৩০ অক্টো, ২০২৬

শাস্তি না দিলে গো-মাতা অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি: ভারতের গুজরাটে গো-হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ আদালতের

ছবি: সংগৃহীত 
ভারতের গুজরাটের একটি আদালত গরু জবাইয়ের মামলায় তিনজনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে মোট ৩ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। ৭৬ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মনুস্মৃতি, বেদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত সোমবার এ রায় দেন।

মামলার পটভূমি

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গরু জবাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৭৭ কেজি মাংস উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি, কুঠার, ওজন মাপার যন্ত্র, দড়ি ও যানবাহন জব্দ করা হয়।

আসামিপক্ষ জব্দ করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আলামত সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য ছিল, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং জব্দ করা সরঞ্জাম যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি।

তবে আদালত অভিযোগকারী, অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্য, স্বাধীন সাক্ষী ও পশু চিকিৎসকের সাক্ষ্য এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত মনুস্মৃতি, ঋগ্বেদ, হরিবংশ পুরাণসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করেন। মনুস্মৃতির আলোকে গরু ও গবাদিপশুকে শুধু প্রাণী নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে বিচারক উল্লেখ করেন।

ঋগ্বেদের ‘অধন্যা’ শব্দের উল্লেখ করে আদালত বলেন, এর অর্থ এমন প্রাণী, যাকে হত্যা করা উচিত নয়। এ ছাড়া সুরভি বা কামধেনু এবং গরুর ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কেও রায়ে আলোচনা করা হয়।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ নির্মমভাবে বিচ্ছিন্ন করে ২৭৭ কেজি মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী শাস্তি না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আদালতের আদেশ

আদালত গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর ২০১৭ সালের সংশোধনী অনুযায়ী—

১. আইনের ৮(২) ধারায় প্রত্যেক আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

২.. একই আইনের ৮(৪) ধারায় ৬(ক) ও ৬(খ) ধারার অপরাধের জন্য প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

আদালত নির্দেশ দেন, উভয় কারাদণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে প্রত্যেক আসামির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ রুপি।

মামলার অপর দুই আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে আরেক আসামির মৃত্যু হয়।

সংবাদসূত্র: Live Law, Hindustan Times (30 October, 2026)


শেয়ার করুন

0 coment rios: