আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২০ মার্চ, ২০২৬

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে কত দিনে এশিয়ায় পৌঁছাবে তেল?

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে কত দিনে এশিয়ায় পৌঁছাবে তেল?

ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে মাত্র তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই সেই তেল এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

তিনি ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি তেল এশীয় বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তাঁর মতে, দ্রুত সরবরাহ শুরু হলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, সমুদ্রে ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের তেল সরবরাহ দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে প্রবাহিত হবে, যা সরবরাহ বাড়িয়ে দামের চাপ কিছুটা কমাতে পারে।

৯ মার্চ, ২০২৬

কে এই মোজতবা খামেনি?

কে এই মোজতবা খামেনি?


ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন চলছিল ইরানের শীর্ষ পদটি নিয়ে। অন্তর্বর্তীও নিয়োগ দিয়েছিল ইরান। এবার আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিকে কখনোই কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায়নি। এমনকি কোনো জনমতের মুখোমুখিও হননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের মাঝে তাকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে হলো।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধের প্রথম দিনে তেহরানে খামেনি পরিবারের বাসভবনে চালানো ভয়াবহ হামলায় নিহত হন মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। প্রাণ হারান মোজতবা খামেনির মা, স্ত্রী ও এক বোনও। বাড়িতে না থাকায় বেঁচে যান মোজতবা।

কে এই মোজতবা? ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী কিন্তু আড়ালে থাকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে ওঠেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সময়ে। তার বাবা, তখনকার প্রভাবশালী আলেম, শাহের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বারবার গ্রেফতার ও নির্বাসিত হন।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবারের অবস্থান পালটে গেলে মোজতবা তেহরানে চলে আসেন। সেখানে তিনি এলিট আলাভি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। এটি শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব তৈরির জন্য পরিচিত। পরবর্তীতে তেহরান ও কুমে ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং রক্ষণশীল আলেম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-তাকি মেসবাহ ইয়াজদি-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির অধীনে পড়াশোনা করেন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইউএএনআই জানিয়েছে।

মোজতবা একজন মধ্যম-স্তরের আলেম, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ নন। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরে আড়ালের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।  বিশ্লেষকেরা প্রায়ই তার ভূমিকাকে আহমদ খোমেনির সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি তার বাবা রুহুল্লাহ খোমেনির শাসনামলে প্রধান আস্থাভাজন ও গেটকিপার হিসেবে কাজ করেছিলেন।

মোজতবার প্রভাবের পেছনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি হাবিব ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে গোয়েন্দা ও বাসিজ কমান্ডারসহ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ওঠা ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদেশি সরকারগুলো তাকে নির্বাচন রাজনীতি ও নিরাপত্তা দমনপীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় মার্কিন ট্রেজারি জানায়, আলী খামেনি তার কিছু ক্ষমতা ছেলের কাছে ন্যস্ত করেছিলেন এবং নির্বাচিত পদে না থাকলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতেন।

তবে তার উত্তরসূরি হওয়া সহজ ছিল না। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম লিডার হতে হলে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম এবং স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক সক্ষমতার অধিকারী হতে হয়। মোজতবা বর্তমানে আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা ধারণ করেন না। তা ছাড়া বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাবা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর একটি সংবেদনশীল বিষয়।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসই পরবর্তী সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে থাকে। সংস্থাটি যোগ্য আলেমদের মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মানদণ্ড পূরণকারী একজনকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সংবিধান প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ব্যবস্থারও অনুমতি দেয়, যাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী কর্তৃত্ব অব্যাহত থাকে।

১ মার্চ, ২০২৬

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ছবিঃ সংগৃহীত 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে সিআইএ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরার ওপর নজর রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে তারা।

প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইএর কাছে তথ্য আসে যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন খামেনিও। এমন তথ্য সিআইএর হাতে আসার পর হামলার সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। কারণ তারা বলে আসছিল যে, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। তারা মনে করে, প্রাপ্ত তথ্যের ফলে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ। তবে সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা।

মার্কিন গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়। বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল, বৈঠকে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

খবরে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী ইসরাইলের সময় অনুসারে ভোর ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তখন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘ পাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য সঠিক এবং সে অনুযায়ী ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর হামলা যে নিখুঁত ছিল সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে। হামলার পরপরই ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের দাবির ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারছিল না। ইরানের পক্ষ থেকেও একাধিকবার বলা হয়, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তীতে তেহরান খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার শাহাদাতের কথা স্বীকার করে।

সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে যেভাবে হত্যা করা হলো

সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে যেভাবে হত্যা করা হলো

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি রোববার সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চালানোর সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর। ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন।

শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল আল জাজিরা। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে গেছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি। এ ঘটনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।’

তিনি যোগ করেন, ‘‘যেমন আমি গত রাতে বলেছি, ‘এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!’ আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।‘ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ৭ দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত


ছবি: সংগৃহীত 

ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ইরানি বার্তাসংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।  ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতা নিহত হয়েছেন।

এর আগে ইসরায়েলের  চ্যানেল-১২ এর আগে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। তিনি তার প্রাসাদের কমাউন্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ইরানি উদ্ধারকারীরা।

এদিকে শনিবার সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য বড় হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস পরবর্তীতে স্যাটেলাইটের একটি ছবি প্রকাশ করে। এতে দেখা গেছে খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬)। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করেন।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি তৈরি করা হয় এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ওপরে একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়। ৮৮ সদস্যের আলেমদের নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নেতা নির্বাচন করে।

খামেনির ক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নিরাপত্তা কাঠামোর আনুগত্য তার অবস্থানকে দৃঢ় করে রেখেছে।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি। তবে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন দাবি করে আসছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অতীতে খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হতে পারে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছিলেন, ‘খামেনি এভাবে টিকে থাকতে পারেন না।’ তার ভাষায়, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ চাইলে সরকার পরিবর্তন সম্ভব এবং সেটিই ‘সেরা পরিণতি’ হতে পারে। অতীতে তিনি খামেনিকে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। কৌশলগতভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর করা গেলে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

২৭ ফেব, ২০২৬

পাকিস্তানের অভিযানে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত

পাকিস্তানের অভিযানে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদা নিহত


ছবি: সংগৃহীত 

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের পরিচালিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা এক বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার ভোর ৬টা ৩ মিনিটে ওসিন্ট ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানি বিমান হামলায় কাবুলে আখুন্দজাদা এবং কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালের পর আফগানিস্তানে তালেবান বাহিনী দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করলে হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হন। তার নির্দেশনাতেই মূলত সরকার পরিচালিত হয়। পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে লক্ষ্য করে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালায়, যাতে ৮০-এর বেশি নিহত হন।

এরপর, আফগান সেনারা পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই হামলায় পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিলেন, আফগান সেনারা নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

ডুরান্ড লাইনে হামলার মাত্র তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে থাকা পাকিস্তান এবার সীমান্তের ঘটনায় সরাসরি প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কেবল যুদ্ধ হবে। অভিযানে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

৯ ফেব, ২০২৬

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাড়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড

ইরানে শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে নতুন করে সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার সমর্থকরা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনশন শুরু করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন এই সাজা দেয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহের ওই অনশনের পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।

২০২৩ সালে শান্তিতে পুরস্কার জয়ী মোহাম্মদি ডিসেম্বরে এক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় গত দুই মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।

তার ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তাকে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং ইরানের ইসলামী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘প্রচারণার’ জন্য তাকে আরো দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারকদের সামনে মোহাম্মদিকে হাজির করিয়ে দ্রুত সাজা দেয়ার পর তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি বা কোনো বিবৃতিও দেননি।

প্যারিসে বসবাসকারী নার্গিস মোহাম্মাদির স্বামী তাগি রাহমানি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নার্গিস আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, এই বিচার বিভাগের কোনো বৈধতা নেই। তিনি এই বিচার প্রক্রিয়াগুলোকে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যের একটি নিছক নাটক হিসেবে দেখেন।’ মোহাম্মদি তার কারাবাসের অবস্থা ও আইনজীবী ও পরিবারের সাথে ফোনে কথা বলতে না পারার প্রতিবাদে গত ২ ফেব্রুয়ারি অনশন শুরু করেন।

তার ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নার্গিস মোহাম্মদি আজ ষষ্ঠ দিনে তার অনশন শেষ করেছেন, যদিও প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে তার শারীরিক অবস্থা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তার স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে মাত্র তিন দিন আগে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনটি জানিয়েছে, তবে চিকিৎসা শেষ করার আগেই তাকে মাশহাদে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা আটক কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার চলমান আটক জীবন-হুমকিস্বরূপ ও মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

৩ ফেব, ২০২৬

ট্রাম্পের ঘোষণায় মুম্বাইয়ের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি

ট্রাম্পের ঘোষণায় মুম্বাইয়ের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি


ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সাথে একটি বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করার এবং দেশ থেকে পণ্যের উপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের শেয়ারের দাম উর্ধ্বমুখী হয়েছে।

চুক্তির খবরে নিফটি স্টক সূচক ৪.৮৬ শতাংশ বেড়ে ২৬,২০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, ট্রাম্প বলেছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর এই চুক্তি হয়েছে।

৫ নভে, ২০২৫

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হলেন জোহরান মামদানি

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হলেন জোহরান মামদানি


ছবি: সংগৃহীত 

ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কয়েক প্রজন্মের মধ্যে নির্বাচিত সবচেয়ে তরুণ মেয়রও বটে। 

৩৪ বছর বয়সী মামদানি তরুণ ভোটারদের উচ্ছ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে তার প্রার্থিতা দলের মধ্যে কিছু বিতর্কও সৃষ্টি করে।

মামদানি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করেছেন। সাবেক এই গভর্নর কেলেঙ্কারির কারণে চার বছর আগে পদত্যাগ করার পর রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মামদানিকে 'কমিউনিস্ট' আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি জয়ী হলে শহরের জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখবেন। নির্বাচনের আগের রাতে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে এড়িয়ে কুয়োমোকে সমর্থন দেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টা)।  নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন জানায়, ১৯৮৯ সালের পর এবারই প্রথম শহরটিতে ভোটার উপস্থিতি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, এবার ভোটার উপস্থিতির হার ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছেছে।

মামদানি এখনও সরাসরি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেননি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আংশিকভাবে তার জয় স্বীকার করেছেন।  নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায় একটি সাবওয়ে ট্রেনের দরজা খোলা হচ্ছে, আর ঘোষক বলছেন,  পরবর্তী এবং শেষ স্টেশন হলো সিটি হল।

৩০ জুন, ২০২৫

বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ার মাশরুম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করবে জুরি বোর্ড

বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ার মাশরুম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করবে জুরি বোর্ড

ওয়েলিংটনের মধ্যাহ্নভোজে বিষাক্ত মাশরুম মেশানো গরুর মাংস দিয়ে স্বামীর পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান নারী এরিন প্যাটারসন এর ভাগ্য নির্ধারিত হবে জুরি বোর্ডের রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এরিন প্যাটারসন দোষী কিনা তা নির্ধারণের জন্য ১২ সদস্যের প্যানেলের সিদ্ধন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

"আপনাদের অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তার কোনও বক্তব্য অসত্য ছিল কিনা," বিচারক ক্রিস্টোফার বিল তার চূড়ান্ত নির্দেশে বলেন। তিনি বলেন, "আপনার মামলার সমস্ত প্রমাণ বিবেচনা করা উচিত এবং শুধুমাত্র আপনার গ্রহণ করা প্রমাণের উপর ভিত্তি করে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত, কিন্তু অনুমানের উপরে নয়।

৫০ ​​বছর বয়সী এই নারীর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তার সাবেক স্বামীর বাবা-মা এবং খালাকে তাদের গরুর মাংস এবং পেস্ট্রি খাবারে ডেথ ক্যাপ মাশরুম - বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক ছত্রাক মিশিয়ে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে চতুর্থ অতিথি - তার স্বামীর চাচা - কে হত্যার চেষ্টা করারও অভিযোগ আনা হয়, যিনি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় থাকার পর বেঁচে গিয়েছিলেন।

মেলবোর্নের দক্ষিণ-পূর্বে মরওয়েলের আদালতে রায় নিয়ে বিতর্ক শুরু করার পরে ১৪ সদস্যের জুরি সদস্যদের ব্যালটের মাধ্যমে ১২ জনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। প্যাটারসন তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন, বলেছেন যে ওয়েলিংটনের গরুর মাংস - পৃথক অংশে রান্না করা - বিষক্রিয়া একটি ভুল ছিল। বিচার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের লিওঙ্গাথার কৃষি গ্রামে তার সম্পত্তিতে খাবারের সাথে সম্পর্কিত ঘটনাগুলির উপর ফরেনসিক বিশদভাবে আলোকপাত করেছেন।

সেই বিকেলে তার মধ্যাহ্নভোজের অতিথিরা ছিলেন ডন এবং গেইল প্যাটারসন, তার সাবেক স্বামী সাইমনের বয়স্ক বাবা-মা। সাইমনের খালা হিদার এবং তার স্বামী ইয়ান, স্থানীয় ব্যাপটিস্ট গির্জার একজন সুপরিচিত যাজকের জন্যও জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সাইমনকে আসতে বলা হয়েছিল কিন্তু তিনি মারাত্মক এই মধ্যাহ্নভোজের প্রাক্কালে "অস্বস্তিকর" বোধ করায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। খাবারের কয়েক দিনের মধ্যেই, তার বাবা-মা এবং খালা অঙ্গ বিকল হয়ে মারা যান। চার অতিথির মধ্যে, কেবল যাজক বেঁচে যান।

প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে যে প্যাটারসন ইচ্ছাকৃতভাবে ডেথ ক্যাপ মাশরুম সংগ্রহ করেছিলেন এবং খাবারের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন, তার মধ্যাহ্নভোজের অতিথিদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে। তিনি এই বিষাক্ত মাশরুম না খাওয়ার বিষয়ে যত্নবান ছিলেন এবং সন্দেহ এড়াতে দুপুরের খাবারের পরে অসুস্থতার ভান করেছিলেন, প্রসিকিউশন বসাক।

কিন্তু প্যাটারসনের আইনজীবী বলেছেন যে এটি একটি "ভয়াবহ দুর্ঘটনা" এবং তিনি কখনই ইচ্ছা করেননি যে কাউকে হত্যা বা ক্ষতি করতে হবে। "আমি ইচ্ছাকৃতভাবে খাবারে ডেথ ক্যাপ মাশরুম রাখিনি," প্যাটারসন আদালতে তার সাক্ষ্যে বলেছেন।

প্যাটারসন মৃত্যুর তদন্তকারী পুলিশকে বলেছেন যে তার কোনও ফুড ডিহাইড্রেটর ছিল না, যা ডেথ ক্যাপ মাশরুম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা ফুটেজে দেখা গেছে যে প্যাটারসন কাছের একটি আবর্জনা স্থাপনায় একটি ডিহাইড্রেটর ফেলে দিচ্ছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় যন্ত্রটিতে প্রচুর পরিমাণে ডেথ ক্যাপ মাশরুম পাওয়া গেছে।

"আমি একমত যে আমি মিথ্যা বলেছিলাম কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম যে আমাকে দায়ী করা হবে," প্যাটারসন বিচারের সময় বলেছিলেন। প্যাটারসন তার অতিথিদের মতো একই খাবার খেয়েছিলেন কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়েননি, তার পক্ষের যুক্তি ছিল, তিনি বলেছেন যে তিনি পেটের পিড়ায় ভোগেন এবং পরে বমি করেন।

২৯ জুন, ২০২৫

ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে তেহরানের এভিন কারাগারে ইসরায়েলি হামলায় ৭১ জন নিহত হয়েছে।

ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে তেহরানের এভিন কারাগারে ইসরায়েলি হামলায় ৭১ জন নিহত হয়েছে।

ইরানের বিচার বিভাগ রবিবার জানিয়েছে যে, এই সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের এভিন কারাগারে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৭১ জন নিহত হয়েছে। দুই চিরশত্রুর মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর এই হামলা চালানো হয়।

"সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এভিন কারাগারে হামলায় ৭১ জন নিহত হয়েছে," বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর বলেছেন, ১৩ জুন ইসরায়েলের শুরুতে বোমা হামলা অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার তেহরানের উত্তরে অবস্থিত ভারী সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে।

১৬ জুন, ২০২৫

জাতিসংঘ জোরপূর্বক গুম সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে

জাতিসংঘ জোরপূর্বক গুম সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে

(সংবাদ- বাসস)- জাতিসংঘ আজ বলপূর্বক গুম সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের প্রশংসা করেছে, বিশেষ করে বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনে (আইসিপিপিইডি) দেশটির অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. রুহুল আলম সিদ্দিক এবং ভাইস-চেয়ারপারসন গ্রাজিনা বারানোস্কা এবং জাতিসংঘের বলপূর্বক গুম বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ (ডব্লিউজিইআইডি) এর সদস্য আনা লোরেনা ডেলগাডিলো পেরেজের মধ্যে এক বৈঠকে এই প্রশংসা করা হয়। বৈঠককালে, ডব্লিউজিইআইডি প্রতিনিধিরা ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের চলমান গবেষণা সফর সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবকে অবহিত করেন।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলপূর্বক গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন (সিওআই) কর্তৃক প্রদর্শিত কাজ এবং প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। তারা বলপূর্বক বা অনিচ্ছাকৃত গুমের ঘটনা প্রতিরোধ প্রতিকারে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে কীভাবে আরও সমর্থন করতে পারে তা অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মানবাধিকার সমুন্নত, সুরক্ষা এবং প্রচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। জনাব সিদ্দিক, উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে জাতিসংঘের অব্যাহত সহায়তা এবং কারিগরি সহযোগিতাকে স্বাগত জানান।