![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
আদালত বলেছেন, অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯(২) ও ১৯(৩) ধারার শর্ত পরস্পর সম্পূরক। ফলে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন এবং পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা—দুই শর্তের যেকোনো একটি পূরণ না হলে আদালতের ওই আবেদন গ্রহণ করে একতরফা ডিক্রি বাতিল করার এখতিয়ার নেই।
মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ও বিচারপতি উর্মী রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সিভিল রিভিশন নং- ৪১৬১/২০১৬ মামলায় ৩০ আগস্ট ২০২৬ এ রায় দেন। মামলাটি ছিল মো. মনির চৌধুরী বনাম প্রতিপক্ষ ছিল উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। রায়ের পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।
মামলার পটভূমি
উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড ২০১৫ সালে ঢাকার চতুর্থ অর্থ ঋণ আদালতে অর্থ ঋণ মামলা দায়ের করে। ব্যাংকের দাবি ছিল, বিবাদী ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে জমি বন্ধক রেখেছিলেন। ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ ২৩ মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ০.১৯ টাকা পাওনা হয়।
মামলায় বিবাদী পক্ষ লিখিত জবাব দাখিল করলেও পরবর্তী সময়ে অনুপস্থিত থাকায় অর্থ ঋণ আদালত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ একতরফা ডিক্রি দেন। এর বিরুদ্ধে বিবাদী ৩০ মে ২০১৬ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯(২) ধারায় একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন করেন এবং ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থ জমা না দেওয়ায় আদালত আবেদনটি খারিজ করেন। পরে জেলা জজ, ঢাকা-র কাছে করা মিস আপিলও খারিজ হয়। জেলা জজ উল্লেখ করেন, আবেদনকারী মিস মামলায় কিংবা আপিলেও ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা দেননি।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১৯ ধারার বিধান বিশ্লেষণ করে বলেন, একতরফা ডিক্রি হলে বিবাদী ডিক্রির তারিখ অথবা ডিক্রি সম্পর্কে অবগত হওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা বাতিলের আবেদন করতে পারবেন। এরপর আবেদন করার তারিখের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে।
আদালত দেখতে পান, এ মামলায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ একতরফা ডিক্রি হলেও আবেদনকারী ৩০ মে ২০১৬ আবেদন করেন। অর্থাৎ আইন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদন করা হয়নি। উপরন্তু, আবেদনকারী ১০ শতাংশ ডিক্রিকৃত অর্থও নির্ধারিত সময়ে জমা দেননি।
আদালত আরও বলেন, অর্থ ঋণ আদালত আইন একটি বিশেষ আইন। এই আইনে একতরফা ডিক্রি বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পর আদালতের নির্দেশে ১০ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে একতরফা ডিক্রি বাতিলের সুযোগ নেই।
হাইকোর্ট এর আগে দেওয়া পুবালী ব্যাংক লিমিটেড বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বলেন, ১৯(২) ও ১৯(৩) ধারার বিধান একসঙ্গে পড়তে হবে এবং উভয় শর্তই পূরণ করতে হবে। একইভাবে ওসমান গাজী চৌধুরী বনাম অর্থ ঋণ আদালত এবং প্রাইম গ্লোবাল লিমিটেড এবং অন্যান্য বনাম সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এবং অন্যান্য মামলার সিদ্ধান্তেও নির্ধারিত সময় ও ১০ শতাংশ অর্থ জমার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
রায়ের আদেশ
হাইকোর্ট আবেদনকারীর দাখিল করা রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করা হয়। আদালত অর্থ ঋণ আদালতকে ২০১৬ সালে দায়ের করা এক্সিকিউশন মামলা আর কোনো বিলম্ব ছাড়াই এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেন।
আইনি শিক্ষা
অর্থ ঋণ আদালতে একতরফা ডিক্রি বাতিল করতে হলে শুধু আবেদন করাই যথেষ্ট নয়। ডিক্রির তারিখ বা ডিক্রি সম্পর্কে জানার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন এবং আবেদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ জমা—উভয় শর্তই পালন করতে হবে। বিশেষ আইনে নির্ধারিত এই শর্ত অতিক্রম করে আদালত সাধারণ ক্ষমতাবলে একতরফা ডিক্রি বাতিল করতে পারে না।
বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম

0 coment rios: