৬ নভে, ২০২৬

ছিনতাই-চাঁদাবাজি'র মামলা যাবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে, আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত

ছবি: সংগৃহীত 
ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এসব অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের বিধান যুক্ত করে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এ লক্ষ্যে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সংশোধনী চূড়ান্ত হলে আগামী সংসদ অধিবেশনে তা পাসের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে প্রচলিত আইনে হত্যা, ধর্ষণ, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, ডাকাতি এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের পর সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অতিরিক্ত সময় নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চে সারা দেশে ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও ছিনতাইয়ের ১ হাজার ৩২২টি ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭৬, জুনে ১ হাজার ৩১৮ এবং সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৩২৭টি।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটটি বিভাগে তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮৭ জনে। ছয় মাস আগে এই সংখ্যা ছিল ৯৮৯।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক কামারুম মুনিরা বলেন, এসব অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলে অপরাধীদের মধ্যে অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে এবং এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র:  ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া, কালবেলা


শেয়ার করুন

0 coment rios: