আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৮ সেপ, ২০২৬

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

কোলাজ ছবি 
গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে মুমতাজ বেগমকে ২ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মুমতাজ বেগম একজন বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী, যাঁকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এই আদেশে বেগমকে বিদেশী নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বেগমের পরিবারের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানির সময় বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পিটিশন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরই পরিবারটি জানতে পারে যে তাঁকে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে।

নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যেভাবে বেগমের মামলাটি পরিচালনা করেছে, আদালত তার তীব্র সমালোচনা করে এবং পর্যবেক্ষণ করে যে, নথি থেকে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে "আইনের প্রতি বিদ্বেষ" স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়।

হাইকোর্টের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর, গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনাল বেগমকে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করে।  হাইকোর্ট এর আগে জানিয়েছিল যে, ট্রাইব্যুনাল তার দাখিল করা সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করেনি।

বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, বেগমকে ৩০শে মে-র আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং এর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ফলে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ পাননি। তার গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং পুলিশের দেওয়া বিবরণ নিয়েও বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে।

আদালত রায় দিয়েছে যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার সংক্রান্ত আদর্শ কার্যপ্রণালীর (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) “সরাসরি লঙ্ঘন” হয়েছে। এই কার্যপ্রণালী অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কার করার আগে তাকে অবশ্যই উপলব্ধ আইনি প্রতিকারগুলো শেষ করার সুযোগ দিতে হবে।

বেঞ্চ বলেছে, ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে বেগমকে রাজ্য প্রশাসন বাধা দিয়েছে। তাই আদালত আসাম সরকারকে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে ট্রাইব্যুনালের ৩০ মে-র আদেশটি কখন ও কোন তারিখে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছে। আদালত বলেছে, প্রয়োজনে মতামতটি কখন লেখা হয়েছিল তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটার জব্দ করা যেতে পারে।

বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, জেলা পুলিশ সুপাররা যেন নিশ্চিত করেন যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের হেফাজতে নেওয়ার আগে যেন ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়। ওই ব্যক্তিকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও অবশ্যই জানাতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস (০৭.০৯.২০২৬)

১১ আগ, ২০২৬

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের দায়ে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত কর্তৃক অনুপস্থিত থাকা বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়।

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আত্মীয় আতেফ নাজিব। মাহেরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাশার আল-আসাদ ও তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ দুজনই রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। ফলে মঙ্গলবারের রায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে আতেফ নাজিবের ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি সে সময় দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের পাশাপাশি ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর ঘটনাতেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় নাজিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কয়েদির পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়।

সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বিচারকে পুরোনো শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ রয়েছে, তারই একটি অংশ এই বিচারের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

বাশার আল-আসাদ প্রায় ২৪ বছর সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর শাসনামলে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও পরে গৃহযুদ্ধ দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে ওঠে।

সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০১১ সালে। ওই বছর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আন্দোলনটি ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্রমে সেই আন্দোলন বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরে দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। এই সংঘাত সিরিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনকে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত করে।

দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। সরকারবিরোধী বাহিনীর অগ্রযাত্রা তীব্র হলে বাশার আল-আসাদ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে দামেস্ক ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং আসাদ সরকারের পতন হয়।

ক্ষমতা হারানোর পর রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সেই অবস্থাতেই সিরিয়ার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো।
বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে এই রায় সিরিয়ার রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কোনো শাসকের পতনের পর তাঁর আমলের কর্মকাণ্ডের বিচার কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আল জাজিরা (১১.০৮.২০২৬)

২ জুল, ২০২৬

গরু জবাই নিষিদ্ধের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতির সরকার

গরু জবাই নিষিদ্ধের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতির সরকার

ছবি: সংগৃহীত 

ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের জারি করা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে ঈদুল আজহার সময় প্রকাশ্যে পশু কুরবানি বন্ধের দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

রায়ে বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণ ১৯৭৬ সালে জারি করা একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন। তাঁদের মতে, গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ওই আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।তবে হাইকোর্টের এই নির্দেশনার বিরোধিতা করেছে তামিলনাড়ু সরকার।

তাদের দাবি, রাজ্যে গরু জবাই-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের সঙ্গে আদালতের নির্দেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি প্রচলিত আইনকে অতিক্রম করেছে।সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে রাজ্য সরকার বলেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ 'তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮'-এর পরিপন্থি। ওই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজননক্ষমতা হারানো গরু বা বাছুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে হাইকোর্ট কার্যত রাজ্যের আইনসভার ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করেছে। সরকারের ভাষ্য, উচ্চ আদালত এ ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৫ জুন, ২০২৬

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বুধবার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত সাইবার ক্রাইম থানায় এই এফআইআর দায়ের করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি।

'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র অধীন ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩-সহ একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় এই মামলা দায়ের করে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে একাধিক মিটিং, মিছিল, সভা ও গণমাধ্যমের সামনে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন।

অভিযোগপত্রে আরও লেখা হয়, গত ২ জুন মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারত সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন। এই ধরনের বক্তব্য রাখার উদ্দেশ্যই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করা এবং দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা। মমতার এই মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির নামান্তর।

এই মন্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি থেকে হঠাৎ করেই নাম না করে হাদি হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল।

অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি, তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটা তাদের কৃতিত্ব।

কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার। ’

অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার, তথ্যভাণ্ডার।  কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।

সেদিন মমতার অভিযোগ ছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংঘটিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে।

এই নিয়ে বৃহস্পতিবার অভিযোগকারী রিঙ্কু সিং জানিয়েছেন, ওই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের কট্টরবাদীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিধায়কের পদ চলে যাওয়ার পরে পাবলিক ডোমেইনকে ব্যবহার করে তিনি অপরাধ করেছেন। সেই অপরাধ দেশদ্রোহিতার সমান। সেই কারণেই এফআইআর করা হয়েছে। ৮ জুন তারিখ আদালত খুললেই আমি আবেদন জানাব, অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীকে যেন গ্রেপ্তার করা হয়।

৩ জুন, ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

ছবি: সংগৃহীত 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) হওয়া ভোটাভুটিতে জয়ী হন তিনি। 

১৪ মে, ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলা লড়তে আইনজীবীর পোশাক পরে হাইকোর্টে মমতা

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলা লড়তে আইনজীবীর পোশাক পরে হাইকোর্টে মমতা


ছবি: সংগৃহীত 

আইনজীবীর পোশাক পরেই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলের একের পরে এক পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগকে সামনে রেখে মামলা হয়। 

শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা করেন। তারই সওয়াল করতে এজলাসে মমতা। এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আদালতে আসেন চন্দ্রিমা ভট্টচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

গত ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা দায়ের করে তৃণমূল। দলের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থ মামলা করেন। 

দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তখনই ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিলেন, আজ, বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হবে।


সোর্স: আজতক বাংলা
বিডিএলপিবি: এমএম

২ মে, ২০২৬

ইসরায়েলি গোয়েন্দাসংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।

ইসরায়েলি গোয়েন্দাসংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।


ছবি: সংগৃহীত 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সময় তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি হলেন- ইয়াকুব কারিমপুর এবং নাসের বেকেরজাদেহ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসের বেকেরজাদেহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, ধর্মীয় ও প্রাদেশিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং নাতাঞ্জ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর তথ্য সরবরাহে অভিযুক্ত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা ইরানের একটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ইয়াকুব কারিমপুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর এক কর্মকর্তার কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও পাল্টা পদক্ষেপ আরও জোরদার হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

২৯ এপ্রি, ২০২৬

প্রতারণা করে আয়ের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা

প্রতারণা করে আয়ের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আয় করার অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে। আইনি প্রতিষ্ঠান ‘টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি’ ও ‘টেক জাস্টিস ল’এর দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে মেটা দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণে অর্থ আয় করে আসছে।  

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ (প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার) এসেছে প্রতারণামূলক বা নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে। ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি হচ্ছেন। একই সঙ্গে এসব বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি অর্থ নেওয়া হলেও ব্যবহারকারীদের করা প্রতারণাসংক্রান্ত ৯৬ শতাংশ বৈধ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। 

টেক জাস্টিস ল’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেটা একদিকে প্রতারণা ঠেকানোর কথা বললেও অন্যদিকে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নিয়ে তাদের প্ল্যাটফর্মে সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, এটি কেবল দুর্বলতা নয়, এটি একটি ব্যবসায়িক মডেল যা প্রতারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এসব অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং প্রতিষ্ঠানটি আদালতে এ বিষয়ে লড়াই করবে। ব্যবহারকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে মেটা ধারাবাহিকভাবে প্রতারণা দমনে কাজ করছে। গত বছর আমরা ১৫ কোটি ৯০ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে দিয়েছি, যার ৯২ শতাংশ কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগেই অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।’

সুত্রঃ ডিজিটাল মিডিয়া- ম্যাশেবল

২২ মার্চ, ২০২৬

খুশিতে আত্মহারা ট্রাম্প, কিন্তু কেন?

খুশিতে আত্মহারা ট্রাম্প, কিন্তু কেন?


ছবি: সংগৃহীত 

২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মস্কোর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত করা সাবেক স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলার মারা গেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) তার পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নিউইয়র্ক টাইমস কর্তৃক প্রকাশিত মুলারের পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত রাতে বব (রবার্ট মুলার) মারা গেছেন। তার পরিবার এই সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানাচ্ছে।’

২০১৭ সালে মুলারকে বিশেষ কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ দেন তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোসেনস্টেইন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তদন্তের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মুলার। ২০১৯ সালে প্রকাশিত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণাকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল রাশিয়া।
 
২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুলার। এর আগে দীর্ঘ কর্মজীবনে পানামার শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগা, নিউইয়র্কের মাফিয়া নেতা জন গট্টির বিরুদ্ধে মামলার তদারকি করেন তিনি। এ ছাড়া ১৯৮৮ সালে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বোমা হামলা মামলার তদন্তে নেতৃত্ব দেন।

শনিবার তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছেন, ‘রবার্ট মুলার মারা গেছেন। ভালো হয়েছে, আমি খুশি। এখন তিনি নিরপরাধ মানুষদের ক্ষতি করতে পারবেন না।’

২০ মার্চ, ২০২৬

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে কত দিনে এশিয়ায় পৌঁছাবে তেল?

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে কত দিনে এশিয়ায় পৌঁছাবে তেল?

ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে মাত্র তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই সেই তেল এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

তিনি ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি তেল এশীয় বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তাঁর মতে, দ্রুত সরবরাহ শুরু হলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, সমুদ্রে ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের তেল সরবরাহ দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে প্রবাহিত হবে, যা সরবরাহ বাড়িয়ে দামের চাপ কিছুটা কমাতে পারে।