এই মামলার পরিস্থিতি পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত:

সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেন এবং পূর্বের ধনরাজ আসওয়ানি মামলায় নির্ধারিত আইনি নীতির আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করেন।

আদালত বলেন, একটি মামলায় কোনো ব্যক্তি হেফাজতে থাকলেও অন্য একটি পৃথক মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, এক মামলায় হেফাজতে থাকা বা অন্য মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়া—অন্য মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করার ক্ষেত্রে নিজে থেকেই বাধা সৃষ্টি করে না।

আদালতের আরোপিত শর্ত:

সুপ্রিম কোর্ট রাম সিংকে তদন্তে সহযোগিতা এবং প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এছাড়া—

  • প্রয়োজন হলে বিতর্কিত নথির সঙ্গে তুলনার জন্য নমুনা হাতের লেখা ও স্বাক্ষর দিতে হবে;
  • নির্ধারিত তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হতে হবে;
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামিনের মুচলেকা দিতে হবে;
  • কোনো সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানো বা প্রভাবিত করা যাবে না;
  • কোনো প্রমাণ নষ্ট বা বিকৃত করা যাবে না; এবং
  • আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগ করা যাবে না।

রায়ের মূল আইনি শিক্ষা:

এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন সংশ্লিষ্ট মামলার নিজস্ব পরিস্থিতি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে।

তাই, কোনো আসামি অন্য একটি মামলায় হেফাজতে আছেন বা সেখানে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে—শুধুমাত্র এই কারণে অন্য মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন অগ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে না।

মামলার মূলনীতি:
“এক মামলায় হেফাজতে থাকা অন্য মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত করে না।”


বিডিএলপিবি/মাসুম

৮ সেপ, ২০২৬

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

কোলাজ ছবি 
গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে মুমতাজ বেগমকে ২ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মুমতাজ বেগম একজন বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী, যাঁকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এই আদেশে বেগমকে বিদেশী নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বেগমের পরিবারের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানির সময় বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পিটিশন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরই পরিবারটি জানতে পারে যে তাঁকে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে।

নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যেভাবে বেগমের মামলাটি পরিচালনা করেছে, আদালত তার তীব্র সমালোচনা করে এবং পর্যবেক্ষণ করে যে, নথি থেকে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে "আইনের প্রতি বিদ্বেষ" স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়।

হাইকোর্টের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর, গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনাল বেগমকে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করে।  হাইকোর্ট এর আগে জানিয়েছিল যে, ট্রাইব্যুনাল তার দাখিল করা সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করেনি।

বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, বেগমকে ৩০শে মে-র আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং এর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ফলে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ পাননি। তার গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং পুলিশের দেওয়া বিবরণ নিয়েও বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে।

আদালত রায় দিয়েছে যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার সংক্রান্ত আদর্শ কার্যপ্রণালীর (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) “সরাসরি লঙ্ঘন” হয়েছে। এই কার্যপ্রণালী অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কার করার আগে তাকে অবশ্যই উপলব্ধ আইনি প্রতিকারগুলো শেষ করার সুযোগ দিতে হবে।

বেঞ্চ বলেছে, ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে বেগমকে রাজ্য প্রশাসন বাধা দিয়েছে। তাই আদালত আসাম সরকারকে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে ট্রাইব্যুনালের ৩০ মে-র আদেশটি কখন ও কোন তারিখে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছে। আদালত বলেছে, প্রয়োজনে মতামতটি কখন লেখা হয়েছিল তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটার জব্দ করা যেতে পারে।

বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, জেলা পুলিশ সুপাররা যেন নিশ্চিত করেন যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের হেফাজতে নেওয়ার আগে যেন ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়। ওই ব্যক্তিকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও অবশ্যই জানাতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস (০৭.০৯.২০২৬)

১১ আগ, ২০২৬

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের দায়ে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত কর্তৃক অনুপস্থিত থাকা বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়।

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আত্মীয় আতেফ নাজিব। মাহেরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাশার আল-আসাদ ও তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ দুজনই রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। ফলে মঙ্গলবারের রায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে আতেফ নাজিবের ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি সে সময় দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের পাশাপাশি ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর ঘটনাতেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় নাজিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কয়েদির পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়।

সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বিচারকে পুরোনো শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ রয়েছে, তারই একটি অংশ এই বিচারের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

বাশার আল-আসাদ প্রায় ২৪ বছর সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর শাসনামলে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও পরে গৃহযুদ্ধ দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে ওঠে।

সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০১১ সালে। ওই বছর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আন্দোলনটি ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্রমে সেই আন্দোলন বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরে দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। এই সংঘাত সিরিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনকে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত করে।

দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। সরকারবিরোধী বাহিনীর অগ্রযাত্রা তীব্র হলে বাশার আল-আসাদ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে দামেস্ক ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং আসাদ সরকারের পতন হয়।

ক্ষমতা হারানোর পর রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সেই অবস্থাতেই সিরিয়ার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো।
বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে এই রায় সিরিয়ার রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কোনো শাসকের পতনের পর তাঁর আমলের কর্মকাণ্ডের বিচার কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আল জাজিরা (১১.০৮.২০২৬)

২ জুল, ২০২৬

গরু জবাই নিষিদ্ধের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতির সরকার

গরু জবাই নিষিদ্ধের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতির সরকার

ছবি: সংগৃহীত 

ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের জারি করা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে ঈদুল আজহার সময় প্রকাশ্যে পশু কুরবানি বন্ধের দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

রায়ে বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণ ১৯৭৬ সালে জারি করা একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন। তাঁদের মতে, গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ওই আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।তবে হাইকোর্টের এই নির্দেশনার বিরোধিতা করেছে তামিলনাড়ু সরকার।

তাদের দাবি, রাজ্যে গরু জবাই-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের সঙ্গে আদালতের নির্দেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি প্রচলিত আইনকে অতিক্রম করেছে।সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে রাজ্য সরকার বলেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ 'তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮'-এর পরিপন্থি। ওই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজননক্ষমতা হারানো গরু বা বাছুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে হাইকোর্ট কার্যত রাজ্যের আইনসভার ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করেছে। সরকারের ভাষ্য, উচ্চ আদালত এ ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৫ জুন, ২০২৬

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বুধবার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত সাইবার ক্রাইম থানায় এই এফআইআর দায়ের করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি।

'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র অধীন ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩-সহ একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় এই মামলা দায়ের করে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে একাধিক মিটিং, মিছিল, সভা ও গণমাধ্যমের সামনে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন।

অভিযোগপত্রে আরও লেখা হয়, গত ২ জুন মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারত সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন। এই ধরনের বক্তব্য রাখার উদ্দেশ্যই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করা এবং দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা। মমতার এই মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির নামান্তর।

এই মন্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি থেকে হঠাৎ করেই নাম না করে হাদি হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল।

অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি, তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটা তাদের কৃতিত্ব।

কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার। ’

অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার, তথ্যভাণ্ডার।  কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।

সেদিন মমতার অভিযোগ ছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংঘটিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে।

এই নিয়ে বৃহস্পতিবার অভিযোগকারী রিঙ্কু সিং জানিয়েছেন, ওই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের কট্টরবাদীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিধায়কের পদ চলে যাওয়ার পরে পাবলিক ডোমেইনকে ব্যবহার করে তিনি অপরাধ করেছেন। সেই অপরাধ দেশদ্রোহিতার সমান। সেই কারণেই এফআইআর করা হয়েছে। ৮ জুন তারিখ আদালত খুললেই আমি আবেদন জানাব, অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীকে যেন গ্রেপ্তার করা হয়।

৩ জুন, ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

ছবি: সংগৃহীত 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) হওয়া ভোটাভুটিতে জয়ী হন তিনি। 

১৪ মে, ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলা লড়তে আইনজীবীর পোশাক পরে হাইকোর্টে মমতা

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলা লড়তে আইনজীবীর পোশাক পরে হাইকোর্টে মমতা


ছবি: সংগৃহীত 

আইনজীবীর পোশাক পরেই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলের একের পরে এক পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগকে সামনে রেখে মামলা হয়। 

শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা করেন। তারই সওয়াল করতে এজলাসে মমতা। এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আদালতে আসেন চন্দ্রিমা ভট্টচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

গত ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা দায়ের করে তৃণমূল। দলের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থ মামলা করেন। 

দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তখনই ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিলেন, আজ, বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হবে।


সোর্স: আজতক বাংলা
বিডিএলপিবি: এমএম

২ মে, ২০২৬

ইসরায়েলি গোয়েন্দাসংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।

ইসরায়েলি গোয়েন্দাসংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।


ছবি: সংগৃহীত 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সময় তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি হলেন- ইয়াকুব কারিমপুর এবং নাসের বেকেরজাদেহ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসের বেকেরজাদেহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, ধর্মীয় ও প্রাদেশিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং নাতাঞ্জ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর তথ্য সরবরাহে অভিযুক্ত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা ইরানের একটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ইয়াকুব কারিমপুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর এক কর্মকর্তার কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও পাল্টা পদক্ষেপ আরও জোরদার হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।