![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সর্দার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে রিট পিটিশন নং ৬২৪৯/২০২৫-এর রায় দেন। মামলাটি ছিল জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বনাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অন্যান্য। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।
মামলার পটভূমি
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জাহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় কয়েকটি নোটিশ প্রদান করে। এসব নোটিশে ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ এবং ২০২০-২০২১ করবর্ষের সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, প্রতিষ্ঠানের আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে আয়কর রিটার্ন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়।
এরপর ওই নোটিশগুলোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রতিষ্ঠানটি। রুল জারির সময় আদালত নোটিশগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারার বিধান পর্যালোচনা করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকতে হবে যে, কোনো করদাতা সংশ্লিষ্ট করবর্ষে আইন অনুযায়ী প্রদেয় কর পরিশোধ এড়িয়ে গেছেন।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তবে আদালত স্পষ্ট করেন, সম্পন্ন কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বা আয়ের উৎস যাচাই করার উদ্দেশ্যে ২১২ ধারার অধীনে পুনরায় কর নির্ধারণ খোলার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
আদালতের মতে, আলোচ্য মামলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতীতের সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে আইনের ২১২ ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
আদালতের আদেশ
এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করেন (Rule made absolute)।
একই সঙ্গে ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে জারি করা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারার অধীন নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট চিঠিগুলো ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ ও ২০২০-২০২১ করবর্ষের ক্ষেত্রে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করেন।
আইনি শিক্ষা
এই রায় থেকে প্রতীয়মান হয়, কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আইন দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো করদাতার সম্পন্ন কর নির্ধারণ পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে কেবল নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট নয়; আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২১২ ধারায় নির্ধারিত আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ; Writ Petition No. 6249 of 2025, রায় ও আদেশের ৬ পৃষ্ঠার নথি।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

0 coment rios: