৪ অক্টো, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

কোলাজ ছবি 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আইসিসির পাশাপাশি আদালটির সঙ্গে সহযোগিতাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিও পড়তে পারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে ব্যবসায়িক বা আর্থিক লেনদেনে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আদালটির দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দ্য টাইমসকে এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যুদ্ধাপরাধের বিচারের সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিসির সমর্থকদের আশঙ্কা, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আদালটির কার্যক্রমকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আদালটি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; বিষয়টি এখনো আশঙ্কা ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর্যায়েই রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (OFAC) জানিয়েছে, এরপর ২০২৬ সালেও আইসিসি-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আগস্টে আইসিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আদালতের ১৮ বিচারকের মধ্যে ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর এবং একজন কর্মী রয়েছেন। আইসিসি এসব নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেছে, এর ফলে আদালটির স্বাধীন বিচারিক কার্যক্রম প্রভাবিত হচ্ছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যেই নিজেদের কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনছে আইসিসি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে আদালটি ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান এএক্সার (AXA) সঙ্গে স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে এবং নতুন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আগ্রাসনের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আইসিসির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।


তথ্যসূত্র: তাস, দ্য টাইমস ও রয়টার্স



শেয়ার করুন

0 coment rios: