৩০ অক্টো, ২০২৬

দেশে চালু হলো প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত

দেশে চালু হলো প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত

ছবি: সংগৃহীত 
বিচারিক কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়েছে ই-পারিবারিক আপিল আদালত। একই সঙ্গে নতুন করে চালু হয়েছে ই-পারিবারিক আদালত ১৪।

বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালত দুটির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা না পেলে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে আরও বেশি সময় লাগতে পারত। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং এর সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও ভার্চুয়াল হাজিরার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃতভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনলাইনে মামলার তথ্য ও ভার্চুয়াল শুনানির সুযোগ

নতুন ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর ফলে পারিবারিক মামলার বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে। বিচারপ্রার্থীরা অনলাইনে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এর ফলে আদালতে সরাসরি যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা কমার পাশাপাশি মামলার নথিপত্র সংরক্ষণ, শুনানি ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রমে সময় এবং শ্রম সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে কাগজবিহীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।

এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ই-পারিবারিক আদালত চালু করা হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে ঢাকা ফ্যামিলি কোর্ট-৫ এবং ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রাম ফ্যামিলি কোর্ট-১-এ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তৈরি সফটওয়্যার ব্যবস্থাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবিরসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও আইটি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালুর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিচারিক সেবায় স্বচ্ছতা, গতিশীলতা এবং সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।


তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট।


বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি পাচ্ছেন না আনিসুল-সালমানসহ পাঁচ আসামি

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি পাচ্ছেন না আনিসুল-সালমানসহ পাঁচ আসামি

ছবি: সংগৃহীত 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নাকচ করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ পাঁচ আসামির করা আবেদনগুলো বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি আইনজীবীদের বাংলাদেশের আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে একাধিক আইনগত ও বাস্তবিক দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আবেদনগুলোর বিষয়ে সদস্যরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে আবেদনগুলো নাকচের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের কোনো প্রচলিত নজির নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিদেশি আইনজীবীদের সরাসরি আদালতে মামলা পরিচালনার সুযোগ সীমিত। শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশেই বিদেশি আইনজীবীরা স্থানীয় আদালতে সরাসরি মামলা পরিচালনা করতে পারেন না।

এ ছাড়া বার কাউন্সিলের বিবেচনায়, বিদেশি কোনো আইনজীবীকে বাংলাদেশের আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে তাঁর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বার কাউন্সিল আইনে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় বিদেশি আইনজীবীদের সরাসরি মামলা পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বিদেশি আইনজীবীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতার পথ বন্ধ হচ্ছে না। আসামিপক্ষের নিয়োজিত দেশীয় আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে কাজ করা এবং আইনি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ তাঁদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা পাঁচ আসামি হলেন—সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা।

তাঁদের মধ্যে আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান ও জুনাইদ আহমেদ পলক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন। অন্যদিকে, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান। আর ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন সাংবাদিক ফারজানা রূপা।

এ বিষয়ে বার কাউন্সিলের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল জানান, বৈঠকে আবেদনগুলো নাকচের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের পর লিখিত আকারে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট 



নিবন্ধিত দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়: হাইকোর্ট

নিবন্ধিত দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়: হাইকোর্ট

দলিলে জমির পরিমাণ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় অধস্তন আদালতের আদেশ বহাল রাখলেন হাইকোর্ট। প্রাসঙ্গিক আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩৯, বিধি ১
নিবন্ধিত কবলা দলিলে জমির পরিমাণ জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন খারিজের আদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, জমির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার মতো অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে আবেদনকারীকে প্রাথমিকভাবে একটি গ্রহণযোগ্য, যুক্তিসংগত ও মামলায় জয়ের সম্ভাবনাসম্পন্ন দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মামলার তথ্য ও পটভূমি:

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস. এম. কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ফার্স্ট মিসলেনিয়াস আপিল নং ১৩০/২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল রুল নং ২১৩ (এফএম)/২০২৬-এর শুনানি শেষে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রায় দেন। মো. হানিফ আলী বনাম মো. সিরাজুল ইসলাম ও অন্যান্য মামলাটিতে ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালত টাইটেল স্যুট নং ৪৩১/২০২৫-এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে বাদী আপিল করেন। হাইকোর্ট আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল রুলটি নিষ্পত্তি করেন। একই সঙ্গে রুল জারির সময় দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। রায়টির পূর্নাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে।

বাদীপক্ষের যুক্তি:

বাদী দাবি করেছিলেন, তিনি ও তাঁর দুই ভাই মিলে ১ দশমিক ৪৪ একর জমির মালিক ছিলেন। এর মধ্যে তিনি বিবাদীকে ৫২ শতাংশ জমি হস্তান্তর করলেও নিবন্ধিত দলিলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমির পরিমাণ বাড়িয়ে ১ দশমিক ৪৪ একর দেখানো হয়েছে। অবশিষ্ট ৯২ শতাংশ জমির স্বত্ব ঘোষণার পাশাপাশি জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন তিনি।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

তবে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দেন, বাদী নিজেই স্বীকার করেছেন যে জমিটি তাঁর ও দুই ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন ছিল এবং তাঁরা নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর করেছেন। সে ক্ষেত্রে বাদী কীভাবে এককভাবে অবশিষ্ট ৯২ শতাংশ জমির স্বত্ব দাবি করছেন, তা স্পষ্ট নয়। আদালত আরও উল্লেখ করেন, দলিলে জমির পরিমাণ জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে দলিল সংশোধনের মামলা না করে শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা দায়ের করার বিষয়টিও বিবেচ্য।

আদালত বলেন, বাদী স্বীকার করেছেন যে বিবাদী ক্রয়সূত্রে জমির দখলে রয়েছেন এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। সাধারণভাবে কোনো জমিতে ভবন বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফলে জমির মূল্য বৃদ্ধি পায়। তাই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শক্তিশালী প্রাথমিক মামলা থাকা জরুরি। কিন্তু বাদী তাঁর দাবির পক্ষে এমন গ্রহণযোগ্য ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

ফলে আদালত মনে করেন, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে নিম্ন আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

হাইকোর্ট ফার্স্ট মিসলেনিয়াস আপিলটি খারিজ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল রুলটি নিষ্পত্তি করে দেন। রুল জারির সময় দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশও প্রত্যাহার করা হয়। তবে মামলায় কোনো খরচ আরোপ করা হয়নি।

আইনি তাৎপর্য:

জমির দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। দাবিকৃত স্বত্ব, দখলের অবস্থা, মামলার ধরন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাওয়ার যথার্থতা আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। জমির দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না।

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম

শিক্ষক নিয়োগের ৯ মামলায় জালিয়াতির অভিযোগ, আইনজীবীকে আপিল বিভাগে তলব, অত:পর দেশ না ছাড়র নির্দেশ,  নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আইনজীবী

শিক্ষক নিয়োগের ৯ মামলায় জালিয়াতির অভিযোগ, আইনজীবীকে আপিল বিভাগে তলব, অত:পর দেশ না ছাড়র নির্দেশ, নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত ৯টি মামলায় শুনানি ও রায়কে কেন্দ্র করে জালিয়াতি ও প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে তাঁকে তলব করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর কাছে অভিযোগের ব্যাখ্যা চান। আদালত জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর রায় প্রদানকারী হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিন ধার্য করা হয়। 

অত:পর, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে ঢাকা ছাড়তে নিষেধ করেছেন আপিল বিভাগ।

এদিন আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চান আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। তবে এ বিষয়ে আগামী সোমবার আদেশ দেবেন সর্বোচ্চ আদালত।

যেভাবে অভিযোগের সূত্রপাত

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’-এর ৭ নম্বর বিধি অনুসারে ৬০ শতাংশ নারী কোটা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করে ছয় মাসের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা প্রণয়ন এবং রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অতিরিক্ত আবেদনকারী অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ অনুযায়ী, মূল মামলার ৫৮ জন আবেদনকারীর বাইরে আরও ৬৪ জনকে সহ-আবেদনকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য হলফনামা সম্পন্ন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত সেকশন-প্রক্রিয়া অনুসরণ, আবেদনকারীদের নাম যথাযথভাবে তালিকাভুক্ত করা এবং বিবাদী পক্ষ—প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া ছাড়াই নথি সরাসরি বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাত্র এক দিনের মধ্যে অতিরিক্ত আবেদনকারীদের অন্তর্ভুক্তির আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয়। মূল শুনানির চার দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হয়। ওই রায়ে মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া সহ-আবেদনকারীদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এমন মোট ৯টি মামলায় একই ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে। আপিলের শুনানিতে মামলার নথিপত্রে আবেদনকারী অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া, শুনানি এবং রায় ঘোষণার সময়কাল নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে আসে। এসব বিষয় পর্যালোচনায় নিয়ে আপিল বিভাগ অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আদালত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করেছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে জানার কথা জানিয়েছেন।

আইনজীবীর বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, মূল আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং কয়েকজনকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তিনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন, তবে সেকশন পর্যায়ে কিছু জটিলতা ছিল।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের আদেশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপিল বিভাগের পরবর্তী আদেশের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টিকে প্রমাণিত জালিয়াতি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

সূত্র: চ্যানেল ২৪

২৯ অক্টো, ২০২৬

ওয়ারীতে নারীকে যৌন হয়রানি, আইনজীবীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

ওয়ারীতে নারীকে যৌন হয়রানি, আইনজীবীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর ওয়ারীতে এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মোবারক হোসেন মোহন নামে এক আইনজীবীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানো হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মোবারক হোসেন মোহন ও ভুক্তভোগী নারী রাজধানীর ওয়ারীর ভজহরি সাহা স্ট্রিটের একই বাড়িতে পৃথক কক্ষে বসবাস করতেন। ওই নারী ছিলেন মোবারকের স্ত্রীর চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী।

অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে মোবারক ওই নারীকে অশালীন প্রস্তাব ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে বিরক্ত করতেন। বিষয়টি স্বামীকে জানালেও সামাজিক লোকলজ্জার কারণে ওই নারী তা প্রকাশ করেননি।

২০১৭ সালের ২০ আগস্ট রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরের পাশে পেছন থেকে জাপটে ধরে তাকে যৌন হয়রানি করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ওই দিনই ভুক্তভোগী নারী ওয়ারী থানায় মামলা করেন। Jagonews24

তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া

মামলাটি তদন্ত করে ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক হারুন অর রশীদ ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মোবারক হোসেন মোহনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় দেন।


সূত্র: জাগো নিউজ২৪

প্রধান বিচারপতির সম্মানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের নৈশভোজের আয়োজন

প্রধান বিচারপতির সম্মানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের নৈশভোজের আয়োজন

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সম্মানে ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান নৈশভোজের আয়োজন করেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এ নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট নাগরিকেরা অংশ নেন।

নৈশভোজের প্রাক্কালে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ফিলিস্তিনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুক্তিকামী মানুষের সংহতি ও সমর্থন কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও কূটনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের নৈশভোজ নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের ফেসবুক পোস্ট।

১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শনিবার, পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শনিবার, পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত 
আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার প্রাথমিক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পরীক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়।

কমিশন সচিবালয়ের ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে না আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ফটক খুলে দেওয়া হবে। তবে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের পর কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, হাতঘড়ি, ওয়ালেট, ব্যাগ, বই, ক্যালকুলেটর এবং ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে আনা যাবে না। এসব সামগ্রী পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। নিরাপত্তা তল্লাশিতে বাধা দেওয়া, অসদাচরণ করা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তসলিম আরিফ।

পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া এবং পরীক্ষার আগে নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬।