১৫ অক্টো, ২০২৬

বিরোধের কারণে বেতন আটকে রাখা আইনসম্মত নয়, এক মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিরোধের কারণে বেতন আটকে রাখা আইনসম্মত নয়, এক মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যকার বিরোধের কারণে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা আইনসম্মত নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের প্রাপ্য সরকারি অংশের বকেয়া বেতন এক মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট পিটিশন নম্বর ২৩৩৪/২০১৮; মেহেরুন নেছা ও অন্যান্য বনাম বিবাদী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য এর শুনানি হয় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং রায় দেওয়া হয় ৪ আগস্ট ২০২৬। বিচারপতি মো. শওহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি দেন। রায়টি এ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

ময়মনসিংহের পাটগুদাম গার্লস হাইস্কুলের চারজন সহকারী শিক্ষক, একজন ক্রীড়া শিক্ষক, একজন অফিস সহকারী ও একজন পিয়ন এ রিট আবেদন করেন। নিয়োগের পর তাঁদের নাম মাসিক পেমেন্ট অর্ডারে (এমপিও) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তাঁরা সরকারের অংশের বেতন পেয়ে আসছিলেন।

তবে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের কারণে শিক্ষকদের বেতন-শিট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। ফলে সরকারের অংশের বেতন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হলেও আবেদনকারীরা তাঁদের প্রাপ্য বেতন পাননি।

কতদিনের বেতন বকেয়া ছিল

রায়ে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারী ১ থেকে ৩ এবং ৬ ও ৭ নম্বরের বেতন ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আটকে ছিল। আবেদনকারী ৪-এর বেতন ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই এবং ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এবং আবেদনকারী ৫-এর ২০১৩ সালের মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি।

বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য আবেদনকারীরা ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ

এর আগে একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য রিট পিটিশন নম্বর ৩৩০৪/২০১৪ দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে তাঁদের বকেয়া ও নিয়মিত বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারীদের বেতন-শিট ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যকার বিরোধের কারণে পাঠানো হয়নি। অথচ একই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বকেয়া বেতন আদালতের পূর্ববর্তী আদেশের ভিত্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে।

আদালতের মতে, বর্তমান আবেদনকারীরা আগের মামলার আবেদনকারীদের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন। তাই তাঁরাও সরকারের অংশের বকেয়া বেতন পাওয়ার অধিকারী।

হাইকোর্টের আদেশ

আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীদের বকেয়া বেতন রায়ের আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন। মামলার খরচ বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

বিডিলপোস্ট/মাসুম

সুপ্রিম কোর্ট বার: ‘ব্রেকআপ পার্টি’র খাবারে ব্যয় কমানো ও ধর্মভেদে মাংসের আয়োজনের প্রস্তাব

সুপ্রিম কোর্ট বার: ‘ব্রেকআপ পার্টি’র খাবারে ব্যয় কমানো ও ধর্মভেদে মাংসের আয়োজনের প্রস্তাব

কোলাজ ছবি 
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (এসসিবিএ) বার্ষিক ভোজ ‘ব্রেকআপ পার্টি’র আয়োজনের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সদস্যদের পছন্দ ও ধর্মীয় বিবেচনায় খাবারের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। আবেদনে মুসলিম আইনজীবীদের জন্য গরুর মাংস, হিন্দু আইনজীবীদের জন্য পৃথকভাবে খাসির মাংস এবং নিরামিষভোজীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৪ জন। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে বার্ষিক ভোজ বাবদ ৮০০ টাকা নেওয়া হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা। এত অর্থ ব্যয়ের পরও খাবারের মান ও পর্যাপ্ততা নিয়ে অনেক সদস্যের অসন্তোষ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আবেদনকারী।

মামুনের দাবি, খাসির মাংসের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে গরুর মাংসের ব্যবস্থা করা হলে খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি মোট ব্যয়ও কমানো সম্ভব। এ জন্য তিনি প্রতিটি ২ লাখ টাকা দামের ১০টি স্বাস্থ্যবান ষাঁড় কেনার একটি প্রস্তাব দেন। এতে মোট ব্যয় হবে ২০ লাখ টাকা বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা চাইলে বার্ষিক ভোজ উপলক্ষে গরু উপহার দিতে পারেন বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এতে বারের নিজস্ব তহবিল থেকে মাংস কেনার ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে।

ধর্মীয় ও খাদ্যাভ্যাসগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হিন্দু আইনজীবীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনায় খাসির মাংস এবং বৈষ্ণব রীতির অনুসারীসহ অন্যান্য নিরামিষভোজীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে আবেদনে।

আবেদনকারী মনে করেন, সদস্যদের ধর্মীয় ও খাদ্যাভ্যাসগত পছন্দকে সম্মান রেখে খাবারের পৃথক ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন সবার সুবিধা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বার্ষিক ভোজের ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১৫.১০.২০২৬)

বিডিলপোস্ট/এম

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালত এ রায় দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, কারাদণ্ডের পাশাপাশি সিয়ামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তার অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সিয়াম ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। এ অভিযোগে গত বছরের ৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে সিয়ামের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়।

এর আগে গত ১৭ জুন আদালত সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলায় দুদকের ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

সিয়াম পিএসসির প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আলোচিত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট (১৫.১০.২০২৬)

বিডিলপোস্ট/এম

সরকারি খরচে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন পেয়েছেন আইনি সহায়তা

সরকারি খরচে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন পেয়েছেন আইনি সহায়তা

প্রতীকী ছবি
দেশে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জন বিচারপ্রার্থী। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার বিভিন্ন সেবা ও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব মানুষকে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩১ হাজার ৪০৯ জন। দেশের ৬৪ জেলার লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬১৭ জন। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৬৫৮ জনকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি আইনি সহায়তার আওতায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ আইনি পরামর্শ নিয়েছেন। টোল-ফ্রি ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করে আইনি পরামর্শ পেয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ জন। পাশাপাশি, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমেও ৪৫৭ জনকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং নিজ খরচে আইনি সহায়তা নিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের সরকারি ব্যয়ে সহায়তা দেওয়াই এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর আওতায় এসব সেবা দেওয়া হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সূত্র: জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন

বিডিলপোস্ট/এম 

আইন ও বিচার বিভাগে ১৪ জনকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ

আইন ও বিচার বিভাগে ১৪ জনকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
আইন ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘ইন্টার্নশিপ নীতিমালা, ২০২০’-এর আওতায় ১৪ জনকে ইন্টার্ন হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের তিন মাস মেয়াদে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৮ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশটি ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মনোনীত ইন্টার্নদের নিজ নিজ নির্ধারিত কর্ম-এলাকার সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ/প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

ইন্টার্নশিপ শুরুর আগে মনোনীতদের আইন ও বিচার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে হবে। এ ছাড়া যোগদানের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিভাবকের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ইন্টার্নশিপের মেয়াদ তিন মাস। ইন্টার্নশিপ শুরু হবে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এবং শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭।

ইন্টার্নদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা হারে ইন্টার্নশিপ ভাতা দেওয়া হবে। ভাতা ছাড়া অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া ‘ইন্টার্নশিপ নীতিমালা, ২০২০’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ইন্টার্নদের নির্ধারিত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে দাখিল করতে হবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ বা এনওসি দাখিলের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে মোট ১৪ জন মনোনীত ইন্টার্নের নাম, পিতার নাম, নিজ জেলা এবং কর্ম-এলাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের দেশের বিভিন্ন জেলা ও সংশ্লিষ্ট আইন ও বিচার-সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ইন্টার্নশিপের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বিডিলপোস্ট/এম

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করায় নারীর কারাদণ্ড

মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করায় নারীর কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে প্রায় দুই মাস কারাভোগ করানোর অভিযোগে লিপি আক্তার (৩৯) নামে এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি লিপি আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

লিপি আক্তার নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল।

মামলার বিবরণ

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় তিনি নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।

পরবর্তীতে লিপি আক্তারের সন্তান জন্মগ্রহণ করলে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, কামাল উদ্দিন ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত কামাল উদ্দিনকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

এরপর কারামুক্ত কামাল উদ্দিন মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।

মামলাটির দীর্ঘ শুনানি শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে আদালত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।


বিডিলপোস্ট/মাসুম

সূত্র: প্রথম আলো

নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য ছাড়া ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত নয়, গুরুতর জখমে সাজা দিতে হলে জখমের প্রকৃতি প্রমাণ জরুরি: হাইকোর্টের রায়

নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য ছাড়া ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত নয়, গুরুতর জখমে সাজা দিতে হলে জখমের প্রকৃতি প্রমাণ জরুরি: হাইকোর্টের রায়

দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় দণ্ড দিতে হলে আঘাত গুরুতর জখমের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকতে হবে; চিকিৎসা সনদের সমর্থনে মৌখিক সাক্ষ্যের ঘাটতি এবং যুক্তিসংগত সন্দেহের সুবিধায় দণ্ড বাতিল।
গুরুতর জখমের অভিযোগে দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় দণ্ড দিতে হলে অভিযোগকারীর আঘাত দণ্ডবিধির ৩২০ ধারায় বর্ণিত গুরুতর জখমের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। চিকিৎসা সনদে আঘাতের উল্লেখ থাকলেও চিকিৎসকের আদালতে দেওয়া মৌখিক সাক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিষয় প্রতিষ্ঠিত না হলে শুধু সনদের ওপর নির্ভর করে দণ্ড বহাল রাখা যায় না।

২০২৫ সালের ৯১৫ নম্বর ফৌজদারি রিভিশন মামলা, আনোয়ার বনাম রাষ্ট্র-এ বিচারপতি মো. সালিম ২০২৬ সালের ৫ জুলাই এ রায় দেন। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ১২ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে। রায়ে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশ এবং আপিল আদালতের তা বহাল রাখার আদেশ বাতিল করে আসামি আনোয়ারকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

মামলার পটভূমি:

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযোগকারী মেনু মিয়াকে তাঁর বাড়ির পূর্ব পাশের একটি সড়কে কয়েকজন আসামি আক্রমণ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সিরাজ উদ্দিনের নির্দেশে তৌহিদ ও রাসেল মিয়া মেনু মিয়াকে আটকে রাখেন। এ সময় আনোয়ার লোহার রড দিয়ে তাঁর ডান কাঁধে আঘাত করেন, যার ফলে কাঁধের কাছে হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়। আরও অভিযোগ ছিল, সিরাজ উদ্দিন লাঠি দিয়ে মেনু মিয়াকে মারধর করেন এবং শামীমা খাতুনের মুখে আঘাত করে তাঁর একটি দাঁত ফেলে দেন। তৌহিদ ও রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে শামীমার চুল ও পোশাক ধরে টানাটানির অভিযোগও আনা হয়।

আহতদের প্রথমে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দণ্ডবিধির ১৪৮, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭ ও ১১৪ ধারায় আমলে নেন। পরবর্তী সময়ে আনোয়ারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৫, ৩০৭ ও ৩২৩ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচারিক আদালতে দণ্ড ও আপিল খারিজ:

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ আটজন সাক্ষীকে পরীক্ষা করে। আসামিপক্ষ কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করেনি।

২০২৩ সালের ২২ মে কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আনোয়ারকে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ রায়ের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি আপিল নম্বর ৩৫৫/২০২৩ কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৪ ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন। ফলে বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

এরপর দণ্ডাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন আনোয়ার।

চিকিৎসকদের সাক্ষ্যে আঘাতের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন:

হাইকোর্ট মামলার চিকিৎসাসংক্রান্ত সাক্ষ্য পর্যালোচনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী চিকিৎসক ডা. আসিফ নূর জামান জানান, তিনি মেনু মিয়ার ডান কাঁধ ও মাথায় ফোলা আঘাত পেয়েছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, আঘাতগুলো ভোঁতা অস্ত্রের কারণে সৃষ্ট এবং সাধারণ প্রকৃতির ছিল।

অষ্টম সাক্ষী চিকিৎসক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান, মেনু মিয়ার মাথার ওপরের অংশ এবং ডান ক্ল্যাভিকল বা কলারবোনের ওপর ফোলা আঘাত ছিল। তিনি মাথার আঘাতকে সাধারণ এবং ডান ক্ল্যাভিকলের আঘাতকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন।

তবে হাইকোর্ট লক্ষ করেন, চিকিৎসকদের আদালতে দেওয়া মৌখিক সাক্ষ্যে অভিযোগকারীর কাঁধের হাড় ভেঙেছিল—এমন বিষয় স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। চিকিৎসা সনদে আঘাতের বিবরণ থাকলেও আদালতে শপথ নিয়ে দেওয়া সাক্ষ্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও সমর্থন বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চিকিৎসা সনদ ও মৌখিক সাক্ষ্যের আইনগত গুরুত্ব:

হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেন, আদালতে শপথ নিয়ে দেওয়া সাক্ষ্য হলো মূল বা মৌলিক সাক্ষ্য। অন্যদিকে, চিকিৎসা সনদ মূল সাক্ষ্যকে সমর্থন করতে পারে। আইনগতভাবে মৌলিক সাক্ষ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা কোনো বিধানের মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়া না হলে, কেবল সমর্থনকারী প্রমাণের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে কাঁধের কাছে হাড় ভাঙার কথা বলা হলেও চিকিৎসকদের মৌখিক সাক্ষ্যে সেই ফ্র্যাকচার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে আনোয়ারের আঘাতটি দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারার অধীন গুরুতর জখম হিসেবে গণ্য করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গুরুতর জখম প্রমাণে দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার শর্ত পূরণ জরুরি:

হাইকোর্ট বলেন, দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় দণ্ডাদেশ দিতে হলে আদালতকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে যে আসামির কারণে সৃষ্ট আঘাত দণ্ডবিধির ৩২০ ধারায় সংজ্ঞায়িত গুরুতর জখমের মধ্যে পড়ে কি না।

আদালত আরও ব্যাখ্যা করেন, আঘাতের প্রকৃতি, কীভাবে আঘাত করা হয়েছে এবং গুরুতর জখম ঘটানোর উদ্দেশ্য বা সে ধরনের ফল সম্পর্কে আসামির জ্ঞান ছিল কি না—এসব বিষয় প্রাসঙ্গিক। গুরুতর জখমের প্রয়োজনীয় উপাদান প্রমাণিত না হলে শুধু আঘাত হওয়ার কারণে গুরুতর জখমের অপরাধে দণ্ড দেওয়া যায় না।

এ মামলায় হাইকোর্ট মনে করেন, অভিযোগকারীর হাড় ভাঙার বিষয়টি যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় দণ্ড দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

যুক্তিসংগত সন্দেহের সুবিধা আসামির প্রাপ্য:

হাইকোর্ট পুনর্ব্যক্ত করেন, ফৌজদারি মামলায় নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য ছাড়া অভিযোগের কোনো আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না। রাষ্ট্রপক্ষকে যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিচারিক আদালত দণ্ডাদেশ দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হন। আপিল আদালতও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভুল ব্যাখ্যা ও ভুল মূল্যায়নের মাধ্যমে বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

আঘাতের প্রকৃতি এবং গুরুতর জখমের অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকায় হাইকোর্ট আসামিকে যুক্তিসংগত সন্দেহের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দণ্ডাদেশ বাতিল, আসামি খালাস:

সব দিক বিবেচনায় হাইকোর্ট রিভিশনের রুল যথার্থ ঘোষণা করেন। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৪-এর ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারির আদেশ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ২০২৩ সালের ২২ মে দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করা হয়।

একই সঙ্গে আনোয়ারকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয় এবং তাঁর জামিননামা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

আইনি তাৎপর্য:

এ রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন, গুরুতর জখমের অভিযোগে দণ্ড দিতে হলে আঘাতের প্রকৃতি নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। চিকিৎসা সনদে গুরুতর আঘাতের উল্লেখ থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দণ্ডের পর্যাপ্ত ভিত্তি হয়ে যায় না; চিকিৎসকের মৌখিক সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

পাশাপাশি, বিচারিক ও আপিল আদালত উভয়েরই দায়িত্ব হলো সাক্ষ্য-প্রমাণ স্বাধীনভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা। অভিযোগের অপরিহার্য উপাদান যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণিত না হলে আসামি খালাস পাওয়ার অধিকারী।

বিডিলপোস্ট / মাসুম