আদালতের রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আদালতের রায় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৭ সেপ, ২০২৬

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

গভর্নর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

উল্লখ্য, গভর্নরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ যুক্ত করে অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন গত ৫ মার্চ রিটটি দায়ের করেন। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর এবং গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়।

আবেদনে আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। একইসঙ্গে গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের পৃথক গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার নেতৃত্বে ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২৮ সালের আগস্টে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ এবং আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (০৭.০৯.২০২৬)

৬ সেপ, ২০২৬

মাজারে খাদেম হত্যার দায়ে দুই জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল, খালাস ৫

মাজারে খাদেম হত্যার দায়ে দুই জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল, খালাস ৫

ছবিঃ সংগৃহীত 
রংপুরের সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরদিন ১১ নভেম্বর তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ওই মামলায় ১৪ জেএমবির সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। যার মধ্যে আসামি পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান ২০১৬ সালের ১ আগস্ট রাতে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন ২০১৭ সালের ৫ জানুযারি ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। শুনানি শেষে বিচারক নিহত দুই জঙ্গিকে বাদ দিয়ে ১২ জনের নামে অভিযোগ গঠন করেন।

  

বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ প্রথম আলো (০৬.০৯.২০২৬)


৪ সেপ, ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের নামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর আবেদনের পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

বৃহস্পতিবার আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির। এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তার ভেরিফাইড ফেইসবুক অ্যাকাউন্টেও একটি স্টাটাস দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, আইন অনুসারে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার একই গ্রুপভুক্ত বা পারিবারিকভাবে রাখা যায় না। কিন্তু এস আলম সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যাংকটিতে যুক্ত হয়। সেখানে তাদের শেয়ার ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। 

এর আগে গত বছর, ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও ব্যক্তিবিশেষের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডার এই পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।



বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২২০৬)

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

যৌনপল্লীতে তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে নারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

প্রতীকী ছবি
ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লীতে এক তরুণীকে আটকে রাখার দায়ে মানবপাচার আইনের মামলায় তানিয়া আক্তার নামে এক নারীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া একই আইনের অপর একটি ধারায় তানিয়া আক্তারকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তানিয়া আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ও ১১ ধারায় আসামিকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।

মামলার ফ্যাক্ট ও কার্যক্রম: মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়  ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ তানিয়া আক্তার তাকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার যৌনপল্লীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

পরে ২৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে ওই তরুণী ফরিদপুর র‍্যাবের ক্যাম্পে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে র‍্যাব সদস্যরা ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ২৫ মার্চ র‍্যাবের ফরিদপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার শেখ ইসরাইল আমিন বাদী হয়ে তানিয়া আক্তারকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল তানিয়া আক্তারকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০৪.০৯.২০২৬)

৩ সেপ, ২০২৬

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হাইকোর্টের আদেশে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, রুল খারিজ

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে হাইকোর্টের আদেশে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, রুল খারিজ


ছবি: সংগৃহীত 
পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নিরাপত্তার প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২০১১ সালে চার মাসের জন্য দেওয়া হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বাড়িয়ে আবাসন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের বিরুদ্ধে। 

এসব অভিযোগ ও মামলার নথি পর্যালোচনার পর পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে যে আদেশটি মাত্র চার মাসের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেটিই পরে সময়ে সময়ে বাড়ানো হয়। এর ফলে একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের আওতায় নিরাপত্তা সুবিধা পেতে থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে এই আদেশের এমন ব্যবহারকে আদালতের আদেশের অপব্যবহার হিসেবে তুলে ধরে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল মামলাটি: প্রবাসীদের অর্থায়নে ঢাকার পূর্বাচল এলাকায় আবাসন ব্যবসা পরিচালনার জন্য পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হাবিবুর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কোম্পানিটি ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যার অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করে। প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতাবলে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম ওই রিট আবেদন করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পূর্বাচল আমেরিকান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রূপগঞ্জ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে বিবাদী করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট নরসিংদী সদর ও রূপগঞ্জ থানার ওসিকে চার মাসের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগত সুরক্ষা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগতভাবে বাধা সৃষ্টি বন্ধে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।

চার মাসের আদেশ গড়াল ১৫ বছরে: মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে আসে রাষ্ট্রপক্ষের জবাবে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, চার মাসের জন্য দেওয়া ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পরবর্তী সময়ে বারবার বাড়ানো হয়েছে। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ওই আদেশের সুবিধা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া আদালতের আদেশ দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূল রিটের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ, যে আদেশের উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দীর্ঘ সময় ধরে সেটিই প্রকল্পের পক্ষে একটি কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে এমন চিত্র তুলে ধরে।

প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের বৈধতা নিয়েও: রাষ্ট্রপক্ষ শুধু নিরাপত্তা আদেশের ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি। প্রকল্পটির আইনগত অনুমোদন ও নিবন্ধন নিয়েও গুরুতর বিতর্ক রয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্প হলেও এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের একটি মামলায় আসামি হওয়ার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। ওই মামলায় তাঁরা যথাক্রমে ১ ও ৫১ নম্বর আসামি। এরপরও ২০১১ সালের হাইকোর্টের আদেশ ব্যবহার করে প্রকল্পটি নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে আসছিল।

জমি দখল ও জাল নথির অভিযোগ: শুনানিতে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগও তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের দাবি, জালিয়াতি ও মিথ্যা নথির মাধ্যমে কয়েকটি মৌজায় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, ২০১১ সালের রিটে দেওয়া প্রাথমিক আদেশকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুলভাবে ব্যবহার করে একই মৌজার স্থানীয় জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্য ও মামলার জবাবের অংশ; রায়ে আদালত অভিযোগগুলোর প্রতিটি বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা পূর্ণাঙ্গ রায়ে আরও স্পষ্ট হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি ছিল আদালতের আদেশের ব্যবহার নিয়ে মামলার ৯ নম্বর বিবাদী রূপগঞ্জ থানার ওসির পক্ষে উপপরিদর্শক আহসান হাবিব আদালতে জবাব দাখিল করেন। গত ১৬ জুলাই দাখিল করা ওই জবাবে রিটকারীর সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ মূলত একটি প্রশ্ন সামনে আনে—একটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কি বছরের পর বছর ব্যবহার করা যেতে পারে? রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ছিল, চার মাসের আদেশ প্রায় ১৫ বছর ধরে বহাল রেখে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের আদেশের সুবিধা নিয়েছে এবং সেটি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

রুল খারিজ: উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় দশক ধরে চলা ওই রিটে বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের পক্ষে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা আদেশের ব্যবহার নিয়ে আইনি বিতর্কেরও অবসান হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট (০৩.০৯.২০২৬)