২৬ অক্টো, ২০২৬

ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ডিজিএফআই-আনসার সদস্যসহ ৬ জন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডিজিএফআই ও আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো ছয় আসামি হলেন ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান লগ এরিয়া সিকিউরিটি কোম্পানির নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬), নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।

মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মো. শরিফ (৩২) মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করেন। প্রতিবেশী জিয়াউল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে জিয়াউল তাঁকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ৬ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

এজাহারে বলা হয়েছে, শরিফকে ফ্ল্যাটে রেখে জিয়াউল ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর আল মামুন, নুরুজ্জামান, সোহেল রানা ও মামলার অপর এক আসামি সেখানে প্রবেশ করে শরিফকে আটকে রাখেন। এ সময় তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের কবল থেকে মুক্তি পেতে শরিফ মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। তবে ওই টাকা নেওয়ার পরও আসামিরা সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

গাড়িতে তুলে অন্য স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শরিফ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ২৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনজন অভিযুক্ত তাঁকে বাসা থেকে নামিয়ে মুকুল গাজীর সঙ্গে থাকা একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মাহফুজুর রহমান।

এরপর তাঁকে শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা গাড়ি থেকে নেমে চা খেতে গেলে শরিফ পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পান। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় ঘটনায় ব্যবহৃত টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটিও জব্দ করা হয়।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন

ঘটনার পর শরিফ মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ মামলায় সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামের আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।


সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


শেয়ার করুন

0 coment rios: