সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৪ অক্টো, ২০২৬

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬: নাগরিকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন আইনি কাঠামো

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬: নাগরিকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন আইনি কাঠামো

ছবি: সংগৃহীত 
ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, তথ্য ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অননুমোদিতভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬। আইনটিতে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবহার ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল উপাত্তের সংজ্ঞা

আইনের ধারা ২(১৭) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়—এমন তথ্য ব্যক্তিগত উপাত্ত হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে নাম, পরিচয়পত্র নম্বর, ফোন নম্বর, আর্থিক তথ্য এবং অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, জিনগত, বায়োমেট্রিক, স্বাস্থ্য, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অপরাধসংক্রান্ত তথ্যের মতো বিষয় সংবেদনশীল উপাত্তের আওতায় পড়ে। এসব তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা ও সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্য ব্যবহারে সম্মতি ও নাগরিকের অধিকার

আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি প্রয়োজন। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন, আইনি দাবি প্রতিষ্ঠা বা প্রতিরক্ষা এবং জীবন রক্ষার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। সম্মতি নেওয়া হয়েছে—এটি প্রমাণের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ন্ত্রণকারীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

আইনের ধারা ১১–১৩ অনুযায়ী, ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানার, তথ্য সংশোধন বা হালনাগাদ করার এবং নির্দিষ্ট শর্তে সম্মতি প্রত্যাহার, আপত্তি জানানো বা তথ্য মুছে ফেলার অধিকার পাবেন। তবে আইনগত বাধ্যবাধকতা বা অন্যান্য নির্ধারিত ব্যতিক্রমের কারণে সব ক্ষেত্রে তথ্য মুছে ফেলার অধিকার প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

তথ্য নিয়ন্ত্রণকারীর দায়িত্ব ও নিরাপত্তা

আইনের ধারা ১৫–২০ অনুযায়ী, তথ্য নিয়ন্ত্রণকারী ও প্রক্রিয়াকরণকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় তা সংরক্ষণ না করার দায়িত্ব রয়েছে। উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের রেকর্ড অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণের বিধানও রয়েছে। তথ্য ফাঁস বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

শিশুদের ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিশুদের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবকের সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশে তথ্য স্থানান্তর ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা

আইনের ধারা ২৯-এ ব্যক্তিগত উপাত্তের শ্রেণিবিন্যাস ও স্থানান্তরসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। তথ্যের ধরন অনুযায়ী উন্মুক্ত, অভ্যন্তরীণ, গোপনীয় ও সীমাবদ্ধ শ্রেণিবিন্যাসের কথা বলা হয়েছে। বিদেশে তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সম্মতি, চুক্তি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি অবকাঠামোর মতো বিষয় প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিপুল পরিমাণ উপাত্ত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধানও রয়েছে।

আইন লঙ্ঘনে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ

আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, তথ্যের অধিকার লঙ্ঘনের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা প্রশাসনিক জরিমানার বিধান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণকারীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিস্থিতিতে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা হতে পারে। ধারা ৩৩-এ তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার জন্য সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ধারা ৩৫ অনুযায়ী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ রয়েছে। লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা কর্মচারীর দায়ের বিষয়টিও ধারা ৩৬-এ বিবেচনা করা হয়েছে। ধারা ৩৭ অনুযায়ী, নির্ধারিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের বিধান রয়েছে।

কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের প্রশ্ন

আইনের ধারা ১(৩) অনুযায়ী, ধারা ২৩ এবং ধারা ৩১–৩৫ ছাড়া অন্যান্য বিধান ৬ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। ব্যতিক্রমী ধারাগুলো আইন প্রণয়নের পর ১৮ মাস অতিক্রান্ত হলে সরকারের গেজেট প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত তারিখে কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে এসব ধারার কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন যাচাই করা প্রয়োজন।

পর্যালোচনা

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষা, তথ্য ব্যবহারে স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। তবে আইনের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর প্রয়োগ, তথ্য সুরক্ষায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, যথাযথ তদারকি এবং নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার ওপর। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও বৈধ প্রয়োজনে তথ্য ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও হবে বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

বিড ল' পোস্ট/মাসুম

৭ সেপ, ২০২৬

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: যা রয়েছে এই ৩ আইনে

বিরোধীদলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস: যা রয়েছে এই ৩ আইনে

ফাইল ছবি
বিরোধীদলের তীব্র প্রতিবাদ, বিরোধিতা ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি আইন মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত এবং অপরটি পিতা-মাতাকে আজীবন ভোগস্বত্ব বজায় রেখে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রদান-সংক্রান্ত।

মানবাধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধে আনীত বিল দুটিকে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে আজ রোববার রাতে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল। পরে তৃতীয় বিল পাসের সময়ও তারা আপত্তির কথা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে।বিরোধীদলের এসব আপত্তির মধ্যেই বিলগুলো পাস করা হয়।

যা রয়েছে এই ৩ আইনে:

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন:
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এ ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের জন্য নতুন আইন করা হয়েছে।

এ আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকবেন। এতে জাতীয় সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য একটি নির্বাচন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।

আইনে কমিশনের এখতিয়ার স্পষ্ট করার পাশাপাশি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক হুমকি থেকে সুরক্ষা এবং আরও ক্ষতি প্রতিরোধে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ (এনপিএম) ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ইউনিট নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে কাজ করবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন:
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই আইনে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, অপরাধের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, হুইসেলব্লোয়ার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র এ ব্যয় বহন করবে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নিখোঁজ ব্যক্তির সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

বইনে গুমের ঘটনা নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এই আইনে গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়নি। এ ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই থাকবে।

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন:
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করে আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য যোগ্য দাতা নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় ব্যক্তি বা স্বামী-স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন।

এই সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল' পাস: সংসদে বিতর্ক

দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল' পাস: সংসদে বিতর্ক

ফাইল ছবি
নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনি অধিকার পাবেন—এমন বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।

এদিকে বিলটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে বিরোধী দল আপত্তি জানায়। পরে কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।

যে বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে: নতুন বিলে আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও দাতা তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। পিতা-মাতা বা পিতামহ/মাতামহ কর্তৃক তার সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে, সম্পত্তির ভোগাধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

বিরোধী দলের বক্তব্য: বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্য: আইনমন্ত্রী বলেন: বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরেরে একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। 

তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।
বিল পাসের আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে তার কোনো প্রশ্ন নেই। এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্ট ‘কন্ট্রাডিকশন’ আছে বলে দাবি করেন তিনি। 

বিরোধীতার জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে মুসলিম আইনকে স্পর্শ করা হয়নি। এই আইনে যে ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।  এবং সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিল আনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম


৪ সেপ, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

কোলাজ ছবি 
জাতীয় সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬-এ কতিপয় ইতিবাচক সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মৌলিক জায়গাগুলোতে গুরুতর ঘাটতি রয়েই গেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গুমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্ত সুনিশ্চিত করতে বিল দুটি পাসের আগে সংসদে সব দলের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ফলে মানবাধিকার কমিশন বিলে আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা, ঋণখেলাপিদের কমিশনার পদে অযোগ্য ঘোষণা এবং সামরিক আটককেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য আটককেন্দ্রে পরিদর্শনের পূর্বে পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। তবে মূল সংস্কারগুলো এড়িয়ে চলায় একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রত্যাশা আবারও হতাশায় রূপ নিচ্ছে।''

তিনি বলেন, ''বাছাই কমিটিতে স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও সচিবদের প্রাধান্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র প্রভাব বহাল রাখা হয়েছে। উপরন্তু, কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার অভাব কমিশনকে পুরোপুরি নিস্ক্রিয় করে রাখবে।''

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, খসড়া আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে কমিশন নিজে সরাসরি স্বাধীন তদন্ত করতে পারবে না; বরং অভিযুক্ত বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের ওপরই প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। এটি আন্তর্জাতিক 'প্যারিস নীতিমালা' এবং ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনের চেয়ও দুর্বল বিধান। একইভাবে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলেও জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করা হয়নি।''
তিনি বলেন, ''খসড়া আইনের ১৪(৩) ধারায় অভিযুক্ত বাহিনীকে নিজস্ব সদস্যের তদন্ত করা থেকে বিরত রাখার কথা বলা হলেও, অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।''

অতীতে বহু গুমের ঘটনায় গোয়েন্দা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তঃসংযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় এই বিধানকে 'কসমেটিক পরিবর্তন' বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''আন্তর্জাতিক সনদ (আইসিপিপিইডি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুমের সংজ্ঞায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী মহলের নাম স্পষ্ট না করা, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া এবং পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের তুলনায় গুমের সাজা কমানোর বিষয়টিও টিআইবি উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে।''

তিনি বলেন, ''বিশেষ করে গুমের জন্য ন্যূনতম সাজা তিন বছর নির্ধারণ করা সত্ত্বেও 'মিথ্যা বা হয়রানিমূলক' অভিযোগের নামে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা সংক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে।''

তাই তড়িঘড়ি করে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস না করে প্যারিস নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক অর্থবহ সংশোধনের পরই তা পাস করার তাগিদ দিয়েছে টিআইবি। অন্যথায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষার প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: টিআইবি'র প্রেস বিজ্ঞপ্তি (০৩.০৯.২০২৬)

৩১ আগ, ২০২৬

সংসদের ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ পুনর্গঠন

সংসদের ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ পুনর্গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চারটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। পরে সংসদে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।

পুনর্গঠিত চারটি কমিটি হলো— আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

পুনর্গঠনের পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরকে। কমিটির সদস্যরা হলেন, মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, ইমরান আহমদ চৌধুরী, শাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসান রাজীব প্রধান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আকতার হোসেন, তাসমিয়া প্রধান।

বিডিএলপিবি/এমএম