৬ নভে, ২০২৬

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলার হাজতির মৃত্যু

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলার হাজতির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত 
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ রাজু নামে হত্যা মামলার এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারাগারের শৌচাগারের দরজার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত রাজু পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আয়নাল হক।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে কারাগারের শৌচাগারের দরজার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন রাজু। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষীরা তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট 

ছিনতাই-চাঁদাবাজি'র মামলা যাবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে, আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত

ছিনতাই-চাঁদাবাজি'র মামলা যাবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে, আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত

ছবি: সংগৃহীত 
ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এসব অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের বিধান যুক্ত করে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এ লক্ষ্যে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সংশোধনী চূড়ান্ত হলে আগামী সংসদ অধিবেশনে তা পাসের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে প্রচলিত আইনে হত্যা, ধর্ষণ, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, ডাকাতি এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের পর সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অতিরিক্ত সময় নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চে সারা দেশে ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও ছিনতাইয়ের ১ হাজার ৩২২টি ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭৬, জুনে ১ হাজার ৩১৮ এবং সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৩২৭টি।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটটি বিভাগে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮৭ জনে। ছয় মাস আগে এই সংখ্যা ছিল ৯৮৯।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক কামারুম মুনিরা বলেন, এসব অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলে অপরাধীদের মধ্যে অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে এবং এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র:  ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া, কালবেলা

কারাগারে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা জারি

কারাগারে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা জারি

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু করেছে কারা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনার আওতায় লকআপ-পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অবহেলা ও অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কারাগারে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করার ফলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাও এ নির্দেশনার অন্যতম লক্ষ্য।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানান, সাত দফা নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কারাগারগুলোকে নিয়মিতভাবে অধিদপ্তরের কাছে অগ্রগতি ও মতামত জানাতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া সারাদেশের কারাগারগুলোর তদারকির জন্য ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে নির্দেশনার অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছে অধিদপ্তর। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

লকআপ-পরবর্তী কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

নির্দেশনা অনুযায়ী, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত লকআপের পর কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে জেলার-এর লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি কার্যক্রমের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি

প্রতিটি কারাগারে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করতে হবে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের দায়িত্ব দিতে হবে। পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

দায়িত্বস্থল ত্যাগে শূন্য সহনশীলতা

নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রহরী বা পাহারাদার কর্মী অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করতে পারবেন না। এমন ঘটনা নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ধরনের অনিয়ম গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা কিংবা দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

অবহেলাকারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা

দায়িত্ব পালনে বারবার অবহেলার অভিযোগ ওঠা পাহারাদার কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও উৎসাহমূলক কার্যক্রমের আওতায় আনার নির্দেশনা রয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁদের অন্য কারাগারে বদলি করা যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা

বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় কারাগারের নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রহরীদের নিজ নিজ অবস্থানে অবস্থান করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।

নিয়মিত তদারকি ও আকস্মিক পরিদর্শন

কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশোধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারাগারের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার নয়, প্রকৃত আটকের সময় থেকেই ২৪ ঘণ্টার হিসাব শুরু: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার নয়, প্রকৃত আটকের সময় থেকেই ২৪ ঘণ্টার হিসাব শুরু: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
কোনো ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর সময় থেকে নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন প্রথম তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে প্রকৃতপক্ষে আটক করে, তখন থেকেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সাংবিধানিক সময়সীমা গণনা করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

আদালত বলেছেন, প্রকৃত আটক ও আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের মধ্যে কৃত্রিম পার্থক্য তৈরি করে পুলিশ কোনোভাবেই ২৪ ঘণ্টার সাংবিধানিক সময়সীমা এড়িয়ে যেতে পারে না। তদন্তের প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের আগে কাউকে আটক রাখার সময়ও এই ২৪ ঘণ্টার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।

মামলার পটভূমি

গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি উজ্জ্বল ভূইয়ান ও বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকর সমন্বয়ে গঠিত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন। সুজিত দাশ বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া মামলায় এ সিদ্ধান্ত আসে।

মামলাটির সূত্রপাত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (NDPS Act) অধীনে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। চারজন অভিযুক্ত ত্রিপুরা হাইকোর্টের জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বেলা প্রায় ২টার দিকে তল্লাশি ও জব্দ কার্যক্রমের সময় অভিযুক্তদের আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১১.০৩ কেজি মেথামফেটামিন ট্যাবলেট, যা ইয়াবা নামে পরিচিত, উদ্ধারের অভিযোগ ছিল। কিন্তু তাঁদের আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানো হয় পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে। এরপর একই দিন বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।

অর্থাৎ, প্রকৃত আটকের সময় থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার বেশি অতিবাহিত হয়েছিল।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ভারতের সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ও আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে যাতায়াতের প্রয়োজনীয় সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।

আদালতের মতে, আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের আগে তল্লাশি, জব্দ, অনুসন্ধান কিংবা তদন্তের নামে কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার সময় এই ২৪ ঘণ্টার হিসাব থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

আদালত আরও বলেন, সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদে এমন কোনো সুযোগ রাখা হয়নি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করে তাঁকে হেফাজতে রাখার পরও আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার না দেখিয়ে সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা যায়।

বিশেষ করে, আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের আগে ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। আদালতের মতে, বিচারিক তত্ত্বাবধান ছাড়া এত দীর্ঘ সময় কাউকে হেফাজতে রাখা ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর আশঙ্কা তৈরি করে।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন—

১. কোনো ব্যক্তির প্রকৃত আটক বা ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণের মুহূর্ত থেকেই ২৪ ঘণ্টার সময় গণনা শুরু হবে; আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের সময় থেকে নয়।

২. গ্রেপ্তারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পৌঁছানোর জন্য যুক্তিসংগতভাবে প্রয়োজনীয় সময় ছাড়া অন্য কোনো সময় এই ২৪ ঘণ্টার হিসাব থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

৩. প্রকৃত আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

৪. ম্যাজিস্ট্রেটকে আদালতে হাজির করা ব্যক্তির প্রকৃত আটকের তারিখ ও সময় লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং সাংবিধানিক সময়সীমা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে।

৫. ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করা হলেও আটকের সময়কাল অযৌক্তিক হলে ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।

মামলার সিদ্ধান্ত

সুপ্রিম কোর্ট দেখতে পান, আসামিদের প্রকৃত আটকের সময় ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা। সে হিসাবে তাঁদের ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু তাঁদের হাজির করা হয় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে।

ফলে সংবিধানের ২২(২) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন হয়েছে বলে আদালত সিদ্ধান্ত দেন। আদালত ত্রিপুরা হাইকোর্টের ২৯ এপ্রিলের আদেশ বাতিল করে আসামিদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন।

আদালত আরও স্পষ্ট করেন, মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন (NDPS Act)-এর ৩৭ ধারায় জামিনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত থাকলেও তা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করতে পারে না।

আইনি শিক্ষা

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন, কোনো ব্যক্তিকে কখন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেটি নয়; বরং কখন থেকে তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা কার্যকরভাবে খর্ব করে আটক রাখা হয়েছে, সেটিই ২৪ ঘণ্টার সময় গণনার নির্ধারক। তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখাতে বিলম্ব করে সাংবিধানিক সুরক্ষা এড়িয়ে যেতে পারবে না।

সূত্র: ANI; Bar and Bench,  ৫ অক্টোবর, ২০২৬

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম

৫ নভে, ২০২৬

ঢাকায় অন্য প্লট থাকার অভিযোগে ১৫ বছর আটকে রাখা বরাদ্দ স্থগিতের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

ঢাকায় অন্য প্লট থাকার অভিযোগে ১৫ বছর আটকে রাখা বরাদ্দ স্থগিতের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বরাদ্দ দেওয়া সাড়ে সাত কাঠা জমির বরাদ্দ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ঢাকায় তাঁর নামে আগে থেকেই অন্য প্লট রয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও তদন্ত ছাড়াই বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছিল। তাছাড়া প্রায় ১৫ বছর ধরে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরাদ্দ স্থগিত রেখে দেওয়াকে স্বেচ্ছাচারী ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য (রিট পিটিশন নং ৬৮১/২০২৫) মামলায় বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ১২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। ৫ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে এসব পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

মামলার পটভূমি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, খুলনা-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০১১ সালের ২৩ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে বিশেষ কোটায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে একটি প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর নিজের, পরিবারের কোনো সদস্যের কিংবা তাঁর ওপর নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তির নামে ঢাকায় সরকারি বা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো প্লট, বাড়ি, আবাসিক ভবন বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ নেওয়া হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তাঁর নামে সাড়ে সাত কাঠা জমি বরাদ্দের সুপারিশ করে। এর ধারাবাহিকতায় রাজউক ২০১১ সালের ১০ আগস্ট তাঁর অনুকূলে বরাদ্দপত্রও ইস্যু করে।

তবে ঢাকায় তাঁর নামে আগে থেকেই একটি প্লট রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের ১৭ আগস্টের একটি স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় বরাদ্দ স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ স্থগিতাদেশ বহাল রাখা হয়।

নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দাবি, তাঁর নামে ঢাকায় অন্য কোনো প্লট ছিল না। এমনকি বরাদ্দ স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়েও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। অবশেষে ২০২৫ সালে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীরা আদালতে বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে প্রচলিত বিধিমালা অনুসারে প্লট বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আইনগত অধিকার ও বৈধ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। যথাযথ বরাদ্দপত্র ইস্যুর পর কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে। এটি স্বেচ্ছাচারী এবং ন্যায়বিচারের স্বীকৃত নীতির পরিপন্থী।

অন্যদিকে, রাজউকের পক্ষে আইনজীবী দাবি করেন, আবেদনকারীর অনুকূলে বরাদ্দটি ছিল সুপারিশের ভিত্তিতে দেওয়া। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আলোকে বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান, আবেদনকারীর বরাদ্দ স্থগিতের পেছনে ঢাকায় তাঁর নামে অন্য একটি প্লট থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হলেও সেই প্লটের কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা তথ্য স্মারকে দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত করা হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও স্মারকে কিছু উল্লেখ ছিল না।

আদালত আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আবেদনকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি।

হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, ১৯৬৯ সালের রাজউক (জমি বরাদ্দ) বিধিমালার ১৩/এ বিধি অনুসারে সংসদ সদস্য হিসেবে আবেদনকারীর প্লট বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে একটি বৈধ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর অনুকূলে ২০১১ সালের ১০ আগস্ট বরাদ্দপত্র ইস্যু হওয়ার মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছিল।

আদালত আরও লক্ষ্য করেন, আবেদনকারী তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট সময়ের আয়কর বিবরণী দাখিল করেছেন, যেখানে ঢাকায় তাঁর নামে কোনো সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসব পরিস্থিতিতে অন্য প্লট থাকার অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে বরাদ্দ স্থগিতের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন হাইকোর্ট।

১৫ বছরের নিষ্ক্রিয়তাও স্বেচ্ছাচারী

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বরাদ্দ স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রায় ১৫ বছর ধরে বহাল রাখা হয়েছে। অথচ এ দীর্ঘ সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এবং আবেদনকারীকেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

আদালতের মতে, মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের এমন দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তা স্বেচ্ছাচারী ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রিট আবেদন মঞ্জুর

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তের যে অংশে আবেদনকারীর অনুকূলে দেওয়া প্লটের বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছিল এবং এ-সংক্রান্ত ১৭ আগস্ট ২০১১ তারিখের স্মারককে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করেন। আদালত এ বিষয়ে কোনো খরচ আরোপ করেননি।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

একই মামলায় তিনবার আগাম জামিন, দুই আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট

একই মামলায় তিনবার আগাম জামিন, দুই আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
একই মামলায় এক আসামির তিন দফা আগাম জামিন নেওয়ার ঘটনায় দুই আইনজীবীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) তাঁদের আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তলব করা দুই আইনজীবী হলেন তানিয়া সুলতানা ও মিজানুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান। তিনি জানান, একই মামলায় একজন আসামি সাধারণত একবারই আগাম জামিন নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলায় তথ্য গোপন করে একই আসামির পক্ষে তিনবার আগাম জামিন নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট দুই আইনজীবীকে তলব করে তাঁদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।

আগামী রোববার তাঁদের উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে।

সূত্র: কালবেলা 


মানিকগঞ্জের ট্রিপল মার্ডার: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জের ট্রিপল মার্ডার: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত 
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় জমিজমা ও সম্পত্তির বিরোধের জেরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যারা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন—সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, সামসুল হকের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম, আ. রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া।

দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন—মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জল, মো. সামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্য আসামিদের সাজা ও খালাস

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৬/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নুরু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল, সওদাগরের ছেলে ওলী আহাদ, চানদের ছেলে শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সম্পত্তির বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড

মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।

২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তাঁরা সেখানে পৌঁছালে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লার মৃত্যু হয়।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া

ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। ঘোষিত এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।

সূত্র: যুগান্তর