![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, র্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে অভিযানের পক্ষে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
অভিযানের প্রতিবেদনেও জিয়াউলের নাম ছিল না
জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোর বিষয়ে নির্বাহী তদন্তের যেসব প্রতিবেদন তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোতে জিয়াউল আহসানের নাম উল্লেখ ছিল না। তবে তিনি প্রতিবেদনগুলোকে ‘ফরমায়েশি প্রতিবেদন’ বলে অভিহিত করেন।
অভিযানের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। অন্যদিকে, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো না, সেগুলোর প্রতিবেদন পাঠানো হতো না।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট র্যাব সদস্যদের পরিচয় সংগ্রহের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র দেননি বলে স্বীকার করেন।
তিনটি অভিযোগে চলছে বিচার
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।
প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে সজলসহ তিনজনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা-সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যু দমনের অভিযানের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর থেকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান তাঁকে জেরা করছেন।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট, ২৮ অক্টোবর ২০২৬।

0 coment rios: