![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জানান, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সায়মনের বয়স ছিল ১৭ বছর। তিনি মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন।
২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন নেওয়ার পর সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-১ এলাকায় কেনাকাটা করতে যান সায়মন। কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে তারা বাসায় ফিরছিলেন।
এ সময় আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে তিন ছিনতাইকারীর একজন সায়মনকে উদ্দেশ করে দাবি করেন, তিনি নাকি তার ছোট ভাইকে মারধর করেছেন। পরে ‘কথা আছে’ বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সায়মন ও রিফাতকে রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় তুলে নেওয়া হয়।
রিকশাটি দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে পৌঁছালে রিফাতকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সায়মনকে স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যায় ওই তিন ব্যক্তি।
সেখানে চাকু দেখিয়ে সায়মনের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। সায়মন এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত ও অভিযোগপত্র
ঘটনার পর সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ ঘটনার সঙ্গে ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসানের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তের সময় ইউসুফের বাসা থেকে সায়মনের মোবাইল ফোন বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সায়মনের মোবাইল ফোনটি সুজনের কাছে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।
তদন্ত শেষে দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল রাখার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ
২০২৩ সালের ২ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে আদালত মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সুজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (০৬.১০.২০২৬)

0 coment rios: