আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আন্তর্জাতিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২২ অক্টো, ২০২৬

চেকের মামলায় আসামির চেক হারনোর দাবি প্রমাণে শুধু জিডি এন্ট্রি যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

চেকের মামলায় আসামির চেক হারনোর দাবি প্রমাণে শুধু জিডি এন্ট্রি যথেষ্ট নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

কলকাতা হাইকোর্ট | ছবি: সংগৃহীত 
চেকের ওপর স্বাক্ষর স্বীকার করা হলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১১৮(ক) ও ১৩৯ ধারার অধীনে আইনগত অনুমান কার্যকর হয়। এ অবস্থায় চেক হারিয়ে যাওয়ার দাবি কেবল পুলিশের জেনারেল ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রির ওপর নির্ভর করে প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে ওই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মামলায় বিচারপতি উদয় কুমারের একক বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, চেকের স্বাক্ষর স্বীকার করার পর আইনগত অনুমান খণ্ডনের দায় অভিযুক্তের ওপর বর্তায়। তবে এই দায় প্রমাণের মানদণ্ড হলো সম্ভাবনার ভারসাম্য—অর্থাৎ অভিযুক্তকে এমন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তাঁর প্রতিরক্ষা যুক্তিসংগত ও সম্ভাব্য বলে প্রতীয়মান হয়।

মামলার ঘটনা

মামলাটি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় চেক প্রত্যাখ্যানের অভিযোগে দায়ের করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কাপড়ের ব্যবসা ‘মধুকরী টেক্সটাইল’-এর প্রয়োজনে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধের জন্য দেওয়া চেকটি ব্যাংকে উপস্থাপনের পর প্রত্যাখ্যাত হয়।

আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের দাবিতে নোটিশ পাঠানো হলেও অভিযুক্ত অর্থ পরিশোধ করেননি। তাঁর দাবি ছিল, তিনি অভিযোগকারীর কাছ থেকে কোনো ঋণ নেননি এবং তাঁকে কোনো চেকও দেননি। বরং তাঁর টাকার ব্যাগ হারিয়ে গিয়েছিল, যাতে একটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ছিল। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ব্যাংককে চেকের অর্থ পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

বিচারিক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরবর্তী সময়ে আপিল আদালতও দণ্ডাদেশ বহাল রাখেন, তবে কারাদণ্ড কমিয়ে সাত দিন নির্ধারণ করেন এবং ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তুহিন গঙ্গোপাধ্যায়।

সাধারণ ডায়েরির এন্ট্রি এককভাবে যথেষ্ট নয়

আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, সাধারণ ডায়েরির এন্ট্রি মূলত তথ্যদাতার নিজের বক্তব্যের নথিভুক্তি। কেবল সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে—এ তথ্য থেকেই প্রমাণিত হয় না যে চেকটি বাস্তবে হারিয়ে গিয়েছিল কিংবা অন্য কেউ সেটির অপব্যবহার করেছে।

এ ক্ষেত্রে চেক হারানোর দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় অভিযুক্ত আইনগত অনুমান খণ্ডন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আদালত মনে করেন। ফলে নিম্ন আদালতগুলোর সিদ্ধান্তে কোনো বেআইনি পদক্ষেপ বা গুরুতর অসংগতি খুঁজে পায়নি হাইকোর্ট।

লিখিত চুক্তি বা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ না থাকলেই ঋণ অবৈধ নয়

৩০ হাজার টাকার মতো তুলনামূলক স্বল্প অঙ্কের ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি না থাকা কিংবা আয়কর বিবরণীতে ঋণের বিষয়টি উল্লেখ না থাকাকে এককভাবে ঋণটি আইনত অকার্যকর প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অভিযুক্ত এমন কোনো গ্রহণযোগ্য আপত্তি উত্থাপন করেননি, যা ঋণ দেওয়ার দাবিকে সন্দেহের মুখে ফেলতে পারে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম আলাদাভাবে অভিযুক্ত করা বাধ্যতামূলক নয়

মামলায় ‘মধুকরী টেক্সটাইল’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে অভিযুক্ত না করার বিষয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল। আদালত এ আপত্তি নাকচ করে বলেন, একক মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা নয়; এটি মূলত মালিকের ব্যবসায়িক নাম। তাই শুধু ব্যবসার নামকে আলাদাভাবে মামলার আসামি না করায় ফৌজদারি কার্যক্রম ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায় না।

এ ছাড়া আবেদনকারীকে একদিকে বেকার এবং অন্যদিকে ছোট কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে বর্ণনা করার অসংগতিকে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, যার কারণে প্রাথমিক পর্যায়েই পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করা প্রয়োজন।

দণ্ডাদেশ বহাল, তবে কারাদণ্ড ভোগে অব্যাহতি

সব দিক বিবেচনায় কলকাতা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতগুলোর দণ্ডাদেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি। ফলে ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য অতিরিক্ত দণ্ডের নির্দেশ বহাল থাকে। তবে অভিযুক্তকে সাত দিনের মূল কারাদণ্ড ভোগ করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার তথ্য

মামলা: তুহিন গঙ্গোপাধ্যায় বনাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য

আদালত: কলকাতা হাইকোর্ট

বিচারপতি: উদয় কুমার

রায়ের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাসঙ্গিক আইন: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮, ১১৮(ক) ও ১৩৯ ধারা।

সূত্র: দ্য বার বুলেটিন

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম


১৮ অক্টো, ২০২৬

নারীর ওপর শুয়ে মুখ চেপে ধরলেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়, প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ থাকতে হবে: পাটনা হাইকোর্ট

নারীর ওপর শুয়ে মুখ চেপে ধরলেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়, প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ থাকতে হবে: পাটনা হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
এক নারীর ওপর শুয়ে তাঁর মুখ চেপে ধরার ঘটনা ঘটলেও, ধর্ষণের উদ্দেশ্যে প্রবেশের দিকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রমাণ না থাকলে তা ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে না বলে জানিয়েছেন ভারতের পাটনা হাইকোর্ট।

ভারতের পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি সন্দীপ কুমারের একক বেঞ্চ ২০১৩ সালের ২৯ জুলাইয়ের দণ্ডাদেশ ও একই বছরের ১ আগস্টের সাজা ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সন্তানদের নিয়ে বসবাসকারী এক বিধবা নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে বাতি নিভিয়ে তাঁর ওপর শুয়ে পড়েন এবং মুখ চেপে ধরেন। ওই নারী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন।

পরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারায় তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং ৪৪৮ ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা একই সঙ্গে চলার কথা ছিল।

অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগকারী নারীর বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট সমর্থনকারী প্রমাণ নেই। এছাড়া যেসব স্থানীয় ব্যক্তি অভিযুক্তকে ধরে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদেরও আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি।

হাইকোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল—প্রমাণিত ঘটনাগুলো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারার অধীনে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে, নাকি নারীর শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের জন্য ৩৫৪ ধারার আওতায় পড়বে।

আদালত বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টার পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আমান কুমার মামলার সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন, অনেক সময় অশালীন বা অনৈতিক আচরণকে অতিরঞ্জিত করে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণের জন্য এমন উপাদান থাকতে হবে, যা থেকে বোঝা যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সব প্রতিরোধ উপেক্ষা করেও যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়েছিলেন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করেছিলেন কিংবা এমন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা বাধা না পেলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত বলেন, “অভিযুক্ত নিজে বা অভিযোগকারী নারীকে বিবস্ত্র করেছিলেন কিংবা যৌন প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ না থাকলে বলা যায় না যে তিনি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করে এমন কোনো কাজ করেছিলেন, যা বাধাগ্রস্ত না হলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো।”

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়া, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং ১৩ বছরেরও বেশি সময় জামিনে থাকার সময়ে তিনি জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি—এসব বিষয়ও আদালত বিবেচনায় নেন।

এরপর হাইকোর্ট তাঁর সাজা পরিবর্তন করে ইতোমধ্যে যতদিন কারাগারে ছিলেন, সেই সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করেন।

সূত্র: লাইভ ল’

BD Law Post / মাসুম

অন্যান্য ব্যক্তির মতো শিশুদেরও ইন্টারনেট ব্যবহার ও এতে প্রবেশের মৌলিক অধিকার রয়েছে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

অন্যান্য ব্যক্তির মতো শিশুদেরও ইন্টারনেট ব্যবহার ও এতে প্রবেশের মৌলিক অধিকার রয়েছে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

 ছবি: সংগৃহীত 
বিচারপতি জামশেদ বুরজোর পারদিওয়ালা ও বিচারপতি বিনোদ কে. চন্দ্রনের বেঞ্চ এক আদেশে বলেন, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ এবং ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির ইন্টারনেটে প্রবেশ ও তা ব্যবহারের অধিকার একটি মৌলিক অধিকার।

আদালত বলেন, বয়স যাই হোক, শিশুরাও একই অধিকার ভোগ করে। নির্দিষ্ট বয়সের নিচে শিশুদের এসব অধিকার পুরোপুরি অস্বীকার করা যেমন অযৌক্তিক, তেমনি তাদের বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মূল্য নেই—এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের আদেশে বলা হয়, “আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা ও তাদের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়। আমাদের শিশুরা উভয়টিরই অধিকারী।”

অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান (সিএসইএএম) মোকাবিলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে একটি বেসরকারি সংস্থার করা আবেদনের শুনানিতে আদালত এসব পর্যবেক্ষণ দেন।

শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান শনাক্ত ও অপসারণে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো কী ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন আদালত।

আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান শনাক্ত ও অপসারণের জন্য একটি ‘ন্যাশনাল হ্যাশ অ্যান্ড ইউআরএল লিস্ট’ ডাটাবেস তৈরির নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বয়স-উপযোগী যৌন শিক্ষা শিক্ষাব্যবস্থার মূল পাঠ্যক্রমের অংশ হওয়া উচিত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগের মধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ এলো।

চলতি বছর ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নীতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মতে, কম বয়সী ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত ও আসক্তিমূলক ব্যবহার এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের প্রতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ডিজিটাল ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। অনলাইন পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিসটার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি ৩০ লাখের বেশি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকেও ভারত শীর্ষে রয়েছে।


সূত্র: দ্য হিন্দু

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

১৭ অক্টো, ২০২৬

আদালতের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননার শামিল: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

আদালতের দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার আদালত অবমাননার শামিল: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে তা বাস্তবায়নে সহায়তা করা সরকারি আইনজীবীদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের সময় তাদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা দুর্ব্যবহার করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

এক অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলির (এজিএ) সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়ে উত্তর প্রদেশের পুলিশ মহাপরিচালককে (ডিজিপি) একটি সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সার্কুলারে সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক করে জানাতে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীরা কোনো কর্মকর্তাকে অবহিত করার সময় তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজমগড়ের এসএসপির জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) রাজেশ কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে এক এজিএর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারপতি অরুণ কুমার সিং দেশওয়াল ওই পিআরওকে আদালতের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে আদালতের হেফাজতে রাখার পর মুক্তি দেওয়া হয়।

আদালত বলেন, অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলিরা আদালতের কর্মকর্তা হিসেবে বিচারিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের আদেশ পালনের বিষয়ে তারা যখন কোনো কর্মকর্তাকে অবহিত করেন, তখন তারা আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।

আদালত আরও বলেন, সরকারি কোনো কর্মকর্তা—এমনকি রাজ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাও—আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে দায়িত্ব পালনরত সরকারি আইনজীবীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।

এদিকে আজমগড়ের এসএসপি আদালতকে জানান, তিনি রাজেশ কুমার সিংকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন এবং পিআরও পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আদালত এসএসপির পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

১৩ অক্টো, ২০২৬

এআই ব্যবহারে মানবাধিকার ও ডিজিটাল পরিসরে নারী-শিশুর অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দুটি প্রস্তাব গ্রহণ

এআই ব্যবহারে মানবাধিকার ও ডিজিটাল পরিসরে নারী-শিশুর অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের দুটি প্রস্তাব গ্রহণ

ছবি: সংগৃহীত 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়ে নতুন দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি)। গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জেনেভায় পরিষদের ৬৩তম নিয়মিত অধিবেশন শেষ হয়। অধিবেশনে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৩৪টি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের আনুষ্ঠানিক নথি অনুযায়ী, গৃহীত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানবাধিকারের প্রসার ও সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে। অন্যটি ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়।

এআই ব্যবহারে মানবাধিকারের সুরক্ষায় গুরুত্ব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবাধিকারকে কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে পরিষদ। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্যানেল গঠন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে এআই-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও জ্ঞানগত বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে সরকারি প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন বৈষম্য সৃষ্টি না করে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

এআইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পক্ষপাত, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলোও মানবাধিকার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার সুরক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তি

পরিষদের গৃহীত আরেকটি প্রস্তাবে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে নারী ও মেয়েশিশুর অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ালেও অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার এবং এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি বা ভিডিওর মতো ঝুঁকিও তৈরি করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ব্যবধান কমানোও এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।

এআই শাসনব্যবস্থায় মানবাধিকারের গুরুত্ব বাড়ছে

বিশ্বজুড়ে এআইয়ের ব্যবহার সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বা এআই গভর্ন্যান্স এখন আর কেবল প্রযুক্তিগত কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

এআইয়ের উন্নয়ন ও প্রয়োগে সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই সামনে আসছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক উদ্যোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।


সূত্র

১. জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ (UN Human Rights Council) — ৬৩তম অধিবেশনের অফিসিয়াল ওয়েবপেজ। 

২. এআই ও মানবাধিকারবিষয়ক প্রস্তাব: A/HRC/RES/63/15 — Implications of artificial intelligence for the promotion and protection of human rights। প্রস্তাবটি বিনা ভোটে গৃহীত হয়েছে; প্রস্তাবের পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের নামও অন্যতম প্রস্তাবক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।


বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম 

১০ অক্টো, ২০২৬

শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাই

যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অবদান; আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি
আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী, বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বৈষম্যের অভিজ্ঞতা থেকে ন্যায়বিচারের লড়াই:

নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে। বর্ণবৈষম্যের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা পিল্লাই পরবর্তী সময়ে আইন পেশায় যুক্ত হন। নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে ওঠে তার কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

কর্মজীবনের শুরু থেকেই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ও মানবাধিকার সুরক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বিচারক হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত থেকে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গন:

পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততা তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে।

যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতিতে ভূমিকা:

রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও সংঘাতের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আইনি অগ্রগতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ঐতিহাসিক মামলার বিচারপ্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল। এসব কাজের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, ভুক্তভোগীদের অধিকার এবং অপরাধের দায় নির্ধারণের প্রশ্নে তার অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসনের গুরুত্ব:

শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। ন্যায়বিচার ছাড়া টেকসই শান্তি অর্জন কঠিন—আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধারণা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সহিংসতার শিকার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—উভয়কেই আইনের অধীন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পিল্লাই। তার কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া।

আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তার কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক আইনকে সুরক্ষা দেওয়া, এর বিকাশে অবদান রাখা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দ্যা বিজনেস স্টান্ডার্ড বাংলা

৪ অক্টো, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

কোলাজ ছবি 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসির পাশাপাশি আদালটির সঙ্গে সহযোগিতাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিও পড়তে পারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে ব্যবসায়িক বা আর্থিক লেনদেনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আদালটির দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দ্য টাইমসকে এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যুদ্ধাপরাধের বিচারের সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিসির সমর্থকদের আশঙ্কা, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আদালটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আদালটি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; বিষয়টি এখনো আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর্যায়েই রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (OFAC) জানিয়েছে, এরপর ২০২৬ সালেও আইসিসি-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আগস্টে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতের ১৮ বিচারকের মধ্যে ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর এবং একজন কর্মী রয়েছেন। আইসিসি এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, এর ফলে আদালটির স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনছে আইসিসি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে আদালটি ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান এএক্সার (AXA) সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে এবং নতুন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আইসিসির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।


তথ্যসূত্র: তাস, দ্য টাইমস ও রয়টার্স


৩ অক্টো, ২০২৬

এক মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়া যাবে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

এক মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়া যাবে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট 
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, কোনো আসামি একটি মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার না হয়ে থাকলে সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। একইভাবে, একটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়ার ক্ষেত্রে তা স্বয়ংক্রিয় বাধা সৃষ্টি করে না।

মামলা: রাম সিং বনাম দিল্লি সরকারের পক্ষে রাষ্ট্র ও অপরজন
বিচারপতি: বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোই
রায়ের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মামলার পটভূমি:

রাম সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলায় তদন্ত চলছিল। একই সময়ে তিনি পৃথক একটি অর্থপাচার মামলায় জড়িত থাকার কারণে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন। ওই মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে করা বিশেষ অনুমতির আবেদনও খারিজ হয়।

রাম সিংয়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেওয়া হয় যে, অন্য একটি মামলায় আগাম জামিন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে বর্তমান মামলায় আগাম জামিন চাওয়ার অধিকার নষ্ট হয় না। কারণ, বর্তমান মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হননি এবং এই মামলার পরিস্থিতি পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত:

সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেন এবং পূর্বের ধনরাজ আসওয়ানি মামলায় নির্ধারিত আইনি নীতির আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করেন।

আদালত বলেন, একটি মামলায় কোনো ব্যক্তি হেফাজতে থাকলেও অন্য একটি পৃথক মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, এক মামলায় হেফাজতে থাকা বা অন্য মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়া—অন্য মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করার ক্ষেত্রে নিজে থেকেই বাধা সৃষ্টি করে না।

আদালতের আরোপিত শর্ত:

সুপ্রিম কোর্ট রাম সিংকে তদন্তে সহযোগিতা এবং প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এছাড়া—

  • প্রয়োজন হলে বিতর্কিত নথির সঙ্গে তুলনার জন্য নমুনা হাতের লেখা ও স্বাক্ষর দিতে হবে;
  • নির্ধারিত তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হতে হবে;
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামিনের মুচলেকা দিতে হবে;
  • কোনো সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানো বা প্রভাবিত করা যাবে না;
  • কোনো প্রমাণ নষ্ট বা বিকৃত করা যাবে না; এবং
  • আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগ করা যাবে না।

রায়ের মূল আইনি শিক্ষা:

এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন সংশ্লিষ্ট মামলার নিজস্ব পরিস্থিতি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে।

তাই, কোনো আসামি অন্য একটি মামলায় হেফাজতে আছেন বা সেখানে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে—শুধুমাত্র এই কারণে অন্য মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন অগ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে না।

মামলার মূলনীতি:
“এক মামলায় হেফাজতে থাকা অন্য মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত করে না।”


বিডিএলপিবি/মাসুম

৮ সেপ, ২০২৬

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

বাংলাদেশে নির্বাসিত করা মুমতাজ বেগমের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

কোলাজ ছবি 
গুয়াহাটি হাইকোর্ট আসাম সরকারকে মুমতাজ বেগমকে ২ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মুমতাজ বেগম একজন বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী, যাঁকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এই আদেশে বেগমকে বিদেশী নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বেগমের পরিবারের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানির সময় বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পিটিশন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরই পরিবারটি জানতে পারে যে তাঁকে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা হয়েছে।

নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যেভাবে বেগমের মামলাটি পরিচালনা করেছে, আদালত তার তীব্র সমালোচনা করে এবং পর্যবেক্ষণ করে যে, নথি থেকে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে "আইনের প্রতি বিদ্বেষ" স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়।

হাইকোর্টের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর, গত ৩০ মে ট্রাইব্যুনাল বেগমকে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করে।  হাইকোর্ট এর আগে জানিয়েছিল যে, ট্রাইব্যুনাল তার দাখিল করা সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করেনি।

বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে, বেগমকে ৩০শে মে-র আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং এর পরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ফলে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ পাননি। তার গ্রেপ্তারের সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং পুলিশের দেওয়া বিবরণ নিয়েও বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে।

আদালত রায় দিয়েছে যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কার সংক্রান্ত আদর্শ কার্যপ্রণালীর (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) “সরাসরি লঙ্ঘন” হয়েছে। এই কার্যপ্রণালী অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কার করার আগে তাকে অবশ্যই উপলব্ধ আইনি প্রতিকারগুলো শেষ করার সুযোগ দিতে হবে।

বেঞ্চ বলেছে, ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে বেগমকে রাজ্য প্রশাসন বাধা দিয়েছে। তাই আদালত আসাম সরকারকে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক বিভাগকে ট্রাইব্যুনালের ৩০ মে-র আদেশটি কখন ও কোন তারিখে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা তদন্ত করার নির্দেশও দিয়েছে। আদালত বলেছে, প্রয়োজনে মতামতটি কখন লেখা হয়েছিল তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটার জব্দ করা যেতে পারে।

বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, জেলা পুলিশ সুপাররা যেন নিশ্চিত করেন যে, ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের হেফাজতে নেওয়ার আগে যেন ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়। ওই ব্যক্তিকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও অবশ্যই জানাতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস (০৭.০৯.২০২৬)

১১ আগ, ২০২৬

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের দায়ে সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত কর্তৃক অনুপস্থিত থাকা বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়।

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আত্মীয় আতেফ নাজিব। মাহেরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাশার আল-আসাদ ও তাঁর ভাই মাহের আল-আসাদ দুজনই রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। ফলে মঙ্গলবারের রায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে আতেফ নাজিবের ভূমিকার বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি সে সময় দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আতেফ নাজিবের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের পাশাপাশি ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর ঘটনাতেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় নাজিব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কয়েদির পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায়।

সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বিচারকে পুরোনো শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ রয়েছে, তারই একটি অংশ এই বিচারের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

বাশার আল-আসাদ প্রায় ২৪ বছর সিরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর শাসনামলে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও পরে গৃহযুদ্ধ দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে ওঠে।

সিরিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের শিকড় খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ২০১১ সালে। ওই বছর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দেরা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আন্দোলনটি ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্রমে সেই আন্দোলন বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরে দেশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। এই সংঘাত সিরিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনকে ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত করে।

দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। সরকারবিরোধী বাহিনীর অগ্রযাত্রা তীব্র হলে বাশার আল-আসাদ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে দামেস্ক ছেড়ে রাশিয়ায় চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে এবং আসাদ সরকারের পতন হয়।

ক্ষমতা হারানোর পর রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সেই অবস্থাতেই সিরিয়ার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো।
বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে এই রায় সিরিয়ার রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা কোনো শাসকের পতনের পর তাঁর আমলের কর্মকাণ্ডের বিচার কতটা স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আল জাজিরা (১১.০৮.২০২৬)

২ জুল, ২০২৬

গরু জবাই নিষিদ্ধের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতির সরকার

গরু জবাই নিষিদ্ধের রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে থালাপতির সরকার

ছবি: সংগৃহীত 

ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের জারি করা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে ঈদুল আজহার সময় প্রকাশ্যে পশু কুরবানি বন্ধের দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

রায়ে বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণ ১৯৭৬ সালে জারি করা একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেন। তাঁদের মতে, গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ওই আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।তবে হাইকোর্টের এই নির্দেশনার বিরোধিতা করেছে তামিলনাড়ু সরকার।

তাদের দাবি, রাজ্যে গরু জবাই-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের সঙ্গে আদালতের নির্দেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি প্রচলিত আইনকে অতিক্রম করেছে।সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে রাজ্য সরকার বলেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ 'তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮'-এর পরিপন্থি। ওই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজননক্ষমতা হারানো গরু বা বাছুর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে হাইকোর্ট কার্যত রাজ্যের আইনসভার ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করেছে। সরকারের ভাষ্য, উচ্চ আদালত এ ক্ষেত্রে তার সাংবিধানিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৫ জুন, ২০২৬

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা

হাদি হত্যা ইস্যুতে মন্তব্য, মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বুধবার শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত সাইবার ক্রাইম থানায় এই এফআইআর দায়ের করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিঙ্কু সিং চ্যাটার্জি।

'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'র অধীন ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩-সহ একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় এই মামলা দায়ের করে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে একাধিক মিটিং, মিছিল, সভা ও গণমাধ্যমের সামনে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন।

অভিযোগপত্রে আরও লেখা হয়, গত ২ জুন মঙ্গলবার কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারত সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন। এই ধরনের বক্তব্য রাখার উদ্দেশ্যই ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করা এবং দুই দেশের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা। মমতার এই মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট, ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির নামান্তর।

এই মন্তব্য ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্না কর্মসূচি থেকে হঠাৎ করেই নাম না করে হাদি হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল।

অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি, তা হলো ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটা তাদের কৃতিত্ব।

কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার। ’

অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার, তথ্যভাণ্ডার।  কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।

সেদিন মমতার অভিযোগ ছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংঘটিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড করা হয়েছে।

এই নিয়ে বৃহস্পতিবার অভিযোগকারী রিঙ্কু সিং জানিয়েছেন, ওই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের কট্টরবাদীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিধায়কের পদ চলে যাওয়ার পরে পাবলিক ডোমেইনকে ব্যবহার করে তিনি অপরাধ করেছেন। সেই অপরাধ দেশদ্রোহিতার সমান। সেই কারণেই এফআইআর করা হয়েছে। ৮ জুন তারিখ আদালত খুললেই আমি আবেদন জানাব, অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীকে যেন গ্রেপ্তার করা হয়।

৩ জুন, ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

ছবি: সংগৃহীত 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) হওয়া ভোটাভুটিতে জয়ী হন তিনি। 

১৪ মে, ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলা লড়তে আইনজীবীর পোশাক পরে হাইকোর্টে মমতা

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা মামলা লড়তে আইনজীবীর পোশাক পরে হাইকোর্টে মমতা


ছবি: সংগৃহীত 

আইনজীবীর পোশাক পরেই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে পৌঁছলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলের একের পরে এক পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগকে সামনে রেখে মামলা হয়। 

শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা করেন। তারই সওয়াল করতে এজলাসে মমতা। এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আদালতে আসেন চন্দ্রিমা ভট্টচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

গত ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা দায়ের করে তৃণমূল। দলের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থ মামলা করেন। 

দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তখনই ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিলেন, আজ, বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হবে।


সোর্স: আজতক বাংলা
বিডিএলপিবি: এমএম

২ মে, ২০২৬

ইসরায়েলি গোয়েন্দাসংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।

ইসরায়েলি গোয়েন্দাসংস্থা মোসাদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।


ছবি: সংগৃহীত 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সময় তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি হলেন- ইয়াকুব কারিমপুর এবং নাসের বেকেরজাদেহ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসের বেকেরজাদেহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, ধর্মীয় ও প্রাদেশিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং নাতাঞ্জ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর তথ্য সরবরাহে অভিযুক্ত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা ইরানের একটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ইয়াকুব কারিমপুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর এক কর্মকর্তার কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা ও পাল্টা পদক্ষেপ আরও জোরদার হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

২৯ এপ্রি, ২০২৬

প্রতারণা করে আয়ের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা

প্রতারণা করে আয়ের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আয় করার অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে। আইনি প্রতিষ্ঠান ‘টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি’ ও ‘টেক জাস্টিস ল’এর দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সম্পর্কে বিভ্রান্ত করে মেটা দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণে অর্থ আয় করে আসছে।  

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ (প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার) এসেছে প্রতারণামূলক বা নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে। ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি হচ্ছেন। একই সঙ্গে এসব বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি অর্থ নেওয়া হলেও ব্যবহারকারীদের করা প্রতারণাসংক্রান্ত ৯৬ শতাংশ বৈধ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। 

টেক জাস্টিস ল’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেটা একদিকে প্রতারণা ঠেকানোর কথা বললেও অন্যদিকে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নিয়ে তাদের প্ল্যাটফর্মে সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, এটি কেবল দুর্বলতা নয়, এটি একটি ব্যবসায়িক মডেল যা প্রতারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘এসব অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং প্রতিষ্ঠানটি আদালতে এ বিষয়ে লড়াই করবে। ব্যবহারকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে মেটা ধারাবাহিকভাবে প্রতারণা দমনে কাজ করছে। গত বছর আমরা ১৫ কোটি ৯০ লাখের বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে দিয়েছি, যার ৯২ শতাংশ কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগেই অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।’

সুত্রঃ ডিজিটাল মিডিয়া- ম্যাশেবল

২২ মার্চ, ২০২৬

খুশিতে আত্মহারা ট্রাম্প, কিন্তু কেন?

খুশিতে আত্মহারা ট্রাম্প, কিন্তু কেন?


ছবি: সংগৃহীত 

২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মস্কোর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত করা সাবেক স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুলার মারা গেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) তার পরিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ নিউইয়র্ক টাইমস কর্তৃক প্রকাশিত মুলারের পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত রাতে বব (রবার্ট মুলার) মারা গেছেন। তার পরিবার এই সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানাচ্ছে।’

২০১৭ সালে মুলারকে বিশেষ কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ দেন তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোসেনস্টেইন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তদন্তের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মুলার। ২০১৯ সালে প্রকাশিত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণাকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল রাশিয়া।
 
২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুলার। এর আগে দীর্ঘ কর্মজীবনে পানামার শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগা, নিউইয়র্কের মাফিয়া নেতা জন গট্টির বিরুদ্ধে মামলার তদারকি করেন তিনি। এ ছাড়া ১৯৮৮ সালে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বোমা হামলা মামলার তদন্তে নেতৃত্ব দেন।

শনিবার তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি লিখেছেন, ‘রবার্ট মুলার মারা গেছেন। ভালো হয়েছে, আমি খুশি। এখন তিনি নিরপরাধ মানুষদের ক্ষতি করতে পারবেন না।’

২০ মার্চ, ২০২৬

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে কত দিনে এশিয়ায় পৌঁছাবে তেল?

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে কত দিনে এশিয়ায় পৌঁছাবে তেল?

ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে মাত্র তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই সেই তেল এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

তিনি ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি তেল এশীয় বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তাঁর মতে, দ্রুত সরবরাহ শুরু হলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, সমুদ্রে ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের তেল সরবরাহ দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে প্রবাহিত হবে, যা সরবরাহ বাড়িয়ে দামের চাপ কিছুটা কমাতে পারে।

৯ মার্চ, ২০২৬

কে এই মোজতবা খামেনি?

কে এই মোজতবা খামেনি?


ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন চলছিল ইরানের শীর্ষ পদটি নিয়ে। অন্তর্বর্তীও নিয়োগ দিয়েছিল ইরান। এবার আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিকে কখনোই কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায়নি। এমনকি কোনো জনমতের মুখোমুখিও হননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের মাঝে তাকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে হলো।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুদ্ধের প্রথম দিনে তেহরানে খামেনি পরিবারের বাসভবনে চালানো ভয়াবহ হামলায় নিহত হন মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। প্রাণ হারান মোজতবা খামেনির মা, স্ত্রী ও এক বোনও। বাড়িতে না থাকায় বেঁচে যান মোজতবা।

কে এই মোজতবা? ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রভাবশালী কিন্তু আড়ালে থাকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে ওঠেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সময়ে। তার বাবা, তখনকার প্রভাবশালী আলেম, শাহের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বারবার গ্রেফতার ও নির্বাসিত হন।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবারের অবস্থান পালটে গেলে মোজতবা তেহরানে চলে আসেন। সেখানে তিনি এলিট আলাভি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। এটি শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব তৈরির জন্য পরিচিত। পরবর্তীতে তেহরান ও কুমে ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং রক্ষণশীল আলেম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-তাকি মেসবাহ ইয়াজদি-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির অধীনে পড়াশোনা করেন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইউএএনআই জানিয়েছে।

মোজতবা একজন মধ্যম-স্তরের আলেম, তবে তিনি আয়াতুল্লাহ নন। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরে আড়ালের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।  বিশ্লেষকেরা প্রায়ই তার ভূমিকাকে আহমদ খোমেনির সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি তার বাবা রুহুল্লাহ খোমেনির শাসনামলে প্রধান আস্থাভাজন ও গেটকিপার হিসেবে কাজ করেছিলেন।

মোজতবার প্রভাবের পেছনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি হাবিব ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে গোয়েন্দা ও বাসিজ কমান্ডারসহ নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ে ওঠা ব্যক্তিদের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিদেশি সরকারগুলো তাকে নির্বাচন রাজনীতি ও নিরাপত্তা দমনপীড়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সে সময় মার্কিন ট্রেজারি জানায়, আলী খামেনি তার কিছু ক্ষমতা ছেলের কাছে ন্যস্ত করেছিলেন এবং নির্বাচিত পদে না থাকলেও তিনি আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতেন।

তবে তার উত্তরসূরি হওয়া সহজ ছিল না। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সুপ্রিম লিডার হতে হলে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম এবং স্বীকৃত ধর্মীয় কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক সক্ষমতার অধিকারী হতে হয়। মোজতবা বর্তমানে আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা ধারণ করেন না। তা ছাড়া বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাবা থেকে ছেলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর একটি সংবেদনশীল বিষয়।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসই পরবর্তী সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে থাকে। সংস্থাটি যোগ্য আলেমদের মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মানদণ্ড পূরণকারী একজনকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সংবিধান প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ব্যবস্থারও অনুমতি দেয়, যাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী কর্তৃত্ব অব্যাহত থাকে।

১ মার্চ, ২০২৬

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ছবিঃ সংগৃহীত 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে সিআইএ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরার ওপর নজর রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে তারা।

প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইএর কাছে তথ্য আসে যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন খামেনিও। এমন তথ্য সিআইএর হাতে আসার পর হামলার সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। কারণ তারা বলে আসছিল যে, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। তারা মনে করে, প্রাপ্ত তথ্যের ফলে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ। তবে সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা।

মার্কিন গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়। বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে।

মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল, বৈঠকে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

খবরে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী ইসরাইলের সময় অনুসারে ভোর ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তখন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘ পাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য সঠিক এবং সে অনুযায়ী ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর হামলা যে নিখুঁত ছিল সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে। হামলার পরপরই ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের দাবির ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারছিল না। ইরানের পক্ষ থেকেও একাধিকবার বলা হয়, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তীতে তেহরান খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার শাহাদাতের কথা স্বীকার করে।