জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৩ ফেব, ২০২৬

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী


 ছবি: সংগৃহীত 

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। দ্রুত এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। রাগিব রউফের আগে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

গত ২৭ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন আগের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পরে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পরে আইনমন্ত্রী হয়েছেন।

রাগিব রউফ চৌধুরীর বাবা ছিলেন ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরী। ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপির যে ৩ সিনিয়র নেতা

স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপির যে ৩ সিনিয়র নেতা


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রবীণ তিনজন নেতার নাম আলোচনায় আছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে। এরপর থেকেই আলোচনা উঠেছে- কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিপ হুইপ। জানা গেছে, এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই।

তবে এই পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এরপরে আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।

২২ ফেব, ২০২৬

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ জানালো নির্বাচন কমিশন

শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ জানালো নির্বাচন কমিশন


ছবিঃ সংগৃহীত 

শেরপুর-৩ আসনে পুনঃতফসিল এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন ১৪ এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দুটি আসনে বিজয়ী হয়ে শপথ গ্রহণের আগের দিন একটি আসন ছেড়ে দেন।

এজন্য বগুড়া-৬ আসনে এখন উপনির্বাচন হবে। এই আসনে কে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে আলোচনাও চলছে। অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে এই আসনেও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে।

১৫ ফেব, ২০২৬

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত 

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতিবাদে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সহিংসতা বন্ধ না হলে তারা রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে দেখা করে তারা এ দাবি জানায় তারা। দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের মুখপাত্র হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন-অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০০ পিস্তল এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।

জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে- আমরা লক্ষ্য করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হামিদুর রহমানের দাবি, দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে অনেক প্রার্থী যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেননি।

ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।

ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে তাদের প্রার্থীর একজন এজেন্ট মুসলিম হলেও ফলাফল শিটে একজন হিন্দুর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু স্থানে পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে কারচুপি করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৩২টি আসনে পুনঃগণনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৩২টি আসনে পুনঃগণনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি শুরু হয়।

চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন জোটের নেতারা।

১৪ ফেব, ২০২৬

এনসিপি থেকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার গুঞ্জন, যা বলছেন দলের নেতারা

এনসিপি থেকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার গুঞ্জন, যা বলছেন দলের নেতারা

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি ‘জাতীয় সরকার’ আদলে সর্বজনীন মন্ত্রিসভা গঠনের কথা ভাবছেন দলটি।

বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে বিশ্বস্ত ও যোগ্য নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বর্তমানে মন্ত্রিসভার পরিধি ও সদস্যদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা বা 'টেবিল ওয়ার্ক' করছেন, যেখানে প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের অগ্রাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আলোচনার মধ্যেই ১১-দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে ৬টি আসনে জয়ী হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১-২ জন নেতার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের যাওয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত প্রস্তাব নেই। তবে আমার ধারণা, যদি প্রস্তাব আসেও সেটা দল গ্রহণ করবে না।

এছাড়াও দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান শবিবার নিজের ফেসবুক একাউন্টে লেখেন, জোটের সিদ্ধান্ত ব্যতীত এককভাবে এনসিপি বিএনপির সাথে মন্ত্রীত্ব শেয়ার করবে না, ইনশাআল্লাহ!
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 'লাশ আর রক্তের ওপর দিয়ে যারা ক্ষমতা গ্রহণ করবে', তাদের সাথে এনসিপি যাবে না।

যদিও বিএনপির একাধিক বলেন, বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ‘চাপ সহ্য’ করেও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন। নতুন মন্ত্রীসভায় তারেক রহমান প্রবীণের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধাণ্য দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পেতে পারেন বেশ কিছু তুলনামূলক তরুণ বয়সী নেতা।

নতুন সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন বলেন, আমাদের লড়াই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা একটি মেধা ও প্রযুক্তি নির্ভর রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘৩১ দফা’ অনুযায়ী সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।’

জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার

জামায়াত আমিরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরকে বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন, ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি। তিনি বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’

নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ গঠন কবে?

নতুন সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ গঠন কবে?

ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। এনসিপি জয় পেয়েছে ছয় আসনে।

ভোটের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষা। গেজেট জারির পর শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর শুরু হবে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে। জানা যায়, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ হতে পারে।

পরবর্তী দু-দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভার শপথের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার। নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ নেতা হবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন-এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

নির্বাচনে দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সংসদে কী হবে, সেটাও পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে। তবে জামায়াত সংসদে প্রধান বিরোধী দল হবে, এটাও অনেকটা নিশ্চিত। 

১৩ ফেব, ২০২৬

সংসদ নেই, স্পিকার নেই, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন?

সংসদ নেই, স্পিকার নেই, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন?


ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে ২৯৯টি আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভোটেরে ভোটগ্রহণ। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা চলে ভোটগ্রহণ। পরে গণনা শুরু হয়। রাতের মধ্যেই ঘোষণা হয়ে যায় নির্বাচনী ফলাফল। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। 

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের শুরুটা হবে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে। তবে এই শপথের প্রক্রিয়া নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে কিছু অনিশ্চয়তা।
শপথ কত দিনের মধ্যে নিতে হয়? উত্তরটা হচ্ছে, সাধারণত নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে। সাধারণভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে যে বেসরকারি ফল যাওয়া যায় একদিন বা দুইদিনের মধ্যে, সেটা কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য হয় না। মানে সেই ফলাফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হবে এমনটা নয়।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হতে হবে এবং এরপর ‘তিন দিনের মধ্যে’ নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর প্রজ্ঞাপন হতে আরো কয়েকটা দিন বাড়তি সময় লাগতে পারে।

নির্বাচিত সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন? শপথ কে পড়াবেন এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ নিয়ম অনুযায়ী অতীতে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন মূলত জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে।

তাহলে উপায় কী আছে? এক্ষেত্রে আবারো যেতে হবে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।’

এই অনুচ্ছেদে মূলত দুটি উপায় বলা হয়েছে। এক. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীতি করতে পারেন। দুই. যদি তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারেন তাহলে তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাবেন।

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেসময় তিনি জানান, নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। 

শপথের পর ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন? শপথের বিষয়টির সমাধান হয়ে গেলেও আরো কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। ক্ষমতা কে, কীভাবে পাবেন, অর্থাৎ সরকার গঠন কে করবেন?

এখানে এই প্রক্রিয়াটি হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। তিনি, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন।

এখানে দলকে আমন্ত্রণ জানানো মানে দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ এবং নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বিষয়টা বর্ণনা করা আছে এভাবে যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন’।

মূলত, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই পদগুলোর ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেয়ে যাবেন। এরমধ্য দিয়েই আগের সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়ে গঠিত হয়ে যাবে নতুন সরকার। সংবিধান অনুযায়ী শপথগ্রহণ হয়ে গেলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে গণ্য হবে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে’।

২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা

২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ দুই আসনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফল ঘোষণার সমাপণী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২৯৭টি আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুই আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত জানাবে। ঘোষিত ফলাফলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে আখতার আহমেদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ধৈর্যের পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভোটের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনটি পৃথক চিঠি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই চিঠিগুলোতে বলা হয়েছিল, আদালতে মামলা চলমান থাকায় এসব আসনের ফল ঘোষণা করা হবে না। তবে এরই মধ্যে শেরপুর-২ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আপাতত এই আসনের গেজেট না প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।


৯ ফেব, ২০২৬

 ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এসএম সাজ্জাত আলী আজ বলেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ত্রুটিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে।

"আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে," তিনি বলেন। ডিএমপি কমিশনার মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। অবস্থান, ভোটার সংখ্যা এবং নিরাপত্তা বিবেচনার ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, ১,৬১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং ৫১৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্য নিযুক্ত থাকবেন।

"রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিত করার জন্য, ভোটকেন্দ্রগুলিতে শরীরে লাগানো ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা হবে," তিনি বলেন। তিনি বলেন, মোট ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম এবং ৫১০টি মোবাইল টিম ভোটকেন্দ্রের বাইরে সক্রিয় থাকবে।

তিনি আরও জানান, ডিএমপির আটটি বিভাগে আটটি সাধারণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং চারটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, কৌশলগত স্থানে বিশেষ রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন করা হবে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দ্রুত মোতায়েন করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোয়াট টিম, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং মাউন্টেড পুলিশও প্রস্তুত থাকবে। আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা একটি অর্থবহ এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তার কলঙ্ক থেকে মুক্ত থাকবে।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, পুলিশ ত্যাগ ও রক্তপাতকে সমুন্নত রাখতে প্রস্তুত, যা দেশকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। তিনি নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন যে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে।

নগরবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সম্মানিত নগরবাসীকে অনুরোধ করছি, ভয় বা বাধা ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে ভোটকেন্দ্রে যান এবং তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন।”

ডিএমপি কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই পুলিশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, প্রায় ২৫,০০০ ডিএমপি কর্মী তাদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ নির্বাচন-সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তিনি বলেন।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে কোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সারওয়ার (সেবা), অতিরিক্ত আইজি; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম, (সেবা); উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফা আক্তার প্রীতি।