২০ অক্টো, ২০২৬

তথ্য গোপন করে নেওয়া জামিন বাতিল, ১৬ বছর বয়সী শিশু কারাগারে,আইনজীবীকে সতর্ক করলেন ট্রাইব্যুনাল

প্রতীকী ছবি 
হাইকোর্টে জামিনের আবেদন বিচারাধীন থাকার তথ্য গোপন করে বিচারিক আদালত থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ; উচ্চ আদালতের মামলার মূল নথি উপস্থাপন করায় আইনজীবীকে সতর্ক

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন বিচারাধীন থাকার তথ্য গোপন করে বিচারিক আদালত থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক শিশুর জামিন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পুনরায় গাজীপুরের কিশোর উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলার মূল নথি বিচারিক আদালতে উপস্থাপনের বিষয়েও আসামিপক্ষের আইনজীবীকে সতর্ক করা হয়েছে।

গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিপক্ষের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন খলিলপট্টি এলাকার মারকাযুল কুরআন ওয়াচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা গত ১১ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১৬ বছর বয়সী আরেক শিশুর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

মামলা দায়েরের দিনই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জামিন আবেদন করে। শুনানির সময় তাদের আইনজীবী আদালতকে জানান, এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে কোনো মামলা বা জামিনের আবেদন বিচারাধীন নেই। এ বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে পরে বাদীপক্ষ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, আসামির পক্ষে এর আগেই হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল আপিল মামলা নং ৪৮১৪/২০২৬ দায়ের করা হয়েছিল। মামলাটি হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের ৮ নম্বর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালত আদেশ দিয়েছিলেন, অবকাশের পর বিষয়টি শুনানির জন্য আসবে।

হাইকোর্টে জামিনের আবেদন বিচারাধীন থাকার বিষয়টি গোপন করে বিচারিক আদালত থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ তুলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিন বাতিলের আবেদন করেন। গত সোমবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তথ্য গোপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসামির জামিন বাতিল করেন এবং তাকে পুনরায় কিশোর উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুছ জানান, হাইকোর্টে জামিনের আবেদন বিচারাধীন থাকার বিষয়টি গোপন করে বিচারিক আদালত থেকে জামিন নেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছিল। এ ছাড়া হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলার মূল নথি কীভাবে বিচারিক আদালতে উপস্থাপন করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক আজাদী, ২০ অক্টোবর ২০২৬


শেয়ার করুন

0 coment rios: