৪ অক্টো, ২০২৬

আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, জামিন নামঞ্জুর; আদালতে হট্টগোল

ছবি: সংগৃহীত 
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৪ অক্টোবর) এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে আখতারুজ্জামানকে হাজতখানা থেকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩০ মিনিট শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেল ৪টার দিকে তাকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতকক্ষে আইনজীবীদের হট্টগোল

আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতকক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা, হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার পর বিচারকের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। পরে আদালতকক্ষের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীদের কয়েকজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তবে কীভাবে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ বহিরাগতদের আদালতে এনে এজলাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলায় আনা অভিযোগগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে কেন তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন, সে বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিয়েছেন।

আসামিপক্ষের বক্তব্য

আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক মামলাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে জামিনের পক্ষে যুক্তি দেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে দুর্নীতি, লাগেজ চুরি, প্রবাসীদের হয়রানি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নামমাত্র এ মামলা করা হয়েছে। মামলায় কোনো ‘কজ অব অ্যাকশন’ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, আখতারুজ্জামান আগে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং পরে অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেও মামলাটি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ইমিগ্রেশন শেষে তারা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান। এ সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রলি সংকট দেখা দেয়। ট্রলি নিতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী নিয়ম ভেঙে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, লাগেজ পেতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন। এতে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একই সময়ে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়।

এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/মাসুম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত উভয় পক্ষের আইনজীবী সাক্ষাৎকার 



শেয়ার করুন

0 coment rios: