![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালত দুটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা না পেলে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে আরও বেশি সময় লাগতে পারত। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং এর সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও ভার্চুয়াল হাজিরার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃতভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনলাইনে মামলার তথ্য ও ভার্চুয়াল শুনানির সুযোগ
নতুন ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর ফলে পারিবারিক মামলার বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে। বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর ফলে আদালতে সরাসরি যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা কমার পাশাপাশি মামলার নথিপত্র সংরক্ষণ, শুনানি ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রমে সময় এবং শ্রম সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে কাগজবিহীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।
এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু করা হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট-৫ এবং ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট-১-এ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৈরি সফটওয়্যার ব্যবস্থাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবিরসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিচারিক সেবায় স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট।