আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৫ নভে, ২০২৬

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের ঘটনায় বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির ফৌজদারি আদালত। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ও নিহত ব্যক্তি ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কুয়েতে ওই প্রবাসীর বাসায় বেড়াতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই কয়েকটি ব্যক্তিগত ছবি তোলেন বন্ধু। পরে ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন তিনি।

ছবিগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আসতে থাকলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বন্ধুকে বারবার অনুরোধ করেন ওই বাংলাদেশি। তবে অনুরোধ উপেক্ষা করে উল্টো আরও কিছু ছবি প্রকাশ করেন তাঁর বন্ধু।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশির পারিবারিক জীবনে অশান্তি তৈরি হয় এবং স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

কর্মস্থলের বাইরে ওত পেতে হত্যা

স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি সরিয়ে না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই প্রবাসী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছুরি নিয়ে তাঁদের যৌথ কর্মস্থলের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি।

বন্ধু কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসার পর তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন অভিযুক্ত। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আদালতে অপরাধ স্বীকার

বিচার চলাকালে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি আদালতকে জানান, বারবার অনুরোধ করার পরও তাঁর স্ত্রীর ছবি ফেসবুক থেকে সরানো হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি বন্ধুকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার তথ্য-প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত হত্যাকাণ্ডটিকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে বিবেচনা করেন। অপরাধের গুরুত্ব ও প্রকৃতি বিবেচনায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

সূত্র: গালফ নিউজ, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা

৪ নভে, ২০২৬

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

 ছবি: সংগৃহীত 
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা ঐতিহাসিক মামলার রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। এই রায়ের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত পিস প্যালেসে ১৯ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় প্রকাশ্য অধিবেশনে রায় ঘোষণা করা হবে। আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারক ইওয়াসাওয়া ইউজি রায়টি পাঠ করবেন।

মামলার পটভূমি

২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলাটি দায়ের করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। দেশটির অভিযোগ, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযান ছিল পরিকল্পিত গণহত্যার অংশ।

ওই অভিযানের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। সহিংসতার মুখে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে।

জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক তথ্যানুসন্ধান মিশনও ওই অভিযানে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। তবে মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, সেনাবাহিনীর অভিযান ছিল সন্ত্রাসবিরোধী বৈধ কার্যক্রম।

গাম্বিয়ার আবেদন ও আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশনা

গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে মিয়ানমারকে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের অধীন দায়বদ্ধতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর নিশ্চয়তা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছে দেশটি।

মামলাটির প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদে নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার আদালতের এখতিয়ার ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি জানায়। তবে ২০২২ সালের ২২ জুলাই আদালত রায়ে জানিয়ে দেন, মামলাটি শুনানির এখতিয়ার তাদের রয়েছে এবং গাম্বিয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য।

পরবর্তীতে উভয় দেশ লিখিত বক্তব্য ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করে। কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, স্লোভেনিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম ও আয়ারল্যান্ডসহ মোট ১১টি দেশ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছে।

গণহত্যা প্রমাণে কঠোর আইনি মানদণ্ড

আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণের জন্য শুধু হত্যা, নির্যাতন কিংবা নিপীড়নের ঘটনা প্রতিষ্ঠা করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রমাণ করতে হয়, কোনো জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, জাতিগত বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ কিংবা আংশিকভাবে ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায় নিয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদে এই বিশেষ অভিপ্রায়কে গণহত্যার অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মামলাটির রায়ে গণহত্যার অভিযোগের পাশাপাশি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

রায়ের আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ইতিহাসে গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় এটি হবে মাত্র তৃতীয় রায়। এক দশকেরও বেশি সময় পর এ ধরনের মামলায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রায় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারাধীন অন্যান্য গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীন রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে। এটি কোনো ব্যক্তির ফৌজদারি বিচার করে না। আদালতের রায় চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের জন্যও মামলাটির রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারিক মূল্যায়ন এবং মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স।



৩০ অক্টো, ২০২৬

পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলী চাথাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। ২০২৪ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইমান মাজারি পাকিস্তানের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারির মেয়ে। শিরিন মাজারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সময় ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বহরের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেন ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল জিরো পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে তাঁরা উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে যথাক্রমে আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

আগের মামলার সাজা ও পুনরায় গ্রেপ্তার

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পৃথক মামলায় ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথাকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই নতুন মামলায় তাঁদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, দম্পতিকে ন্যায়সংগত ও উন্মুক্ত বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে বিচার পরিচালনা এবং শুনানির সময় তাঁদের খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে রাখার অভিযোগও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইমান মাজারির মা শিরিন মাজারিও বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দম্পতিকে নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কিছু নথিও সরবরাহ করা হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি

ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথা পাকিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তাঁরা কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলনকর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষেও আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

তাঁদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ফৌজদারি মামলা এবং সর্বশেষ ১০ বছরের কারাদণ্ড পাকিস্তানে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে

সূত্র: যুগান্তর, বিবিসি, ডন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

শাস্তি না দিলে গো-মাতা অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি: ভারতের গুজরাটে গো-হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ আদালতের

শাস্তি না দিলে গো-মাতা অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি: ভারতের গুজরাটে গো-হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ আদালতের

ছবি: সংগৃহীত 
ভারতের গুজরাটের একটি আদালত গরু জবাইয়ের মামলায় তিনজনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে মোট ৩ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। ৭৬ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মনুস্মৃতি, বেদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত সোমবার এ রায় দেন।

মামলার পটভূমি

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গরু জবাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৭৭ কেজি মাংস উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি, কুঠার, ওজন মাপার যন্ত্র, দড়ি ও যানবাহন জব্দ করা হয়।

আসামিপক্ষ জব্দ করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আলামত সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য ছিল, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং জব্দ করা সরঞ্জাম যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি।

তবে আদালত অভিযোগকারী, অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্য, স্বাধীন সাক্ষী ও পশু চিকিৎসকের সাক্ষ্য এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত মনুস্মৃতি, ঋগ্বেদ, হরিবংশ পুরাণসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করেন। মনুস্মৃতির আলোকে গরু ও গবাদিপশুকে শুধু প্রাণী নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে বিচারক উল্লেখ করেন।

ঋগ্বেদের ‘অধন্যা’ শব্দের উল্লেখ করে আদালত বলেন, এর অর্থ এমন প্রাণী, যাকে হত্যা করা উচিত নয়। এ ছাড়া সুরভি বা কামধেনু এবং গরুর ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কেও রায়ে আলোচনা করা হয়।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ নির্মমভাবে বিচ্ছিন্ন করে ২৭৭ কেজি মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী শাস্তি না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আদালতের আদেশ

আদালত গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর ২০১৭ সালের সংশোধনী অনুযায়ী—

১. আইনের ৮(২) ধারায় প্রত্যেক আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

২.. একই আইনের ৮(৪) ধারায় ৬(ক) ও ৬(খ) ধারার অপরাধের জন্য প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

আদালত নির্দেশ দেন, উভয় কারাদণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে প্রত্যেক আসামির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ রুপি।

মামলার অপর দুই আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে আরেক আসামির মৃত্যু হয়।

সংবাদসূত্র: Live Law, Hindustan Times (30 October, 2026)

২৩ অক্টো, ২০২৬

গুরুতর অভিযোগ থাকলেই বিচারের পূর্বে অনির্দিষ্টকাল কারাবাস নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

গুরুতর অভিযোগ থাকলেই বিচারের পূর্বে অনির্দিষ্টকাল কারাবাস নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, শুধু অভিযোগের গুরুত্বের ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকাল বিচার-পূর্ব কারাবাসে রাখা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।
বিচার শেষ হওয়ার আগেই দীর্ঘদিন কারাগারে আটক থাকাকে শাস্তিতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছেন, আর্থিক অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেও বিচারাধীন ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।

ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও দ্রুত বিচারের অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আদালত এ পর্যবেক্ষণ দেন।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাজস্থানে ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের দরপত্রে শত শত কোটি টাকার অনিয়মসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক কংগ্রেসমন্ত্রী মহেশ চন্দ্র যোশি ও মুকেশ পাঠককে নিয়মিত জামিন দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন।

অভিযোগ গুরুতর হলেও অনির্দিষ্টকাল কারাবাসের ভিত্তি হতে পারে না

আদালত বলেন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগসাজশের অভিযোগ গুরুতর এবং সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জামিনের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যুক্তিও থাকতে পারে।

তবে অভিযোগের গুরুত্ব যত বেশি হোক না কেন, শুধু সেই কারণে জামিনের অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় উপেক্ষা করা যায় না। একইভাবে, বিচার শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাগারে আটক রাখার যৌক্তিকতাও তৈরি হয় না।

আদালত আরও বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিচার-পূর্ব আটককে বিচার ছাড়াই শাস্তিতে পরিণত হতে দেওয়া হলে তা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও দ্রুত বিচারের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবে।

তদন্ত শেষ, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই

আদালত উল্লেখ করেন, দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে এবং অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলার অভিযোগের পক্ষে প্রধানত নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণের ওপর নির্ভর করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এসব প্রমাণের মধ্যে রয়েছে দরপত্রসংক্রান্ত নথি, সরকারি চিঠিপত্র, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, জব্দ করা মুঠোফোনের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং আড়ি পেতে ধারণ করা কথোপকথন। এসব আলামত ইতোমধ্যে তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রয়েছে।

বেঞ্চের মতে, অভিযুক্তদের আর হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ বা নতুন করে কোনো আলামত উদ্ধারের প্রয়োজন নেই। নথিপত্র ও ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন করার আশঙ্কাও অনেকাংশে দূর হয়েছে।

দীর্ঘ কারাবাস ও বিচার শুরু না হওয়ার বিষয় বিবেচনায়

আদালত দুই অভিযুক্তের কারাবাসের সময়কালও বিবেচনায় নেন। প্রায় ৭২ বছর বয়সী মহেশ চন্দ্র যোশি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে ছিলেন। অন্যদিকে, মুকেশ পাঠক ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে আটক ছিলেন।

মামলার বিচার শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে, সেটিও জামিন বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে।

আদালত জানান, মামলায় মোট ২২ জন অভিযুক্ত, তিনটি অভিযোগপত্র, রাষ্ট্রপক্ষের ১২৪ জন সাক্ষী এবং প্রায় ২০ হাজার পৃষ্ঠায় বিস্তৃত ১৯২টি নথি রয়েছে। তখনও অভিযোগ গঠন হয়নি এবং বিচার শুরু করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া কয়েকজন সহ-অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা কয়েকজন অভিযুক্ত পলাতক ছিলেন। মামলার বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচার শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আদালত মনে করেন।

সহ-অভিযুক্তদের জামিনও বিবেচনায়

আদালত আরও লক্ষ করেন, একই ঘটনার সূত্রে দায়ের করা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমে দুই অভিযুক্ত জামিন পেয়েছিলেন। বর্তমান মামলার কয়েকজন সহ-অভিযুক্তও জামিন বা অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা পেয়েছিলেন।

সব পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে বেঞ্চ বলেন, অভিযুক্তদের আরও দীর্ঘ সময় বিচার-পূর্ব কারাবাসে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই। রাষ্ট্রপক্ষের যৌক্তিক উদ্বেগগুলো উপযুক্ত জামিনের শর্ত আরোপের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব।

মামলার গুরুত্ব

এই পর্যবেক্ষণে আদালত মূলত স্পষ্ট করেছেন, গুরুতর অভিযোগ থাকলেই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে অনির্দিষ্টকাল কারাগারে রাখা যায় না। জামিন বিবেচনার ক্ষেত্রে অভিযোগের গুরুত্বের পাশাপাশি তদন্তের অবস্থা, প্রমাণের ধরন, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা, ইতোমধ্যে ভোগ করা কারাবাস এবং বিচার শেষ হতে সম্ভাব্য সময়ও বিবেচনা করতে হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগকে খাটো করে দেখা নয়; বরং বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা।

সূত্র: লাইভ ল' (LiveLaw), ২২ অক্টোবর ২০২৬।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

২২ অক্টো, ২০২৬

চেকের মামলায় আসামির চেক হারনোর দাবি প্রমাণে শুধু জিডি এন্ট্রি যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

চেকের মামলায় আসামির চেক হারনোর দাবি প্রমাণে শুধু জিডি এন্ট্রি যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

কলকাতা হাইকোর্ট | ছবি: সংগৃহীত 
চেকের ওপর স্বাক্ষর স্বীকার করা হলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১১৮(ক) ও ১৩৯ ধারার অধীনে আইনগত অনুমান কার্যকর হয়। এ অবস্থায় চেক হারিয়ে যাওয়ার দাবি কেবল পুলিশের জেনারেল ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রির ওপর নির্ভর করে প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে ওই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মামলায় বিচারপতি উদয় কুমারের একক বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, চেকের স্বাক্ষর স্বীকার করার পর আইনগত অনুমান খণ্ডনের দায় অভিযুক্তের ওপর বর্তায়। তবে এই দায় প্রমাণের মানদণ্ড হলো সম্ভাবনার ভারসাম্য—অর্থাৎ অভিযুক্তকে এমন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তাঁর প্রতিরক্ষা যুক্তিসংগত ও সম্ভাব্য বলে প্রতীয়মান হয়।

মামলার ঘটনা

মামলাটি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় চেক প্রত্যাখ্যানের অভিযোগে দায়ের করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কাপড়ের ব্যবসা ‘মধুকরী টেক্সটাইল’-এর প্রয়োজনে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধের জন্য দেওয়া চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপনের পর প্রত্যাখ্যাত হয়।

আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের দাবিতে নোটিশ পাঠানো হলেও অভিযুক্ত অর্থ পরিশোধ করেননি। তাঁর দাবি ছিল, তিনি অভিযোগকারীর কাছ থেকে কোনো ঋণ নেননি এবং তাঁকে কোনো চেকও দেননি। বরং তাঁর টাকার ব্যাগ হারিয়ে গিয়েছিল, যাতে একটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ছিল। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ব্যাংককে চেকের অর্থ পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

বিচারিক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরবর্তী সময়ে আপিল আদালতও দণ্ডাদেশ বহাল রাখেন, তবে কারাদণ্ড কমিয়ে সাত দিন নির্ধারণ করেন এবং ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তুহিন গঙ্গোপাধ্যায়।

সাধারণ ডায়েরির এন্ট্রি এককভাবে যথেষ্ট নয়

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, সাধারণ ডায়েরির এন্ট্রি মূলত তথ্যদাতার নিজের বক্তব্যের নথিভুক্তি। কেবল সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে—এ তথ্য থেকেই প্রমাণিত হয় না যে চেকটি বাস্তবে হারিয়ে গিয়েছিল কিংবা অন্য কেউ সেটির অপব্যবহার করেছে।

এ ক্ষেত্রে চেক হারানোর দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় অভিযুক্ত আইনগত অনুমান খণ্ডন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আদালত মনে করেন। ফলে নিম্ন আদালতগুলোর সিদ্ধান্তে কোনো বেআইনি পদক্ষেপ বা গুরুতর অসংগতি খুঁজে পায়নি হাইকোর্ট।

লিখিত চুক্তি বা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ না থাকলেই ঋণ অবৈধ নয়

৩০ হাজার টাকার মতো তুলনামূলক স্বল্প অঙ্কের ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি না থাকা কিংবা আয়কর বিবরণীতে ঋণের বিষয়টি উল্লেখ না থাকাকে এককভাবে ঋণটি আইনত অকার্যকর প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অভিযুক্ত এমন কোনো গ্রহণযোগ্য আপত্তি উত্থাপন করেননি, যা ঋণ দেওয়ার দাবিকে সন্দেহের মুখে ফেলতে পারে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম আলাদাভাবে অভিযুক্ত করা বাধ্যতামূলক নয়

মামলায় ‘মধুকরী টেক্সটাইল’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে অভিযুক্ত না করার বিষয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল। আদালত এ আপত্তি নাকচ করে বলেন, একক মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা নয়; এটি মূলত মালিকের ব্যবসায়িক নাম। তাই শুধু ব্যবসার নামকে আলাদাভাবে মামলার আসামি না করায় ফৌজদারি কার্যক্রম ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায় না।

এ ছাড়া আবেদনকারীকে একদিকে বেকার এবং অন্যদিকে ছোট কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে বর্ণনা করার অসংগতিকে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, যার কারণে প্রাথমিক পর্যায়েই পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা প্রয়োজন।

দণ্ডাদেশ বহাল, তবে কারাদণ্ড ভোগে অব্যাহতি

সব দিক বিবেচনায় কলকাতা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতগুলোর দণ্ডাদেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি। ফলে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য অতিরিক্ত দণ্ডের নির্দেশ বহাল থাকে। তবে অভিযুক্তকে সাত দিনের মূল কারাদণ্ড ভোগ করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার তথ্য

মামলা: তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

আদালত: কলকাতা হাইকোর্ট

বিচারপতি: উদয় কুমার

রায়ের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাসঙ্গিক আইন: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮, ১১৮(ক) ও ১৩৯ ধারা।

সূত্র: দ্য বার বুলেটিন

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম


১৮ অক্টো, ২০২৬

নারীর ওপর শুয়ে মুখ চেপে ধরলেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়, প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ থাকতে হবে: পাটনা হাইকোর্ট

নারীর ওপর শুয়ে মুখ চেপে ধরলেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়, প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ থাকতে হবে: পাটনা হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
এক নারীর ওপর শুয়ে তাঁর মুখ চেপে ধরার ঘটনা ঘটলেও, ধর্ষণের উদ্দেশ্যে প্রবেশের দিকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রমাণ না থাকলে তা ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে না বলে জানিয়েছেন ভারতের পাটনা হাইকোর্ট।

ভারতের পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি সন্দীপ কুমারের একক বেঞ্চ ২০১৩ সালের ২৯ জুলাইয়ের দণ্ডাদেশ ও একই বছরের ১ আগস্টের সাজা ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সন্তানদের নিয়ে বসবাসকারী এক বিধবা নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে বাতি নিভিয়ে তাঁর ওপর শুয়ে পড়েন এবং মুখ চেপে ধরেন। ওই নারী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন।

পরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারায় তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং ৪৪৮ ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা একই সঙ্গে চলার কথা ছিল।

অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগকারী নারীর বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট সমর্থনকারী প্রমাণ নেই। এছাড়া যেসব স্থানীয় ব্যক্তি অভিযুক্তকে ধরে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদেরও আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি।

হাইকোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল—প্রমাণিত ঘটনাগুলো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারার অধীনে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে, নাকি নারীর শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের জন্য ৩৫৪ ধারার আওতায় পড়বে।

আদালত বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টার পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আমান কুমার মামলার সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন, অনেক সময় অশালীন বা অনৈতিক আচরণকে অতিরঞ্জিত করে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণের জন্য এমন উপাদান থাকতে হবে, যা থেকে বোঝা যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সব প্রতিরোধ উপেক্ষা করেও যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়েছিলেন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করেছিলেন কিংবা এমন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা বাধা না পেলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত বলেন, “অভিযুক্ত নিজে বা অভিযোগকারী নারীকে বিবস্ত্র করেছিলেন কিংবা যৌন প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ না থাকলে বলা যায় না যে তিনি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করে এমন কোনো কাজ করেছিলেন, যা বাধাগ্রস্ত না হলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো।”

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়া, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং ১৩ বছরেরও বেশি সময় জামিনে থাকার সময়ে তিনি জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি—এসব বিষয়ও আদালত বিবেচনায় নেন।

এরপর হাইকোর্ট তাঁর সাজা পরিবর্তন করে ইতোমধ্যে যতদিন কারাগারে ছিলেন, সেই সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করেন।

সূত্র: লাইভ ল’

BD Law Post / মাসুম

অন্যান্য ব্যক্তির মতো শিশুদেরও ইন্টারনেট ব্যবহার ও এতে প্রবেশের মৌলিক অধিকার রয়েছে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

অন্যান্য ব্যক্তির মতো শিশুদেরও ইন্টারনেট ব্যবহার ও এতে প্রবেশের মৌলিক অধিকার রয়েছে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

 ছবি: সংগৃহীত 
বিচারপতি জামশেদ বুরজোর পারদিওয়ালা ও বিচারপতি বিনোদ কে. চন্দ্রনের বেঞ্চ এক আদেশে বলেন, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ এবং ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির ইন্টারনেটে প্রবেশ ও তা ব্যবহারের অধিকার একটি মৌলিক অধিকার।

আদালত বলেন, বয়স যাই হোক, শিশুরাও একই অধিকার ভোগ করে। নির্দিষ্ট বয়সের নিচে শিশুদের এসব অধিকার পুরোপুরি অস্বীকার করা যেমন অযৌক্তিক, তেমনি তাদের বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মূল্য নেই—এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, “আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা ও তাদের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়। আমাদের শিশুরা উভয়টিরই অধিকারী।”

অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান (সিএসইএএম) মোকাবিলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে একটি বেসরকারি সংস্থার করা আবেদনের শুনানিতে আদালত এসব পর্যবেক্ষণ দেন।

শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান শনাক্ত ও অপসারণে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো কী ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন আদালত।

আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান শনাক্ত ও অপসারণের জন্য একটি ‘ন্যাশনাল হ্যাশ অ্যান্ড ইউআরএল লিস্ট’ ডাটাবেস তৈরির নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বয়স-উপযোগী যৌন শিক্ষা শিক্ষাব্যবস্থার মূল পাঠ্যক্রমের অংশ হওয়া উচিত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগের মধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ এলো।

চলতি বছর ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নীতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মতে, কম বয়সী ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত ও আসক্তিমূলক ব্যবহার এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ডিজিটাল ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। অনলাইন পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিসটার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি ৩০ লাখের বেশি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকেও ভারত শীর্ষে রয়েছে।


সূত্র: দ্য হিন্দু

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

১৭ অক্টো, ২০২৬

আদালতের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননার শামিল: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আদালতের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননার শামিল: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করা সরকারি আইনজীবীদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের সময় তাদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা দুর্ব্যবহার করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

এক অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলির (এজিএ) সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়ে উত্তর প্রদেশের পুলিশ মহাপরিচালককে (ডিজিপি) একটি সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সার্কুলারে সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক করে জানাতে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীরা কোনো কর্মকর্তাকে অবহিত করার সময় তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজমগড়ের এসএসপির জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) রাজেশ কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে এক এজিএর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারপতি অরুণ কুমার সিং দেশওয়াল ওই পিআরওকে আদালতের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে আদালতের হেফাজতে রাখার পর মুক্তি দেওয়া হয়।

আদালত বলেন, অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলিরা আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে বিচারিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের আদেশ পালনের বিষয়ে তারা যখন কোনো কর্মকর্তাকে অবহিত করেন, তখন তারা আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।

আদালত আরও বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা—এমনকি রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাও—আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে দায়িত্ব পালনরত সরকারি আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।

এদিকে আজমগড়ের এসএসপি আদালতকে জানান, তিনি রাজেশ কুমার সিংকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন এবং পিআরও পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আদালত এসএসপির পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

১৩ অক্টো, ২০২৬

এআই ব্যবহারে মানবাধিকার ও ডিজিটাল পরিসরে নারী-শিশুর অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দুটি প্রস্তাব গ্রহণ

এআই ব্যবহারে মানবাধিকার ও ডিজিটাল পরিসরে নারী-শিশুর অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দুটি প্রস্তাব গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি)। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জেনেভায় পরিষদের ৬৩তম নিয়মিত অধিবেশন শেষ হয়। অধিবেশনে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৩৪টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী, গৃহীত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানবাধিকারের প্রসার ও সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে। অন্যটি ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়।

এআই ব্যবহারে মানবাধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্ব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবাধিকারকে কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পরিষদ। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্যানেল গঠন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে এআই-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও জ্ঞানগত বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে সরকারি প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন বৈষম্য সৃষ্টি না করে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

এআইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পক্ষপাত, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলোও মানবাধিকার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার সুরক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তি

পরিষদের গৃহীত আরেকটি প্রস্তাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ালেও অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার এবং এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি বা ভিডিওর মতো ঝুঁকিও তৈরি করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ব্যবধান কমানোও এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।

এআই শাসনব্যবস্থায় মানবাধিকারের গুরুত্ব বাড়ছে

বিশ্বজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বা এআই গভর্ন্যান্স এখন আর কেবল প্রযুক্তিগত কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

এআইয়ের উন্নয়ন ও প্রয়োগে সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই সামনে আসছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক উদ্যোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।


সূত্র

১. জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (UN Human Rights Council) — ৬৩তম অধিবেশনের অফিসিয়াল ওয়েবপেজ। 

২. এআই ও মানবাধিকারবিষয়ক প্রস্তাব: A/HRC/RES/63/15 — Implications of artificial intelligence for the promotion and protection of human rights। প্রস্তাবটি বিনা ভোটে গৃহীত হয়েছে; প্রস্তাবের পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের নামও অন্যতম প্রস্তাবক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।


বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম