![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি যারা
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন—সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, সামসুল হকের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম, আ. রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া।
দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন—মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জল, মো. সামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্য আসামিদের সাজা ও খালাস
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৬/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নুরু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল, সওদাগরের ছেলে ওলী আহাদ, চানদের ছেলে শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সম্পত্তির বিরোধ থেকে হত্যাকাণ্ড
মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তাঁরা সেখানে পৌঁছালে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লার মৃত্যু হয়।
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া
ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। ঘোষিত এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
সূত্র: যুগান্তর

0 coment rios: