২৩ অক্টো, ২০২৬

জব্দতালিকা (Seizure List) কী? জব্দতালিকা প্রস্তুত করার নিয়ম ও নাগরিকের আইনি অধিকার

প্রতীকী ছবি 
জব্দতালিকা (Seizure List) হলো ফৌজদারি মামলার তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক জব্দ করা মালামাল ও আলামতের বিবরণসংবলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল। তল্লাশি বা অভিযানের সময় উদ্ধার করা অস্ত্র, মাদক, চোরাই মালামাল কিংবা অন্যান্য সম্ভাব্য আলামতের বিস্তারিত এতে লিপিবদ্ধ করা হয়। আদালতে আলামত শনাক্তকরণ এবং তা উদ্ধারের পরিস্থিতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জব্দতালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১. জব্দতালিকার আইনগত ভিত্তি

বাংলাদেশে জব্দতালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে প্রধানত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১০৩ ধারা প্রাসঙ্গিক। এ ধারায় তল্লাশির সময় স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত রাখা এবং জব্দ করা সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুতের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর সংশ্লিষ্ট বিধানও প্রযোজ্য।

২. জব্দতালিকায় কী কী তথ্য থাকে?

একটি জব্দতালিকায় সাধারণত উল্লেখ থাকে—

  • মামলার নম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিবরণ;
  • জব্দের তারিখ, সময় ও স্থান;
  • উদ্ধার করা আলামতের নাম, সংখ্যা, পরিমাণ ও অবস্থা;
  • উপস্থিত সাক্ষীদের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর;
  • যার কাছ থেকে বা যে স্থান থেকে আলামত জব্দ করা হয়েছে, তাঁর পরিচয়;
  • জব্দকারী কর্মকর্তার নাম, পদবি ও স্বাক্ষর।

৩. তল্লাশির সময় নাগরিকের আইনি অধিকার

  • তল্লাশি পরোয়ানা সম্পর্কে জানার অধিকার: আইন অনুযায়ী পরোয়ানা প্রয়োজন হলে তা দেখতে চাইতে পারেন। তবে আইনস্বীকৃত কিছু পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াও তল্লাশি করা যায়।
  • পুলিশের পরিচয় জানার অধিকার: তল্লাশিকারী কর্মকর্তার পরিচয় ও পদবি জানতে চাইতে পারেন।
  • উপস্থিত থাকার অধিকার: আইন অনুযায়ী তল্লাশির সময় বাড়ির মালিক বা তাঁর প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দিতে হয়।
  • নারীর দেহ তল্লাশি: ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারার বিধান অনুযায়ী, কোনো নারীর দেহ তল্লাশি করতে হলে শালীনতা বজায় রেখে অন্য একজন নারীকে দিয়ে তল্লাশি করাতে হবে।
  • বেআইনি হয়রানি থেকে সুরক্ষা: তল্লাশির নামে বেআইনি নির্যাতন, ভয়ভীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হলে আইনগত প্রতিকার চাওয়া যায়।

৪. জব্দতালিকা তৈরির নিয়ম

ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারার প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী

১. তল্লাশির আগে স্থানীয় দুই বা ততোধিক সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে ডাকতে হবে।

২. সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা সামগ্রীর বিবরণ এবং উদ্ধারের পরিস্থিতি তালিকায় লিপিবদ্ধ করতে হবে।

৩. তালিকায় সাক্ষীদের স্বাক্ষর নিতে হবে। যার স্থান থেকে সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে, তাঁর উপস্থিতি ও স্বাক্ষরের বিষয়টিও যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা উচিত।

৪. জব্দতালিকার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিনামূল্যে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

৫. জব্দতালিকায় অসংগতি থাকলে করণীয়

জব্দতালিকায় কোনো ভুল, অসংগতি বা আপত্তি থাকলে তা যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করার অনুরোধ করুন। কোনো ফাঁকা বা অসম্পূর্ণ কাগজে স্বাক্ষর করবেন না। স্বাক্ষর করার আগে তালিকার বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়ে নিন এবং সম্ভব হলে আপত্তির বিষয়টি লিখিতভাবে উল্লেখ করুন।

পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি তল্লাশি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত আদালতের শরণাপন্ন হওয়া যায়। জরুরি পরিস্থিতিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।


বিডি ল' পোস্ট/মাসুম 


শেয়ার করুন

0 coment rios: