২৩ সেপ, ২০২৬

১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও শুধু এ কারণে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত বা মামলা বাতিল হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের মতে, এ সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, বরং নির্দেশনামূলক।

মামলার প্রেক্ষাপট:

মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র মামলাটি ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগীর মায়ের করা মামলায় পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয়।

আসামি পাভেলের দাবি ছিল, ট্রাইব্যুনালে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরও আইন নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি। এ কারণে তিনি হাইকোর্টে রিট করে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন। হাইকোর্ট প্রথমে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৩ সালের ৭ জুন রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারা পর্যালোচনা করে বলেন—

* নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলে মামলা স্থগিত বা বাতিল করার বিধান আইনে নেই।

* সময়সীমা অতিক্রম করলেই বিচারপ্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যায় না।

* ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান ট্রাইব্যুনালের প্রতি নির্দেশনা; সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণে বিচার বন্ধ করার কোনো আইনগত পরিণতি নির্ধারিত নেই।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, রিটকারী ২০১০ সালের ৭ নভেম্বরের পরবর্তী আদেশগুলো গোপন করেছিলেন। রিটে বিচার দীর্ঘদিন ধরে চলার যে দাবি করা হয়েছিল, আদালত তা সঠিক বলে গ্রহণ করেননি।

রায়ের ফলাফল:

হাইকোর্ট রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করেন এবং আগে দেওয়া বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করেন। ফলে শুধু ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার যুক্তিতে মামলার বিচার বন্ধ করার আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি।

আইনি শিক্ষা:

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নির্ধারিত বিচার-সময়সীমা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশনা হলেও, তা অতিক্রম করলেই মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। বিচার স্থগিত বা বাতিলের আবেদন করতে হলে কেবল সময়সীমা অতিক্রমের কথা নয়, প্রযোজ্য আইনগত ভিত্তিও দেখাতে হবে।


বিডিএলপিবি/মাসুম


শেয়ার করুন

0 coment rios: