১৫ অক্টো, ২০২৬

বিরোধের কারণে বেতন আটকে রাখা আইনসম্মত নয়, এক মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যকার বিরোধের কারণে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা আইনসম্মত নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের প্রাপ্য সরকারি অংশের বকেয়া বেতন এক মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট পিটিশন নম্বর ২৩৩৪/২০১৮; মেহেরুন নেছা ও অন্যান্য বনাম বিবাদী বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য এর শুনানি হয় ১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং রায় দেওয়া হয় ৪ আগস্ট ২০২৬। বিচারপতি মো. শওহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি দেন। রায়টি এ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় অক্টোবর ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

ময়মনসিংহের পাটগুদাম গার্লস হাইস্কুলের চারজন সহকারী শিক্ষক, একজন ক্রীড়া শিক্ষক, একজন অফিস সহকারী ও একজন পিয়ন এ রিট আবেদন করেন। নিয়োগের পর তাঁদের নাম মাসিক পেমেন্ট অর্ডারে (এমপিও) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তাঁরা সরকারের অংশের বেতন পেয়ে আসছিলেন।

তবে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের কারণে শিক্ষকদের বেতন-শিট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। ফলে সরকারের অংশের বেতন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানো হলেও আবেদনকারীরা তাঁদের প্রাপ্য বেতন পাননি।

কতদিনের বেতন বকেয়া ছিল

রায়ে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারী ১ থেকে ৩ এবং ৬ ও ৭ নম্বরের বেতন ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আটকে ছিল। আবেদনকারী ৪-এর বেতন ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই এবং ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এবং আবেদনকারী ৫-এর ২০১৩ সালের মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি।

বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য আবেদনকারীরা ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ

এর আগে একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য রিট পিটিশন নম্বর ৩৩০৪/২০১৪ দায়ের করেন। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে তাঁদের বকেয়া ও নিয়মিত বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারীদের বেতন-শিট ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যকার বিরোধের কারণে পাঠানো হয়নি। অথচ একই বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বকেয়া বেতন আদালতের পূর্ববর্তী আদেশের ভিত্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে।

আদালতের মতে, বর্তমান আবেদনকারীরা আগের মামলার আবেদনকারীদের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন। তাই তাঁরাও সরকারের অংশের বকেয়া বেতন পাওয়ার অধিকারী।

হাইকোর্টের আদেশ

আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীদের বকেয়া বেতন রায়ের আদেশ পাওয়ার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন। মামলার খরচ বিষয়ে কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

বিডিলপোস্ট/মাসুম


শেয়ার করুন

0 coment rios: