সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৪ সেপ, ২০২৬

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিলে ঘাটতি রয়ে গেছে: টিআইবির উদ্বেগ

কোলাজ ছবি 
জাতীয় সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬-এ কতিপয় ইতিবাচক সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মৌলিক জায়গাগুলোতে গুরুতর ঘাটতি রয়েই গেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গুমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদন্ত সুনিশ্চিত করতে বিল দুটি পাসের আগে সংসদে সব দলের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে অর্থবহ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ফলে মানবাধিকার কমিশন বিলে আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা, ঋণখেলাপিদের কমিশনার পদে অযোগ্য ঘোষণা এবং সামরিক আটককেন্দ্র ছাড়া অন্যান্য আটককেন্দ্রে পরিদর্শনের পূর্বে পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে টিআইবি। তবে মূল সংস্কারগুলো এড়িয়ে চলায় একটি কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রত্যাশা আবারও হতাশায় রূপ নিচ্ছে।''

তিনি বলেন, ''বাছাই কমিটিতে স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও সচিবদের প্রাধান্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র প্রভাব বহাল রাখা হয়েছে। উপরন্তু, কমিশনের মোট জনবলের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের প্রেষণে নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ আর্থিক স্বাধীনতার অভাব কমিশনকে পুরোপুরি নিস্ক্রিয় করে রাখবে।''

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, খসড়া আইনের ধারা ১৯ অনুযায়ী শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে কমিশন নিজে সরাসরি স্বাধীন তদন্ত করতে পারবে না; বরং অভিযুক্ত বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের ওপরই প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। এটি আন্তর্জাতিক 'প্যারিস নীতিমালা' এবং ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনের চেয়ও দুর্বল বিধান। একইভাবে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলেও জবাবদিহির প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করা হয়নি।''
তিনি বলেন, ''খসড়া আইনের ১৪(৩) ধারায় অভিযুক্ত বাহিনীকে নিজস্ব সদস্যের তদন্ত করা থেকে বিরত রাখার কথা বলা হলেও, অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।''

অতীতে বহু গুমের ঘটনায় গোয়েন্দা ও শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তঃসংযোগের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় এই বিধানকে 'কসমেটিক পরিবর্তন' বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ''আন্তর্জাতিক সনদ (আইসিপিপিইডি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুমের সংজ্ঞায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য কিংবা প্রভাবশালী মহলের নাম স্পষ্ট না করা, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধানের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া এবং পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের তুলনায় গুমের সাজা কমানোর বিষয়টিও টিআইবি উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে।''

তিনি বলেন, ''বিশেষ করে গুমের জন্য ন্যূনতম সাজা তিন বছর নির্ধারণ করা সত্ত্বেও 'মিথ্যা বা হয়রানিমূলক' অভিযোগের নামে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা সংক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে।''

তাই তড়িঘড়ি করে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস না করে প্যারিস নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণপূর্বক অর্থবহ সংশোধনের পরই তা পাস করার তাগিদ দিয়েছে টিআইবি। অন্যথায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষার প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: টিআইবি'র প্রেস বিজ্ঞপ্তি (০৩.০৯.২০২৬)

৩১ আগ, ২০২৬

সংসদের ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ পুনর্গঠন

সংসদের ‘আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ পুনর্গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চারটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এসব কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। পরে সংসদে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।

পুনর্গঠিত চারটি কমিটি হলো— আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

পুনর্গঠনের পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমিরকে। কমিটির সদস্যরা হলেন, মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, ইমরান আহমদ চৌধুরী, শাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসান রাজীব প্রধান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আকতার হোসেন, তাসমিয়া প্রধান।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৮ আগ, ২০২৬

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

সম্পত্তি দান করলেও ভোগদখল থাকবে মা-বাবার: সংসদে বিল

কোলাজ ছবি
সন্তানকে জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজ বাড়ি থেকেই বিতাড়িত হওয়া অথবা অসহায় হওয়ার ঘটনার বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। দেশের আদালতগুলোতে এমন মামলার ঘটনাও অহরহ দেখা যায়।

বর্তমানে প্রচলিত "দ্যা ট্রান্সফার অফ প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২" অনুযায়ী, কেউ সম্পত্তি দান করলে সেটির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার গ্রহীতার কাছেই চলে যায়। যে কারণে বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি লিখে দেয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন।

প্রস্তাবিত "সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬" এ আনা নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তি দান করলেও দাতা জীবদ্দশায় সেটি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারবেন। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আইনের ফলে মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। তবে আইনটি পাস হলে দ্রুত এর বাস্তবায়ন চান পরিবারের সদস্যরা।
 
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য ‘ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করেন।

বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলটি পাশ হলে যে যে পরিবর্তন আসবে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে:

১. আইনমন্ত্রীর দেওয়া বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ধরন থাকলেও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
 
২. প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করে আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ধরন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

৩. নতুন এ ব্যবস্থা প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্যান্য পদ্ধতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এসব বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো বিরোধও সৃষ্টি করবে না।

৪. প্রস্তাবিত ১২২এ ধারায় এই ধরনের দানের সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মা অথবা বাবা সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে এভাবে সম্পত্তি দিতে পারবেন। দাদা-দাদি বা নানা-নানিও নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। আবার সন্তান বা নাতি-নাতনিও বিপরীতভাবে বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি দান করা যাবে। স্থাবর সম্পত্তি হলে নিবন্ধিত দলিল করতে হবে।

৫. নতুন এই আইনে মালিকানা ও ভোগের অধিকার আলাদা থাকবে। ধরা যাক, কোনো বাবা তার বাড়ি সন্তানের নামে লিখে দিলেন। দলিল নিবন্ধনের পর মালিকানা সন্তানের কাছে চলে যাবে। তবে দলিলে 'জীবনকালীন ভোগাধিকার' সংরক্ষিত থাকবে। এতে বাবা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই বাড়ি ব্যবহার বা ভোগ করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর সেই অধিকার শেষ হবে।

৬. দাতার আগে গ্রহীতা দাতার জীবদ্দশায় মারা গেলেও দান বাতিল হবে না। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে চলে যাবে। তবে দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে। অর্থাৎ সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পর সন্তান আগে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তির মালিক হবেন, কিন্তু মূল দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তার ভোগাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

৭. প্রস্তাবিত বিলের ১২২বি ধারায় বলা হয়েছে, জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে করা দান নিবন্ধনের পর সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয় হবে। দাতা একতরফাভাবে সেটি বাতিল করতে পারবেন না। তবে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সম্মত হলে নিবন্ধিত নতুন দলিলের মাধ্যমে দান পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন থাকলে এই সুযোগ ব্যবহার করা যাবে।

৮. দাতা বা গ্রহীতার একজনের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলেও পরিবর্তন বা বাতিলের একটি পথ রাখা হয়েছে। কেউ অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে, নিখোঁজ থাকলে, মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে অক্ষম হলে, আইনি অক্ষমতা থাকলে বা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে অপর পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দানের শর্ত পরিবর্তন, বাতিল বা সংশ্লিষ্ট অধিকার নিয়ে অন্য ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন জেলা জজ। তবে আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে। আদালত প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করবে এবং আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সন্তুষ্ট হতে হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪


২৬ আগ, ২০২৬

প্রাণী প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, থাকছে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

প্রাণী প্রজনন নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন, থাকছে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা

ফাইল ছবি
গবাদি পশুর জেনেটিক উন্নয়ন, দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন, দেশীয় প্রাণিজ জেনেটিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং নিরাপদ ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ প্রাণী প্রজনন আইন-২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এই পরিমার্জিত খসড়াটি এর উপর সর্বসাধারণের মতামত প্রদানের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

এই আইনে যা থাকছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘বাংলাদেশ প্রাণী প্রজনন আইন-২০২৬’-এর খসড়ায়:
১. প্রজনন কার্যক্রমকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
২. গবাদি পশুর প্রজনন ষাঁড় নির্বাচন, সিমেন উৎপাদন, ভ্রূণ স্থানান্তর, ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ), জিনোমিক নির্বাচন, জাত নিবন্ধন, জেনেটিক মূল্যায়ন, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি এবং কৃত্রিম প্রজননসহ সহায়ক সব প্রযুক্তি এ আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হবে।
৩. বৈধ নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গবাদি পশুর সিমেন, ভ্রূণ কিংবা ডিম্বাণুর উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি বা কেনা-বেচা করতে পারবে না। সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার নির্ধারিত প্রজনন মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
৪.  নিবন্ধিত সেবার ধরন বা গুণগতমান নিয়ে বিভ্রান্তিকর কিংবা ভুয়া তথ্য দিয়ে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫. আইন কার্যকর হওয়ার পর অনুমোদন ছাড়া কোনো বুল স্টেশন, ভ্রূণ প্রতিস্থাপন কিংবা ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) ল্যাবরেটরি স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না। একইসঙ্গে কৃত্রিম প্রজনন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (এআইটিআই) এবং গবাদি পশুর প্রজননে সহায়কের ভূমিকা রাখা সব ধরনের প্রযুক্তি (এআরটি) সেবা প্রদানকেও এ নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।
৬. বুল স্টেশন, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, আইভিএফ ল্যাব ও সিমেন ব্যাংকের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ আগ, ২০২৬

হালাল সনদ দিতে পারবে ধর্ম মন্ত্রণালয়, আইনি ভিত্তি প্রদান

হালাল সনদ দিতে পারবে ধর্ম মন্ত্রণালয়, আইনি ভিত্তি প্রদান

ছবি: সংগৃহীত 
হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি পেল ধর্ম মন্ত্রণালয়। ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন করে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে যুক্ত করেছে সরকার। রবিবার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই দিন প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করেছেন। গত ১৯ আগস্টে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হালাল মান ও সনদ-সংক্রান্ত বিষয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশোধনের মাধ্যমে ‘রুলস অব বিজনেস’-এর সিডিউল-১—বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনসংক্রান্ত তালিকায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ‘৩৪. মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের আইটেম নম্বর ২২-এর পর নতুন আইটেম নম্বর ২৩ সংযোজন করা হয়েছে।

নতুন আইটেমে যুক্ত করা হয়েছে—‘ম্যাটার্স রিলেটিং টু হালাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড সার্টিফিকেশন’। অর্থাৎ হালাল পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ ও সনদ প্রদানের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় এলো। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশোধনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লখ্য, এতদিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হালাল সনদ দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। হালাল মান নির্ধারণ ও সনদ দেওয়ার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে। তবে এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।নতুন সংশোধনের ফলে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ এবং সনদ প্রদানের দায়িত্ব সরকারের কার্যবণ্টন কাঠামোয় স্পষ্টভাবে যুক্ত হলো। এর মাধ্যমে দেশে হালাল পণ্য ও সেবার মান ও সনদসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (২৩.০৮.২০২৬)