জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১২ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব


ছবি: সংগৃহীত 

দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট।

জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের জন্য এ বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করেন। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন অর্থবছরে সর্বোচ্চ আদালতের জন্য বরাদ্দ বাড়ছে ২১ কোটি টাকা।

এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া প্রথম বাজেট। বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট পেশের আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত এই বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

পাশাপাশি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার এবং প্রণোদনামূলক উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ, করনীতি, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা এবং দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।


বিডিএলপিবি/এমএম

৪ জুন, ২০২৬

জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী

জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জাতির সংকটময় সময়ে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে কাজ করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে আসেন। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে তার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠে না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন এবং অসংখ্য মানুষের আত্মদান।

তিনি দাবি করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এসব ত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভূমিকা রেখেছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই ধারার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত। কোনো আন্দোলন বা সংগ্রামের অবদানকে খাটো করার সুযোগ নেই। ইতিহাসকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের রূপরেখা প্রণয়নে জিয়াউর রহমানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের স্বার্থে তার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলতুতমিশ সওদাগর এ্যানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

‘দেশের বিচারব্যবস্থা অতি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে’- বিচারপতি শহিদুল ইসলাম

‘দেশের বিচারব্যবস্থা অতি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে’- বিচারপতি শহিদুল ইসলাম


ছবিঃ সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত আইনজীবীদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থা বর্তমানে অতি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে এখনো অনেক মেধাসম্পন্ন বিচারক রয়েছেন। তাদের সঠিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কিন্তু অ্যাক্টিভিস্টদের কালো হাতের প্রভাবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।

প্রধান অতিথি বলেন, আজকে মতিউর রহমান আখন্দ যে ‘কী নোট’ উপস্থাপন করেছেন, তার সাথে আরও কিছু যোগ করে সরকারকে বলা উচিত যে আমাদের কী কী প্রয়োজন। সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই একটা উপযুক্ত বাজেট এখানে প্রয়োজন। এ খাতে যদি সরকার গুরুত্ব না দেয়, তাহলে কিন্তু আবারও একটা আন্দোলন হতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৬ মে, ২০২৬

বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায়: আইনমন্ত্রী

বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায়: আইনমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলেই অনেক মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ হেরে যায় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, দেশের বিচার বিভাগ যতোটা স্বাধীনতা উপভোগ করে, তা অন্য কোথাও কমই দেখা যায়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

দেশে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং জট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দেশে জজ এবং আইনজীবীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণেই মূলত মামলা নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে এবং এই দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলোচিত শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, এই হত্যা মামলার যেন সঠিক ও সুষ্ঠু ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ মে, ২০২৬

দল হিসেবে আ.লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

দল হিসেবে আ.লীগ নিষিদ্ধে তদন্ত নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর


ছবি: সংগৃহীত 

দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো তদন্ত চলছে কি না, সে বিষয়ে নিজের প্রত্যক্ষ ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের তদন্ত থাকলে সে বিষয়ে তদন্ত সংস্থাই বিস্তারিত জানাতে পারবে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি আছে কি না- এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে বর্তমানে তদন্ত চলছে কিনা, সে বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো তথ্য জানা গেলে তা গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, শাপলা চত্বরের মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে গ্রেফতার দেখানো নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় বাইরের কোনো সংস্থার হস্তক্ষেপ কাম্য নয়- বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে তদন্ত সংস্থার এখতিয়ারভুক্ত। তাই অ্যামনেস্টি বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠনের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

এ মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দোষ কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বিচার প্রক্রিয়ায় আনা হবে না- বলেও আশ্বাস দেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৯ মে, ২০২৬

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম

আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম


ছবি: সংগৃহীত 

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে সব বিচারককে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনে সব বিচারককে সরিয়ে নেয় আইন মন্ত্রণালয়।

 অন্তবর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ করলেও তা আর আইন করেনি বিএনপি সরকারের প্রথম সংসদ। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। 

১৮ মে, ২০২৬

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নয়: আইনমন্ত্রী

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নয়: আইনমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, একজন প্রধান বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পরে দিনগুণতে থাকেন কবে তিনি ওই পদে যাবেন। অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বসানোর চেষ্টা দেখেছি। আমরা এই জায়গা থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাই।

রোববার (১৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজন সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, দেশে রাজনৈতিক কর্মীরা সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আগের সরকারের সময় রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আদালত বসিয়ে বিচারের নামে সাজা দিয়েছেন, তারা জবাবদিহির বাইরে রয়ে গেছেন। আমরা তাদের ফেরেশতার মতো দেখি। তারা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমরা সুপ্রিম কোর্টে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ দেখেছি।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা, সানজিদা ইসলাম তুলি, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জেলা ও দায়রা জজ শামসুদ্দিন মাসুম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও খালেদ হামিদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, গুম সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি না হয়, সেজন্য আইনটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে যেভাবে গুম কমিশন অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল, তাতে অপরাধীই বেশি লাভবান হতো। সেটাকে আমরা আরো সময়োপযোগী করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন যেভাবে করা হয়েছে, তাতে করলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ, আমরা একইসঙ্গে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মধ্যে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেখানে বিচার হবে, তদন্ত হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম নিয়ে একটি কার্যকরী আইন করতে চাই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যেন নখ দন্তহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে যুগপোযোগী ও কল্যাণমুখী আইন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, নতুন জেনারেশন অনেক মেধাবী। তাদের সঠিক জায়গায় বসাতে হবে। আমরা একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করে ফেলেছি।

সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা বলেন, আমার স্বামী সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীকে ২০১২ সালে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে গুম করা হয়। এরপর আরো অনেক লোককে গুম করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গুম সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাইনি। দেশ থেকে গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, গুম একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। আমি চাই আগে যারা গুম হয়েছেন, তাদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য সরবরাহ করা হোক।


বিডিএলপিবি/এমএম

৬ মে, ২০২৬

জেলা প্রশাসকদের দায়বদ্ধতা স্মরণ রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

জেলা প্রশাসকদের দায়বদ্ধতা স্মরণ রেখে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত 

বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা সরকারের প্রতিচ্ছবি। তাঁরা নির্বাহী বিভাগ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করে।

জেলা প্রশাসক সম্মেলন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন ডিসিরা।

সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আপিল বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৫ এপ্রি, ২০২৬

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল


ছবি: সংগৃহীত 

বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা, সতর্কতা জোরদার

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা, সতর্কতা জোরদার

ছবি: সংগৃহীত 

নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতা পরিকল্পনা ঘিরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন- জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এছাড়া তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

২৪ এপ্রি, ২০২৬

এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক-রনি-কাফি-ফ্লোরা

এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক-রনি-কাফি-ফ্লোরা

ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন বিএনপি বহিষ্কৃত নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, জনপ্রিয় সামাজিক কর্মী মহিউদ্দিন রনি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা। 

দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা ফুল দিয়ে নতুন সদস্যদের বরণ করে নেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ইসহাক সরকারকে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এ লক্ষ্যে বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

ইসহাক সরকার ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি তিন শতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি মামলায় আদালত থেকে তিনি খালাস পান।

সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসহাক সরকার। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে এনসিপিতে যোগ দেন মহিউদ্দিন রনি। তিনি রেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। অন্যদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি তার জনপ্রিয় সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিত মুখ।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এই নতুন মুখদের যুক্ত হওয়া দলটির সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করবে।

১৬ এপ্রি, ২০২৬

আইনজীবীদের অনুরোধে বার কাউন্সিল নির্বাচন পিছিয়েছে: আইনমন্ত্রী

আইনজীবীদের অনুরোধে বার কাউন্সিল নির্বাচন পিছিয়েছে: আইনমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং এর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধ এবং আসন্ন ঢাকা বার নির্বাচনের কারণে বার কাউন্সিলের নির্বাচন পেছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার   সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন বন্ধের কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সংকট বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না—এমন প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মাননীয় সদস্য দুইটি বিষয়ের কথা বলেছেন—প্যান্ডেমিক এবং অ্যাক্ট অব গড। কিন্তু আইনের মধ্যে থাকা 'অন্য যেকোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ' (For any other reasonable cause) অংশটি উনি এড়িয়ে গেছেন। উনি সব বুঝেন, কিন্তু যতটুকু ওনার প্রয়োজন ততটুকুই আনেন।

মন্ত্রী জানান, বার কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে নিজস্ব স্বাধীনতায় সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছে। ঢাকা বার এশিয়ার বৃহত্তম বার, যেখানে ২২ হাজারের বেশি আইনজীবী আছেন। তাদের নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া সামনে রেখে তারা এই নির্বাচনটি পেছানোর অনুরোধ করেছিলেন। বার কাউন্সিল তাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছে মাত্র।

জ্বালানি সংকট বা রাজনৈতিক কারণে নির্বাচন পেছানো হয়েছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই বার কাউন্সিল নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হোক। বার কাউন্সিল স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। আইনজীবীদের দাবি এবং নির্বাচনের পরিবেশ নির্ঝঞ্ঝাট রাখতেই বার কাউন্সিল তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা খাটিয়ে এই সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

১৫ এপ্রি, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশনারদের খোলা চিঠি, আইনমন্ত্রী বললেন ‘ভুল ব্যাখ্যা’

মানবাধিকার কমিশনারদের খোলা চিঠি, আইনমন্ত্রী বললেন ‘ভুল ব্যাখ্যা’


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বাতিল হওয়ায় এক খোলা চিঠি দিয়েছেন ‘সদ্য বিদায়ী’ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। 

চিঠিতে তারা অধ্যাদেশ বাতিলের সপক্ষে সংসদে উপস্থাপিত তথ্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তাদের এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে সই করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ পাঁচ সদস্য। সেখানে তারা নিজেদের ‘সদ্য বিদায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি রহিত হওয়ায় তাদের নিয়োগই কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।

খোলা চিঠিতে কমিশনের অবস্থানখোলা চিঠিতে বিদায়ী কমিশনাররা ‘সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব’, ‘সরকারের প্রকৃত আপত্তি’ ও ‘ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান’ শিরোনামে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

তারা বলেন, সংসদে বলা হয়েছে গুমের সাজা মাত্র ১০ বছর, যা ভুক্তভোগীদের জন্য অবিচার। কিন্তু বাস্তবে ওই অধ্যাদেশে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের বিধানও ছিল।

তদন্তের সময়সীমা ও জরিমানা আদায়ের পদ্ধতি নেই বলে সংসদে যে দাবি করা হয়েছে, তাও নাকচ করেছেন কমিশনাররা। তাদের মতে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, যা বর্তমানের পুনর্বহালকৃত ২০০৯ সালের আইনে নেই। চিঠিতে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে নতুন কোনো গুমের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার পাবেন না।

কমিশন সদস্যরা অভিযোগ করেন, সরকার কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বললেও মূলত কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করে একে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতির শর্ত আরোপের সমালোচনা করেন তারা।
অধ্যাদেশ রহিত হওয়ার পর থেকেই পদত্যাগ ও স্বপদে থাকা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, “যে মুহূর্তে বিলটি রহিত করা হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকে এই পদে বহাল থাকার আর কোনো সুযোগ নেই। আমরা একটা জটিল জায়গায় আটকে গেছি।” কমিশন সচিব কুদরত-এ-ইলাহী জানান, আইন পাসের পর থেকে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা আর অফিসে আসছেন না।

‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলছেন আইনমন্ত্রীকমিশনারদের এই খোলা চিঠির বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, “তারা যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। আপনি যদি আইনটি দেখেন, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর। সর্বোচ্চ ১০ বছর মানে আদালতের এখতিয়ার আছে এই সীমার মধ্যে যেকোনো সময়ের শাস্তি দেওয়ার।”

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে কমিশনারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, “একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমার কথা থাকলেও সেটি পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ওই অধ্যাদেশে ছিল না।”

আসাদুজ্জামান মনে করেন, কমিশনাররা ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে এসব কথা বলছেন, তাই এর কোনো লিখিত জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করে এবং ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান কমিশন নিয়োগ দেয়। তবে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ওই অধ্যাদেশটি রহিত করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯’ পুনঃপ্রচলন করা হয়।

সরকার জানিয়েছে, অধ্যাদেশের দুর্বলতা দূর করতে এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আইন করার লক্ষ্যেই সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে পরামর্শ সভা আয়োজন করা হতে পারে।

১৪ এপ্রি, ২০২৬

স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে: প্রধানমন্ত্রী

স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধী দলের কাঁধে চেপে বসেছে: প্রধানমন্ত্রী


ছবি: সংগৃহীত 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করেছিল, তখনকার বিরোধী দল বলেছিল— বিএনপিকে এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেবে না। বর্তমান যারা বিরোধী দলে বসছে, এরাও একই কাজ শুরু করে দিয়েছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত, এদের ভেতরেও আসর করে গিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সই করার জন্য সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন ডেকেছিল, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি সনদে সই করেছিল। কাজেই যে জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন আমরা বাস্তবায়ন করবো।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি (কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড) বাস্তবায়নে যারা বাধা দেবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

১৩ এপ্রি, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

    ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এরপরেই গণমাধ্যমে তাদের পক্ষ থেকে একটা খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বিদায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর পাশাপাশি সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত, বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ওই অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রণীত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনরায় চালু হলো।

এদিকে, খোলাচিঠিতে এই অধ্যাদেশ বাতিলে নতুন সরকারের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায়, ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার প্রশ্ন করছেন– “এখন আমাদের কী হবে?” তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলাচিঠি।’

বলা হয়, আমরা পাঁচজন সদ্যবিদায়ী মানবাধিকার কমিশনার। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আমাদের কর্মজীবন মানবাধিকার সুরক্ষায় নিবেদিত ছিল। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দরুন, ভুক্তভোগীদের বেদনা, আইন প্রয়োগকারীদের দৈনন্দিন প্রতিকূলতা এবং আইনাঙ্গনের জটিলতার সাথে আমরা সুপরিচিত। তাই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ আমরা কলম হাতে নিয়েছি।

৮ এপ্রি, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে

সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে


ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। এই ভোটে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তফসিল অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ এপ্রিল রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই করবেন। আপিল আবেদন করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। এছাড়া, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে ইসি সচিবালয়ে।

সংরক্ষিত নারী আসনের রাজনৈতিক দল ও জোটভিত্তিক বণ্টনের বিষয়ে ইসি সচিব জানান, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পাবে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য পাবে ১৩টি আসন। এছাড়া, ছয়জন স্বতন্ত্র এমপি একজোট হয়ে একটি আসন পাবেন।

৭ এপ্রি, ২০২৬

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

ছবি সংগৃহীত 

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ডিবির একটি বিশেষ দল গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা হলো।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর খবরও ছড়িয়ে পড়ে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে টানা এক দশকেরও বেশি সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে তাকে আবারও স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

৩ এপ্রি, ২০২৬

গণভোট, গুম প্রতিরোধসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

গণভোট, গুম প্রতিরোধসহ যে ১৬ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে


ছবি: সংগৃহীত 

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত হচ্ছে না। ফলে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তবে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এগুলোকে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী নতুন বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন উত্থাপন করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পরপর তিনটি বৈঠক করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে।

কমিটির সুপারিশে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি উত্থাপিত আকারেই পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এবং চারটি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আর বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। সেই হিসেবে ওই ১৬টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে তামাদি বা বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না করলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
১. গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫
২.জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৩. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫,
৪. রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫,
৫. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৬.কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৭. আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৮. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
৯. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১০. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১১. দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১২. বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, 
১৩. বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, 
১৪. গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, 
১৫. মাইক্রো ফাইনান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং 
১৬. তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।

২৯ মার্চ, ২০২৬

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

লামিয়া-নিয়াজ-সেলিমকে রাষ্ট্রদূত করছে না সরকার

ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া লামিয়া মোর্শেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং সাবেক সচিব সেলিম উদ্দিনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে বর্তমান সরকার।

চলতি মাসের প্রথম ভাগে ৫টি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পররাষ্ট্র ক্যাডারের পেশাদার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের তুলনায় রাজনৈতিক বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাষ্ট্রদূত নিয়োগে আগ্রহী ছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। সেই তালিকায় পছন্দের অঞ্চল ইউরোপ হিসেবে লামিয়া মোর্শেদের আগ্রহ ছিল নেদারল্যান্ডসের প্রতি। তাকে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ডাচ সরকারের কাছে ‘এগ্রিমো’ তথা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছিল।

গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ইউনূস প্রশাসন বিদায়ের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও নেদারল্যান্ডস সরকারের পক্ষ থেকে সেই এগ্রিমোর কোনো ইতিবাচক জবাব আসেনি। লামিয়া মোর্শেদের পাশাপাশি ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢাবির সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নাম প্রস্তাব করেছিল বিগত সরকার। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি সেখানে নিয়োগ পাননি। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নামে এগ্রিমো চাওয়া হলে ইরান সরকার সবুজ সংকেত দিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে রাষ্ট্রদূত হতে আগ্রহী ছিলেন না ড. নিয়াজ।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত পদটি নিশ্চিত করতে ড. নিয়াজ বিগত সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দফায় দফায় ধরনা দিয়েছিলেন। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনজরে আসতে গত ৫ জানুয়ারি তার গুলশান কার্যালয়েও সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কে যাচ্ছেন।  অন্যদিকে, সাবেক বাণিজ্য সচিব সেলিম উদ্দিনকে মিশরে পাঠানোর জন্য গত বছরের অক্টোবরে এগ্রিমো চাওয়া হলেও কায়রো থেকে কোনো জবাব আসেনি।

১৩ দিন বিরতির পর আজ বসছে সংসদ অধিবেশন

১৩ দিন বিরতির পর আজ বসছে সংসদ অধিবেশন

ছবিঃ সংগৃহীত 

ঈদের ছুটিতে ১৩ দিন বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে আজ। রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এই অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য সরকারি ছুটির কারণে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলার পর মূলতবি করা হয়েছিল।

রবিবারের সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া, অধ্যাদেশ সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন।