![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
সিভিল রিভিশন নং- ৬৮৯/২০২০, জামাল হোসেন বনাম মাবিয়া খাতুন ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ কার হয় ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।
মামলার পটভূমি
বাদী ২০১৬ সালে অদার স্যুট নং- ১১৪/২০১৬ দায়ের করে দাবি করেন, ২০০২ সালের অদার স্যুট নং ৮৩/২০০২-এ ২৪ এপ্রিল ২০০৭ দেওয়া একতরফা রায় ও ৩০ এপ্রিল ২০০৭ স্বাক্ষরিত ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়। তার বক্তব্য ছিল, পূর্বের মামলায় জমির প্রকৃত মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয় গোপন করে এবং তাকে যথাযথভাবে অবহিত না করে একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, পূর্বের মামলার ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য এক্সিকিউশন কেস নং- ০১ অব ২০১৬ দায়ের করা হলে বাদী সেটির কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট জজ, সাতকানিয়া, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে এক্সিকিউশন মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন হলে অতিরিক্ত জেলা জজ, চট্টগ্রাম ৩০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করে দেন।
এরপর বাদী হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। তার যুক্তি ছিল, বর্তমান মামলার বিষয়বস্তু এবং এক্সিকিউশন মামলার বিষয় একই; এক্সিকিউশন চলতে থাকলে পরবর্তী মামলাটি কার্যত নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তিনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট বলেন, সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় রিভিশনের ক্ষেত্রে আদালত মূলত দেখতে পারেন—গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনি প্রশ্নে ভুল হয়েছে কি না এবং সেই ভুলের কারণে শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে কি না।
আদালত লক্ষ্য করেন, বর্তমান বাদী পূর্বের মামলার বিচারাধীন অবস্থায় পূর্বের মামলার ডিক্রিদারের কাছ থেকে জমি দাবি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান মামলায় তিনি জমির মালিকানা ঘোষণা বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাননি; তার প্রার্থনা ছিল শুধু পূর্বের ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এমন ঘোষণা।
এই পরিস্থিতিতে নিম্ন রিভিশন আদালত এক্সিকিউশন মামলা স্থগিতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে হাইকোর্ট মত দেন। বাদী নিম্ন রিভিশন আদালতের আদেশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে ভুল দেখাতে পারেননি।
আদেশ
হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জড করে দেন এবং কোনো খরচের আদেশ দেননি। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
আইনি শিক্ষা
সিপিসির ১১৫(৪) ধারার রিভিশন কোনো মামলার পুনরায় পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ নয়। নিম্ন আদালতের আদেশে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে এমন ভুল থাকতে হবে, যার ফলে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে। শুধু কোনো পক্ষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বা পূর্বের ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এমন দাবি যথেষ্ট নয়। মামলার প্রকৃতি ও প্রার্থনার ধরন বিবেচনায় উপযুক্ত আইনি ভিত্তি না থাকলে চলমান এক্সিকিউশন কার্যক্রম স্থগিত করার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম