৩০ অক্টো, ২০২৬

পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
পাকিস্তানের বিশিষ্ট মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী হাদি আলী চাথাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। ২০২৪ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইমান মাজারি পাকিস্তানের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারির মেয়ে। শিরিন মাজারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সময় ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বহরের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেন ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল জিরো পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে তাঁরা উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে যথাক্রমে আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

আগের মামলার সাজা ও পুনরায় গ্রেপ্তার

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পৃথক মামলায় ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথাকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই নতুন মামলায় তাঁদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, দম্পতিকে ন্যায়সংগত ও উন্মুক্ত বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে বিচার পরিচালনা এবং শুনানির সময় তাঁদের খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে রাখার অভিযোগও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইমান মাজারির মা শিরিন মাজারিও বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দম্পতিকে নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কিছু নথিও সরবরাহ করা হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি

ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথা পাকিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তাঁরা কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলনকর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষেও আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

তাঁদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ফৌজদারি মামলা এবং সর্বশেষ ১০ বছরের কারাদণ্ড পাকিস্তানে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে

সূত্র: যুগান্তর, বিবিসি, ডন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল, রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল, রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
পুলিশের চাকরিতে নিয়োজিত থেকেও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির নথিতে দেখা গেছে, তিনি ২০০২ সাল থেকে সংগঠনটির সদস্য। তবে ওসির দাবি, পুলিশে যোগদানের আগেই তিনি সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাইল থানার ওসির বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা সামনে আসার পর তাঁর আইনজীবী সমিতির সদস্যপদের বিষয়টি সমিতির নজরে আসে। এরপর বিষয়টি যাচাই করে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।

সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের চাকরিতে থেকে আইনজীবী সমিতির সক্রিয় সদস্যপদ বজায় রাখা সমিতির বিধিবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের আরও সদস্য রয়েছেন কি না, তা শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য পেশায় নিয়োজিত থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আগেই বিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, আইন পেশায় নিয়মিত যুক্ত নন, অথচ সমিতির সদস্যপদ বহাল রেখেছেন—এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়।

তবে সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিচ্ছেদ ৩-এর ৭(১) বিধি অনুযায়ী, আইন বিষয়ে শিক্ষকতা করেন অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন—এমন সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ বহাল রাখতে পারবেন। অন্যথায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। নিষ্ক্রিয় সদস্যদের শনাক্ত করতে তাঁদের নাম-ঠিকানাসহ তথ্য জমা দেওয়ার জন্য অভিযোগ বাক্সও স্থাপন করে সমিতি।

ওসির দাবি, আগেই স্থগিতের আবেদন করেছিলেন

কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পুলিশে যোগদানের আগেই তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। সমিতির পাঠানো নোটিশের জবাবে তিনি লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সমিতির নথিতে তাঁর সদস্যপদ ২০০২ সাল থেকে বহাল থাকার তথ্য রয়েছে। ফলে তাঁর সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন আদৌ গৃহীত হয়েছিল কি না, তা এখন যাচাইয়ের বিষয়। জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং সমিতির নিজস্ব নথি পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আইনজীবীদের অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত থেকে অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকার বিষয়টি শুধু একটি সমিতির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নেই; বিষয়টি ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতেও গড়িয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। আবেদনে আইন পেশার সনদ নিয়ে চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এ বিষয়ে তিনি ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ পাঠান। তাতেও সাড়া না মেলায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে বিষয়টি উত্থাপিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সংসদ সদস্যের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর আলোচনায় ওসির সদস্যপদ

সম্প্রতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে সরাইল থানার ওসির বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

গত ২২ অক্টোবর রাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রুমিন ফারহানা থানায় যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই ওসির আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নজরে আসে।

সব মিলিয়ে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল থাকার অভিযোগ এখন আইন পেশার শৃঙ্খলা, পেশাগত যোগ্যতা ও সদস্যপদ-সংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়নের বৃহত্তর আলোচনায় রূপ নিয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, ওসির দেওয়া ব্যাখ্যা ও দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কী নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অন্য পেশায় নিয়োজিত থেকেও সদস্যপদ বহাল রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমিতি কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিডি নিউজ ২৪, প্রথম আলো 

শাস্তি না দিলে গো-মাতা অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি: ভারতের গুজরাটে গো-হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ আদালতের

শাস্তি না দিলে গো-মাতা অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি: ভারতের গুজরাটে গো-হত্যার মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, রায়ে মনুস্মৃতি ও বেদের উল্লেখ আদালতের

ছবি: সংগৃহীত 
ভারতের গুজরাটের একটি আদালত গরু জবাইয়ের মামলায় তিনজনকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে মোট ৩ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। ৭৬ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত হিন্দু ধর্মগ্রন্থ মনুস্মৃতি, বেদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করে গরুর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

গুজরাটের গান্ধীনগর জেলার কালোলের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক বি আর রাজপুত সোমবার এ রায় দেন।

মামলার পটভূমি

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গান্ধীনগর জেলার জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গরু জবাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৭৭ কেজি মাংস উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি, কুঠার, ওজন মাপার যন্ত্র, দড়ি ও যানবাহন জব্দ করা হয়।

আসামিপক্ষ জব্দ করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আলামত সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের বক্তব্য ছিল, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং জব্দ করা সরঞ্জাম যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি।

তবে আদালত অভিযোগকারী, অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্য, স্বাধীন সাক্ষী ও পশু চিকিৎসকের সাক্ষ্য এবং ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায়ে আদালত মনুস্মৃতি, ঋগ্বেদ, হরিবংশ পুরাণসহ বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করেন। মনুস্মৃতির আলোকে গরু ও গবাদিপশুকে শুধু প্রাণী নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে বিচারক উল্লেখ করেন।

ঋগ্বেদের ‘অধন্যা’ শব্দের উল্লেখ করে আদালত বলেন, এর অর্থ এমন প্রাণী, যাকে হত্যা করা উচিত নয়। এ ছাড়া সুরভি বা কামধেনু এবং গরুর ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কেও রায়ে আলোচনা করা হয়।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশ নির্মমভাবে বিচ্ছিন্ন করে ২৭৭ কেজি মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী শাস্তি না দেওয়া হলে ভবিষ্যতে গরুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আদালতের আদেশ

আদালত গুজরাট অ্যানিমেল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৪-এর ২০১৭ সালের সংশোধনী অনুযায়ী—

১. আইনের ৮(২) ধারায় প্রত্যেক আসামিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

২.. একই আইনের ৮(৪) ধারায় ৬(ক) ও ৬(খ) ধারার অপরাধের জন্য প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ রুপি জরিমানা করেন।

আদালত নির্দেশ দেন, উভয় কারাদণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে প্রত্যেক আসামির মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ রুপি।

মামলার অপর দুই আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে আরেক আসামির মৃত্যু হয়।

সংবাদসূত্র: Live Law, Hindustan Times (30 October, 2026)

সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা, নিবন্ধন ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন, নবায়ন ও ফিটনেস সনদের ফি নির্ধারণ করে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে নিবন্ধন ও দ্বিবার্ষিক নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিটনেস সনদের জন্য এক হাজার টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে।

গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এতে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে বিধিমালাটি প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যাত্রী ধারণক্ষমতাভেদে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি

বিধিমালার তফসিল-২ অনুযায়ী, দুই ধরনের ই-রিকশার জন্য পৃথক নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুইজন যাত্রী বহনক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এ ধরনের ই-রিকশার দ্বিবার্ষিক নবায়ন ফি হবে চার হাজার টাকা।

অন্যদিকে, চারজন যাত্রী বহনক্ষমতাসম্পন্ন ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা এবং প্রতি দুই বছর অন্তর নবায়ন ফি দিতে হবে পাঁচ হাজার টাকা।

এ ছাড়া সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য এক হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও তথ্য সংরক্ষণ

বিধিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধন ও তথ্য ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর প্লেট সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত ই-রিকশা ও চালক-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-রিকশার চার্জিং স্টেশন ও চার্জিং গ্যারেজের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়ন ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।

নতুন এই বিধিমালার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশার নিবন্ধন, ফিটনেস যাচাই, নবায়ন এবং চালক ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি নির্ধারিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হলো।

সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬; স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। 

দেশে চালু হলো প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত

দেশে চালু হলো প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
বিচারিক কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে ই-পারিবারিক আপিল আদালত। একই সঙ্গে নতুন করে চালু হয়েছে ই-পারিবারিক আদালত ১৪।

বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালত দুটির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা না পেলে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে আরও বেশি সময় লাগতে পারত। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং এর সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও ভার্চুয়াল হাজিরার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃতভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনলাইনে মামলার তথ্য ও ভার্চুয়াল শুনানির সুযোগ

নতুন ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর ফলে পারিবারিক মামলার বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে। বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এর ফলে আদালতে সরাসরি যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা কমার পাশাপাশি মামলার নথিপত্র সংরক্ষণ, শুনানি ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রমে সময় এবং শ্রম সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে কাগজবিহীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।

এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু করা হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট-৫ এবং ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট-১-এ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৈরি সফটওয়্যার ব্যবস্থাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবিরসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিচারিক সেবায় স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।


তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট।


বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি পাচ্ছেন না আনিসুল-সালমানসহ পাঁচ আসামি

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি পাচ্ছেন না আনিসুল-সালমানসহ পাঁচ আসামি

ছবি: সংগৃহীত 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ আসামির করা আবেদনগুলো বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি আইনজীবীদের বাংলাদেশের আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে একাধিক আইনগত ও বাস্তবিক দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আবেদনগুলোর বিষয়ে সদস্যরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে আবেদনগুলো নাকচের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের কোনো প্রচলিত নজির নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিদেশি আইনজীবীদের সরাসরি আদালতে মামলা পরিচালনার সুযোগ সীমিত। শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশেই বিদেশি আইনজীবীরা স্থানীয় আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনা করতে পারেন না।

এ ছাড়া বার কাউন্সিলের বিবেচনায়, বিদেশি কোনো আইনজীবীকে বাংলাদেশের আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে তাঁর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বার কাউন্সিল আইনে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় বিদেশি আইনজীবীদের সরাসরি মামলা পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বিদেশি আইনজীবীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতার পথ বন্ধ হচ্ছে না। আসামিপক্ষের নিয়োজিত দেশীয় আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে কাজ করা এবং আইনি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ তাঁদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা পাঁচ আসামি হলেন—সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা।

তাঁদের মধ্যে আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান ও জুনাইদ আহমেদ পলক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন। অন্যদিকে, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান। আর ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক ফারজানা রূপা।

এ বিষয়ে বার কাউন্সিলের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জানান, বৈঠকে আবেদনগুলো নাকচের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের পর লিখিত আকারে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট 



নিবন্ধিত দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়: হাইকোর্ট

নিবন্ধিত দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়: হাইকোর্ট

দলিলে জমির পরিমাণ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় অধস্তন আদালতের আদেশ বহাল রাখলেন হাইকোর্ট। প্রাসঙ্গিক আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৯, বিধি ১
নিবন্ধিত কবলা দলিলে জমির পরিমাণ জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন খারিজের আদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, জমির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার মতো অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে আবেদনকারীকে প্রাথমিকভাবে একটি গ্রহণযোগ্য, যুক্তিসংগত ও মামলায় জয়ের সম্ভাবনাসম্পন্ন দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মামলার তথ্য ও পটভূমি:

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস. এম. কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ফার্স্ট মিসলেনিয়াস আপিল নং ১৩০/২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল রুল নং ২১৩ (এফএম)/২০২৬-এর শুনানি শেষে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রায় দেন। মো. হানিফ আলী বনাম মো. সিরাজুল ইসলাম ও অন্যান্য মামলাটিতে ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালত টাইটেল স্যুট নং ৪৩১/২০২৫-এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে বাদী আপিল করেন। হাইকোর্ট আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল রুলটি নিষ্পত্তি করেন। একই সঙ্গে রুল জারির সময় দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। রায়টির পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

বাদীপক্ষের যুক্তি:

বাদী দাবি করেছিলেন, তিনি ও তাঁর দুই ভাই মিলে ১ দশমিক ৪৪ একর জমির মালিক ছিলেন। এর মধ্যে তিনি বিবাদীকে ৫২ শতাংশ জমি হস্তান্তর করলেও নিবন্ধিত দলিলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৪ একর দেখানো হয়েছে। অবশিষ্ট ৯২ শতাংশ জমির স্বত্ব ঘোষণার পাশাপাশি জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন তিনি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

তবে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন, বাদী নিজেই স্বীকার করেছেন যে জমিটি তাঁর ও দুই ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন ছিল এবং তাঁরা নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর করেছেন। সে ক্ষেত্রে বাদী কীভাবে এককভাবে অবশিষ্ট ৯২ শতাংশ জমির স্বত্ব দাবি করছেন, তা স্পষ্ট নয়। আদালত আরও উল্লেখ করেন, দলিলে জমির পরিমাণ জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে দলিল সংশোধনের মামলা না করে শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা দায়ের করার বিষয়টিও বিবেচ্য।

আদালত বলেন, বাদী স্বীকার করেছেন যে বিবাদী ক্রয়সূত্রে জমির দখলে রয়েছেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। সাধারণভাবে কোনো জমিতে ভবন বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফলে জমির মূল্য বৃদ্ধি পায়। তাই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শক্তিশালী প্রাথমিক মামলা থাকা জরুরি। কিন্তু বাদী তাঁর দাবির পক্ষে এমন গ্রহণযোগ্য ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

ফলে আদালত মনে করেন, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে নিম্ন আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট ফার্স্ট মিসলেনিয়াস আপিলটি খারিজ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল রুলটি নিষ্পত্তি করে দেন। রুল জারির সময় দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশও প্রত্যাহার করা হয়। তবে মামলায় কোনো খরচ আরোপ করা হয়নি।

আইনি তাৎপর্য:

জমির দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। দাবিকৃত স্বত্ব, দখলের অবস্থা, মামলার ধরন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাওয়ার যথার্থতা আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। জমির দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম