৫ নভে, ২০২৬

ব্যাবসায়ী নাসিরের মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ব্যাবসায়ী নাসিরের মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ছবি: সংগৃহীত 
সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় চিত্রনায়িকার জামিন বাতিল; পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর

ব্যবায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিল

বুধবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী। তিনি আদালতে যুক্তি দেন, পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থেকে বারবার সময়ের আবেদন করছেন, যার ফলে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে তার জামিন বাতিলের আবেদন জানান তিনি।

পরে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমনির জামিন বাতিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনজীবীর বক্তব্য

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, অসুস্থতার কারণে তার মক্কেল আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এ বিষয়ে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তবে পরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানতে পারেন তারা।

মামলার পটভূমি

২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।

২০২৩ সালের ১৮ মার্চ পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। নির্ধারিত দিনে আত্মসমর্পণ করে তারা জামিন পান।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিন পরীমনি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তবে পরদিন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে পরীমনি রিভিশন আবেদন করেন। ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নবম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলতে আর কোনো বাধা ছিল না।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের ঘটনায় বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির ফৌজদারি আদালত। পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

যেভাবে বিরোধের সূত্রপাত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ও নিহত ব্যক্তি ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কুয়েতে ওই প্রবাসীর বাসায় বেড়াতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই কয়েকটি ব্যক্তিগত ছবি তোলেন বন্ধু। পরে ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন তিনি।

ছবিগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আসতে থাকলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বন্ধুকে বারবার অনুরোধ করেন ওই বাংলাদেশি। তবে অনুরোধ উপেক্ষা করে উল্টো আরও কিছু ছবি প্রকাশ করেন তাঁর বন্ধু।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশির পারিবারিক জীবনে অশান্তি তৈরি হয় এবং স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

কর্মস্থলের বাইরে ওত পেতে হত্যা

স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি সরিয়ে না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই প্রবাসী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছুরি নিয়ে তাঁদের যৌথ কর্মস্থলের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি।

বন্ধু কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসার পর তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন অভিযুক্ত। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আদালতে অপরাধ স্বীকার

বিচার চলাকালে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি আদালতকে জানান, বারবার অনুরোধ করার পরও তাঁর স্ত্রীর ছবি ফেসবুক থেকে সরানো হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি বন্ধুকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

মামলার তথ্য-প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত হত্যাকাণ্ডটিকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে বিবেচনা করেন। অপরাধের গুরুত্ব ও প্রকৃতি বিবেচনায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

সূত্র: গালফ নিউজ, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা

৪ নভে, ২০২৬

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দিতে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যারিস্টার ফুয়াদ, আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দিতে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়

ছবি: সংগৃহীত 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জেরে আদালত অবমাননার অভিযোগে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে আরও সময় পেয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৩ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

অসুস্থতার কারণে সময়ের আবেদন

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আদালত অবমাননার অভিযোগে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বুধবার ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হওয়ার কথা ছিল ব্যারিস্টার ফুয়াদের। তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে এক মাসের সময় চান তিনি।

এদিন সকালে তার পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া। আবেদন বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৩ নভেম্বর তাকে হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

যেসব মন্তব্যে আদালত অবমাননার অভিযোগ

এর আগে গত ১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে তাকে সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

সম্প্রতি এবি পার্টির একটি অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। সেখানে তিনি ট্রাইব্যুনালে ‘বস্তায় বস্তায়’ কিংবা ‘কোটি কোটি টাকা’ লেনদেন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

তার এ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের নজরে আসার পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করেন।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, ফুয়াদের বক্তব্যের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আসার পরই আদালত এ পদক্ষেপ নেন। আগামী ২৩ নভেম্বর তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ওই বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

সূত্র: কালবেলা

তথ্য গোপন করে জামিনের চেষ্টা: ৩ আইনজীবীসহ ১১ জনকে হাইকোর্টের শোকজ

তথ্য গোপন করে জামিনের চেষ্টা: ৩ আইনজীবীসহ ১১ জনকে হাইকোর্টের শোকজ

ছবি: সংগৃহীত 
একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আবেদন; আইনজীবীদের ১৫ দিন পেশা পরিচালনায় বিরত থাকার নির্দেশ

রাজধানীর মুগদা থানার সাইফুল হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে তিন দফায় জামিন আবেদন করার ঘটনায় তিন আইনজীবীসহ ১১ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজ পাওয়া ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী ও মামলার তিনজন তদবিরকারক। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা হলেন—অ্যাডভোকেট আন্না খানম, অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুল বাতেন সাকিল ও অ্যাডভোকেট রহিম উদ্দিন।

একই সঙ্গে এই তিন আইনজীবীকে আগামী ১৫ দিনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো আদালতে জামিনের আবেদন করতে পারবেন না বলে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

যেভাবে আদালতের নজরে আসে বিষয়টি

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফ জানান, নিম্ন আদালতের একই জামিন নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে তিনজন পৃথক আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে তিনটি পৃথক আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনগুলো হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চের কার্যতালিকায় ছিল।

গত রোববার একটি মামলার শুনানির সময় বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে তিনটি আবেদন একত্র করে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়।

বুধবার একসঙ্গে শুনানিতে দেখা যায়, পাঁচ আসামির জামিন চেয়ে করা তিনটি আবেদনের ভিত্তি ছিল নিম্ন আদালতের একই আদেশ। অথচ পৃথক তিনজন আইনজীবীর মাধ্যমে তিনটি আলাদা আবেদন দায়ের করা হয়েছিল।

হাইকোর্টের স্বপ্রণোদিত রুল

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইমদাদুল হানিফের ভাষ্য অনুযায়ী, একই আদেশের বিরুদ্ধে এভাবে একাধিক পৃথক আবেদন করার বিষয়টি আদালত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। শুনানি শেষে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

একই সঙ্গে পাঁচ আসামি, তিন আইনজীবী ও তিন তদবিরকারকসহ মোট ১১ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবীকে ১৫ দিনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ আসামির পক্ষে কোনো আদালতে জামিন আবেদন করা যাবে না বলেও আদেশ দিয়েছেন আদালত।


সূত্র: ঢাকা পোস্ট, কালবেলা ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম।

জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রামে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার মামলায় মো. সাদেক খান নামে এক যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত সাদেক খান নগরীর কোতোয়ালি থানার লালখান বাজার এলাকার মৃত এমএ সোবহানের ছেলে।

মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত একটি জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি করেন সাদেক খান। জমিটি মূলত টার্নার মরিসান কোম্পানি লিমিটেডের নামে নথিভুক্ত ছিল।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় সাদেক খানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা করা হয়।

তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে ২০২৫ সালের ১৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি জানান, মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।

সূত্র: যুগান্তর | ৩ নভেম্বর ২০২৬


চেকবইয়ের অতিরিক্ত পাতা ব্যবহার করে গৃহিণীর ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চেকবইয়ের অতিরিক্ত পাতা ব্যবহার করে গৃহিণীর ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এআই ছবি 
রাজধানীর শনিরআখড়ায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখা থেকে এক গৃহিণীর ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা ৮৫ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারগিস আক্তার।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে তিনি মামলার আবেদন করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মাজেদুর রহমান।

যেভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নারগিস আক্তার একজন নিরক্ষর গৃহিণী। নিজের জমি ও গাড়ি বিক্রির অর্থ এবং বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে পাওয়া সঞ্চয় মিলিয়ে তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার হিসাবে মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা জমা রেখেছিলেন। নিরক্ষর হওয়ায় ব্যাংকের কর্মকর্তারাই তাকে চেক পূরণ ও টাকা জমা দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করতেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারগিস আক্তার পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কৌশলে তার চেকবই থেকে একটি অতিরিক্ত চেক পাতা রেখে দেন। একই সঙ্গে ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর ব্যাংকে গিয়ে হিসাবের স্থিতি জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, তার হিসাবে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা। বাকি অর্থের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর 'পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন' ফরমের মাধ্যমে একটি চেক ব্যবহার করে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

জাল স্বাক্ষরে টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৩ সেপ্টেম্বর নারগিস আক্তার ব্যাংকে যাননি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোনো চেকও দেননি। বরং ১৭ সেপ্টেম্বর তার কাছ থেকে কৌশলে রেখে দেওয়া চেকের পাতায় জাল স্বাক্ষর ও টাকার পরিমাণ বসিয়ে পজিটিভ পে ফরম তৈরি করা হয়।

এরপর পূবালী ব্যাংক পিএলসির রাজবাড়ী শাখায় গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের হিসাবে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৮ সেপ্টেম্বর ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অভিযুক্ত শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা

মামলায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. গোলাম কিবরিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলী সরদার, ম্যানেজার কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসান এবং প্রতিষ্ঠানটিকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস), ৪ নভেম্বর ২০২৬।


অব্যাহতি পরবর্তী ঋণের দায়ে সাবেক পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে খেলাপি দেখানো যাবে না: হাইকোর্ট

অব্যাহতি পরবর্তী ঋণের দায়ে সাবেক পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে খেলাপি দেখানো যাবে না: হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
অন্য একটি কোম্পানির ঋণ গ্রহণের সময় কোনো ব্যক্তি ওই কোম্পানির পরিচালক না থাকলে, ২০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক না হলে কিংবা ঋণের জামিনদার না হলে তাঁকে ওই কোম্পানির ঋণের দায়ে খেলাপি ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। একইভাবে, কেবল অতীতের ব্যবসায়িক বা পারিবারিক সম্পর্কের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণগ্রহীতা কোম্পানির স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান (Interested Concern) হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা আইনসম্মত নয়।

এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আদালত আবেদনকারীদের নাম সিআইবি প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত, রিপোর্ট ও প্রচার করাকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঋণের দায়ের বিপরীতে আবেদনকারীদের নাম সিআইবি প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শওকত আজিজ ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং ২১৬৫/২০২৫- মামলায় এ রায় দেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ রায় ঘোষণা করা হয়। রায়টির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ৪ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

মামলার আবেদনকারী শওকত আজিজ অ্যাম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর দাবি, ২০০৬ সালের একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে তাঁর পিতা প্রয়াত এম এ হাসেমের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ ছেলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় তিনি অ্যাম্বার গ্রুপের ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন এবং তাঁর ভাই রুবেল আজিজ পারটেক্স গ্রুপের ব্যবসা পরিচালনা করেন।

পারটেক্স ফাউন্ড্রি লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিতে শওকত আজিজ ২০০৯ সালে পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তাঁর মালিকানাধীন ৮ হাজার শেয়ার রুবেল আজিজের কাছে হস্তান্তর করেন। এ-সংক্রান্ত বোর্ড রেজল্যুশন, ফরম-১১৭, হলফনামা এবং কোম্পানির সংঘবিধি সংশোধনের নথিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

অন্যদিকে, পারটেক্স ফাউন্ড্রি লিমিটেড পরবর্তী সময়ে যমুনা ব্যাংক পিএলসি ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে ঋণসুবিধা গ্রহণ করে। ওই ঋণের দায়ে শওকত আজিজ ও তাঁর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিআইবি প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে তাঁদের ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, ঋণ গ্রহণের সময় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালক, শেয়ারহোল্ডার, জামিনদার কিংবা বন্ধকদাতা ছিলেন না। ফলে অন্য একটি স্বতন্ত্র কোম্পানির ঋণের দায় তাঁদের ওপর চাপিয়ে সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করা আইনসম্মত নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট প্রথমে রিট আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ৪১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক ও তার কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সুরক্ষা থাকলেও তা নিঃশর্ত নয় বলে আদালত মত দেন।

আদালত বলেন, কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে কোনো পদক্ষেপ নিলে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অজুহাতে সেটিকে বৈধতা দেওয়া যায় না। আবেদনকারীরা ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি; বরং তাঁদের নাম আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, সেটিই আদালতের বিবেচ্য বিষয়। তাই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য।

এরপর আদালত ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৫ ধারার (গগ) উপধারা এবং ২৭কক ধারার বিধান বিশ্লেষণ করেন।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৫ ধারার (গগ) উপধারার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করতে হলে তিনটি শর্তের অন্তত একটি পূরণ করতে হবে। যথা—

১. সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে হবে;

২. ওই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হতে হবে; অথবা

৩. সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের জামিনদার হতে হবে।

আদালত বলেন, ব্যাখ্যায় উল্লিখিত তিনটি শর্তের কোনোটিই পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ওই ব্যক্তির স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা যাবে না। প্রশাসনিক চর্চা, অনুমান কিংবা অন্য কোনো বিবেচনার মাধ্যমে আইনে নির্ধারিত এই সীমা সম্প্রসারণের সুযোগ নেই।

শেয়ার হস্তান্তর ও পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত

ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, ঋণদাতা ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া শেয়ার হস্তান্তর ও পরিচালকের পদত্যাগ কার্যকর হয়নি। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭ক ধারা প্রযোজ্য।

তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, ২০০৯ সালের ২২ জুলাই শওকত আজিজ যখন পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ ও শেয়ার হস্তান্তর করেন, তখন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কোনো ব্যাংকঋণ বা আর্থিক দায় ছিল—এমন কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব স্যাংশন অ্যাডভাইস অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ২০১২ সালে ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

আদালত বলেন, কোনো কোম্পানি ঋণগ্রহীতা হওয়ার আগেই পরিচালকের পদত্যাগ বা শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটি ঋণগ্রহীতা হওয়ার কারণে ২৭ক ধারাকে পূর্ববর্তী সময়ে প্রয়োগ করে সেই পদত্যাগ বা হস্তান্তর অকার্যকর ঘোষণা করা যায় না।

এ ছাড়া কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪-এর ৩৮(৩) ধারা অনুযায়ী, যথাযথভাবে সম্পাদিত শেয়ার হস্তান্তরের দলিলের ভিত্তিতে কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তর নিবন্ধন করে। অন্যদিকে, ১১৫(২) ধারা অনুযায়ী পরিচালকদের পরিবর্তনের তথ্য রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানোর দায়িত্ব কোম্পানির। আদালত বলেন, ফরম-১২ মূলত পরিচালকদের বিবরণসংক্রান্ত রিটার্ন; এটি নিজে থেকে শেয়ার হস্তান্তর বা পরিচালকের পদত্যাগ বাতিল করে না।

পারিবারিক সম্পর্কের কারণে দায় আরোপ করা যাবে না

ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকরা শওকত আজিজের পরিবারের সদস্য এবং তিনি ঋণের সুবিধাও ভোগ করেছেন।

এ যুক্তি গ্রহণ করেননি আদালত। আদালত বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৫ ধারার (গগ) উপধারার ব্যাখ্যায় পারিবারিক সম্পর্ককে স্বার্থসংশ্লিষ্টতার স্বতন্ত্র ভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আইনপ্রণেতা যেখানে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দায় আরোপ করতে চেয়েছেন, সেখানে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আইনে যেখানে এমন বিধান নেই, সেখানে ব্যাখ্যার মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে দায় আরোপ করা যায় না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ঋণ গ্রহণের সময় শওকত আজিজ পরিচালক ছিলেন না, তাঁর ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার মালিকানাও ছিল না এবং তিনি ঋণের জামিনদারও ছিলেন না। অন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও আইনে নির্ধারিত তিনটি শর্তের কোনোটি পূরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালতের আদেশ

উপরোক্ত পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে (Rule made absolute) আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়—

* পারটেক্স ফাউন্ড্রি লিমিটেডের যমুনা ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের দায়ে আবেদনকারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা সিস্টার কনসার্ন হিসেবে সিআইবি প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তি, রিপোর্ট, প্রচার ও প্রকাশ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগত কার্যকারিতাহীন।

* বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ওই ঋণের দায়ের বিপরীতে আবেদনকারীদের নাম সিআইবি প্রতিবেদন থেকে বাদ দিতে হবে।
* ভবিষ্যতে আইনের শর্ত পূরণ না করে একই ঋণের দায়ে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
* তবে আবেদনকারী ৩ ও ৮-এর নিজস্ব ঋণসহ অন্য কোনো ঋণের দায়ে আইন অনুযায়ী তাঁদের সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এ রায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
* আবেদনকারীদের কেউ ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালক হলে, ২০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হলে অথবা ঋণের জামিনদার হলে এবং আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে তাঁদের নাম সিআইবিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
* ব্যাংকগুলোর ঋণের বকেয়া অর্থ আদায়ের আইনগত অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।
আদালত কোনো খরচের আদেশ দেননি।

আইনি শিক্ষা

এ রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন, কোনো কোম্পানির ঋণখেলাপির দায় কেবল ব্যবসায়িক, ঐতিহাসিক কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা যায় না। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৫ ধারার (গগ) উপধারার ব্যাখ্যায় নির্ধারিত পরিচালক, ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার মালিকানা অথবা জামিনদার হওয়ার শর্তের অন্তত একটি পূরণ করতে হবে।

একই সঙ্গে, ঋণ গ্রহণের আগে সম্পন্ন হওয়া পরিচালকের পদত্যাগ ও শেয়ার হস্তান্তরকে পরবর্তী ঋণের কারণে পূর্ববর্তী সময়ে অকার্যকর ঘোষণা করা যাবে না। সিআইবিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংককে অবশ্যই আইনে নির্ধারিত সীমা ও শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

সূত্র: হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ২১৬৫/২০২৫- এর পূর্ণাঙ্গ রায়।

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম