অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৯ সেপ, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে ভবন নির্মাণে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

সুপ্রিম কোর্টে ভবন নির্মাণে অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক

ফাইল ছবি
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়াই আটটি প্যাকেজে কাজ ভাগ করে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির এক অভিযানে গণপূর্তের কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এই টাকা লোপাটের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলায় আদালতে চার্জশিট দিতে যাচ্ছে কমিশন।

সুপ্রিম কোর্টের ১৪ তলা বিশিষ্ট রেকর্ড ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদফতরের অধীনে ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স-এনডিই।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে অসঙ্গতি খুঁজতে বুধবার  দুদক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে খুঁজে পায়, টেন্ডার কারসাজি ও প্যাকেজ বিভাজনে অনিয়মের মাধ্যমে ৮টি সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি করায় এনডিই। তারা বলছে, রেকর্ড ভবন সংলগ্ন ক্যান্টিন, বেকারি নির্মাণসহ ৮ প্যাকেজে পুরোপুরি কাজ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গণপূর্তের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামানের যোগসাজশে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করে।

এদিকে ৩৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুই মামলায় সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ও তার ভাই এবিএম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান বলেন, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে হারুন অর রশীদ তার বাবা-মায়ের নামে অবৈধ সম্পদ ক্রয় করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: সময় টিভি (০৯.০৯.২০২৬)

মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক চেয়ে ডিএমটিসিএলকে লিগ্যাল নোটিশ

মেট্রোরেলে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক চেয়ে ডিএমটিসিএলকে লিগ্যাল নোটিশ

ফাইল ছবি
মেট্রোরেলে চলমান ট্রেন ও মেট্রো স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং কলসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জনস্বার্থে এই আইনি ডিমান্ড নোটিশ পাঠান বিইউবিটি ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিইউএলএ) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ. এম. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ)।

অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নোটিশে দেশের প্রধান তিনটি মোবাইল অপারেটর—গ্রামীণফোন, বাংলালিংক এবং রবি আজিয়াটা (এয়ারটেল)-কে মেট্রোরেল এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপনের অনুমতি ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। তবে চলমান ট্রেন ও স্টেশনগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত থাকায় যাত্রীরা জরুরি ফোনকল করতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে লিখিতভাবে নোটিশদাতাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (০৯.০৯.২০২৬)

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাসের চলাচলে অনুমতি দিয়েছে সেগুলো রাস্তায় চলাচল করবে।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিআরটিএর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন মহাসড়কে এ ধরনের বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল।

এর জবাবে আদালতকে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী যানবাহনের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন লঙ্ঘন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ (ধারা ৮৪ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা)। এছাড়া আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলার সুযোগ নেই।

আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘আদালত বলেছেন যে বিআরটিএর অনুমতিপ্রাপ্ত বাসগুলোই কেবল সড়কে চলতে পারবে। যেহেতু স্লিপার বাস চালানোর কোনো পারমিশন নেই এবং হাইকোর্টও এ বিষয়ে কোনো অনুমতি দেয়নি, তাই নিয়মের বাইরে এসব বাস সড়কে চলার কোনো সুযোগ নেই।’



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৯.০৯.২০২৬)

৭ সেপ, ২০২৬

১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃক প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যে ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ ও আর্থিক বৈধতা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম এম জি সারওয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেএই নোটিশ পাঠিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, অর্থ সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও এমডির উদ্দেশ্যে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

সংবাদপত্রের তথ্য তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের চুক্তি করা হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং বিকল্প প্রস্তাবের (যেমন—এয়ারবাসের অফার) কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তাই নোটিশে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে বলা হয়েছে, বোয়িং বিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে কিনা, বা নতুন কোনও ক্রয়ের পরিকল্পনা আছে কিনা, তা প্রকাশ করতে হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাই সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনও চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যেকোনও ক্রয় প্রক্রিয়া ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৬’ অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।
নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব চাওয়া হয়েছে। এতে ব্যর্থ হলে সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ মানুষের অর্থ সুরক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪ (০৭.০৯.২০২৬)

সুপ্রিম কোর্টে বাজেট বরাদ্দ-বিচারক নিয়োগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

সুপ্রিম কোর্টে বাজেট বরাদ্দ-বিচারক নিয়োগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

প্রতীকী ছবি
বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যুক্তিসঙ্গত বাজেট বরাদ্দ, বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচারের অধিকার এবং দ্রুত ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইলে নোটিশটি দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। অথচ বিশাল জাতীয় বাজেটের তুলনায় বিচার বিভাগের এ বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে জাতীয় বাজেটের গড়ে মাত্র ০.৪১ শতাংশ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। অথচ উচ্চ ও অধস্তন আদালতে লাখ লাখ মামলা বিচারাধীন। অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কারণে বিচারক ও মামলার অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনুপাত, অবকাঠামোগত সংকট, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও মামলা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার স্থান, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, লাইব্রেরি ও তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিচারক ও বেঞ্চ না থাকায় মামলাজট আরও বাড়ছে।

নোটিশে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠন, আইনজীবীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের পৃথক ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশপ্রাপ্তদের তিন দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৬.০৯.২০২৬)

৬ সেপ, ২০২৬

কারারক্ষী-আইনজীবী সেজে জামিনের ফাঁদ, গ্রেপ্তার ২

কারারক্ষী-আইনজীবী সেজে জামিনের ফাঁদ, গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত 
কারাগারে থাকা আসামির জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে কখনো কারারক্ষী, কখনো আইনজীবী সেজে প্রতারণা করত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিনব কৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও সুরুজ (২৬)।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে কৌশলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন। এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে ‘কারারক্ষী সাইফুল, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরিবারের সদস্যদের জানানো হতোÑ তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’-এর মাধ্যমে হয়েছে। এ সময় আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারক চক্রের অপর সদস্যের একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হতো। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে নরম স্বরে কথা বলতেন এবং জানাতেন, আসামির জামিন হয়েছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং তার হাতে সময় কম। এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক টাকা তুলে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দিতেন এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের এলাকা থেকে সরে পড়তেন।

তিনি বলেন, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় হওয়া বিকাশ/নগদ প্রতারণার মামলা তদন্তের সময় এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি ডিবি পুলিশের নজরে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয় এবং গত বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪ (০৪.০৯.২০২৬)


নাটক-সিনেমার প্রদর্শনী ও বাউলগানের কনসার্টে নিরাপত্তা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

নাটক-সিনেমার প্রদর্শনী ও বাউলগানের কনসার্টে নিরাপত্তা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
কনসার্ট, বাউল গান, লোকসংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক উৎসব ও নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন আইনসম্মত সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা ও হামলা বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপ কিংবা আপত্তির কারণে বৈধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ না করার দাবিও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি।নোটিশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।

আইনজীবীর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাউল গান, লোকসংগীত, পালাগান, যাত্রা, লোকনৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, পহেলা বৈশাখ ও নৌকাবাইচ বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব আয়োজন নিয়ে বাধা, আপত্তি এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিলের ঘটনা ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে গত মাসে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর আপত্তির পর একটি কনসার্ট প্রশাসনিকভাবে বাতিল এবং সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীতে আয়োজিত নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির বিষয়টি নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় সংগীতশিল্পী অনুপম রায়ের কনসার্ট শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিশে বলা হয়, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপের মুখে আইনসম্মত সাংস্কৃতিক আয়োজন বেআইনিভাবে বন্ধ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে শিল্পী, আয়োজক, দর্শক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের হুমকি, হামলা, অপমান ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন হুমকি কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে বৈধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি। তিনি বলেন, বর্তমানে কনসার্ট, সংগীতানুষ্ঠান, বাউল গান, নাটক ও সিনেমা প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে নানা ধরনের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও জানান আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৩.০৯.২০২৬)

৫ সেপ, ২০২৬

বিএনপির উচিত জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষাকে মেনে নেয়া: শিশির মনির

বিএনপির উচিত জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষাকে মেনে নেয়া: শিশির মনির

মোহাম্মদ শিশির মনির 
জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষাকে মেনে নেয়া বিএনপির উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেছেন, বিএনপির উচিত জনগণের পছন্দ ও মতামতকে শ্রদ্ধা করা। ইগো বা অহংকারের কাছে একটি পুরো জাতিকে হারিয়ে যেতে দেয়া ঠিক নয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘গণভোট সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপ’-এ বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী অস্বস্তিতে ভোগে। কারণ, ওই সময়ে আন্দোলনের যে বার্তা বা বক্তব্য তৈরি হয়েছিল, তা তাদের দেয়া ছিল না। অন্যদিকে যারা ওই বক্তব্য দিয়েছে, তাদেরকেও ক্রেডিট দিতে রাজি নয় দলটি।

বিএনপিকে একটি ‘জনগণের দল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির উচিত জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষাকে মেনে নেয়া। তারা আন্দোলনের যে স্লোগান, তা-ও নিজেদের পছন্দমতো নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু ইগোর কাছে একটি জাতিকে হারিয়ে যেতে দেয়া কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রধানের সামনে রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার এক অনন্য সুযোগ এসেছে। তিনি রাষ্ট্রনায়ক হবেন নাকি হবেন না–সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই গণভোট সংক্রান্ত জাতীয় সংলাপে রাজনীতিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এনসিপির সারোয়ার তুষার, এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী, ‘অল্টারনেটিভ’-এর সংগঠক তাজনুভা জাবিন, মানবাধিকারকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।


বিডিএলপিবি/এমএম


৩ সেপ, ২০২৬

পিএসসির চেয়ারম্যান হলেন ঢাবি'র আইন বিভগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

পিএসসির চেয়ারম্যান হলেন ঢাবি'র আইন বিভগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

ছবি: সংগৃহীত 
বুধবার  (২ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। এর আগে সম্প্রতি পিএসসির চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। এরপর পদটি শূন্য হয়। নবনিযুক্ত মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ০৫ (পাঁচ) বছর বা তার ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি পদে বহাল থাকবেন।  


বিডিএলপিবি/এমএম 

খাসকামরায় ডেকে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর: বিচারককে শোকজ

খাসকামরায় ডেকে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর: বিচারককে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত 
খাসকামরায় পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন ওই বিচারকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঘটনার বিচার চেয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ডাবলুসহ পুলিশের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিচারক শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিচার চান। আইনমন্ত্রী বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসআই মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি আইনমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। মন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানায় সংগঠনটি।

এর আগে মঙ্গলবার বিচারকের খাসকামরায় ডেকে নিয়ে এসআই মোহাম্মদ আলীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারাঙ্গণ ও পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিবরণ: অভিযোগে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা জানান গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলী রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালনকালে এএসআই (নিরস্ত্র) মৌসুমী আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন।  এ সময় সাকিব আল হাসান (২৯) ব্যাগ তল্লাশি না করানো নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের তল্লাশি করার কোনো অধিকার নেই বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি করা হয়। 

তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় সাকিব ‘কোর্ট হলে দেখে নিতেন’ বলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন এসআই মোহাম্মদ আলী। পরে ঢাকা রেলওয়ে থানার সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোহাম্মদ আলী। পরে তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচারকের খাস কামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে তাদের বাইরে রেখে তাকে একাই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, খাস কামরায় আগে থেকেই বিচারকের কর্মচারী সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ভেতরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তি পেছন থেকে তাকে সজোরে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন। এ সময় বিচারকের দিকে তাকিয়ে ‘স্যার, এটা কী হচ্ছে?’ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলেন, ‘বুঝছস, আমরা কারা?’

পুরো ঘটনাটি খাস কামরায় থাকা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও তার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

যা বলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা: এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।’

তিনি বলেন, ‘আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?’

মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘পরে আমাকে হাত ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয়। এরপর আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি।’ ঘটনার পর তিনি মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে ওই হামলাকারীকে আদালতের উমেদার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তার নাম জানা যায়নি। তবে তাকে দেখলে শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এসআই মোহাম্মদ আলী।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: চ্যানেল ২৪ (০৩.০৯.২০২৬)