![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইমান মাজারি পাকিস্তানের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারির মেয়ে। শিরিন মাজারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সময় ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বহরের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়কের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেন ইমান মাজারি ও তাঁর স্বামী। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল জিরো পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। তবে তাঁরা উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা এবং তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগে যথাক্রমে আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে।
আগের মামলার সাজা ও পুনরায় গ্রেপ্তার
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পৃথক মামলায় ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথাকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার আগেই নতুন মামলায় তাঁদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, দম্পতিকে ন্যায়সংগত ও উন্মুক্ত বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে বিচার পরিচালনা এবং শুনানির সময় তাঁদের খাঁচার মতো কাঠামোর মধ্যে রাখার অভিযোগও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইমান মাজারির মা শিরিন মাজারিও বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দম্পতিকে নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কিছু নথিও সরবরাহ করা হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি
ইমান মাজারি ও হাদি আলী চাথা পাকিস্তানে মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তাঁরা কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলনকর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষেও আইনি সহায়তা দিয়েছেন।
তাঁদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ফৌজদারি মামলা এবং সর্বশেষ ১০ বছরের কারাদণ্ড পাকিস্তানে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে
সূত্র: যুগান্তর, বিবিসি, ডন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।