জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৮ আগ, ২০২৬

আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের ৬৪ জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। এসব লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এতে বলা হয়, সরকার তথা মন্ত্রিপরিষদ দেশে উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যাবলির জন্য সমষ্টিগতভাবে জাতীয় সংসদ ও জনগণের নিকট দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে, যে-কোনো ক্ষেত্রে এই রুলস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন।

আরও বলা হয়, এ বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ থেকে দেওয়া রিট পিটিশন মামলার (নং ৩৫১২/২০০৩) রায়ের মর্মমতে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। সেজন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংবিধান প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করে মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তের আলোকে, সরকার এসব মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে নিচের জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রদান করল।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (২৭.০৮.২০২৬)

২১ আগ, ২০২৬

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, রাতে শপথ

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও চারজন, রাতে শপথ

ছবি: সংগৃহীত 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও চারজন যুক্ত হচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায়। এরপরই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নেবেন বলে জানা গিয়েছে। 

সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিতে যাচ্ছেন আবদুল মঈন খান, আন্দালিভ রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নাম শোনা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নতুন তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পড়াবেন। এর মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সাচিং প্রু জেরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমাকে কল করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে। এটুকুই বলতে পারি।

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের কাছে ছয়টি গাড়ি চাওয়া হয়েছিল, ছয়টি গাড়ি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন সেখান থেকে কয়টি কাজে লাগানো হবে, সেটা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলতে পারবে।

অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় নতুন কয়েকজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নিশ্চিতও করছেন না, আবার নাও করছেন না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

নতুন মন্ত্রীর তালিকায় নাম থাকা আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তার দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য। সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি।  প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। তারা মন্ত্রিসভার সদস্য নন।

আজ তিনজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা বেড়ে হবে ৫৪। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রী হবেন ২৮ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৫ জন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২১.০৮.২০২৬)

২০ আগ, ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল; প্রজ্ঞাপন জারি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল; প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে এ প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন)-এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহুল আমিন, গ্রাম-কালিবাড়ী, ডাকঘর-ঠাকুরগাঁও ৫১০০, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকুরগাঁওকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে ঘোষণা করা হলো।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের কর্তা সিইসি এ এমএম নাসির উদ্দিন।

ঘোষিত ফল অনুসারে, ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

সিইসির ঘোষণার পর টেবিল চাপড়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান সংসদ সদস্যরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ আসন থেকে উঠে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।

এরপর নিজ আসন থেকে উঠে যান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উঠে এসে তার সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। একে একে অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তার সঙ্গে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইউএনবি

১৮ আগ, ২০২৬

পুনর্গঠিত হলো দুদক, নতুন চেয়ারম্যান হলেন সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

পুনর্গঠিত হলো দুদক, নতুন চেয়ারম্যান হলেন সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে সোমবার নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে। একই আদেশে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে। সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ অনুযায়ী তাদের এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। আইন অনুযায়ী, দুদক চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের সমান বেতন, ভাতা ও মর্যাদা পাবেন। দুই কমিশনার পাবেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান সুযোগ-সুবিধা।

নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি। কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান সরকারের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্য কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া আর্থিক প্রতিবেদন কাউন্সিলের (এফআরসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন সাবেক কর কমিশনার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লখ্য, চলতি বছরের ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রজ্ঞাপন (১৭.০৮.২০২৬)

১৭ আগ, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ভারত সরকার জানিয়েছে, হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে।

ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতই নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত যাচাই করা হবে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।

আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে কবে দেশে ফিরতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ডিসেম্বরকে বিজয়ের মাস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান।বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দল আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ রয়েছে।

ভারতের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধকে দিল্লি ও ঢাকার বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টির সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র বলেছিলেন, বিষয়টি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আইনি নথি সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে আশ্রয় ও নিরাপত্তায় রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস (১৬.০৮.২০২৬)

১৩ আগ, ২০২৬

মামলার জট কমাতে আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইল বন্ড: আইনমন্ত্রী

মামলার জট কমাতে আরও ১২ জেলায় চালু হলো ই-বেইল বন্ড: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত 
মামলার জট কমানো এবং জামিন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ২৮ জেলায় ই-বেল বন্ড পদ্ধতি চালু করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয় চতুর্থ পর্যায়ে আরও ১২ জেলায় অনলাইন ই-বেইল বন্ড পদ্ধতি উদ্বোধন আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, ই-বেইল বন্ড পদ্ধতির মাধ্যমে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি থেকে মুক্ত হবে, এক ক্লিকেই বেইল পেয়ে যাবে। সরকার হয়রানি মুক্ত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন,  মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ভালো পারফরম্যান্স করা জেলাগুলোকে উৎসাহিত করতে পুরস্কার দেওয়া হবে। অনেক সময় আসামিরা জামিনের মুক্তি পাওয়ায় অপরাধের সংখ্যা বাড়ায় বিচার ব্যবস্থা আরও কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।  বছরের পর বছর মামলা ঘুরলে সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হয়। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

৯ আগ, ২০২৬

জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা

জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত 
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াও পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। বৈঠকে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে যোগ দেন।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

৬ আগ, ২০২৬

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজ

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজ

হহ
ছবি: সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ঢাকা। বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি মারাত্মক অপমান। ফ্যাসিবাদী শাসন দ্বারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক লোকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের জোয়ারকে বিপরীত করার একটি বৃথা প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনও করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।

এতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, যেকোনও অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য গভীরভাবে ক্ষতিকর এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।

প্রেস রিলিজ:


বিডিএলপিবি/এমএম (সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাঠানো প্রেস রিলিজ)

২৯ জুল, ২০২৬

বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

ছবিঃ সংগৃহীত 
বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একই সময়ে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়, বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার আয়োজনের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদল পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এতে উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জনস্বার্থে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মাইকিং, মিছিল, স্লোগান, পিকেটিং, যন্ত্রের মাধ্যমে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করতে পারে—এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ সমকাল 

২৬ জুল, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাহাবুদ্দিন জড়িত, দুদককে তদন্তের নির্দেশ

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সাহাবুদ্দিন জড়িত, দুদককে তদন্তের নির্দেশ

মো: সাহাবুদ্দিন: ছবি- সংগৃহীত 
ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকা শেয়ার কেলেঙ্কারিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স। এই মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যানসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সম্প্রতি বিএফআইইউ হাইকোর্টে এ প্রতিবেদন দাখিল করে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এই মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শনিবার (২৫ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগামী বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে জেএমসি বিল্ডার্সের মনোনীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল ছিলেন এবং এই সময়কালের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৪টি কোম্পানি মিলে ৮০ হাজার কোটি টাকা লোন নেয়। ২৪টি কোম্পানির একটি হলো রাষ্ট্রপতির কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্স। ওই টাকা এখনও ইসলামী ব্যাংককে পরিশোধ করা হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ জুল, ২০২৬

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ছবি: সংগৃহীত
 পদত্যাগ করেছেন তিন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

এই অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। এ ছাড়া স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি। স্পিকার হিসেবে আমি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।


বিডিএলপিবি/এমএম

২১ জুল, ২০২৬

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত 

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  ২০ জুলাই, সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান।

আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের সততা ও দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনি (আইনজীবী) যে মামলাটা হাতে নিয়েছেন সেটির প্রতি কমিটমেন্ট থাকতে হবে। বিচারপ্রার্থী আপনাকে প্রফেশনালি মামলায় এঙ্গেজ করেছেন, তাই আপনি আপনার কর্তব্য পালনে বাধ্য। এটা আপনার লিগ্যাল, ইথিক্যাল ও মোরাল দায়িত্বও। বিচার করবেন বিচারপতিরা। আপনি (আইনজীবী) তার মামলাটা প্রপারলি কোর্টে প্রেজেন্ট করেন। হার-জিত অন্য বিষয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার মো. কায়সার কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য এবং আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মধ্যে সবসময় একটা আকুতি ছিল। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। 

অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যিনি জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সফলতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন।একজন মানুষ এক জীবনে এর থেকে বেশি কিছু অর্জন করতে পারে না। তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন, ছয়বার এমপি হয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন, আবার ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও। 

অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন (এমপি) এবং বিএনপির আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা (বাদল)। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: বাসস

১৭ জুল, ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা-অবৈধতার বিচার আদালতের বিষয় নয়, এ প্রশ্নে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক: শিশির মনির

গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা-অবৈধতার বিচার আদালতের বিষয় নয়, এ প্রশ্নে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক: শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত 

গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা-অবৈধতার প্রশ্নে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

শিশির মনির বলেন, গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা বা অবৈধতার বিচার আদালতের বিষয় নয়। এক্ষেত্রে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায় প্রকাশের একমাত্র আইনগত মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পাতানো নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এতে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারও ভূলুণ্ঠিত করে বিচারালয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়েছে। গুম-খুন, নির্যাতন ও আয়নাঘর ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এছাড়া একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখিত হয়। বিলুপ্ত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। গণভোটের ব্যবস্থাও বিলুপ্ত করা হয়।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারে মানুষের মনে হতাশা ও গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয় দীর্ঘদিনের সেই চাপা ক্ষোভ। গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে এ সরকার। এর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

শিশির মনির বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাবলে 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ- ২০২৫' জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়। আদেশের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশে এই আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত পদ্ধতিতে গঠিত হবে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ হবে দ্বি-কক্ষের ও উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ জন সদস্য। ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট বিজয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠন করা হবে। এই পরিষদ প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবে।

তিনি আরও বলেন, সংশোধিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ভোটদানের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। একই অনুষ্ঠানে তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলীয় জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্বৈত শপথ নিলেও সরকার দলীয় নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ- ২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘন করেন তারা। সম্প্রতি পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় ঘোষণা করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

‘গণঅভ্যুত্থানের পর এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের করা রিট শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট সংক্রান্ত বিধান ফিরিয়ে আনার আদেশ দেন হাইকোর্ট বিভাগ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল করা হয়। গত ৯ জুলাই এসব আপিল খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ফলে সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত গণভোটের ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা একমাত্র হাইকোর্টের কাছেই ন্যস্ত থাকে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর অবশিষ্ট বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জাতীয় সংসদের ওপরই ন্যস্ত থাকবে বলে পর্যবেক্ষণ দেন। এ রায়ের পর এখন সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে। অতএব গোটা জাতির প্রত্যাশা পূরণের এখনই মোক্ষম সময়।

শিশির মনির বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আইন সংশ্লিষ্ট সবার ওপর বাধ্যকর। বাংলাদেশের কোনও আদালত এই আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেনি। কারণ এই আইনই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের লিখিত রূপ। তাই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে। আদেশে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক সংবিধানের প্রয়োজনীয় সব সংস্কার সম্পন্ন করাই হবে আইনসম্মত ও যথাযথ পদক্ষেপ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ার প্রমুখ।


বিডিএলপিবি/এমএম

৯ জুল, ২০২৬

পঞ্চদশ সংশোনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিলে বহাল: সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

পঞ্চদশ সংশোনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিলে বহাল: সংবিধানে ফিরেছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

ছবি: সংগৃহীত 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিল খারিজ। হাইকোর্ট ডিভিশনের রায় বহাল। অর্থাৎ সংবিধানের ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল, গণভোট পুনর্বহাল এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা একমাত্র  সুপ্রিম কোর্টের কাছেই থাকবে। তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্যান্য যত পরিবর্তন আনা হয়েছিল সেই বিষয়ে জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়েছিল। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথক আপিল করেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি আপিল করেন।

আদালতে ড. বদিউল আলম মজুমদারের আপিলের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভুঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ জুল, ২০২৬

শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা

শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা

ছবিঃ সংগৃহীত 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যার অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (৮ জুলাই) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।  

আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই মামলায় আসামি হচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কয়েকটি বাহিনীর তৎকালীন প্রধান, কয়েকজন সাংবাদিক এবং কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী।”  

তিনি আরও বলেন, “২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেই মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। খসড়া প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী ২১ জুলাইয়ের পর শাপলা চত্বর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে।” 

আমিনুল ইসলাম জানান, এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কয়েকটি বাহিনীর তৎকালীন প্রধানসহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা ওই অভিযোগে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। 

এখন পর্যন্ত এই মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। 

বিডিএলপিবি/এমএম

১২ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব


ছবি: সংগৃহীত 

দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেন। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন অর্থবছরে সর্বোচ্চ আদালতের জন্য বরাদ্দ বাড়ছে ২১ কোটি টাকা।

এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া প্রথম বাজেট। বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট পেশের আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত এই বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

পাশাপাশি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার এবং প্রণোদনামূলক উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ, করনীতি, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা এবং দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


বিডিএলপিবি/এমএম

৪ জুন, ২০২৬

জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী

জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জাতির সংকটময় সময়ে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে কাজ করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে আসেন। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে তার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠে না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন এবং অসংখ্য মানুষের আত্মদান।

তিনি দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এসব ত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভূমিকা রেখেছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই ধারার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত। কোনো আন্দোলন বা সংগ্রামের অবদানকে খাটো করার সুযোগ নেই। ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের রূপরেখা প্রণয়নে জিয়াউর রহমানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের স্বার্থে তার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলতুতমিশ সওদাগর এ্যানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

‘দেশের বিচারব্যবস্থা অতি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে’- বিচারপতি শহিদুল ইসলাম

‘দেশের বিচারব্যবস্থা অতি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে’- বিচারপতি শহিদুল ইসলাম


ছবিঃ সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত আইনজীবীদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থা বর্তমানে অতি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে এখনো অনেক মেধাসম্পন্ন বিচারক রয়েছেন। তাদের সঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কিন্তু অ্যাক্টিভিস্টদের কালো হাতের প্রভাবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।

প্রধান অতিথি বলেন, আজকে মতিউর রহমান আখন্দ যে ‘কী নোট’ উপস্থাপন করেছেন, তার সাথে আরও কিছু যোগ করে সরকারকে বলা উচিত যে আমাদের কী কী প্রয়োজন। সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই একটা উপযুক্ত বাজেট এখানে প্রয়োজন। এ খাতে যদি সরকার গুরুত্ব না দেয়, তাহলে কিন্তু আবারও একটা আন্দোলন হতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৬ মে, ২০২৬

বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায়: আইনমন্ত্রী

বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায়: আইনমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, দেশের বিচার বিভাগ যতোটা স্বাধীনতা উপভোগ করে, তা অন্য কোথাও কমই দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

দেশে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং জট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দেশে জজ এবং আইনজীবীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণেই মূলত মামলা নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে এবং এই দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, এই হত্যা মামলার যেন সঠিক ও সুষ্ঠু ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ মে, ২০২৬

দল হিসেবে আ.লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

দল হিসেবে আ.লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর


ছবি: সংগৃহীত 

দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো তদন্ত চলছে কি না, সে বিষয়ে নিজের প্রত্যক্ষ ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের তদন্ত থাকলে সে বিষয়ে তদন্ত সংস্থাই বিস্তারিত জানাতে পারবে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি আছে কি না- এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত চলছে কিনা, সে বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো তথ্য জানা গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, শাপলা চত্বরের মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে গ্রেফতার দেখানো নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় বাইরের কোনো সংস্থার হস্তক্ষেপ কাম্য নয়- বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে তদন্ত সংস্থার এখতিয়ারভুক্ত। তাই অ্যামনেস্টি বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠনের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

এ মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দোষ কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বিচার প্রক্রিয়ায় আনা হবে না- বলেও আশ্বাস দেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম