২৮ জুল, ২০২৬

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে ২৭ জুলাই, সোমবার, বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। আবদুল্লাহ আল মামুন গনমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্ত চান তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করবেন।

উল্লখ্য, রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন বলা হয়, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া  ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে 'মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে', প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

এছাড়া ‘এম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ১। মামলা সংক্রান্ত তথ্য- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট৷ ২। অন্যান্য তথ্য জাতীয় কতিপয় পত্রিকাসহ  বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। আজ (মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্টের বেঞ্চ এই রিট আবেদন শুনানি করে খারিজ করে দেন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ গত ৭ জুন এই রিট করেন। রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আইনটিকে ‘অপ্রচলিত’, ‘কার্যকারিতাহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটের শুনানিতে আইনজীবী মহসিন রশীদ আইসিটি আইনটিকে অবৈধ দাবি করে এই ট্রাইব্যুনালকে বিচারিক হত্যার হাতিয়ার হিসেবে ব্যাখ্যা দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এস কে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিনের আদালত এই রায় দেন।

এর আগে গত ১৫ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন।মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক। পরে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ৬ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাতজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

উল্লখ্য, মামলার নথি থেকে জানা যায়, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এস কে সুর চৌধুরী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য নোটিশ দিয়েছিল দুদক। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সেই বিবরণী জমা দেননি। এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে এস কে সুর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: আমার দেশ অনলাইন 

রাজধানীতে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ-হত্যা, ফটোগ্রাফার নামিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীতে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ-হত্যা, ফটোগ্রাফার নামিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত 
প্রেমিকাকে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফটোগ্রাফার নামিম আশরাফ মনিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামানের আদালতে ভিকটিমের বড় বোন রাজিয়া সুলতানা এই মামলা দায়ের করেন।  

এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন—নামিমের বাবা আশরাফউদ্দিন ও মা শাহনাজ বেগম। বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।  

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম সাদিয়া ইযাসফিয়া মেকাপ আর্টিস্টের কাজ করতেন। ১ নম্বর আসামি নামিম আশরাফ ফটোগ্রাফার সঙ্গে ২০২৪ সালে শুটিংয়ে সাদিয়ার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু নামিম ভিকটিমকে বিয়ের কথা বলে ঘোরাতে থাকেন। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মনমালিন্য হয়। 

বাদী আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ জুন রাতে নামিম ভুক্তভোগী সাদিয়াকে ডেকে নিয়ে আদাবরের শেখেরটেক-১২ নম্বর রোডের একটি ভবনের ২য় তলায় তার নিজস্ব ফটো স্টুডিও ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। কিন্তু নামিম ভিকটিমকে বান্ধবীর বাসায় আছেন বলে পরিবারকে জানাতে বাধ্য করেন। 

বাদীর অভিযোগ, আসামি নামিম ১০ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত আদাবরের স্টুডিওতে ভিকটিমকে আটকে রেখে অনবরত ধর্ষণ করেন এবং ১৪ জুন হত্যা করেন। পরে আসামি নামিম নিজেকে বাঁচাতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালান। এ ঘটনায় পুলিশের সুরতাল প্রতিবেদনে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত ও ধর্ষণের আলামত পেয়েছে বলেও জানান বাদী।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বাংলা ট্রিবিউন

২৭ জুল, ২০২৬

বেরোবি'র সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল, কারামুক্তিতে বাধা নেই

বেরোবি'র সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল, কারামুক্তিতে বাধা নেই

ছবি: সংগৃহীত 
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্ত পূরণ করায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালত শুনানি শেষে এক লাখ টাকার মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন।

এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও আসামির হাজিরার জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। সেই অনুযায়ী কারাগার থেকে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন জানান, গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এক লাখ টাকার মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার বা আটকের প্রয়োজন না থাকলে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে একই বছরের ২৭ আগস্ট আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৮ জুন নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: ইত্তেফাক 

নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে করা মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলের জিডি তদন্তের নির্দেশ আদালতের

নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে করা মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলের জিডি তদন্তের নির্দেশ আদালতের

পিয়া জান্নাতুল|ছবি: সংগৃহীত 
নিরাপত্তা চেয়ে আইনজীবী ও আলোচিত মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ওরফে পিয়া জান্নাতুলের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোস্তফা কামাল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার জিডির তদন্তের বিষয়ে অনুমতির শুনানির সময় পিয়া জান্নাতুল সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত শুনানি শেষে বনানী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই পিয়া জান্নাতুল বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বা বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন এবং তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই।

জিডিতে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি এক নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হুমকি, ভয়ভীতি ও আপত্তিকর বার্তা পাচ্ছেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে একাধিক হুমকিমূলক ফোনকলও এসেছে বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত প্রায় তিন মাস ধরে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণ করছে বলে তার সন্দেহ হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশি সুরক্ষা চেয়ে সাধারণ ডায়েরিতে আবেদন করেন পিয়া জান্নাতুল।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বিডিনিউজ ২৪

উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দ্রুত পাঠাতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দ্রুত পাঠাতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: ফইল
উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ) জামিন আদেশ দ্রুততম সময়ে অধস্তন আদালত ও কারাগারে পাঠানোর জন্য নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই লক্ষ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি সাইয়েদ মোহাম্মদ তাজরুল হোসাইনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পাশাপাশি এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। গঠিত কমিটিকে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে নীতিমালা নির্ধারণে করণীয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ। 

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের ৫ জন এবং নিম্ন আদালতের ২ জন আইনজীবী জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিট আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন— মো. মিজানুল হক, মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, আবদুল্লাহ সাদিক, যায়েদ বিন আমজাদ, সাব্বির আহমেদ ও মাহমুদুল হাসান।

শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে অনুসৃত একটি পদ্ধতির উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ভারতে উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ দ্রুত অনলাইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে সাত দিনের মধ্যে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই কমিটিকে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে জামিন আদেশ দ্রুত প্রেরণের নীতিমালা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শুনানি শেষে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, একজন মানুষের আজকে জামিন হচ্ছে, কিন্তু সেই আদেশ নিম্ন আদালতে পৌঁছাতে ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় লেগে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, যার জামিন হয়ে গেছে তিনি এই মধ্যবর্তী সময়ে কোন আইনবলে জেলে আছেন? জামিন হওয়ার মুহূর্ত থেকেই তো তা কার্যকর হওয়ার কথা।  এই রিটের আদেশের ফলে বর্তমান সিস্টেমের উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম