![]() |
| ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনঃ ছবি- সংগৃহীত |
২২ জুল, ২০২৬
ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল জারি
![]() |
| সুপ্রিম কোর্ট: ছবি- সংগৃহীত |
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট । একই সঙ্গে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন মহানমান্য আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান।
রিট কারী আইনজীবী বলেন, রুলে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটে বলা হয়, একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গ্রাম আদালত পরিচালনার ক্ষমতা। গ্রাম আদালতে একজন চেয়ারম্যান তিন লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। অথচ একই ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগকারী একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে আইন অনুযায়ী স্নাতক সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। এ কারণেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর চেয়ারম্যানের যোগ্যতাসংক্রান্ত ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। রিটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম
২১ জুল, ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকদের অযোগ্য ঘোষণা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচন, মনোনয়ন কিংবা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করে বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন অথবা নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।
একই সঙ্গে রুলে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ ও স্বনামধন্য সমাজসেবক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে বিচারিক নির্দেশনা (জুডিসিয়াল গাইডলাইন) কেন জারি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার (২০ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. নাদির খান ও মো. সোহেল রানা। এর আগে গত ৭ জুন রুবেল মিয়া একজন অভিভাবকের পক্ষে অ্যাডভোকেট নাদির খান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪–এর বিধি ৭ সংশোধন অথবা সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব কমিটিতে সমাজে গ্রহণযোগ্য, শিক্ষানুরাগী ও সৎ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিডিএলপিবি/এমএম
২০ জুল, ২০২৬
যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইকালে বাধা দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শফিকুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. সোহেল রানা ওরফে কালু ও মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে নাজিম ওরফে নজু।
রোববার, ১৯ জুলাই ঢাকা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন।রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. খলিলুর রহমান (খলিল) বাসস-কে বিষয়টি জানান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২২ জুন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে মামলার বাদী আকবর আলীর ছেলে শফিক বগুড়া হতে এসআর পরিবহনে ঢাকা কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে তার বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এশিয়া সিনেমা হলের সামনে পৌঁছালে তিনজন আসামি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শফিককে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম শফিক মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকবর আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বাসস
১৯ জুল, ২০২৬
হাইকোর্টের রুল: নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ কেন নয়?
নারী মরদেহের পোস্টমর্টেম করতে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, এর আগেও দেশের সব পোস্টমর্টেম-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগের আবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করা হয় কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আবেদনে আরও বলা হয়, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নারীর মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ প্রয়োজন। এতে মৃত নারীর পরিবারের মানসিক স্বস্তি বাড়বে এবং মরদেহের মর্যাদা রক্ষাও নিশ্চিত হবে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ময়নাতদন্ত কার্যক্রমেও নারী ডোম নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, অতীতে দেশের বিভিন্ন মর্গে নারীর মরদেহের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২০২০ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত ডোমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিদেশেও একই ধরনের ঘটনার বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করা হয়।
বিডিএলপিবি/এমএম