![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
রোববার (১ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়েছিলেন তিনি। এর আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ নামের একটি খাবারের দোকানেও গিয়েছিলেন।
এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাওয়া এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার তথ্যও পাওয়া গেছে। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। পাশাপাশি মামলার অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। পরে এ মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার এজাহারে তাহসিফের বাবা উল্লেখ করেন, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তার ছেলে। রাত গভীর হলেও বাসায় না ফেরায় তার মা একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করেন। প্রতিবারই তাহসিফ কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফেরার আশ্বাস দেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে নিজের ফোন থেকে মায়ের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে তিনি বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’। কিন্তু এরপরও তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নৌ পুলিশ ফোন করে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট

0 coment rios: