আদালতের রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আদালতের রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৯ সেপ, ২০২৬

রুল খারিজ: ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়: হাইকোর্ট

রুল খারিজ: ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নয়: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার দাবিতে করা রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র করার সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী।

বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মণ্ডল। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, আজকের রায়ের ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র করার সুযোগ থাকছে না।

জানা গেছে, ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিতে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রিটটি করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। পরে ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রুলটি খারিজ করে দেন আদালত।

বিডিএলপিবি/এমএম

সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না: নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট

সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না: নুসরাত হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট

কোলাজ ছবি
১৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গেছে। এই ধরনের ভুল মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেওয়া রায় সেই হতভাগ্য ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর ওপর এক বিপর্যয়কর প্রভাব পড়েছে। সভ্য সমাজে এই ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জনকে খালাস দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে এমন মন্তব্য করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শামীম, রুহুল আমিন, মাকসুদ কাউন্সিলর ও আফসারউদ্দীনের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বিচার-বুদ্ধিহীন এ দণ্ডের কারণে এসব আসামিকে সাত বছর কনডেম সেলে থাকতে হয়েছে, যা তাদের পরিবারের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, একটি সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা আশা করা যায় না। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। এ কারণে দণ্ডবিধি ও সাজা প্রদানসংক্রান্ত বিধিমালার মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত না করা পর্যন্ত তাকে দায়রা আদালতের বিচারিক কাজ পরিচালনা থেকে দূরে রাখা শ্রেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, নুসরাতকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশ বাস্তবায়নে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরউদ্দিন মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নুসরাত মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার জন্য শামীম, নুরউদ্দিন, জাবেদ ও জুবায়েরকে প্ররোচিত করেছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা।

নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি ‘ত্রুটিহীন’ ছিল বলেও পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, ওই জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে তা উত্তীর্ণ। এতে চার ব্যক্তির সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, রিমান্ডে আসামিদের নির্যাতন করা হয়েছিল, মামলার নথিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার কারণে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অবিশ্বাস্য হয়ে যেতে পারে না।

গত ২৪ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মূল হোতা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদরাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীমের বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন- মাদ্রাসাছাত্র নুরউদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।


বিডিএলপিবি/এমএ

২৬ বছর আগের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

২৬ বছর আগের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত 
কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তিকে খুনের দায়ে উচ্চ আদালতের ১০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি মিজানুর এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অসুস্থ বিবেচনায় নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করেন।’

মামলার প্রেক্ষাপট: কিশোরগঞ্জের বড় বাজারস্থ এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও আ. কবিরকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান।

পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়।

মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান নুর মোহাম্মদ। তারপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি জানান, তার বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এর আগে মামলায় নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক হন। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৯.০৯.২০২৬)

চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা শোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত 
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হলে এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোস সম্পাদিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা বিনাশ্রম/সশ্রম কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, চেক ডিজঅনারের মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাবন্দি রাখা নয়; বরং মূল উদ্দেশ্য হলো পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করা।

রায় সম্পর্কিত তথ্য: এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত এক ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলায় গত ৬ সেপ্টেম্বর এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ মামলায় রায় ঘোষণাকালে আদালতে আবেদনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিবাদীপক্ষে (ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স) ছিলেন আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।

রায়ে চেকের টাকা ও ব্যাংকের পাওনাদি পুরোপুরি পরিশোধ করে আপস-মীমাংসা করায় এ মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আপিলের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার পটভূমি: সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা মো. আবদুল হান্নান মাস্টার ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ২১ হাজার ৮৭৫ টাকা পরিশোধ করলেও বকেয়া ২৮ হাজার ১২৫ টাকার বিপরীতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সিরাজগঞ্জ শাখার একটি চেক প্রদান করেন।

পরে ওই চেকটি নগদায়নের জন্য ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্যাংকে উপস্থাপন করা হলে ১০ ফেব্রুয়ারি ‘পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায়’ তা ডিজঅনার হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী লিগ্যাল নোটিশ জারির পরও টাকা না দেওয়ায় ২০০৯ সালে নালিশি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি ২০১২ সালে বিচারের জন্য সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়। সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ দায়রা জজ ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ প্রদত্ত রায়ে আসামিকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা জরিমানা করেন।

পরবর্তীতে, আবদুল হান্নান মাস্টার ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল আপিল দায়ের করে জামিন আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট তাকে এক বছরের জন্য জামিন দেন। অত:পর, আপিল বিচারাধীন থাকাকালে চেকের অবশিষ্ট অর্থ ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে পরিশোধ করেন হান্নান মাস্টার। এ বিষয়ে চলতি বছরের ২১ জুলাই আবদুল হান্নান মাস্টার ও ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের মধ্যে আপোসনামা সই হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা: গত ৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট বলেন, মামলার তথ্য ও পারিপার্শ্বিকতা, অপরাধের মাত্রা এবং আপিলকারী কর্তৃক চেকের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের বিষয় বিবেচনা করে আসামি হান্নান মাস্টারকে দোষী সাব্যস্তকরণ বহাল রাখা হলো এবং অর্থদণ্ড ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ হাজার ১২৫ টাকা করা হলো, যা চেকের অঙ্কের সমপরিমাণ।

আদালত আরও বলেন, এতে পরিলক্ষিত হয় যে, দণ্ডপ্রাপ্ত-আপিলকারী আপিল দায়েরের আগে বিচারিক আদালতে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ১০০ টাকা জমা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে অবশিষ্ট টাকা সরাসরি নালিশকারীর (ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স) কাছে জমা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, জমাকৃত ১৪ হাজার ১০০ টাকা যথাযথ শনাক্তকরণ সাপেক্ষে অবিলম্বে নালিশকারী ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া নথিপত্রসহ এই রায়ের অনুলিপি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ দেশকাল নিউজকে বলেন, আদালত এই রায়ের মাধ্যমে আইনি সুবিচারের সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অনন্য প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল পাওনা টাকা আদায় করা, কাউকে অহেতুক শাস্তি দেওয়া নয়। যেহেতু আপিলকারী চেকের পুরো অর্থ পরিশোধ করে দিয়েছেন এবং আপোসনামায় স্বাক্ষর করেছেন, তাই আমরা উদার মনোভাব নিয়ে তার কারাদণ্ড মওকুফের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছিলাম। বিজ্ঞ আদালত চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড বহাল রেখে আপিলকারীর কারাদণ্ড বাতিল করায় আমরা কোনো ধরনের আপত্তি করিনি। বরং আদালতের এই ন্যায়বিচারকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ সেপ, ২০২৬

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

কোলাজ ছবি 
গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে মুমতাজ বেগমকে ২ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মুমতাজ বেগম একজন বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী, যাঁকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এই আদেশে বেগমকে বিদেশী নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বেগমের পরিবারের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানির সময় বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পিটিশন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরই পরিবারটি জানতে পারে যে তাঁকে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে।

নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যেভাবে বেগমের মামলাটি পরিচালনা করেছে, আদালত তার তীব্র সমালোচনা করে এবং পর্যবেক্ষণ করে যে, নথি থেকে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে "আইনের প্রতি বিদ্বেষ" স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়।

হাইকোর্টের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর, গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনাল বেগমকে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করে।  হাইকোর্ট এর আগে জানিয়েছিল যে, ট্রাইব্যুনাল তার দাখিল করা সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করেনি।

বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, বেগমকে ৩০শে মে-র আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং এর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ফলে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ পাননি। তার গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং পুলিশের দেওয়া বিবরণ নিয়েও বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে।

আদালত রায় দিয়েছে যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার সংক্রান্ত আদর্শ কার্যপ্রণালীর (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) “সরাসরি লঙ্ঘন” হয়েছে। এই কার্যপ্রণালী অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কার করার আগে তাকে অবশ্যই উপলব্ধ আইনি প্রতিকারগুলো শেষ করার সুযোগ দিতে হবে।

বেঞ্চ বলেছে, ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে বেগমকে রাজ্য প্রশাসন বাধা দিয়েছে। তাই আদালত আসাম সরকারকে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে ট্রাইব্যুনালের ৩০ মে-র আদেশটি কখন ও কোন তারিখে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছে। আদালত বলেছে, প্রয়োজনে মতামতটি কখন লেখা হয়েছিল তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটার জব্দ করা যেতে পারে।

বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, জেলা পুলিশ সুপাররা যেন নিশ্চিত করেন যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের হেফাজতে নেওয়ার আগে যেন ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়। ওই ব্যক্তিকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও অবশ্যই জানাতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস (০৭.০৯.২০২৬)

৭ সেপ, ২০২৬

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

উল্লখ্য, গভর্নরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ যুক্ত করে অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৫ মার্চ রিটটি দায়ের করেন। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর এবং গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়।

আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের পৃথক গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার নেতৃত্বে ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২৮ সালের আগস্টে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ এবং আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (০৭.০৯.২০২৬)

৬ সেপ, ২০২৬

মাজারে খাদেম হত্যার দায়ে দুই জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল, খালাস ৫

মাজারে খাদেম হত্যার দায়ে দুই জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল, খালাস ৫

ছবিঃ সংগৃহীত 
রংপুরের সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন ১১ নভেম্বর তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ওই মামলায় ১৪ জেএমবির সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। যার মধ্যে আসামি পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন ২০১৭ সালের ৫ জানুযারি ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। শুনানি শেষে বিচারক নিহত দুই জঙ্গিকে বাদ দিয়ে ১২ জনের নামে অভিযোগ গঠন করেন।

  

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ প্রথম আলো (০৬.০৯.২০২৬)


৪ সেপ, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের নামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর আবেদনের পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

বৃহস্পতিবার আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফাইড ফেইসবুক অ্যাকাউন্টেও একটি স্টাটাস দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, আইন অনুসারে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার একই গ্রুপভুক্ত বা পারিবারিকভাবে রাখা যায় না। কিন্তু এস আলম সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যাংকটিতে যুক্ত হয়। সেখানে তাদের শেয়ার ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। 

এর আগে গত বছর, ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও ব্যক্তিবিশেষের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডার এই পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।



বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২২০৬)

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনের মামলায় তানিয়া আক্তার নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়া আক্তারকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

মামলার ফ্যাক্ট ও কার্যক্রম: মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়  ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাবের ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ২৫ মার্চ র‍্যাবের ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২০২৬)

৩ সেপ, ২০২৬

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হাইকোর্টের আদেশে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, রুল খারিজ

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হাইকোর্টের আদেশে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, রুল খারিজ


ছবি: সংগৃহীত 
পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নিরাপত্তার প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০১১ সালে চার মাসের জন্য দেওয়া হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বাড়িয়ে আবাসন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের বিরুদ্ধে। 

এসব অভিযোগ ও মামলার নথি পর্যালোচনার পর পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে যে আদেশটি মাত্র চার মাসের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেটিই পরে সময়ে সময়ে বাড়ানো হয়। এর ফলে একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আওতায় নিরাপত্তা সুবিধা পেতে থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে এই আদেশের এমন ব্যবহারকে আদালতের আদেশের অপব্যবহার হিসেবে তুলে ধরে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল মামলাটি: প্রবাসীদের অর্থায়নে ঢাকার পূর্বাচল এলাকায় আবাসন ব্যবসা পরিচালনার জন্য পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কোম্পানিটি ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করে। প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতাবলে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম ওই রিট আবেদন করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পূর্বাচল আমেরিকান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রূপগঞ্জ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে বিবাদী করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট নরসিংদী সদর ও রূপগঞ্জ থানার ওসিকে চার মাসের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগত সুরক্ষা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগতভাবে বাধা সৃষ্টি বন্ধে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।

চার মাসের আদেশ গড়াল ১৫ বছরে: মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসে রাষ্ট্রপক্ষের জবাবে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, চার মাসের জন্য দেওয়া ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পরবর্তী সময়ে বারবার বাড়ানো হয়েছে। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ওই আদেশের সুবিধা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া আদালতের আদেশ দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূল রিটের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ, যে আদেশের উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দীর্ঘ সময় ধরে সেটিই প্রকল্পের পক্ষে একটি কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে এমন চিত্র তুলে ধরে।

প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের বৈধতা নিয়েও: রাষ্ট্রপক্ষ শুধু নিরাপত্তা আদেশের ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি। প্রকল্পটির আইনগত অনুমোদন ও নিবন্ধন নিয়েও গুরুতর বিতর্ক রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্প হলেও এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের একটি মামলায় আসামি হওয়ার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। ওই মামলায় তাঁরা যথাক্রমে ১ ও ৫১ নম্বর আসামি। এরপরও ২০১১ সালের হাইকোর্টের আদেশ ব্যবহার করে প্রকল্পটি নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে আসছিল।

জমি দখল ও জাল নথির অভিযোগ: শুনানিতে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগও তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি, জালিয়াতি ও মিথ্যা নথির মাধ্যমে কয়েকটি মৌজায় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, ২০১১ সালের রিটে দেওয়া প্রাথমিক আদেশকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুলভাবে ব্যবহার করে একই মৌজার স্থানীয় জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্য ও মামলার জবাবের অংশ; রায়ে আদালত অভিযোগগুলোর প্রতিটি বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা পূর্ণাঙ্গ রায়ে আরও স্পষ্ট হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি ছিল আদালতের আদেশের ব্যবহার নিয়ে মামলার ৯ নম্বর বিবাদী রূপগঞ্জ থানার ওসির পক্ষে উপপরিদর্শক আহসান হাবিব আদালতে জবাব দাখিল করেন। গত ১৬ জুলাই দাখিল করা ওই জবাবে রিটকারীর সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ মূলত একটি প্রশ্ন সামনে আনে—একটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কি বছরের পর বছর ব্যবহার করা যেতে পারে? রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ছিল, চার মাসের আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বহাল রেখে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের আদেশের সুবিধা নিয়েছে এবং সেটি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

রুল খারিজ: উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় দশক ধরে চলা ওই রিটে বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের পক্ষে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা আদেশের ব্যবহার নিয়ে আইনি বিতর্কেরও অবসান হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট (০৩.০৯.২০২৬)