৫ অক্টো, ২০২৬

হাইকোর্টের রায়ের আলোকে রিভিউতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এনরোলমেন্ট ভাইভা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বার কাউন্সিলের

হাইকোর্টের রায়ের আলোকে রিভিউতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এনরোলমেন্ট ভাইভা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বার কাউন্সিলের

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা, ৫ অক্টোবর ২০২৬: হাইকোর্টের রায়ের আলোকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি লিখিত পরীক্ষার রিভিউ-সংক্রান্ত রিটে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) মৌখিক পরীক্ষা—ভাইভা—গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির আজকের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক। সভায় কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল) উপস্থিত ছিলেন। সভায় বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট রিট পিটিশনগুলোর বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া ১০ জুন ২০২৬ তারিখের রায় পর্যালোচনা করে রিট আবেদন-সংক্রান্ত প্রার্থীদের এনরোলমেন্ট ভাইভা পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার রিভিউ ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকটি রিট আবেদন করা হয়। গত ১০ জুন হাইকোর্ট বার কাউন্সিলের প্রথম রিভিউয়ের ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং প্রথম রিভিউতে উত্তীর্ণ কিন্তু পরবর্তী রিভিউতে বাদ পড়া প্রার্থীদের ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের পর বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভাইভা গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিল।

তবে ভাইভা পরীক্ষার তারিখ ও সময় পরবর্তীতে জানানো হবে বলে ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য MCQ, লিখিত ও মৌখিক—এই তিন ধাপের পরীক্ষা গ্রহণ করে। নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই একজন প্রার্থী আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করেন।


সূত্র: বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তি।
বিডিএলপিবি/মাসুম

বিধি বদলালেও আগের অর্জিত চাকরি-অধিকার উপেক্ষা নয়: হাইকোর্টের রায়

বিধি বদলালেও আগের অর্জিত চাকরি-অধিকার উপেক্ষা নয়: হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
২০০৯ সালের নিয়োগ বিধিতে পদোন্নতির সুযোগ না থাকলেও আগের বিধিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে পূর্বের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয় বিবেচনার নির্দেশ।

২০০৯ সালের নিয়োগ বিধিতে পদোন্নতির কোনো সুযোগ না থাকলেও ২০০৯ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের ক্ষেত্রে তাদের নিয়োগের সময় কার্যকর থাকা ১৯৮৬ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয় বিবেচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি এ. এফ. এম. সাইফুল করিম ও বিচারপতি ফাতেমা নাজিব সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রিট পিটিশন নং ১৬৬৬৬/২০২৫ (মো. মতিউর রহমান ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য) মামলায় গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৫ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার পটভূমি

মামলার আবেদনকারীরা বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনায় ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৫ সালের সরকারি গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন নিয়োগ বিধিতে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী অথবা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। পরবর্তীতে আবেদনকারীরা ওই বিধির অধীনে ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

কিন্তু ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান পদটি বহাল রাখা হলেও ওই পদ থেকে পরবর্তী উচ্চতর পদে পদোন্নতির কোনো বিধান রাখা হয়নি।

আবেদনকারীদের দাবি ছিল, একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ডিপ্লোমাধারী ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত করা হলেও বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী আবেদনকারীরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পূর্বের মামলার প্রভাব

আদালত দেখতে পান, একই বিষয়ে রিট পিটিশন নং ৬০৪৮/২০১৩ মামলায় হাইকোর্ট ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে আবেদনকারীদের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান পদকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি এবং রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সংক্রান্ত কার্যক্রমও আবেদনকারীদের বিপক্ষে যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ১০ আগস্ট ২০২৫ তারিখের স্মারকের মাধ্যমে ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান পদকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদ হিসেবে উন্নীত করে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

হাইকোর্ট বলেন, বর্তমান মামলার আবেদনকারীরা পূর্বের রিট পিটিশন নং ৬০৪৮/২০১৩ মামলার আবেদনকারীদের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছেন। ফলে তাদেরও একই ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান আবেদনকারীরা ২০০৯ সালের আগেই ১৯৮৬ সালের নিয়োগ বিধির অধীনে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাই তাদের চাকরির শর্ত এবং পদোন্নতির বিষয়টি তাদের নিয়োগের সময় কার্যকর থাকা ১৯৮৬ সালের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরোর কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী বিবেচনা করতে হবে।

আদালতের মতে, একই অবস্থানে থাকা আবেদনকারীদের বৈধ পদোন্নতির দাবি থেকে বঞ্চিত করা সমীচীন নয়। তাই প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১৯৮৬ সালের নিয়োগ বিধির অধীনে তাদের পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ

হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত করার নির্দেশ দেন।

রায়ের অনুলিপি পাওয়ার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। মামলার খরচের বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি। একই সঙ্গে রায় ও আদেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/মাসুম

চাকরি থেকে বরখাস্তের আগে ন্যাচারাল জাস্টিসের মৌলিক নীতি অনুসরণ করে শোকজ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

চাকরি থেকে বরখাস্তের আগে ন্যাচারাল জাস্টিসের মৌলিক নীতি অনুসরণ করে শোকজ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
চাকরিতে থাকা অবস্থায় অসদাচরণ, দায়িত্বে অবহেলা বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কোনো কর্মচারীকে বরখাস্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সার্ভিস বিধি অনুসরণ করে শোকজ নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিভিল রিভিশন নং- ৪৯০৬/২০২৪ মামলায় এ রায় দেন। মামলাটির বাদী ছিলেন মো. আইনাল হক এবং বিবাদী মো. সোহেল রানা ও অন্যান্য। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

নওগাঁর ১০ নম্বর নুরুল্লাহবাদ ইউনিয়ন পরিষদে বাদী আইনাল হক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০ মার্চ ২০০৫ তারিখে কাজে যোগ দেন। তিনি ২০০৮ সালের জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন।

এরপর ১৮ আগস্ট ২০০৮ তারিখে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে পোশাক, লাঠি ও টুপি জমা দিতে বলা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তার নিয়োগকে অবৈধ এবং তার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।

বাদী দাবি করেন, তাকে কোনো শোকজ নোটিশ দিয়ে অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে নিম্ন আদালত তার মামলা খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর তিনি হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট দেখতে পান, বাদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য The Union Council (Village Police Force) Rules, 1968-এর Rule 9(10)-এ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।

এই বিধান অনুযায়ী, কোনো গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা, দুর্নীতি বা অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে প্রথমে অভিযোগ উল্লেখ করে তাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এরপর তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়ার আগে প্রস্তাবিত শাস্তির বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

আদালত বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের এই সুযোগ দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের (Natural Justice) মৌলিক নীতি। সংশ্লিষ্ট সার্ভিস বিধি অনুসরণ না করে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

হাইকোর্ট আরও বলেন, শুধু নিয়োগে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলেই শোকজ ও শুনানির সুযোগ সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না। তবে নিয়োগ যদি শুরু থেকেই সম্পূর্ণ অবৈধ হয়—যেমন প্রতারণা, জাল দলিল বা মৌলিক যোগ্যতার অনুপস্থিতি—তাহলে কিছু ব্যতিক্রম হতে পারে।

‘চৌকিদার’ পদে নিয়োগ নিয়ে আদালতের ব্যাখ্যা

আদালত লক্ষ্য করেন, প্রযোজ্য আইনে পদটির নাম ‘Mahalladar’ হলেও পূর্বে এবং প্রচলিতভাবে এটি ‘Chowkidar’ নামে পরিচিত ছিল। বাদীর নিয়োগপত্রে ‘Chowkidar’ শব্দ ব্যবহৃত হওয়াকে এমন গুরুতর ত্রুটি হিসেবে দেখা যায় না, যার কারণে নিয়োগকে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন বা non est বলা যাবে।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, বাদীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বে অবহেলার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে কলঙ্কজনক প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ তাকে অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রযোজ্য সার্ভিস বিধির শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট মনে করেন, বাদীর নিয়োগের তিন বছরেরও বেশি সময় পর হঠাৎ করে তার নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং এতদিন তার বেতন গ্রহণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত এ কর্মকাণ্ডে malafide থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট করেন এবং নিম্ন আদালতের উভয় রায় ও ডিক্রি বাতিল করে দেন। বাদীর বিরুদ্ধে জারি করা নোটিশ ও বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও তার জন্য অকার্যকর ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মূল শিক্ষা

এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে চাকরিচ্যুত করার ক্ষেত্রে ন্যায্য প্রক্রিয়া, শোকজ নোটিশ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযোজ্য সার্ভিস বিধিতে নির্ধারিত বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে নেওয়া বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে টেকসই হবে না।


বিডিএলপিবি/মাসুম

আদালতে প্রতারণা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পাওয়া ডিক্রি বাতিল, মামলা পুনঃশুনানির নির্দেশ হাইকোর্টের

আদালতে প্রতারণা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পাওয়া ডিক্রি বাতিল, মামলা পুনঃশুনানির নির্দেশ হাইকোর্টের

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোনো ডিক্রি অর্জিত হলে তা আইনগতভাবে টেকসই হতে পারে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিয়ে মামলাটি নতুন করে নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান সিভিল রিভিশন নং- ৫৯৫/১৯৯৫ মামলায় ২০ মে ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। মামলায় সৈয়দ আলী ও অন্যান্য ছিলেন বিবাদী-পিটিশনার এবং আবদুল মতিন ওরফে মতিন মিয়ার উত্তরাধিকারীরা ছিলেন বাদী-অপর পক্ষ।

মামলার পটভূমি

কুমিল্লার আদালতে ১৯৮০ সালে দায়ের করা একটি বাটোয়ারা মামলায় বাদী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে নিজের দাবিকৃত অংশের জন্য পৃথক ‘সাহাম’ চেয়ে মামলা করেন। তার দাবি ছিল, সম্পত্তির বিভিন্ন অংশ উত্তরাধিকার, দান ও ক্রয়সূত্রে তার মালিকানায় এসেছে। অন্যদিকে কয়েকজন বিবাদী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমি অনেক আগেই নিলাম বিক্রি ও পরবর্তী বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের দখল ও স্বত্বে এসেছে।

বিবাদীপক্ষের দাবি ছিল, জমির নিলাম বিক্রয়ের পর বন্দোবস্ত, খতিয়ান এবং খাজনা প্রদানের মাধ্যমে তাদের স্বত্ব ও দখলের বিষয়টি প্রমাণিত। তারা আদালতের নিচের দুই স্তরের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন।

প্রথম আদালত ৩০ জুন ১৯৯৩ তারিখে মামলাটি আংশিকভাবে ডিক্রি দেন। পরবর্তীতে আপিল আদালত ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ তারিখে আপিল খারিজ করে প্রথম আদালতের রায় বহাল রাখেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করা হয়।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান, মূল মামলায় কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি এবং তাদের কাছে যথাযথভাবে সমনও জারি হয়নি।

বিশেষ করে, বিবাদী হিসেবে ‘আবদু মিয়া’ নাম উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত ব্যক্তি ছিলেন ‘আনু মিয়া’। আদালতের নথি অনুযায়ী, আনু মিয়ার কাছে যথাযথভাবে সমন জারি হয়নি এবং তার উত্তরাধিকারীরা দাবি করেন যে তিনি মামলাটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং আদালতে উপস্থিতও হননি।

এছাড়া আনু মিয়ার মৃত্যুর পর তার নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের কয়েকটি দলিল তৈরি করা হয়েছে বলে তার উত্তরাধিকারীরা আদালতে দাবি করেন। এসব দলিলের সত্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। আদালতে দাখিল করা নথিতে এমন দাবিও উঠে আসে যে, আনু মিয়ার মৃত্যুর পর তাকে দাতা দেখিয়ে দলিল তৈরি করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, মামলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ নূরজাহান বেগম মামলার বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেলেও তার উত্তরাধিকারীদের যথাযথভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়নি। পরবর্তীতে তার উত্তরাধিকারীদেরও মামলায় তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

‘Fraud vitiates everything’

হাইকোর্ট বলেন, এসব ঘটনা ও নথিপত্র বাদী বা তার উত্তরাধিকারীদের বিরুদ্ধে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করে ডিক্রি অর্জন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি করে।

আদালত উল্লেখ করেন, “fraud vitiates everything”—অর্থাৎ প্রতারণা সবকিছুকেই কলুষিত করে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্জিত ডিক্রি ন্যায়বিচারের স্বার্থে বাতিল করা যেতে পারে।

তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন, যেসব দলিলকে জাল বা ভুয়া বলে দাবি করা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে জাল কি না—তা প্রমাণ গ্রহণের মাধ্যমে ট্রায়াল কোর্টকেই নির্ধারণ করতে হবে। হাইকোর্ট নিজে এসব দলিলের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করেননি।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট মনে করেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ পক্ষদের যথাযথভাবে নোটিশ না দেওয়া, তাদের আদালতে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা এবং নথিপত্র নিয়ে ওঠা গুরুতর প্রশ্নের কারণে মামলাটি নতুন করে বিচার করা প্রয়োজন।

এ কারণে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের ৩০ জুন ১৯৯৩ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৪ তারিখের রায় ও ডিক্রি বাতিল করেন এবং মামলাটি নতুন করে বিচারের জন্য ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ড করেন।

আদালত নির্দেশ দেন, বিবাদী নং ২, ১৩ ও ৩২-এর উত্তরাধিকারীরা চাইলে নতুন করে লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে পারবেন। বাদী ও অন্যান্য বিবাদীরাও প্রয়োজন হলে তাদের pleadings সংশোধনের সুযোগ পাবেন। ট্রায়াল কোর্টকে সব পক্ষকে নোটিশ দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের তাৎপর্য

রায়ের মূল বক্তব্য হলো, আদালতের সঙ্গে প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন এবং কোনো পক্ষকে যথাযথভাবে মামলা পরিচালনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে অর্জিত ডিক্রি আইনের দৃষ্টিতে টেকসই নয়। তবে কোনো দলিল জাল বা প্রতারণামূলক কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রমাণ গ্রহণের পর ট্রায়াল কোর্টকে দিতে হবে।


বিডিএলপি/মাসুম

ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে প্রসিকিউশন

ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে প্রসিকিউশন

ছবি: সংগৃহীত 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়াতে চলতি সপ্তাহেই আপিল করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

রোববার প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজা বাড়ানোর জন্য চলতি সপ্তাহেই আপিল করা হবে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষও আপিল করবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। তিনি জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর তারা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পেয়েছেন এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপিল করা হবে।

গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরে ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত এবং পাঁচটি অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

দোষী সাব্যস্ত তিন অভিযোগের মধ্যে আন্দোলনকারীদের দমন, আটক, নির্যাতন ও হত্যার নির্দেশ দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং কারফিউ ও গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, খালাস বা দণ্ডের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রদত্ত প্রসিকিউশনের সাক্ষাৎকার 

নতুন বা পরিবর্তিত সার্ভিস বিধিতে আগের অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্টের রায়

নতুন বা পরিবর্তিত সার্ভিস বিধিতে আগের অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মচারীদের ২০১১ সালের চাকরি বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করে সেই যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন বা নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার পরবর্তী বিধিমালা প্রয়োগ করে বিলুপ্ত করা যাবে না।

রিট মামলাটির শুনানি শেষে বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৯ আগস্ট ২০২৬ এ রায় দেন। মামলাটি রিট পিটিশন নং ৭০২২/২০২১। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৪ অক্টোবর, ২০২৬।

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার আবেদনকারীরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, এই পদে নির্ধারিত পাঁচ বছর চাকরি পূর্ণ করলে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির সুযোগ ছিল।

আবেদনকারীরা ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে তিনটি পদও শূন্য ছিল।

কিন্তু ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালায় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। এতে আগের বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী আবেদনকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তারা ২০১১ সালের বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। ফলে পরবর্তী বিধিমালা প্রয়োগ করে তাদের সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের রয়েছে এবং নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করলেই পদোন্নতি পাওয়ার নিশ্চিত অধিকার সৃষ্টি হয় না।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

আদালত বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন বা নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে নতুন বিধিমালা প্রয়োগ করে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত অধিকার পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে কেড়ে নেওয়া যায় কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, আপিল বিভাগের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করা গেলেও কর্মচারীদের পূর্বে অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। বিশেষ করে পদোন্নতির জন্য ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা পরবর্তী বিধিমালা করে বিলুপ্ত করা যায় না।

আদালতের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারীরা ২০২১ সালের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই ২০১১ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। ফলে তাদের পদোন্নতি বিবেচনার যোগ্যতা ২০১১ সালের বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছিল।

শুধু ২০১১ সালের বিধিমালা বাতিল হয়েছে—এই কারণে সেই অর্জিত যোগ্যতা পরবর্তী সময়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় না। তাই ২০২১ সালের নতুন বিধিমালা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।

হাইকোর্টের নির্দেশ

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, ২০২১ সালের বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে যারা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন, তাদের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১১ সালের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করতে হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে শূন্য পদ থাকা, উপযুক্ততা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনসম্মত শর্ত প্রযোজ্য হবে। কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি শিক্ষা

পরবর্তী চাকরি বিধিমালা সাধারণভাবে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে কেড়ে নিতে পারে না। কর্তৃপক্ষ চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করতে পারলেও কর্মচারীর অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

বিডিএলপিবি/মাসুম


পুরান ঢাকায় পাথর মেরে সোহাগ হত্যা: প্রধান আসামি মাহিনের জামিন স্থগিত

পুরান ঢাকায় পাথর মেরে সোহাগ হত্যা: প্রধান আসামি মাহিনের জামিন স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত 
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন স্থগিতের আবেদনের শুনানি শেষে রোববার (৪ অক্টোবর) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান যুবাইরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মাহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১ অক্টোবর।

হাইকোর্টে জামিন আবেদনের শুনানিতে মাহিনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। ওই সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন জানিয়েছিলেন, মাহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করবে। রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই চেম্বার আদালত মাহিনের জামিন স্থগিত করেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় সোহাগকে

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে রজনী ঘোষ লেনে ৩৯ বছর বয়সী সোহাগকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর ইট ও পাথর দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পরে তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।


বিডিএলপিবি/মাসুম