![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সামছুদ্দোহান সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামির বক্তব্য জানতে চাইলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি মজা করে মন্তব্যটি করেছিলেন। এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং ভুল হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। পরে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামছুদ্দোহান সুমন বলেন, আসামি ভুল স্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রীর বাসের ছবি নিয়ে করা মন্তব্যটিকে নিছক সাধারণ মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে যেসব বিষয়
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অন্য কেউ জড়িত কি না, কোনো সংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কিংবা স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ। আসামি কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা চক্রের সদস্য কি না এবং ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পনাকারী রয়েছেন কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
যেভাবে গ্রেপ্তার
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।’
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তার বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আদালত আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন।
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট

0 coment rios: