৫ অক্টো, ২০২৬

নতুন বা পরিবর্তিত সার্ভিস বিধিতে আগের অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না: হাইকোর্টের রায়

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মচারীদের ২০১১ সালের চাকরি বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করে সেই যোগ্যতা কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন বা নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার পরবর্তী বিধিমালা প্রয়োগ করে বিলুপ্ত করা যাবে না।

রিট মামলাটির শুনানি শেষে বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিম ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৯ আগস্ট ২০২৬ এ রায় দেন। মামলাটি রিট পিটিশন নং ৭০২২/২০২১। রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ৪ অক্টোবর, ২০২৬।

মামলার প্রেক্ষাপট

মামলার আবেদনকারীরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১১ সালের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, এই পদে নির্ধারিত পাঁচ বছর চাকরি পূর্ণ করলে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির সুযোগ ছিল।

আবেদনকারীরা ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে তিনটি পদও শূন্য ছিল।

কিন্তু ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালায় সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদটি ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৬৭ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান করা হয়। এতে আগের বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারী আবেদনকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২১ সালের নতুন চাকরি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই তারা ২০১১ সালের বিধিমালার অধীনে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। ফলে পরবর্তী বিধিমালা প্রয়োগ করে তাদের সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের রয়েছে এবং নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করলেই পদোন্নতি পাওয়ার নিশ্চিত অধিকার সৃষ্টি হয় না।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

আদালত বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন বা নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারে। তবে নতুন বিধিমালা প্রয়োগ করে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত অধিকার পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে কেড়ে নেওয়া যায় কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, আপিল বিভাগের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করা গেলেও কর্মচারীদের পূর্বে অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। বিশেষ করে পদোন্নতির জন্য ইতোমধ্যে অর্জিত যোগ্যতা পরবর্তী বিধিমালা করে বিলুপ্ত করা যায় না।

আদালতের সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারীরা ২০২১ সালের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগেই ২০১১ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। ফলে তাদের পদোন্নতি বিবেচনার যোগ্যতা ২০১১ সালের বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছিল।

শুধু ২০১১ সালের বিধিমালা বাতিল হয়েছে—এই কারণে সেই অর্জিত যোগ্যতা পরবর্তী সময়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় না। তাই ২০২১ সালের নতুন বিধিমালা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।

হাইকোর্টের নির্দেশ

আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, ২০২১ সালের বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে যারা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেছিলেন, তাদের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১১ সালের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করতে হবে।

তবে এ ক্ষেত্রে শূন্য পদ থাকা, উপযুক্ততা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত অন্যান্য আইনসম্মত শর্ত প্রযোজ্য হবে। কর্তৃপক্ষকে এক মাসের মধ্যে আইন অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি শিক্ষা

পরবর্তী চাকরি বিধিমালা সাধারণভাবে পূর্ববর্তী বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে অর্জিত পদোন্নতির যোগ্যতা পশ্চাৎপ্রযোজীভাবে কেড়ে নিতে পারে না। কর্তৃপক্ষ চাকরি বিধিমালা পরিবর্তন করতে পারলেও কর্মচারীর অর্জিত বা সঞ্চিত অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

বিডিএলপিবি/মাসুম



শেয়ার করুন

0 coment rios: