![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
রোববার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার এ আদেশ দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে সামনে আসে অভিযোগ
অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিন (৩০) টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগকারী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। এরপর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে চাইলে একপর্যায়ে সে তার মা-বাবার কাছে ঘটনার কথা জানায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে বৃহস্পতিবার ওই মামলায় মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিনই আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
তদন্তে আলামত সংগ্রহ
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে পুলিশ। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ সময় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের ঘটনা ঘটে। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তাঁরা মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। হামলা বা লুটপাটের কোনো উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাল্টা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের প্রতি নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
দুটি অভিযোগেরই তদন্ত চলছে
অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বর্তমানে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা পাল্টা অভিযোগ—উভয় বিষয়েই তদন্ত করছে পুলিশ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

0 coment rios: