২ আগ, ২০২৬

প্রবাসীদের পাসপোর্ট আবেদন ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও পাসপোর্ট নবায়নের অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন (কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট) দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন দীর্ঘদিন থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না– এমন অভিযোগের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে এইচআরপিবির পক্ষ থেকে এক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত ৬০ দিনের মধ্যে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের পেন্ডিং আবেদন নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছেন আদালত এবং ৯০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এছাড়া প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এই মর্মে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এইচআরপিবির পক্ষে রিট পিটিশনার হলেন– অ্যডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ এবং অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম। বিবাদীরা হলেন কেবিনেট, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় সচিব, পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইন সচিব, পাসপোর্ট অফিসের ডিজিসহ মোট ১৪ জন।

উল্লেখ্য, সংবাদমাধ্যমে প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত আবেদনের দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির খবর প্রকাশিত হলে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি)-এর পক্ষে রিট পিটিশনটি দায়ের করা হয়। রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ এবং অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম। মামলায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব, আইন সচিব এবং পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)-সহ মোট ১৪ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

আদালতে এইচআরপিবি-এর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, “লাখ লাখ প্রবাসী বিভিন্ন দেশে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠান, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। কিন্তু তাদের পাসপোর্ট প্রদান ও নবায়নের আবেদন দিনের পর দিন আটকে থাকার কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমনকি সময়মতো পাসপোর্ট না পাওয়ায় অনেককে চাকরি হারাতেও হচ্ছে, যার ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”


বিডিএলপিবি/এমএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: