১৮ অক্টো, ২০২৬

নারীর ওপর শুয়ে মুখ চেপে ধরলেই ধর্ষণের চেষ্টা নয়, প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ থাকতে হবে: পাটনা হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
এক নারীর ওপর শুয়ে তাঁর মুখ চেপে ধরার ঘটনা ঘটলেও, ধর্ষণের উদ্দেশ্যে প্রবেশের দিকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রমাণ না থাকলে তা ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে না বলে জানিয়েছেন ভারতের পাটনা হাইকোর্ট।

ভারতের পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি সন্দীপ কুমারের একক বেঞ্চ ২০১৩ সালের ২৯ জুলাইয়ের দণ্ডাদেশ ও একই বছরের ১ আগস্টের সাজা ঘোষণার বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সন্তানদের নিয়ে বসবাসকারী এক বিধবা নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে বাতি নিভিয়ে তাঁর ওপর শুয়ে পড়েন এবং মুখ চেপে ধরেন। ওই নারী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন।

পরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারায় তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং ৪৪৮ ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা একই সঙ্গে চলার কথা ছিল।

অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগকারী নারীর বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের পক্ষে যথেষ্ট সমর্থনকারী প্রমাণ নেই। এছাড়া যেসব স্থানীয় ব্যক্তি অভিযুক্তকে ধরে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁদেরও আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়নি।

হাইকোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল—প্রমাণিত ঘটনাগুলো ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারার অধীনে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে, নাকি নারীর শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের জন্য ৩৫৪ ধারার আওতায় পড়বে।

আদালত বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টার পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আমান কুমার মামলার সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন, অনেক সময় অশালীন বা অনৈতিক আচরণকে অতিরঞ্জিত করে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ধর্ষণের চেষ্টা প্রমাণের জন্য এমন উপাদান থাকতে হবে, যা থেকে বোঝা যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সব প্রতিরোধ উপেক্ষা করেও যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়েছিলেন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করেছিলেন কিংবা এমন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যা বাধা না পেলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত বলেন, “অভিযুক্ত নিজে বা অভিযোগকারী নারীকে বিবস্ত্র করেছিলেন কিংবা যৌন প্রবেশের উদ্দেশ্যে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ না থাকলে বলা যায় না যে তিনি প্রস্তুতির পর্যায় অতিক্রম করে এমন কোনো কাজ করেছিলেন, যা বাধাগ্রস্ত না হলে ধর্ষণের ঘটনায় পরিণত হতো।”

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়া, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং ১৩ বছরেরও বেশি সময় জামিনে থাকার সময়ে তিনি জামিনের কোনো অপব্যবহার করেননি—এসব বিষয়ও আদালত বিবেচনায় নেন।

এরপর হাইকোর্ট তাঁর সাজা পরিবর্তন করে ইতোমধ্যে যতদিন কারাগারে ছিলেন, সেই সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করেন।

সূত্র: লাইভ ল’

BD Law Post / মাসুম


শেয়ার করুন

0 coment rios: