৫ নভে, ২০২৬

ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুদকের ফাঁদে আটক ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে ঘুষের এক লাখ টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার মো. আসাদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ আসাদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের ভূমি কার্যালয়ে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক একটি ফাঁদ অভিযানের পরিকল্পনা করে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে অভিযোগকারী তাঁর নির্ধারিত কক্ষে আসাদুল ইসলামকে এক লাখ টাকা দেন। টাকা গ্রহণের পর তিনি তা পাশের সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাকে রাখেন। এ সময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুদকের বিশেষ দল তাঁকে হাতেনাতে আটক করে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল ইসলাম তা স্বীকার করেন। পরে তাঁর ব্যবহৃত সাইড টেবিলের দ্বিতীয় তাক থেকে খাকি রঙের একটি খামে রাখা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা নোটের নম্বরের সঙ্গে আগের দিন অভিযোগকারীকে দেওয়া টাকার নম্বরের মিল পাওয়া যায়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকার লালবাগ থানাধীন চর-কামরাঙ্গী মৌজায় বিভিন্ন দাগে অবস্থিত মোট ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন। জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি পৃথক করা এবং স্কেচম্যাপ তৈরির জন্য তিনি গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তবে প্রায় ছয় মাস ধরে লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাজটি সম্পন্ন করতে পারেননি।

একপর্যায়ে তাঁকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজটি সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে আসাদুল ইসলাম তাঁর কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। বিষয়টি মনিরুল ইসলাম দুদককে জানালে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে ফাঁদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় দুদকের ঢাকা জেলা কার্যালয়-১-এর একটি বিশেষ দল মঙ্গলবার পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের পর আসাদুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সূত্র: বাসস


শেয়ার করুন

0 coment rios: