২৭ অক্টো, ২০২৬

অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: দুই ডিজিএফআই সদস্যের বিচার হবে সামরিক আইনে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দুই সদস্যের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তদন্ত আদালত গঠন ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত দুই সদস্য হলেন সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান।

ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও ফলাফল পরবর্তী সময়ে আদালতকে জানানো হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের প্রয়োজনে সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

 যেভামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয়, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল রানা নামে এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শরীফকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

পরে অভিযুক্তরা শরীফকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশু হাসপাতালের সামনে অবস্থিত পুলিশ চেকপোস্টে তিনি পুলিশের সহায়তা চান। এরপর পুলিশ তাঁদের আটক করে। এ ঘটনায় শরীফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনসার সদস্য সোহেল রানা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম।

গ্রেফতারের পর ছয়জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তী সময়ে দুই ডিজিএফআই সদস্যকে সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

সূত্র: যুগান্তর, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।



শেয়ার করুন

0 coment rios: