২৬ অক্টো, ২০২৬

সরকারি চাকরির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সাতজন দুই দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. মফিজুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩১), এসএম এমদাদুল রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও নূর মোহাম্মদ (৩০)।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহের চুক্তির অভিযোগ

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ চক্রের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামিদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হয় নিয়োগ পরীক্ষা

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০-এর ৪, ৫ ও ৯(৪) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু চেকবই, স্ট্যাম্প, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদ জব্দ করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) পদে ২৪২ জন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। নিয়োগের প্রথম ধাপে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর ৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমসিকিউ পদ্ধতিতে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে অংশ নেওয়ার জন্য ৩১ হাজার ৮৭৯ জন প্রার্থীকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৫৪ মিনিট আগে, সকাল ১০টা ৬ মিনিটের দিকে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা ভবনে অবস্থিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অবস্থানকালে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঠোফোনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য পান। পরে ফেসবুকে ‘আব্দুল্লাহ আল ইমারন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অধিদপ্তরে সংরক্ষিত মূল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দুটি প্রশ্নপত্রের মধ্যে সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়।

প্রশ্নপত্র প্রকাশের উৎস নিয়ে তদন্ত

পরীক্ষা শুরুর আগেই গোপনীয় প্রশ্নপত্র কীভাবে প্রকাশিত হলো, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা বিতরণের কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা, অসাধু কর্মকাণ্ড অথবা বাইরের কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাটি স্থগিত করে। এর ফলে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ, জনবল ও অন্যান্য সম্পদের অপচয় হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নিয়োগব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির উপপরিচালক (প্রশাসন-১) ও সদস্যসচিব মো. আতিকুর রহমান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ড 


শেয়ার করুন

0 coment rios: