![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি শ্যামল কৃষ্ণ দাসের অবৈধভাবে অর্জিত এক কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় জামিনে থাকা আসামি রায় ঘোষণার দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁর জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
যেভাবে সামনে আসে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, শ্যামল কৃষ্ণ দাস জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল, ময়মনসিংহে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।
২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজের ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণী দুদকে জমা দেন। ওই বিবরণীতে তিনি দুই কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের হিসাব দেন। এর সঙ্গে পারিবারিক ব্যয় বাবদ ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকা যোগ করে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি চার লাখ ৯৭ হাজার ১৭ টাকা।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ছিল এক কোটি ১৯ লাখ এক হাজার ২২৫ টাকা। অবশিষ্ট এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার সম্পদের বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। এ কারণে ওই সম্পদকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বলে প্রতীয়মান হয়।
মামলা ও অভিযোগপত্র
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এক কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৩ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল শ্যামল কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।
অবশেষে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন।
সূত্র: বিডি নিউজ ২৪

0 coment rios: