মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩১ অক্টো, ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

কোলাজ ছবি 
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর আগে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এবার তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ জানান, উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে একই দিন সকালে তাহসিফের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে সাক্ষাৎ

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। ফুটেজে তাদের হাত মেলানোর পর পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা গেছে।

পরিবারকে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। পরে মোটরসাইকেল মেরামত শেষে একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে ওই রাতে তাদের অবস্থান ও যোগাযোগের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে তদন্তের আওতায় আসে।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে সেটি উদ্ধার করেন। পরে হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল উদ্ধার

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরদিন শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার দেওয়া এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরে পিবিআই তার বক্তব্যের অসংগতিসহ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সেগুলো নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছেলের মৃত্যু নিয়ে বাবার সন্দেহ

তাহসিফের মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। তাই নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এ ঘটনায় বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় এবার দীপকে গ্রেপ্তার করা হলো। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তিনি তুরাগ নদে পৌঁছালেন এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

২৮ অক্টো, ২০২৬

ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই: আদালতে সাম্যর বাবা

ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই: আদালতে সাম্যর বাবা

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর বাবা ফখরুল আলম। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ছুরিকাঘাতে ছেলের আহত হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মর্গে তাঁর মরদেহ দেখতে পান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ১৯তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মমিনুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দেন ফখরুল আলম। তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে ফখরুল আলম বলেন, সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিবারের কাছে ফোন আসে—সাম্যকে কয়েকজন ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে মর্গে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।

তিনি আদালতকে আরও জানান, ওই রাতে সাম্য তাঁর বন্ধু বায়েজিদ ও রাফির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। খাবার শেষে ফেরার পথে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তর-পশ্চিম কোণায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ফখরুল আলমকে জেরা করেন।

মামলার বেঞ্চ সহকারী আশরাফুল আমিন জানান, এ নিয়ে মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে গত ৮ আগস্ট মামলার বাদী ও সাম্যর বড় ভাই এস এ এএম শরীফুল আলম এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সাম্যর সহপাঠী আশরাফুল আলম রাফি আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গত ৩ মে মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। আসামিরা হলেন—মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন। তাঁদের মধ্যে রাব্বি ও হৃদয় পলাতক; অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন ২৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার আলম সাম্য। রাত ১২টার দিকে বন্ধুরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন ১৪ মে সকালে সাম্যর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবির রমনা বিভাগের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ গত বছরের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

জিয়াউল আহসানের অভিযানের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

জিয়াউল আহসানের অভিযানের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত 
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোর সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণপত্র এবং চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, র‍্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে অভিযানের পক্ষে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

অভিযানের প্রতিবেদনেও জিয়াউলের নাম ছিল না

জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোর বিষয়ে নির্বাহী তদন্তের যেসব প্রতিবেদন তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোতে জিয়াউল আহসানের নাম উল্লেখ ছিল না। তবে তিনি প্রতিবেদনগুলোকে ‘ফরমায়েশি প্রতিবেদন’ বলে অভিহিত করেন।

অভিযানের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। অন্যদিকে, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো না, সেগুলোর প্রতিবেদন পাঠানো হতো না।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট র‍্যাব সদস্যদের পরিচয় সংগ্রহের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র দেননি বলে স্বীকার করেন।

তিনটি অভিযোগে চলছে বিচার

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।

প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে সজলসহ তিনজনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা-সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যু দমনের অভিযানের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর থেকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান তাঁকে জেরা করছেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট, ২৮ অক্টোবর ২০২৬।


২৭ অক্টো, ২০২৬

রাজউকের প্লট বরাদ্দের প্রলোভনে ৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে মঞ্জুরুল

রাজউকের প্লট বরাদ্দের প্রলোভনে ৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে মঞ্জুরুল

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহী ওরফে মঞ্জুরুল আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার একটি আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।

পাঁচ কাঠার প্লট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযোগকারী মো. নাসির ‘প্রশান্তি এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর জমি কেনাবেচার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে উত্তরা এলাকায় রাজউকের পাঁচ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্লটটির মূল্য ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হলেও পরবর্তী সময়ে তা ৯ থেকে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে নাসির বিনিয়োগে সম্মত হন।

কিস্তিতে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মামলার বিবরণে বলা হয়, প্লটের অগ্রিম মূল্য ও নিবন্ধনের খরচের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে নাসিরের কাছ থেকে পে-অর্ডার ও নগদে মোট ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে কয়েক কোটি টাকা সিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুকূলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাসির। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর ফোনকলের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরে তাঁদের কার্যালয় বন্ধ করে চলে যান বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরে টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আদালতে মামলা, তদন্ত করে প্রতিবেদন সিআইডির

মামলার তথ্য অনুযায়ী, টাকা ফেরত না পেয়ে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা করেন নাসির। ওই দিনই আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩০ জুন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি।

এদিকে মঞ্জুরুল আলমের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন অভিযোগের শিকার ব্যক্তিরা। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: দুই ডিজিএফআই সদস্যের বিচার হবে সামরিক আইনে

অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: দুই ডিজিএফআই সদস্যের বিচার হবে সামরিক আইনে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দুই সদস্যের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তদন্ত আদালত গঠন ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত দুই সদস্য হলেন সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান।

ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও ফলাফল পরবর্তী সময়ে আদালতকে জানানো হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের প্রয়োজনে সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

 যেভামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয়, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল রানা নামে এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শরীফকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

পরে অভিযুক্তরা শরীফকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশু হাসপাতালের সামনে অবস্থিত পুলিশ চেকপোস্টে তিনি পুলিশের সহায়তা চান। এরপর পুলিশ তাঁদের আটক করে। এ ঘটনায় শরীফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনসার সদস্য সোহেল রানা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম।

গ্রেফতারের পর ছয়জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তী সময়ে দুই ডিজিএফআই সদস্যকে সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

সূত্র: যুগান্তর, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।