জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৬ এপ্রি, ২০২৬

আইনজীবীদের অনুরোধে বার কাউন্সিল নির্বাচন পিছিয়েছে: আইনমন্ত্রী

আইনজীবীদের অনুরোধে বার কাউন্সিল নির্বাচন পিছিয়েছে: আইনমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধ এবং আসন্ন ঢাকা বার নির্বাচনের কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন পেছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার   সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধের কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সংকট বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মাননীয় সদস্য দুইটি বিষয়ের কথা বলেছেন—প্যান্ডেমিক এবং অ্যাক্ট অব গড। কিন্তু আইনের মধ্যে থাকা 'অন্য যেকোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ' (For any other reasonable cause) অংশটি উনি এড়িয়ে গেছেন। উনি সব বুঝেন, কিন্তু যতটুকু ওনার প্রয়োজন ততটুকুই আনেন।

মন্ত্রী জানান, বার কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে নিজস্ব স্বাধীনতায় সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছে। ঢাকা বার এশিয়ার বৃহত্তম বার, যেখানে ২২ হাজারের বেশি আইনজীবী আছেন। তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া সামনে রেখে তারা এই নির্বাচনটি পেছানোর অনুরোধ করেছিলেন। বার কাউন্সিল তাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছে মাত্র।

জ্বালানি সংকট বা রাজনৈতিক কারণে নির্বাচন পেছানো হয়েছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই বার কাউন্সিল নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হোক। বার কাউন্সিল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। আইনজীবীদের দাবি এবং নির্বাচনের পরিবেশ নির্ঝঞ্ঝাট রাখতেই বার কাউন্সিল তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা খাটিয়ে এই সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

১৫ এপ্রি, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশনারদের খোলা চিঠি, আইনমন্ত্রী বললেন ‘ভুল ব্যাখ্যা’

মানবাধিকার কমিশনারদের খোলা চিঠি, আইনমন্ত্রী বললেন ‘ভুল ব্যাখ্যা’


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বাতিল হওয়ায় এক খোলা চিঠি দিয়েছেন ‘সদ্য বিদায়ী’ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। 

চিঠিতে তারা অধ্যাদেশ বাতিলের সপক্ষে সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তাদের এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে সই করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ পাঁচ সদস্য। সেখানে তারা নিজেদের ‘সদ্য বিদায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি রহিত হওয়ায় তাদের নিয়োগই কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।

খোলা চিঠিতে কমিশনের অবস্থানখোলা চিঠিতে বিদায়ী কমিশনাররা ‘সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব’, ‘সরকারের প্রকৃত আপত্তি’ ও ‘ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান’ শিরোনামে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

তারা বলেন, সংসদে বলা হয়েছে গুমের সাজা মাত্র ১০ বছর, যা ভুক্তভোগীদের জন্য অবিচার। কিন্তু বাস্তবে ওই অধ্যাদেশে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের বিধানও ছিল।

তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা আদায়ের পদ্ধতি নেই বলে সংসদে যে দাবি করা হয়েছে, তাও নাকচ করেছেন কমিশনাররা। তাদের মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, যা বর্তমানের পুনর্বহালকৃত ২০০৯ সালের আইনে নেই। চিঠিতে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে নতুন কোনো গুমের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার পাবেন না।

কমিশন সদস্যরা অভিযোগ করেন, সরকার কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বললেও মূলত কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করে একে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতির শর্ত আরোপের সমালোচনা করেন তারা।
অধ্যাদেশ রহিত হওয়ার পর থেকেই পদত্যাগ ও স্বপদে থাকা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, “যে মুহূর্তে বিলটি রহিত করা হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকে এই পদে বহাল থাকার আর কোনো সুযোগ নেই। আমরা একটা জটিল জায়গায় আটকে গেছি।” কমিশন সচিব কুদরত-এ-ইলাহী জানান, আইন পাসের পর থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা আর অফিসে আসছেন না।

‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলছেন আইনমন্ত্রীকমিশনারদের এই খোলা চিঠির বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, “তারা যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। আপনি যদি আইনটি দেখেন, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর। সর্বোচ্চ ১০ বছর মানে আদালতের এখতিয়ার আছে এই সীমার মধ্যে যেকোনো সময়ের শাস্তি দেওয়ার।”

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে কমিশনারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, “একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমার কথা থাকলেও সেটি পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ওই অধ্যাদেশে ছিল না।”

আসাদুজ্জামান মনে করেন, কমিশনাররা ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে এসব কথা বলছেন, তাই এর কোনো লিখিত জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করে এবং ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশন নিয়োগ দেয়। তবে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ওই অধ্যাদেশটি রহিত করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯’ পুনঃপ্রচলন করা হয়।

সরকার জানিয়েছে, অধ্যাদেশের দুর্বলতা দূর করতে এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আইন করার লক্ষ্যেই সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে পরামর্শ সভা আয়োজন করা হতে পারে।

১৪ এপ্রি, ২০২৬

স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে: প্রধানমন্ত্রী

স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে: প্রধানমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করেছিল, তখনকার বিরোধী দল বলেছিল— বিএনপিকে এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেবে না। বর্তমান যারা বিরোধী দলে বসছে, এরাও একই কাজ শুরু করে দিয়েছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত, এদের ভেতরেও আসর করে গিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সই করার জন্য সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন ডেকেছিল, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি সনদে সই করেছিল। কাজেই যে জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন আমরা বাস্তবায়ন করবো।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি (কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড) বাস্তবায়নে যারা বাধা দেবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

১৩ এপ্রি, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

    ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এরপরেই গণমাধ্যমে তাদের পক্ষ থেকে একটা খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বিদায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর পাশাপাশি সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত, বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় চালু হলো।

এদিকে, খোলাচিঠিতে এই অধ্যাদেশ বাতিলে নতুন সরকারের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায়, ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার প্রশ্ন করছেন– “এখন আমাদের কী হবে?” তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলাচিঠি।’

বলা হয়, আমরা পাঁচজন সদ্যবিদায়ী মানবাধিকার কমিশনার। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আমাদের কর্মজীবন মানবাধিকার সুরক্ষায় নিবেদিত ছিল। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দরুন, ভুক্তভোগীদের বেদনা, আইন প্রয়োগকারীদের দৈনন্দিন প্রতিকূলতা এবং আইনাঙ্গনের জটিলতার সাথে আমরা সুপরিচিত। তাই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ আমরা কলম হাতে নিয়েছি।

৮ এপ্রি, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। এই ভোটে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তফসিল অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করবেন। আপিল আবেদন করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। এছাড়া, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে ইসি সচিবালয়ে।

সংরক্ষিত নারী আসনের রাজনৈতিক দল ও জোটভিত্তিক বণ্টনের বিষয়ে ইসি সচিব জানান, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পাবে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য পাবে ১৩টি আসন। এছাড়া, ছয়জন স্বতন্ত্র এমপি একজোট হয়ে একটি আসন পাবেন।

৭ এপ্রি, ২০২৬

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

ছবি সংগৃহীত 

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ডিবির একটি বিশেষ দল গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা হলো।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর খবরও ছড়িয়ে পড়ে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে টানা এক দশকেরও বেশি সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে তাকে আবারও স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

৩ এপ্রি, ২০২৬

গণভোট, গুম প্রতিরোধসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

গণভোট, গুম প্রতিরোধসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে


ছবি: সংগৃহীত 

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত হচ্ছে না। ফলে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তবে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এগুলোকে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী নতুন বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন উত্থাপন করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পরপর তিনটি বৈঠক করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে।

কমিটির সুপারিশে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি উত্থাপিত আকারেই পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এবং চারটি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আর বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। সেই হিসেবে ওই ১৬টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে তামাদি বা বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না করলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
১. গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫
২.জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৩. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫,
৪. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫,
৫. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৬.কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৭. আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৮. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৯. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১০. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১১. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১২. বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, 
১৩. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, 
১৪. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১৫. মাইক্রো ফাইনান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং 
১৬. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।

২৯ মার্চ, ২০২৬

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া লামিয়া মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সাবেক সচিব সেলিম উদ্দিনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার।

চলতি মাসের প্রথম ভাগে ৫টি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পররাষ্ট্র ক্যাডারের পেশাদার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের তুলনায় রাজনৈতিক বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত নিয়োগে আগ্রহী ছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সেই তালিকায় পছন্দের অঞ্চল ইউরোপ হিসেবে লামিয়া মোর্শেদের আগ্রহ ছিল নেদারল্যান্ডসের প্রতি। তাকে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ডাচ সরকারের কাছে ‘এগ্রিমো’ তথা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল।

গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ইউনূস প্রশাসন বিদায়ের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে সেই এগ্রিমোর কোনো ইতিবাচক জবাব আসেনি। লামিয়া মোর্শেদের পাশাপাশি ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢাবির সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নাম প্রস্তাব করেছিল বিগত সরকার। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি সেখানে নিয়োগ পাননি। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নামে এগ্রিমো চাওয়া হলে ইরান সরকার সবুজ সংকেত দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে রাষ্ট্রদূত হতে আগ্রহী ছিলেন না ড. নিয়াজ।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত পদটি নিশ্চিত করতে ড. নিয়াজ বিগত সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় ধরনা দিয়েছিলেন। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনজরে আসতে গত ৫ জানুয়ারি তার গুলশান কার্যালয়েও সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কে যাচ্ছেন।  অন্যদিকে, সাবেক বাণিজ্য সচিব সেলিম উদ্দিনকে মিশরে পাঠানোর জন্য গত বছরের অক্টোবরে এগ্রিমো চাওয়া হলেও কায়রো থেকে কোনো জবাব আসেনি।

১৩ দিন বিরতির পর আজ বসছে সংসদ অধিবেশন

১৩ দিন বিরতির পর আজ বসছে সংসদ অধিবেশন

ছবিঃ সংগৃহীত 

ঈদের ছুটিতে ১৩ দিন বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে আজ। রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এই অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য সরকারি ছুটির কারণে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার পর মূলতবি করা হয়েছিল।

রবিবারের সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া, অধ্যাদেশ সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন।


২৮ মার্চ, ২০২৬

সরকার গণরায় না মেনে সংবিধানকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করছে: নাহিদ ইসলাম

সরকার গণরায় না মেনে সংবিধানকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করছে: নাহিদ ইসলাম


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারি দল গণরায় মানছে না। তারা সংবিধানকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড এলাকায় এনসিপির প্রথম জেলা ও মহানগর সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তাদের পক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে, আর বিপক্ষে গেলে তারা সংবিধানের পক্ষে নয় এমন দ্বিচারিতা আমরা আগে আওয়ামী আমলেও দেখেছি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে সংসদকে কবজা করে সংবিধানকে দলীয়করণ করেছিল, একই প্রবণতা এখনকার সরকার দলের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। সরকারের এই অবস্থান অব্যাহত থাকলে জনগণ আবার রাজপথে তাদের মতামত জানাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। 

তার ভাষায়, যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, জনগণ তাদের রায় আবারও রাজপথে জানাবে। এনসিপি শুধু সংসদেই নয়, রাজপথেও সক্রিয় থাকবে। আমরা রাজপথ থেকে সংসদে গিয়েছি, কিন্তু রাজপথকে ভুলে যাব না। সংস্কার, বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এই সংগ্রাম দেশের সব জায়গার মতো নারায়ণগঞ্জেও চালিয়ে যেতে হবে।