মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৪ সেপ, ২০২৬

৮ মাসে আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

৮ মাসে আপিল বিভাগে ১১ হাজারের বেশি মামলা নিষ্পত্তি

ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে আপিল বিভাগে মোট ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে নতুন মামলা হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি। ফলে এ সময়ে দায়েরের তুলনায় ১ হাজার ৯৯৭টি মামলা বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৮৫৯টি, ৫ হাজার ৪০৬টি, ৫ হাজার ৩৪৯টি, ৫ হাজার ৩১২টি এবং ৭ হাজার ৫৫৩টি। অর্থাৎ, ওই পাঁচ বছরে গড়ে বছরে প্রায় ৬ হাজার ৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বিপরীতে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

তবে এই নিষ্পত্তির সত্ত্বেও আপিল বিভাগে বিপুল সংখ্যক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।  চলতি বছরের আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন (পেন্ডিং) মামলার সংখ্যা ৩৯,৫৫০টি।


বিডিএলপিবি/এমএম


নগদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ আদালতের

নগদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করার আদেশ আদালতের

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি ভাতার শত শত কোটি টাকা সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (পরিবর্তিত নাম নগদ লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ মিশুক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামীয় ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

​রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। যার অভিহিত মূল্য ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ১ এপ্রিল ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত 'নগদ'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ৩২,৬৫০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি সরকারি ভাতা বিতরণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এ টাকা সোনালী ব্যাংক হয়ে ‘নগদ’-এর ই-মানি হিসেবে গ্রাহকের ওয়ালেটে যেত। কিন্তু যেসব গ্রাহক ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে ভাতা তোলেননি (মৃত্যু, পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে), তাদের ওয়ালেট থেকে সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত ই-মানি সরাবরি চুরি করা হতো।

​প্রথমে এই অর্থ ২৪,১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তা ওয়ালেটে এবং পরবর্তীতে ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও (DSO) ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ট্রাস্টকাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে ১,৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪,২২৯ টাকা রিফান্ডের নামে আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে কেবল ৮টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমেই আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ১,৩২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়াদে আত্মসাৎ করা টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে 'লেয়ারিং' করে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের নামীয় ১৬ কোটি ৮৪ লাখের বেশি শেয়ার কেনা হয়েছে। এসব শেয়ার মিয়ার্স হোল্ডিংস লিমিটেড (১১ কোটি ৮৬ লাখের বেশি শেয়ার), ফিনটেক হোল্ডিংস লিমিটেড (২ কোটি ৫৭ লাখের বেশি শেয়ার), ব্লু ওয়াটার হোল্ডিংস লিমিটেড, সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, চৌধুরী ফ্রন্টিয়ারসহ ১০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ধারণ করা আছে।

​দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা এসব শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর করে টাকা বিদেশে পাচারের অপচেষ্টা করছেন। শেয়ারহোল্ডারদের বিদেশি প্রতিষ্ঠান/নাগরিক হিসেবে দেখানো হলেও বিদেশ থেকে শেয়ার ক্রয়ের জন্য টাকা আসার কোনো তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৮ বিধি অনুযায়ী এসব শেয়ার দ্রুত ফ্রিজ করা না হলে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হতো। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশের কপি নিবন্ধক (যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহ), 'নগদ'-এর প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন (এমএফএস) হিসেবে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডকে মাস্টার এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী রাজস্ব ভাগাভাগি হওয়ার কথা ছিল- ডাক বিভাগ ৫১% এবং থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস ৪৯%। পরবর্তীতে মারাত্মক অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে। তানভীর আহমেদ মিশুক ও তাঁর স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো (১৩.০৯.২০২৬)

১৩ সেপ, ২০২৬

এবার প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে রিট দায়ের

এবার প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
যুবসমাজের ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধ’ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার কারণ দেখিয়ে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন।রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক বিষয়বস্তু দেখা যাচ্ছে। এসব কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে ‘মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব’ ফেলছে। মূলধারার এসব মাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়কে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রিটে বলা হয়, এ ধরনের কনটেন্ট যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে সমাজে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অপরাধ বৃদ্ধিতেও এসব বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলায় বলা হয়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। জননৈতিকতা ধ্বংসকারী কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচার করা এই অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পেতে পারে না বলেও রিটে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন এবং কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে রিটকারী উল্লেখ করেছেন।আবেদনে কেবল প্রেমনির্ভর কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারিরও আর্জি জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে এ রিট মামলা করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার


বিচারপতি-অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র বাতিল চেয়ে রিট দায়ের

বিচারপতি-অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা কমানোর পরিপত্র বাতিল চেয়ে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা হ্রাস করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

শিশির মনির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ওয়ারেন্ট অব প্রেসেডেন্স অনুযায়ী ৬ নম্বর ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা পান, কিন্তু তাদের সচিবদের সঙ্গে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই রকম আরেকটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট সুয়োমোটো রুল জারি করে তার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরবর্তীকালে ৯ মার্চ ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন পরিপত্র জারি করা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: অনলাইনে প্রদত্ত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার

১১ সেপ, ২০২৬

৩২ ধরনের শিশুখাদ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে রিট দায়ের

৩২ ধরনের শিশুখাদ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৩২ ধরনের শিশু খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

তিনি গণমাধ্যমকে জানান , আগামী সপ্তাহে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

রিট দায়েরের প্রেক্ষাপট: গত ৮ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রক্রিয়াজাত খাবারেও ভারী ধাতু, বড় ঝুঁকিতে শিশুরা’’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট আবেদনটি করা হয়।’

প্রক্রিয়াজাত খাবারেও উদ্বেগজনক মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া ৩২ ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে ছয় ধরনের ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি পণ্যে সিসা ও ক্রোমিয়ামের মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত অনুমোদিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ থেকে কয়েকশ গুণ। সবচেয়ে বেশি দূষণের তথ্য মিলেছে বিভিন্ন পানীয়তে। কয়েকটি বেকারি পণ্য ও চকলেটেও সিসার মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি।

‘এসব খাবার গ্রহণের ফলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও মূল্যায়ন করেছেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩২টি পণ্যের মধ্যে ৩১টিতেই শিশুদের ক্যান্সারসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি পাওয়া গেছে ৯টি পণ্যে। এ ছাড়া কয়েকটি খাদ্যপণ্যের শ্রেণিতে শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রোমিয়াম ও নিকেলের সম্ভাব্য ক্যান্সারজনিত ঝুঁকিও গ্রহণযোগ্য সীমার ওপরে পাওয়া গেছে।’

‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব উলংগংয়ের গবেষকরা যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন। এটি গত ২২ আগস্ট আন্তর্জাতিক সাময়িকী জার্নাল ফর ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিসে প্রকাশিত হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পরীক্ষা করে পাওয়া ছয় ধরনের ভারী ধাতুর মধ্যে রয়েছে– সিসা, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, তামা ও নিকেল। খাবারের নমুনায় এসব ধাতুর ঘনত্ব নির্ধারণের পর খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এগুলো প্রবেশের সম্ভাব্য মাত্রা এবং সেই সংস্পর্শে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়।’

৩২ ধরনের শিশু খাদ্যপণ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (১০.০৯.২০২৬)

১০ সেপ, ২০২৬

এবার হংকংয়ে নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ

এবার হংকংয়ে নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ

ফাইল ছবি
বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) টিম লিডার ও উপ-পরিচালক মো. রাউফুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেআইটির আবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্তে নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া, আত্মসাৎ এবং এর একটি অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে নজরুল ইসলাম, তার ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম ও মেয়ে আনিকা ইসলামকে হংকংভিত্তিক চায়না সুপ্রিম লিমিটেডের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দ্য ব্যাংক অব ইস্ট এশিয়া লিমিটেডে একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে অর্জিত সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নেও গোপন করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে হংকংয়ে সম্পদ কেনা হয়েছে। এসব সম্পদ হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদ সুরক্ষায় চায়না সুপ্রিম লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং এর নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ, ফ্রিজ বা ব্লক করা জরুরি।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া নজরুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা হয়েছে। অর্থ পাচারের একটি মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন।

এর আগে বিদেশে থাকা নজরুলের আরও সম্পদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় দুদক। তদন্তে যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে অর্থ ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশ এবং অঞ্চলে থাকা সম্পদ সুরক্ষায় ধারাবাহিকভাবে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হংকংয়ের সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ-সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (১০.০৯.২০২৬)

৯ সেপ, ২০২৬

অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারা কেন অসাংবিধানিক নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারা কেন অসাংবিধানিক নয় প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারা কেন সংবিধান পরিপন্থি, বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. কাজী আখতার হামিদ।

এ সংক্রান্ত একটি রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. কাজী আখতার হামিদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার রিদিতি।

ফ্যাক্ট ইন ইস্যু এন্ড ল': ২০১৪ সালে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। সুদসহ বর্তমানে ওই ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঋণ সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে নিম্ন আদালতে মামলা হলে সেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঋণগ্রহীতার কোন দাবি করার সুযোগ আইনে নেই। এ কারণে অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটে অর্থ ঋণ আদালত ৬ এ অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের বিষয়ে ডায়র করা মামলার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

আইনের ১৮(২) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা সংশ্লিষ্ট ঋণ থেকে উদ্ভূত কোনো বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে পারবেন না। একইভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলায় ঋণগ্রহীতা লিখিত জবাবে ‘সেট-অফ’ বা পাল্টা দাবি (কাউন্টার ক্লেইম) করতে পারবেন না।

অন্যদিকে ১৮(৩) উপধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঋণ থেকে উদ্ভূত বিষয়ে ঋণগ্রহীতা অন্য কোনো আদালতে মামলা করলে সেটি অর্থঋণ আদালতে চলমান মামলার সঙ্গে একত্রে শুনানি করা যাবে না। একই কারণে অর্থঋণ আদালতের মামলাও স্থগিত করা যাবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট: রিট সূত্রে জানা যায়, ‘ছায়া নীড় কমপ্লেক্স’-এর পক্ষে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট কর্পোরেট শাখায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রির জন্য আবেদন করেন।

২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট শাখা থেকে ওই প্রকল্পের জন্য ৫০:৫০ ঋণ ও ইক্যুইটি অনুপাতে ১৫ কোটি টাকা সাধারণ গৃহ নির্মাণ (বাণিজ্যিক) ঋণ অনুমোদন করা হয়। ঋণ অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির কাছাকাছি ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।

ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওই মার্কেট চালু করা হয়। এরপর ব্যাংকের কাছে নির্ধারিত জায়গা বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি ও দলিল সম্পাদনের উদ্যোগ নিতে জাকির হোসেন দুই দফা আবেদন করেন।

যা জানালেন রিটকারি আইনজীবী: ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল বলে প্রথম আবেদনটি করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর। আর দ্বিতীয় বার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৩১ মে। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।এরপরে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছায়া নীড় কমপ্লেক্স’-এর পক্ষে মো. জাকির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের আমিন কোর্ট কর্পোরেট শাখা থেকে ১৫ কোটি টাকা ঋন নেয়। পরে ওই ঋণের সুদসহ সর্বমোট ২৩ কোটি ৬৮ হাজার টাকা দাবি করে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করা হয়। বর্তমানে অর্থ ঋণ আদালত-৬ মামলাটি বিচারাধীন। চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংক কথা না রাখায় ওই মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে মো. জাকির হোসেনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট রোকসানা আক্তার রিদিতা। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩-এর ১৮ ধারার (২) ও (৩) উপধারার বৈধতা নিয়ে এ রুল জারি করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

৮ সেপ, ২০২৬

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দয়ের

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দয়ের

কোলাজ ছবি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কোর্টের দায়িত্বরত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে’র প্রজ্ঞাপন জারি কেন আইনগত কর্তৃত্ব-বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল দাবির আরজি জানানো হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১২ মে’র প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

রিটটি বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবারের (৭ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকায় ৬০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মে  এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনও ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনও ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তি রিটটি দায়ের করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

৭ সেপ, ২০২৬

দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন

দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন

ছবি: সংগৃহীত 
ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ আদেশ দেন। আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য।

উল্লখ্য, চিন্ময় দাস ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার শুরু হয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাকে কেন্দ্র করে।

যেভাবে গ্রেপ্তার হন চিন্ময় দাস:

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনকে আসামি করে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করেন তৎকালীন চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।

ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকার কাছ থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

তাঁকে আদালতে হাজির করার দিন তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

আলিফ হত্যা মামলা:

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা:

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পুলিশের করা তিনটি মামলা এবং আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ফলে পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলাগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে দুই মামলায় চিন্ময় দাসের জামিনের আইনি বাধা দূর হলেও তাঁর কারামুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে অন্য মামলাগুলোর অবস্থার ওপর।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (০৬.০৯.২০২৬)


অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বকেয়া দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বকেয়া দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
অবসরপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবদের পাওনা গ্রস পেনশনের এককালীন ৭৫% আনুতোষিক এবং সরকারি চাকরিজীবীদের মতো নিয়মিত উৎসব ভাতা পরিশোধ করতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায় প্রাপ্তির দিন থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে এই বকেয়া আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা প্রদান সম্পূর্ণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ মোট ১৪৭ জন অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিব বিধিমালা অনুযায়ী বকেয়া আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা পাওয়ার নির্দেশনা চেয়ে এই রিট আবেদনটি করেন। আবেদনকারীদের আনুমানিক ২০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। মামলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মোট ৩১ জনকে বিবাদী করা হয়।

এর আগে ২০২২ সালের ১৬ এপ্রিল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। নোটিশ দেওয়ার পরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরবর্তীতে এই রিট দায়ের করা হয়।

ঘটনার বিবরণ: মামলার নথি থেকে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবগণ অবসরে যাওয়ার সময় সরকারি নিয়ম মেনে গ্রস পেনশনের ৫০% বাধ্যতামূলক সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক পেয়েছিলেন। কিন্তু বাকি ৫০% সমর্পণ করা সত্ত্বেও তারা কোনো আনুতোষিক পাননি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, সমর্পিত বাকি ৫০%-এর বিপরীতে তাদের অর্ধেক হারে এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হওয়ার কথা। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এই প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছিল—যা বেআইনি, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।

২০১১ সালের ‘স্থানীয় সরকার ( ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা’ অনুসারে ইউপি সচিবগণ পরিষদের নিজস্ব কর্মচারী। এই বিধিমালা অনুযায়ী, তারা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর মতো মাসিক পেনশনের আওতাভুক্ত না হওয়ায়, গ্রস পেনশনের পুরো টাকা সরকারের কাছে সমর্পণ করে মোট পরিমাণের ৭৫% এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ২০১১ সালের বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল অনুসরণে বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতা প্রদানের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের পুরো আনুতোষিক না দেওয়া এবং উৎসব ভাতা না দেওয়া স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন।

তাছাড়া, ১৯৯৪ সালের ‘ইউনিয়ন পরিষদ কর্মচারী (ভবিষ্য তহবিল এবং আনুতোষিক) বিধিমালা’ অনুযায়ী সচিবগণ সরকারি কর্মচারীদের মতো পেনশন, আনুতোষিক ও উৎসব ভাতা পাওয়ার পূর্ণ হকদার। স্পষ্ট আইনি আদেশ থাকা সত্ত্বেও সারাদেশের হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিবকে তাদের আইনানুগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা নিপীড়নমূলক ও অযৌক্তিক। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর এই ন্যায্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইনজীবীর সাক্ষাৎকার (০৬.০৯.২০২৬)