সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৪ জুল, ২০২৬

মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

ছবি: সংগৃহীত 

অনলাইনে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা বা লেনদেনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল’ পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়। নতুন এই সংশোধনীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে সরাসরি মাদক উৎপাদন, বিক্রি ও সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু রয়েছে। তবে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমনে এবার আইনে নতুন ধারা যুক্ত করা হলো।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রচার, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ বা মধ্যস্থতা করা এখন থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-ওয়ালেট এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল সম্পদের ব্যবহারও শাস্তিমূলক অপরাধের আওতায় পড়বে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান। তবে এই অপরাধ যদি কোনো আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ঘটে, সেক্ষেত্রে আসামিদের যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে।

ডিজিটাল অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতেও এই বিলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠন করতে পারবে এবং তাদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রেখে মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধানও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৯ জুল, ২০২৬

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার

সংসদে ম দ-জু য়া নিষিদ্ধকরণ ও ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিল প্রত্যাহার


ছবি: সংগৃহীত 

জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, 'সংসদ সদস্য যে দুটি আইন এনেছেন, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আইন রয়েছে। আমরা এই সংসদের চলতি অধিবেশনেই জুয়া আইন, ২০২৬ বিল পাস করেছি। আর ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও বিদ্যমান। ওই আইনের ধারা ২-এর উপধারা (৫), উপধারা (২৪), উপধারা (২৯) এবং ধারা ১১ পড়লে তিনি যে উদ্দেশ্যে বিলটি এনেছেন, তা বিদ্যমান আইনের আওতায় পড়ে। তাই বিলটি প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে অনুরোধ করছি।' 

এরপর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, 'যেহেতু সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আইনমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিল দুটি আর উত্থাপন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন, সেহেতু বিলগুলো আমি ভোটে দিচ্ছি না।'

মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬-এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মদ ও জুয়ার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি রোধ এবং তরুণ ও যুবসমাজকে মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রেখে সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য এ আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় প্রচলিত ময়নাতদন্ত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও শরিয়তসম্মত পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি নিহত হলে তাঁর মরদেহের যথাযথ হেফাজত, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে নারী মৃতদেহের ক্ষেত্রে পর্দা ও মর্যাদা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আইন সংশোধনের মাধ্যমে নারীদের মরদেহ পর্দার আড়ালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, নারীর মর্যাদা রক্ষা ইসলামসহ সব ধর্মেরই নির্দেশনা।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা থাকলেও সড়ক, নৌ ও রেলপথে এখনো দুর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যমান আইনে দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক হওয়ায় তা ছাড়া দাফন বা সৎকার করা যায় না।

বিলে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক সময় ময়নাতদন্তে মামলার নিষ্পত্তিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা থাকে না। তাই নিহত ব্যক্তির অভিভাবক বা নিকটাত্মীয়ের আবেদনের ভিত্তিতে, প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন বা সৎকারের সুযোগ রাখতে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের জন্য বিলটি আনা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য কঠোর সাজার বিধান রেখে আইন পাশ

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির জন্য কঠোর সাজার বিধান রেখে আইন পাশ

ছবি: সংগৃহীত 

পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি ও অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রেখে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন এই আইনে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির স্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ ও যেকোনো প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।  আইনে ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস বা এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপরাধীচক্র গঠন বা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরো কঠোর শাস্তি ও আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৩ জুল, ২০২৬

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ এর গেজেট প্রকাশ: যা রয়েছে নতুন এই আইনে

ছবি: সংগৃহীত 

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সরকার নতুন আইন কার্যকর করেছে। প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ বাতিল করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ নামে নতুন আইন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) আইনটি গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়।

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন ও স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ও ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো কিংবা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার এবং জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবেও কাজ করা যাবে না।

সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।

এছাড়া অনলাইন বেটিং পরিচালনা, বুকমেকার হিসেবে কাজ করা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকেও নিষিদ্ধ করতে পারবেন।

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল কার্যক্রমে অংশ নেওয়া গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে, সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি, হাওলা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনেও বিচার করা যাবে।

আদালত অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিতে পারবেন। জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার বা সার্ভার অবকাঠামোও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

কোনো কোম্পানি, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়ী করা হবে। আদালত প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশও দিতে পারবেন।

আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে জব্দ করতে পারবেন।

অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ,

এনআইডি-সিম-এমএফএস সংযুক্তি ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, নির্বাচন কমিশন, সিআইডি ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।

নতুন আইন কার্যকরের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক আমলের প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলো। তবে, পুরোনো আইনের অধীনে চলমান মামলাগুলো নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ জুন, ২০২৬

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

সব ধরনের জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেন। মূলত ১৫৭ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে আধুনিক ও সময়োপযোগী এই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিলটি যাচাই-বাছাই করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ মাত্রার শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ায় জড়ালে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে এই সাজা বেড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া অপরাধের মাত্রায় সবচেয়ে কঠোর সাজা রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। কেউ এতে সম্পৃক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য অনূর্ধ্ব সাত বছরের জেল বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

বিলটি উত্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেড় শতাব্দীর পুরোনো আইনটি দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।

তাছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের সুবিধার্থে আইনটি যুগোপযোগী করার প্রস্তাব এসেছিল। সংবিধানেও জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন আইন প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম