![]() |
| অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, শুধু অভিযোগের গুরুত্বের ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকাল বিচার-পূর্ব কারাবাসে রাখা যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। |
২৩ অক্টো, ২০২৬
জব্দতালিকা (Seizure List) কী? জব্দতালিকা প্রস্তুত করার নিয়ম ও নাগরিকের আইনি অধিকার
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
১. জব্দতালিকার আইনগত ভিত্তি
বাংলাদেশে জব্দতালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রধানত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১০৩ ধারা প্রাসঙ্গিক। এ ধারায় তল্লাশির সময় স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত রাখা এবং জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুতের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর সংশ্লিষ্ট বিধানও প্রযোজ্য।
২. জব্দতালিকায় কী কী তথ্য থাকে?
একটি জব্দতালিকায় সাধারণত উল্লেখ থাকে—
- মামলার নম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিবরণ;
- জব্দের তারিখ, সময় ও স্থান;
- উদ্ধার করা আলামতের নাম, সংখ্যা, পরিমাণ ও অবস্থা;
- উপস্থিত সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর;
- যার কাছ থেকে বা যে স্থান থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে, তাঁর পরিচয়;
- জব্দকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি ও স্বাক্ষর।
৩. তল্লাশির সময় নাগরিকের আইনি অধিকার
- তল্লাশি পরোয়ানা সম্পর্কে জানার অধিকার: আইন অনুযায়ী পরোয়ানা প্রয়োজন হলে তা দেখতে চাইতে পারেন। তবে আইনস্বীকৃত কিছু পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াও তল্লাশি করা যায়।
- পুলিশের পরিচয় জানার অধিকার: তল্লাশিকারী কর্মকর্তার পরিচয় ও পদবি জানতে চাইতে পারেন।
- উপস্থিত থাকার অধিকার: আইন অনুযায়ী তল্লাশির সময় বাড়ির মালিক বা তাঁর প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দিতে হয়।
- নারীর দেহ তল্লাশি: ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারার বিধান অনুযায়ী, কোনো নারীর দেহ তল্লাশি করতে হলে শালীনতা বজায় রেখে অন্য একজন নারীকে দিয়ে তল্লাশি করাতে হবে।
- বেআইনি হয়রানি থেকে সুরক্ষা: তল্লাশির নামে বেআইনি নির্যাতন, ভয়ভীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হলে আইনগত প্রতিকার চাওয়া যায়।
৪. জব্দতালিকা তৈরির নিয়ম
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারার প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী
১. তল্লাশির আগে স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে ডাকতে হবে।
২. সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা সামগ্রীর বিবরণ এবং উদ্ধারের পরিস্থিতি তালিকায় লিপিবদ্ধ করতে হবে।
৩. তালিকায় সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে। যার স্থান থেকে সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে, তাঁর উপস্থিতি ও স্বাক্ষরের বিষয়টিও যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা উচিত।
৪. জব্দতালিকার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিনামূল্যে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
৫. জব্দতালিকায় অসংগতি থাকলে করণীয়
জব্দতালিকায় কোনো ভুল, অসংগতি বা আপত্তি থাকলে তা যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করার অনুরোধ করুন। কোনো ফাঁকা বা অসম্পূর্ণ কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। স্বাক্ষর করার আগে তালিকার বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়ে নিন এবং সম্ভব হলে আপত্তির বিষয়টি লিখিতভাবে উল্লেখ করুন।
পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি তল্লাশি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
রবিবার হাইকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম শুরু দুপুর আড়াইটায়
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবকাশকালীন ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেবেন।
আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাসের সামনের করিডোরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ আইনজীবীরা উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী আইনজীবীদের আপ্যায়নের জন্য সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনসংলগ্ন ইনার কোর্ট ইয়ার্ডের বাগানে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের কারণে আগামী ২৫ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হবে।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি
আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত আইনের শাসন সূচক ২০২৬-এ দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১২৩তম। তবে অবস্থানের উন্নতি হলেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।
সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০.৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০.৫৫। তবে বার্ষিক অগ্রগতির হিসাবে বিশ্বের ১৫টি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনকারী দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসন সূচকে অগ্রগতির দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে নেপাল প্রথম, শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় এবং ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
আফ্রিকার কয়েকটি দেশের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ
আইনের শাসন সূচকে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের অবস্থান জিম্বাবুয়ের ঠিক পরেই।
বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন সূচকের শীর্ষ পাঁচটি স্থান দখল করেছে ইউরোপের দেশগুলো। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। এরপর যথাক্রমে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গের অবস্থান।
আটটি মানদণ্ডে মূল্যায়ন
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের এ সূচকে আটটি প্রধান মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের আইনের শাসনের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। মানদণ্ডগুলো হলো—সরকারি ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
এ আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। তবে বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।
মৌলিক অধিকার রক্ষায় সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান
সূচকের তথ্য অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে দুর্বল। এ মানদণ্ডে ০.৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩তম।
অন্যদিকে, আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে উন্মুক্ত সরকার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪২ এবং অবস্থান ১২৮তম।
সামগ্রিকভাবে, আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি হলেও পাঁচটি মানদণ্ডে অবনতি এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় দুর্বল অবস্থান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরেছে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত আইনের শাসন সূচক ২০২৬
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
মিরপুরে বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় ছাত্রলীগ নেতা তানভীর কারাগারে
![]() |
| প্রতীকী ছবি |
তানভীর আহমেদ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তানভীর আহমেদকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যেভাবে বাসে আগুন দেওয়া হয়
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের নিচে টেকনিক্যালগামী অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের কয়েকটি আসন, ফ্যানসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়।
এ সময় বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী দ্রুত নেমে নিজেদের রক্ষা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শাহ আলী মাজারের দিকে পালিয়ে যান।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
ঘটনার পর মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তানভীর আহমেদকে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হলে শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সূত্র: মামলার এজাহার ও আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্য, বাসস, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
মোহাম্মদপুরে নাশকতার পরিকল্পনায় গোপন বৈঠক, ছাত্রলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৪ নেতা কারাগারে
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো চার আসামি হলেন— ছাত্রলীগের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. জালাল উদ্দিন (৩২), ভালুকা ছাত্রলীগের হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মো. নাঈম হাসান ডালিম (৩২), একই ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য মো. মাহমুদুল হাসান মামুন (৩৪) এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য মো. আল-আমিন (৩৫)।
মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে গ্রেফতার করা হয়
পুলিশ জানায়, বুধবার মোহাম্মদপুর থানার ঢাকা উদ্যান এলাকার ‘সি’ ব্লকে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঢাকা উদ্যান মেইন রোডের হাজী দিল মোহাম্মদ অ্যাভিনিউয়ের ৩৯ নম্বর বাড়ির গ্যারেজে সরকারবিরোধী কার্যক্রম ও নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিলেন তাঁরা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত চলছে।
সূত্র: বাসস, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম
২২ অক্টো, ২০২৬
জনবল কমানোর অজুহাতে অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী হওয়ার অধিকার অস্বীকার করা যায় না: আপিল বিভাগ
![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
২০২৫ সালের ৭ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড বনাম মোঃ এ. কে. আজাদ ও অন্যান্য (কার্গো হেলপার), দেওয়ানি আপিল নং ১৭৮/২০১৮ মামলায় দেওয়া রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগের জন্য তালিকাভুক্ত করা এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সন্তোষজনক চাকরির বিষয়টি আইনগত অধিকার সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনবল কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে তাঁদের সেই অধিকার নাকচ করা যায় না।
মামলার পটভূমি
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা প্রায় ১০ থেকে ২৫ বছর ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অস্থায়ী ভিত্তিতে কার্গো হেলপার ও ট্রাফিক হেলপার হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০০০ সালে তাঁদের চাকরি স্থায়ী করার দাবি ওঠার পর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়।
২০০১ সালে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করা এবং সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড থাকা কর্মীদের স্থায়ী নিয়োগের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয় এবং সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
২০০৭ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনবল ৬ হাজার ৮৮৩ থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ৪০০ জনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে কার্গো হেলপার ও ট্রাফিক হেলপার পদ দুটি অনুমোদিত জনবল কাঠামো থেকে বিলুপ্ত করা হয়।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মীরা চাকরি স্থায়ী করার নির্দেশনা চেয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করেন।
হাইকোর্টের রায় ও আপিল
২০১৬ সালের ২ জুন হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে বিমান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। কার্গো হেলপার ও ট্রাফিক হেলপার পদে নিয়োগ সম্ভব না হলে স্থায়ী কাঠামোর অন্য কোনো উপযুক্ত পদে নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আপিলকারী কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, কর্মীরা অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতেন এবং সংশ্লিষ্ট পদ বিলুপ্ত হওয়ায় তাঁদের স্থায়ী পদে নিয়োগের সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, কর্মীদের পক্ষে বলা হয়, তাঁরা দীর্ঘদিন সন্তোষজনকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কর্তৃপক্ষ নিজেই তাঁদের স্থায়ী নিয়োগের জন্য তালিকাভুক্ত করেছিল।
আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ
আপিল বিভাগ রায়ে উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নাম স্থায়ী নিয়োগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিমান কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেনি। তাঁদের দীর্ঘদিনের চাকরি এবং সন্তোষজনক কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছিল।
আদালত ১৯৬৫ সালের Employment of Labour (Standing Orders) Act-এর ৪ ধারা এবং ২০০৬ সালের শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কর্মীদের আইনস্বীকৃত অধিকারকে কেবল জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত বা স্বেচ্ছা অবসর প্রকল্পের অজুহাতে অস্বীকার করা যায় না।
রায়ে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আইনগত অধিকার সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ফলে পদ বিলুপ্তির যুক্তি দেখিয়ে তাঁদের স্থায়ী নিয়োগের অধিকার নাকচ করার অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
চাকরি স্থায়ী করার নির্দেশ
আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে কোনো আইনগত ত্রুটি খুঁজে পাননি। আদালত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে নির্দেশ দেন, এখনো অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত এবং সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ডধারী সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
রায়ের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের ২ জুন ২০১৬ তারিখের রায় থেকে চাকরি স্থায়ী হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির সুবিধাদির অর্ধেক দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অবসর গ্রহণের বয়স পূর্ণ হলে আইন অনুযায়ী তাঁদের পদ বিলুপ্ত করার স্বাধীনতা বিমান কর্তৃপক্ষের থাকবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
আইনি তাৎপর্য
এ রায়ে আপিল বিভাগ স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘদিনের সন্তোষজনক চাকরি, স্থায়ী নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী পদক্ষেপের ভিত্তিতে কোনো কর্মীর আইনগত অধিকার সৃষ্টি হলে কেবল প্রশাসনিক পুনর্গঠন বা পদ বিলুপ্তির যুক্তিতে তা অস্বীকার করা যায় না। তবে এ সিদ্ধান্ত মামলার নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রযোজ্য আইনের আলোকে বিবেচ্য; এটি সব অস্থায়ী কর্মীর চাকরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী হওয়ার সাধারণ ঘোষণা নয়।
সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগ, সিভিল আপিল নং ১৭৮/২০১৮, রায়: ৭ মে ২০২৫। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম