২ আগ, ২০২৬

বিচারপতির জন্য 'রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার' নিয়োগ চেয়ে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে অন্তত একজন করে ‘রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার’ নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এ রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচারাধীন মামলার জট কমানো, গবেষণানির্ভর বিচারিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারী জানিয়েছেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রশাসনিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে নয়; বরং বিচারব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণানির্ভর ও আধুনিক কাঠামোয় উন্নীত করার প্রস্তাব হিসেবে রিটটি করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতিদের প্রতিদিন সংবিধান, বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, দেশি-বিদেশি নজির, আন্তর্জাতিক বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং জটিল আইনগত বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ রায় প্রণয়নেও তাদের ব্যাপক সময় ব্যয় হয়। তবে এসব কাজে সহায়তার জন্য বর্তমানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সহায়ক ব্যবস্থা নেই।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির পাশাপাশি আদালতের কার্যক্রম শেষে দীর্ঘ সময় গবেষণা, নজির অনুসন্ধান এবং রায় লেখার কাজে ব্যস্ত থাকেন। অতিরিক্ত এ কর্মচাপ বিচারিক দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।

রিটকারীর দাবি, প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে একজন দক্ষ গবেষণা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলে বিচারপতিরা বিচারিক দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। এতে বিচারিক কার্যক্রমের গতি ও মান উভয়ই উন্নত হবে।

রিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, জার্মানি, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তানসহ বহু দেশের আদালতে বিচারপতিদের সহায়তায় ল ক্লার্ক বা রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার নিয়োগের ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর রয়েছে।

এসব কর্মকর্তা বিচারপতিদের জন্য আইনি গবেষণা, নজির বিশ্লেষণ, তুলনামূলক আইন পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক বিচারিক সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ, রায়ের খসড়া প্রস্তুত, আইনি স্মারক তৈরি এবং মামলার সারসংক্ষেপ প্রণয়নে সহায়তা করেন। ফলে বিচারিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মামলার নিষ্পত্তির গতিও ত্বরান্বিত হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: অনলাইনে/গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইনজীবীর সাক্ষাৎকার


শেয়ার করুন

0 coment rios: