![]() |
| ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনঃ ছবি- সংগৃহীত |
২২ জুল, ২০২৬
ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল জারি
![]() |
| সুপ্রিম কোর্ট: ছবি- সংগৃহীত |
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট । একই সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন মহানমান্য আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান।
রিট কারী আইনজীবী বলেন, রুলে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটে বলা হয়, একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গ্রাম আদালত পরিচালনার ক্ষমতা। গ্রাম আদালতে একজন চেয়ারম্যান তিন লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। অথচ একই ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে আইন অনুযায়ী স্নাতক সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। এ কারণেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর চেয়ারম্যানের যোগ্যতাসংক্রান্ত ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। রিটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম
২১ জুল, ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকদের অযোগ্য ঘোষণা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচন, মনোনয়ন কিংবা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করে বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন অথবা নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।
একই সঙ্গে রুলে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ ও স্বনামধন্য সমাজসেবক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে বিচারিক নির্দেশনা (জুডিসিয়াল গাইডলাইন) কেন জারি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার (২০ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. নাদির খান ও মো. সোহেল রানা। এর আগে গত ৭ জুন রুবেল মিয়া একজন অভিভাবকের পক্ষে অ্যাডভোকেট নাদির খান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪–এর বিধি ৭ সংশোধন অথবা সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব কমিটিতে সমাজে গ্রহণযোগ্য, শিক্ষানুরাগী ও সৎ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিডিএলপিবি/এমএম
২০ জুল, ২০২৬
যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইকালে বাধা দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শফিকুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. সোহেল রানা ওরফে কালু ও মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে নাজিম ওরফে নজু।
রোববার, ১৯ জুলাই ঢাকা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন।রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. খলিলুর রহমান (খলিল) বাসস-কে বিষয়টি জানান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২২ জুন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে মামলার বাদী আকবর আলীর ছেলে শফিক বগুড়া হতে এসআর পরিবহনে ঢাকা কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে তার বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এশিয়া সিনেমা হলের সামনে পৌঁছালে তিনজন আসামি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শফিককে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম শফিক মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকবর আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বাসস
১৯ জুল, ২০২৬
হাইকোর্টের রুল: নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ কেন নয়?
নারী মরদেহের পোস্টমর্টেম করতে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, এর আগেও দেশের সব পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগের আবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করা হয় কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আবেদনে আরও বলা হয়, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ প্রয়োজন। এতে মৃত নারীর পরিবারের মানসিক স্বস্তি বাড়বে এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষাও নিশ্চিত হবে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ময়নাতদন্ত কার্যক্রমেও নারী ডোম নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, অতীতে দেশের বিভিন্ন মর্গে নারীর মরদেহের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২০২০ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিদেশেও একই ধরনের ঘটনার বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করা হয়।
বিডিএলপিবি/এমএম
১৭ জুল, ২০২৬
ভরণপোষণ শিশুর আইনগত অধিকার, মা-বাবার তালাকের ওপর নির্ভরশীল নয় : হাইকোর্ট
আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ তার স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার; এটি মা-বাবার বৈবাহিক বিরোধ বা তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিয়ের পর স্ত্রী ও নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে মামলা করা হয়। জবাবে স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে স্বামী পৃথক একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি জানিয়ে ওই ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদন খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।
হাইকোর্ট রায়ে বলেন, কেবল নতুন মামলা দায়েরের কারণে চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিত করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, আইনসম্মতভাবে প্রমাণিত নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই। ফলে এমন তালাকের দাবি দেখিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
রায়ে ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা কেবল ফ্যামিলি কোর্টের রয়েছে। একই সঙ্গে এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব শুধু বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা; তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।
নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, এটি শিশুর স্বাধীন আইনগত অধিকার। তাই মা-বাবার মধ্যে তালাকসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না এবং পিতা এ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।
রায়ে আরও বলা হয়, পূর্বে দাবি করা তালাক যদি আইনগতভাবে অকার্যকর হয়, তাহলে স্বামী আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দিতে পারেন। তবে এতে পূর্বের দেনমোহর ও ভরণপোষণের বকেয়া দায় থেকে অব্যাহতি মিলবে না।
পরিশেষে, হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া ও স্ত্রী-সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
১৬ জুল, ২০২৬
দলিল লেখক হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী নছর ভিটা গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরিদ খলিফা (৪৮) ও একই গ্রামের মো. মাসুদ মিয়া (৪১)। এর মধ্যে মাসুদ মিয়া পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-মো. ফরিদ খলিফা (৪৮) ও মো. মাসুদ মিয়া (৪১)। তবে রায় ঘোষণার সময় মাসুদ মিয়া পলাতক ছিলেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- আবদুল মতিন (৪৫), তার বাবা আব্দুস ছাত্তার ওরফে ছন্দেন আলী (৬৮), মো. মোশারফ হোসেন (৫৮), মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮), তার ভাই মো. তোফাজ্জল হোসেন (৪৮), মো. নজরুল মিয়া (৪৩), মো. মোকলেছুর রহমান (৫৩), মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮), তার ভাই মো. আতিকুল (৩৯) এবং পলাতক মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা ও ভালুকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আবু জাকারিয়া (মিন্টু) নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি দেখতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। পরে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী লতিফা খাতুন ভালুকা মডেল থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর পুলিশ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। ১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা: হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালাস
পিরোজপুরের ঝর্ণা রাণী দেউরীকে অপহরণ ও হত্যার মামলায় অধস্তন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া একমাত্র আসামি লিটন মন্ডলকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে মৃত্যুর কথা বলা হলেও মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আইনি দুর্বলতা ছিল। ভুক্তভোগীর বাবা সরাসরি মরদেহ না দেখেই থানায় কেবল কাপড়চোপড় এবং পুলিশের দেখানো একটি ছবির ওপর ভিত্তি করে মেয়েকে শনাক্ত করেন। শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত ওই ছবিটি অধস্তন আদালতের নথিতে (এলসিআর) সংযুক্ত ছিল না। আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছেন।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ জুন পিরোজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মিজানুর রহমান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পলাতক আসামি লিটন মন্ডলকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ৩০২/২০১ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রতন দেউরী, রনজিৎ হাওলাদার এবং বিপুল শাখারী নামে অপর তিন আসামিকে খালাস দেন বিচারিক আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঝর্ণা রাণী দেউরী রামচন্দ্রপুর শাহ মাহামুদিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন। ২০০৯ সালের ২৪ মে তার বাবা সুভাষ চন্দ্র দেউরী নেছারাবাদ থানায় মামলাটি করেন। জানা গেছে, প্রতিবেশী লিটন মন্ডল ঝর্ণাকে উত্ত্যক্ত করতো এবং বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৪ মে বাগেরহাটের কচুয়া থানার আন্দার মানিক গ্রামে বড় বোনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঝর্ণা নিখোঁজ হন। ওইদিনই স্বরূপকাঠী কৌরিখাড়া খেয়ার ট্রলারে লিটন ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ঝর্ণাকে দেখতে পান সুমন দেউরী নামে এক সাক্ষী। পরে ১৭ মে পত্রিকায় বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় গিয়ে পরিধেয় বস্ত্র দেখে তা ঝর্ণার মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিতে; এক মাসের মধ্যে পরিবর্তনের নির্দেশ হাইকোর্টের
ঢাকা মেট্রোরেলের অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড পরিবর্তন এবং পিলার ও উড়ালপথের (ভায়াডাক্ট) বিমে দেখা দেওয়া ফাটল মেরামতের মতো জরুরি কাজগুলো এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
রিটকারীদের আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, গত সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ কমিটির এই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বা শর্ট টার্ম কাজগুলো আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ এবং ৪৪৮ নম্বর পিলারের বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব পিলারে ত্রুটি রয়েছে, সেগুলোর ফাটল ও দেবে যাওয়ার অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। উড়ালপথের বিমে থাকা ফাটলগুলোর কারণ অনুসন্ধান করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তা দ্রুত সংস্কার করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এছাড়া বর্ষা মৌসুমের আগে স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পানি ঢোকা রোধ করা, বন্ধ হয়ে থাকা নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিষ্কার করা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিয়মিত রেললাইন পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চাকার ত্রুটি বা ফাটল থাকা ট্রেনগুলো পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর চলাচল বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে সমাধানের কথা বলেছে তদন্ত কমিটি। ঠিকাদারদের অসমাপ্ত কাজগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখতে বলা হয়েছে, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
আদালতের এই নির্দেশনার পর বুধবার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। আদালতের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য নয় সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটির দেওয়া আটটি স্বল্পমেয়াদি, দশটি মধ্যমেয়াদি, দশটি দীর্ঘমেয়াদি এবং ছয়টি কৌশলগত সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি সমন্বয় করবে। কাজের নিয়মিত অগ্রগতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে আবুল কালাম নামের এক পথচারীর মৃত্যু হয়। এর এক বছর আগেও প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনার পর জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে প্রকল্পের কাঠামোগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
বিডিএলপিবি/এমএম
১৫ জুল, ২০২৬
কপিরাইট আইন ভঙ্গঃ গাজী শামসুর রহমানের বই ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ প্রকাশ করতে পারবে না কামরুল বুক হাউজঃ হাইকোর্ট
আইনজগতের প্রখ্যাত লেখক গাজী শামসুর রহমানের লেখা ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ কামরুল বুক হাউস প্রকাশ করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। উক্ত রায় এ হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কামরুল বুক হাউস আর এই বই প্রকাশ, মুদ্রণ কিংবা বাজারজাত করতে পারবে না। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম আরিফ মন্ডল।
আদালতে উপস্থাপিত
তথ্য অনুযায়ী, খোশরোজ কিতাব মহল ১৯৫৮ সালে প্রথম ‘পুলিশ হ্যান্ডবুক’ নামে একটি সংকলন
প্রকাশ করে। বইটিতে এক মলাটে স্থান পায় ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন এবং
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইনর অ্যাক্টস। আইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে এটি দ্রুত
জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বইটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’। এরপর প্রতিটি আইন সংশোধন, নতুন বিধান, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রাসঙ্গিক পরিবর্তন যুক্ত করে ধারাবাহিকভাবে নতুন সংস্করণ প্রকাশ হতে থাকে। বর্তমানে বইটির ৪২তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বইটির ব্যাপক বাজারচাহিদাকে কেন্দ্র করে কপিরাইট বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, মূল প্রকাশকের অনুমতি ছাড়াই কামরুল বুক হাউস একই নামে বই মুদ্রণ ও বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আসছিল। যার প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত এক আপিলে হাইকোর্ট আজ এ রায় দেন।
শুনানিতে
আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী এস এম আরিফ মন্ডল আদালতকে জানান, বৈধ প্রকাশক হিসেবে খোশরোজ
কিতাব মহলই দীর্ঘদিন ধরে বইটির প্রকাশনা, সম্পাদনা ও হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করে আসছে।
অথচ কপিরাইট আইনের বিধান উপেক্ষা করে অপর একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান একই বই বাজারজাত
করছে, যা মেধাস্বত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আদালতে
আরও যুক্তি তুলে ধরেন, বইটির জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য বিবেচনায় অবৈধ পুনর্মুদ্রণ শুধু
প্রকাশকের আর্থিক ক্ষতিই করেনি, বরং পাঠকদের মাঝেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। কারণ
একই নামে একাধিক সংস্করণ বাজারে থাকলে কোনটি প্রকৃত ও হালনাগাদ সংস্করণ- তা নির্ধারণ
করা কঠিন হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আইনবিষয়ক প্রকাশনার ইতিহাসে ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আদালতে জানানো হয়, বইটির প্রথম অনুবাদক ও রচয়িতা ছিলেন অ্যাডভোকেট অধ্যাপক এটিএম কামরুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেশের খ্যাতিমান আইনবিদ, গবেষক ও আইনগ্রন্থ রচয়িতা মরহুম গাজী শামসুর রহমান বইটির ব্যাপক সংশোধন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের দায়িত্ব পালন করেন। নতুন আইন, সংশোধনী, গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বইটিকে সময়োপযোগী রূপ দেন। পরবর্তীকালে বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বইটির সর্বশেষ হালনাগাদ সংস্করণে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধনের কাজ অব্যাহত রাখেন। ফলে কয়েক প্রজন্ম ধরে আইনবিদদের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার সমন্বয়ে বইটি দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আইনগ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
বিডিএল পিবি/এমএম