১৯ অক্টো, ২০২৬

৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলের সত্যতা প্রমাণে সাক্ষী ছাড়াই আইনগত অনুমান প্রযোজ্য: হাইকোর্ট

৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিলের সত্যতা প্রমাণে সাক্ষী ছাড়াই আইনগত অনুমান প্রযোজ্য: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
৩০ বছরের বেশি পুরোনো কোনো দলিল যথাযথ হেফাজত থেকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার অধীনে তার সম্পাদন ও সত্যতা সম্পর্কে আইনগত অনুমান করা যায়। এমন ক্ষেত্রে দলিলের সাক্ষীদের আলাদাভাবে হাজির করে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পাদন প্রমাণের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, ১০০ টাকার কম মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য হলে তৎকালীন আইনের অধীনে নিবন্ধন ছাড়াও দখল হস্তান্তরের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হতে পারে।

-এর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ আবদুল আওয়াল ও বিচারপতি এ কে এম রাবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ফার্স্ট আপিল নং- ৭২১/২০১৮ মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেন। রায়টি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঘোষণা করা হয়। মামলাটি ছিল আবদুল রেজ্জাক ভূঁইয়া এবং অন্যান্য বনাম আবদুল হোসাইন খান অ্যান্ড আদার্স। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয় ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার ঘটনা

মামলার বিরোধীয় জমি মুন্সিগঞ্জের একটি মৌজায় সি.এস. খতিয়ান নম্বর ৭৭-এর সি.এস. দাগ নম্বর ১২৪৬-এর ২১ শতাংশ জমি। বাদীদের দাবি ছিল, জমিটির মূল মালিক ছিলেন ইসব খাঁ। তাঁর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও এক মেয়ে উত্তরাধিকারসূত্রে জমিটি পান এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের উত্তরসূরিরা মালিকানা অর্জন করেন। কিন্তু বিভিন্ন জরিপে তাঁদের কয়েকজনের নাম বাদ পড়ে যাওয়ায় তাঁরা স্বত্ব ঘোষণার জন্য মামলা করেন।

অন্যদিকে বিবাদীদের দাবি, ইসব খাঁ ১৯১৮ সালে ৮৫ টাকা মূল্যে ২১ শতাংশ জমি আমির ভূঁইয়া ওরফে ফেলু ভূঁইয়ার কাছে বিক্রি করেন এবং তাঁকে দখলও বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে ১৯২০ সালের বন্ধকী দলিল এবং ১৯২৬ সালের কবুলিয়ত দলিল সম্পাদিত হয়। বিবাদীদের পূর্বসূরিদের নামে এসএ ও আরএস খতিয়ানও প্রকাশিত হয়।

বাদীরা ১৯১৮ সালের বিক্রয় দলিলটিকে জাল ও বানোয়াট দাবি করেন। কিন্তু বিবাদীরা দীর্ঘদিনের দখল, পুরোনো দলিল এবং সরকারি রেকর্ডের ভিত্তিতে নিজেদের মালিকানা দাবি করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট দেখতে পান, বিবাদীরা ১৯২৪ সালের একটি নিবন্ধিত হেবা-বিল-এওয়াজ দলিলসহ ১৯১৮, ১৯২০ ও ১৯২৬ সালের একাধিক পুরোনো দলিল আদালতে উপস্থাপন করেছেন। ১৯২৪ সালের দলিল থেকে দেখা যায়, ইসব খাঁর ছেলে আবদুল আজিজ তাঁর পিতার জীবদ্দশাতেই মারা যান। ফলে তৎকালীন প্রযোজ্য মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের অধীনে আবদুল আজিজের ছেলে জুলমত খাঁ সরাসরি দাদার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে অংশ পাওয়ার অধিকারী ছিলেন না।

আদালত আরও বলেন, ১৯১৮ সালের দলিলে জমির মূল্য ৮৫ টাকা দেখানো হয়েছে, যা তৎকালীন ১০০ টাকার নিবন্ধনসীমার নিচে ছিল। দলিলের মাধ্যমে দখল হস্তান্তরও হয়েছিল। তাই তৎকালীন সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়াও দখল হস্তান্তরের মাধ্যমে বিক্রয়টি আইনগতভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার প্রয়োগ

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৯০ ধারা নিয়ে আদালতের ব্যাখ্যা। হাইকোর্ট বলেন, ৩০ বছরের বেশি পুরোনো কোনো দলিল যথাযথ হেফাজত থেকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে দলিলটির সম্পাদন ও সত্যতা সম্পর্কে আদালত আইনগত অনুমান করতে পারেন। ফলে এ ধরনের পুরোনো দলিলের ক্ষেত্রে সম্পাদন প্রমাণের জন্য দলিলের সাক্ষীদের আনুষ্ঠানিকভাবে হাজির করা আবশ্যক নয়।

আদালত অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার (রেভিনিউ) বনাম মো. রিয়াজউদ্দিন পিকে অ্যান্ড আদার্স, ৫ বিএলসি (এডি) ৭৬ মামলার নীতিও উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছিল, যথাযথ হেফাজত থেকে ৩০ বছরের বেশি পুরোনো দলিল উপস্থাপন করা হলে সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারায় তার সত্যতা সম্পর্কে অনুমান করা যায়।

এ মামলায় ১৯২০ ও ১৯২৬ সালের দলিলগুলো সরকারি রেজিস্ট্রেশন ভলিউম বা বালাম বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। আদালত বলেন, শতবর্ষের কাছাকাছি পুরোনো দলিলে তারিখ বা বাংলা-ইংরেজি তারিখের সামান্য অসঙ্গতি থাকলেই সেটিকে জাল বলা যায় না। এমন সামান্য ত্রুটি সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার আইনগত অনুমানকে খণ্ডন করে না।

শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা গ্রহণযোগ্য নয়

হাইকোর্ট আরও বলেন, বাদীরা যদি জমির দখলে না থাকেন এবং দখল পুনরুদ্ধারের মতো পরবর্তী প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা করা যায় না। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন , ১৮৭৭-এর ৪২ ধারার প্রোভাইসো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রতিকার না চাওয়া হলে এমন মামলা আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য।

আদালতের মতে, বাদীরা দীর্ঘ সময় ধরে জমির দখলের বাইরে ছিলেন এবং প্রায় ৯০ বছর পর ২০০৯ সালে ১৯১৮ ও ১৯২০ সালের লেনদেনকে চ্যালেঞ্জ করেন। অথচ দখল পুনরুদ্ধারের কোনো প্রতিকার চাননি। এ কারণে মামলাটি শুধু এ কারণেও আইনগতভাবে টেকসই ছিল না।

রায়

সবশেষে হাইকোর্ট বলেন, বিচারিক আদালত মামলার তথ্য, পরিস্থিতি ও প্রমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং আইনগতভাবে টেকসই নয় এমন ডিক্রি দিয়েছেন। ফলে ফার্স্ট আপিল নং- ৭২১/২০১৮ মঞ্জুর করা হয়।

এর মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ, প্রথম আদালতের টাইটেল স্যুট নং- ১৮৭/২০০৯ মামলায় ৮ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে দেওয়া রায় ও ডিক্রি বাতিল করা হয়েছে। আপিলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিত্তিতে ১–১৪ নম্বর বিবাদীর বিরুদ্ধে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে মঞ্জুর করা হয়।

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম

অর্থঋণ মামলায় একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন ও ১৫ দিনের মধ্যে ১০ শতাংশ জমা বাধ্যতামূলক: হাইকোর্ট

অর্থঋণ মামলায় একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন ও ১৫ দিনের মধ্যে ১০ শতাংশ জমা বাধ্যতামূলক: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
অর্থঋণ আদালতের একতরফা ডিক্রি বাতিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা এবং আবেদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯(২) ও ১৯(৩) ধারার শর্ত পরস্পর সম্পূরক। ফলে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন এবং পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা—দুই শর্তের যেকোনো একটি পূরণ না হলে আদালতের ওই আবেদন গ্রহণ করে একতরফা ডিক্রি বাতিল করার এখতিয়ার নেই।

মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ও বিচারপতি উর্মী রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সিভিল রিভিশন নং- ৪১৬১/২০১৬ মামলায় ৩০ আগস্ট ২০২৬ এ রায় দেন। মামলাটি ছিল মো. মনির চৌধুরী বনাম প্রতিপক্ষ ছিল উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড ২০১৫ সালে ঢাকার চতুর্থ অর্থ ঋণ আদালতে অর্থ ঋণ মামলা দায়ের করে। ব্যাংকের দাবি ছিল, বিবাদী ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জমি বন্ধক রেখেছিলেন। ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ ২৩ মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ০.১৯ টাকা পাওনা হয়।

মামলায় বিবাদী পক্ষ লিখিত জবাব দাখিল করলেও পরবর্তী সময়ে অনুপস্থিত থাকায় অর্থ ঋণ আদালত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ একতরফা ডিক্রি দেন। এর বিরুদ্ধে বিবাদী ৩০ মে ২০১৬ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯(২) ধারায় একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন করেন এবং ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থ জমা না দেওয়ায় আদালত আবেদনটি খারিজ করেন। পরে জেলা জজ, ঢাকা-র কাছে করা মিস আপিলও খারিজ হয়। জেলা জজ উল্লেখ করেন, আবেদনকারী মিস মামলায় কিংবা আপিলেও ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা দেননি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯ ধারার বিধান বিশ্লেষণ করে বলেন, একতরফা ডিক্রি হলে বিবাদী ডিক্রির তারিখ অথবা ডিক্রি সম্পর্কে অবগত হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা বাতিলের আবেদন করতে পারবেন। এরপর আবেদন করার তারিখের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে।

আদালত দেখতে পান, এ মামলায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ একতরফা ডিক্রি হলেও আবেদনকারী ৩০ মে ২০১৬ আবেদন করেন। অর্থাৎ আইন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন করা হয়নি। উপরন্তু, আবেদনকারী ১০ শতাংশ ডিক্রিকৃত অর্থও নির্ধারিত সময়ে জমা দেননি।

আদালত আরও বলেন, অর্থ ঋণ আদালত আইন একটি বিশেষ আইন। এই আইনে একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর আদালতের নির্দেশে ১০ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে একতরফা ডিক্রি বাতিলের সুযোগ নেই।

হাইকোর্ট এর আগে দেওয়া পুবালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বলেন, ১৯(২) ও ১৯(৩) ধারার বিধান একসঙ্গে পড়তে হবে এবং উভয় শর্তই পূরণ করতে হবে। একইভাবে ওসমান গাজী চৌধুরী বনাম অর্থ ঋণ আদালত এবং প্রাইম গ্লোবাল লিমিটেড এবং অন্যান্য বনাম সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এবং অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্তেও নির্ধারিত সময় ও ১০ শতাংশ অর্থ জমার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

রায়ের আদেশ

হাইকোর্ট আবেদনকারীর দাখিল করা রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করা হয়। আদালত অর্থ ঋণ আদালতকে ২০১৬ সালে দায়ের করা এক্সিকিউশন মামলা আর কোনো বিলম্ব ছাড়াই এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন।

আইনি শিক্ষা

অর্থ ঋণ আদালতে একতরফা ডিক্রি বাতিল করতে হলে শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। ডিক্রির তারিখ বা ডিক্রি সম্পর্কে জানার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন এবং আবেদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা—উভয় শর্তই পালন করতে হবে। বিশেষ আইনে নির্ধারিত এই শর্ত অতিক্রম করে আদালত সাধারণ ক্ষমতাবলে একতরফা ডিক্রি বাতিল করতে পারে না।

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম

সংসদের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: মোটরসাইকেল মালিক রাকিবের জামিন

সংসদের সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: মোটরসাইকেল মালিক রাকিবের জামিন

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে বগুড়ার প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (২৪) নামে এক আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর ‘দ্রুত আদায়ের’ নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর ‘দ্রুত আদায়ের’ নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ

কোলাজ ছবি 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দ্রুত আদায়ের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের ওই অংশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের ‘দ্রুত আদায়ের’ নির্দেশনা স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর আদায়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। করদাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির করা পৃথক দুটি রিট খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায় দুটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট

১৮ অক্টো, ২০২৬

সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় রিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন না থাকলে জারি মামলা স্থগিতের সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় রিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন না থাকলে জারি মামলা স্থগিতের সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
জমি নিয়ে পূর্বের একতরফা ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য দায়ের করা এক্সিকিউশন মামলা স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় রিভিশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনি প্রশ্নে ভুলের কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য। শুধু আগের ডিক্রি নিজের ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এমন দাবি করলেই এক্সিকিউশন মামলা স্থগিত করা যায় না।

সিভিল রিভিশন নং- ৬৮৯/২০২০, জামাল হোসেন বনাম মাবিয়া খাতুন ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ কার হয় ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

বাদী ২০১৬ সালে অদার স্যুট নং- ১১৪/২০১৬ দায়ের করে দাবি করেন, ২০০২ সালের অদার স্যুট নং ৮৩/২০০২-এ ২৪ এপ্রিল ২০০৭ দেওয়া একতরফা রায় ও ৩০ এপ্রিল ২০০৭ স্বাক্ষরিত ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়। তার বক্তব্য ছিল, পূর্বের মামলায় জমির প্রকৃত মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয় গোপন করে এবং তাকে যথাযথভাবে অবহিত না করে একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, পূর্বের মামলার ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য এক্সিকিউশন কেস নং- ০১ অব ২০১৬ দায়ের করা হলে বাদী সেটির কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট জজ, সাতকানিয়া, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে এক্সিকিউশন মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে সিভিল রিভিশন হলে অতিরিক্ত জেলা জজ, চট্টগ্রাম ৩০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করে দেন।

এরপর বাদী হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন। তার যুক্তি ছিল, বর্তমান মামলার বিষয়বস্তু এবং এক্সিকিউশন মামলার বিষয় একই; এক্সিকিউশন চলতে থাকলে পরবর্তী মামলাটি কার্যত নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তিনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় রিভিশনের ক্ষেত্রে আদালত মূলত দেখতে পারেন—গুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনি প্রশ্নে ভুল হয়েছে কি না এবং সেই ভুলের কারণে শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে কি না।

আদালত লক্ষ্য করেন, বর্তমান বাদী পূর্বের মামলার বিচারাধীন অবস্থায় পূর্বের মামলার ডিক্রিদারের কাছ থেকে জমি দাবি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান মামলায় তিনি জমির মালিকানা ঘোষণা বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাননি; তার প্রার্থনা ছিল শুধু পূর্বের ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এমন ঘোষণা।

এই পরিস্থিতিতে নিম্ন রিভিশন আদালত এক্সিকিউশন মামলা স্থগিতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে হাইকোর্ট মত দেন। বাদী নিম্ন রিভিশন আদালতের আদেশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে ভুল দেখাতে পারেননি।

আদেশ

হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জড করে দেন এবং কোনো খরচের আদেশ দেননি। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

আইনি শিক্ষা

সিপিসির ১১৫(৪) ধারার রিভিশন কোনো মামলার পুনরায় পূর্ণাঙ্গ শুনানির সুযোগ নয়। নিম্ন আদালতের আদেশে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে এমন ভুল থাকতে হবে, যার ফলে ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে। শুধু কোনো পক্ষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বা পূর্বের ডিক্রি তার ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এমন দাবি যথেষ্ট নয়। মামলার প্রকৃতি ও প্রার্থনার ধরন বিবেচনায় উপযুক্ত আইনি ভিত্তি না থাকলে চলমান এক্সিকিউশন কার্যক্রম স্থগিত করার আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।


বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম

সিপিসির ১৫১ ধারায় পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতি প্রমাণে ব্যর্থ হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

সিপিসির ১৫১ ধারায় পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতি প্রমাণে ব্যর্থ হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
সিপিসির ১৫১ ধারায় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়; তবে কোনো মামলায় ব্যতিক্রমী বা বিশেষ পরিস্থিতি না থাকলে এই ধারায় খারিজ হওয়া মামলা পুনরুদ্ধারের আবেদন গ্রহণ করা যায় না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের সিভিল রিভিশন নং ৪৮৯৪/২০২২, আজিজুল হক বনাম আবদুল গফুর ও অন্যান্য মামলায় বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মামলাটি সিপিসির ১১৫(৪) ধারার অধীনে দায়ের করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

পটভূমি

কিশোরগঞ্জের একটি বণ্টন মামলায় বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতিতে প্রাথমিক ডিক্রি হয়। এর বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ অর্ডার ৯, রুল ১৩ অনুযায়ী একটি বিবিধ মামলা করেন। কিন্তু শুনানির সময় তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় মামলাটি ডিফল্টে খারিজ হয়।

পরবর্তীতে তিনি সিপিসির ১৫১ ধারা অনুযায়ী খারিজের আদেশ বাতিল ও বিবিধ মামলাটি পুনরুদ্ধারের আবেদন করেন। সহকারী জজ ২ হাজার টাকা খরচ ধার্য করে আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী সময়ে খরচ জমা দেওয়ার পর একতরফা ডিক্রিও বাতিল করে মূল বণ্টন মামলাটি পুনরায় মূল নম্বরে ফিরিয়ে নেন।

এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ রিভিশন করলে অতিরিক্ত জেলা জজ, কিশোরগঞ্জ রিভিশন মঞ্জুর করে ট্রায়াল কোর্টের আদেশ বাতিল করেন। এরপর বিবাদী পক্ষ হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান বলেন, খারিজ হওয়া বিবিধ মামলা পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণত আপিলের পথ খোলা রয়েছে। অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি), সিপিসি অনুযায়ী এ ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।

আদালত আপিলেট ডিভিশনের আবদুল কাদের চৌধুরী বনাম নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বলেন, ডিফল্টে বিবিধ মামলা খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি)-এর অধীনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সিপিসির ১৫১ ধারার প্রয়োগ সব পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অত্যন্ত বিরল ও বিশেষ পরিস্থিতিতে আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

এই মামলায় ১৫১ ধারা প্রযোজ্য হলো না

হাইকোর্ট দেখতে পান, আবেদনকারী নিজেই মামলাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। তিনি শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়মতো খরচও পরিশোধ করেননি। ফলে তিনি এমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি দেখাতে পারেননি, যার ভিত্তিতে ১৫১ ধারায় আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়।

আদালত আরও বলেন, সিপিসির ১১৫(৪) ধারায় হস্তক্ষেপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নে নিম্ন আদালতের ভুল, যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয়েছে—এমন পরিস্থিতি থাকতে হবে। বর্তমান মামলায় সে ধরনের কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

আদেশ

হাইকোর্ট রুলের কোনো মেরিট খুঁজে না পেয়ে তা খারিজ (ডিসচার্জড) করেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশও প্রত্যাহার করা হয় এবং খরচের বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

আইনি শিক্ষা

রায়ের মূল শিক্ষা হলো—সিপিসির ১৫১ ধারা আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার উৎস হলেও এটি কোনো বিকল্প আপিলের পথ নয়। ডিফল্টে খারিজ হওয়া অর্ডার ৯, রুল ১৩-এর বিবিধ মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত অর্ডার ৪৩, রুল ১(ডি)-এর অধীনে আপিলের সুযোগ রয়েছে। তবে একেবারে বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ১৫১ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকতে পারে।


বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

অবকাশকালীন ছুটি শেষে সুপ্রিম কোর্ট খুলছে ২৫ অক্টোবর, আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান বিচারপতি

অবকাশকালীন ছুটি শেষে সুপ্রিম কোর্ট খুলছে ২৫ অক্টোবর, আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধান বিচারপতি

কোলাজ ছবি 
অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে খুলছে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে। 

 অবকাশকালীন ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে প্রধান বিচারপতি ও উভয় বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আইনজীবীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

১৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনসংলগ্ন ইনার কোর্ট ইয়ার্ডের (বাগান) এলাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকবেন।

এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি