![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
এ বিষয়ে হাইকোর্টের সিভিল রিভিশন নং ৪৮৯৪/২০২২, আজিজুল হক বনাম আবদুল গফুর ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মামলাটি সিপিসির ১১৫(৪) ধারার অধীনে দায়ের করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।
পটভূমি
কিশোরগঞ্জের একটি বণ্টন মামলায় বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতিতে প্রাথমিক ডিক্রি হয়। এর বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ অর্ডার ৯, রুল ১৩ অনুযায়ী একটি বিবিধ মামলা করেন। কিন্তু শুনানির সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় মামলাটি ডিফল্টে খারিজ হয়।
পরবর্তীতে তিনি সিপিসির ১৫১ ধারা অনুযায়ী খারিজের আদেশ বাতিল ও বিবিধ মামলাটি পুনরুদ্ধারের আবেদন করেন। সহকারী জজ ২ হাজার টাকা খরচ ধার্য করে আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী সময়ে খরচ জমা দেওয়ার পর একতরফা ডিক্রিও বাতিল করে মূল বণ্টন মামলাটি পুনরায় মূল নম্বরে ফিরিয়ে নেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রিভিশন করলে অতিরিক্ত জেলা জজ, কিশোরগঞ্জ রিভিশন মঞ্জুর করে ট্রায়াল কোর্টের আদেশ বাতিল করেন। এরপর বিবাদী পক্ষ হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, খারিজ হওয়া বিবিধ মামলা পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণত আপিলের পথ খোলা রয়েছে। অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি), সিপিসি অনুযায়ী এ ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।
আদালত আপিলেট ডিভিশনের আবদুল কাদের চৌধুরী বনাম নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বলেন, ডিফল্টে বিবিধ মামলা খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি)-এর অধীনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সিপিসির ১৫১ ধারার প্রয়োগ সব পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অত্যন্ত বিরল ও বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
এই মামলায় ১৫১ ধারা প্রযোজ্য হলো না
হাইকোর্ট দেখতে পান, আবেদনকারী নিজেই মামলাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। তিনি শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়মতো খরচও পরিশোধ করেননি। ফলে তিনি এমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি দেখাতে পারেননি, যার ভিত্তিতে ১৫১ ধারায় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়।
আদালত আরও বলেন, সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় হস্তক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে নিম্ন আদালতের ভুল, যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয়েছে—এমন পরিস্থিতি থাকতে হবে। বর্তমান মামলায় সে ধরনের কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
আদেশ
হাইকোর্ট রুলের কোনো মেরিট খুঁজে না পেয়ে তা খারিজ (ডিসচার্জড) করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশও প্রত্যাহার করা হয় এবং খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।
আইনি শিক্ষা
রায়ের মূল শিক্ষা হলো—সিপিসির ১৫১ ধারা আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার উৎস হলেও এটি কোনো বিকল্প আপিলের পথ নয়। ডিফল্টে খারিজ হওয়া অর্ডার ৯, রুল ১৩-এর বিবিধ মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি)-এর অধীনে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে একেবারে বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ১৫১ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকতে পারে।
বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

0 coment rios: